Pages

Friday, August 31, 2012

ঝড়ের মুখে এন্টি ওবামা ফিল্ম- ওবামা’স আমেরিকা :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

ঝড়ের মুখে এন্টি ওবামা ফিল্ম- ওবামা’স আমেরিকা :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট


 ইন্দো-আমেরিকান লেখকের ডকুমেন্টরি ‘২০১৬: ওবামা’স আমেরিকা’ বক্স অফিসে তুমুল ঝড় তুলেছে। ঝড় উঠবেই বা না কেন! খোদ বিশ্বের মাথা আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যদি ইচিং বিচিং খেলা হয়, আর সেই খেলাতে রেফারি যদি ইচ্ছেমতো ন্যায্য অন্যায্য নানা রকমের সিদ্ধান্ত নেন, তবে! তাহলে তো কথাই নেই। শুধু ঝড় কেন সাইক্লোন ঘটে যাবে। বিষয়টা আসলে কারো পক্ষে অথবা কারো বিপক্ষে যাবে। ওবামার এই ছবির ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।

মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণকারী দিনেশ ডিসুজা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামাকে বিষয়বস্ত করে নির্মাণ করলেন একটি এন্টি ওবামা ফিল্ম। ২০১৬ সালে ওবামাকে নির্বাচনে জয়ী করা উচিত কি  না- আর জয়ী হলেও ওমাবা কতটুকু সফলতা ছিনিয়ে আনতে পারবেন -এটিই মূলত ছবির প্রেক্ষাপট। ছবিতে পরস্পর বিরোধী বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। যার কারণে রিপাবলিকান ও কনজারভেটিভ দুপক্ষের মতাবলম্বিরাই আলোচনার তীব্র বিতর্কে যোগ দিচ্ছেন।

আগামী শুক্রবার থেকে ছবিটি বিশ্বব্যাপি মোটিএক হাজার ৮০০ থিয়েটারে বর্ধিত সময়ের জন্য প্রদর্শিত হবে। প্রায় এক হাজার ১০০ থিয়েটারে এটি প্রদর্শিত হয়েছে এবং সপ্তাহ শেষে অর্থ উঠিয়ে এনেছে ৬.২ মিলিয়ন ডলার। শুক্র ও শনি শুধু এই দুদিনেই ছবিটি আয় করেছে হাজার ৯৪০ ডলার। যেটা অন্যান্য যেকোনো বাণিজ্যিক ছবির তুলনায় অনেক বেশি। রকি মাউন্টেন পিকচারের ব্যানারে ছবিটি নির্মিত হয়েছে।

ছবিটি নির্মাণে খরচ পড়েছে ২.১ মিলিয়ন ডলার। দিনেশ ডিসুজার ‘ দ্য রুটস্ অব ওবামা’স রেজ’ বইটি অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করেছেন ডিসুজা ও জন সুলিভান। এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে আলোকপাত করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ওবামার উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া তৃতীয় বিশ্বের তথাকথিত মানসিকতার যেটা তিনি পেয়েছেন তার কেনিয়ান বাবার কাছ থেকে। আর এই মানসিকতা বলেই ওবামা সক্রিয়ভাবে একান্ত চেষ্টায় কাজ করছেন আমেরিকাকে অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করতে।

তুমূল বিতর্ক এবং আলোচনার ঝড় উঠেছে ওবামাকে নিয়ে নির্মিত এই ছবিকে কেন্দ্র করে। সূত্র: এনডিটিভি

সিনেমা ছাড়তে কোনো অসুবিধা হবে না কোয়েলের :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

সিনেমা ছাড়তে কোনো অসুবিধা হবে না কোয়েলের :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পয়লা নম্বর নায়িকা বিয়ে সেরে ফেলছেন ২০১৩ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি। সৌভাগ্যবান সেই যুবকটির নাম নিসপাল সিং; তিনি-ই সুরিন্দর ফিল্মস-এর হর্তাকর্তা। কাল মুক্তি পাচ্ছে কোয়েলের যে ছবি 'পাগলু ২', তারও প্রযোজক নিসপাল। তা, এটাই কি কোয়েলের বিয়ের আগে শেষের দিকের ছবি? আর তারপরেই কি কোয়েল মল্লিক-এর সিনেমা থেকে অবসর? ঠিক যেভাবে বিয়ে সেরে ছবির জগৎ থেকে সরে গিয়েছিলেন মাধুরী, এও কি তাই? কোয়েল কী বলছেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে? কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারের রণজিৎ দে’র সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন :  ইন্টারভিউটা শুরুর আগে আপনাকে একটা প্রমিস করতে হবে...
কোয়েল : (একটু অবাক হয়ে) প্রমিস! কী প্রমিস?

প্রশ্ন : কোনও পলিটিক্যালি কারেক্ট অ্যানসার দেওয়া চলবে না...
কোয়েল : হা... হা... হা... (প্রবল হাসি)।

প্রশ্ন : হেসে উড়িয়ে দিলে হবে না। রাজি তো?
কোয়েল : আমি যে খুব ক্যালকুলেশন করে পলিটিক্যালি কারেক্ট অ্যানসার দিই- তা কিন্তু নয়। বেসিক্যালি আমি মানুষটাই এরকম। বরং আমি যেমন আমি, সেইভাবেই কথা বলি, না কি?

প্রশ্ন : বেশ তাই বলুন।
কোয়েল : শুরু করুন তাহলে...

প্রশ্ন : আপনি কি জানেন রিসেন্ট একটা ইন্টারভিউতে স্বস্তিকা বলেছেন, কোনও দিন আপনারা দুজন একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করলে রিভেঞ্জ কীভাবে নিতে হয়- সেটা নাকি স্বস্তিকা আপনাকে দেখিয়ে দেবেন...
কোয়েল : তাই, বলেছে বুঝি!(কিছুক্ষণ ধরে হাসি)... কী বলি বলুন তো! কেউ যদি রিভেঞ্জ নিতে চায়, লিখে দিন- আমি হেসে দিয়েছি।

প্রশ্ন : আপনি কিন্তু প্রমিস করেছেন কোনরকম পলিটিক্যালি কারেক্ট অ্যানসার দেবেন না...
কোয়েল : দিচ্ছি না তো। বিশ্বাস করুন, কাছের লোকজন ছাড়া আমার আর কারও ওপর সেভাবে রাগ, অভিযোগ কিছুই নেই।

প্রশ্ন : একটু বেশি বিনয় হয়ে গেল না?
কোয়েল : (হাসি) এটা আমার একেবারেই বিনয় নয়। আমি মানুষটাই এরকম। আমার প্লেটে দুটো মিষ্টি থাকলে আমি সেটা নিয়েই খুশি থাকব। অন্যের প্লেটে ক’টা মিষ্টি আছে, সেই নিয়ে মাথা ঘামাতেই যাব না। তার প্লেট নিয়ে কাড়াকাড়িও করব না।

প্রশ্ন : তার মানে বলছেন, স্বস্তিকার ওপর আপনার কোনও রাগ নেই। কেউ অফার নিয়ে এলে আপনি স্বস্তিকার সঙ্গে ছবি করবেন?
কোয়েল : (একটু ভেবে) যদি এরকম কোনও দিন সুযোগ আসে, স্বস্তিকার সঙ্গে ছবি করতে আমার কোনও আপত্তি নেই।

প্রশ্ন : এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে হয়ে গেল, কারও ওপর আপনার কোন অভিযোগ তৈরি হল না- সেটা হয় না কি?
কোয়েল :(চোয়াল শক্ত করে) আমি ইচ্ছে করলেই কাল সকাল থেকে কোনও সিনেমা না-ও সাইন করতে পারি। এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার কোনও অ্যাটাচমেন্ট নেই। রাতারাতি নিজেকে সিনেমা থেকে সরিয়ে নিতে এতটুকু অসুবিধা হবে না আমার।

