জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য৷
গত এক বছরে বিলুপ্ত হয়েছে ৫০টি প্রজাতি৷ অম্লতা বাড়তে থাকলে আরো অনেক
প্রজাতি বিপন্ন হবে৷
গত দেড়শ' বছরে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩০
ভাগ৷ প্রতিদিন বায়ুমণ্ডল থেকে ২২ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিচ্ছে
সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি৷ সাগরে এখন কার্বন কনসেন্ট্রেশনের মাত্রা ৩৮০
পিপিএম৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. রেজাউল ইসলাম
ভূইয়া জানান, পানিতে কার্বন মিশে পিএইচের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অস্বাভাবিক
হারে বাড়ছে সাগরের অম্লতা৷ ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে এর জীববৈচিত্র্য৷ ভেঙে
পড়ছে ইকো সিস্টেম৷ এ থেকে মুক্ত নয় বঙ্গোপসাগরও৷ অম্লতা বেড়ে যাওয়ায়
বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক প্রাণীর গায়ে পচন ধরেছে৷ পাল্টে যাচ্ছে জীবন
প্রক্রিয়া৷
তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আছে ১৯
প্রজাতির জীবাশ্ম, ৩৬ প্রজাতির কঠিন এবং ১৩ প্রজাতির কোমল প্রবাল৷ আছে ১৯১
প্রজাতির শামুক ও ঝিনুক৷ ১০ প্রজাতির কাকড়া ছাড়াও ১৫৩ প্রজাতির শৈবাল৷ আছে
১৩৪ প্রজাতির মাছ৷ এর মধ্যে গত এক বছরে বিলুপ্ত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ টি
প্রজাতি৷ এসিড যত বাড়বে আরো নতুন নতুন প্রজাতি বিপন্ন হবে৷
এদিকে সুনামির পর ভারত মহাসাগরের তলদেশে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের আগ্নেয় বিস্ফোরণ৷
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. দিলীপ দত্ত
জানান, বঙ্গোপসাগরও এ ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে৷ আর
বঙ্গোপসাগরে এমন বিস্ফোরণ হলে জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে
পারে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

No comments:
Post a Comment