Pages

Monday, August 27, 2012

পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে, কিন্তু কেন?

পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে, কিন্তু কেন?

 প্রেম, ভালোলাগা কিংবা মন্দ লাগা মানুষ মনের ভেতর বিভিন্নভাবে অনুভব করে। প্রতিটা মানুষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। সুতরাং একজনের যা অসাধারণ সৌন্দর্য্যমণ্ডিত সেটা অন্য জনের কাছে নাও হতে পারে। তারপরেও গড়পড়তা বলে একটা ব্যাপারতো থেকেই যায়। চলুন আজ সিম্পল একটা বিষয় ‘পুরুষ কেন দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে পছন্দ করে’ নিয়ে আলোচনা করলে কেমন হয়! নিশ্চয়ই পুরুষদের কাছ থেকে পরস্পর বিরোধী নানারকম তথ্য পাওয়া যাবে।

ওকে! আলোচনার আগে আপনাকে একটু খেই ধরিয়ে দেই, আপনি কি জানেন! গুডি গুডি টাইপ মেয়েরা শুধু স্বর্গে যেতে পারে আর দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা সবখানে যেতে পারে। এখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো রহস্য। এবার তবে সেই কারণগুলো মন থেকে উগড়ে দিন। অতলষ্পর্শীকে আবিস্কার করার নেশাতুর আগ্রহ তো সবারই অদম্য। জানিয়ে দিন তবে রহস্যটা কি!

কোনো একটা অজানা কারণে পুরুষেরা দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের পছন্দ করে থাকে। ব্যাপারটা আসলে সেই আবিস্কার হেতু! পুরুষের এই দুষ্টু মেয়ে কেন্দ্রীক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে সম্প্রতি জরিপ কাজ পরিচালনা করেছে জিনিউজ। পুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া নানা রকম তথ্য খণ্ডিয়ে গড়পড়তা ছয়টি কারণকে উল্লেখযোগ্য বলে ধারণা করা হয়েছে। চলুন চোখ রাখি।

সম্পর্কের গভীরতা চেয়ে ব্যস্ত হন না: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা একটু সতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা হয়ে থাকে আর সেকারণেই তারা দীর্ঘকালীন একটি সম্পর্কে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে চায় না। সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ। বাবা-মায়ের মাথার বোঝা হয়ে থাকতে নারাজ ওই মেয়েরা পুরুষের নোংরা মানসিকতাকে হেলায় ঠেলে দিতে কখনো পিছপা হয়না। পুরুষরা মেয়েদের বোল্ড মাইন্ড পছন্দ করে।

আকর্ষণীয় পোশাক: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা তাদের নিজস্ব স্বভাব গুণেই পুরুষদের চোখে নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। উল্লেখযোগ্য কারণ হলো পোশাক পরিচ্ছদ। তারা নিঃর্দ্বিধায় পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় সব উদ্দীপক পোশাক পড়তে পারে। পুরুষদের চোখে হাই হিল, সর্ট স্কার্ট ও সিস্নভলেস পোশাকের থেকে আকর্ষণীয় তো কিছু হতে পারে না।

অসাধারণ সেন্স অব হিউমার: পুরুষদের আসরে জুসি ল্যঙ্গোয়েজ আর ডার্টি জোকস্ থাকবেনা সেটা কি ভাবা যায়! এই পরিস্থিতিতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের অসাধারণ সেন্স অব হিউমার প্রকাশ পায়। হাস্যরসের খানিকটা তাদেরও তো জানা। সুতরাং পাল্টা জুসি ল্যাঙ্গোয়েজ দিয়ে তারাও আসর জমাতে সক্ষম। নিজেকে যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তাদের মধ্যে দুর্দান্ত।

এটা দরকার, এটা চাই: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা কখনোই বলবে না মিউজিকটা উচ্চস্বরে হয়েছে, ক্ষুধা লেগেছে অথবা তাদের ঠাণ্ডা কিংবা গরম লাগছে। তারা কথা বলে অথবা ব্যাখ্যা দিয়ে সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না। তারা উঠবে- রেডিওটা বন্ধ করবে, নিজের জন্য স্যান্ডউইচের ব্যবস্থা করবে, হ্যাঙ্গার থেকে নিজের জন্য জ্যাকেট নামিয়ে নেবে।

চিন্তাশীলতায় সমমনা: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা মানসিক দিক দদিয়ে পুরুষের অনেক কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তারা পুরুষের প্রতিপক্ষ হতে পছন্দ করেন না। পুরুষরাও তাদের সঙ্গে নিজের মানসিকতাকে সম্পৃক্ত করতে অনেক সহজবোধ করেন। পুরুষরা তাদের কেবলমাত্র ভালোবাসার উপাদান হিসেবে নয় প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পায়।

স্ত্রী হিসেবে অনন্য: বেশির ভাগ পুরুষের কাছে দুষ্টু মেয়েরা স্ত্রী হিসেবে বিছানাতেও খুব দুষ্টু হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনের একান্ত সময়কে গুণগত মানসম্পন্ন করে তুলতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে কখনো কুন্ঠিত কিংবা লজ্জিত হন না।

অন্তহীন এক রেস

অন্তহীন এক রেস

 রেস-এ একবার নামলে কি আর পিছিয়ে আসা যায়? যায় না। সেটাই তো স্বাভাবিক। তখন থেমে যাওয়ার ফুরসত কোথায়? আর থেমে যাওয়া মানে তো তখন হেরে যাওয়া। নীল রক্তের কোনো জাতকের পক্ষে রেস-এ থেমে যাওয়া আর সম্মান খোওয়ানো তাই একই ব্যাপার।

পাশাপাশি, আরেকটা দিকও আছে অন্তহীন রেস-এর! রেস-এ এগিয়ে থাকার জন্য একবার দু’হাতে রক্ত মাখলে ধুয়ে ফেললেও সেই দাগ যায় না। তখন শোণিতে তর্পণই একমাত্র পথ ও পন্থা। কাজে কাজেই প্রথমবার রেস-এ জিতে গিয়ে সাইফ আলি খান যে আবার ফিরে আসবেন প্রতিযোগিতায় হিস্যা নিতে- তাতে আর আশ্চর্য কি?

আশ্চর্য এখানে নয়। স্বাভাবিক নিয়মেই যে ছবি ভালো ব্যবসার মুখ দেখিয়েছে, তার সিক্যুয়েল বানিয়ে আরো মুনাফা ঘরে তোলার একটা চাহিদা তো থাকেই। চাপও থাকে অবশ্য প্রযোজক এবং ভক্তদের। সেই দাবি মেনে নিয়ে সেফ খেলার জন্য সাইফ আগ্রহ দেখাতেই পারেন আব্বাস-মস্তানের ‘রেস ২’ ছবি নিয়ে। আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো- নানান পরিকল্পনা করে করেও কিছুতেই ঠিক হচ্ছে না ‘রেস ২’-এর অভিনেতা তালিকা।

‘রেস’ ছবি যখন দুর্দান্তভাবে বাণিজ্যিক সাফল্য পেল, লোকের মুখে মুখে যখন ‘রেস’ ছবির ট্যুইস্ট ও টার্ণের কথা, সাইফ-বিপাশার ধোঁওয়া-ওঠা শরীর রসায়নের কথা- তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গিয়েছিল যে, বাজারে এরপর দাখিল হবে সিক্যুয়েল ছবি। রণবীর সিং ওরফে সাইফ, ইন্সপেক্টর রবার্ট ডি’কস্টা ওরফে অনিল কাপূর- প্রধান এই দুই চরিত্রকে সিক্যুয়েলে ছেঁটে ফেলার কোনো মানেই হয় না। তাছাড়া এই চরিত্রদুটোই তো ‘রেস’ ছবির ভরকেন্দ্র। অতএব, তারা সগৌরবে থাকলেন। কিন্তু ভারতীয় সিক্যুয়েলের হিসাব মেনে বাদ গেল দুটো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এখন, ভারতীয় সিক্যুয়েল কারে কয়? যে সিক্যুয়েল ছবির শুধু নাম এবং নায়ক এক; বাদ বাকি পুরোটাই নয়া- তাই ভারতীয় সিক্যুয়েল। আর এই হিসেবে সবসময়েই চোটটা গিয়ে পড়ে নায়িকাদের ওপর। ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবির নায়িকারা এখনও নেহাত লীলাসহচরী; তাতে যত নতুনত্ব আসে, ততই তো ভালো। ফলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও সিক্যুয়েলে বদলে যাচ্ছে রণবীর আর ডি’কস্টার নারীরা।

ডি’কস্টার বিপরীতে গেল বার সামীরা রেড্ডিকে দেখা গেলেও এবারে সেই জায়গায় আসছেন আমিশা প্যাটেল। বেশ কথা। জামার মতো নারী বদলানো ডি’কস্টার স্বভাব; কাজেই এতে তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু সনিয়া? রণবীরের প্রেম? বিপাশা বসু ছাড়া সিক্যুয়েল হলেও রেস জমতে পারে নাকি?

