জার্মান সরকার গত বুধবার এক বিতর্কিত আইন অনুমোদন করেছে৷ এই আইনের আওতায়
জার্মান পত্রিকার শিরোনাম নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রদর্শনের জন্য গুগলকে পয়সা
খরচ করতে হবে৷
গুগল নিউজের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত৷ সার্চ জায়ান্ট গুগলের নিউজ ওয়েবসাইটটি দেখতে আসলে কোনো পত্রিকার প্রচ্ছদের মতো নয়৷ এই ওয়েবসাইটে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদের শিরোনাম এবং ছবি প্রকাশ করা হয়৷ এসব শিরোনাম বা ছবি বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইট থেকে গ্রহণ করা হয়৷ এরপর সেসব শিরোনাম বা ছবিতে ক্লিক করলে তৃতীয় ওয়েবসাইটটিতে সেটি দেখা যায়৷
গুগল ছাড়াও আরো অনেক ওয়েবসাইট এরকম সংবাদ পরিবেশনের সেবা প্রদান করে থাকে৷ তবে এই সেবা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে৷ বিশেষ করে যেসব পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম এভাবে প্রদর্শিত হয়, তারা এভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন না৷ জার্মান সরকার এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে গত বুধবার একটি আইন অনুমোদন করেছে৷ এই আইনের আওতায় গুগলের মতো ‘নিউজ এগ্রিগেটর' ওয়েবসাইটগুলোকে অন্যান্য পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে অর্থ প্রদান করতে হবে৷
গুগল জার্মান সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে৷ তারা এই আইন প্রকাশের দিনকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করে বলেছে, জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগ’র উচিত হবে এই আইন বাতিল করে দেয়া৷
গুগল জার্মানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘ইন্টারনেটে এধরনের হস্তক্ষেপ পৃথিবীতে এই প্রথম৷” এরফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্র কমে যাবে বলেও দাবি করেন গুগল মুখপাত্র৷
তবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়বেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বে না৷ তার কারণ হচ্ছে, যে নিউজগুলো যেখান থেকে পড়া দরকার, মানুষ সেখান থেকে গিয়েই পড়বে৷”
জার্মান সরকারের আইনে কার্যত কপিরাইট বিষয়ে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এতে করে সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের শিরোনামও বিক্রির সুযোগ পাবে৷ জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন সাইবার্ট এই বিষয়ে বলেন, এই বিল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সংবাদ পোর্টালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷ তার মানে হচ্ছে ব্লগাররা, অলাভজনক সংস্থাগুলো, আইনজীবীরা এবং ভোক্তারা সংবাদ শিরোনাম উদ্ধৃতি করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে কোন বাধা নেই৷ তবে এই আইন প্রয়োগের আগে জার্মান সংসদ, বুন্ডেসটাগ’র চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে৷
ওয়েবপোর্টাল প্রিয় ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, জার্মান সরকারের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকারেরও এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত৷ তিনি বলেন, ‘‘অনলাইন পত্রিকাগুলো একটি ‘বিজনেস মডেল’ তৈরির চেষ্টা করছে৷ যাতে করে তারা একটি টেকসই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে৷ এবং সেই অবস্থায় পৌঁছাতে গেলে এই ধরনের কার্যক্রমগুলোকে সমর্থন করতে হবে৷ আমি বলতে চাচ্ছি, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশগুলো যে নিয়মের মধ্যে আসছে, যে গুগল অন্যান্য সাইটগুলোকে অর্থ প্রদান করবে, এই ‘ইকো সিস্টেম’ সমর্থন করতে হবে৷”
বলাবাহুল্য, গত কয়েক বছর ধরেই ইউরোপে গুগলের মতো নিউজ ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে মূলধারার সংবাদপত্রের বিরোধ চলছে৷ ২০০৭ সালে বেলজিয়ামের আদালত সেদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের প্রথম লাইনে গুগলের নিউজ সাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷ ২০০৫ সালে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি দাবি করে, গুগল অবৈধভাবে তাদের সংবাদ এবং ছবি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে৷ এই ‘অবৈধ' কর্মকাণ্ড বন্ধে মামলাও করে সংবাদসংস্থাটি৷ দু'বছর পর অবশ্য গুগল এবং এএফপি বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলে৷
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটেও এই বিলের সমালোচনা করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা৷ তবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় গণমাধ্যমগুলো আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্যাবিনেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।
