কোকরাঝাড়, ২৩ আগস্ট: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বুধবার নতুন করে স্থানীয় বোদো সস্প্রদায় এবং মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এ ঘটনায় দু’জন নিহত ও দু’জন নিখোঁজ রয়েছে। তবে আসামের স্থানীয় পত্রিকা যুগশঙ্খ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা তিন। রাজ্যের সবচেয়ে দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকা কোকরাঝাড়ে বুধবার এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
তবে তিনজন নিহত হবার খবর পুলিশ স্বীকার করেনি। পুলিশ জানায়, দক্ষিণ আসামের ধুবড়ি জেলায় বন্দুকধারীদের হামলায় একজন আহত এবং দু’জন নিখোঁজ হয়েছেন।
রাজ্যের পুলিশের মহানির্দেশক জয়ন্ত চৌধুরী জানান, নিখোঁজ ও আহতেরা সবাই মুসলমান এবং তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে সন্দেহভাজন বোদো দুষ্কৃতিকারীরা।
পুলিশ আরো বলছে, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ভেবে দিনের বেলা কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছিল, আর সেই সুযোগেই ধুবড়ি ও কোকরাঝাড়ের সীমান্ত এলকায় চাপোরে বুধবার বিকেলে এই সহিংসতা ঘটে।
এদিকে কোকরাঝাড়ে নতুন করে সহিংসতার ঘটনার পর রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে গেছেন। তারা প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত চাপোর থানাতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও কিভাবে তা মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে বৈঠক করেন।
গত দু’মাস আগে শুরু হওয়া দক্ষিণ আসামের কোকরাঝাড়, ধুবড়ি প্রভৃতি জেলায় মুসলিম ও স্থানীয় বোদোদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গায় কমপক্ষে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। এখনো সেখানে শতাধিক ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ শরণার্থী।
উল্লেখ্য, আসামে সাম্প্রতিক জাতিগত দাঙ্গার পরে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বসবাসকারী অসমীয়াদের ওপরে হামলা হতে পারে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার গভীর রাতে ব্যাঙ্গালোর থেকে গৌহাটিগামী একটি বিশেষ ট্রেন থেকে আসামের হাইলাকান্দি অঞ্চলের চার মুসলমানকে মেরে ফেলে দেয়া হয়। এ নিয়ে রাজ্যে উত্তেজনা চলছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাজ্য সরকারকে সাবধান করেছিল যে, ঈদের মধ্যে সেখানে সহিংস পরিস্থিতি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি/পিটিআই/যুগশঙ্খ

No comments:
Post a Comment