Pages

Sunday, August 26, 2012

হায়দারাবাদ টেস্ট: ফলোঅনে নিউজিল্যান্ড



 দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হায়দারাবাদে  প্রথম ইনিংসে  ভারতের  ৪৩৮ রানের সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে ফলোঅনে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের প্রথম ইনিংস ১৫৯  রানে গুটিয়ে যাবার পর ফলোঅনে নেমে তৃতীয় দিনে দিনে এক উইকেটে  ৪১ রান জমা করেছে তারা। ভারতীয় স্পিনারররা যেভাবে দাপট দেখাচ্ছেন তাতে করে কিউই ব্যাটসম্যানরা অতি মানবীয় ইনিংস না খেললে ভারতের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্পিনার রবিচন্দ্র অশ্বিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। অশ্বিন ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়জন কিউই ব্যাটনসম্যানের প্রাণ সংহার করেন। দ্বিতীয় দিনে পাঁচ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের তিনজন ব্যাটসম্যানকে ৪৪ রানের মধ্যে প্রজ্ঞান ওঝা এবং অশ্বিন ফিরিয়ে দিলে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানের লিড পায়।

আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান তুলতেই একজন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পেয়েছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ১৬ এবং কেন উইলিয়ামসন তিন রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতির আগে ৪৭ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

পরাজয় এড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ডের আরো ২৩৯ রান প্রয়োজন। ‘বৃষ্টিদেবতা’ সাহায্য না করলে সফরকারীদের পক্ষে কাজটা আপাতত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শনিবার বৃষ্টির কারণে দুইবার পিচ ঢেকে রাখতে হয়েছিল। ঘণ্টাখানেক মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় দুপুর দুটো ছাপ্পান্ন মিনিটে ম্যাচ অফিসিয়ালরা দিনের খেলা পরিত্যক্ত করতে বাধ্য হন। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সময়টাতে ম্যাচ আয়োজন করার জন্য অবশ্য এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

আগের দিনের ১০৬ রান হাতে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে অশ্বিন-ওঝা’র ঘূর্ণিবলের সামনে মাত্র ১৯.৩ ওভার টিকতে সক্ষম হন নিউজিল্যান্ডের অবশিষ্ট পাঁচ ব্যাটসম্যান।

অশ্বিনের আগের ম্যাচসেরা বোলিং ফিগার ছিল ৪৭ রানে ছয় উইকেট। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ১৬.৩ ওভার বল করে তিনটি মেডেন ওভারসহ ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়টি উইকেটের দেখা পান তিনি। তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। ২১ ওভারে ছয় মেডেনসহ ৪৪ রানে তিনটি উইকেট নিয়ে অশ্বিনকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন ওঝা। এদের দাপটে মধ্যাহ্নবিরতির সময়েই ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিনে প্রথম আঘাতটা অবশ্য করেছিলেন উমেশ যাদব। ক্রুগার ভ্যান উইককে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ডাগ ব্রেসওয়েলকে ভারতীয় স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা ফিরিয়ে দিলে ১৪১ রানের মাথায় নিউজিল্যান্ডের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে।

দিনের ষোড়শ ওভারে বল হাতে পান অশ্বিন। শুক্রবারের মতোই নিজের স্পেলের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে জিতেন প্যাটেলকে দর্শক বানিয়ে দেন তিনি।  অশ্বিনকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে প্যাটেল সাজঘরে ফেরত আসার সময়ে আট উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৩ রান। অশ্বিনকে সামাল দেয়া কিউই টেল অ্যান্ডারদের পক্ষে ছিল অসম্ভব। ট্রেন্ট বোল্ট এবং ক্রিস মার্টিন পরপর দু’বলে অশ্বিনের শিকারে পরিণত হলে ২৭৯ রানের ঘাটতি নিয়ে থামে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।  সফরকারিদলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবলমাত্র জেমস ফ্রাংকলিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ১২২ বলের মোকাবেলায় এক বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অনেকটাই ডিফেন্সিভ থাকেন দুই কিউই ওপেনার মার্টিন গুপটিল এবং ডাগ ব্রেসওয়েল। প্রথম ১০ ওভারে এই দুজনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র নয় রান। দ্বাদশ ওভারে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। উমেশ যাদবকে লেগ সাইড দিয়ে সীমানা পার করেন মার্টিন গুপটিল। এরপরের ওভারে গুপটিল অনেকটাই হাত খুলে খেলতে থাকেজন। প্রজ্ঞান ওঝাকে টানা দুইবার সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ১৫ রানে একবার জীবন পান গুপটিল। দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন বিরাট কোহলি।

গুপটিল অবশ্য ‘জীবন পাওয়া’টাকে খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। ওঝার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গুপটিল ফিরলে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে তৃতীয় দিনের খেলাও শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সকাল থেকেই পিচ ঢাকা ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পরে খেলা শুরু হওয়ার কারণে দিনের নির্ধারিত মোট ওভার থেকে সাত ওভার কমিয়ে দেয়া হয়। তৃতীয় দিনে কমপক্ষে  ৮৩ ওভার খেলা হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ শুক্রবার সকালেও খেলা শুরু হয়েছিল ২৬ মিনিট বিলম্বে। গ্রাউন্ডসম্যানদের পিচ ঢেকে রাখতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বৃষ্টি হয়নি।

আবহাওয়া বিভাগ আগামী তিনদিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এরকম কিছু ঘটলে ভারতের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

No comments:

Post a Comment