Pages

Wednesday, September 5, 2012

ইরানি চলচ্চিত্রের পাঁচ সুন্দরী মেয়ে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

ইরানি চলচ্চিত্রের পাঁচ সুন্দরী মেয়ে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট


 ‘আমি রুপ নগরের রাজকন্য রুপের জাদু এনেছি/ ইরান তুরান পার হয়ে আজ তোমার দেশে এসেছি।’
অথবা-
‘নাচে নাচে ইরানি মেয়ে, নাচে ইরানি মেয়ে/ মরু বালুকা হরষে আকুল/ নাচে নাচে ইরানি মেয়ে, নাচে ইরানি মেয়ে।’

পারস্য মেয়েদের সৌন্দর্য্য পৃথিবী বিখ্যাত। শুধু পারস্য কবিতা, গানেই না বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাহিত্যকর্মে নানাভাবে ইরানি মেয়েদের সৌন্দর্য্য বর্ণিত হয়েছে। কঠোর ইসলামী অধ্যুষিত দেশ হলেও সেখানকার চলচ্চিত্রে নিজের দেশের ঐহিত্য মেনেই ইরানি মেয়েরা নিজেদেরকে সাবলীল করে তুলেছেন। তাদের সৌন্দর্য্য ও অভিনয় দক্ষতার ফলে অসাধারণ হয়ে উঠেছে ইরানি চলচ্চিত্র। ইরানি চলচ্চিত্র আর্ন্তজাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। চলুন আজ কয়েকজন জনপ্রিয় ইরানি অভিনেত্রীর সঙ্গে পরিচিত হই।

গুলশিফতে ফারাহানি: ১৯৮৩ সালের ১০ জুলাই গুলশিফতে জন্মগ্রহণ করেন।  ‘বডি অব লাইস’ ছবির অভিনেত্রী গুলশিফতে ছয় বছর বয়স থেকেই থিয়েটারে অভিনয় করেন। রিডলি স্কট পরিচালিত ‘বডি অব লাইস’ ছবির মোহময়ী অভিনেত্রী গুলশিফতেই প্রথম ইরানি অভিনেত্রী হিসেবে হলিউড প্রোডাকশনে কাজ করেন। ১৪ বছর বয়সে ‘দ্য পিয়ার ট্রি’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। প্রথম ছবিতেই গুলশিফতে ফাজর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনয় শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ইরানের ছবিতে নিজেকে উল্লেখযোগ্য করে তোলেন।

২০০৭ সালে দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ও গুলশিফতে অভিনীত বিতর্কিত ছবি ‘সান্তুর’ ইরানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই অভিনেত্রী পিয়ানো থেকে শুরু করে আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে সক্ষম। পড়ালেখা করেছেন মিউজিক স্কুলে। বাস করছেন ফ্রান্সের প্যারিসে।

নিকি কারিমি: ‘দ্য হিডেন হাফ’ ছবির অভিনেত্রী ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নিকি ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত একজন অভিনেত্রী ও পরিচালক। দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ‘সারা’ চবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। এই ছবির জন্যে নিকি ১৯৯২ সালে ‘সান সাবাস্তিয়ান’ ও নান্তেস ফিল্ম’ ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ শুরু পর থেকে প্রায় ত্রিশটির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন নিকি। নিকি কারিমি অভিনীত ওয়ান নাইট, আনসার্টেন রিগার্ডস্, এ ফিউ ডে’জ লেটার, টু হ্যাভ আর নট টু হ্যাভ- সহ বহু ছবি আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

লেয়লা হাতেমি: ‘এ সেপারেশন’ ছবির অভিনেত্রী লেয়লা হাতেমি হাইস্কুল শেষ করে পড়ালেখা করতে সুইজারল্যান্ডে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান। দুই বছর পর তিনি তার ট্র্যাক চেঞ্জ করে ফ্রেঞ্চ সাহিত্য নিয়ে পড়তে শুরু করেন। পড়ালেখা শেষ করে লেয়লা ইরানে ফিরে আসেন। পরিচালক দারিয়ুস মেহেরজু পরিচালিত ‘ লেয়লা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে সহকর্মী আলি মোসাফাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ৫ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান আছে। ২০১১ সালের বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে লেয়লা হাতেমি সম্মানজনক সিলভার বিয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

তারানে আলিদুস্তি: ‘অ্যাবাউট এলি’ ছবির অভিনেত্রী তারানেহ ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তারানেহর বাবা ইরানের নামকরা ফুটবল খেলোয়াড়। ২০০০ সালে অভিনয় শেখার স্কুলে ভর্তি হন। ২০০২ সালে ‘আই অ্যাম তারানা ,আই অ্যাম ফিফটিন’ ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে ইরানের চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারানের প্রথম ছবিই লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিলভার লেপার্ড অর্জন করে। বিউটিফুল সিটি, ফায়ারওয়ার্ক ওয়েন্সডে, ডাউট সহ বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন।

হেদাই তেহরানি: ফায়ারওয়ার্কস ওয়েন্সডে ছবির অভিনেত্রী হেদাই তেহরানি ১৯৯৫ সালে রুজ-ই-ভাগ-ই’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে ‘দ্য বেটার নোন ফেস’ ও ‘সোলতান’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়ে যান।

‘এক রাতে সুনীল আমার গায়ে হাত দিয়েছিল’ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘এক রাতে সুনীল আমার গায়ে হাত দিয়েছিল’ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার টুইটারে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করে থেমে থাকেননি। তিনি এবার জানিয়েছেন, সুনীল এক রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে তার হোটেলের ঘর থেকে ফিরে যাবার সময় তার গায়ে অশ্লীলভাবে হাত দিয়েছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় তসলিমা নাকি এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন যে কী করবেন ভেবে পাননি। পরে এই ঘটনা নিয়ে তসলিমা নাকি ‘রাস্তার ছেলে এবং কবি’ নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তসলিমা দাবি করেছেন, কবিতাটি সুনীলকে নিয়েই লেখা।

তবে তসলিমার এইসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন তসলিমা এ ব্যাপারটি নিয়ে চুপ ছিল কেন? সাহস থাকে তো আইনের সাহায্য নিক। সুনীল মনে করেন, এসবই তসলিমার হতাশার বহিঃপ্রকাশ। আর তাই এসব তাকে মোটেই বিচলিত করে না।

দুই বাংলার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে একসময় বই লিখে তসলিমা সাড়া ফেলেছিলেন। এজন্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেছিলেন। কলকাতাতেও এক কবি তসলিমার বিরুদ্ধে কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছিলেন তার সম্পর্কে বইয়ে আপত্তিকর কিছু লেখার জন্য। তবে সেই সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও কথাই লেখেননি তসলিমা।

এতদিন পরে সুনীল সম্পর্কে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, তসলিমার ’দ্বিখণ্ডিত’ বইটি বাম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই নাকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বলেছিলেন। তসলিমা এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। সুনীল অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কখনই ’দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। বরং শঙ্খ ঘোষসহ অন্যান্যদের সঙ্গে মিলে তিনি সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেই বলেছিলেন। এমনকি মিছিলও করেছিলেন।

কিন্তু তসলিমা কেন বইটি নিষিদ্ধ করার পেছনে তিনিই প্রধান মাথা বলছেন তার কোনোনও কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। সুনীল জানিয়েছেন, তসলিমার কলকাতায় ফেরার ব্যাপারে তিনি কখনো কোনো উদ্যোগ নেননি ঠিকই, তবে তিনি এমন কোনো বড়মাপের ব্যক্তি নন যে, তার কথাতেই তসলিমার কলকাতায় আসা আটকে যাবে।

সুনীল ও তসলিমার এই সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও। তবে ঘটনার সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের লেখা ‘মুসলমানদের করণীয়’ নামের একটি বই সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের বিরুদ্ধে সুনীলের মতামত থেকে। সুনীল যেকোনো বই নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে তার মত প্রকাশ করার পরই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন তসলিমা।