গুগল নিউজের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত৷ সার্চ জায়ান্ট গুগলের নিউজ ওয়েবসাইটটি দেখতে আসলে কোনো পত্রিকার প্রচ্ছদের মতো নয়৷ এই ওয়েবসাইটে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদের শিরোনাম এবং ছবি প্রকাশ করা হয়৷ এসব শিরোনাম বা ছবি বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইট থেকে গ্রহণ করা হয়৷ এরপর সেসব শিরোনাম বা ছবিতে ক্লিক করলে তৃতীয় ওয়েবসাইটটিতে সেটি দেখা যায়৷
গুগল ছাড়াও আরো অনেক ওয়েবসাইট এরকম সংবাদ পরিবেশনের সেবা প্রদান করে থাকে৷ তবে এই সেবা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে৷ বিশেষ করে যেসব পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম এভাবে প্রদর্শিত হয়, তারা এভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন না৷ জার্মান সরকার এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে গত বুধবার একটি আইন অনুমোদন করেছে৷ এই আইনের আওতায় গুগলের মতো ‘নিউজ এগ্রিগেটর' ওয়েবসাইটগুলোকে অন্যান্য পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে অর্থ প্রদান করতে হবে৷
গুগল জার্মান সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে৷ তারা এই আইন প্রকাশের দিনকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করে বলেছে, জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগ’র উচিত হবে এই আইন বাতিল করে দেয়া৷
গুগল জার্মানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘‘ইন্টারনেটে এধরনের হস্তক্ষেপ পৃথিবীতে এই প্রথম৷” এরফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্র কমে যাবে বলেও দাবি করেন গুগল মুখপাত্র৷
তবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়বেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বে না৷ তার কারণ হচ্ছে, যে নিউজগুলো যেখান থেকে পড়া দরকার, মানুষ সেখান থেকে গিয়েই পড়বে৷”
জার্মান সরকারের আইনে কার্যত কপিরাইট বিষয়ে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এতে করে সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের শিরোনামও বিক্রির সুযোগ পাবে৷ জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন সাইবার্ট এই বিষয়ে বলেন, এই বিল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সংবাদ পোর্টালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷ তার মানে হচ্ছে ব্লগাররা, অলাভজনক সংস্থাগুলো, আইনজীবীরা এবং ভোক্তারা সংবাদ শিরোনাম উদ্ধৃতি করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে কোন বাধা নেই৷ তবে এই আইন প্রয়োগের আগে জার্মান সংসদ, বুন্ডেসটাগ’র চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে৷
ওয়েবপোর্টাল প্রিয় ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা জাকারিয়া স্বপন মনে করেন, জার্মান সরকারের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকারেরও এধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত৷ তিনি বলেন, ‘‘অনলাইন পত্রিকাগুলো একটি ‘বিজনেস মডেল’ তৈরির চেষ্টা করছে৷ যাতে করে তারা একটি টেকসই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে৷ এবং সেই অবস্থায় পৌঁছাতে গেলে এই ধরনের কার্যক্রমগুলোকে সমর্থন করতে হবে৷ আমি বলতে চাচ্ছি, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশগুলো যে নিয়মের মধ্যে আসছে, যে গুগল অন্যান্য সাইটগুলোকে অর্থ প্রদান করবে, এই ‘ইকো সিস্টেম’ সমর্থন করতে হবে৷”
বলাবাহুল্য, গত কয়েক বছর ধরেই ইউরোপে গুগলের মতো নিউজ ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে মূলধারার সংবাদপত্রের বিরোধ চলছে৷ ২০০৭ সালে বেলজিয়ামের আদালত সেদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের প্রথম লাইনে গুগলের নিউজ সাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷ ২০০৫ সালে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি দাবি করে, গুগল অবৈধভাবে তাদের সংবাদ এবং ছবি সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে৷ এই ‘অবৈধ' কর্মকাণ্ড বন্ধে মামলাও করে সংবাদসংস্থাটি৷ দু'বছর পর অবশ্য গুগল এবং এএফপি বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলে৷
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটেও এই বিলের সমালোচনা করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা৷ তবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় গণমাধ্যমগুলো আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ক্যাবিনেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

No comments:
Post a Comment