Pages

Monday, August 27, 2012

মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির


মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির

 মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির তার জবানবন্দি পেশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২এ।
 
শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে আলবদর বাহিনী জড়িত।
 
ওই সময় তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি একটি  উদাহরণ দিতে পারি। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর বদর দিবস পালন উপলক্ষে আর বদরদের এক সমাবেশে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ তার ভাষায় পাকিস্তান, ইসলামের দুশমনদের ও ভারতীয় এজেন্ডাদের খতম করার শপথ পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের তথা মুক্তিযোদ্ধাদের তারা বলতো দুষ্কৃতিকারী, ইসলামের শক্রু, ভারতের এজেন্ড, নমরুদ ও জারজ সন্তান প্রভৃতি।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম, নিজামী ও মুজাহিদ প্রমুখ শীর্ষ নেতারা বলেছেন, পাকিস্তান হচ্ছে আল্লাহর ঘর, পাকিস্তানকে রক্ষা করতে জেহাদ করতে হবে। জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগসাজসে গণহত্যা ও মানবতাববেরোধী অপরাধের সহযোগিতা করায় তাদের নৃশংসতা এতটা বিস্তৃত হয়েছিল।”
 
রোববার ট্রাইব্যুনাল-২এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশকালে এসব কথা বলেন।
 
সাক্ষী শাহরিয়ার কবির আরো বলেনম  “সেই সময় পাকিস্তান প্রাদেশিক ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, সংঘের সভাপতি ছিলেন এই মামলার আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াতের অন্যতম নেতা কামারুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী ছিলেন ছাত্র সংঘ ও আলবদর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা।”
 
তিনি বলেন, “৭১ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলবদর বাহিনীর ঘাতকেরা তালিকা করে হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করেছে। যার মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ দেশসেরা মানুষেরা।”
 
তিনি আরো বলেন, তার চাচাতো ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেলিম মনসুর খানের লেখা ‘আলবদর’ বই ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে বলতে পারি ‘৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর এ বাহিনীর নেতা হিসেবে নিজামী, মুজাহিদ কী করেছেন তার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ৭১ সালের জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য সংবাদপত্রে।
 
তিনি বলেন, শান্তি কমিটির  ওপর জামায়াত ইসলামীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ছিল। নিজেদের একটি ঘাতক বাহিনী গঠন করার প্রয়োজনে তারা আল-বদর ও রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। এই দুটির ভেতরে আল বদর বাহিনী গঠন করা হয়েছিল জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতাদের দ্বারা। যে নেতাদের ভেতরে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ অন্যতম।”
 
শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, “বাংলাদেশের এই সংগঠনগুলো যে অপরাধ করেছে এবং যে কারণে এই অপরাধগুলো করেছে  সেই রাজনীতি সেই আদর্শ তারা এখনো অনুসরণ করছে।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২ মে পর্যন্ত আমি মহাখালীর বাড়ীতে ছিলাম। এর পরে আমি ভারতে চলে যাই। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমি দেশে ফিরে আসি।”
 
পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।  তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি ঢাকা ইউনিভাসির্টিতে কোন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন? জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি ঢাকা ইউনিভাসির্টি থেকে বাংলায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে আর পড়ালেখা করিনি।
 
পরে মামলার কার্যক্রম আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে দেন আদালত।

No comments:

Post a Comment