গত রোববার তিনি তার টুইটারে লিখেছেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বই নিষিদ্ধ করার পক্ষে। তিনি আমাকে এবং অন্যান্য মহিলাদের যৌন হয়রানি করেছেন। তিনি সাহিত্য আকাদেমির সভাপতি। শেম! শেম!।

তসলিমা আরো লিখেছেন, তার ’দ্বিখণ্ডিন্ডিত’ বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য সুনীলই বাম সরকারকে বলেছিল। আর এখন তিনি বই নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন। একজন ভণ্ড। কোনো বাঙালির সাহস নেই ভণ্ড ও মহিলাদের ব্যবহারকারী লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখোশটা ছিঁড়ে ফেলার।

এই ট্যুইটার বোমার পর সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে তসলিমা বলেছেন, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলারা সবসময়ই যৌন হয়রানির শিকার হন। আমি শুনেছি সুনীল অনেক মেয়েকেই যৌন হয়রানি করেছে। পুরুষদের সমাজে এটা খুবই সাধারণ। কিন্তু মহিলার এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেন না চাকরি হারাবার ভয়ে। আর লেখার দুনিয়ায় তো অনেক উঠতি তরুণ মেয়েরা বাঘা বাঘা লেখকদের শারীরিক যৌন সম্পর্কের শিকার হয়েছে।

তসলিমার মতে, তাদের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে তারা কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন না। এরপরই তসলিমা জানিয়েছেন, অনেকদিন আগের একটি ঘটনার কথা। সেই সময় ফ্রান্স থেকে এসে তিনি কলকাতার একটি হোটেলে থাকছিলেন। সেই সময় এক রাতে সুনীল বন্ধুদের নিয়ে তার ঘরে ডিনার করতে এসেছিলেন। কিন্তু যাবার সময় সুনীল নাকি বিদায় চুম্বন দেবার সময় তার গায়ে এমনভাবে হাত দিয়েছিলেন যে, তসলিমা হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন। এই ঘটনায় তসলিমা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

তসলিমার দাবি, আমার মতো প্রতিষ্ঠিত লেখিকার সঙ্গে যেখানে সুনীল এই ধরনের কাজ করেছে সেখানে অন্য মেয়েদের সঙ্গে যে সে এই ধরনের কাজ করেছে এটাই স্বাভাবিক। তসলিমা আরো জানিয়েছেন, আমি জানি সুনীলের সেই ক্ষমতা আছে যে আমাকে ভারত থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে প্রভাব ঘাটাতে পারে। তবু তিনি সত্যি বলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

তসলিমা দাবি করেছেন, তার আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ’দ্বিখণ্ডিত’তে অনেকের মুখোশ খুলে দেয়ার পর সুনীল নাকি তাকে বলেছিল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ্যে না আনতে। তবে তসলিমা জানিয়েছেন, সুনীলের মতো ’অর্ধেক জীবন’ তিনি লিখবেন না। তার কাছে কোনো কিছুই গোপনীয় নয়। আর সত্যি বলার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তবু সত্যি বলে যাবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

তসলিমা বর্তমানে দিল্লির এক অজ্ঞাত স্থানে ভারত সরকারের নিরাপত্তা সুরক্ষায় অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলমানদের একাংশের হিংসাত্মক বিক্ষোভের পরই তসলিমাকে কলকাতা ছেড়ে যেতে হয়। তার পর থেকে তার আর কলকাতায় ফেরা হয়নি। অথচ তসলিমা কলকাতায় ফিরতে চান।

তিনি মনে করেন, কলকাতা তার দ্বিতীয় ঘর। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে এনে মুসলমানদের চক্ষুশূল হতে চায় না কোনো রাজনৈতিক দলই। ফলে কলকাতায় ফেরার জন্য তার কোনো আবেদনে কোনো সরকারই কর্ণপাত করছে না। সূত্র: মানবজমিন

পুষ্টিগুণে ভরা আমলকি :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

পুষ্টিগুণে ভরা আমলকি :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

  দামে সস্তা হলেও আমলকি আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ ফলগুলোর মধ্যে একটি। আমলকি খেলে অনেক রোগের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় বা অনেক রোগ সেরে যায়। এ ফলের গুণাগুণ অমৃত সমান-তাই একে অমৃতফল বলা হয়ে থাকে।

পরিচর্যায় মায়ের মতো উপকারী তাই একে ধাত্রীফলও বলা হয়। আমলকিতে পেয়ারার চেয়ে আড়াই গুণ, লেবুর চেয়ে সাড়ে চার গুণ, আমের চেয়ে ১০ গুণ, কমলার চেয়ে ১১ গুণ, আমড়ার চেয়ে পাঁচ গুণসহ সব ফলের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে ১০০ গুণ বেশি ভিটামনি সি থাকে।

প্রতিদিন মাত্র একটি আমলকি খেয়ে আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারি। গাছ থেকে সংগ্রহের পর থেকে ধীরে ধীরে এর ভিটামিন সি নষ্ট হতে থাকে। তাই আমলকি অবশ্যই তাজা খেতে হবে।

আমলকি শরীর ঠাণ্ডা রাখে, রক্ত, মাংস ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পায়খানা স্বাভাবিক রাখা ও পুরুষের দেহে বীর্য বর্ধক হিসেবে কাজ করে। চোখের জন্যও আমলকি বিশেষভাবে উপকারী।

প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে আছে পানি- ৯১.৪ গ্রাম, খনিজ -০.৭ গ্রাম, প্রোটিন - ০.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম - ৩৪.০ মিগ্রা, আয়রণ - ১.২ মিগ্রা, ভিটামিন বি১-১০.০২ মিগ্রা, ভিটামিন বি২-২০.০৮ মিগ্রা, ভিটামিন সি-৪৬৩ মিগ্রা।

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গৃহস্থালির কাজ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গৃহস্থালির কাজ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

 গৃহস্থালির কাজকর্ম, নিয়মিত হাঁটাচলা করা বা বাগানের কাজে ব্যস্ততা নারীদের স্তুন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। স্তন ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত সবচেয়ে বড় গবেষণার পর ইউরোপিয়ান প্রসপেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন অব ক্যানসার (ইপিআইসি) তাদের রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে।

বৃটেনের ক্যানসার গবেষণার সহযোগিতায় পরিচালিত এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব নারী সাধারণ থেকে ভারী ধরনের গৃহস্থালির কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৩ ভাগ কমে যায়। এতে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০০০ নারীর খাদ্যাভ্যাস, জীবনাচরণ এবং তাদের রোগব্যাধির ইতিহাসের প্রতি নজর রাখা হয়েছে।

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব নারী পরিশ্রমের কাজে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিলেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যারা পরিশ্রমের কোনো কাজ করেননি তাদের চেয়ে ১৩ ভাগ কম। আর যেসব নারী মোটামুটি পরিশ্রমের কাজ করেছেন তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আট ভাগ কমে গেছে।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকের সারাহ উইলিয়াম বলেছেন, স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত যেসব তথ্য জানা রয়েছে এ গবেষণা সেটাকেই আরো জোরদার করেছে।

বৃটিশ সরকার নারীদের প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট করে মোটামুটি শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বলছে, মাত্র ৩৯ ভাগ পুরুষ এবং ২৯ ভাগ নারী প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের কাজে সময় দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম প্রতি বছর বৃটেনে ৩০০০ নারীকে ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। সূত্র: ওয়েবসাইট

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহলের তদবির’ ছিল হলমার্ক ঋণে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহলের তদবির’ ছিল হলমার্ক ঋণে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 হলমার্ক গ্রুপকে অনিয়ম করে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছাড়াও ‘ওপরমহল’-এর আরো অনেকের ‘তদবির’ ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদকারী দুদকের অনুসন্ধান দল সূত্রে একথা জানা গেছে। হলমার্কের এই দুর্নীতির সময় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মো. হুমায়ুন কবীর।