প্রশ্ন : সত্যি কোনও অ্যাটাচমেন্ট তৈরি হল না, নাকি আপনি তৈরি করলেন না?
কোয়েল : আমি তৈরি করলাম না।

প্রশ্ন : কেন? এত বছরেও ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও কাছের মানুষ পেলেন না?
কোয়েল : না না, ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা আমার সবাই কাছের। সবার সঙ্গেই আমার ভাল সম্পর্ক। কিন্তু সিনেমার এই যে গ্ল্যামার, ফেম... একটা অসম্ভব মোহ আছে না, তার সঙ্গে আমার কোনো অ্যাটাচমেন্ট নেই। এগুলো বড় পলকা। আজ আছে, কাল নেই। কিন্তু আমার ফ্যামিলি আমার সঙ্গে সব সময় থাকবে। আমি যখন বিখ্যাত ছিলাম না, তখনও ছিল, আজও আছে, থাকবেও। তাই বিয়ে-টিয়ের পর যদি আমায় চুটিয়ে সংসার করতে হয়, বাচ্চা মানুষ করতে হয়- আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। ফ্যামিলিটাই আমার কাছে প্রায়োরিটি বেশি, সিনেমাটা নয়। তাই যত রাগ, অভিমান আমার কাছের মানুষগুলোর ওপর, অন্যদের ওপর নয়। আসে না।

প্রশ্ন : টলিউডের এক নম্বর নায়িকার মুখে এই কথাগুলো কেমন যেন শোনাচ্ছে না!
কোয়েল : কিন্তু এই কথাগুলোই সত্যি। শ্যুটিং-এর পর কোয়েল এরকমই। এক এক সময় মনে হয়- আমি মানুষটা সত্যি খুব বোরিং। জানেন, আমার নিজের ইন্টারভিউ আমার একদম পড়তে ইচ্ছে করে না। সবাই কত কিছু বলে, কত মশলা থাকে আর আমারটা...!(কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর)... আমি জীবনে প্ল্যান করে কিছু করিনি বটে, কিন্তু আমি জীবনে অ্যাডভেঞ্চারটাও একদম ভালোবাসি না। ওই যে পাখিরা দলবেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ায় না, দেখবেন ওদের ভেতর একটা পাখি দলছুট হয়ে চেঁচাতে চেঁচাতে একা একা উড়ে বেড়াচ্ছে। ওই পাখিটা হয়ত আকাশটাকে একটু বেশি চিনল, বেশি দেখল কিন্তু ওর হারিয়ে যাওয়ার চান্সটাও অনেক বেশি। আমি ওই দলছুট পাখিটা কোনও দিন হতে পারব না। আমি সব সময় একটা সিকিউরিটি চাই।

প্রশ্ন : এই সিকিউরিটির কারণেই কি ভেঙ্কটেশ ছেড়ে আজ অবধি অশোক ধানুকার সঙ্গে ছবি করলেন না?
কোয়েল : অশোক ধানুকাই তো আজ অবধি আমায় ডাকলেন না। ভাল স্ক্রিপ্ট হলে কেন করব না!

প্রশ্ন : সত্যি?
কোয়েল : অশোক ধানুকাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন...

প্রশ্ন : এত বছর হয়ে গেল, ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে স্রেফ গ্ল্যামারাস নায়িকা করেই রেখে দিল। মাঝে মাঝে রাগ হয় না?
কোয়েল : আমি তো খুব প্ল্যান করে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসিনি, তাই ইন্ডাস্ট্রির কাছে আমার খুব একটা এক্সপেকটেশনও নেই। প্রথম যখন ছবি করতে এলাম, বাবার ইমেজের কথাই মাথায় ছিল, যাতে আমার জন্য কোনও ভাবে বাবাকে না কথা শুনতে হয়। নিজের কথা তখন সত্যি ভাবিনি। প্রথম প্রথম আমি নিজেকেই তো নিজে টলারেট করতে পারতাম না, ইন্ডাস্ট্রি কী ভাবে পারবে...

প্রশ্ন : সে তো প্রথম প্রথম... কিন্তু দশ বছর পর মানে এখন?
কোয়েল : (হাসি) না না, এখন পারি। কিন্তু ওই যে বললাম- ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আমার কোনও অ্যাটাচমেন্ট নেই। তাই রাগ-টাগও আসে না। ইন্ডাস্ট্রি আমাকে যা দিয়েছে, আমি তাতেই খুশি। অন্যের প্লেটে তিনটে মিষ্টি আছে বলে আমি হামলে পড়তে পারব না।
এমন সময় মেক-আপ ভ্যানের দরজায় ঠক ঠক। দরজা খুলতেই একজন বলল ‘দিদি,শট রেডি’। অগত্যা কোয়েলের সঙ্গে কথাও আপাতত এখানেই ফুরোল।

কাজিনদের দল ভারি করতে আসছেন আরমান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

কাজিনদের দল ভারি করতে আসছেন আরমান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 বলিউডে কাজিনদের একটা বিরাট সার্কেল গড়ে উঠেছে। যেমন পরিনীতা-প্রিয়াংকা চোপড়া, সোনম-অর্জুন কাপুর, কাজল-রাণী মুখার্জি, কারিনা-রনবীর কাপুর, ফারাহ্-সাজিদ খান, ফারদিন-জায়েদ খান সহ আরো অনেকে আছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আসছেন কারিনার আরেক কাজিন আরমান।
 
বলিউডে মনে হয় না ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কোনো ফ্রেশ লুকের আর জায়গা হবে। জায়গা হলেও সংখ্যাগরিষ্টের দাপটে তাদের টেকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। যে হারে একের পর এক সেলিব্রেটিদের পরবর্তী প্রজন্ম বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকে পড়ছে! এক কাপুর বাড়ির সব সদস্যদের সন্তান-সন্ততি যদি একে একে বলিউডে এসে দাঁড়ায় তবে বলিউড টইটুম্বুর হয়ে যাবে।
 
যাই হোক খানদানকে আগে বাড়াতে এবার আসছেন কারিনার ফুপাতো ভাই আরমান। ফুপু রিমা ও ফুপা মনোজ জৈনের পূত্র আরমান জৈন। আরমানকে বলিউডে অভিষেক ঘটানোর কাজটি করছেন হবু বোন জামাই সাইফ আলি খান। বয়স ২০ এর নিচে কিন্তু এরই মধ্যে আরমার ‘এক মে অর এক তু’ ছবির সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করে ফেলেছেন।
 
এক মে অর এক তু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর। ওই ছবির পরিচালনা কাজ করার সময়েই আরমানের মনে ভেতর অভিনয়ের ইচ্ছাটা জাগ্রত হয়। বলি বলি করতে করতে বোন কারিনাকে বলেও ফেলেন। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাইফের পরবর্তী ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে যান আরমান। বোনের শক্ত বাহু ধরে বড় প্রোডাকশনের ব্যানারে আরমান ভানো মতোই এগিয়ে যাবেন বলে আশা করছেন সমালোচকরা। সুত্র: টাঅই

সুস্বাস্থের জন্য পরিমিত লবণ গ্রহণ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

সুস্বাস্থের জন্য পরিমিত লবণ গ্রহণ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

 রুপকথার গল্প থেকে আমরা জেনেছি লবণ ছাড়া রান্না করা খাবারের কোনো স্বাদ নেই রাজার মুখে।তাই ছোট রাজকুমারীর ‘লবণের মতো ভালোবাসাই আসলে প্রকৃত ভালোবাসা’।
 
শরীরবৃত্তিয় প্রয়োজনে পরিমিত মাত্রার খাবার লবণের যেমন দরকার তেমনি অতিরিক্ততা গুরুতর ক্ষতিরও কারণ।অধিক পরিমাণে খাবার লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেই সুস্বাস্থ্য অর্জন করা যায়।
 