জমতে পারে না বলেই ‘রেস ২’ ছবিতে কেবলমাত্র দুটি-একটি দৃশ্যে মুখ দেখিয়েই বিদায় নেবেন বিপাশা। আর তাঁর জায়গায় শরীর দেখাবেন দীপিকা পাড়ুকোন। সেই কৃষ্ণাঙ্গ সুন্দরী, শুধু ভাইটালস্ট্যাটিস্টিকে তফাত! তাছাড়া বেশ কয়েকটি ছবির দৌলতে এখন সাইফ-দীপিকা জনপ্রিয় জুটি; কাজেই কারিনা আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে টপকে এই ছবিতে সাইফের নায়িকা হচ্ছেন দীপিকা। আর সাইফের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই ছবিতে সম্ভবত দেখা যেতে পারে জন আব্রাহামকে।

কিন্তু ‘রেস’ ছবিতে এক শ্বেতাঙ্গিনী সুন্দরীও তো থাকতে বাধ্য ফর্মুলা মেনে! ক্যাটরিনা কাইফের জায়গায় সিক্যুয়েলে সেই জায়গা ভরাট করবেন কে? কানাঘুঁষোয় শোনা যাচ্ছে, এবারে সেই জায়গায় এন্ট্রি নিচ্ছেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। তবে এ নেহাতই সম্ভাবনা মাত্র; পাকা কথার এখনও ঢের দেরি।

বোঝাই যাচ্ছে, আগের বারেরটা হিট হয়ে যাওয়ায় এইবার ‘রেস ২’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ভালোমতো উপরের দিকে! তাই হয়তো অভিনেতা বাছাইয়ে এত খুঁতখুঁতানি; বারবার এগিয়ে-পিছিয়ে আসা। এদিকে ছবি মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ তো ঠিক করা হয়েছে ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি! সে তো এসে গেল বলে! এর মাঝে ছবি তৈরি হয়ে যাবে তো? না গেলেও ভরপুর মশলা ছবির জন্য দর্শক যে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হবেন না, তা তো পরিচালক-প্রযোজকের হেলদোলই বলে দিচ্ছে। সূত্র: ওয়েবসাইট।

সানি কাহিনী


সানি কাহিনী



 `বিগ বস ৫` -এর অন্যতম হাউসমেট। আর তারপরই একেবারে মহেশ ভাট ক্যাম্পের `জিসম ২` দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। টিনসেল টাউনে এমন স্বপ্নের পদার্পণ তারকা পুত্র-কন্যাদের ভাগ্যেও জোটে কিনা সন্দেহ। আর তাই পর্নস্টার থেকে বলিউড বেব-এ উত্তরণ হওয়া সানি লিওন এখন অনেকেরই চক্ষুশূল। কিন্তু বলিউডে আসার আগে কেমন ছিল সানির জীবন? কেমন ছিল পর্নফিল্মে তার দীর্ঘ যাত্রাপথ? ক্যামেরার পিছনেই বা কেমন ছিল তার জীবন যাত্রা? সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় বিনোদন ওয়েবসাইটে নিজের জীবনের সেই গল্পই শুনিয়েছেন সানি। কীভাবে কারেন মালহোত্রা থেকে সানি লিওন হয়ে উঠলেন এই ইন্দো-কানাডিয়ান পর্নস্টার।

নিতান্তই কিশোরী বয়সে প্রথম পর্ন ফিল্মের ডিভিডি দেখেছিলেন সানি। কিন্তু, চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কানাডার রক্ষণশীল পাঞ্জাবি বাড়িতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ডিভিডিটি সযত্নে লুকিয়ে ফেলেন তক্ষুনি। প্রথম অভিজ্ঞতার বেশ কয়েক বছর পর ১৯ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে আবার পর্ন ফিল্ম দেখেন সানি। সেই অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সানি বলেছেন, `একটি ঘরের মধ্যে একদল নগ্ন ছেলেমেয়ের একসঙ্গে দৌড়দৌড়ি করার মজাই আলাদা। ইট ওয়াজ কুল`!

সেইসময়ই নিজের হাতখরচ চালাতে একটি বেকারিতে কাজ করতে শুরু করেন সানি। কাজ করেন একটি ট্যাক্স অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট ফার্মেও। এরপর পরিবারের সঙ্গে আমেরিকা পাড়ি দেন তিনি। দুই বছর কলেজে পড়ার পর ২০০৩ সালে নির্বাচিত হন পেন্টহাউস পেট অফ দ্য ইয়ার। প্রচুর মডেলিংয়ের অফার আসতে থাকে সানির ঝুলিতে। তার মধ্যেই হঠাত্ই এক এজেন্টের মাধ্যমে পর্ন ফিল্মের অফার পান সানি। রাতারাতি বদলে যায় জীবন।

প্রচুর অর্থের হাতছানি সানির জীবেন সূচনা করে এক নতুন অধ্যায়ের। প্রথম দিকে লাগাতার সহবাস তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে রাখলেও ধীরে ধীরে কারেন থেকে নাম বদলে সানি হয়ে ওঠেন তিনি। পেন্টহাউস ম্যাগাজিনের প্রাক্তন সম্পাদকের কথামতো মালহোত্রা সরিয়ে নামের পিছনে লিওন পদবী জোড়েন।

সচেত ভাবে এই পেশাকে বেছে নেয়া সানি দুনিয়ার পরোয়া কোনোদিনই করেননি। চিন্তা শুধু ছিল মা-বাবাকে নিয়ে। বাড়িতে জানানোর পর প্রথমে মেনে নিতে পারেননি তারা। কিন্তু কোনোদিনই মেয়েকে ত্যাগ করেননি। এমনকি তার সঙ্গে যোগযোগও বন্ধ করেননি। কিছুদিন পর সানির সিদ্ধান্ত মেনে নেন তারা। তবে নিজের আমেরিকার বাড়িতে নিজের একটিও ডিভিডি রাখেননি সানি। তার বাড়িতে গেলে কেউ বুঝতেই পারবেন না তার জীবনধারণের উপায়। সূত্র: জিনিউজ।

ত্বক সুরক্ষায় সবুজ চা


ত্বক সুরক্ষায় সবুজ চা

  সবুজ চা ত্বককে রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি ধ্বংস করে। এর ভেতর যে ভেষজ উপাদান রয়েছে তা ত্বককে সুরক্ষা করতে পারে। এমনটিই দাবি করেছেন আমেরিকার একদল গবেষক।

গবেষণায় দেখা যায়, সবুজ চায়ে গোল্ডেন ফার্ন (ফিলবোডিয়াম অ্যারিয়াম বা পোলিপডিয়াম লিউকাটোমোস) এবং আসিয়ান জিনসেং (পানাক্স জিনসেং) জাতীয় ভেষজ উপাদান বেশি থাকে, যা সূর্যের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষা করে। ফলে সবুজ চা পান করলে দেহে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং আলোকরশ্মির ফলে সৃষ্ট ত্বক ক্যানসার রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত উচ্চমাত্রার সবুজ চা পান করলে সূর্যের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষা হয়।

