সোনালী ব্যাংকে লুটপাটের জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, “সোনালী
ব্যাংকের তিন হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের ব্যাপারে সরকার যথাযথ উদ্যোগ
নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এর জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন।” এছাড়া কলেজছাত্র
লিমনের ব্যাপারে সরকার হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করেছে উল্লেখ করে এ ঘটনায়
মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড. মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার
দুপুরে রংপুরে কমিশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর জেলা প্রশাসকের হলরুমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘ওয়ার্কিং
টুগেদার ফর দ্যা প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস’ বিষয়ক অ্যাওয়ারনেস
ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর
রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, “সোনালী ব্যাংকের তিন হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের
ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এটি
মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাইবে
কমিশন।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের এ বিষয়ে চিঠি দেয়ার অধিকার নেই বলে
কি এসব টাকা রাষ্ট্রায়ত্ব একটি ব্যাংকের হিসাব থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে
চলে যাবে। এর কোনো প্রতিকার কি হবে না।”
কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “ভুল হলে তা শুদ্ধ করে নেয়ার প্রবণতা আমাদের কম।
কলেজছাত্র লিমনের ব্যাপারে ভুল হয়েছিল। সেটি স্বীকার করলেই হতো। কিন্তু তা
করা হয়নি। একটি ভুলকে ঢাকার জন্য হাজার ভুল করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “হাই কোর্ট রাষ্ট্রকে কলেজছাত্র লিমনের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার
বহনের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র সেই নির্দেশ মানেনি। তার কৃত্রিম
পা সংযোজন করা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে।”
মিজান বলেন, “রাষ্ট্রই যখন হাই কোর্টের নির্দেশ মানে না তখন পেশিশক্তি
সন্ত্রাসী প্রভাবশালীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যেমনটি হয়েছে সোনালী ব্যাংকে।”
তিনি বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বলেন, “সব অপরাধে মানবাধিকার লঙ্ঘিন হয় না।
কিন্তু কোনো অপরাধের সঙ্গে যদি রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের কোনো এজেন্সি, সংস্থা,
কর্মকর্তা-কর্মচারী, নীতিনির্ধারক জড়িত থাকে তবে সেটাই মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এখন জনবল ১২ জন। এরমধ্যে
সরকারের দেয়া হচ্ছে চার জন। বাকি থাকে মাত্র আটজন। যারা কমিশনে
বুদ্ধিবৃত্তিক কন্ট্রিবিউশন দিতে পারি। মাত্র আট জন জনবল নিয়ে ১৬ কোটি
মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখভাল করা সম্ভব নয়। আপনারা আমাদেরকে গালমন্দ
করুন। গালিগালাজ করুন। আমাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করুন। আমাদের কোনো আপত্তি
নেই।”
তিনি সরকারের কাছে কমিশনের জনবল বাড়ানোর ব্যাপারে সব স্তর থেকে দাবি তোলার আহ্বান জানান।
এ সময় কমিশনের কর্মকর্তা, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি বিনয়কৃষ্ণ বালা, ডিসি ফরীদ
আহাম্মদসহ জিও এনজিও, স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের নেতারা উপস্থিত
ছিলেন।

No comments:
Post a Comment