Pages

Sunday, October 14, 2012

রাজধানীতে সক্রিয় নারী প্রতারকচক্র :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীতে সক্রিয় নারী প্রতারকচক্র :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
  রাজধানীতে এখন নারীরাও প্রতারণার ফাঁদ পাতছেন। মুঠোফোন কিংবা সাক্ষাতে পরিচয়ের সূত্র ধরে কৌশলে অপহরণ চেষ্টা, ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়, মারধর ও ছিনতাই করে সর্বস্ব লুটের কাজে প্রতারকচক্রের সহযোগী হয়ে তারা কাজ করছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। তবে সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনেকেই মুখ খুলছেন না।

অন্যদিকে রাজধানীতে এ ধরনের ঘটনার বিস্তৃতি ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তৎপরতাও চেখে পড়ছে না। বরং অনেকের অভিযোগ, এ ধরনের কাজের সঙ্গে তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। নারী প্রতারকরা পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি, হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা, এলিফেন্ট রোডের ইস্টার্ন প্লাসের উল্টোদিক, নিকেতনের পাশে ফুয়াং ক্লাবের সামনের রাস্তা প্রতারণার প্রধান স্পট হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

এ মাসের প্রথম দিকে এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্লান শপিংমলের উল্টো দিকে কফি হাউস রেস্তোরাঁয় বেবী নামের এক নারীর সঙ্গে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরানের পরিচয় হয়। বেবী বয়সে বেশ বড় হলেও দুজনেই বন্ধুত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তবে কিছুদিন না যেতেই বেবীর সঙ্গে মহাখালী এলাকার আবাসিক একটি হোটেলে ইমরান দেখা করতে গেলে তাকে কয়েকজন যুবক মারধর করে মোবাইল ফোনসহ কয়েক হাজার টাকা কেড়ে নেয়।


গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী সাব্বির ঢাকায় আসেন। ঢাকার পান্থপথের এক পরিচিত শপিং সেন্টারে নতুন মোবাইল কিনতে যান। এ সময় পাশের দোকানে মোবাইল কিনতে আসা সুন্দরী এক তরুণীর ইশারায় শপিংমলের নিচে আসতেই কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে সর্বস্ব লুট করে নেয়। এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ করা হলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও যুবকেরা হুমকি দেন।

এ বছরের জুন মাসে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিঠুনের (ছদ্মনাম) মুঠোফোনে অনন্যা নামের এক তরুণীর ফোন আসে। পরিচয়ের কয়েক মাসে মুঠোফোনেই তাদের প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্তও নেন। এ সময় গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তরুণীটি দুজনের একান্তে কাটানো কিছু সময়ের ছবিও তুলে রাখেন। তারপর থেকেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল।

নিজেদের অনন্যার বন্ধু দাবি করে নানা সময়ে অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে কিছু যুবক মিঠুনকে ফোন করে। এ সময় তারা অনন্যা ও মিঠুনের গোপন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেবার হুমকি দেয়। মিঠুনের কাছে তারা মোটরসাইকেল এবং দুই লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনার পর থেকেই অনন্যার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সামাজিক সম্মানের ভয়ে জুলাই-ডিসেম্বর সেশনের সেমিস্টারের ৬৭ হাজার টাকা, পালসার মোটরসাইকেল এবং নকিয়া এন৮ মোবাইল ফোনের বিনিময়ে মিঠুন তাদের সাথে ঘটনার মীমাংসা করতে বাধ্য হন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মিঠুন বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, ‘‘সামাজিক দিক বিবেচনা করে এ ব্যাপারে কোনো থানায় লিখিত অভিযোগ করিনি। তবে আর কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য গণমাধ্যমকে জানাচ্ছি।’’

পুলিশের কথা

এ ব্যাপারে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ জাতীয় ঘটনায় লিখিত অভিযোগ তেমন পাওয়া যায় না। তবে পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

র‌্যাব পরিচালক (তদন্ত) রওশন আরা এ ব্যাপারে কিছু না বলে মৃদু হেসে বলেন, ‘‘এমন ঘটনার নজির আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে কারো ব্যাপারেই ব্যবস্থা নেয়া যায় না।’’

No comments:

Post a Comment