Pages

Monday, August 27, 2012

আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


 জামায়াত নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, রোববার ট্রাইব্যুনালে জামায়াত আমির নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের স্বাক্ষী মিজবাহুর রহমান চৌধুরী তাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য নয়। সাক্ষীর জবানবন্দীর পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে রাজ্জাককে বদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন মিজবাহুর।

তিনি বলেন, “জনাব মিজবাহুর রহমান ধান বানতে এসে শিবের গীত গেয়েছেন। নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আমার বিরুদ্ধে লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে মাত্র দুটি বাক্য বলেছেন।  তিনি আমার বিরুদ্ধে  এ নিয়ে যতবার বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন গল্প হাজির করেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এবং ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ানো হতে পারে। লন্ডনে যে স্থানের নাম তিনি বলেছেন এরকম কোনো জায়গার নাম আমার জানা নেই। আমাকে জড়িয়ে লন্ডনে বৈঠক সম্পর্কে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তিনি আরো বলেন, “মিজবাহুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে আমার নাম তিনি একবারও উচ্চারণ করেননি। আরো মজার বিষয় হলো তিনি ২০০৮ এবং ২০০৯ সালেও আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আমার বিরুদ্ধে লন্ডন বৈঠকের গল্প বলেননি। আমি যদি লন্ডন বৈঠকে নিজেকে আলবদর সদস্য স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতাম তা তিনি কেন গত ৩৮ বছরে একবারও বলেননি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে কেন বলেননি ?”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০  বছরে একমাত্র  মিজবাহুর রহমান চৌধুরী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো একজন ব্যাক্তি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই  লেখা হয়েছে। তার কোথাও আমার নাম নেই।”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর একটি ভাঙ্গা রেকর্ড আছে। সেটি তিনি মাঝে মাঝে বাজান। তিনি কি ছিলেন এবং তার চরিত্র কি তা দেশের মানুষ জানে। আমি বলতে চাই না।  আমি একটি সফল ডিফেন্স টিম গঠন করেছি। সেটা যাতে চালাতে না পারি সেজন্য আমার ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে তার এ ধরনের মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

রাজ্জাক সম্পর্কে যা বলেছেন মিজবাহুর
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিজবাহুর রহমান চৌধুরী লন্ডনে চলে যান। এরপর তিনি লন্ডনে স্কুলে এবং কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। এ সংগঠন করার সময় একদিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (তখন ব্যারিস্টার হননি) আমার সাথে এসে সাক্ষাৎ করেন। উনি আমাকে ইসলাম পছন্দ লোকদের একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি এবং তৎকালীন  ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সভাপতি (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জেড শাহ) তার অনুরোধে বৈঠকে যাই। বৈঠকের ঠিকানা বলেন, ৫৭+২।  গিয়ে দেখি সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযম, তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মিয়া তোফায়েল, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন সেখানে উপস্থিত। এ ধরনের একটি বৈঠকে আমাদের ডাকার জন্য আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ওপর মনোক্ষুন্ন হই। সেখানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কিছু  বক্তব্যে জানতে পারি তিনি নিজে  ১৯৭১ সালে আলবদর সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলবদর সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর পর্যন্ত তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।  পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করেন। এরপর ভারত-নেপাল   হয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান।

No comments:

Post a Comment