ভারতীয় টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার (টিআরএআই) সম্মতি পত্র (এনওসি) হাতে না
পাওয়ায় নির্ধারিত দিনের (২৭ আগস্ট) একদিন পর স্থলপথে আন্তর্জাতিক
টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) সংযোগের সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন
করেছে ওয়ান এশিয়া (বিডি) লিমিটেড।
মঙ্গলবার বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত সংযোগ ক্যাবল দিয়ে এসিটিএম-৬৪ লেবেলে
ডেটা আদান-প্রদান করে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক এই স্বদেশী কোম্পানিটি। এসময়
প্রতিসেকেন্ড ১০জিবি তথ্য-আদান প্রদানে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ
নিশ্চিত করার মিশনে স্থাপিত হার্ডওয়্যারের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
পরীক্ষামূলক অপারেশন সম্পর্কে বার্তা২৪ ডটনেট এর সঙ্গে আলাপকালে ওয়ান
এশিয়া কমিউনিকেশন’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আব্বাস আলী সিরাজি জানন, নতুন এ সংযোগ
ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সিমিইউ(৪) সাবমেরিন কেবল ছাড়াও সাতটি চ্যানেলে
ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা পাবেন ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীরা।
দেশে অবিচ্ছেদ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে এ জন্য যে চ্যানেলটি তৈরি
করা হয়েছে তা বেনাপোল-কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ের
ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলকেও ইন্টারনেট সেবা
পৌঁছে দিতে আমরা ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে
ব্যান্ডউইথ দেয়ার চেষ্টা করবো।” তবে এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ট্যারিফ
প্লান রিভিশন করার পাশাপাশি ভারতকেও ভাড়া মূল্য কমানোর প্রতি অনুরোধ
জানানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিরাজি বলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সকলের সহযোগিতা পাওয়ায়
আমরা বেশ দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছি। শুধুমাত্র ভারতীয়
টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার (টিআরএআই), টেরিস্টারিয়েল সংযোগ দাতা প্রতিষ্ঠান
টাটা কমিউনিকেশন ও ভারতী এয়ারটেলের কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব
হয়েছে।”
তবে ইতিমধ্যেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন’র নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মাদ হেলাল বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “এরই মধ্যে দেশের বিকল্প ইন্টারনেট মাধ্যম হিসেবে আইসিটির কারিগরি সংযোগের (ফিজিক্যাল কানেক্টিভিটি) কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে কিংবা বড়জোর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্থলপথে বিকল্প ইন্টারনেটের সংযোগের সুবিধা বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিকভাবে অবমুক্ত করা সম্ভব হবে।”
তবে ইতিমধ্যেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন’র নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মাদ হেলাল বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “এরই মধ্যে দেশের বিকল্প ইন্টারনেট মাধ্যম হিসেবে আইসিটির কারিগরি সংযোগের (ফিজিক্যাল কানেক্টিভিটি) কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে কিংবা বড়জোর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্থলপথে বিকল্প ইন্টারনেটের সংযোগের সুবিধা বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিকভাবে অবমুক্ত করা সম্ভব হবে।”
আনুষ্ঠানিক পরীক্ষায় বেনাপোল দিয়ে স্থাপিত ক্যাবল সংযোগটির যথার্ততা
প্রমাণের পর এবার আমরা দর্শনা সীমান্ত দিয়েও আরেকটি সংযোগ ক্যাবল স্থাপনের
কাজ হাতে নিয়েছি। এরপরপরই আখউড়া ও মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে আরো দুইটি বিকল্প
সংযোগ ক্যাবল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
অবিচ্ছেদ্য ইন্টারনেট সুবিধাভুক্ত হতে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ভোক্তাদের আর
খুব বেশি দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না এমন আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন,
“চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইটিসি লাইসেন্স হাতে পাবার পর থেকেই আমরা কাজ
শুরু করে দিই। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে সময় মতো সাড়া না পাওয়ায় নির্ধারিত
ছয় মাসের মধ্যে আমরা দেশের ইতিহাসে প্রথম স্থলপথে সংযুক্ত এই বৈশ্বিক
ইন্টারনেট সেবা কাজ শেষ করতে পারিনি। এজন্য সরকার আরো অতিরিক্ত তিন মাস সময়
বাড়িয়ে দেয়। এই সময়ে লাইসেন্স পাওয়া ছয়টি কোম্পানির মধ্যে আমরাই প্রথম
অপারেশন শুরু করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “পরীক্ষামূলক পর্ব চূড়ান্ত করার পরও বাণিজ্যিক বিপণন শুরু
করতে এক মাসের মতো সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় টাটা কমিউনিকেশন আমাদের
