Pages

Wednesday, September 5, 2012

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

প্রধানমন্ত্রীর চার প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে নিয়ে চরম ব্রিবতকর অবস্থায় পড়েছে মহাজোট। বিতর্কিত এ চার উপদেষ্টা হলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. মোদাচ্ছের আলী, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি, হাসপাতালে কর্মচারি নিয়োগ নিয়োগ নিয়ে বেঁফাস মন্তব্য, পদ্মা সেতু ইস্যুতে দূর্নীতির অভিযোগ, কুইক রেন্টাল ও ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি ও ট্রানজিট বিষয়ে এসব উপদেষ্টাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড ও মন্তব্যে সরকার ও ক্ষমতাসীন মহাজোট বিব্রত বোধ করছে। তবে বিষয়টি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জড়িত তাই তারা কেউ মুখ খুলছেন না। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলের এ অবস্থানের কথা জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দু’জন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক নেতা উপদেষ্টাদের দলের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না থাকা ও শপথ না নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়াকে কটাক্ষ করেছেন। তাদের কর্মকান্ডে দলের যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তারা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ বিষয়ে বার্তা২৪ ডটনেটকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরেক উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু ক্ষুব্ধ ভাষায় বলেন, ‘‘আমি ভাই কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী ভাল জানেন।’’ এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনেকেই এ বিষয়টিতে বিব্রত বোধ করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেছেন, ‘‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ।’’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহাজোটের শরিক দলের এক নেতা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর। তাদের দায়ভার কোনোভাবেই মহাজোট বহন করবে না।’’ এ সকল উপদেষ্টাদের বির্তকিত কর্মকান্ডের কারনে মহাজোটকে চরম মাশুল দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারা মনে করেন কেউ দূর্নীতি করলে সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আর কোনো ব্যক্তির দূর্নীতির দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর নাম ওঠে এসেছে। হলমার্ক গ্রুপের নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ অর্থ সরানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপেই হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দুদককে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সময়ে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলীকে সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখায় বেশ কয়েকবার দেখেছেন।

এর আগে  গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গোপালগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মোদাচ্ছের আলী বলেছিলেন, ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আগামীতে যে ১৩ হাজার তিনশ ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে, তাতে দলীয় লোকের বাইরে একজনকেও চাকরি দেওয়া হবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ মোদাচ্ছেরের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত বলে পরে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব রয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংক।  প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা পদ্মাসেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন।

বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নে ফিরে এলে মশিউর পদত্যাগ করবেন বলেও জানান। এর আগে একই অভিযোগে সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এছাড়া শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনেও বিনিয়োগকারীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই দুর্নীতির দায় নিয়ে তার পদত্যাগ করার কথা।

জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়ে সংসদের দশম অধিবেশনেও হয়েছে উত্তপ্ত আলোচনা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের বর্তমান বেহাল দশায় এ সেক্টরের উপদেষ্টার কর্মকান্ডে ফুঁসছে গোটা দেশ। তার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে বিব্রত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ খাতের সীমাহীন দুর্নীতিও এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট।

শুরুতেই কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার কথা বলে সমালোচনার ঝড় তোলেন ড. তৌফিক ই ইলাহী। তার উল্টো দম্ভোক্তি-কুইক রেন্টালের সমালোচনাকারীরা দেশের শত্রু, অজ্ঞ, জ্ঞানপাপী না হয় রাষ্ট্রদ্রোহী। তার এমন বক্তব্যেও সরকারের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ঘাটতি হয়েছে বলে মনে করেন মহাজোট নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ দশম সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ মন্ত্রণালয় কে চালান? মন্ত্রী না উপদেষ্টা? মন্ত্রীর কী ক্ষমতা, উপদেষ্টার কী ক্ষমতা, তা আমরা জানি না। উপদেষ্টাকে ফোন করলে তিনি তা ধরেন না। তাকে নিয়ে সংসদে দফায় দফায় বিতর্কসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ তিনি এসবের কিছুই গায়ে মাখেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা অপর ব্যাক্তি ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। তিনিও টিপাইমুখে ভারতের জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ ও ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ব্যাপারে যেন বেশ আগ্রহী। তার সমালোচনা করে মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন সংসদের দশম অধিবেশনে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন- তিনি কী ভারতের উপদেষ্টা না বাংলাদেশের উপদেষ্টা।

ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা ১৯৪৭ সালের পর থেকেই ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তার এমন বেফাঁস কথাবার্তায় তখন দেশের রাজনীতিতে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার কথার ভিন্নতায়ও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে তার কোনো উদ্যেগই ছিলনা।

এদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে এখনো পরিস্কার নয় খোদ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। শুরু থেকেই চার উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল তাদের দেশপ্রেম ও ক্ষমতা নিয়েও। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

No comments:

Post a Comment