ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে না পাওয়া এবং বৈদেশিক ঋণ আটকে যাওয়ায় লাইসেন্স
পাওয়ার চার বছরেও তারহীন ইন্টারনেট সেবা ওয়াইম্যাক্স চালু করতে পারেনি
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না
দিলেও বাধ্য হয়েই প্রকল্পটি বাতিল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ওয়াইম্যাক্স চালুতে ব্যর্থ হলেও ফোর-জি সমমানের এলটিই (লং টার্ম
ইভোলিউশন) প্রযুক্তির চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিটিসিএল। এরই মধ্যে এলটিই চালুর
অনুমোদন চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছে আবেদন করেছে বিটিসিএল।
বোর্ড সভায় অনুমোদনের পরই এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রসঙ্গত, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০০৮ সালের ২৪
সেপ্টেম্বর ওয়াইম্যাক্সের লাইসেন্স পায় বিটিসিএল। ওই একই দিনে নিলামে
লাইসেন্স পেয়ে পরবর্তীতে কিউবি ও বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্স সেবা চালু করে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিটিসিএলকে নিলামে অংশ নিতে হয়নি। তারপরও
ওয়াইম্যাক্স সেবা চালুতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াইম্যাক্স সেবা চালু করতে চার বছরেও
ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পায়নি বিটিসিএল। শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি অংশীদার
নিয়ে ওয়াইম্যাক্স চালু করার পক্ষে মত দিয়ে এসেছে। নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর
অনেকাংশ প্রস্তুত থাকার পরও এককভাবে এ সেবা চালু করতে বিটিসিএল বরাবরই কম
আগ্রহ দেখিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি কোরিয়ার
এক্সিম ব্যাংক থেকে সাড়ে পাঁচশ’কোটি টাকা ঋণ নিতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত টাকা
ছাড় করেনি ব্যাংকটি। ঋণের ওই টাকা দিয়ে আমদানিকৃত (ইমপোর্টেড পার্ট)
যন্ত্রাংশ, মডেম কেনা এবং টাওয়ার ও অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল।
বিটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম ওয়াইম্যাক্সের বিষয়ে সরাসরি
কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন নতুন কিছু করার কথা ভাবছি।
ওয়াইম্যাক্সের চেয়েও আরো উন্নত প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে বিটিসিএল।’

No comments:
Post a Comment