ছয় সদস্যেরর অনুসন্ধান দল সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে সোনালী ব্যাংকের সাবেক এই এমডিকে তার মেয়াদকালে হলমার্ক গ্রুপসহ অন্যান্য ঋণগ্রহীতাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের হোসেন ছাড়া আর কারো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না হলমার্কের ঋণের ব্যাপারে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুএকবার আশা যাওয়া ছিল। তবে তিনি ছাড়াও ‘ওপরমহলের’ অনেকেরই তদবির ছিল এ ব্যাপারে। ব্যাংকের তখনকার শেরাটন হোটেল শাখার কর্মকর্তারাও এ কাজে জড়িত ছিলেন। শাখাটির ব্যবস্থাপক এই ঋণের ক্ষেত্রে হলমার্ক গ্রুপকে বিশেষভাবে সাহায্য করেন।

তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে এই ঋণ ছাড় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৬ সদস্যের অনুসন্ধান দল। জিজ্ঞাসাবাদে দুদক সোনালী ব্যাংকের বিগত ৩ অর্থবছরের ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা চেয়েছে তার কাছে। দুদক কর্মকর্তারা তাকে ২০০৯, ’১০ ও ’১১ অর্থবছরে ব্যাংকটি থেকে ঋণগ্রহীতাদের এ তালিকা জমা দিতে বলেন।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে তিনি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান মো. হুমায়ুন কবীর। সাংবাদিকরা এ সময় তাকে ঘিরে ধরলে ধস্তাধস্তি হয়। দুদক কার্যালয়ের রাস্তার উল্টো দিকে একটি আবাসিক ভবনের পার্কিংয়ে তার গাড়ি রাখা ছিল। সেখান থেকে গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত সাংবাদিকরা তার পিছু নেন। তাকে বারবার নানা প্রশ্ন করা হলেও তিনি একই জবাব দেন যে, ‘‘আমার সময়ে আমি শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করেছি। এ সুতা পরিমাণও দুর্নীতি হয়নি।’’

রাষ্ট্রায়ত্ব এই ব্যাংকটির তখনকার শেরাটন হোটেল (বর্তমান রূপসী বাংলা হোটেলের) কর্পোরেট শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে হলমার্কসহ পাঁচটি কোম্পানি ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ব্যাংকটির আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

বাংলাদেশ ব্যাংক অভিযোগ করেছে, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এই এমডিসহ ৩৩ কর্মকর্তার যোগসাজশে এ অনিয়ম হয়েছে।

এ পর্যন্ত এ অভিযোগ তদন্তে রুপসী বাংলা ও প্রধান শাখার মোট ২০জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হলমার্কের এমডি সহ মোট ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করবে : স্পিকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করবে : স্পিকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিরোধী দল সংসদে যোগ দিয়ে সংসদকে কার্যকর করবে। সংসদে এসে বিতর্কের মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের আশা আকাঙ্খা পূরণ করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ।

মঙ্গলবার জাতীয় চতুর্দশ বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের বক্তব্যে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘সংসদ হলো জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণের কেন্দ্রবিন্দু। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েই গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। উভয় দলের উপস্থিতিই সংসদকে কার্যকর করতে পারে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি স্পিকার। আমার কাজ সংসদ পরিচালনা করা। আমার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই সমান। উভয় দল সংসদে উপস্থিত হলে আমারও ভাল লাগে। সংসদও কার্যকর হয়।

সংসদের অধিবেশন দেখার জন্য শিশুদের  জন্য স্বতন্ত্র গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে। এ গ্যালারিতে বর্তমানে ৫০ জন শিশু অধিবেশন দেখছেন বলেও জানান তিনি।

এখন থেকে সংসদের অধিবেশন শিশুরা দেখতে পারবে। শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে এমন কথা বলা থেকে সংসদ সদস্যদের বিরত থাকার আ‎‎ জানান তিনি।

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ৫০০ কিলোমিটার পূর্বে খোয়াইমাহ শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত এবং অপর দুইজন আহত হয়েছেন।
 
পুলিশের বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ১৮ জন বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিককে বহনকারী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের লোহার রেলিংয়ে ধাক্কা খেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, নিহত চার বাংলাদেশির মরদেহ রয়্যাল ওমানি পুলিশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ১২ জনকে প্রাথমিকভাবে ভর্তি করা হয় খোয়াইমাহর জালান বনি বু আলী হাসপাতালে। সেখান থেকে গুরুতর আহত ছয়জনক (দু’জন বাংলাদেশি) সার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত তিনজন ভারতীয় ও দু’জন বাংলাদেশি নাগরিকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

ওমানের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওমানের নাগরিক এক চালক। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পরিবহনটি রাস্তার পাশের প্রতিবন্ধকের সঙ্গে লাগালে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

ওমানে একই বাহলা নামক স্থানে অপর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ ছয়জন মানুষ নিহত হয়। সূত্র: গালফ নিউজ।

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

চার উপদেষ্টা নিয়ে ব্রিবত মহাজোট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

প্রধানমন্ত্রীর চার প্রভাবশালী উপদেষ্টাকে নিয়ে চরম ব্রিবতকর অবস্থায় পড়েছে মহাজোট। বিতর্কিত এ চার উপদেষ্টা হলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. মোদাচ্ছের আলী, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি, হাসপাতালে কর্মচারি নিয়োগ নিয়োগ নিয়ে বেঁফাস মন্তব্য, পদ্মা সেতু ইস্যুতে দূর্নীতির অভিযোগ, কুইক রেন্টাল ও ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি ও ট্রানজিট বিষয়ে এসব উপদেষ্টাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড ও মন্তব্যে সরকার ও ক্ষমতাসীন মহাজোট বিব্রত বোধ করছে। তবে বিষয়টি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জড়িত তাই তারা কেউ মুখ খুলছেন না। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলের এ অবস্থানের কথা জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের দু’জন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক নেতা উপদেষ্টাদের দলের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না থাকা ও শপথ না নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়াকে কটাক্ষ করেছেন। তাদের কর্মকান্ডে দলের যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তারা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ বিষয়ে বার্তা২৪ ডটনেটকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরেক উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু ক্ষুব্ধ ভাষায় বলেন, ‘‘আমি ভাই কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী ভাল জানেন।’’ এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনেকেই এ বিষয়টিতে বিব্রত বোধ করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেছেন, ‘‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়বদ্ধ।’’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহাজোটের শরিক দলের এক নেতা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর। তাদের দায়ভার কোনোভাবেই মহাজোট বহন করবে না।’’ এ সকল উপদেষ্টাদের বির্তকিত কর্মকান্ডের কারনে মহাজোটকে চরম মাশুল দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারা মনে করেন কেউ দূর্নীতি করলে সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আর কোনো ব্যক্তির দূর্নীতির দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর নাম ওঠে এসেছে। হলমার্ক গ্রুপের নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ অর্থ সরানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ উপদেষ্টার হস্তক্ষেপেই হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা দুদককে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন সময়ে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলীকে সোনালী ব্যাংকের রুপসী বাংলা শাখায় বেশ কয়েকবার দেখেছেন।

এর আগে  গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গোপালগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মোদাচ্ছের আলী বলেছিলেন, ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আগামীতে যে ১৩ হাজার তিনশ ৫০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে, তাতে দলীয় লোকের বাইরে একজনকেও চাকরি দেওয়া হবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ মোদাচ্ছেরের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত বলে পরে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব রয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংক।  প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা পদ্মাসেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন।

বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নে ফিরে এলে মশিউর পদত্যাগ করবেন বলেও জানান। এর আগে একই অভিযোগে সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এছাড়া শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনেও বিনিয়োগকারীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই দুর্নীতির দায় নিয়ে তার পদত্যাগ করার কথা।

জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়ে সংসদের দশম অধিবেশনেও হয়েছে উত্তপ্ত আলোচনা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের বর্তমান বেহাল দশায় এ সেক্টরের উপদেষ্টার কর্মকান্ডে ফুঁসছে গোটা দেশ। তার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে বিব্রত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ খাতের সীমাহীন দুর্নীতিও এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট।

