Pages

Thursday, September 27, 2012

পরিচালনা পর্ষদ নয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

পরিচালনা পর্ষদ নয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
  হলমাকের্র ঋণ জালিয়াতিতে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নয়; ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে মন্তব্য করেছে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী পরিচালক সুভাস সিংহ রায় ও জান্নাত আরা হেনরী।

বুধবার ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এএসএম নাঈমসহ সদ্য বিদায়ী পরিচালনা পর্ষদের ৫ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুভাষ ও হেনরী ছাড়াও অপর ৩ পরিচালক হলেন কেএম জামান রোমেল, অ্যাডভোকেট সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও আনোয়ার জাহিদ।

সকাল দশটায় সুভাষের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বেলা ১২টায় তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়। হেনরীর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এগারটায়, শেষ হয় দেড়টায়। দুপুর একটা থেকে রোমেল এবং নাঈমের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রোমেলের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় দু`টায়।
দুদকের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

দুই ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুভাষ সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্ককে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে তা হাই রিস্কের ঋণ। এতে আমাদের এখতিয়ার নেই।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হলমার্ক গ্রুপের ঋণ মঞ্জুর করেছে। অডিটে একাধিকবার সর্তক করার পরও ওই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’

সরকার শত্রুর সঙ্গে বসবাস করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। এ ভূতকে বের করতে হবে।’’

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জান্নাত আরা হেনরী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, ‘‘আইবিপির (ইনল্যান্ড বিল পার্সেস্ট) মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদকে জানানোর কথা নয়।’’

ম্যানেজমেন্ট এ ব্যাপার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেনি বলেও তিনি জানান।

হলমার্ক কেলেঙ্কারির দায়ভার পরিচালনা পর্ষদের ওপর বর্তায় না মন্তব্য করে হেনরী বলেন, ‘‘টোটাল দায়ভার ম্যানেজমেন্টের, আমাদের (পরিচালনা পর্ষদ) কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।’’

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোমেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্কের তদন্তের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছে কিছু তথ্য উপাত্ত জানতে চেয়েছে। আমরা তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’’

‘‘হলমার্কের কিছু অডিট আপত্তি এসেছিল। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটি আমাদের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি’’ বলেন রোমেল।

“হলমার্কের অনেক রেকর্ডপত্র সঠিক ছিল না” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) শাখা বোর্ডের কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ দেয় হলমার্ককে।”

হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী ও বর্তমানসহ মোট ১১ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয় দুদক।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া হয় তারা হচ্ছেন, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, সুভাষ সিংহ রায়, জান্নাত আরা হেনরী, কাশেম হুমায়ূন, মো: আনওয়ার শহীদ, এএসএম নাঈম, কেএম জামান রোমেল, সাইমুম সরওয়ার কমল, সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও প্রদীপ কুমার দত্ত।

এদিকে দুপুর সোয়া দুইটায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন দুদকের কমিশনার মোঃ বদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘যদি পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’’

সূত্র জানায়, মাত্র চারজন পরিচালক নিয়ে চলছে ব্যাংকটির বর্তমান পর্ষদ। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, এএসএম নাঈম ও প্রদীপ কুমার দত্ত বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকিদের মেয়াদ চলতি মাসের বিভিন্ন সময়ে শেষ হয়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হলমার্কসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেশি-বিদেশি ২৬টি ব্যাংকের ৫৮টি হিসাবে পাচার করে আত্মসাৎ করেছে।

No comments:

Post a Comment