চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে পাহাড়
কাটছে চট্টগ্রামভিত্তিক বৃহৎ শিল্পগ্রুপ বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস
বিএসআরএম। পাহাড় কাটার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষকে তলব করেছে
পরিবেশ অধিদফতর।
পাহাড় কাটার সত্যতা জানতে ইতিমধ্যে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জাফর আলম।
সোমবার দুপুরে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতর কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক বিএসআরএম কে নোটিশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে এ পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক প্রদানকৃত নোটিশ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলার তিন নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ও বারইয়ারহাট পৌরসভার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় চারাগাছ ও সবুজ পাহাড় ধ্বংস করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিএসআরএম। নোটিশ পাঠিয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্না দিচ্ছে। আর নানা অজুহাতে তারা অভিযোগের শুনানি পিছিয়ে দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জাফর আলম বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছি। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে অফিসে তলব করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সন্তোষজনক উত্তর না আসলে পরিবেশ অধিদফতর পরবর্তীতে মামলার প্রক্রিয়ায় যাবেন।”
তবে বিএসআরএম পরিবেশ অধিদফত কাছে পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পরিবেশ অধিদফতসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় প্রায় ৫০ একর এলাকা জুড়ে স্টিল মিল এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বিএসআরএম। এর মধ্যে সিংহভাগই রয়েছে পাহাড়ি ভূমি। যা কেটে সমতল করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে এই কারখানা স্থাপনের জন্য মাটি ভরাটসহ অবকাঠামো উনয়নের কাজ শুরু করে বিএসআরএম। এজন্য ২০০৯ সালের ৪ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থানগত ছাড়পত্রও নেয় তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবেশ অধিদফত একজন কর্মকর্তা জানান, অবস্থানগত ছাড়পত্র নেয়ার পর বিএসআরএম শর্ত লঙ্ঘন করে প্রস্তাবিত জায়গায় টিলা ও পাহাড় কেটে পুরো সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে। অথচ পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া অবস্থানগত ছাড়পত্রে পাহাড়ের আকৃতি ঠিক রেখে শিল্প স্থাপনের কথা বলা হয়েছিলো। বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত ৫০ একর জায়গার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল টিলা ও পাহাড়ি এলাকা।
এসব এলাকা সমতল ভূমিতে পরিণত করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজ গাছগাছালিও ধবংস করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সংশোধিত পরিবেশ আইনে পাহাড়ের পাশাপাশি টিলা কাটা এবং জলাশয় ভরাট করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। বিএসআরএম এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত চিটাগাং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের স্থান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তারা স্টিল মিলের প্রস্তাবিত জায়গায় পাহাড় কাটার বিষয়টি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।
বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলে পরিবেশ অধিদফতর তাদের নোটিশ পাঠায়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসআরএম’র বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক জাফর আলম ছুটিতে থাকায় শুনানি হয়নি। এর আগেও এক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়েছিল।
বিএসআরএম’র প্রভাবেই বারবার তাদের বিরুদ্ধে শুনানির তারিখও পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠার পর থেকে বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পরিবেশ অধিদফতরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিরসরাইয়ে প্রজেক্ট অফিসে ফোন করা হলে প্রজেক্ট কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, “আমরা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করি। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য জানতে হলে কর্পোরেট অফিসে যোগাযোগ করুন।”
পরে ফের কর্পোরেট অফিসে ফোন করলে এ বিষয়ে কথা বলা হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বিএসআরএম কর্তৃক পাহাড় কাটার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে উল্লেখ করে বলেন, “যদি পাহাড় কেটে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
জোরারগঞ্জ বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
পাহাড় কাটার সত্যতা জানতে ইতিমধ্যে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জাফর আলম।
সোমবার দুপুরে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতর কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক বিএসআরএম কে নোটিশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে এ পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক প্রদানকৃত নোটিশ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলার তিন নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ও বারইয়ারহাট পৌরসভার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় চারাগাছ ও সবুজ পাহাড় ধ্বংস করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিএসআরএম। নোটিশ পাঠিয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্না দিচ্ছে। আর নানা অজুহাতে তারা অভিযোগের শুনানি পিছিয়ে দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জাফর আলম বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছি। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে অফিসে তলব করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সন্তোষজনক উত্তর না আসলে পরিবেশ অধিদফতর পরবর্তীতে মামলার প্রক্রিয়ায় যাবেন।”
তবে বিএসআরএম পরিবেশ অধিদফত কাছে পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পরিবেশ অধিদফতসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় প্রায় ৫০ একর এলাকা জুড়ে স্টিল মিল এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বিএসআরএম। এর মধ্যে সিংহভাগই রয়েছে পাহাড়ি ভূমি। যা কেটে সমতল করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে এই কারখানা স্থাপনের জন্য মাটি ভরাটসহ অবকাঠামো উনয়নের কাজ শুরু করে বিএসআরএম। এজন্য ২০০৯ সালের ৪ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থানগত ছাড়পত্রও নেয় তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবেশ অধিদফত একজন কর্মকর্তা জানান, অবস্থানগত ছাড়পত্র নেয়ার পর বিএসআরএম শর্ত লঙ্ঘন করে প্রস্তাবিত জায়গায় টিলা ও পাহাড় কেটে পুরো সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে। অথচ পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া অবস্থানগত ছাড়পত্রে পাহাড়ের আকৃতি ঠিক রেখে শিল্প স্থাপনের কথা বলা হয়েছিলো। বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত ৫০ একর জায়গার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল টিলা ও পাহাড়ি এলাকা।
এসব এলাকা সমতল ভূমিতে পরিণত করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় সবুজ গাছগাছালিও ধবংস করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সংশোধিত পরিবেশ আইনে পাহাড়ের পাশাপাশি টিলা কাটা এবং জলাশয় ভরাট করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। বিএসআরএম এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বিএসআরএম’র প্রস্তাবিত চিটাগাং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের স্থান পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তারা স্টিল মিলের প্রস্তাবিত জায়গায় পাহাড় কাটার বিষয়টি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।
বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলে পরিবেশ অধিদফতর তাদের নোটিশ পাঠায়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসআরএম’র বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক জাফর আলম ছুটিতে থাকায় শুনানি হয়নি। এর আগেও এক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়েছিল।
বিএসআরএম’র প্রভাবেই বারবার তাদের বিরুদ্ধে শুনানির তারিখও পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠার পর থেকে বিএসআরএম’র কর্মকর্তারা পরিবেশ অধিদফতরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিরসরাইয়ে প্রজেক্ট অফিসে ফোন করা হলে প্রজেক্ট কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বলেন, “আমরা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করি। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য জানতে হলে কর্পোরেট অফিসে যোগাযোগ করুন।”
পরে ফের কর্পোরেট অফিসে ফোন করলে এ বিষয়ে কথা বলা হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বিএসআরএম কর্তৃক পাহাড় কাটার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে উল্লেখ করে বলেন, “যদি পাহাড় কেটে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
জোরারগঞ্জ বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

No comments:
Post a Comment