শুরুতেই কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার কথা বলে সমালোচনার ঝড় তোলেন ড. তৌফিক ই ইলাহী। তার উল্টো দম্ভোক্তি-কুইক রেন্টালের সমালোচনাকারীরা দেশের শত্রু, অজ্ঞ, জ্ঞানপাপী না হয় রাষ্ট্রদ্রোহী। তার এমন বক্তব্যেও সরকারের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ঘাটতি হয়েছে বলে মনে করেন মহাজোট নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ দশম সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ মন্ত্রণালয় কে চালান? মন্ত্রী না উপদেষ্টা? মন্ত্রীর কী ক্ষমতা, উপদেষ্টার কী ক্ষমতা, তা আমরা জানি না। উপদেষ্টাকে ফোন করলে তিনি তা ধরেন না। তাকে নিয়ে সংসদে দফায় দফায় বিতর্কসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ তিনি এসবের কিছুই গায়ে মাখেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা অপর ব্যাক্তি ড. গওহর রিজভীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। তিনিও টিপাইমুখে ভারতের জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ ও ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ব্যাপারে যেন বেশ আগ্রহী। তার সমালোচনা করে মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন সংসদের দশম অধিবেশনে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছিলেন- তিনি কী ভারতের উপদেষ্টা না বাংলাদেশের উপদেষ্টা।

ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন নেই, কেননা ১৯৪৭ সালের পর থেকেই ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তার এমন বেফাঁস কথাবার্তায় তখন দেশের রাজনীতিতে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার কথার ভিন্নতায়ও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে তার কোনো উদ্যেগই ছিলনা।

এদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে এখনো পরিস্কার নয় খোদ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। শুরু থেকেই চার উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল তাদের দেশপ্রেম ও ক্ষমতা নিয়েও। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে প্রচারণা বললেন অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

হলমার্ক কেলেঙ্কারিকে প্রচারণা বললেন অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 হলমার্ক গ্রুপকে দেয়া সোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, “এই প্রচারণা ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

মুহিত বলেন, “ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। অথচ মাত্র চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং খাতেই ধস নেমেছে।”

আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সততা বিভাগ জেহাদি মনোভাব নিয়ে কাজ করে। এই মনোভাব নিয়ে কাজ করা যাবে না। বিশ্বব্যাংক যা বলে, তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও জবাবদিহিহীন। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধের বিরোধী হিসেবে কাজ করে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালো টাকা বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা। কালো টাকা থাকবেই। এটাকে মেনে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।”

গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

বিচারক অপসারণে সংসদের ক্ষমতা চান সরকারদলীয় এমপিরা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিচারক অপসারণে সংসদের ক্ষমতা চান সরকারদলীয় এমপিরা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 পাকিস্তানের প্রথম দিককার সংবিধানে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বায়াত্তরের সংবিধানেও উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করার ক্ষমতা (ইমপিচমেন্ট) ছিল জাতীয় সংসদের, এটা উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের এমপিরা মঙ্গলবার সংসদে দাবি তুলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন করে এই এখতিয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।
 
সংসদ স্পিকারের সাম্প্রতিক একটি রুলিংয়ের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের গত ২৭ আগস্ট দেয়া এক রায়ের সমালোচনা করে তারা এমন বক্তৃতা করেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর থেকে রাত ৯ টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন তারা।
 
হাই কোর্ট বিভাগের রায়ের সমালোচনা করে এমপি’রা বলেন, আদালতের ওই রায় সংবিধান বহির্ভূত হয়েছে। আদালত নিজেদের এখতিয়ার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের অপসারণের দাবি করেন তারা। তারা বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম, বিচার বিভাগ সার্বভৌম নয়।
 
তবে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস এমপিদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটা আদালতের কোনো ‘রায়’, নয় পর্যবেক্ষণ। এই নিয়ে সংসদ ও আদালতের মধ্যে যুদ্ধ হলে ষড়যন্ত্রকারীরা লাভবান হবে।
 
নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের প্রথম দিনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আওয়ামী লীগের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ড অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক অসাংবিধানিক আচরণ করেছেন উল্লেখ করে সংসদে স্পিকার আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেটের দেয়া একটি রুলিংকে ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন ও অকার্যকর’ সাব্যস্ত করে  হাই কোর্ট বিভাগীয়  এক বেঞ্চের সাম্প্রতিক রায়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 
হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন— উল্লেখ করে গত ১৮ জুন দেয়া স্পিকারের রুলিং কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে করা আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়া হয় গত ২৭ আগস্ট। বিভাগের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ইতিমধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
 
সাধারণ ‘বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনা’ হয়নি: স্পিকার
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আলোচনার পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ বিষয়টিতে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। আমরা এ বিষয়ে আপিল করেছি। বিষয়টি  মাথায় রেখেই আলোচনা করার জন্য অনুরোধ করছি।’’

আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘‘আপনার মনের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে পারছেন না। সংসদ সদস্য হওয়ায় সব বিষয়টি  আমাদের মাথার মধ্যে থাকে।  আপিল সংসদ করেনি। সংসদ সার্বভৌম। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী রাখা হয়েছে আমাদের কথা বলার জন্য। সংসদ সার্বভৌমত্ব। আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্তৃত্ব এখানে নেই। কোনো কোনো পত্রিকায় এসেছে সাব জুডিস (বিচারাধীন বিষয়) হিসেবে আলোচনা করা যাবে না। আমি জাতির স্পিকার হিসেবে বলতে চাই, এটি কোনো সাধারণ মামলা মোকদ্দমমা নয়, বা খুনের মামলা নয় যে আলোচনা হলে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।’’

স্পিকার হলেন, ‘‘এ বিষয়টি হলো সংবিধানন নিয়ে। সংবিধান নিয়ে আলোচনা হবে বিচারপতিরাও তা শুনবেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনা করা সাবজুডিস এর মধ্যে আসতেই পারে না। আক্রমণাত্বকভাবে কথা না বলে ধৈয্য ধরে বক্তব্য দেয়ার জন্য স্পিকার আহবান জানান।’’

বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু সংসদ সার্বভৌম: সেলিম
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘‘সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন করে। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন হতে পারে কিন্তু সংসদের মতো সার্বভৌম নয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে বিচারপতিগণ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমি স্পিকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘একটি  বিশেষ মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে  অকথ্য ভাষায় স্পিকারের ওপর নগ্নভাবে হামলা করা হয়েছে। স্পিকারের উপর হামলা মানে সংসদের ওপর হামলা। এ বিষয়ে সংসদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরাও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে বিচারপতিরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। বিচারকরগণ যা ইচ্ছা তা নিয়ে রায় দিতে পারেনা। বিচারপতিদের এ বিষয়টি ভেবেই রায় দিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর মাধ্যমে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। বিচারপতি আলতাফ হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সংবিবধান লঙ্ঘন  করে রিট গ্রহণ করে মনগড়া পদ্ধতিতে রুলিং দেন। সংসদের বিষয়ে রিট গ্রহণ করাই তাদের এখতিয়ারে ছিল না। সংবিধানের ৭৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং এর বিষয়ে সরকারও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে বিচারবিভাগও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবেনা। বিচারপতিরা সীমা লংঘন করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সংসদ। এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো ধরণের রায় দিতে পারবে না। কিন্তু বিচার বিভাগ অবিবেচিত রায় দিয়েছে। এটা আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত ও আইনের পরিপন্থী। গুটিকয়েক বিচারপতি স্পিকারকে লক্ষ্য করে যে রায় দিয়েছে তার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, গণতন্ত্র নস্যাৎ করার কোনো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অশুভ শক্তিকে রুখে দিতে জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিকে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংসদ সার্বভৌম। রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ স্বাধীন  হতে পারে কিন্তু সার্বভৌম নয়। বিচারপতিরা শপথ  ভঙ্গ  করেছেন। স্পিকারের প্রতি অসদাচরণ ও সংবিধান লংঘন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিদের  ইমপিচমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’’
 
