Pages

Friday, August 24, 2012

গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত অন্ধকার: তিন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ

গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত অন্ধকার: তিন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ
ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থায় পরিচালিত গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারি করায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গ্রামীণ ব্যাংক যে সারা বিশ্বের জন্য মডেল তা আর থাকছে না। এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত অন্ধকার। দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ড. দেব প্রিয় ভট্টাচার্য্য মনে করেন, “সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছে তাতে গ্রামীন ব্যাংকের ভবিষ্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। গ্রামীন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকারের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতেই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে ব্যাংকটিতে দু’টি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের নির্বাহী ক্ষমতা ও মালিকানার মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হবে। ব্যাংকটি এখন যে মহিমায় উজ্জল ছিল তা আর থাকবে না। এটা সারা বিশ্বের জন্য একটি মডেল হিসেবে দাড়িঁয়ে ছিল। সেই মডেল আর থাকছে না। তিনি আরো বলেন, “সরকার চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার কারো কাম্য নয়। সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ পরিবর্তন করে ‘ডিসক্রিমিনেশন’ করেছে। ব্যাংকের মুল মালিকদের মালিকানায় সরকার হস্থক্ষেপ করেছে। একটি অধ্যাদেশই সেই গৌরবকে ম্লান করে দিতে পারে।” আরেক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, “আমি একজন ক্ষুদ্রঋণের সমালোচক হয়েও মনে করি এই অধ্যাদেশ জারি করে সরকার সঠিক কাজ করেনি। গ্রামীণ ব্যাংক একটি আলোকিত প্রতিষ্ঠান। এর ভবিষ্যত অন্ধকার করা হলো। গ্রামীণ ব্যাংক তার নিজের মতো করেই থাকতে দেয়া উচিৎ ছিল। এখন যা করা হয়েছে তাতে ভবিষ্যত অন্ধকার, ভঙ্গুর ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেঁচে থাকবে। এটা আমাদের কাম্য নয়। অধ্যাপক আবু আহমেদ আরো বলেন, “কেউ যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের গঠনমূলক সমালোচনা করে কিংবা সংস্কার করে তা ওই প্রতিষ্ঠান বা মানুষের কল্যানের জন্য করা উচিৎ। ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ভগদিশ ভগবতির সমালোচনা প্রসংগে বলেন, তিনি একজন শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদ। তার কোনো সমালোচনা যদি আমাদের ক্ষতির কারণ হয় তা আমরা গ্রহণ করবো না, এটাই স্বাভাবিক। তবে গ্রহণ করলেও যাচাই বাচাই করে সিন্ধান্ত নিতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নানা কথা থাকলেও বিশ্বের কাছে আজ এ প্রতিষ্ঠান একটি মডেল হিসেবে দাড়িঁয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। ম্যাক্রো ও ফিনান্সিয়াল ইকোনমিস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুব আলী বলেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছে। এতে বাংলাদেশের গৌরব ম্লান হবে। সরকারের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা ব্যাক্তিরা দেশের ভাবম‌র্যাদা ক্ষুন্ন করতে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সরকারে এহেন কর্মে পাশ্চাত্য দেশে দেশের ভাবম‌র্যাদা নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নষ্ট হবে। নারীর ক্ষমতায়ন খর্ব করা হয়েছে। দেশের একজন নারী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন বিশ্ব ব্যাংককে ডাকাত কিংবা দুর্নীতিবাজ বলে গালি দেয় ঠিক তখন ভারতে অর্থমন্ত্রী বিশ্ব ব্যাংকের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা খুবই তাৎপর্য বহন করে।

No comments:

Post a Comment