প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যে লবণ খাবার রান্নার মশলা হিসেবেই সমাদৃত।খাবার তৈরিতে লবণ খাবারকে সুস্বাদু করে, উপযুক্ত সিদ্ধ বা নরম করে, পচন রোধ করে।খাবার সংরক্ষণ করতেও (মাছ/মাংশ শুঁটকি হিসেবে) লবণ কাজে লাগে।রান্নার লবণ ও খাবার পাত্রে আলগা লবণ আমাদের জন্য লবণের মূল উৎস।এছাড়াও সব ধরণের তৈরি খাবার (হোটেলের তৈরি নাস্তা/ফাস্ট ফুড প্রভূতি), কৌটার সংরক্ষিত খাবার, সকল কোমল পানীয়, শাকসবজি ও ফল থেকেও আমরা লবণ গ্রহণ করি।
 
খাবার লবণ বলতে আমরা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইড যৌগটিকেই বুঝি।বিট লবণ বা সোডিয়াম হাইপো ক্লোরাইটও বিশেষ কিছু খাবার তৈরিতে কাজে লাগে।শাকসবজি ও ফল থেকে আমরা লবণ পাই পটাশিয়াম-এর যৌগ হিসেবে।

জানা যায়, একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ গ্রাম সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রয়োজন।যদিও আমরা বাংলাদেশীরা প্রতিদিন গড়ে ১৬-১৭ গ্রাম সোডিয়াম ক্লোরাইড গ্রহণ করি।প্রতিদিন ইংল্যান্ড এবং আমেরিকাবাসীরা গড়ে ৯-১০ গ্রাম, চীন এবং জাপানবাসীরা গড়ে ১২-১৪ গ্রাম সোডিয়াম ক্লোরাইড গ্রহণ করে।
 
প্রতিদিন লবণের পরিমাণ বিষয়ে ডাক্তাররা দৈনিক সর্বোচ্চ ৬ গ্রাম এর বেশি কখনোই গ্রহণ করা উচিত নয় বলে মতামত দিয়েছেন। সারা বিশ্বজুড়ে গবেষণাকৃত শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের দ্বারা এই বিষয়টি প্রমাণিত যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে।উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক।কারণ এর সুনির্দিষ্ট শারীরিক লক্ষণ নেই।শুধুমাত্র অতিরিক্ত লবণ সেবনই আপনাকে ঠেলে দেবে উচ্চ রক্তচাপ জনিত অধিকতর গুরুত্বর স্বাস্থ্য সমস্যা-হূদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও স্থায়ী কিডনি রোগের দিকে।এছাড়াও পাকস্থলীর ক্যান্সার, কিডনিতে পাথর, অস্থি ক্ষয়রোগ, অতিরিক্ত ওজন, স্মৃতিশক্তি হ্রাস প্রভৃতি রোগের ঝুঁকি অতিরিক্ত লবণ সেবনের দ্বারা বৃদ্ধি পায়।
 
শুধু পরিমিত লবণ সেবন করলেই বিনা খরচেই এইসব রোগের ঝুঁকি থেকে বেঁচে থাকা যায়।উদাহরণ হিসেবে, হিমালয়ের পাদদেশের কিছু গ্রামের মানুষের কথা বলা যায়।তারা লবণ সেবন করেন না বলে তাদের উচ্চ রক্তচাপও হয় না।

তাই এখন থেকেই খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ না করার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। যেমন রান্নাতে অল্প লবণ ব্যবহার করা, ঘরের বাইরে তৈরি খাবার (হোটেলের তৈরি নাস্তা/ফাস্ট ফুড প্রভূতি) যতদূর সম্ভব পরিহার করা, কৌটায়/প্যাকেট এ সংরক্ষিত খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া, সব ধরণের সস, পনির ও কোমল পানীয় কম পরিমাণে গ্রহণ করা এবং প্রতিদিনের খাবারে শাক সবজি ও কাঁচা ফল রাখা।

আশার কথা এই যে, যেহেতু লবণের সোডিয়াম উপাদানটিই বেশি ক্ষতি করে, তাই লবণ থেকে সোডিয়ামকে সরিয়ে এসকরবিক এসিড বসানোর জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এতে লবণের স্বাদ ঠিক থাকবে কিন্তু ক্ষতি হবে না। সূত্র: ইন্টারনেট

আওয়ামী লীগের ভাষায় জবাব দেবে বিএনপি: খালেদা জিয়া

আওয়ামী লীগের ভাষায় জবাব দেবে বিএনপি: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবেই হবে। আর এ দাবি আদায়ের আন্দোলন দমনে সরকার যে ভাষায় কথা বলবে সে ভাষায়ই জবাব দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে এ হুশিয়ারি দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ মনে করছে বিএনপি কঠোর কর্মসূচি দেবে। সে সুযোগে তারা রাস্তায় মারামারি করে বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে মামলা ঠুকে দেবে, আর বিএনপি নেতা-কর্মীদের জেলে ভরবে। কিন্তু সরকারকে আর সে সুযোগ দেয়া হবে না ।’’

‘আওয়ামী লীগ যতোই বলুক তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না’  সাফ জানিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘তারা যতোই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চাক, তাদের অধীনে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। আর সে নির্বাচনে বিএনপি যোগ দেবে।’’

‘বিকল্প কোনো উপায়ে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা এমপি থাকবে, মন্ত্রী থাকবে, প্রধানমন্ত্রী থাকবে, পার্লামেন্ট থাকবে এমন নির্বাচনে বিএনপি যোগ দেবে না।’’

বিএনপি হত্যা-গুমের রাজনীতি বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ‘‘জনগণের জন্য বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে বিশ্বাস করে। সে কারণেই জনগণের ক্ষতি  হয় এমন কর্মসূচি দেয়া হয় নি।’’

বেগম জিয়া সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়ার কারণে বিএনপিকে দুর্বল মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ স্বৈরাচারী এরশাদের সময় বিএনপি নেতাদের আটক করে জেলে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিলো। তখন সারা দেশে বিএনপি এতো শক্তিশালী ছিলো না। তারপরও আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো বিএনপি।

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী দল। সারাদেশে অসংখ্য নেতা-কর্মী ছড়িয়ে আছে। তাই আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে, তাদেরকে সে ভাষায়ই জবাব দেওয়া হবে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘প্রতিনিয়ত দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ অবস্থা অনেক ভালো যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি উটপাখির মতো মুখ লুকিয়ে রেখেছেন? তিনি দেখেন না সারাদেশে কিভাবে গুম-হত্যা চলছে। আইন-শৃংখলা চরম অবনতির কারণে মানুষ ঘরের মধ্যেও নিরাপদে ঘুমাতে পারছেন না।’’

আওয়ামী লীগ লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় থাকতে চায় এমন  মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করতে চায়। আমাদের আমলে আওয়ামীলীগ  ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিলো। আর বর্তমান সরকারের গত চার বছরে বিএনপি মাত্র ১১ দিন হরতাল দিয়েছে।’’

 ‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়। তাই বিএনপি তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করতে চায়। তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়তে চাই।’’

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামীলীগ হলো একটি দুর্নীতিবাজ দল। ৭১ এর পর এ দলটি এ দেশে দূর্নীর্তির বীজ বপন করে। ৯৬ সালে বিশ্বে বাংলাদেশ দূর্নীতিতে এক নম্বর হয়েছিল।”

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন ও উত্তরের আহবায়ক ইয়াছিন আলী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আববাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, বিরোধীদলীয় চীফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক ও এনপিপির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সফিউল বারি বাবু ।

এর আগে বিকাল ৫টা ৫১ মিনিটে মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পৌঁছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সমবেত নেতা-কর্মীরা তুমুল করতালির মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। পরে মঞ্চে আসন নিলে তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর প্রক্কালে নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর জন্য সবার কাছে দোয়া চায় তার একমাত্র মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল।
 

