Pages

Monday, August 27, 2012

পদত্যাগ নিয়ে আবুল হোসেনের পথ ধরেছেন মসিউর


পদত্যাগ নিয়ে আবুল হোসেনের পথ ধরেছেন মসিউর


  পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংক অন্য দুজনের সঙ্গে পদত্যাগ দাবি করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের। সেতু প্রকল্পে নিজেদের বাতিলকৃত ঋণ চুক্তি পুনর্বহালের অন্যতম শর্ত হিসেবে দুর্নীতি তদন্তকালে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ চাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না বলে রোববার জানিয়েছেন এই উপদেষ্টা। একই অভিযোগে পদত্যাগকারী সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো তিনিও বললেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে পদত্যাগ করবেন তিনি- নয় তো নয়।

প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যে দু’টি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া। এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলেও এখনো বাকি আছেন দুজন। এদের একজন; সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া’র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে’র চেয়ারম্যান পদে দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত পালিত হয়নি।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টাও। ইআরডি’র সূত্রগুলোতে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের এ সন্দেহের কথা গত ২৬ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন জাইকা’র ঢাকাস্থ প্রতিনিধি কেই তোয়ামা।

কিন্তু প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতিবিরোধী উপদেষ্টা হয়েও যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে দুর্নীতির, তখনো এই উপদেষ্টা স্বেচ্ছায় পদত্যাগে রাজি নন। পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মতো তিনিও বলছেন ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে’ পদত্যাগ করবেন।

বিকেলে রাজধানীর হেয়ার রোডে সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ড. মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “যদি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মনে করেন- বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছি না, তাহলে পদত্যাগ করব।”

সেতু প্রকল্পটির অনিয়ম ও দুর্নীতিবিরোধী উপদেষ্টা (ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর) ড. মসিউর বলেন, “আমি পদত্যাগ করলে যদি ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণের সুরাহা হয় তাহলে আমি একবার কেন, দশবার পদত্যাগ করব। তবে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সেগুলোর সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে হবে এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।”

ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন কি-না? এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের ভাষ্য আগে আসা উচিৎ। সরকারের ভাষ্য দেবেন অর্থমন্ত্রী। তবে আমি আমার অনুভূতি জানাতে পারি।”

No comments:

Post a Comment