একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াত নেতা আলী আহসান
মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা
জহির উদ্দিন জালাল বলেছেন, ৭১’র ২৫ মার্চের পর কিশোর, তরুণ এবং যুবকদের
তল্লাশী করা হতো। সন্দেহ শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউই তাদের হাতে নিরাপদ
ছিল না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালে গেরিলা বাহনীর সদস্য জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্চু জালাল (৫৭) আসামিপক্ষের জেরার জবাবে এ কথা বলেন।
আসামিপক্ষের জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা হয়েছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানীর রমনা এলাকায় ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞসহ তৎকালীন পরিস্থিতি আমি ঘুরে ঘুরে স্বচক্ষে দেখেছি।”
জেরাকালে সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে ২৭ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ফু তুলে নেয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাস্তাঘাটে সামরিক বাহনীর লোকেরা অস্ত্র হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তিনি বলেন, কারফিউ শিথিলকালীন সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকদের যেসব এলাকায় হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল সেসব এলাকায় ছবি তোলা ও খবর সংগ্রহ করার চেষ্টা করলে পাকসেনা তাদের ধরে ক্যান্টমেন্ট নিয়ে যেত। ওই সময় শাহবাগ রেডিও অফিস, টিএসসি মোড়, রমনা কালি মন্দির এলাকায় সেনা বাহিনীকে টহল দিতে দেখেছি। তবে পরিবাগ শাহ সাহেবের মাজারের পশ্চিমের রেল লাইন এলাকায় সেনা বাহিনী ছিল না।
তিনি বলেন, ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে শত শত মানুষের লাশ আমি স্বচক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। টিএসসি মোড়ে পাক সেনারা শত শত লোককে থামিয়ে মুসলমান না হিন্দু তা চেক (যাচাই)করতো।
জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “২৭ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সার্কিট হাউসের বাসাতেই ছিলাম। তবে পাকিস্তানি দালালদের ভয়ে মাঝে মাঝে লুকিয়ে পুরান ঢাকায় আমার চাচার বাসায় যেতাম। সেখানে আমার চাচার বাসা এবং প্রতিবেশীদের বাসায় অবস্থান পরিবর্তন করে রাত কাটাতাম। দিনে এক বাসায় আবার রাতে আরেক বাসায় লুকিয়ে থাকতাম।”
আসামীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার তাকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল গত ২০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবীর গত ২৬ আগস্ট জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করে আসামিপক্ষ।
গত ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালে গেরিলা বাহনীর সদস্য জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্চু জালাল (৫৭) আসামিপক্ষের জেরার জবাবে এ কথা বলেন।
আসামিপক্ষের জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা হয়েছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানীর রমনা এলাকায় ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞসহ তৎকালীন পরিস্থিতি আমি ঘুরে ঘুরে স্বচক্ষে দেখেছি।”
জেরাকালে সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে ২৭ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ফু তুলে নেয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাস্তাঘাটে সামরিক বাহনীর লোকেরা অস্ত্র হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তিনি বলেন, কারফিউ শিথিলকালীন সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকদের যেসব এলাকায় হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল সেসব এলাকায় ছবি তোলা ও খবর সংগ্রহ করার চেষ্টা করলে পাকসেনা তাদের ধরে ক্যান্টমেন্ট নিয়ে যেত। ওই সময় শাহবাগ রেডিও অফিস, টিএসসি মোড়, রমনা কালি মন্দির এলাকায় সেনা বাহিনীকে টহল দিতে দেখেছি। তবে পরিবাগ শাহ সাহেবের মাজারের পশ্চিমের রেল লাইন এলাকায় সেনা বাহিনী ছিল না।
তিনি বলেন, ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে শত শত মানুষের লাশ আমি স্বচক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। টিএসসি মোড়ে পাক সেনারা শত শত লোককে থামিয়ে মুসলমান না হিন্দু তা চেক (যাচাই)করতো।
জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “২৭ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সার্কিট হাউসের বাসাতেই ছিলাম। তবে পাকিস্তানি দালালদের ভয়ে মাঝে মাঝে লুকিয়ে পুরান ঢাকায় আমার চাচার বাসায় যেতাম। সেখানে আমার চাচার বাসা এবং প্রতিবেশীদের বাসায় অবস্থান পরিবর্তন করে রাত কাটাতাম। দিনে এক বাসায় আবার রাতে আরেক বাসায় লুকিয়ে থাকতাম।”
আসামীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার তাকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল গত ২০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবীর গত ২৬ আগস্ট জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করে আসামিপক্ষ।
গত ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
No comments:
Post a Comment