সোনালী ব্যাংকে লুটপাটের জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন

সোনালী ব্যাংকে লুটপাটের জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন


 জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, “সোনালী ব্যাংকের তিন হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের ব্যাপারে সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এর জবাব চাইবে মানবাধিকার কমিশন।” এছাড়া কলেজছাত্র লিমনের ব্যাপারে সরকার হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করেছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড. মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে কমিশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
রংপুর জেলা প্রশাসকের হলরুমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘ওয়ার্কিং টুগেদার ফর দ্যা প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস’ বিষয়ক অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।
 
এ সময় তিনি বলেন, “সোনালী ব্যাংকের তিন হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্র যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাইবে কমিশন।”
 
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের এ বিষয়ে চিঠি দেয়ার অধিকার নেই বলে কি এসব টাকা রাষ্ট্রায়ত্ব একটি ব্যাংকের হিসাব থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এর কোনো প্রতিকার কি হবে না।”
 
কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “ভুল হলে তা শুদ্ধ করে নেয়ার প্রবণতা আমাদের কম। কলেজছাত্র লিমনের ব্যাপারে ভুল হয়েছিল। সেটি স্বীকার করলেই হতো। কিন্তু তা করা হয়নি। একটি ভুলকে ঢাকার জন্য হাজার ভুল করা হচ্ছে।”
 
তিনি বলেন, “হাই কোর্ট রাষ্ট্রকে কলেজছাত্র লিমনের চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র সেই নির্দেশ মানেনি। তার কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে।”
 
মিজান বলেন, “রাষ্ট্রই যখন হাই কোর্টের নির্দেশ মানে না তখন পেশিশক্তি সন্ত্রাসী প্রভাবশালীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যেমনটি হয়েছে সোনালী ব্যাংকে।”
 
তিনি বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বলেন, “সব অপরাধে মানবাধিকার লঙ্ঘিন হয় না। কিন্তু কোনো অপরাধের সঙ্গে যদি রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের কোনো এজেন্সি, সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নীতিনির্ধারক জড়িত থাকে তবে সেটাই মানবাধিকার লঙ্ঘন।”
 
কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এখন জনবল ১২ জন। এরমধ্যে সরকারের দেয়া হচ্ছে চার জন। বাকি থাকে মাত্র আটজন। যারা কমিশনে বুদ্ধিবৃত্তিক কন্ট্রিবিউশন দিতে পারি। মাত্র আট জন জনবল নিয়ে ১৬ কোটি মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখভাল করা সম্ভব নয়। আপনারা আমাদেরকে গালমন্দ করুন। গালিগালাজ করুন। আমাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করুন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”
 
তিনি সরকারের কাছে কমিশনের জনবল বাড়ানোর ব্যাপারে সব স্তর থেকে দাবি তোলার আহ্বান জানান।
 
এ সময় কমিশনের কর্মকর্তা, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি বিনয়কৃষ্ণ বালা, ডিসি ফরীদ আহাম্মদসহ জিও এনজিও, স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী ব্যাংক প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা টিআইবি’র

সোনালী ব্যাংক প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক  ও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা টিআইবি’র

 বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি এর নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে এরূপ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও পরীবিক্ষণে কলঙ্কময় দুর্বলতার প্রমাণ। অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ প্রকারান্তরে রাষ্ট্রক্ষমতা করায়াত্ত করে দুর্নীতি প্রসারের আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত বহন করছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর দ্বান্দ্বিক অবস্থান দুঃখজনক। এটা একদিকে যেমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পক্ষে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব অবিলম্বে দূর করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি বা করুণার প্রভাবমুক্ত হয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানায় টিআইবি।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত

হলমার্ক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত

 হলমার্ক গ্রুপকে অনিয়ম করে ঋণ দেয়ার অভিযোগে ১৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাষ্ট্রীয় সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনালী ব্যাংকের জিএম ও এর অধস্তন পদের এই ১৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন।  
 
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের ঋণ সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য প্রকাশিত হবার পর এ সিদ্ধান্ত এলো।
 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে ডিজিএম ও তার নিচের পদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এর উপরের পদের কর্মকর্তার বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নিতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দরকার হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন হোটেল) শাখা থেকে ২০১০-২০১২ সময়ে মোট ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ একাই আত্মসাৎ করেছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

এছাড়া এই ব্যাংকের গুলশান ও আগারগাঁও শাখা থেকেও ১৪০ কোটি টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ঋণসীমার অনেক বেশি।

এই ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবিরসহ মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই জন ডিএমডি ও পাঁচ জন জিএম ছিলেন।

পদ্মা সেতু হবেই, এডিবি’র আশাবাদ

পদ্মা সেতু হবেই, এডিবি’র আশাবাদ

 বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পদ্মা সেতু, নির্মাণ হবেই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সাউথ এশিয়া জোনের মহাপরিচালক জুয়ান মিরান্ডা।
 
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
 
এর আগে বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাও পদ্মা সেতু হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করায় আমেরিকা হতাশ হয়েছে। তবে সরকার ও বিশ্বব্যাংক একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা আনন্দের বিষয়। দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আমেরিকা আশাবাদী।”
 
পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক গত জুন মাসে সরে গেলেও প্রকল্পের অংশীদার এডিবি ও জাইকা তাদের ঋণচুক্তির মেয়াদ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ায়। প্রকল্পটি রাখতে হলে এই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে সরকারকে।
 
ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে ২৯০ কোটি ডলারের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার দেয়ার চুক্তি ছিল৷ বাকি অর্থের বেশিরভাগ দেয়ার চুক্তি করে এডিবি, আইডিবি ও জাইকা৷

এডিবি সুখবর দিয়েছে, জাইকাও দেবে: অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

এডিবি সুখবর দিয়েছে, জাইকাও দেবে: অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

  এডিবি’র (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হুয়ান মিরান্ডা’র সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দাবি করেছেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন অর্থায়নকারী এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের ব্যাপারে জাইকা’ও (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) সুখবর দেবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হুয়ান মিরান্ডা। তিনিও সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতু হবে।

দুপুরে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে এডিবির সুখবর তো আপনারা পেয়েছেন। কাল জাইকারটাও পেয়ে যাবেন।”  অর্থমন্ত্রী প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “পদ্মা সেতু হবেই হবে’’।

প্রসঙ্গত, পদ্মা প্রকল্পে এডিবির ঋণচুক্তির মেয়াদ আগামীকাল শেষ হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিবাচক সাড়া পেয়ে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্নীতির অভিযোগে বাতিলকৃত ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনায় সেতু প্রকল্পটিতে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতেও আলোচনা এখনো চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটা নাজুক দরকষাকষি (ডেলিকেট নেগোসিয়েশন) করছি। এই রকম অবস্থায় আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’’

এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি।  ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে- জানতে চাইলে মুহিত বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে আরো এক মাস সময় পেল সরকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে আরো এক মাস সময় পেল সরকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তির মেয়াদ আরো এক মাস বাড়িয়েছে এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা)। বৃহস্পতিবার বিকেলে দাতা সংস্থা দুটি এই মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেয় বলে জানিয়েছেন ইআরডি’র (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সংশ্লিষ্ট একজন সচিব।
 
এর আগে দুপুরে এডিবি’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হুয়ান মিরান্ডা’র সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দাবি করেছেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন অর্থায়নকারী এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের ব্যাপারে জাইকা’ও সুখবর দেবে।
 
সেতু প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংক গত জুনে তাদের ঋণ চুক্তি বাতিলের পর গত এডিবি ও জাইকার ঋণচুক্তির মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রথম দফায় চুক্তির মেয়াদ এক মাস বাড়ায় সংস্থা দুটি, এখন দ্বিতীয় দফায় আরো এক মাস বাড়ালো তারা।
 
ঋণ এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আরো এক মাস সময় পাবে সরকার।
 
