পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তির মেয়াদ আরো এক মাস বাড়িয়েছে এডিবি (এশীয়
উন্নয়ন ব্যাংক) ও জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা)। বৃহস্পতিবার
বিকেলে দাতা সংস্থা দুটি এই মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেয় বলে জানিয়েছেন
ইআরডি’র (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সংশ্লিষ্ট একজন সচিব।
এর আগে দুপুরে এডিবি’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হুয়ান মিরান্ডা’র
সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দাবি করেছেন, পদ্মা
সেতুতে অর্থায়নের ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন অর্থায়নকারী এ প্রতিষ্ঠানের
কর্মকর্তা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের ব্যাপারে জাইকা’ও সুখবর দেবে।
সেতু প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ
যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব
ব্যাংক গত জুনে তাদের ঋণ চুক্তি বাতিলের পর গত এডিবি ও জাইকার ঋণচুক্তির
মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রথম দফায় চুক্তির মেয়াদ এক মাস
বাড়ায় সংস্থা দুটি, এখন দ্বিতীয় দফায় আরো এক মাস বাড়ালো তারা।
ঋণ এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আরো এক মাস সময় পাবে সরকার।
তবে প্রকল্পটিতে দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ
আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণকে যথেষ্ট মনে করছে না বিশ্ব ব্যাংক।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর
অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিবকেও
পদত্যাগ করতে হবে বলে অনড় অবস্থানে আছে বিশ্ব ব্যাংক। সেতু প্রকল্পটিতে
প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি মনে করে এরা সরকারি পদে থাকলে দুর্নীতি
তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।
সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না
জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন।
ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে
সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যেই
দুইটি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক
মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া- এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে
দেয়া হলেও এখনো বাকি আছেন দুজন। এদের একজন; সেতু বিভাগের সাবেক সচিব
মোশাররফ হোসেন ভুইয়া’র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব
থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে’র চেয়ারম্যান পদে দেয়া
হয়েছে। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত
পালিত হয় নি।
বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আরো আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক
উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। উপদেষ্টা জানিয়েছেন কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই
তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে তেহরান যাবার আগে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে গেছেন, এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত
নেবেন।
এদিকে দুপুরে মন্ত্রিসভার একটি কমিটির বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে এডিবির সুখবর তো আপনারা পেয়েছেন। কাল
জাইকারটাও পেয়ে যাবেন।” অর্থমন্ত্রী প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “পদ্মা সেতু
হবেই হবে’’।
বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতেও আলোচনা এখনো চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা
একটা নাজুক দরকষাকষি (ডেলিকেট নেগোসিয়েশন) করছি। এই রকম অবস্থায় আমি কথা
বলতে চাচ্ছি না।’’
এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে- জানতে চাইলে মুহিত বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।
এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি। ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে- জানতে চাইলে মুহিত বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।

No comments:
Post a Comment