হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের স্পিকারের রুলিংয়ের বিষয়ে বিভাগের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারকে আপিলের অনুমতি দেয়নি আপিল বিভাগ।
রোববার প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের
পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সরকার পক্ষের করা আবেদনটি কিছু অবজারভেশনসহ নিষ্পত্তি
করেন।
স্পিকারের রুলিংকে অকার্যকর করে হাই কোর্টের দেয়া আদেশ বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর
লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেন আপিল বিভাগ।
ওই দিন আপিলের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অন্যদিকে আপিলের বিপক্ষে রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আক্তার ইমাম শুনানি করেন।
হাই কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকার গত ৩ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিল
(আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পরে চেম্বার বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা
৩০ সেপ্টেম্বর বিষয়টির শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে
দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানি হয়।
একজন বিচারক সংবিধানের ৭৮ (১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন এবং এ বিষয়ে কী
ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, প্রধান বিচারপতি ভেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন
স্পিকারের এই রুলিংয়ের আইনগত ভিত্তি নেই বলে হাই কোর্টের দেয়া রায় ২৭ আগস্ট
প্রকাশিত হয়।
জাতীয় সংসদে একজন বিচারক সম্পর্কে স্পিকারের দেয়া রুলিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে
গত ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম শফিউদ্দিন ওই রিট আবেদনটি
করেছিলেন।
শুনানি নিয়ে গত ২৪ জুলাই আদালত পর্যবেক্ষণসহ আবেদন নিষ্পত্তি করেন। আর হাই
কোর্টের রায় প্রকাশের এক সপ্তাহের মাথায় গত ৩ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিল করে
সরকার।
প্রসঙ্গত, ২৯ মে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সড়ক ভবন সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বক্তব্য
দেন সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে ৫ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক এ এইচ এম
শামসুদ্দিন চৌধুরী কিছু মন্তব্য করেন। একই দিন সংসদে কয়েকজন সদস্য এর তীব্র
প্রতিবাদ করেন এবং সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ওই বিচারপতিকে
অপসারণের দাবি জানান। এর ১৩ দিনের মাথায় ১৮ জুন সোমবার স্পিকার আবদুল হামিদ
অ্যাডভোকেট সংসদে একটি রুলিং দেন।
No comments:
Post a Comment