তবে প্রকল্পটিতে দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণকে যথেষ্ট মনে করছে না বিশ্ব ব্যাংক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিবকেও পদত্যাগ করতে হবে বলে অনড় অবস্থানে আছে বিশ্ব ব্যাংক। সেতু প্রকল্পটিতে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি মনে করে এরা সরকারি পদে থাকলে দুর্নীতি তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।
 
সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন।
 
ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যেই দুইটি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।
 
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া- এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলেও এখনো বাকি আছেন দুজন। এদের একজন; সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া’র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে’র চেয়ারম্যান পদে দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত পালিত হয় নি।
 
বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আরো আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। উপদেষ্টা জানিয়েছেন কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে তেহরান যাবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে গেছেন, এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন।
 
এদিকে দুপুরে মন্ত্রিসভার একটি কমিটির বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে এডিবির সুখবর তো আপনারা পেয়েছেন। কাল জাইকারটাও পেয়ে যাবেন।”  অর্থমন্ত্রী প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “পদ্মা সেতু হবেই হবে’’।
 
বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতেও আলোচনা এখনো চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটা নাজুক দরকষাকষি (ডেলিকেট নেগোসিয়েশন) করছি। এই রকম অবস্থায় আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’’

এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি।  ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে- জানতে চাইলে মুহিত বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।

Monday, August 27, 2012

লক্ষ্মীপুরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে, ৯ লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে, ৯ লাশ উদ্ধার

 চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ-রামগঞ্জ সীমানার কাটাখালিতে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে গভীর খাদে পড়ে একই পরিবারের পাঁচজনসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে পাঁচজন। চারজন সাঁতরিয়ে তীরে উঠেছে। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জয়নাল (৪০), মেয়ে রহিমা (১০), স্ত্রী নাসিমা (৩৫), ভাগ্নি রাজিয়া (২০), আমেনা (৪০), মনোয়ারা (৫৫), তামান্না (১৩), তসলিমা (৩৫) ও নাসিমা (৪৫)। নিহতরা কনের আত্মীয়স্বজন।

ডুবন্ত মাইক্রোবাস থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাকি লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মাইক্রোবাসে ড্রাইভারসহ ১৮জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।

জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের নাড়িকেলতলা থেকে বৌ-ভাত খেয়ে দু’টি মাইক্রোতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের নোয়াগাঁওতে মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একটি মাইক্রো এ দুঘর্টনায় পড়ে। তবে বর কনে ভালো আছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং হতাহত পরিবার সদস্যদের সমবেদনা জানান। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নারিকেলতলা পাটওয়ারীর বাড়ির মরহুম মান্নান পাটওয়ারীর ছেলে মহসিন পাটওয়ারীর সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার নোয়াগাঁও মিজি বাড়ির হাফেজ আহমেদ মিজির মেয়ে কুসুম আক্তারের (মুক্তা) সম্প্রতি বিয়ে হয়।

এম্পায়ার স্টেটের আহতরা সবাই পুলিশের গুলিবিদ্ধ

এম্পায়ার স্টেটের আহতরা সবাই পুলিশের গুলিবিদ্ধ

দিন কয়েক আগে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শহর ইউইয়র্কের এম্পায়ার স্ট্রিটে হঠাৎ অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে মাথা গরম এক ব্যক্তি। তাকে দমাতে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশও গণহারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। দেশটির অন্যতম ওই পর‌্যটন এলাকাটিতে মূহুর্তের শুরু হয় লংকা কাণ্ড। পুলিশের গুলিতে ওই বন্দুকধারীসহ সহ অপর এক ব্যক্তি নিহত হয়। আহত হয় অপর ৯ জন।

শনিবার আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভয়ংকর ওই বন্দুকধারী গুলি করে কারো ক্ষতি করতে পারেনি। যে ৯ জন আহত হয়েছে তারা সবাই কোনো না কোনো ভাবে পুলিশি একশনের শিকার। ছয়জন সরাসরি পুলিশের গুলেটের শিকার হয়েছেন। বাকিরা আহত হয়েছেন বিভিন্নভাবে।
আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের গুলিবর্ষণ খুবই কদাচিত ঘটনা। ১৪ বছর আগে সর্বপ্রথম নিউ ইয়র্ক পুলিশ এধরনের সমস্য মোকাবেলায় কথিত হলো পয়েন্ট বুলেটের গুলি বর্ষণ শুরু করে।

গত শুক্রবার পুলিশের গুলিত আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিন জনের অবস্থা এখনও আশংকাজনক। সূত্র: রয়টার্স।

হায়দারাবাদ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস পরাজয়


 শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানেই ভারতের কাছে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হারল সফরকারী নিউজিল্যান্ড। কেবলমাত্র বৃষ্টি অথবা কিউই ব্যাটসম্যানদের অতিমানবীয় ইনিংসই এই টেস্টে পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারত সফরকারীদের। কিন্তু এর কোনোটাই ঘটেনি। কিউইদের বিপক্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেবার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নিউজিল্যান্ডের ছয়জন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান এই স্পিনার। তার ঘূর্ণিবলে ইনিংস এবং ১১৫ রানের জয় নিয়ে দুই টেস্ট সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। মাত্র ২৬ রানে শেষ সাতটি উইকেটের পতন ঘটলে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে। চা বিরতির সামান্য পরেই একদিনেরও বেশি সময় বাকি থাকতে জয় পায় ভারত।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অশ্বিনের বোলিংটাই একজন ভারতীয়র সেরা রেকর্ড। তিনি ৮৫ রানের বিনিময়ে ১২টি উইকেট শিকার করেন। তার আগের সেরা বোলিং ফিগার ছিল এস ভেংকটরাঘবনের। তিনি ১৪০ রানে সমসংখ্যক উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন।

প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে ছয় উইকেট শিকার করা তামিলনাড়ুর স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে শিকার করেন ছয় উইকেট। আরেক স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝাও প্রথম ইনিংসে শিকারের সমানসংখ্যক উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন।

স্পিনারদের বিপক্ষে কিউই ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতাটা প্রকটভাবে প্রমাণিত হলেও দিনের প্রথম সেশনটায় স্বাগতিক বোলারদের হতাশ করেছিলেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং কেন উইলিয়ামসন।

উমেশ যাদব ভাঙেন ৭২ রানের এই জুটি। এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। টেস্ট ম্যাচের একদিনেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই ৩৪.৪ ওভারে নয়টি উইকেটের পতন ঘটে।

চা বিরতির সময়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ছয় উইকেটে ১৪৬ রান। বিরতির পর ২৫ মিনিটের মধ্যে কিউই ব্যাটিং লাইনআপের লেজটা গুটিয়ে দেন দুই স্পিনার।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ ব্যবধানে পরাজয় এবং রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মনের অবসরের পর নয় মাসের মধ্যে এটাই ভারতের প্রথম টেস্ট জয়।

ভারতের এই বিশাল জয়ে আম্পায়ারের ভূমিকাও কম নয়। দিনের প্রথম সেশনে কোনো সাফল্য না পাওয়া ভারতীয় শিবির মধ্যাহ্ন বিরতির পর আম্পায়ার স্টিভ ডেভিসের একটা বাজে সিদ্ধান্তে প্রথম সাফল্য পায়। উমেশ যাদবের বল ম্যাককালামের প্যাডে আঘাত করার আগে ব্যাটের কানায় লাগলেও ভারতীয় ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেন স্টিভ ডেভিস। প্যাভিলিয়নে ফিরে আসার সময় রাগে এবং অবিশ্বাসে ম্যাককালামকে মাথা নাড়তে দেখা গেছে। ম্যাককালাম এবং উইলিয়ামসন এই দুজনে ৩০.৩ ওভার পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের ঠেকিয়ে রেখেছিলেন।

