জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন,
“কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এটি শুধু
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর নয়, বরং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করা নীলনকশার অংশ।”
রোববার দুপুর ১২টায় কমিশনের সম্মেলনকক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অক্সফাম ও
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ড. মিজানুর এসব
কথা বলেন।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, “এত বড় একটি ঘটনা কারা কেন ঘটিয়েছে গোয়েন্দা ও
প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই তা বেরিয়ে আসবে। যদি তারা এটা বের করতে না পারে,
তাদের বিদায় করতে হবে।”
মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “সেখানে গিয়ে দেখেছি কতটা
পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় রাসায়নিক ব্যবহার করে
বৌদ্ধদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। মাঝের মুসলমান বাড়িতে আগুন লাগেনি। হাজার
বছরের পুরানো মূর্তি ভাঙচুরের পর তার চোখের দামি পাথর খুলে নেয়া, স্বর্ণের
মূর্তি লুটের ঘটনা খুবই পরিকল্পিত, এটা বোঝা যায়।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কাল সেখানে যাবেন। এটি সরকারের অত্যন্ত সঠিক
সিদ্ধান্ত। বৌদ্ধরা এদেশেরই নাগরিক, এটা তাদের বিশ্বাসযোগ্যভাবে বোঝাতে
হবে।”
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কেবল গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়াতে
সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা ঠিক হবে না। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে
হবে।”
রাজনীতিবিদদের প্রতি ঈঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে কাউকে দোষারোপ
করে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। বরং আগুন লাগার আগে কারা সেখানে জনসভা করেছিল,
সভায় কী বলেছে, লাঠিসোটা নিয়ে কারা এসেছে, আগুন লাগার পর জনপ্রতিনিধিরা
কোথায় ছিল এসব বিষয় আমলে এনে তদন্ত করতে হবে।”
মানবাধিকার কমিশনও এ ঘটনার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে চেয়ারম্যান জানান।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অক্সফামের চুক্তির
ব্যাপারে তিনি বলেন, “খাদ্যের অধিকার অত্যন্ত মৌলিক অধিকার। গ্রামের মানুষ
বিশেষ করে নারীরা যেন এ অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেজন্য অক্সফামের সঙ্গে
এক বছরের চুক্তি হয়েছে।”
এ সময় অক্সফামের বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেরেথ প্রাইস জোনস
বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য অধিকার নিয়ে অক্সফাম ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আশা করি, এ চুক্তি উভয়পক্ষের জন্য ইতিবাচক হবে।”