বিচারক অপসারণে বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনুন: তোফায়েল
তোফায়েল আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, বিচারক অপসারণে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার এখতিয়ার কেন সংসদের থাকবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, বায়াত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে এনে বিচারকদের ইমপিচ করতে সংসদের এখতিয়ার ফিরিয়ে আনুন।
 
তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিং নিয়ে দেশ শান্ত হয়েছিল। বিচারপতিরাও খুশি হয়েছিল। ব্যক্তিগত হিসেবে না  নিয়ে রুলিং দিয়েছেন। যিনি রায় দিয়েছেন, তিনি এসব কথা বলতে পারেন না, সরকারি রেকর্ডে সুপ্রিম কোর্টের  জমি  নেই।’’
 
তিনি বলেন, ‘‘বিচারপতিগণ স্পিকারকে বলেছেন আপনি লেখাপড়া জানেন না। আপনার অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী বলে একজন বিচারপতি আপনার ওপর যে কটাক্ষ করেছেন তাতে আপনি একটু উত্তেজিত না হয়ে অত্যন্ত ঠান্ডাভাবে তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন।’’
 
মহাজোট শরিক মইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘‘স্পিকারের রুলিংকে বিচার্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে আদালত সংবিধান গ্রহণ করেছে।’’
 
আলোচনায় আরো অংশ নেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মজিবুল হক চুন্নু, ছায়েদুল হক ও ফজলে নূর তাপস।
 
মহাজোটের এমপি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘আমাদের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন। তিনি সংবিধানের ক্ষতিটি করে গিয়েছেন। বিচারপতিরা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন।’
 
মহাজোটের অপর এমপি হাসানুল হক ইনু বলেন, ’‘বাংলাদেশে অতীতে সেনাপতি ও বিচারপতিরা সাংবিধানিক ধারা ব্যাহত করেছেন। আদালত সংসদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, পারে না।’’
 
হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, ’‘রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। আর সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে। এভাবে সংসদ জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে।’’
 
সর্বশেষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের আলোচনার পর স্পিকার এ বিষয়ে আলোচনার সমাপ্তি টানেন রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে। স্পিকার জানান যে, তিনি ভেবে চিন্তে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত দেবেন।
 
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের জমি নিয়ে হাই কোর্ট বিভাগের আদেশের বিষয় উত্থাপিত হলে স্পিকার আবদুল হামিদ গত ২৯ মে সংসদে বলেছিলেন, দেশের মানুষের বিচারের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যাবে আর নিজেদের বিষয় বলে বিচার বিভাগ ঝটপট সিদ্ধান্ত দেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে।

পরে ৫ জুন হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পিকারের এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদের দেয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক হিসেবে অভিহিত করেন তার নেতৃত্ব থাকা হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতের এ মন্তব্যের পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই সংসদে এই বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারককে অপসারণের দাবি জানান।

১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ রুলিং দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ করেছেন উল্লেখ করলেও রুলিং-এ বিচারকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি প্রত্যাহারের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান স্পিকার। এ বিচারকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ভার প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দেন স্পিকার।

Tuesday, September 4, 2012

বিকট বিজ্ঞাপনের শব্দ থেকে মুক্তি পেলো জার্মানরা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিকট বিজ্ঞাপনের শব্দ থেকে মুক্তি পেলো জার্মানরা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 সেপ্টেম্বর থেকে জার্মানিতে রেডিও-টেলিভিশনে আর জোরালো শব্দের বিজ্ঞাপন প্রচার করা চলবে না৷ শব্দের মাত্রা নয়, শব্দের তীব্রতার ঊর্ধ্বসীমা এবার বেঁধে দেয়া হয়েছে৷

রেডিও বা টেলিভিশন মানেই বিজ্ঞাপন৷ চলচ্চিত্র, খেলা, টক শো-সবার মাঝেই বিজ্ঞাপন বিরতি৷ বিজ্ঞাপনের অর্থ ছাড়া অনুষ্ঠান প্রযোজনা বা সম্প্রচার করা প্রায় অসম্ভব৷ তাই দর্শকদের পক্ষে তা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই৷ কিন্তু সমস্যা হলো, বিজ্ঞাপন শুরু হলেই আচমকা নিজ থেকে শব্দের মাত্রা বেড়ে যায়৷ তখন লাফিয়ে উঠে রিমোট কন্ট্রোল খুঁজে ভলিউম কমাতে হয়৷ অথবা রেডিওর বোতাম ঘোরাতে হয়৷ ১ সেপ্টেম্বর থেকে জার্মানির রেডিও শ্রোতা ও টেলিভিশন দর্শকেরা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছেন৷

বিধিনিয়ম অনুযায়ী প্রায় গোটা বিশ্বেই রেডিও ও টেলিভিশনে শব্দের নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে দেওয়া রয়েছে৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে শ্রোতা ও দর্শকদের মনে হয়, বিজ্ঞাপন, ট্রেলার বা পপ গানের সময় আচমকা যেন শব্দের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে৷ বাস্তবে কিন্তু সেটা ঘটে না৷ বিজ্ঞাপনের আগে বা পরে শব্দের মাত্রা যা থাকে, বিজ্ঞাপনের সময়ও তার তারতম্য হয় না৷ তাহলে কি আমরা কানে ভুল শুনি? যন্ত্রকুশলী ইয়র্গ মোরাভেৎস বললেন, আসলে কাগজে-কলমে শব্দের মাত্রা না বাড়িয়েও চালাকি করে জোরালো শব্দ সৃষ্টি করা যায়৷ তিনি বললেন, ‘‘কোনো অনুষ্ঠানের মধ্যে যে অংশে শব্দের মাত্রা কম, সেই অংশগুলিকে কৃত্রিমভাবে জোরালো করা হয়৷ শব্দের স্বাভাবিক ওঠানামার বদলে সবটাই সবচেয়ে উঁচু মাত্রায় ধরে রাখা হয়৷ ‘কমপ্রেশন’ নামের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা করা হয়৷”

যারা বিজ্ঞাপন তৈরি করছেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা৷ অথচ শ্রোতার মোটেই তা পছন্দ হওয়ার কথা নয়৷ তারা বিরক্ত হয়, অনেকের রক্তচাপও বেড়ে যায়৷ রেডিও বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শব্দের ওঠানামার স্বাভাবিক ছন্দ মানুষ পছন্দ করে৷ কারসাজি করে একটা বিজ্ঞাপনের গোটা সময় জুড়ে শব্দ শুধু উঁচু পর্যায়ে রাখলে ছন্দপতন ঘটে৷

জার্মানিতে নিয়ম করে এই কারসাজি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ সেপ্টেম্বর থেকে শব্দের মাত্রা নয়, শব্দের তীব্রতার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে৷ ফলে আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন তৈরি করার সময় জোরালো শব্দের বদলে স্বাভাবিক ছন্দকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা দেখা যাবে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

মাছরাঙা থেকে শাহ আলমগীরের পদত্যাগ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

মাছরাঙা থেকে শাহ আলমগীরের পদত্যাগ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 অবশেষে মাছরাঙা টেলিভিশন থেকে পদত্যাগ করলেন  শাহ আলমগীর। চ্যানেলটির জন্মলগ্ন থেকেই এর বার্তা প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়টি শাহ আলমগীর নিজেই বার্তা২৪ ডটনেট-কে  নিশ্চিত করেছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে মাছরাঙা কর্তৃপক্ষকে জানান।  আজ সোমবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, কর্তৃপক্ষ এখনও তার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

দু’বছর আগে মাছরাঙার জন্মলগ্ন থেকেই এর বার্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন শাহ আলমগীর। বলা যায় নিজ হাতেই তিনি সাজিয়েছিলেন মাছরাঙার বার্তা বিভাগ। চ্যানেলটিতে বিভিন্ন চ্যানেল থেকে যে সংবাদকর্মীরা এসেছেন তাদের বেশিরভাগই তার কারণে চ্যানেলটিতে যোগ দিয়েছেন। মাছরাঙার আগে শাহ আলমগীর ছিলেন বন্ধ হয়ে যাওয়া যমুনা টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক। এ চ্যানেল থেকেও সে সময় অনেক সংবাদকর্মী তার সাথে মাছরাঙায় চলে আসেন।