গবেষক মেরি অ্যান লিবার্টের প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বক সুরক্ষার নিবন্ধনটি প্রমাণসহ প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সূত্র: এএনআই

মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির


মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির

 মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির তার জবানবন্দি পেশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২এ।
 
শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে আলবদর বাহিনী জড়িত।
 
ওই সময় তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি একটি  উদাহরণ দিতে পারি। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর বদর দিবস পালন উপলক্ষে আর বদরদের এক সমাবেশে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ তার ভাষায় পাকিস্তান, ইসলামের দুশমনদের ও ভারতীয় এজেন্ডাদের খতম করার শপথ পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের তথা মুক্তিযোদ্ধাদের তারা বলতো দুষ্কৃতিকারী, ইসলামের শক্রু, ভারতের এজেন্ড, নমরুদ ও জারজ সন্তান প্রভৃতি।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম, নিজামী ও মুজাহিদ প্রমুখ শীর্ষ নেতারা বলেছেন, পাকিস্তান হচ্ছে আল্লাহর ঘর, পাকিস্তানকে রক্ষা করতে জেহাদ করতে হবে। জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগসাজসে গণহত্যা ও মানবতাববেরোধী অপরাধের সহযোগিতা করায় তাদের নৃশংসতা এতটা বিস্তৃত হয়েছিল।”
 
রোববার ট্রাইব্যুনাল-২এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশকালে এসব কথা বলেন।
 
সাক্ষী শাহরিয়ার কবির আরো বলেনম  “সেই সময় পাকিস্তান প্রাদেশিক ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, সংঘের সভাপতি ছিলেন এই মামলার আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াতের অন্যতম নেতা কামারুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী ছিলেন ছাত্র সংঘ ও আলবদর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা।”
 
তিনি বলেন, “৭১ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলবদর বাহিনীর ঘাতকেরা তালিকা করে হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করেছে। যার মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ দেশসেরা মানুষেরা।”
 
তিনি আরো বলেন, তার চাচাতো ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেলিম মনসুর খানের লেখা ‘আলবদর’ বই ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে বলতে পারি ‘৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর এ বাহিনীর নেতা হিসেবে নিজামী, মুজাহিদ কী করেছেন তার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ৭১ সালের জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য সংবাদপত্রে।
 
তিনি বলেন, শান্তি কমিটির  ওপর জামায়াত ইসলামীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ছিল। নিজেদের একটি ঘাতক বাহিনী গঠন করার প্রয়োজনে তারা আল-বদর ও রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। এই দুটির ভেতরে আল বদর বাহিনী গঠন করা হয়েছিল জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতাদের দ্বারা। যে নেতাদের ভেতরে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ অন্যতম।”
 
শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, “বাংলাদেশের এই সংগঠনগুলো যে অপরাধ করেছে এবং যে কারণে এই অপরাধগুলো করেছে  সেই রাজনীতি সেই আদর্শ তারা এখনো অনুসরণ করছে।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২ মে পর্যন্ত আমি মহাখালীর বাড়ীতে ছিলাম। এর পরে আমি ভারতে চলে যাই। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমি দেশে ফিরে আসি।”
 
পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।  তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি ঢাকা ইউনিভাসির্টিতে কোন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন? জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি ঢাকা ইউনিভাসির্টি থেকে বাংলায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে আর পড়ালেখা করিনি।
 
পরে মামলার কার্যক্রম আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে দেন আদালত।

রাজধানীতে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ : মামলা তুলে নিতে চাপ


রাজধানীতে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ : মামলা তুলে নিতে চাপ

রাজধানীর হাজারীবাগে কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার পথে এক গার্মেন্টস কর্মীকে তুলে নিয়ে একটি বাসায় আটকে রাতভর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা।

ওই গার্মেন্টসকর্মী তাদের চিনতে পারলেও পুলিশ দু’সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার না করে ওই বাসার দারোয়ানকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে ধর্ষকদের একজন ট্যানারী এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন ওরফে ট্যানারী শাহীনের ভাগ্নে হওয়ায় ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে নির্যাতিতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্যাতিত গার্মেন্টসকর্মী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গার্মেন্টস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। এরপর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জল্লাত শাহীন ও মাহতাব হোসেন তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক নিলাম্বর সাহা রোডের ২৩/১ নম্বর বাসায় নিয়ে যায়। পরে দারোয়ান ফারুকের সহায়তায় রাতভর নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। সকালে তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ঘটনা প্রকাশ না করতে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে ওই তরুণী আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন।

হাজারীবাগ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষনের অভিযোগে শাহীন, মাহতাব ও ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষক জল্লাত শাহীন সেভেন মার্ডার মামলার আসামী এবং একটি খুনের মামলায় মাহতাব যাবৎজীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামি। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে এক মাস আগে জামিনে মুক্ত আছেন তিনি।

৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রহুল হক বলেন, “শিশু পুষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমুহে একটি মারাত্মক সমস্যা। বৈশ্ব্যিক প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের  শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অঞ্চলে ৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।”

রোববার মহাখালিস্থ আইসিডিডিআরবি মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান ইনফ্যান্ট রির্সাচ নেটওর্য়াক (এসএআইএফআরএন)’র পাঁচদিন ব্যাপী ৭ম আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এসএআইএফআরএন কয়েক দফায় বাংলাদেশ নেপাল, শ্রীলংকা ও ভারতের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য জরিপ স্বাস্থ্য জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে দেখা যায়, এই চারটি দেশ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুষম খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লক্ষ্য মাত্রায় পৌছাতে পারেনি। যা সহস্রাব্দের উন্নয় লক্ষ্য মাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য এসএআইএফআরএন  ক্যাপাসিটি বিল্ডিং উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার মাতৃবান্ধব হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে ছয়’শ হাসপাতালের চার’শ ৯৯টি উন্নত চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ৫০লাখ মার্কিন ডলার বরাব্ধ দেয়া হয়েছে । তিনি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণারত সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য বলেন, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক গবেষণালব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ দেশের সরকার ও অন্যদেশে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের অপেক্ষা রয়েছি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রবনতা আশাতীত হারে বাড়ছে। এটা একটি সুখবর। ২০০৭ সালে ৪৩শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১১সালে ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটা ক্রমেই বেড়ে চলছে। পুষ্টিহীনতা সর্ম্পকে বলা হয়, ২০০৭ সালের ৪৩ শতাংশ থেকে কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ৩৯ শতাংশে নেমেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা.মজিবুর রহমান ফকির ও ঢাকায় নিযুক্ত অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকার বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সদস্যদের লভ্যাংশ দেয় গ্রামীণ ব্যাংক: নূরজাহান

 
  “গ্রামীণ ব্যাংক বরাবর শেয়ারহোল্ডারের লভ্যাংশ দিয়ে এসেছে। প্রত্যেকে সদস্যকে তার লভ্যাংশ প্রতি বছর   পৌঁছে দেয়া হয়,” গ্রামীণ ব্যাংক তার সদস্যদের কোনো লভ্যাংশ দেয় না মর্মে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কথা জানালেন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূরজাহান বেগম।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে নুরজাহান বেগম বলেন, এপর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক সরকারকে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে দু’কোটি ৫২ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংককে প্রত্যেকে ৩০ লাখ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৬৩ লাখ টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে।

আর সদস্যরা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৭৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন (সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন, যেহেতু ২০০৬ সালের পরবর্তী সময়ে যারা শেয়ার কিনেছেন তারা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মেয়াদে লভ্যাংশ পেয়েছেন)। প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি বছর লভ্যাংশ তার কাছে পৌছে দেয়া হয়।

গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানার হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রত্যেক সদস্য যে কোনো সময় ১০০ টাকা দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শেয়ার কিনতে পারেন। ৮৪ লাখ ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৫৫ লাখ ঋণ গ্রহীতা এ পর্যন্ত শেয়ার কিনেছেন। এর মাধ্যমে তারা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ৯৭ শতাংশ মূলধনের মালিক হয়েছেন। সরকার ও সরকারি ব্যাংক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার শেয়ার কিনে ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

নুরজাহান বেগম আরো বলেন, “আইন মন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদের বক্তব্য শুনে সংবাদ মাধ্যমের পাঠকদের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। একারণে আমি প্রকৃত তথ্য তুলে ধরছি। আমি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম দিন থেকে, যেদিন ১৯৭৬ সালে প্রফেসর ইউনূস জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথম জোবরা গ্রামে ঋণ দিয়েছিলেন, সেদিন থেকে ১৪ই আগস্ট, ২০১১ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৫ বছর ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পূর্বে তার প্রারম্ভিক কার্যক্রমে এবং গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম। প্রফেসর ইউনূস যেদিন পদত্যাগ করেছেন সেদিন তার হাত থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং গত বছর ওই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছি।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বাৎসরিক হিসাব অনুমোদন করার সময় বছরের অর্জিত মুনাফা কীভাবে বন্টন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মুনাফার কী পরিমাণ অংশ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার মালিকদের কাছে বন্টন করা হবে সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরু থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়ার মত পর্যাপ্ত না থাকায় লভ্যাংশ দেয়া হয়নি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সরকারের দেয়া শর্ত পূরণের জন্য লভ্যাংশ দেয়া হয় নি।

লভ্যাংশ না দিয়ে সব মুনাফা পুনর্বাসন তহবিলে দেয়ার শর্তে সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি দেয়, এজন্য বোর্ড লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ২০০৬ সাল থেকে সরকারের এই শর্ত রহিত হওয়ার পর বোর্ড ২০০৬ সালে ১০০%, ২০০৭ সালে ২০% এবং ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রতিবছর ৩০% হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। মুনাফার পরিমাণ কম হলে গ্রামীণ ব্যাংক যাতে একই হারে মুনাফা বন্টন করতে পারে সেজন্য ‘মুনাফা সমতা আনয়ন তহবিল’ গঠন করেছে। ২০১০ পর্যন্ত এই তহবিলে ৬৯ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা জমা আছে।

আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


 জামায়াত নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, রোববার ট্রাইব্যুনালে জামায়াত আমির নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের স্বাক্ষী মিজবাহুর রহমান চৌধুরী তাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য নয়। সাক্ষীর জবানবন্দীর পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে রাজ্জাককে বদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন মিজবাহুর।

তিনি বলেন, “জনাব মিজবাহুর রহমান ধান বানতে এসে শিবের গীত গেয়েছেন। নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আমার বিরুদ্ধে লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে মাত্র দুটি বাক্য বলেছেন।  তিনি আমার বিরুদ্ধে  এ নিয়ে যতবার বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন গল্প হাজির করেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এবং ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ানো হতে পারে। লন্ডনে যে স্থানের নাম তিনি বলেছেন এরকম কোনো জায়গার নাম আমার জানা নেই। আমাকে জড়িয়ে লন্ডনে বৈঠক সম্পর্কে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তিনি আরো বলেন, “মিজবাহুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে আমার নাম তিনি একবারও উচ্চারণ করেননি। আরো মজার বিষয় হলো তিনি ২০০৮ এবং ২০০৯ সালেও আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আমার বিরুদ্ধে লন্ডন বৈঠকের গল্প বলেননি। আমি যদি লন্ডন বৈঠকে নিজেকে আলবদর সদস্য স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতাম তা তিনি কেন গত ৩৮ বছরে একবারও বলেননি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে কেন বলেননি ?”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০  বছরে একমাত্র  মিজবাহুর রহমান চৌধুরী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো একজন ব্যাক্তি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই  লেখা হয়েছে। তার কোথাও আমার নাম নেই।”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর একটি ভাঙ্গা রেকর্ড আছে। সেটি তিনি মাঝে মাঝে বাজান। তিনি কি ছিলেন এবং তার চরিত্র কি তা দেশের মানুষ জানে। আমি বলতে চাই না।  আমি একটি সফল ডিফেন্স টিম গঠন করেছি। সেটা যাতে চালাতে না পারি সেজন্য আমার ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে তার এ ধরনের মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

রাজ্জাক সম্পর্কে যা বলেছেন মিজবাহুর
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিজবাহুর রহমান চৌধুরী লন্ডনে চলে যান। এরপর তিনি লন্ডনে স্কুলে এবং কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। এ সংগঠন করার সময় একদিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (তখন ব্যারিস্টার হননি) আমার সাথে এসে সাক্ষাৎ করেন। উনি আমাকে ইসলাম পছন্দ লোকদের একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি এবং তৎকালীন  ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সভাপতি (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জেড শাহ) তার অনুরোধে বৈঠকে যাই। বৈঠকের ঠিকানা বলেন, ৫৭+২।  গিয়ে দেখি সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযম, তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মিয়া তোফায়েল, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন সেখানে উপস্থিত। এ ধরনের একটি বৈঠকে আমাদের ডাকার জন্য আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ওপর মনোক্ষুন্ন হই। সেখানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কিছু  বক্তব্যে জানতে পারি তিনি নিজে  ১৯৭১ সালে আলবদর সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলবদর সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর পর্যন্ত তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।  পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করেন। এরপর ভারত-নেপাল   হয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকও মানবতাবিরোধী অপরাধী: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী

ব্যারিস্টার রাজ্জাকও মানবতাবিরোধী অপরাধী: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী


 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকও ‘যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতা বিরোধী’, রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে এ দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের প্রধান মিজবাহুর রহমান৷ তবে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও নিজামীর মামলার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন৷

নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ ট্রাইবুনালে মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে গিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মিছবাহুর রহমান দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজামীর নেতৃত্বে গঠিত আল বদর বাহিনীর সদস্য ছিলেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক৷

তবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়৷ তাদের আইনি লড়াইকে দুর্বল করার জন্যই এসব কথা বলা হচ্ছে৷ সাক্ষীর জবানবন্দীর পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

রাজ্জাক সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালে যা বলেছেন মিজবাহুর
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিজবাহুর রহমান চৌধুরী লন্ডনে চলে যান। এরপর তিনি লন্ডনে স্কুলে এবং কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। এ সংগঠন করার সময় একদিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (তখন ব্যারিস্টার হননি) আমার সাথে এসে সাক্ষাৎ করেন। উনি আমাকে ইসলাম পছন্দ লোকদের একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি এবং তৎকালীন  ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সভাপতি (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জেড শাহ) তার অনুরোধে বৈঠকে যাই। বৈঠকের ঠিকানা বলেন, ৫৭+২।  গিয়ে দেখি সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযম, তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মিয়া তোফায়েল, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন সেখানে উপস্থিত। এ ধরনের একটি বৈঠকে আমাদের ডাকার জন্য আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ওপর মনোক্ষুন্ন হই। সেখানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কিছু  বক্তব্যে জানতে পারি তিনি নিজে  ১৯৭১ সালে আলবদর সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলবদর সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর পর্যন্ত তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।  পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করেন। এরপর ভারত-নেপাল   হয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান।

প্রতিবাদে সাংবাদিকদের যা বললেন রাজ্জাক
রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে রাজ্জাককে বদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন মিজবাহুর।

