দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে দেশে প্রথমবারের মতো তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি)
মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক সেবা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভিডিও কলের মাধ্যমে রাষ্ট্রয়াত্ব
মোবাইলফোন টেলিটক গ্রাহকদের জন্য ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ থ্রিজি’র এই বাণিজ্যিক
কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় টেলিটক’র থ্রিজি সিম
ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।
সোমবার থেকে টেলিটক গ্রাভিটি ক্লাবের সদস্যরা এবং কয়েকদিন পর থেকে সাধারণ
গ্রাহকরা প্যাকেজ সেবা গ্রহণের মাধ্যমে এই সেবা পাবেন বলে বার্তা২৪ ডটনেটকে
জানিয়েছেন টেলিটক এর বিপণন পরিচালক হাবিবুর রহমান।
তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দফায় ঢাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার, আশুলিয়া,
গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অত্যাধুনিক এই সেবা পাওয়া যাবে। আর এ সংক্রান্ত
তথ্য সোমবার গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হবে।
তাহলে কি টেলিটক বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি সেবা দেয়ার সব প্রস্তুতি এখনো
সম্পন্ন করতে পারেনি এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করে টেলিটক এর
এই কর্মকর্তা বলেন, “রাজধানীর টেলিটক গ্রাহকরা যাতে স্বাচ্ছন্দে থ্রিজি
সেবা উপভোগ করতে পারেন তার জন্যে সব রকম প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে
ঢাকায় বিটিএস সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।” এর ফলে কল ড্রপ বা নেটওয়ার্কসংক্রান্ত
অন্যান্য সমস্যা কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
টেলিটক এর সাধারণ গ্রাহকরা কীভাবে এই সেবা পেতে পারেন প্রশ্নের জবাবে
হাবিবুর রহমান বলেন, “সাধারণ গ্রাহকরা কোড এসএমএস এর মাধ্যমে এই সেবার
আওতায় আসেতে পারবেন। আর যদি গ্রাহকের সিমটি ১২৮কেবি না হয় তবে সেবা পেতে
নতুন করে সিম ওঠাতে হবে।” এছাড়া খুব শিগগিরই রাজধানীতে টেলিটকের তিন হাজার
রিটেইলার পয়েন্ট ও আটটি কাস্টমার সেন্টার থেকে থ্রিজি সিম বিক্রি শুরু হবে
বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “আমরা আপতত ২০ লাখ গ্রাহককে থ্রিজি সেবা প্রদানের পরিকল্পনা
নিয়ে মাঠে নেমেছি। তবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহরের চার লাখ গ্রাহক এই সুবিধা
পাবেন।”
থ্রিজি চালুর কারণে কলরেটে কনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে
হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে টেলিটক যে কলের যে হার নির্ধারণ করেছে
তাতে ভয়েস কলের (শুধু কথা বলা) রেট এখন যা আছে থ্রি-জি’তেও তাই থাকবে।
অন্যান্য সুবিধার জন্য যে বিল ঠিক করা হচ্ছে তা পাশবর্তী দেশ ভারত ও
শ্রীলংকার চেয়ে কম হবে।”
সাধারণ গ্রাহকদের চেয়ে থ্রি জি সেবা গ্রহিতার চেয়ে অতিরিক্ত সুবিধা পাবে
এমন প্রশ্নের জবাবে টেলিটক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান
বার্তা২৪ডটনেট-কে জানান, থ্রিজি চালু হলে থ্রিজি’তে কোনো কল ড্রাপ থাকবে
না। মোবাইল হ্যান্ডসেটে ইন্টারনেটের গতি অন্তত দশগুন বাড়বে বলে আশা করছেন
সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ এখন যে কাজ করতে দশ মিনিট লাগে থ্রিজি সেবা চুলুর
কারণে এক মিনিটেই সেই কাজ শেষ করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, একইভাবে গতি বেড়ে যাওয়ার কারণে মুঠোফোনেই টেলিভিশন দেখা
যাবে। আর এ জন্য গ্রাহকদের প্রতি মিনিটে দুই টাকা খরচ হবে। এছাড়াও থ্রিজি
নেটওয়ার্ক থাকার কারণে মোবাইলে যিনি কল করবেন তার ছবি দেখা যাওয়ার পাশাপাশি
অবস্থান সম্পর্কেও জানা যাবে। ভিডিও কলের ক্ষেত্রে মিনিটে দুই টাকারও কম
খরচ পড়বে। টেলিটকের থ্রি-জির সব সার্ভিসেই ১০ সেকেন্ড পালস সুবিধা থাকবে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই ঘরে বসেই সন্তানদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ
করা যাবে।
এই থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই আগামীতে পুলিশ শহরের সব সড়কের গাড়ির
গতিবিধি দেখে অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যাম নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ
করেছেন টেলিটক এর এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
থ্রিজি’ চালুর সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু মোবাইলে টিভি দেখার সুযোগ বাড়বে সে
সুযোগ কাজে লাগাতে টেলিটক কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জানতে চাইলে মুজিবর রহমান
বলেন, “বিষয়টি টেলিটক মাথায় রেখেছে। এজন্য উদ্বোধনের পরদিন থেকে মুঠোফেন
টিভিলিংক শেয়ার স্থাপনে বিটিভি’র বাইরেও সময় টিভি, জিটিভি, আরটিভি ও
মাইটিভি’ দেখার সুযোগ তৈরির আয়োজন করা হয়েছে।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে এসময় মুজিবুর রহমান আরো বলেন, “ভিডিও কল ও
ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। থ্রি জি মোবাইল
প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিতে তথ্য পরিবহণ সম্ভব বলে জিপিএসের মাধ্যমে পথ
নির্দেশনা পাওয়া, উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ
নেয়া বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।” সে জন্য ইতিমধ্যেই কেবল রাজধানীতেই ৪০টি
বিটিএস ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।