শোনা যায় বেশ কিছুদিন ধরেই চ্যানেলটির একজন শীর্ষকর্তার সাথে শাহ আলমগীরের ঝামেলা চলছিল। মূলত ওই কর্মকর্তার নেয়া নানা পদক্ষেপ ও  সিদ্ধান্তের সাথে তিনি একমত হতে পারছিলেন না। এতেকরে  ওই শীর্ষকর্তার সাথে তার সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে। আর এর প্রেক্ষিতেই তার এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শাহ আলমগীর বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে চলে এসেছি।” পদত্যাগের কারণ হিসেবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।

তবে তিনি বলেন, “আমি সব সময়ই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। এক বছর আগেই অন্য চ্যানেল থেকে আমাকে অফার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি। কারণ, ওই সময় চলে গেলে মাছরাঙার বার্তা বিভাগ ভেঙে পড়তো। চ্যানেলটির ক্ষতি হতো। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী এমনটি করতে পারেন না।”

তিনি আরো বলেন, “স্কয়ার কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। আমি কোনো অবস্থাতেই তাদের দায়ী করব না।”

আপনি কোথাও যোগদান করছেন কি না জানতে চাইলে শাহ আলমগীর বলেন, “না, আমি একমাস বিশ্রামে থাকব। এরপর ভেবে দেখব- কোথায় যোগদান করা যায়।”  তিনি জানান, যোগদান করার মতো জায়গা তার আছে।

মাছরাঙা ও যমুনা টেলিভিশনের আগে শাহ আলমগীর চ্যানেল আই ও একুশে টেলিশিনের বার্তা বিভাগের প্রধান কাজ করেছেন।

বিনা পয়সায় ‘শিরোনাম’ নিতে পারবে না গুগল! :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিনা পয়সায় ‘শিরোনাম’ নিতে পারবে না গুগল! :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 জার্মান সরকার গত বুধবার এক বিতর্কিত আইন অনুমোদন করেছে৷ এই আইনের আওতায় জার্মান পত্রিকার শিরোনাম নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের জন্য গুগলকে পয়সা খরচ করতে হবে৷

গুগল নিউজের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত৷ সার্চ জায়ান্ট গুগলের নিউজ ওয়েবসাইটটি দেখতে আসলে কোনো পত্রিকার প্রচ্ছদের মতো নয়৷ এই ওয়েবসাইটে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদের শিরোনাম এবং ছবি প্রকাশ করা হয়৷ এসব শিরোনাম বা ছবি বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইট থেকে গ্রহণ করা হয়৷ এরপর সেসব শিরোনাম বা ছবিতে ক্লিক করলে তৃতীয় ওয়েবসাইটটিতে সেটি দেখা যায়৷

গুগল ছাড়াও আরো অনেক ওয়েবসাইট এরকম সংবাদ পরিবেশনের সেবা প্রদান করে থাকে৷ তবে এই সেবা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে৷ বিশেষ করে যেসব পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম এভাবে প্রদর্শিত হয়, তারা এভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন না৷ জার্মান সরকার এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে গত বুধবার একটি আইন অনুমোদন করেছে৷ এই আইনের আওতায় গুগলের মতো ‘নিউজ এগ্রিগেটর' ওয়েবসাইটগুলোকে অন্যান্য পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে অর্থ প্রদান করতে হবে৷

গুগল জার্মান সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে৷ তারা এই আইন প্রকাশের দিনকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করে বলেছে, জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগ’র উচিত হবে এই আইন বাতিল করে দেয়া৷

গুগল জার্মানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘ইন্টারনেটে এধরনের হস্তক্ষেপ পৃথিবীতে এই প্রথম৷” এরফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্র কমে যাবে বলেও দাবি করেন গুগল মুখপাত্র৷

তবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়বেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বে না৷ তার কারণ হচ্ছে, যে নিউজগুলো যেখান থেকে পড়া দরকার, মানুষ সেখান থেকে গিয়েই পড়বে৷”

জার্মান সরকারের আইনে কার্যত কপিরাইট বিষয়ে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এতে করে সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের শিরোনামও বিক্রির সুযোগ পাবে৷ জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন সাইবার্ট এই বিষয়ে বলেন, এই বিল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সংবাদ পোর্টালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷ তার মানে হচ্ছে ব্লগাররা, অলাভজনক সংস্থাগুলো, আইনজীবীরা এবং ভোক্তারা সংবাদ শিরোনাম উদ্ধৃতি করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে কোন বাধা নেই৷ তবে এই আইন প্রয়োগের আগে জার্মান সংসদ, বুন্ডেসটাগ’র চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে৷

ওয়েবপোর্টাল প্রিয় ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, জার্মান সরকারের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকারেরও এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত৷ তিনি বলেন, ‘‘অনলাইন পত্রিকাগুলো একটি ‘বিজনেস মডেল’ তৈরির চেষ্টা করছে৷ যাতে করে তারা একটি টেকসই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে৷ এবং সেই অবস্থায় পৌঁছাতে গেলে এই ধরনের কার্যক্রমগুলোকে সমর্থন করতে হবে৷ আমি বলতে চাচ্ছি, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশগুলো যে নিয়মের মধ্যে আসছে, যে গুগল অন্যান্য সাইটগুলোকে অর্থ প্রদান করবে, এই ‘ইকো সিস্টেম’ সমর্থন করতে হবে৷”

বলাবাহুল্য, গত কয়েক বছর ধরেই ইউরোপে গুগলের মতো নিউজ ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে মূলধারার সংবাদপত্রের বিরোধ চলছে৷ ২০০৭ সালে বেলজিয়ামের আদালত সেদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের প্রথম লাইনে গুগলের নিউজ সাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷ ২০০৫ সালে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি দাবি করে, গুগল অবৈধভাবে তাদের সংবাদ এবং ছবি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে৷ এই ‘অবৈধ' কর্মকাণ্ড বন্ধে মামলাও করে সংবাদসংস্থাটি৷ দু'বছর পর অবশ্য গুগল এবং এএফপি বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলে৷

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটেও এই বিলের সমালোচনা করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা৷ তবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় গণমাধ্যমগুলো আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্যাবিনেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

মিশর টিভিতে প্রথম হিজাবধারী নিউজ প্রেজেন্টার ফাতমা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিশর টিভিতে প্রথম হিজাবধারী নিউজ প্রেজেন্টার ফাতমা :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 মিশরের টেলিভিশনে নারীদের হিজাব পরে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা বা সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে, কয়েক দশক পর দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে রোববার হিজাব পরে প্রথমবারের মতো সংবাদ উপস্থাপন করলেন ফাতমা নাবিল নামে এক প্রেজেন্টার।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি মিশরে গণবিপ্লবের মুখে সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের পতনের পর দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলে নারীদের জন্য হিজাব পরে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা কিংবা সংবাদ উপস্থাপনার পথ খুলে গেছে। মিশর বিপ্লবের পর এখন দেশটির শাসন ক্ষমতায় রয়েছে ইসলামপন্থী ইখওয়ানুল মুসলিমিন এবং সে সুবাদেই সেখানে নারীদের জন্য হিজাব পরে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করা সহজ হয়েছে।

ফাতমা নাবিল রোববার দুপুরে মিশরের চ্যানেল ওয়ান-এ সংবাদ উপস্থাপন করেছেন। এ সময় তার মাথায় ছিল ক্রিম কালারের স্কার্ফ এবং গায়ে ছিল কালো রঙের কোট।

এর আগে মুবারক আমলে হিজাব পরে রেডিও কিংবা টেলিভিশন স্টেশনে নারী কর্মীরা কাজ করতে পারতেন কিন্তু তারা এ পোশাকে পর্দায় আসতে পারতেন না। হোসনি মুবারকের আমলে মিশর ছিল সেক্যুলার রাষ্ট্র। কিন্তু, ইসলামপন্থী নতুন সরকারের তথ্যমন্ত্রী সালাহ আবদেল মাকসুদ শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বলেন, “হিজাব পরে নারীদের টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনের পথে তো কোনো যুক্তিসঙ্গত বাধা দেখি না।”