তিনি বলেন, “জনাব মিজবাহুর রহমান ধান বানতে এসে শিবের গীত গেয়েছেন। নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আমার বিরুদ্ধে লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে মাত্র দুটি বাক্য বলেছেন।  তিনি আমার বিরুদ্ধে  এ নিয়ে যতবার বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন গল্প হাজির করেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এবং ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ানো হতে পারে। লন্ডনে যে স্থানের নাম তিনি বলেছেন এরকম কোনো জায়গার নাম আমার জানা নেই। আমাকে জড়িয়ে লন্ডনে বৈঠক সম্পর্কে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তিনি আরো বলেন, “মিজবাহুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে আমার নাম তিনি একবারও উচ্চারণ করেননি। আরো মজার বিষয় হলো তিনি ২০০৮ এবং ২০০৯ সালেও আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আমার বিরুদ্ধে লন্ডন বৈঠকের গল্প বলেননি। আমি যদি লন্ডন বৈঠকে নিজেকে আলবদর সদস্য স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতাম তা তিনি কেন গত ৩৮ বছরে একবারও বলেননি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে কেন বলেননি ?”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০  বছরে একমাত্র  মিজবাহুর রহমান চৌধুরী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো একজন ব্যাক্তি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই  লেখা হয়েছে। তার কোথাও আমার নাম নেই।”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর একটি ভাঙ্গা রেকর্ড আছে। সেটি তিনি মাঝে মাঝে বাজান। তিনি কি ছিলেন এবং তার চরিত্র কি তা দেশের মানুষ জানে। আমি বলতে চাই না।  আমি একটি সফল ডিফেন্স টিম গঠন করেছি। সেটা যাতে চালাতে না পারি সেজন্য আমার ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে তার এ ধরনের মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

পদ্মা সেতু দুর্নীতি প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করবেন মসিউর

প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করবেন মসিউর


প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেছেন, তার পদত্যাগে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণের বিষয়টির সুরাহা হলে তিনি একবার কেন দশবার পদত্যাগ করতে রাজি আছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী বললেই তিনি পদত্যাগ করবেন।

রোববার বিকেলে রাজধানীর হেয়ার রোডে সরকারি বাসভবনের সামনে মসিউর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মসিউর জানান, বিশ্ব ব্যাংক তার বিরুদ্ধে যেসব নালিশ করেছে, সেগুলোর সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। কারণ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া বিশ্বজুড়ে সভ্য আচরণ।”

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর বাতিলকৃত ঋণ চুক্তি পুনর্বিবেচনার শর্ত হিসেবে বিশ্বব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে।

পদত্যাগ নিয়ে আবুল হোসেনের পথ ধরেছেন মসিউর


পদত্যাগ নিয়ে আবুল হোসেনের পথ ধরেছেন মসিউর


  পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংক অন্য দুজনের সঙ্গে পদত্যাগ দাবি করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের। সেতু প্রকল্পে নিজেদের বাতিলকৃত ঋণ চুক্তি পুনর্বহালের অন্যতম শর্ত হিসেবে দুর্নীতি তদন্তকালে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ চাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না বলে রোববার জানিয়েছেন এই উপদেষ্টা। একই অভিযোগে পদত্যাগকারী সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো তিনিও বললেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে পদত্যাগ করবেন তিনি- নয় তো নয়।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যে দু’টি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া। এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলেও এখনো বাকি আছেন দুজন। এদের একজন; সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া’র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে’র চেয়ারম্যান পদে দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত পালিত হয়নি।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টাও। ইআরডি’র সূত্রগুলোতে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের এ সন্দেহের কথা গত ২৬ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন জাইকা’র ঢাকাস্থ প্রতিনিধি কেই তোয়ামা।

কিন্তু প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতিবিরোধী উপদেষ্টা হয়েও যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে দুর্নীতির, তখনো এই উপদেষ্টা স্বেচ্ছায় পদত্যাগে রাজি নন। পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো তিনিও বলছেন ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে’ পদত্যাগ করবেন।

বিকেলে রাজধানীর হেয়ার রোডে সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ড. মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “যদি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন- বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছি না, তাহলে পদত্যাগ করব।”

সেতু প্রকল্পটির অনিয়ম ও দুর্নীতিবিরোধী উপদেষ্টা (ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর) ড. মসিউর বলেন, “আমি পদত্যাগ করলে যদি ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণের সুরাহা হয় তাহলে আমি একবার কেন, দশবার পদত্যাগ করব। তবে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সেগুলোর সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে হবে এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।”

ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন কি-না? এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের ভাষ্য আগে আসা উচিৎ। সরকারের ভাষ্য দেবেন অর্থমন্ত্রী। তবে আমি আমার অনুভূতি জানাতে পারি।”

Sunday, August 26, 2012

হুমকির মুখে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি



 বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা বলছে, জনশক্তি রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তারা বলছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে সে দেশের কর্মকর্তারা বায়রার সদস্যদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আপাতত আর নতুন কর্মী নেয়া হবে না।

তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে, এরকম কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এখনো পঞ্চাশ হাজার নতুন কর্মীর পাঠানোর অনুরোধ রয়েছে জনশক্তি রফতানিকারকদের কাছে। কিন্তু এদের ভিসা দেয়া হচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে তিন থেকে চার লাখ কর্মী আরব আমিরাতে পাঠানো হলেও জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা বলছে, সেখানে নতুন করে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা তাদের এমনটাই জানিয়েছেন বলে বলছেন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

“গত দুদিনে আমরা যতটুকু জেনেছি, তা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে আর শ্রমিক নেবে না বলে আমাদের সদস্যদের জানিয়েছে”, আলী হায়দার চৌধুরী বলেন।

“ওখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দূতাবাসের মাধ্যমেও আমরা জানতে পেরেছি, তারা যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, তবে এটা আসলে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, তারা আর বাংলাদেশ থেকে লোক নেবে না। তারা নতুন ভিসা দিচ্ছে না। পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রও গ্রহণ করছে না।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একেকটি রাজ্যে এখন পনের লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী কাজ করছেন। বায়রা বলছে, এই কর্মীদের ভিসার নবায়নও করা হচ্ছে না।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট খোয়া যাওয়া, রোহিঙ্গা ইস্যু আর সেখানে কিছু বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই ঘটনা ঘটছে।

সৌদি আরবের বাজার সীমিত হয়ে যাবার পর আরব আমিরাত বিদেশগামী কর্মীদের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেখানেও কর্মী নিয়োগ বন্ধ হলে তা বাংলাদেশের জন্যে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে বলে বলছেন বায়রার কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ছিল সৌদি আরব। তারা এখন মোট শ্রমিক চাহিদার মাত্র ২/৩ ভাগ বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছে, আলী হায়দার চৌধুরী বলেন।

তিনি বলেন, “এখন সবচেয়ে বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের জন্যে বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাহলে দেশের বাইরে শ্রমিক রফতানি অনেক কমে আসবে।”

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, বাংলাদেশ থেকে যে আরব আমিরাতে আর কর্মী নেয়া হবে না, এরকম কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তিনি বলছেন, যেকোনো দেশেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে কর্মী নিয়োগের কমবেশি হতে পারে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

“আমি এখনো এই বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। আমাদের কাছে সরকারিভাবে কোনো খবর আসেনি”, মন্ত্রী বলেন।

তিনি বলেন, “আরব আমিরাতেরও আমাদের দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো মন কষাকষি নেই।”

মন্ত্রী বলছেন, কোনো কোনো সময়ে বিদেশে কর্মী নিয়োগ অনেক বেড়ে যায়। আবার কখনো এটা কমে আসে। তিনি মনে করেন না, এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার আছে।

ভিসার নবায়ন প্রসঙ্গে বায়রার মহাসচিব বলেন‚ অনেকে বলেন ভিসা নবায়ন করা হচ্ছে না। কিন্তু এদের অনেকেই সেখানে গিয়েছেন স্বল্পমেয়াদী ভিসায়। সেটা তো নবায়ন করা না করা সেই দেশের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কিছু করার নেই।