ম্যাককালামের পর সাত রান করা অধিনায়ক রস টেলর দ্বিতীয় ইনিংসে অশ্বিনের প্রথম শিকারে পরিণত হন। আহমেদাবাদে দুই বছর আগে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো উইলিয়ামসন এবং ফ্লিন একটা বড় পার্টনারশিপ গড়ার পথে এগোচ্ছিলেন। উইলিয়ামসন হাফ সেঞ্চুরি করার পর ধৈর্যহারা হয়ে প্রজ্ঞান ওঝার দ্বিতীয় শিকার হিসেবে বীরেন্দর শেবাগের তালুবন্দি হন।

পরপর দুই ওভারে ফ্লিন এবং জেমস ফ্রাংকলিনকে অশ্বিন ক্রিজছাড়া করলে ভারতের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়াটা হয়ে দাড়ায় সময়ের ব্যাপারমাত্র। অশ্বিনকে খেলাটা ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিল। তিনি ম্যাচে নিজের দশম উইকেট হিসাবে শিকার করেন ভ্যান উইককে।

ম্যাচ জিতলেও ভারতের জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে। এই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান চেতেশ্বর পূজারা ফিল্ডিং করার সময়ে ডান হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। একই স্থানে গত বছর লন্ডনে তার একটা অপারেশন হয়। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে পূজারা মাঠ ছাড়েন। তিনি আর ফিল্ডিং করতে না নামলেও ইনজুরিটা খুব বড় কিছু নয় বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল: জুনায়েদ সিদ্দিকী

বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল: জুনায়েদ সিদ্দিকী

 ঈদের ছুটির পর রোববার অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে অনুশীলন করলেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সকল প্রস্তুতি মূলত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য। ৩১ আগস্ট বিসিবি একাদশের অন্তরালে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো যাবেন চার জাতি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে তা ওই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যই।

ক্রিকেটারদের অঙ্গভঙ্গি দেখে বোঝা যায় ঈদের পর ছয়দিনের শেষ প্রস্তুতিটাকে সিরিয়াসভাবেই নিয়েছেন তারা। প্রত্যেক ক্রিকেটার পুরোদস্তুর পেশাদারিত্ব দেখালেন পাইবাসের অধীনে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা চলে অনুশীলন পর্ব। আজও উপস্থিত প্রধান নির্বাচক আকরাম খান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ভার্সনে এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি বাংলাদেশ। টি২০ বিশ্বকাপে কেমন করবে বাংলাদেশ? সেটাই তো এখন বড় প্রশ্ন।

তাইতো ওপেনরা জুনায়েদ সিদ্দিকের বক্তব্যও স্পষ্ট ‘চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত’। তিনি অনুশীলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “পুরোপুরিভাবেই সেরে নিচ্ছি। আমি চেষ্টা করছি নিজের উন্নতি ঘটনোর। দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই ভালো কিছু পারফর্ম করে জায়গা নিশ্চিত করবো।”
 
আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওপেনার হিসেবে তামিমই একমাত্র ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে। আমি মনে করি দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল। প্রত্যেকে যদি যে যার জায়গা থেকে ভালো কিছু করতে পারে তবে সাফল্য পেতে কষ্ট হবে না।”

আগামী ৩১ আগস্ট দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়ে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের খেলা শেষ করে দেশে ফিরবে। বিশ্বকাপ ভেন্যুতেও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ অংশ নেবে ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের খেলা খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই পরাশক্তির যেকোনো একটিকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার টিকিট মিলবে মুশফিকদের।

ইবনে সিনাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা




পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে ঔষধ কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন করার অপরাধে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার ইবনে সিনা গ্রুপের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান আখন্দ স্বাক্ষরিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে রোববার ওই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ বছর যাবত কারখানার উৎপাদন কাজ চালু থাকলেও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদন নেয়নি কর্তৃপক্ষ। রোরবার পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মুনীর চৌধুরী কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিবেশ আইন অমান্য করার অপরাধে এ অর্থ আদায় করেন।
সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের গাজীপুর অফিসের একটি টিম কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালালে এ ঘটনা জানতে পারে। পরিদর্শন টিম গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত কারখানায় গেলে কারখানার কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেন এবং তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর আবু নাসের মো. আবদুজ জাহের রোববার পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)-এর কাছে লিখিত এক আবেদনে এ ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। কোম্পানির পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার ও কোম্পানির সেক্রেটারি মো. শহীদ ফারুকি, প্ল্যান্ট ম্যানেজার ড. রফিকুল হক, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার আব্দুল খালেক ও ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী মমতাজুল করিম পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এর নিকট শুনানীতে হাজির হয়ে পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীনভাবে কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় তারা এ ঘটনাকে নিতান্তই তাদের অজ্ঞতা বলে স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, ১৩ একর আয়তনের জমিতে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস-এ ১৬৮ ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি হিস্টামিন, অ্যান্টি আলসারেন্ট, অ্যান্টি পাইরেটিকসহ বিভিন্ন ধরণের তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, ১৮ বছর ধরে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেআইনীভাবে চালানো- পরিবেশ আইন অমান্যতার এক নজিরবিহীন ঘটনা। তাই এ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছে। যাতে সবক্ষেত্রে পরিবেশ আইন প্রতিষ্ঠিত হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সকল তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কোনো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায় না, কিন্তু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চায়। পরিবেশকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করে বিনিয়োগ করার দিন আর নেই। পরিবেশই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার উপযুক্ত।

ইন্দোনেশিয়ায় বিরল প্রজাতির গণ্ডারের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ায় বিরল প্রজাতির গণ্ডারের সন্ধান

  ইন্দোনেশিয়ার একটি জাতীয় পার্কে  গোপন ক্যামেরা দিয়ে বিরল প্রজাতির সাতটি সুমাত্রীয় গণ্ডারের চিত্র ধারণ করা হয়েছে। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট লিউসার ন্যাশনাল পার্কে গত ২৬ বছরে এ প্রজাতির কোনো গণ্ডার  দেখা যায়নি এবং এ  সব গণ্ডার বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল। লিউসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্পের দলনেতা তারমিজি এ কথা জানান।

গত বছরের জুন থেকে এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এ পার্কে ২৮টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরায় তোলা ১০০০টি ছবিতে ছয়টি মাদী এবং একটি মর্দা সুমাত্রীয় গণ্ডার দেখা গেছে।

তারমিজি বলেন, লিউসার জাতীয় পার্কে যে সুমাত্রীয় গণ্ডার আছে তা নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে এই সব ছবি। আর এ কারণে বিরল প্রজাতির এ গণ্ডার প্রজাতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা আরো জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ২০ বছরে সুমাত্রীয় গণ্ডারের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে এ ধরনের অনূর্ধ্ব ২০০ গণ্ডার টিকে আছে বলে মনে করা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণ্ডার অবৈধ শিকারীদের হাতে প্রাণ হারায়। গণ্ডারের শিংসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্তিবর্ধক নানা কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, অবৈধভাবে বন-জঙ্গল উজাড় করায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গণ্ডারের আবাসস্থল। সূত্র: আইআরআইবি

আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ

আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ

আজ সোমবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে নেটিজেনদের আরাধ্য দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ। সমুদ্রতলদেশের পর এবার এই সংযোগ রচিত হচ্ছে স্থলপথে। ভারত-বাংলাদেশ এর মধ্যবর্তী সীমান্ত পথ বেনাপোল দিয়ে আগামী মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ।