এদিকে, টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনের পর ফাতমা নাবিল বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত মিশর বিপ্লব দেশের মিডিয়ায় পৌঁছেছে।”

মিশরীয় নারীদের বেশিরভাগই হিজাব পরে থাকেন। তবে, বিপ্লবের পর দিন দিন দেশটিতে নেকাব ব্যবহারের মাত্রাও বাড়ছে। সূত্র: ওয়েবসাইট।

পঞ্চগড় বন বিভাগের জমিতে অবৈধ পাথর উত্তোলন :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

পঞ্চগড় বন বিভাগের জমিতে অবৈধ পাথর উত্তোলন :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

  পঞ্চগড় সদর থানার মীরগড় ও মাঝবাড়ি (সাতমেড়া) মৌজায় অবস্থিত বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, উডলট বাগানের গাছ অবৈধভাবে কর্তন ও পাচারের অভিযোগে তিনজন বাগান মালির কাছ থেকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএফএনটিসি) বাগান মালির ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে দুনীতি থেকে নিজেকে বাঁচার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
 
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, আব্দুল হামিদ বাগান মালি পঞ্চগড় সদর বিটে যোগদানের পর হতে বিট সদর দফতরে অবস্থান করে বিট কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন মৌজায় টহল দিতেন। সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুর জেলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী আকবর পঞ্চগড় এসএফএনটিসি পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় সদর বিটের বাগান মালির টহল এলাকা মীরগড় ও মাঝবাড়ি (সাতমেড়া) মৌজায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির বিভিন্ন জাযগায় মাটি কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, উডলট বাগানের গাছ কর্তন ও পাচারের আলামত দেখতে পান। বাগানের মধ্যে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 
কেন পাথর উত্তোলনকারীদের বাধা দেয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়নি তা কারো বোধগম্য নয়।
 
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায় যে, বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় শহরে হওয়ায় তিনি নানা রকম দুনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। পঞ্চগড় তেতুঁলিয়া উপজেলার একশত জন উপকারভোগী গাছ চাষীদের জন্য ৪০ ভাগ টাকা এক বছর আগে এলেও সে টাকা এখনো গাছ চাষীদের হাতে দেয়া হয়নি। উপরন্তু প্রত্যেক গাছচাষীর কাছ থেকে তিনি দুই শত করে টাকা চাঁদা গ্রহণ করেছেন।
 
এ ছাড়া পঞ্চগড় সদরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীরগড় ও মাঝবাড়ি (সাতমেড়া) মৌজায় বন বিভাগের জমি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করার সুযোগ দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়।
 
কৈফিয়তের বিয়য়ে বাগান মালি মো. আব্দুল হামিদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে বদলি হয়ে পঞ্চগড় সদর বিটের অধীন বিষু নারায়নী টহল ফাঁড়িতে যোগদান করি। আমার কর্মস্থল বিষু নারায়নি টহল ফাঁড়িতে। সেহেতু সেখানকার  বাগান/বনাঞ্চল টহল ছাড়া সদর বিটের কোনো মৌজা, বাগান বা বনাঞ্চলে টহল করা বা তৎলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার সুযোগ আমার ছিল না বা বর্তমানেও নেই। অন্য কোনো ফাঁড়িতে টহলদারি করার জন্য মৌখিক বা লিখিত আদেশ আমাকে দেয়া হয়নি। এর অন্যথা হলে ইতিপূর্বেই আমার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আমাকে কৈফিয়ত তলবসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। 
 
পঞ্চগড় সদরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে বাগান মালির কৈফিয়ত ও দুনীতির বিষয়ে বললে তিনি বলেন, বাগান মালি তিনজনকে সামাজিক বন বিভাগ দিনাজপুর অফিস কৈফিয়ত তলব করেছে। আমি সম্পূর্ণ দুনীতিমুক্ত। বাগান মালিরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলেছে। বাগান মালিদের নামে অনেক অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির কাণ্ডারী দুই শিক্ষক :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির কাণ্ডারী দুই শিক্ষক :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

 আগামী দুই বছরের জন্য দেশের তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের সবচেয়ে পুরানো সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির (বিসিএস) অভিভাবকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক। সরকারের দুই আমলাকে হারিয়ে বিসিএস-২০১২ এর নির্বাচনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান।

এই দুই শিক্ষকের নেতৃত্বেই গত শুক্রবার বিসিএস কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন ড. মাহফুজ-কাজি জাহিদ প্যানেলের পাঁচ প্রার্থী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি পদে বুয়েটের কম্পিউটার কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম ৫০১ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ২০১ ভোট।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটারের মধ্যে ৭০১ জন ভোটার কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে মহাসচিব পদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারি অধ্যাপক কাজি জাহিদুর রহমান (৪৫৯) ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী রাবিউল কায়সারকে (২২০) পরাজিত করেন।

নির্বাচনে অন্য বিজয়ীরা হলেন- ইয়াহিয়া তাহের (কোষাধ্যক্ষ), রাহাত হোসেন ফয়সল যুগ্ম সম্পাদক (একাডেমিক), আবদুর রহমান খান জিহাদ যুগ্ম সম্পাদক (ফিন্যান্স) এবং খান মোহাম্মদ কায়সার যুগ্ম সম্পাদক (এডমিন)।

এছাড়া সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আবদুস সোবহান, মিজানুর রহমান সিদ্দিক এবং এস এম তোফায়েল আহমেদ।

তিন মাস ধরে বৈদেশিক কল থেকে বঞ্চিত সৈয়দপুরবাসী :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

তিন মাস ধরে বৈদেশিক কল থেকে বঞ্চিত সৈয়দপুরবাসী :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

  প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সৈয়দপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ’র বৈদেশিক বহির্গমন কল (আইএসডি) সেবা। ফলে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
 
আইএসডি কলের সব কারিগরি সুবিধা থাকলেও গত জুন থেকে সৈয়দপুর টেলিফোন এক্সেচেঞ্জ থেকে দেশের বাইরে ফোন করতে পারছেন না স্থানীয়রা। আইএসডি কল ব্যবহারকারী এমন একজন ভুক্তভোগী সৈয়দপুরের অ্যাগ্রো রিসার্চ কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিন মাস ধরে তিনি বিদেশে আউটগোয়িং কল সুবিধা পাচ্ছেন না। এতে তার রফতানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
গ্রাহকদের এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি বিটিসিএল’র সৈয়দপুর এক্সচেঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী (এই) মো. রফিকুল ইসলাম। বেশ কিছুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, ইউরোপ ও আমেরিকায় কোনো কল যাচ্ছে না স্বীকার করে তিনি বলেন, তবে এক্সেস কোড অর্থাৎ ০১২ ডিজিট ব্যবহার করে ৫৫টি দেশে বহির্গমন কল সুবিধা স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল কান্ট্রি কোড ব্যবহার করে সরাসরি বৈদেশিক কল সুবিধা পাচ্ছে না এখানকার টেলিফোন গ্রাহকরা।
 
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ‘দ্রুত এ ত্রুটি অপসারণে কাজ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন বিটিসিএলের রংপুর বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আসাদুল ইসলাম।
 
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈদেশিক কল করতে না পারার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মাসের পর মাস কেটে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সৈয়দপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি। গত ২০০৬ সালে চার হাজার লাইনের ওই এক্সচেঞ্জটি ডিজিটালে উন্নীত করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠা থেকেই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক আইএসডি কল হয়ে থাকে। টেলিফোনে এ কল করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন আমদানি- রফতানিকারকরা।