তবে জনশক্তি রফতানিকারকরা বলছেন, কারণ যাই হোক না কেন, এই বাজারটি বন্ধ হয়ে গেলে তা দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস এই খাতের জন্যে অনেক বড় সমস্যার তৈরি করবে।

তাই তারা মনে করেন সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সূত্র: বিবিসি

যশোরে লাশ নিয়ে মিছিল, আটক ১


যশোরে খুন হওয়া দুই কর্মীর লাশ নিয়ে শনিবার যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতের নাম- বিপ্লব। তিনি শহরের ঘোপ ধানপট্টি এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের দুই কর্মীর লাশ নিয়ে শহরে মৌন মিছিল করেন। এর আগে শুক্রবার মাঝরাতেও ছাত্রলীগ মিছিল করেছিলেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি গোলাম রহমান জানান, এ ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। উপশহর পার্কে বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা চান্দু মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার মাঝরাতে মামলা করেছেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শহরের ঘোপ ধানপট্টি এলাকার বিপ্লব, সুলাইমান ও শামীমসহ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের মামলার আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে বিপ্লবকে শনিবার ভোরে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ।

অপরদিকে, শহরের বিমান অফিস এলাকার জামাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন।

শনিবার সকালে এ মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি।

নীল আর্মস্ট্রং আর নেই



চাঁদের মাটিতে পা রাখা প্রথম মানুষ নীল আর্মস্ট্রং আর নেই । আমেরিকান সময় শনিবার দুপুর ২:৪৫ মিনিটে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । তার পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, কগত মাসে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল ! ধারনা করা হচ্ছে সার্জারির ধকল সইতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে।

নীল আর্মস্ট্রংয়ের জন্ম  ৫, আগস্ট ১৯৩০ সালে। আর্মস্টং পড়াশোনা করেন পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবং পরে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে। নভোচারী হওয়ার আগে আর্মস্ট্রং মার্কিন নৌবাহিনীর বৈমানিক ছিলেন। তিনি কোরীয় যুদ্ধে অংশ নেন। এর পর তিনি ড্রাইডেন ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষামূলক বিমান চালক হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বিমান নিয়ে তিনি ৯০০ এরও অধিক বার উড্ডয়ন করেন।

তার প্রথম মহাকাশ অভিযান হয় ১৯৬৬ সালে, জেমিনি ৮ নভোযানের চালক হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ও ডেভিড স্কট মিলে সর্ব প্রথম দুইটি ভিন্ন নভোযানকে মহাকাশে একত্রে যুক্ত করেন।

আর্মস্ট্রংয়ের পরবর্তী ও শেষ অভিযান হয় এপোলো ১১ নভোযানের অভিযান নেতা হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ১৯৬৯ সালের জুলাই ২০ তারিখের গ্রিনেচমান সময় ১২:৩৬ পিএম-এ চাঁদে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখার সময় তিনি মন্তব্য করেন: This is a small step for (a) man, but a giant leap for mankind. অর্থাৎ, এটি একজন মানুষের জন্য ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা।

চাঁদে আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র অবতরণ করেন ও ২.৫ ঘণ্টা কাটান।

এপোলো ১১ এর পরে আর্মস্ট্রং আর মহাকাশ অভিযানে যাননি। তিনি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটির উড্ডয়ন প্রকৌশলের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন।

হায়দারাবাদ টেস্ট: ফলোঅনে নিউজিল্যান্ড



 দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হায়দারাবাদে  প্রথম ইনিংসে  ভারতের  ৪৩৮ রানের সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে ফলোঅনে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের প্রথম ইনিংস ১৫৯  রানে গুটিয়ে যাবার পর ফলোঅনে নেমে তৃতীয় দিনে দিনে এক উইকেটে  ৪১ রান জমা করেছে তারা। ভারতীয় স্পিনারররা যেভাবে দাপট দেখাচ্ছেন তাতে করে কিউই ব্যাটসম্যানরা অতি মানবীয় ইনিংস না খেললে ভারতের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্পিনার রবিচন্দ্র অশ্বিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। অশ্বিন ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়জন কিউই ব্যাটনসম্যানের প্রাণ সংহার করেন। দ্বিতীয় দিনে পাঁচ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের তিনজন ব্যাটসম্যানকে ৪৪ রানের মধ্যে প্রজ্ঞান ওঝা এবং অশ্বিন ফিরিয়ে দিলে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানের লিড পায়।

আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান তুলতেই একজন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পেয়েছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ১৬ এবং কেন উইলিয়ামসন তিন রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতির আগে ৪৭ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

পরাজয় এড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ডের আরো ২৩৯ রান প্রয়োজন। ‘বৃষ্টিদেবতা’ সাহায্য না করলে সফরকারীদের পক্ষে কাজটা আপাতত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শনিবার বৃষ্টির কারণে দুইবার পিচ ঢেকে রাখতে হয়েছিল। ঘণ্টাখানেক মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় দুপুর দুটো ছাপ্পান্ন মিনিটে ম্যাচ অফিসিয়ালরা দিনের খেলা পরিত্যক্ত করতে বাধ্য হন। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সময়টাতে ম্যাচ আয়োজন করার জন্য অবশ্য এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

আগের দিনের ১০৬ রান হাতে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে অশ্বিন-ওঝা’র ঘূর্ণিবলের সামনে মাত্র ১৯.৩ ওভার টিকতে সক্ষম হন নিউজিল্যান্ডের অবশিষ্ট পাঁচ ব্যাটসম্যান।

অশ্বিনের আগের ম্যাচসেরা বোলিং ফিগার ছিল ৪৭ রানে ছয় উইকেট। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ১৬.৩ ওভার বল করে তিনটি মেডেন ওভারসহ ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়টি উইকেটের দেখা পান তিনি। তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। ২১ ওভারে ছয় মেডেনসহ ৪৪ রানে তিনটি উইকেট নিয়ে অশ্বিনকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন ওঝা। এদের দাপটে মধ্যাহ্নবিরতির সময়েই ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিনে প্রথম আঘাতটা অবশ্য করেছিলেন উমেশ যাদব। ক্রুগার ভ্যান উইককে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ডাগ ব্রেসওয়েলকে ভারতীয় স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা ফিরিয়ে দিলে ১৪১ রানের মাথায় নিউজিল্যান্ডের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে।

দিনের ষোড়শ ওভারে বল হাতে পান অশ্বিন। শুক্রবারের মতোই নিজের স্পেলের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে জিতেন প্যাটেলকে দর্শক বানিয়ে দেন তিনি।  অশ্বিনকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে প্যাটেল সাজঘরে ফেরত আসার সময়ে আট উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৩ রান। অশ্বিনকে সামাল দেয়া কিউই টেল অ্যান্ডারদের পক্ষে ছিল অসম্ভব। ট্রেন্ট বোল্ট এবং ক্রিস মার্টিন পরপর দু’বলে অশ্বিনের শিকারে পরিণত হলে ২৭৯ রানের ঘাটতি নিয়ে থামে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।  সফরকারিদলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবলমাত্র জেমস ফ্রাংকলিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ১২২ বলের মোকাবেলায় এক বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অনেকটাই ডিফেন্সিভ থাকেন দুই কিউই ওপেনার মার্টিন গুপটিল এবং ডাগ ব্রেসওয়েল। প্রথম ১০ ওভারে এই দুজনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র নয় রান। দ্বাদশ ওভারে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। উমেশ যাদবকে লেগ সাইড দিয়ে সীমানা পার করেন মার্টিন গুপটিল। এরপরের ওভারে গুপটিল অনেকটাই হাত খুলে খেলতে থাকেজন। প্রজ্ঞান ওঝাকে টানা দুইবার সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ১৫ রানে একবার জীবন পান গুপটিল। দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন বিরাট কোহলি।

