Pages

Thursday, August 23, 2012

গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, অধ্যাদেশ জারি

গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, অধ্যাদেশ জারি
গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে রাষ্ট্রপতি ব্যাংকটির সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছেন। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বুধবার রাতে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে সরকার। এমডি নিয়োগ বিধি পরিবর্তন করে ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১২’-এ এর আগে গত ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক বৈঠকে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। জারি করা এ সংশোধনী অনুযায়ী এমডি নিয়োগে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের বিদ্যমান ক্ষমতা আর থাকছে না। নিয়োগের ক্ষমতা পাচ্ছেন ব্যাংকটির সরকার নিযুক্ত চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বুধবার রাতে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। সংসদের আগামী অধিবেশনের প্রথম দিনেই এটি বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ব্যাংকের মূল আইনটি ১৯৮৩ সালের। এ আইনের ১৪ ধারার ২ ও ৩ নম্বর উপ-ধারার সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “কারো ক্ষমতা খর্ব বা বৃদ্ধি করার জন্য এটা করা হযনি। গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আইন সংশোধন করা হয়েছে।” জারি করা অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এমডি নিয়োগের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বোর্ডের পরামর্শ নিয়ে একটি ‘সিলেকশন কমিটি’ গঠন করবেন, যার সদস্য হবে তিন থেকে পাঁচজন। এই কমিটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য তিনজনের একটি প্যানেল নির্বাচন করবে। তাদের মধ্য থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন এমডি বেছে নেয়া হবে। এই ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বিধি অনুসারে ব্যাংকের নির্বাহী প্রধান হিসেবে এমডি পদে নিয়োগের এখতিয়ার পরিচালনা পরিষদের কাছে। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা নারীদের প্রাধান্য দিয়েই পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। বিধি অনুসারে, এর এমডি নিয়োগ দিতে পরিচালনা পর্ষদ একটি অনুসন্ধান কমিটি করে দেবার কথা। ওই কমিটি এমডি হিসেবে তাদের পছন্দের তালিকা দেবে পরিচালনা পরিষদকে। পরে পরিচালনা পরিষদ এমডি পদে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে। কিন্তু জারি করা এই অধ্যাদেশের ফলে পরিচালনা পরিষদের এ ক্ষমতা রইলো না। সেক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত চেয়ারম্যান স্রেফ পরিচালনা পরিষদের সাথে ‘পরামর্শ’ করেই এমডি নিয়োগ দিতে পারবেন। আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিযোগ করে আসছেন, সরকার মনোনীত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এমডি নিয়োগ করলে গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এর সদস্যদের কাছে থাকবে না। এ নিয়ে আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, এতে করে ব্যাংকটির অংশীদার নারী সদস্যদের ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং ব্যাংকের স্বাধীন পরিচালনা কাঠামো নষ্ট হওয়ায় এ কার্যক্ষমতাও কমবে।

No comments:

Post a Comment