বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির
অভিযোগের ব্যাপারে আলাদা টিম গঠন করে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান কাজ চালানো
হচ্ছে। এই তদন্তের তথ্য শেয়ারের প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে
বিষয়গুলো ঠিক করা হবে বলেও বলা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের আইনের ভেতর থেকেই এই তদন্ত বা সব কিছু করতে হবে।
অন্যদিকে দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি
ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা বা টিআইবি বলেছে, বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ
দলের সাথে সহায়তার ভিত্তিতে এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে তখন তা
গ্রহণযোগ্য হবে।
দ্বিতীয় দফায় দেয়া বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির
অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থায়ন প্রশ্নে বিশ্বব্যাংকের
শর্ত ছিল, বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে অভিযোগের তদন্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে এই তদন্তের সব তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে
গঠিত একটি প্যানেলের কাছে দিতে হবে। আর এই প্যানেল গঠন করবে বিশ্ব ব্যাংক।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান অবশ্য বলেছেন,
কমিশন আলাদা টিম গঠন করেই অভিযোগে অনুসন্ধান করছে। এছাড়া তদন্ত টিম এবং
আন্তর্জাতিক প্যানেলের কার্যপরিধিও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আগেই ঠিক হয়ে
রয়েছে।
এরপরও বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল শিগগিরই ঢাকায় আসছে এবং তখন বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, ‘তদন্ত, অনুসন্ধান যাই হোক না কেন, তা বাংলাদেশের আইনের আওতায় হতে হবে।’
তবে দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখন যেভাবে তদন্ত করছে, তাতে
প্রশ্ন বা সন্দেহ থাকতে পারে।
তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর বিষয় ছাড়াও বড় কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে
রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে দুদক তদন্ত করতে পারবে। এমন অবস্থানের
ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক
প্যানেলের সঙ্গে সহায়তার মাধ্যমে তদন্ত হলে, তখন তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের
তদন্ত প্রভাব মুক্তভাবে এবং স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে চলছে। একই সঙ্গে তিনি
উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজনে তদন্তের জন্য নতুন টিম গঠনের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, যে সব সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে,
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছুটিতে পাঠাতে হবে। এটি ছিল বিশ্বব্যাংকের
বড় শর্ত। ইতিমধ্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ
করেছেন। কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকেও ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পদে থেকে তদন্ত প্রভাবিত করার সুযোগ
বেশি থাকে। সে কারণে সরিয়ে দেয়ার শর্ত এসেছে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে
গ্রহণযোগ্য বলে তিনি মনে করেন।
কিন্তু ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি হয়নি বা প্রমাণ হয়নি বলে
বিশ্ব ব্যাংক আবার ফিরে এসেছে, এ ধরনের নানান বক্তব্য সরকারের শীর্ষসহ
বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসছে।
এগুলো ভুল নির্দেশনা দিচ্ছে এবং সে কারণে বিশ্বব্যাংক দ্বিতীয় দফা বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেছেন, শর্ত পূরণের পাশাপাশি সরকারের আন্তরিকতার বিষয়ও তুলে ধরতে হবে। সূত্র: বিবিসি

No comments:
Post a Comment