গুপটিল অবশ্য ‘জীবন পাওয়া’টাকে খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। ওঝার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গুপটিল ফিরলে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে তৃতীয় দিনের খেলাও শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সকাল থেকেই পিচ ঢাকা ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পরে খেলা শুরু হওয়ার কারণে দিনের নির্ধারিত মোট ওভার থেকে সাত ওভার কমিয়ে দেয়া হয়। তৃতীয় দিনে কমপক্ষে  ৮৩ ওভার খেলা হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ শুক্রবার সকালেও খেলা শুরু হয়েছিল ২৬ মিনিট বিলম্বে। গ্রাউন্ডসম্যানদের পিচ ঢেকে রাখতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বৃষ্টি হয়নি।

আবহাওয়া বিভাগ আগামী তিনদিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এরকম কিছু ঘটলে ভারতের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

বৃটিশ ‘সান’র প্রথম পাতায় হ্যারির নগ্ন ছবি



রয়েল পরিবারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রিন্স হ্যারি’র আলোচিত নগ্ন ছবিটি প্রকাশ করেছে ‘দি সান’৷ বৃটেনের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ট্যাবলয়েড সান’এর শুক্রবারের সংস্করণের প্রথম পাতায় হ্যারির ছবি দুটি ছাপা হয়৷

বিখ্যাত মার্কিন সেলেব্রিটি ম্যাগাজিন ‘টিএমজেড' এ ছাপা হওয়া ছবি দুটি বৃটিশ পত্রিকায় না ছাপাতে বলেছিল রয়েল পরিবার৷ এর ফলে হ্যারির প্রাইভেসি লঙ্ঘিত হবে বলে মন্তব্য করেছিল রয়েল পরিবার৷

তাই বৃহস্পতিবার বৃটিশ কোনো পত্রিকায় হ্যারির ছবি প্রকাশ করা না হলেও একদিন পরই সেগুলো ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় দি সান৷

এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে সান’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড ডিনসমোর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন৷ তিনি বলেন, সারা বিশ্বের পাঠক যেখানে অনলাইনের মাধ্যমে ছবিগুলো দেখছে সেখানে বৃটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকায় সেটা থাকবে না, তা হতে পারে না৷ ডিনসমোর বলেন, বৃটিশ পত্রিকাগুলোকে ছবি প্রকাশ করতে না দেয়ার বিষয়টা ‘হাস্যকর’৷

এদিকে, প্রিন্স হ্যারির নগ্ন ছবি প্রকাশ করে সান ঠিক করেছে নাকি বেঠিক, সেটা নিয়ে অন্যান্য বৃটিশ পত্রিকা পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে৷

তবে ‘দি গার্ডিয়ান’ পত্রিকা বলেছে, এর ফলে মানুষের দুটি মৌলিক অধিকার আলোচনায় এসেছে৷ এর একটা বাকস্বাধীনতা, আর অন্যটি প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা৷

উল্লেখ্য, লাস ভেগাসের একটি হোটেলে তোলা ছবি দুটির একটিতে দেখা যাচ্ছে যে, হ্যারি তার দুই হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ ঢেকে রেখেছেন৷ তার হাতে ঘড়ি আর গলায় নেকলেস৷ এছাড়া শরীরের আর কোথাও কিছু নেই৷ অর্থাৎ পুরো নগ্ন৷ সঙ্গে এক নগ্ন তরুণী৷ সূত্র: এএফপি।
 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে (প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলা কক্ষ নং-২১৪) এই ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মো. আশরাফ আলী খানসহ কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিসি আরেফিন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত মেডিকেল বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পর ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। তবে এবার ব্যত্রিক্রম হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালই প্রথম অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলো।”

তিনি আরো বলেন, “যেকোনো ধরনের জালিয়াতি থেকে মুক্ত থাকতে এবার বারকোর্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।”

এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে ছয় হাজার ২১৯ টি সিটের বিপরীতে ছয় লক্ষ একাত্তুর হাজার ২৭৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার যোগ্যতা রয়েছে। ২০১১-১২ সেশনের চেয়ে এই সেশনে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বছর ‘ক’ ইউনিটের ১৫৬৩ সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ১৭ হাজার ৩৮৫ জন, ‘খ’ ইউনিটে ২২০০ সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৩৩ জন, গ ইউনিটে ১০৭৫টি সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ৫১ হাজার ৩৬৮ জন, ঘ ইউনিটে ১২৬২টি সিটের বিপরীতে তিন লক্ষ ৬৭ হাজার ১২১ জন এবং ‘চ’ ইউনিটে ১১৯টি সিটের বিপরীতে ছয় লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা রয়েছে।

এ ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

গত বছরের মতো এবারও ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। আবেদনকারীকে আবেদনপত্রের জন্য যেকোনো ব্যাংকে ৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছবি আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব শিক্ষার্থী ২০১২ ও ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে প্রাথীকে অবশ্যই ২০০৭ বা তার পরবর্তী সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

অন্যদিকে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কোনো শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তনের জন্য এবারের ভর্তি-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছ থেকে ভর্তি-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া: আনলাইনে আবেদন করতে আবেদনকারীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.admission.univdhaka.edu প্রবেশ করে ইউনিট বাছাই করতে হবে। ওয়েবেসাইটে ‘আবেদন (Apply)’ লিংকে ক্লিক করে প্রার্থীকে উচ্চমাধ্যমিকের রোল নম্বর, শিক্ষাবোর্ড ও পাসের সন দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে।

ব্যংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদের দুটি অংশের নির্দিষ্ট স্থানে সদ্যতোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করে এবং রসিদের দুটি অংশেই স্বাক্ষর (আবেদনকারীর) করে দেশের যেকোনো স্থানে অবস্থিত সোনালী, জনতা, অগ্রণী বা রূপালী ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিতে হবে।

আবেদনকারীর টাকা জমাদানের তিন কার্যদিবসের পর, টাকা জমা দেয়ার রসিদে উল্লেখিত ব্যক্তি পরিচিতি নম্বর (পিন নম্বর) ব্যবহার করে টাকা জমা দেয়ার রসিদে লাগানো ছবির অনুরূপ আরেকটি ছবি ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ছবি আপলোডের পর ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে।

আবেদন ফরম পূরণে কোনো সমস্যার দেখা দিলে নিম্নোক্ত নম্বরে ৯৬৬৯৯৩৪ যোগাযোগ করতে হবে।

বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ - ক-ইউনিট: ১২ অক্টোবর ২০১২, খ-ইউনিট: ১৯ অক্টোবর ২০১২, গ-ইউনিট: ২৩ নভেম্বর ২০১২, ঘ-ইউনিট: ৯ নভেম্বর ২০১২, চ-ইউনিট: ১৬ নভেম্বর ২০১২।

গুঁড়ির চক্র জানিয়ে দিচ্ছে হাজার বছরের জলবায়ু




গুঁড়ির চক্র জানিয়ে দিচ্ছে হাজার বছরের জলবায়ু:
 গাছের কারণেই আমরা প্রকৃতিকে জানছি৷ প্রতিটা গাছের কাণ্ড কাটার পর গুঁড়ির ভেতর যে চক্র আছে তা দেখা যায়৷ আর এসব চক্রের ভেতরে লুকিয়ে আছে পরিবেশ ও জলবায়ুর নানা তথ্য৷ এমনকি দু’হাজার বছরের জলবায়ু সম্পর্কিত তথ্যও৷