বাণিজ্যিক ভাবে সংযোগ চালুর অনুমতি প্রদানে ভারতীয় টেলিকম নিয়ন্ত্রক
সংস্থার (টিআরএআই) এবং মন্ত্রণালয় কমিটির কাছ থেকে পৃথক অনাপত্তি সনদ
সংগ্রহ করবে। এরপরই আমরা বাণিজ্যিকভাবে বিকল্প এই ইন্টারনেট সংযোগ চালু
করতে পারবো।”
বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সংযুক্ত রাখতে
কক্সবাজার দিয়ে মিয়ানমার হয়ে এই ক্যাবল সংযোগটি সিংগাপুর পর্যন্ত বর্ধিত
করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং আব্দুর
রাজ্জাক।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ইন্টারনেট সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে টাটা
কমিউনিকেশন সব সময় তিনটি চ্যানেল লাইভ রাখার কথা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে। এর
ফলে দেশের করপোরেট সেবাভুক্তরা অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে বিকল্প ইন্টারনেটের এ
সুবিধা পাবেন। তবে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে কি ধরনের সেবাব্যয় কমবে তা
বিটিআরসি এবং আইএসপি সেবাদাতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান
তিনি।
তিনি আরো জানান, কর্পোরেট পর্যায়ে জিপিআইটি, ভোক্তা পর্যায়ে ইন্টারনেট
সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান অগ্নি সিস্টেম লিমিটেড ও আমরা নেওয়ার্ক এর মতো দেশী
প্রতিষ্ঠানগুলো সংযোগ পেতে মুখিয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েক দফা
সাবমেরিন কেবল কাটা পড়া ও কারিগরি উন্নয়নে রিপিটার প্রতিস্থাপন ইত্যাদি
কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াও ইন্টারনেটর কচ্ছপ গতিতে হাঁপিয়ে উঠেছে
দেশের নেটিজেনরা। তাই স্থল পথে ইন্টারনেট সংযোগের এই বিকল্প এই ক্যাবল
স্থাপনের খবরে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নতুন এই সংযোগ চালু হলে দেশের কলসেন্টারগুলো জীবন ফিরে পাবে এবং সেই সাথে আউট সোর্সিং-এও আসবে গতি।
নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও
বাড়বে এমনটাই আশা করছেন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের বিদায়ী সভাপতি
মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন।
বার্তা২৪ ডটনেট প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে দেশের প্রত্যন্ত অঞলে
ইন্টারনেট সেবা পৌছে দিতে এবার ভোক্তা পর্যায়ে এর মূল্য কমানোর প্রতি
গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “একজন কৃষক কিংবা শিক্ষার্থীও যেন ইন্টারনেট ব্যাবহারের
মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়ন ঘটাতে পারে সেদিকটায় নজর দেয়া দরকার। তার মতে, এখন
থ্রি জি সেবাকে যত দ্রুত চালু ও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হবে
জাতি ততটাই উপকৃত হবে।”
একই বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়া
আহমেদ জানান, ‘কল সেন্টারগুলোর জন্য দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের
ব্যাকআপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে গিয়েছিল। ইন্টারনেটের এই স্থলপথ সংযোগটি
নিঃসন্দেহে সময়োপোযোগী ও যুগান্তকারী। এর ফলে দেশে ব্যান্ডউইথ মূল্যের
ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার বাড়বে। বিশেষ করে দেশের কল সেন্টারের জন্য।
একইসঙ্গে দেশের ব্যান্ডইউথের দাম কিছু কমে যাবে।’
এদিকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা
বিটিআরসি’র কাছ থেকে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের মতো পার্শ্ববর্তী
দেশে ব্যান্ডউইথ রফতানি করার অনুমোদন পেয়েছে আইটিসি কোম্পানিগুলি। পাশাপাশি
গত এপ্রিলে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরা এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে সংযোগ
দেবার জন্য 'ভার্চুয়াল ট্রানজিট' সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে ভারত
সরকার। সব মিলিয়ে ভি-স্যাট নির্ভরতা কমিয়ে সঙ্কুচিত বিকল্প পথে সংযুক্ত
বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ চালুর আগেই এর চাহিদা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক
পর্যায়েও পৌঁছে গেছে।
তাই বাণিজ্যিকভাবে সংযোগ চালুর আগেই ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন’র সঙ্গে
যোগাযোগ করেছে বাংলেদেশস্থ ভূটান দূতাবাস। ইতিমধ্যেই সংযোগ পেতে
প্রতিষ্ঠানিটির ব্যাবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দূতাবাসের
কনসেলর/ডেপুটি চিফ অব মিশন কারমা এস টিওসার।
জানাগেছে, এই বিকল্প এই পথে ভারতের কলকাতা হয়ে মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের
ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টারিয়েল কানেক্টিভিটি ও সাবমেরিন উভয় পথেই সংযুক্ত
হচ্ছে বাংলাদেশ।
নিরবিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিপুল তথ্য-আদান প্রদান নিশ্চিত
করতে ৯৬ কোর ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ইন্টারনেট সংযোগে দেশে অচিরেই
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রত্যয়ের রেনেসাঁর উদ্ভব ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন
সংশ্লিষ্টরা।

No comments:
Post a Comment