প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার
স্বার্থে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে শান্তি বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় তাদের
আরো দৃঢ় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফরের নর্থ লন বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘পিস বিল্ডিং : পিস বিল্ডিং এ ওয়ে ফরোয়ার্ড টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল পিস এ্যান্ড সিকিউরিটি’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রদত্ত সভাপতির ভাষণে এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সমাজে সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী সহায়তায়
সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষে সম্পদের যোগান, জাতীয় সামর্থ এবং প্রতিষ্ঠান
বিনির্মাণে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার আরো জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর
গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড, ক্রোএশীয় প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিচ, পূর্ব তিমুরের প্রধানমন্ত্রী জানানা গুসম্যান, জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট মাইকেল চিলুফ্যা বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “৯০ -এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময় জন্ম নেয়া
দেশগুলোর অর্ধেকেই কয়েক বছরের মধ্যে সহিংসতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। টেকসই
শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থায়ী ভিত্তি প্রদানে তাদের সাহায্য করতে ‘পিস
বিল্ডিং কমিশন’ (পিবিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ এখনো সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে বসবাস করছে। বিশ্ব উন্নয়ন রিপোর্ট ২০১১ -এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিম্নআয়ের দেশগুলো এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না অথবা সংঘাতের কারণে এমডিজি অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই জাতিসংঘের সকল শান্তি উদ্যোগের পাশে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘের ৩৭টি শান্তি মিশনে
অংশ নিয়েছি। এতে আমাদের এক লাখ ১৩ হাজার ১৮১ জন শান্তিরক্ষী অংশ নেয়। এসময়
কর্মরত অবস্থায় ১১৮ জন শান্তিরক্ষী নিহত এবং ১২৫ জন আহত হয়।”
তিনি শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যথাযথ ফলোআপ
প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যথায়, দেশগুলোতে পুনরায় সংঘাত দেখা
দেয়ার আশংকা থাকে, যা ১৯৯৩ সালে এঙ্গোলায় এবং ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় ঘটেছে।
তিনি সংঘাত পরবর্তী দেশগুলোতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সাউথ সাউথ সহযোগিতার এবং পিস বিল্ডিং কমিশনে (পিবিসি) দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততায় সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সংঘাত পরবর্তী দেশগুলোতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সাউথ সাউথ সহযোগিতার এবং পিস বিল্ডিং কমিশনে (পিবিসি) দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততায় সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ২০১০ ও ২০১১ সালে পিবিসি’তে ন্যাম ককাসে নেতৃত্ব দেয়
এবং জাতিসংঘের শান্তি স্থাপন কৌশল ও নীতিনির্ধারণী কাজে অবদান রাখে।”
শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি পিবিসি’র প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি। একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বহু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ শান্তি স্থাপন তহবিলে তার বার্ষিক চাঁদা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা উন্নয়ন, জীবন রক্ষায় সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থায় উন্নয়ন, মানবাধিকার, আইএফআই’র সঙ্গে মানবিক তৎপরতায়ও কাজ করছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও সংবিধানের আলোকে শান্তি ও নিরাপত্তায় আমাদের নীতি হচ্ছে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব : কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ -এই নীতি বাংলাদেশকে শান্তি রক্ষার কাজে জাতিসংঘের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

No comments:
Post a Comment