Pages

Monday, August 27, 2012

ইবনে সিনাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা




পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে ঔষধ কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন করার অপরাধে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার ইবনে সিনা গ্রুপের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান আখন্দ স্বাক্ষরিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে রোববার ওই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ বছর যাবত কারখানার উৎপাদন কাজ চালু থাকলেও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদন নেয়নি কর্তৃপক্ষ। রোরবার পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মুনীর চৌধুরী কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিবেশ আইন অমান্য করার অপরাধে এ অর্থ আদায় করেন।
সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের গাজীপুর অফিসের একটি টিম কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালালে এ ঘটনা জানতে পারে। পরিদর্শন টিম গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত কারখানায় গেলে কারখানার কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেন এবং তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর আবু নাসের মো. আবদুজ জাহের রোববার পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)-এর কাছে লিখিত এক আবেদনে এ ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। কোম্পানির পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার ও কোম্পানির সেক্রেটারি মো. শহীদ ফারুকি, প্ল্যান্ট ম্যানেজার ড. রফিকুল হক, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার আব্দুল খালেক ও ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী মমতাজুল করিম পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এর নিকট শুনানীতে হাজির হয়ে পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীনভাবে কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় তারা এ ঘটনাকে নিতান্তই তাদের অজ্ঞতা বলে স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, ১৩ একর আয়তনের জমিতে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস-এ ১৬৮ ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি হিস্টামিন, অ্যান্টি আলসারেন্ট, অ্যান্টি পাইরেটিকসহ বিভিন্ন ধরণের তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, ১৮ বছর ধরে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেআইনীভাবে চালানো- পরিবেশ আইন অমান্যতার এক নজিরবিহীন ঘটনা। তাই এ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছে। যাতে সবক্ষেত্রে পরিবেশ আইন প্রতিষ্ঠিত হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সকল তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কোনো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায় না, কিন্তু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চায়। পরিবেশকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করে বিনিয়োগ করার দিন আর নেই। পরিবেশই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার উপযুক্ত।

No comments:

Post a Comment