মিশরের বিপ্লব নিয়ে ছবির মহরত ভেনিসে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিশরের বিপ্লব নিয়ে ছবির মহরত ভেনিসে :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 আমর ওয়াকেদ, সালেহ আল হানাফি এবং ফারাহ ইউসূফ অভিনীত ছবি ‘উইন্টার অফ ডিসকন্টেন্ট’ এর মহরত হচ্ছে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে৷ মিশরে গণবিপ্লবের সময় এই ছবিটি তৈরি করেন ইব্রাহিম বাটুট৷

অভিনেতা আমর ওয়াকেদ এই ছবি সম্পর্কে বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ছবিটির জন্য কাজ করেছিলাম৷ বিপ্লব তখন পুরোদস্তুর চলছে, সবদিকে বিশৃঙ্খল অবস্থা, মানুষের ভিড় ছিল সর্বত্র৷ কিন্তু আমরা এই ঘটনা থেকেই উৎসাহ পেয়েছিলাম৷ বিপ্লব থেকে পাওয়া সৃষ্টিশীল শক্তি আমাদেরকে সাহস জুগিয়েছে৷”

২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি৷ সেদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পদত্যাগের মাত্র একদিন আগের এই দিনটিতে তাহরির চত্বরে শুটিং শুরু করে ছবিটির নির্মাতা দল৷ তাহরির চত্বর ছিল মিশরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু৷ তাই ‘উইন্টার অফ ডিসকন্টেন্ট’ ছবির শুরুর দৃশ্যগুলোর জন্য সেটাই ছিল উপযুক্ত জায়গা৷

ভেনিসে গত ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত৷ এই উৎসবে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ ছবিতে ফারাহ ইউসূফ একজন টিভি সাংবাদিক হিসেবে অভিনয় করেছেন৷ মিশরের সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের কড়া বিধিনিষেধ অতিক্রমের চেষ্টা করেন এই সাংবাদিক৷ আমর নামক একজন রাজনৈতিক কর্মীর বান্ধবী তিনি৷

মিশরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত এই ফিচার ফিল্মে একপর্যায়ে বন্দি হন আমর৷ বন্দি অবস্থায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে এক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার, যিনি কিনা দেশের প্রতি তথাকথিত ভালোবাসার কারণে সেদেশের সাধারণ নাগরিকদেরকে নির্যাতন করতে দ্বিধা করেন না৷ এভাবেই এগিয়ে যায় ছবির কাহিনি৷

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করায় এই ছবি আন্তর্জাতিক নজর কুড়িয়েছে, সেকথা স্বীকার করলেন অভিনেতা সালেহ আল হানাফি৷ মিশরের গণবিপ্লবের পর সেদেশের চলচ্চিত্র ক্ষেত্রেও নতুন করে জেগে উঠেছে, মনে করেন ৪০ বছর বয়সি আল হানাফি৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

বিগ বি’র ৭০তম জন্মদিনে নিমন্ত্রিত ১০০০ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিগ বি’র ৭০তম জন্মদিনে নিমন্ত্রিত ১০০০ :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

 সত্তরের দশকের অ্যাঙ্গরি ইয়ং ম্যান থেকে হট সিটের ওয়াইজ ওল্ড সঞ্চালক। `সিলসিলা`র প্রেমিক পুরুষ থেকে অশীতিপর দাদামশায়ে উত্তরণ। চার দশক অতিক্রম করেও আজও তিনি বলিউডের শাহেনশা। সেই মানুষটিরই ৭০ বছরের জন্মদিন আগামী ১১ অক্টোবর। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপাতত গালা ডিনারের আয়োজনে ব্যস্ত তার ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গিনী জয়া বচ্চন।

স্ত্রী জয়া চান তার জীবনের বিশেষ মানুষটির জন্মদিন উদযাপিত হোক একেবারে ফিল্মি কায়দায়। মুম্বাইয়ের এক বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে এক হাজার লোকের পাত পড়বে সেদিন। শুধু তাই নয়, তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে বলরুম আলোকিত করতে সুদূর সাগরপার থেকে উড়ে আসছেন আর্টিস্টরা। দিল্লির একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিগ বি`র বার্থডে পার্টিই হতে চলেছে এযাত্‍কালের বলিউডের সবথেকে গ্র্যান্ড গালা।


গত মে মাসে করণ জোহরের ৪০তম জন্মদিনের পার্টি ছিল এখনও পর্যন্ত টিনসেল টাউনের সবথেকে চর্টিত গালা। বিগ বি`র বার্থডে পার্টি নাকি ছাপিয়ে যেতে চলেছে করণের পার্টিকে। আর হবে নাই বা কেন। আফটার এল এর পিছনের মাস্টারমাইন্ডটি যে দ্য লেডি অফ হিস লাইফ!  সূত্র: জিনিউজ।

হুমায়ূনের শেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র মুক্তি শুক্রবার :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

হুমায়ূনের শেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র মুক্তি শুক্রবার :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

  ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার। ঢাকার বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড ও স্টার সিনেপে¬ক্সে। ছবিটি পর্যায়ক্রমে সারাদেশব্যাপী মুক্তি পাবে। ছবিটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ চিকিৎসারত অবস্থায় শেষবারের মতো দেশে এসেছিলেন গত মে মাসে। তখন তিনি তার শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের নিয়ে স্টার সিনেপে¬ক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেছিলেন। তার মনের আশা ছিল স্বঘোষিত শেষ ছবিকে তিনি বিশ্বব্যাপি রিলিজ দেবেন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য পরবর্তীতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারেননি।

এ ছবিতে অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে তারিক আনাম খান, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ, মাসুদ আখন্দ, তমালিকা কর্মকার, শামিমা নাজমিন, প্রাণ রায়, বাউলশিল্পী কুদ্দুস বয়াতী ও তার দল,  অনি, প্রাপ্তি, আইনুন নাহার পুতুল, আব্দুল্লাহ রানা ও রফিকুল ইসলাম, এহসান। ঘেটুপুত্র কমলা’র কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতা শিশুশিল্পী মামুন।

ছবির স্যুটিং হয়েছে হবিগঞ্জে। ছবির চিত্রগ্রহণ করেছেন মাহফুজুর রহমান খান। সম্পাদক ছলিম উল্লাহ ছলি। আবহ সঙ্গীত ইমন সাহা। সঙ্গীত পরিচালক মাকসুদ জামিল মিন্টু ও এস আই টুটুল। কণ্ঠশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু, শফি মন্ডল ও প্রান্তি।
কোরিওগ্রাফি মেহের আফরোজ শাওন। শিল্প নির্দেশক মাসুম রহমান। রূপসজ্জা খলিলুর রহমান। পোষাক পরিকল্পনা এস এম মাঈনুদ্দিন ফুয়াদ। শব্দগ্রহণ ও পুর্ণ শব্দ সংযোজন ধ্বনি চিত্র লিঃ। সম্পাদনা লীলাচিত্র। চলচ্চিত্রটি নিবেদন করেছে প্রাণ ঝালমুড়ি।

কাহিনী বিন্যাস- প্রায় দেড়শ্ বছর আগে হবিগঞ্জ জেলার জলসুখা গ্রামের এক বৈষ্ণব আখড়ায় ঘেটুগান নামে নতুন সঙ্গীত ধারা সৃষ্টি হয়েছিল। মেয়েদের পোশাক পরে কিছু রূপবান কিশোর নাচগান করত। এদের নামই ঘেটু। গান হতো প্রচলিত সুরে, যেখানে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অতি জনপ্রিয় এই সঙ্গীত ধারায় নারীরুপী কিশোরদের উপস্থিতির কারণেই এর মধ্যে অশ্লীলতা ঢুকে পড়ে। বিত্তবানরা এইসব কিশোরকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পাবার জন্যে লালায়িত হতে শুরু করেন। একসময় সামাজিকভাবে বিষয়টা স্বীকৃতি পেয়ে যায়। হাওর অঞ্চলের শৌখিনদার মানুষ জলবন্দি সময়টায় কিছুদিনের জন্যে হলেও ঘেটুপুত্র নিজের কাছে রাখবেন এই বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে বিবেচিত হতে থাকে। শৌখিনদার মানুষের স্ত্রীরা ঘেটুপুত্রকে দেখতেন সতীন হিসেবে।