নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের অন্যতম একজন নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ গোলাম মাওলাকে গুম করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ তুলেছে।
তবে পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে গোলাম মাওলাকে সোমবার গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলার পরিবার বলেছে, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে জেলগেট থেকে পুলিশের ডিট্কেটিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবি নিয়ে যায়।
এরপর পাঁচদিন ধরে তার কোনো খোঁজ তারা পাচ্ছেন না।
তবে ডিবি পুলিশ বলছে, সোমবার মার্কিন দূতাবাসের কাছে হিজবুত তাহরিরের মিছিল থেকে একজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন সৈয়দ গোলাম মাওলাকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিজবুত তাহরির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে।
এর আগের বছর জঙ্গি তৎপরতা চালানোর অভিযোগে একবার গ্রেফতার হলেও সে সময় ছাড়া পেয়েছিলেন সৈয়দ গোলাম মাওলা।
তবে সোয়া দু’বছর আগে তিনি আবার গ্রেফতার হলে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেয়া হয়েছিল।
সৈয়দ গোলাম মাওলার স্ত্রী শাহিদা আহমেদ সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার স্বামী সেই মামলাটিতে জামিন পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, গোলাম মাওলার পিতা জামিনের কাগজপত্র নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের জেলগেটে গিয়েছিলেন।
“কিন্তু তার পিতার সামনেই তাকে ডিবি পুলিশ খো স্টিকার লাগানো গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়’’, শাহিদা আহমেদ বলেন।
“এরপর থেকে পাঁচদিন ধরে তার কোন খোজ আমরা পাইনি’’, তিনি বলেন।
ডিবি পুলিশ সৈয়দ গোলাম মাওলাকে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
দূতাবাস অভিমুখে মিছিল
গুম করার অভিযোগ অস্বীকার করে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান বিবিসিকে বলেছেন, সোমবার একদল যুবক ঢাকার গুলশান এলাকায় মিছিল বের করে মার্কিন দূতাবাসের দিকে এগুলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
রহমান বলেন, আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিছিলটি হিজবুত তাহরিরের ছিল বলে স্বীকার করেছে।
“আটক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী বিকেলে ঢাকার গুলশানে আজাদ মসজিদ থেকে সৈয়দ গোলাম মাওলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে’’, তিনি বলেন।
পুলিশ বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ গোলাম মাওলা হিজবুত তাহরিরের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এ ব্যাপারে তার পরিবার কিছু বলেনি।
তবে তার স্ত্রী শাহিদা আমেদ বলেছেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটিই মামলা ছিল। তাতে জামিন হওয়ার পরও ধরে নিয়ে এখনো কোনো আদালতে হাজির না করায় তারা উদ্বিগ্ন।
ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান অবশ্য বলেছেন, এখন সৈয়দ গোলাম মাওলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে হাজির করা হবে।
পুলিশের কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ হলেও তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে। সে সম্পর্ক জানতে সৈয়দ গোলাম মাওলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সূত্র: ওয়েবসাইট।

No comments:
Post a Comment