বাংলাদেশের পক্ষে স্থলপথ ইন্টারনেট সংযোগের এই কারিগরি কাজ করছে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন (বিডি) লিমিটেড। আর অপরপ্রান্তে রয়েছে ভারতীয় ক্যাবল কোম্পানি টাটা কমিউনিকেশন। গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে উভয় কোম্পানির মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন (বিডি) লিমিটেড নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মাদ হেলাল জানান, ইতিমধ্যেই বেনাপোল দিয়ে ক্যাবল সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে এসটিএম-৬৪ পয়েন্ট। সোমবার থেকে সংযোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। আর সব ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আইটিসির মাধ্যমে ভয়েস, ভিডিও এবং তথ্য সেবা একত্রিত ভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় এই ইন্টারনেট ক্যাবল সংযোগে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট সমর্থন করবে।

একই বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ জানান, ‘কল সেন্টারগুলোর জন্য দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যাকআপ অত্যন্ত জরুরী হয়ে গিয়েছিল। ইন্টারনেটের এই স্থলপথ সংযোগটি নিঃসন্দেহে সময়োপোযোগী ও যুগান্তকারী। এর ফলে দেশে ব্যান্ডউইথ মূল্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দেশের কল সেন্টারের জন্য। একইসাথে  দেশের ব্যান্ডইউথের দাম কিছু কমে যাবে।’

এদিকে বিটিআরসি সম্প্রতি আইসিটি কোম্পানিগুলোকে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের মত পার্শ্ববর্তী দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করার অনুমোদন প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা।

অপরদিকে গত এপ্রিলে ভারত সরকার বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরা এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে সংযোগ দেবার জন্য 'ভার্চুয়াল ট্রানজিট' সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এর টেলিযোগাযোগ সেবা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন তারের মাধ্যমে বিশ্বের সাথে সংযুক্ত ছিল। ফলে সি-মি-উই ৪ এ কোনো সমস্যা দেখা দিলেই দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ধ্বস নামত।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে আইটিসি লাইসেন্স দেয়া হয়।

অসাধারণ কিছু শিশু-কিশোর চলচ্চিত্রের কথা

অসাধারণ কিছু শিশু-কিশোর চলচ্চিত্রের কথা


বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় এবং মুক্তিও পায়। কতগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায় সেটা আলোচনার বিষয়। আমাদের দেশে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কিংবা তাদের লক্ষ্য করে তেমন কোনো ছবি নির্মিত হয় না। পরিচালকদের প্রবল অনীহা এই বিভাগ নিয়ে কাজ করতে। তবে একেবারেই যে নির্মিত হয়নি তাও কিন্তু নয়। না না করতে করতেই অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য ছবি নির্মিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্যে নির্মিত অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্রের কথা এখানে তুলে ধরা হলো।
 
ছুটির ঘণ্টা
আজিজুর রহমান পরিচালিত ও সত্য সাহার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবি ১৯৮০ সালে মুক্তি পায়। অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, খান আতাউর রহমান, সুজাতা ও মাস্টার সুমন। স্কুল ঈদের ছুটি হবে। খোকন ঈদের ছুটিতে এবার নানা বাড়িতে বেড়াতে যাবে। যথাসময়ে স্কুল ছুটি হলো। খোকনের গাড়ি আসতে আজ দেরি হচ্ছে। প্রকৃতির ডাকে খোকন বাথরুমে যায়। ছাত্ররা সবাই বাড়ি চলে গেছে এই ভেবে স্কুলের দফতরি বাথরুমের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। অনেক চিৎকার করেও খোকন কাউকে পায় না তাকে সাহায্য করবার মতো। এরপর চোখে পানি চলে আসার মতো নানা অমানবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। দীর্ঘ ১০ দিন পর অনাহারে কষ্ট সহ্য করে শেষ পর্যন্ত শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
 
আমার বন্ধু রাশেদ
মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি আমার বন্ধু রাশেদ। ২০১১ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। জনপ্রিয় কল্পকাহিনী লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে আমার বন্ধু রাশেদ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাওয়াতা আফনান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, হুমায়রা হিমু, পারভেজ মুরাদ প্রমুখ শিল্পী।
 
এই ছবিটি মুক্তিযুদ্ধর পটভহতিতে নির্মিত। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করবার জন্য এক কিশোরের মন কিভাবে আন্দোলিত হয়েছে সেই চিত্র ফুটে উঠেছে ছবির কাহিনীতে। স্কুলের কয়েকজন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি এক মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে। যুদ্ধ শেষ হলে একসময় সবাই টের পায় রাশেদ নেই। কিন্তু সবার অন্তরে সে অমর হয়ে রয়।
 
রামের সুমতি
১৯৮৬ সালে নির্মিত হয় রামের সুমতি। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন শহিদুল আমিন এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, ফারুক ও মাস্টার জয়। একটি কিশোরের দুর্দান্ত দুষ্টুমির কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই ছবি। দাদা-বৌদির কাছে বড় হচ্ছে কিশোর ভাই জয়। পাড়া-পড়শির বাগান ও ক্ষেতে কোনো ফল ফলাদি থাকে না। এর বাড়িতে এটা উধাও তো ওর বাড়ি থেকে সেটা। এই করেই দিন যায় জয়ের।
 
প্রতিদিন দাদা-বৌদির কাছে গণ্ডায় গণ্ডায় নালিশ আসে। সালিশ দরবার করতে করতে তাদের জীবন অতিষ্ট। সেই দুষ্টু কিশোর ভাইটি একসময় তার ভুল বুঝতে পারে। লক্ষ্মী ছেলেতে পরিণত হয়। অভিনেত্রী ববিতা ও জয় এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্যে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
 
দিপু নম্বর টু
মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘দিপু নম্বর টু’ ছবিটি জনপ্রিয় কল্প কাহিনী লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের গল্প অবলম্বনে নির্মিত। অরুন সাহা, বুলবুল আহমেদ ও ববিতা অভিনয় করেছেন। ছবিতে একটি কিশোরের মনের ভেতরে চলতে থাকা টানাপোড়েন সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। বাবার ট্রানফারের চাকরি। প্রতিবছর শিশুটিকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। আর যেখানেই সে যায় বন্ধু তৈরি করে ফেলে। বন্ধুদের নিয়ে নানারকম রোমাঞ্চকর কাজে অংশগ্রহণ করে। বছর শেষে বাবা যখন আবার ট্রান্সফার হয়ে যায় তখন শিশুটির বন্ধু হারানোর ভয় মনকে ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে। আবার নতুন পরিবেশ, আবার নতুন বন্ধু। অসাধারণ একটি শিশু-কিশোর ছবি ‘দিপু নম্বর টু’।
 
মাটির ময়না
তারেক মাসুদ পরিচালিত এবং ক্যাথরিন মাসুদ প্রযোজিত ছবি মাটির ময়না। ছবিতে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লামিসা রিমঝিম, শোয়েব ইসলাম, রাসেল ফরায়জি প্রমুখ। ২০০২ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে এক শিশুর মাদ্রাসা জীবনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কাহিনীটি প্রয়াত পরিচালক তারেক মাসুদের জীবন থেকে নেয়া। মাদ্রাসার শিশুটির শিক্ষকের আচরণ, তার সহপাঠীদের আচরণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার নানা রকম সম্পর্কের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলে ছবিটির কাহিনী। তারেক মাসুদের ক্লাসিক একটি ছবি মাটির ময়না।
 
লিলিপুটরা বড় হবে
মইনুল আহসান সাবেরের চিত্রনাট্য এবং রাকিবুল হাসানের পরিচালনায় ‘লিলিপুটরা বড় হবে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আফসানা মিমি, চিত্রলেখা গুহ প্রমুখ। ছবিটি ২০০৮ সালে নির্মিত হয়। গ্রামের হাইস্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষককে কেন্দ্র করে ছবিটির কাহিনী বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষকের ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতি নিয়ে নানারকম ঝামেলা শুরু হয়। ছাত্র শিক্ষকের অম্ল মধুর সম্পর্কের নানা ঘটনা উঠে এসেছে এই ছবিতে।
 
