Pages

Friday, August 17, 2012

বলিউডে দেশপ্রেম: নির্বাচিত সেরা ছবি

বলতে দ্বিধা নেই ভারত পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতীয় জনসাধারণের মধ্যেও দেশপ্রেম লক্ষ্য করার মতো। বলিউডে দেখা যায় দেশপ্রেমের শক্ত প্রভাব। দেশপ্রেমকে উপজিব্য করে বলিউডের মেধাবী নির্মাতারা নির্মাণ করেছেন অসাধারণ সব ছবি।
১৫ আগস্ট ছিল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। বলিউডপ্রেমী দর্শকদের ভোটাভুটির ভিত্তিতে কিছু অসাধারণ ছবি সেরা দেশাত্মবোধক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছে। আসুন সেই ছবিগুলো এক নজরে দেখে নেই। রাগ দে বাসন্তী: দেশপ্রেম বোধের ছবির তালিকা পূর্ণ হবেনা যদি রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার ক্লাসিক ছবি ‘রাগ দে বাসন্তী’ সেখানে না থাকে। আমির খান, কুনাল কাপুর, শারমান যোশী, সিদ্ধার্ত ও সোহা আলী খান এই পাঁচ দুরন্ত তরুণ বন্ধুকে নিয়ে গল্পের কাহিনী। এক বন্ধুর করুণ মৃত্যু তাদের মধ্যে বাস্তবতা জাগিয়ে তোলে। দেশপ্রেম মূর্ত হয়ে ওঠে ছবির প্রতি সিকোয়েন্সে। এ ওয়েন্সডে: পরিচালক নিরাজ পন্ডিতের ডেব্যু ফিল্ম ‘এ ওয়েন্সডে’। এই ছবিটি ৭/১১ মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ছবিতে অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন শাহ্ ও অনুপম খের। ছবিতে ভারতীয় সরকারের কিছু আইনগত ফাঁক তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে অপরাধ থেকে পার পেয়ে যায়ার নজির এ উপমহাদেশে নেহাত কম না। নৈতিকতার এই বিষয়টি উঠে এসেছে ‘এ ওয়েন্সডে’ ছবিতে। দেশপ্রেমভিত্তিক ছবি সবসময়ই মানুষের মনকে ছুঁয়ে দেয়। ভেতরকে আলোড়িত করে। কিছুটা তো শেখায়ই। এ ওয়েন্সডে ছবিটিও আমাদের মর্মমূল কড়া নেড়ে জাগিয়ে দেয়ার মতো একটি ছবি। কাহানি: থ্রিলার ধর্মী গল্প অবলম্বনে নির্মিত ছবি ‘কাহানি’। ছবিতে দেখা যায় অন্তঃসত্ত্বা বিদ্যা বালান তার হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে খুঁজতে কলকাতার পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ছবির অন্তরালের মূখ্য বিষয় হলো দেশাত্মবোধ। ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রটি গোয়েন্দাদের দ্বারা প্রশিক্ষিত। তাকে ব্যবহার করা হয় ভয়ানক এক সন্ত্রাসীকে উচ্ছেদে সাহায্য করতে। বিদ্যা সবসময়ই গতানুগতিকতা থেকে বাইরে হাঁটা একজন অভিননেত্রী। এ ছবিতেও তিনি নিজেকে ব্যতিক্রমি উপস্থাপন করেছেন। সহঅভিনেতা হিসেবে কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জি সত্যিকার অর্থেই ছবির মান রেখেছেন। চাক দে ইন্ডিয়া: এই ছবিতে শাহরুখ খান একজন হকি খেলোয়াড় যিনি ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় কামব্যাক করেন কোচ হিসেবে। তিনি মেয়েদের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। এই ছবিতে দেখানো হয়েছে একটা দলের পেছনে থেকে কিভাবে সবাইকে উদ্যাম জোগানো সম্ভব। ধর্মকে উর্দ্ধে রেখে দেশের সম্মান রক্ষা করা যে কারো জন্যেই নৈতিক দায়িত্ব। ছবিতে হকি দলের কোচ একজন মুসলিম, কিন্তু তিনি পাকিস্তানি মুসলিম দলকে পরাজিত করে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে সমর্থ হন। লাকস্য: লাকস্য ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋত্বিক রোশন। একেবারে অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি নিজেকে সেনা জওয়ান হিসেবে দেশের কাজে নিযুক্ত করেন। সেনা জীবন তার কাছে একপর্যায়ে অর্থহীন হয়ে ওঠে। বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন ঋত্বিক কিন্তু কারগিল যুদ্ধ তাকে অন্য মানুষে পরিণত করে। জীবন ও দেশ সম্পর্কে তার ধারণা মুহূর্তেই বদলে যায়। দাস: ইন্টেলিজেন্স এজেন্টদের কখনোই অতি উত্তেজিত হলে চলে না। সঞ্জয় দত্ত, অভিষেক বচ্চন, জায়েদ খান ও শিল্পা শেঠীকে এন্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের অফিসার হিসেবে অভিনয় করতে দেখা যায়। যারা নিজ পরিবারের চেয়ে দেশকে সামনে রাখতে উদ্যোগী। এটিএস অফিসার টরেন্টোতে আসেন দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে। প্রধানমন্ত্রীর টরেন্টো ভিজিট কালে সেই সন্ত্রাসী প্রধানমন্ত্রীকে গুপ্ত হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থা অবহিত হন। ‘দাস’ হাই অকটেন থ্রিলারধর্মী একটি ছবি। ছবির কাস্টিং ও গান খুব দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। ‘দাস’ ছবির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব এর দর্শক ধরে রাখার ক্ষমতা। সারফারোজ: সারফারোজ ছবিতে জনপ্রিয় গজল গায়ক এবং একইসঙ্গে পাকিস্তানি আইএসআই এজেন্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। এদিকে আমির খান এসিপি র‌্যাথোরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। মূলত এই দুজন ডাকসাইটে অভিনেতার অসাধারণ অভিনয় শৈলী সারফারোজের প্রাণ। ছবিতে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের চূড়ান্ত বাস্তব চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। দেশপ্রেম প্রত্যেকের ভেতরে স্বাচ্ছন্দময় গতিতে চলে, এটি কখনো আরোপিত বিষয় নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে অবশ্যই সুসম্পর্ক বজায় রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব কিন্তু নিজ রাষ্ট্রের ক্ষতি করে নয়। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটি দেশপ্রেমের ছবি সারফারোজ। ছবিতে আরো আছেন মিষ্টি মেয়ে সোনালী বেন্দ্রে। ছবির গানগুলো ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। মিশন কাশ্মির: আদিম উপত্যকা কাশ্মির সৌন্দর্য ও শান্তির অপর নাম। কিন্তু কাশ্মির নিয়ে দখল পাল্টা দখলের খেলা যেন কখনোই শেষ হয়না। এই দখলদারিত্ব নিয়ে বিধু বিনোদ চোপড়ার ছবি মিশন কাশ্মির। বিধুর শৈশব কৈশোর কেটেছে কাশ্মিরে। বিধু বিনোদ স্থানীয় সন্ত্রাসবাদকে জীবন থেকে তুলে এনে মিশন কাশ্মিরে বাস্তব ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছেন। অন্যদিকে টগবগে দুরন্ত যুবক ঋত্বিককে দুর্দান্তভাবে পরিশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করে মেধার পরিচয় দিয়েছেন। পরিবার ও দেশ এই দুই নিয়ে চিরন্তন সংঘর্ষ। দেশপ্রেমিক আর্মি অফিসার সঞ্জয় দত্ত সন্তান ঋত্বিককে ফিরে পেতে আঘাত হানেন দেশের প্রতি। গতিশীল একটি দেশপ্রেমের ছবি মিশন কাশ্মির।

No comments:

Post a Comment