Pages

Sunday, October 14, 2012

উপকূলে এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ, নেই উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

উপকূলে এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ, নেই উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঝড়ের আঘাতের পর এলাকায় এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যদিও সেখানকার প্রশাসন বলছে, গভীর সমুদ্রে থাকার কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো ফিরে আসতে সময় লাগছে।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে তাতে আশংকা কাটেনি। স্থানীয়রা সরকারি তৎপরতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে এর মধ্যেই ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হয়েছে, যদিও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সাহায্য পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগছে।

উপকূলীয় জেলাগুলোয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের পর থেকে চট্টগ্রাম, ভোলা আর নোয়াখালী মিলে তিনশ'র বেশি জেলে নৌকা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

সেই হিসাবে এখনো কোনোরকম খোঁজ পাওয়া যায়নি, এরকম জীবিত বা মৃত মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজার।

ভোলায় মনপুরার সখিনা খাতুন টেলিফোনে বলেন, তার স্বামী, একটি জেলে নৌকার কর্মী, মোতাহার হোসেন ঝড়ের পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।

“হঠাৎ আসা ঝড়ে তাদের নৌকা উল্টে গেলে অন্য কর্মীরা সাঁতরে উপকূলে ফিরে আসতে পেরেছে, কিন্তু আমার স্বামীর এখনো কেো খোঁজ নেই।” বলছেন সখিনা।

মনপুরার একজন মাছ ব্যবসায়ী ফারুক উদ্দিন জানান, বুধবার ছিল সেখানে সাপ্তাহিক হাটের দিন। সে কারণে সেখানে আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে নৌকা নিয়ে অনেক মানুষ এসেছিলেন। তাদের অনেকের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সরকারি হিসাবে, ঝড়ের পর এই তিনটি জেলায় মৃতের সংখ্যা আরো চারজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭।

কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরো বেশি। কারণ দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের সমস্যার কারণে অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।

তারা অভিযোগ করছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারিভাবে কোনো উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়নি।

তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ বলে যেসব জেলে নৌকার কথা বলা হচ্ছে, এসব নৌকা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে বলেই তারা আশা করছেন। কারণ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কারণে এসব নৌকার ফিরে আসতে সময় লাগছে।

এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নৌকা বা মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, এরকম অভিযোগ এখনো তাদের কাছে নেই।”

তিনি বলেন, “'মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলা হলেও, আমাদের কাছে বা পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি যে তাদের কোনো আত্মীয়কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম বা নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলছেন, গাছপালা পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, এমনকি যাদের ত্রাণ দেয়া হবে, তারাও নিজেদের ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রথমদিন ত্রাণ বিতরণে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।

তবে শুক্রবার থেকে সরকারি তরফে সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পুরোমাত্রায় শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে এখন ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে চাল, টিন আর নগদ টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যন্ত এসব জেলায় নৌপথে চলাচল করা গেলেও, রাস্তায় রাস্তায় বড় আকারের গাছ পড়ে থাকার কারণে এখনো সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: বিবিসি

No comments:

Post a Comment