পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত বিশ্বব্যাংকের তদন্ত
প্যানেলের সদস্যরা বৈঠকের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে গেছেন।
রোববার বেলা সোয়া তিনটার দিকে তাদের বহনকারী গাড়ি রাজধানীর সেগুনবাগিচায়
দুদক কার্যালয়ে পৌঁছায়। সোমবারও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবে এই বিশেষজ্ঞ
প্যানেল।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছান বিশ্বব্যাংকের তদন্ত প্যানেলের
সদস্যরা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই
গ্যাবরিয়েল মোরেনো ওকাম্পো প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
৫ অক্টেবার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। এই বিশেষজ্ঞ দলের অন্য দুই সদস্য হলেন হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং ও আমেরিকার সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান।
গত বুধবার বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রতিনিধিদলের
সফর মূলত প্রাথমিক ও পরিচয়মূলক, যা নিয়মিত ও ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি সফরের
মধ্যে প্রথম। বিশেষজ্ঞ দলটি এবার পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্তের
পর্যাপ্ততা পর্যালোচনা করবে। এরপর বিশ্বব্যাংকের কাছে পর্যালোচনা প্রতিবেদন
পেশ করবে দলটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ও প্রকল্পের অন্য উন্নয়ন
সহযোগীদেরও প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হবে।
গত ২৯ জুন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগে পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। এরপর বিশ্বব্যাংকের দেয়া চারটি শর্ত পূরণ করায় নতুন করে পদ্মা সেতুতে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় দাতা সংস্থাটি।
এখন বিশ্বব্যাংকের দেয়া চার শর্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের ওপরই পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ-সহায়তা নির্ভর করছে। এর বাইরে সেতু নির্মাণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে আরেকটি দল চলতি মাসেই ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
No comments:
Post a Comment