প্রতিটা গাছ বেড়ে উঠে, গুঁড়ির চক্রই সেটার প্রমাণ৷ প্রতি বছর গাছগুলো বাড়ে আর নতুন করে একটি চক্রের সৃষ্টি হয়৷ কারণ প্রতি বছর গাছের ছাল বাড়ছে৷ আর সেই ছালগুলো এসব চক্রের সৃষ্টি করে৷ চক্রগুলো দেখে বোঝা যায় তাপমাত্রা সেবছর কেমন ছিল৷ আরো জানা যায় বৃষ্টিপাত, দাবানল কিংবা অগ্নুৎপাত সম্পর্কে৷ যেমন তাপমাত্রা বেশি হলে গাছের গুঁড়ির চক্রের সেই অংশটি শক্ত হবে৷ আবার বৃষ্টিপাত হবে যে বছর, সেই বছর গুঁড়িটি বেশি করে বাড়বে৷ তার মানে সে’বার গাছের ছালটি মোটা হবে৷

জার্মানির মাইন্স ইউনিভার্সিটির বৃক্ষ গবেষণা বিভাগের পরিচালক ইয়ান এসপার৷ অনেক দিন ধরেই তিনি গাছের এই বৃদ্ধি এবং তার ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি জানান, গুঁড়ির ভেতরের এই চক্রগুলোকে আরো ভালো করে বোঝা যায় যখন সেগুলো পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ে৷

ইয়ান এসপার’র কথায়, ‘‘উদাহরণস্বরূপ উঁচু পাহাড়ি এলাকায় খুব ঠাণ্ঠার মধ্যে গাছগুলো বেড়ে ওঠে৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই গাছের গুঁড়ির ভেতরের চক্রগুলো খুব চিকন হয়ে থাকে৷ এবং এটা একটি নয়, পাহাড়ের গায়ে বৃক্ষের সারিগুলোর অনেক গাছের গুঁড়িতেই এই ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায়৷”

গবেষকরা গাছের গুঁড়ির ভেতরের পার্থক্য নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ফিনল্যান্ডের উত্তরে, যেটা মূলত পাহাড়ি অঞ্চল এবং যেখানে খুব ঠাণ্ডা৷ এমনকি শীতকালে একটা গোটা নদীও সেখানে জমে যায়৷ আর সেখানকার সুবিধা হলো, কেবল জীবিত গাছ নয় মৃত গাছ নিয়েও তারা গবেষণা করতে পারছেন, জানালেন ইয়ান এসপার৷ বললেন, “ফিনল্যান্ডে অনেক লেক আছে৷ কোনো গাছ যখন সেই লেকে পড়ে যায়, তখন সেটা হাজার বছর ধরে সেখানে অবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে৷”

এই কারণে এসপার আর তার সহকারীরা এইখানকার গাছের ওপর গবেষণা করে গত দুই হাজার বছরের জলবায়ু সম্পর্কে তথ্য জানতে পেরেছেন৷ তাদের একজন মার্কুস কোখবেক, যিনি মাইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের প্রধান৷ তিনি একটি গাছের গুঁড়িকে করাত মেশিন দিয়ে কাটলেন৷ যন্ত্রচালিত এই করাতটি দেখতে পেন্সিলের মতো চোখা আর দেড় সেন্টিমিটার চওড়া৷ গুঁড়ির ভেতর থেকে কাটা টুকরোটা তিনি পরীক্ষা করছেন৷ তার আগে টুকরোটি মসৃণ করে নিলেন৷ গুঁড়ির টুকরোটির ভেতরের প্রতিটি চক্র মানে একেকটি করে বছর৷ চক্রগুলো বেশ স্পষ্ট৷ এবার টুকরোটিকে মাইক্রোস্কোপের নীচে রেখে পরীক্ষা করে দেখছেন৷ গুঁড়ির ভেতরের চক্রগুলোর যে বাঁক রয়েছে সেগুলো নানা তথ্য বহন করছে৷ যেমন যে বছরটি বেশি ঠাণ্ডা ছিল, সেই সময় গাছটি তুলনামূলকভাবে চিকন হয়ে বেড়েছে৷ এভাবে অনেকগুলো গাছের টুকরো তারা পরীক্ষা করে দেখলেন৷

এ ব্যাপারে মার্কুস কোখবেক বললেন, “এই যে বাঁকগুলো দেখা যাচ্ছে গুঁড়ির ভেতরে, এর ওপর ভিত্তি করে নানা বিষয় বোঝার চেষ্টা করা হয়৷ চিকন চক্রের ওপর নির্ভর করে এই বাঁকগুলোকে সুপারইম্পোজ করা হয়৷ এই পরীক্ষণ খালি চোখেও যেমন করা যায়, তেমনি গাণিতিকভাবেও করা হয়৷
এইভাবে গবেষকরা গত সাত হাজার বছরের জলবায়ুর একটি ধারণা পেয়েছেন৷ তবে ইয়ান এসপার আপাতত দুই হাজার বছরের ধারাণা দিতে চাচ্ছেন৷ তিনি গুঁড়ির ভেতরে চক্রগুলোর পাশাপাশি কাঠের ঘনত্বও পরীক্ষা করে দেখেছেন৷

তিনি জানান, গুঁড়ির চক্রের ঘনত্বের মাধ্যমে কাঠের ঘনত্ব মাপা যায়৷ আর কাঠের ঘনত্ব পরীক্ষা করে বোঝা যায় তাপমাত্রা কেমন ছিল৷ এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, খ্রিস্টের জন্মের পর ২০ শতক পর্যন্ত প্রতি হাজার বছরে তাপমাত্রা ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে৷ আর তারপর থেকেই গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমণ শুরু হয়েছে৷

গবেষক এসপর জানান, গত কয়েক হাজার বছর ধরে জলবায়ুতে উষ্ণায়নের পর শীতলীকরণ হয়ে আসছে৷ গাছের ওপর গবেষণার মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছেন৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

টুইটারে ক্ষিপ্ত ভারত, ভারতে ক্ষিপ্ত টুইটার ব্যবহারকারীরা




 আসামের জাতিগত দাঙ্গা ভারতে আরেকটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে৷ আর সেটা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারের স্বাধীনতা, তথা বাক স্বাধীনতা৷

আসামে জাতিগত দাঙ্গার প্রেক্ষিতে মুসলমানরা প্রতিশোধ নিতে পারে-সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে এই ধরণের হুমকি পেয়ে ভারতের দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় থাকা উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগরিকরা ক’দিন আগে ঘরে ফেরা শুরু করে৷
ইতিমধ্যে, বেঙ্গালোর, মুম্বাইসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার অভিবাসী তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে বলে জানা গেছে৷

এই অবস্থায় ভারত সরকার ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব ও টুইটারে থাকা হুমকিমূলক বার্তাগুলো মুছে দিতে ওইসব সাইটের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়৷ কিন্তু টুইটার এই আহ্বানে সাড়া না দেয়ায়, ২০টি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় সরকার৷ এছাড়া ভারতীয় সাংবাদিক থেকে শুরু করে বৃটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, আল জাজিরাসহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোস্টিংয়ের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে৷

বলাবাহুল্য, টুইটার ব্যবহারকারীরা সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রও বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ না করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷

এদিকে, ভারতের সাংবাদিক চন্দ্রকান্ত নাইড়ু  বলেছেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা ‘আপত্তিকর’ বিষয়ের ওপর নজর রাখতে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্য চেয়েছে বলে খবর রয়েছে তার কাছে৷

ভারত টুইটারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে এমন গুজব সম্পর্কে নাইড়ু বলেন, ‘‘সরকার যদি সত্যি সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তো চীনের সঙ্গে একই কাতারে চলে যাবে ভারত৷”

তবে তিনি বলেন, ভারতে টুইটারের কোনো অফিস নেই৷ ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কতটা সম্ভব সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন ভারতীয় এই সাংবাদিক৷

নয়া দিল্লির গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের আনন্দ প্রধান বলেন, সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন একটা কাজ৷ কেননা সেখানে প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ বার্তা পোস্ট করা হয়৷ তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করে তোলা যেতে পারে৷ এসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছা-নিয়ন্ত্রণ বিষয়টা বেশি কাজে লাগে৷সূত্র: ডিডাব্লিউ।