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী
বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ অসাধারণ একটি শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র। অভিনয় করেছেন গোলাম মোস্তফা, শর্মিলী আহমেদ, সারা যাকের, এটিএম শামসুজ্জামান, শিশুশিল্পী মাস্টার পার্থ, টিপটিপসহ আরো এক ঝাঁক শিশু-কিশোর। শিশুরাজ্য নানা রোমাঞ্চে ভরপুর থাকে। তাদের দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর কাহিনী ছবিতে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রয়াত বাদল রহমান।
 
ডানপিটে ছেলে
ডানপিটে ছেলে ছবির চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার ছিলেন খান আতাউর রহমান। ছবির নামেই বোঝা যাচ্ছে ছবির বিষয়বস্তু কি হতে পারে। ছবিটির প্রাণ দুরন্ত এক কিশোরের দুষ্টুমির কাহিনী। ছবিতে তাকে নিয়ে নানান ঘটন ও অঘটন বর্ণিত হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী শাকিল। শাকিল এ ছবিতে অভিনয় করে পুরস্কার অর্জন করেন।
 
অশিক্ষিত
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী মাস্টার সুমন। আরো ছিলেন অভিনেতা রাজ্জাক, অঞ্জনা ও এটিএম শামসুজ্জামান। ছবিতে গ্রাম্য এক অশিক্ষিত মানুষের স্বাক্ষরতা লাভের হাহাকার বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন মাস্টার সুমন।
 
অসাধারণ একটি ছবি অশিক্ষিত। মানবিক আবেদনে ভরপুর। শেষে শিক্ষকরূপী মাস্টার সুমন মৃত্যুবরণ করে কিন্তু তার ছাত্র ততদিনে নাম স্বাক্ষর করা শিখে ফেলে।

বলিউডের তরুণদের আয়ের ফিরিস্তি

বলিউডের তরুণদের আয়ের ফিরিস্তি


রূপালি জগতের মানুষদের প্রতি সাধারণদের তুমুল কৌতূহল। আর কৌতূহল থেকেই তারা সেলিব্রেটিদের সব খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহী হন। খুঁটিনাটির তালিকা থেকে সেলিব্রেটিদের সম্পদের পরিমাণও বাদ পড়েনা। দীর্ঘদিন ধরে যারা বলিউডে বিচরণ করছেন তাদের সম্পদের তালিকা এতোই দীর্ঘ যে তালিকা করতে দিন শেষ হয়ে যাবে।
 
সম্পদের পরিমাণের দিক দিয়ে তুখোর পারফরমেন্স দেখাচ্ছেন চল্লিশোর্ধ বয়সী অভিনয় শিল্পীরা। চল্লিশোর্ধ টপ ক্রেজদের ছবি প্রতি হিট কমছে কম ১০০ কোটি রুপি। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেই তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। অগ্রজদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে না পারলেও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কিন্তু সক্ষম হচ্ছেন। ক্রমেই নিজেদের পারিশ্রমিক নিয়ে যাচ্ছেন উপরের দিকে। আসুন আজ আমরা ৩০ এর নিচের বয়সী বলিউডিদের আয় রোজগারের হিসেব জেনে নিই।
 
প্রিয়াংকা চোপড়া (৩০): ছবি প্রতি পারিশ্রমিক ২-৩ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৬৫-৭৫ লাখ রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে নোকিয়া, ডাবর, ডাবর আমলা, গার্নিয়ার, সামসাং, নিকন, হিরো হোন্ডা ইত্যাদি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মুম্বাইয়ের তিনটি ফ্ল্যাট। যদিও তিনটি ফ্ল্যাটকে তিনি একটিতে পরিণত করেছেন। সেভেন সিরিজের একটি বিএমডব্লিউ এবং একটি পোর্সে গাড়ি আছে।
 
রনবীর কাপুর (২৯): দুর্দান্ত মেধাবী অভিনেতা রনবীরের ছবি প্রতি পারিশ্রমিক ৮-১০ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক ১.৫ থেকে ২ কোটি রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে প্যানাসনিক, পেপসি, টাটা ডোকোমো, নিশান, হিরো মোটো করপ্, লেনোভো। রনবীরের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ জানা যায়নি। গাড়ির ভেতর আছে রেড অডি আরএইট, রেঞ্জ রোভার স্পোর্টস্, ডাহোন ফোল্ডেবল সাইকেল।
 
ক্যাটরিনা কাইফ (২৮): ইন্দো-বিলেতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৩-৪ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক নেন ১-১.৫ কোটি প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে বার্বি, চক-অন, লিঙ্ক ইউনিবল, লাক্স, নক্ষত্র, ওলে, প্যানাসনিক, প্যান্টিন, স্লাইস, টাইটান, ইয়ার্ডলি, ভিট ইত্যাদি। ক্যাটরিনার স্থাবর সম্পত্তি সব লন্ডনে। পরিমাণটা কারো জানা নেই। তিনি মুম্বাইয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ব্যবহারের জন্য একটি অডি কিউসেভেন গাড়ি আছে।
 
ইমরান খান (২৮): মেধাবী অভিনেতা ইমারানের ছবি প্রতি পারিশ্রমিকের হার ৫-৭ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ১-১.৫ কোটি রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে লেভিস ও কোক। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ অজানা। তবে প্রচণ্ড গাড়িপ্রেমিক ইমরান খান। অসংখ্য গাড়ি আছে নিজের ব্যবহারের জন্য। পোর্সে ক্যায়েন, ফেরারি ক্রালিফোর্নিয়া, ভলসওয়াগেন বিটলস্, বিএমডব্লিউ থ্রি সিরিজ।
 
দীপিকা পাড়ুকোন (২৬): ঠ্যাঙঠেঙা সুন্দরী দীপিকা ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ১-২.৫ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ৫০-৭৫ লাখ প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে নেসক্যাফে, সনি সাইবার শট, প্যারাস্যুট, টিসট, পিয়ামা ডি উইলিস, পাইলট পেনস্, মেরিকো ইত্যাদি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে প্রভাদেবীতে একটি ও বান্দ্রায় একটি বাড়ি আছে। ব্যবহারের জন্য একটি অডি-কিউসেভেন গাড়ি আছে।
 
আনুশকা শর্মা (২৪): মিষ্টি মেয়ে আনুশকার ছবি প্রতি পারিশ্রমিকের হার ১-১.৫ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ২৫-৪০ লাখ রুপি প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপন হলো- টিভিএস স্কুটি, নিভিয়া, রিলায়েন্স কমিউনিকেশন, প্যারাস্যুট, ক্যানন, গীতাঞ্জলি জুয়েলস্ ইত্যাদি। স্থাবর সম্পত্তির হিসেব জানা যায়নি। ব্যবহার করেন রেঞ্জ রোভার ও একটি অডি গাড়ি।
 
সোনাক্ষী সিনহা (২৫): বলিউডের লম্বা-চওড়া শরীরের মেয়ে ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৭৫ লাখ থেকে এক কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ২৫ লাখ প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে ডি’ড্যামাস ফর গীতাঞ্জলি, রেড লেভেল টি, প্রোভোগ, কোলগেট, প্যান্টিন, ডাবর ফেম অব গুলাবারি ইত্যাদি। সোনাক্ষীর এখনো কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। পরিবারের ব্যবহারের জন্য পাঁচটি গাড়ি আছে।
 
সোনম কাপুর (২৭): স্টাইল আইকন সোনম ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৫০-৭৫ লাখ রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন দিন হিসেবে ২৫-৫০ লাখ রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে লরিয়েল, স্পাইস মোবাইল, ইলেকট্রোলাক্স, মন্টব্লাঙ্ক, ইন্ডিয়ান জেমস্ অ্যান্ড জুয়েলর এক্সিবিশন ইত্যাদি। সোনমের স্থাবর সম্পত্তি নেই। পরিবারের ব্যবহারের জন্য পাঁচটির চেয়েও বেশি গাড়ি আছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস্