Pages

Wednesday, October 10, 2012

মরিয়ার, হিচকক, মনিরত্নম আর ঐশ্বরিয়া :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

মরিয়ার, হিচকক, মনিরত্নম আর ঐশ্বরিয়া :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
 এতদিনে মনের মতন একখান চিত্রনাট্য পেয়েছিলেন নায়িকা; ক্ষণিক বিরতির পর তাই অনেকটা নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়- এমন কাহিনি নিয়েই রুপোলি পর্দায় ফেরার ফন্দি ভাঁজছিলেন তিনি! তাও কপালে সইল না?

আসলে নিন্দুকদের মুখে আচ্ছাসে ঝামা ঘষে আবার ছায়াছবির রুপোলি পর্দায় ফিরে আসছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন- এটা একদম পাকা খবর হয়েই ছিল। মোটের ওপর নেহাতই একখান মামুলি খবর; ঐশ্বরিয়া পেশায় অভিনেত্রী- তিনি তার তিলে তিলে তৈরি করা জায়গা খামোখা ছেড়ে দেবেনই বা কেন? মা হওয়ার সময় সব মেয়েরাই কাজেকম্মে ছুটি নেয়; ঐশ্বরিয়াও নিয়েছিলেন। কাজেই খবরটা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর মতো কিছু আছে কি?

আলবাত আছে। যে ছবিতে দেখা যাবে মাদার বচ্চনকে এতদিন পর, সেই ছবির গল্পের নায়িকার পরিস্থিতির সঙ্গে ভালই মিল ছিল ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে বাজার গরম করা গুজগুজ-ফুসফুসের! তা, ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে বাজার কী বলে? কী বলে না- সেটা বলাই বোধহয় ভাল হবে। সবাই বলে, যোগ্যতার চেয়ে কিছু বেশিই পেয়ে গিয়েছেন ঐশ্বরিয়া; এতটাও সাফল্যের হকদার তিনি নন! এও রটে পাঁচকানে যে, বচ্চন-পরিবারের বধূ হওয়ার মতো ব্যক্তিত্বও তার নেই; ওটা নেহাতই পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা সুযোগ! পাশাপাশি, ইদানিং আরও একটা অভিযোগ আছে নায়িকার বিরুদ্ধে। এই ঐশ্বরিয়া আগের ঐশ্বরিয়ার মতো অতটাও গ্লাম্যারাস নন!

এইসব উড়ো খই আঁচল পেতে ধরাটা যে কোনও কাজের কথা নয়, তা তো সবাই জানে! লোকে কী না বলে- সে কথায় কান দিতে নেই। তা বলে কি একটু-আধটু মাথা গরম হয় না, নাকি ভাল করে ঠুকে দিতে সাধ যায় না নিন্দুকদের? অনেক দিন এসব সহ্য করেছেন ঐশ্বরিয়া; এবার মুখ খুলেছিলেন তিনি। তবে প্রেস কনফারেন্স ডেকে নয়; আগামী ছবির গল্প দিয়ে! কী সেই ছবি?

ছবির গল্পটা পরিচালকের নিজস্ব নয়; ১৯৩৮ সালের জনপ্রিয় ফরাসি লেখিকা দ্যু মরিয়ার-এর ‘রেবেকা’ থেকে অনুপ্রাণিত। আর পরিচালকের নাম মনি রত্নম। সেই গল্প বলছে, রেবেকা নামে এক মধ্যবিত্ত মেয়ে কপাল  জোরে বিয়ে হয়ে উঠেছিল এক অভিজাত পরিবারে। আর সেখান থেকেই শুরু হল বিপত্তি! ম্যাক্স-এর নববিবাহিতা বউকে নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও গভর্নেস মিসেস ডেনভার্স দু’ চক্ষে দেখতে পারতেন না বধূটিকে। কথায় কথায় তিনি মনে করিয়ে দিতেন, এই মেয়েটি ম্যাক্সের আগের বউ রেবেকার মতো সুন্দরী নয়, এই মেয়েটি অভিজাত পরিবারের বধূ হওয়ার যোগ্যই নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। রেবেকার ছায়ার তলায় থাকতে থাকতে অতিষ্ঠ হয়ে কীভাবে রেবেকা-রহস্যের সমাধান করল নববিবাহিতা, সেটাই ‘রেবেকা’ উপন্যাসের মজা! এবার বোঝা যাচ্ছে তো, কেন এই চিত্রনাট্য কিছুটা হলেও খাপ খেয়ে যায় ঐশ্বরিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে?

অবশ্য ঐশ্বরিয়া আছেন, আর কোনো বিতর্ক নেই তার অভিনীত ছবি নিয়ে-তাও কি হতে পারে? কখনই পারে না। তা, এবারের বিতর্কটা কী? না, দু'-দুটো বিতর্ক ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে তৈরি না-হওয়া এই ছবিটাকে ঘিরে। প্রথমত, মনি রত্নম-এর এই ‘রেবেকা’ নাকি হতে চলেছে আলফ্রেড হিচকক-এর ১৯৪০ সালের ওই একই নামের ছবির টুকলি! সেই ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছিপছিপে সুন্দরী জোন ফন্টেন; সেই ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস মেনেই বেছে নেওয়া হয়েছে ঐশ্বরিয়াকে। অবশ্য, ছবির শেষটা মূল উপন্যাসে যা ছিল, তা প্রযোজকদের দাবি মেনে ছবিতে রাখতে পারেননি হিচকক। ম্যাক্স রেবেকাকে খুন করলেও হিচককের ছবিতে সেই মৃত্যুকে দেখানো হয়েছিল আকস্মিক এবং সুখী দাম্পত্যে ফিরে গিয়েছিল নায়ক-নায়িকা। তা, মনির ছবিতে শেষটা কেমন হবে? এই জায়গা থেকেই শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় বিতর্ক- ছবিটা আদৌ হচ্ছে কিনা!

সে কী? ছবি হচ্ছে না? গুজব যাই রটুক না কেন, মনি কিন্তু ঝেড়ে অস্বীকার করছেন আগামী এই ছবির কথা! 'এখনও কদল ছবি নিয়ে ভীষণই ব্যস্ত হয়ে আছে মনি, অন্য ছবি নিয়ে ভাবার সময় কোথায়', জানাচ্ছেন মনিজায়া সুহাসিনী! 'কদল' ছবি এখন পোস্ট-প্রোডাকশনের মুখে; সেটা শেষ হবে, তার সাফল্য উপভোগ করবেন, খানিক বিশ্রাম নেবেন- তার পরে না নতুন ছবির পরিকল্পনা! তাহলে এখন কী করবেন ঐশ্বরিয়া?

সে যাই হোক, ঐশ্বরিয়ার পক্ষে যে এই ছবি লাভজনক হতো-তাতে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। নায়িকার প্রথম ছবি ‘ইরুভর’-ও মনি রত্নমের হাত ধরেই; এবং যখনই প্রয়োজন পড়েছে, নায়িকার ডুবন্ত কেরিয়ারকে ‘গুরু’, ‘রাবণ’ প্রভৃতি একের পর এক হিট ছবি দিয়ে টেনে তুলেছেন মনি। এবারেও যে তার ব্যতিক্রম হত না- এমনটা আশা করাই যায়। কিন্তু ছবির ভবিষ্যত তো ঝুলে আছে শূন্যে! কী পরিণতি হবে নায়িকা এবং তার এই ছবির-সময়ই কেবল সেটার জবাব দেবে। সূত্র: ওয়েবসাইট।

এতদিন কোথায় ছিলেন :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

এতদিন কোথায় ছিলেন :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
  জ্ঞান হওয়া ইস্তক সেই রূপকথার বন্দিনী আমাকে বলতেন, ইংরেজি পড়। জীবনের দরজা খুলে যাবে। আমার মতো ভাত রান্না করতে হবে না। ছোটহাতের বি-কে উল্টে দিলে ডি হয়, এন হলো ডিগবাজি খাওয়া ইউ। নিজে হাতে শিখিয়েছিলেন। কাঁচের আলমারির রঙবেরঙয়ের ইয়ামোটা বইগুলো পড়তে পারার লোভ দেখিয়ে নির্ভুল বানান লেখাতেন ধৈর্য ধরে। স্টিভ জোবসকে জানার অনেক আগেই, অ্যাপল বানানে কটা পি লাগে, ঠিক জেনেছিলাম তারই কাছে।

তারপর কখন রেডিয়ান্ট রিডারের লক্ষ্মণরেখা পার হয়ে, বন্দিনীর আঙুলের মুঠি ছাড়িয়ে, তাকে অনেক পিছনে ফেলে ফিনিশ লাইন ছুঁয়ে ফেললাম। আলমারির ইংরেজি বই টেনে আগাপাশতলা পড়া হয়ে গেল। সাহেবি ঢংয়ে ইংরেজি বলে হাইহিল পরার ছাড়পত্র মিলে গেল। পিছন ফিরেও দেখিনি আমার রূপকথার রানি কোন দাগে আটকে রইলেন। স্বপ্নের সব রূপ-রস-নির্যাস আমাকে দিয়ে, আমার জীবনের দরজাটা খুলে দিয়ে, এখনও তিনি ধূমায়িত রান্নাঘরে প্রতিদিনের জীবন অনুশীলন করেন। করেই চলেন।

এক কখায়, ইংলিশ ভিংলিশ সেই সব রূপকথার বন্দিনীকে আবার সিংহাসনে বসাল। সেই মায়েরা, যাদের জীবনে বলার কিছুই নেই, তাদের গল্পই বললেন পরিচালক গৌরী শিন্ডে এবং শ্রীদেবী। একই সঙ্গে পরিচালক আর নায়িকার নাম বললাম। শ্রীদেবী, কামব্যাক হো তো অ্যায়সি! বিস্ময়বোধক শব্দ অভিধানে বড় কম। প্রত্যেক ফ্রেমে এই হিম্মতওয়ালি যেভাবে ‘চরিত্র’ হয়ে উঠলেন, না দেখলে কল্পনা করা অসম্ভব। এক সেকেন্ডও চোখ সরালে মিস করবেন তার অভিব্যক্তির অনুপুঙ্খ। ছবিতে ছেলের মনোরঞ্জনের জন্য মাইকেল জ্যাকসন-এর নাচ (যার আয়ু মোটে ছ সেকেন্ড) ছাড়া শ্রীদেবীর নাচ দেখতে পাবেন না। তাতে কী! যা দেখতে পাবেন, তাতেই বলবেনই, এতদিন কোথায় ছিলেন, শ্রীদেবী!

সব ‘সরস্বতী বিদ্যালয়ে’ পড়া, ইংরেজি-না-জানা ‘অসহায়’ মায়েদের সম্মিলিত চরিত্রর ঠাসবুননে তৈরি এক চরিত্রে, একা অভিনয় করে দেখালেন শ্রীদেবী। সংসারে থেকেও যারা প্রায় অদৃশ্য। যাদের মধুমালতী হাতের ছোঁয়ায় সুস্বাদু হয় ঘরের খাবার, একটা জানলা-দরজাহীন চৌখুপির মধ্যেই যাদের রাতদিনের শ্রম, তাদেরই গল্প।
শ্রীদেবীর চরিত্র শশী সকালের কাগজে বাইরের বিশ্বটুকু জানতে শুরু করলেই যার স্বামী ডেকে ওঠেন, চা চাই। ছেলের স্কুল, মেয়ের ক্লাসের স্ক্র্যাপবুক, মনের মতো খাবার, প্রাণান্ত পরিশ্রম আর অঢেল মমতা দিয়েও যে তার অক্ষমতাকে ঢাকা দিতে পারে না। তুচ্ছ হয়ে যায় ইংরেজি জানা মেয়ে ও স্বামীর কাছে। একটি ভাষা জানা-না-জানার মধ্যে দিয়েই একটি সংসারের মধ্যেও কেমন ক্ষমতার আসনগুলো ওলটপালট হয়ে যায়।।। এই শশীই অসাধারণ লাড্ডু বানায়। বাড়ি বাড়ি হোম ডেলিভারি দিয়ে খুঁজে নেয় মুক্তির স্বাদ। আয়রন চেস্টে জমিয়ে রাখে সঞ্চয়। সেখানেও স্বামীর তাচ্ছিল্য। তোমার কি এটা না করলেই নয়। লাড্ডু বানানোর জন্যই কি তোমার জন্ম হয়েছে?

তাক লাগালেন পরিচালক। কোনো গল্প ছাড়াই আড়াই ঘণ্টা সম্মোহিত করে রাখলেন দর্শককে। অথবা শুধুই দর্শকের সঙ্গে ট্রিকস খেলে চললেন? চার দেওয়ালের ভেতরের গল্পটা টেনে বের করে নিয়ে এলেন প্রথম বিশ্বে। নিউ ইয়র্কবাসী বোনের বড় মেয়ের বিয়ে, জোগাড়যন্ত্র করতে যেতে হবে তো! এক্ষেত্রে সাধারণত যা হয়, প্রায় পরিচারিকার সম্মান দিয়েই পাঠানো হয় একলা শশীকে। এবেলা তার ইংরেজি-না-জানার জোর খাটে না, স্বামী সংসার ছেড়ে একলা পাড়ি দিতে হয়, ইংরেজি-না-জানা গৃহবধূ বনাম ইংরেজি-সর্বস্ব নিউ ইয়র্ক। কেমন করে ‘সামনা’ করবে সে? এক কাপ কফি আর স্যান্ডউইচ কিনতে গিয়েই যেন সুনামির মুখোমুখি হয় শশী। এই অক্ষমতার হাতকড়া থেকে মুক্তির তাগিদ থেকেই একদিন ‘চুপিচুপি’ ফোন স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসের স্কুলে। লজ্জার ঘোমটা খুলে। সারা জীবনের সিংহভাগ সঞ্চয় চারশ ডলারে ভাঙিয়ে নিয়ে ‘চুপিচুপি’ চার হপ্তার ক্লাশ শুরু করে দিলেন। চার দেওয়াল গণ্ডি থেকে ‘চুপিচুপি’ তিরের বেগে বেরিয়ে বিশ্বসংসারে শ্বাস নেওয়া। ভিংলিশ-এর গণ্ডি পেরিয়ে ইংলিশে উত্তরণ। এই ‘চুপিচুপি’-র বিশ্বে সঙ্গ দিল শশীর আমেরিকাবাসী বোনঝি।

ইংলিশ ক্লাশটা নিয়ে দুচারটে কথা বলি। এটাও একটা ভিংলিশ-এর মিনি-বিশ্ব। স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, চাইনিজ, ওয়েস্ট-ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি আর ভারতীয় ছাত্র পড়তে আসে এখানে। ইংরেজিতে কথা বলতে পারলে স্প্যানিশ গভর্নেস তার মালকিনের ছেলেকে স্প্যানিশ শিখে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে। দক্ষিণ ভারতীয় আইটি স্পেশালিস্ট তার সহকর্মীদের উচিত শিক্ষা দিতে পারবে। পাকিস্তানি ড্রাইভার আমেরিকান বান্ধবী পাবে। ইংরেজি শেখার তাগিদ যাদের আলাদা আলাদা। তবু ইংরেজি না-বলেও একজন ফ্রেঞ্চ নির্দ্বিধায় মনের কথা বোঝাতে পারে এক মারাঠি গৃহবধূকে। সত্যি, চমৎকার স্ক্রিপ্টের ব্যবহার! চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন ইংরেজি ভাষার সারশূন্যতা। মেহদি নেবউ-এর অভিনয় মনে থাকবে অনেকদিন।

ক্লাইম্যাক্স শটের কথাও বলে রাখি একটু। বিয়েবাড়ির পার্টিতে টার্ন আসে শশীর, বিবাহিত দম্পতির উদ্দেশে কিছু বলার জন্য। ইংলিশ স্পিকিং কোর্স করার পর শশী নির্ভুল ইংরেজিতে কথা বলে না। কিন্তু মনের কথা প্রকাশ করতে পারে। নিজের ভেতরে গুমরে থাকা অভিমান উগরে দেয় না, বোধগম্য ভাষায় মোলায়েমভাবে নিজের উপলব্ধির কথা বলে। ক্র্যাশ কোর্সের লক্ষ্যই তাই। লজ্জায় কুঁকড়ে থাকা অভিব্যক্তির গিঁটগুলো খুলে দিয়ে ভাবপ্রকাশের রাস্তা করে দেয়া। শশীর স্পিচে উঠে আসে একটাই আবেদন। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী ‘ইকোয়াল’। সংসারে কেউ কারওর ছোট নয়। পরিচালক যেভাবে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রলোভন থেকে দূরে থাকলেন, তাতে আরও পরিষ্কার হল তার গবেষণার পরিধিটাও।

এইখানে বলে নিই, ছবির নাম কেন ‘ইংলিশ-ভিংলিশ’। শুধু শ্রীদেবীর কল্যাণে নয়। প্লেনে সহযাত্রী হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের সদর্প উপস্থিতিই এর কারণ। ঘাবড়াবেন না। তিনিই ছবিতে বলেছেন, ‘সময় এসেছে ইংরেজি ভাষাকে ভ্যাংচানোর! আর ভয় পেলে চলবে না।’ ছবিতে মিডাস টাচ এই বিগ বি-ই। পাশাপাশি শ্রীদেবী-অমিতাভ। অসাধারণ কমিক সিকোয়েন্স। এক শব্দে, ঐতিহাসিক!

এক নিঃশ্বাসে দেখার মতো ছবি। আধুনিক এবং প্রাচীনমনস্কদের সমানভাবে অবশ্যদ্রষ্টব্য। আর অবশ্যই, যদি এখনও খুব বেশি দূরে চলে গিয়ে না থাকেন, তাহলে ছবি দেখা শেষ করে সেই রূপকথার বন্দিনীকে একবার জড়িয়ে ধরুন। একটি ভাষা না-জানার অপরাধে, তাকে উপহার দেয়া শ্লেষ আর অপমানগুলো ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ না-ই বা পেলেন! সূত্র: জিনিউজ।

স্ট্রোকের ক্ষতি সারাবে ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্ট্রোকের ক্ষতি সারাবে ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

 স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমে যাওয়াসহ নানা জটিলতা সারিয়ে তুলবে ওষুধ। এ জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না। ল্যানচেট নিউরোলজি অব মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্ট্রোকের জটিলতা সারিয়ে তুলতে এনএ-১ নামক একটি ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ। স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন ১৮৫ জন রোগী নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে আমেরিকা ও কানাডার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এনএ-১ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারিয়ে তোলে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ অক্সিজেনের অভাবে মরে যাওয়া কোষগুলো রক্ষা করে। কানাডা ও বৃটেনের প্রায় ১৪টি হাসপাতালে রোগীদের মাঝে সামান্য পরিমাণে এনএ-১ ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে গবেষক দল। ৯২ জন রোগীর দেহে সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। অন্য ৯৩ জনের দেহে স্যালাইনের মাধ্যমে ওষুধ দেয়া হয়।

গবেষকরা জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওষুধ ব্যবহারকারীদের লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে। স্ট্র্রোক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই ওষুধের ব্যবহার আশাব্যঞ্জক; তবে এ নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে। সূত্র: বিবিসি

‘তামাকের মাধ্যমে বছরে ৫৭ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়’ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘তামাকের মাধ্যমে বছরে ৫৭ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়’ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন অব. মুজিবুর রহমান ফকির বলেছেন, ‘‘প্রতি বছর ৫৭ লাখ লোক তামাকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরে তামাকজাত পণ্যে সরাসরি আক্রান্ত হয় ৩৭ হাজার লোক। এ সংক্রান্ত চিকিৎসায় বছরে ব্যয় হয় ৫ হাজার কোটি টাকা।’’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ।

মুজিবুর রহমান ফকির বলেন, ‘‘তামাকের এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে দরকার জনসচেতনতা। দেশের জনগণ যখন এর ক্ষতিকর দিক জানবে, তখন তারা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার থেকে সরে আসবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আইন করলেই হবে না, আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ সংক্রান্ত আইনটিতে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে, যা খুব শিগগিরই সংসদে পাস হবে।’’

তামাকমুক্ত দেশ গড়তে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘‘তামাকের ব্যবহার শুন্যের কোঠায় আনতে হলে সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার। কারণ,  যারাই ক্ষমতায় থাকে, তারা ভোট হারানোর ভয়ে জনগণের জন্য কার্যকর এই ক্ষেত্রটিতে কেনো উদ্যোগ নেয় না।’’

যখন যারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসুক তাদের দেশের জনগণের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক আইজিপি ড. এম এনামুল হক, উবিনীগ নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার প্রমুখ।

সন্তান জন্মদানে অক্ষমদের জন্য সুখবর :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

সন্তান জন্মদানে অক্ষমদের জন্য সুখবর :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
  সন্তান জন্ম দিতে যারা অক্ষম তাদের অনেকের মুখে হাসি ফুটতে আর বেশি বাকি নেই- এমন দাবি করেছেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী৷ কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের দেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে পুরোপুরি সফল হয়েছেন৷

সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষ সন্তানের বাবা-মা হতে চান৷ জগতের সব প্রাণীই চায়৷ এই চাওয়া চিরকালীন৷ কিন্তু চাইলেও অনেকে সন্তানের মা-বাবা হতে পারেন না৷ কারো কারো জন্য এই ‘না পাওয়ার ব্যথা' অবর্ণনীয়৷ এবার একদল কোষবিজ্ঞানীর উদ্ভাবন এই হতাশা থেকে মুক্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখাচ্ছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান জার্নাল ‘সায়েন্স'- এ প্রকাশিত হয়েছে একটি নিবন্ধ৷ ওই নিবন্ধের মাধ্যমেই জানা গেছে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিজ্ঞানীর অভূতপূর্ব সাফল্যের খবর৷ জাপানের এই বিজ্ঞানীদের দাবি, যারা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম, তাদের এই অক্ষমতা দূর করার সম্ভাবনা সৃষ্টির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তারা৷ সাধারণ কোষ থেকে ডিম্বকোষ তৈরি করে দেখিয়েছেন তাঁরা।

মানুষের বড় বড় আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে গিনিপিগ, মশা, মাছি, গরু বা ভেড়ার মতো প্রাণীদের অনেক অবদান৷ কিছুদিন আগে ক্লোনিংয়ের সার্থক রূপায়ণ প্রমাণ করে দেখাতে জন্ম দেয়া হলো মেয়ে-ভেড়া ডলিকে৷ ভেড়া ডলির নাম তাই মানব ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে দেখাতে বেছে নিয়েছিলেন একটি ইঁদুরকে৷ প্রাপ্তবয়স্ক ইঁদুরটি সন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম৷ একে সক্ষম করতে প্রথমে বিজ্ঞানীরা তার দেহ থেকে কোষ নিয়ে সেগুলোর কিছু জিন পাল্টে দিয়ে এমন করে ফেললেন যার ফলে কোষগুলো একেবারে পুরুষদের শুক্রাণু বা মেয়েদের ডিম্বাণু তৈরির সহায়ক আদি কোষের অনুরূপ হয়ে গেল৷ সেই কোষগুলো নিয়ে সাধারণ কোষের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হলো ডিম্বকোষ৷ তারপর ডিম্বকোষ প্রোথিত হলো ইঁদুরের দেহে৷ তারপর সেই ইঁদুরের দেহে তৈরি হলো জননকোষ৷ প্রক্রিয়াটা খুব সহজ মনে হলেও মোটেই সহজ নয়৷ তারপর জননকোষগুলো নিয়ে রাখা হয় টেস্ট টিউবে আর সেখানেই অবশেষে তৈরি হয় নতুন ভ্রূণ৷ তারপর শেষ ধাপ৷ এ পর্যায়ে দরকার পড়ে ‘সারোগেট মাদার'-এর৷ অন্য একটি মেয়ে ইঁদুর এনে তার সহায়তায় জন্ম দেয়া হয় সুস্থ, স্বাভাবিক এক ইঁদুরছানা৷

দীর্ঘদিনের গবেষণা শেষে প্রাপ্তিটা কিন্তু আনন্দে আত্মহারা হবার মতোই৷ নারী-পুরুষের সরাসরি মিলন ছাড়া, দেহের সাধারণ কোষ নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে এক পর্যায়ে সুস্থ শিশুর জন্ম দেয়া- এ প্রায় এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড! বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রক্রিয়ায় যেসব নারী মা হতে ব্যাকুল, কিন্তু দেহে ডিম্বাণু তৈরি হয় না বলে পারছেন না, তাঁরাও মা হতে পারবেন৷ তাঁদের দেহ থেকেও কোষ নিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই সেটা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে৷

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিচিনোরি সাইতো মনে করেন, তাঁদের এই সাফল্য ডিম্বাণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরো স্বচ্ছ ধারণা দেবে এবং সন্তান জন্ম দেয়ায় অক্ষমতার কারণ শনাক্ত করতেও সাহায্য করবে৷ তবে তিনি বলেছেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি, পথ এখনো অনেক বাকি৷ গবেষণার সাফল্য সম্পর্কে সংশয়মুক্ত হতে মানুষ আর বানরের দেহে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সন্তান জন্ম দেয়া যায় কিনা তা দেখার পরিকল্পনা আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

কিন্তু কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাতসুহিকো হায়াসি মনে করেন, মানুষের দেহে সরাসরি এ প্রক্রিয়া চালানোর কথা ভাবা এখনো সম্ভব নয়, কারণ, ইঁদুর নিয়ে কাজ করতে গিয়েই সম্প্রতি দেখা গেছে, আদি কোষ নিয়ে সেগুলোকে আবার অন্য একটি জীবিত ভ্রূণের কোষের সঙ্গে নিষিক্ত করতে হয় এবং তা করতে গেলে ওই ভ্রুণটি মারা যায়৷ কথা হলো, এভাবে নতুন শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে অন্য একটি ভ্রূণ হত্যা কি সবাই মেনে নেবেন? অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষেরই কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হওয়ার কথা৷ সে কারণে মানবদেহে এই প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখার আগে গবেষণা করে বিকল্প উপায় বের করার পক্ষে কাসুহিকো হায়াসি৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে ও এএফপি।

কাজ ও বেতন-ভাতার দাবি হলমার্ক শ্রমিকদের :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

কাজ ও বেতন-ভাতার দাবি হলমার্ক শ্রমিকদের :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 হলমার্ক গ্রুপের শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা ও ঈদের আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠন জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ২৩/২ তোপখানা রোড়ে সংগঠনটির নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ দাবি জানানে হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সহিদুল, অন্তর রহমান, মো. শামীম, জামাল শিকদার, হলমার্ক গ্রুপের শ্রমিক শহিদুল (এবিএস), আতাউর (জেএসএন), জিয়াসমিন (এবিএস), আলমগীর (এবিএস)।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে হলমার্ক গ্রুপের সবগুলো ইউনিট বন্ধ। বায়াররা পূর্বের কাজ ও নতুন করে কাজ দেয়া বন্ধ করেছে। ব্যাংকে এলসি বন্ধের কারণে টাকার লেনদেন বন্ধ। মালিক পক্ষও কারখানার আশেপাশেও থাকে না। আমরা শ্রমিকরা কাজ চাই, পাওনা বেতন-ভাতা চাই। আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকারের কাছে হলমার্কের সব ইউনিট চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি।

হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, আমরা ব্যাংকের টাকা আদায়ে পক্ষে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক এটা আমরাও চাই। কিন্তু সেটা কারখানা বন্ধ রেখে নয়। প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করে হলমার্কের সব প্রতিষ্ঠান চালুর দাবি করছি।

কোরবানির দিন বিকেলের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

কোরবানির দিন বিকেলের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় আসন্ন কোরবানির ঈদের দিন বিকেলের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এ নির্দেশ দেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (স্থানীয় সরকার বিভাগের) সচিব আবু আলম মো. শহীদ খানসহ দেশে ১০ টি সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশনে এ বছর ২০ টি পশুর হাট বসবে। কোনো অবস্থাতেই এসব হাট অবস্থাতেই সড়কের উপরে বসাতে দেয়া হবে না। এ বছরেই প্রথমবারের মতো কোরবানির পশু কেনার সময়েই বর্জ্য সংরক্ষেণের জন্য এটি করে পলিথিনের ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। এ কাজে সহায়তা করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থ্যা (এনজিও)। তবে ব্যাগটি নামমাত্র মূল্যে দেয়া হবে। ব্যাগে সংরক্ষণকৃত বর্জ্য দ্রত অপসারণের জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগামী বছর থেকে আবাসিক এলাকায় কোনো পশুরহাট বসাতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি রাজধানীর বৃহত্তম পশুর হাট নয়াবাজারকে স্থানান্তনের করা হবে। ২০ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর হাট চলবে।”

‘ঘুষখোর’ কর কর্মকর্তার জামিন নাকচ, কারাগারে প্রেরণ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘ঘুষখোর’ কর কর্মকর্তার জামিন নাকচ, কারাগারে প্রেরণ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
ঢাকার কর অঞ্চল ৫-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আশিকুর রহমানের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ এ আদেশ দেন।

ওই কর কমিশনারের জামিন আবেদন করে শুনানি করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন , একজন সরকারি কর্মচারীকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। তার চাকরির স্বার্থে তাকে জামিন দেওয়া হোক।

এ সময় দুদকের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে বলেন , “ওই কর কমিশনার একজন ঘুষখোর। সে এর আগেও ঘুষের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে।”

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার সার্কেল ১০৪ এবং কর অঞ্চল ৫-এ কমর্রত ছিলেন অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আশিকুর রহমান।

এ সময় ওত পেতে থাকা দুদকের সহকারী পরিচালক এবং এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক ঘুষ গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় একজন নির্বাহী হাকিমও ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, করদাতা মিজানুর রহমানের কাছে আসামি এক লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন।  ওই করদাতা ‘ঘুষখোর’ কর্মকর্তার ব্যাপারে দুদককে জানান। পরে দুদকের কর্মকর্তারা করদাতার মাধ্যমে কৌশলে আসামি আশিককে ৫০ হাজার টাকাসহ আটক করেন।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দুদকের কর্মকর্তা ফজলুল হক বাদী হয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মাদক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল চারদিনের রিমান্ডে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

মাদক মামলায় পুলিশ কনস্টেবল চারদিনের রিমান্ডে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের হেফাজতে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।

মরঙ্গলবার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক এনায়েত করিম পুলিশ কনস্টেবল কাশেম আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক এনায়েত বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেছিলেন।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসাবোর হারুন হোটেলের সামনে পুলিশের নীল রঙের গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-ঘ-০২-২১৪৬) তিন ব্যক্তিকে দেখতে পান বাদী এনায়েত।

তিনি গাড়ির কাছাকাছি গেলে দুই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। এ সময় আসামি কাসেম আলী গাড়িটি দ্রুত পেছনে নিতে গিয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগিয়ে দেন। ফলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

পরে গাড়িতে থাকা ৫৮২ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে আটক করা হয়।

ফেনসিডিলসহ আটকের সময় ওই কনস্টেবলের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আসামি কাসেমের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।

৮ মামলায় তানভীর-তুষারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

৮ মামলায় তানভীর-তুষারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ এবং তার শ্যালক ও হলমার্কের জিএম তুষার মাহমুদের বাকি আটটি মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার আসামিপক্ষে আটটি মামলায় জামিনের আবেদন করে শুনানি করলে মহানগর হাকিম আব্দুস সালাম এ জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এরফান উল্লাহ তাদের ২৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া অপর একটি অস্ত্র মামলায় তানভীরকে আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন মহানগর হাকিম কেশব রায়।

আসামিপক্ষে জামিন শুনানিতে বলা হয়, দুদকের দায়ের করা এ মামলায় রিমান্ড আবেদনের কোনো প্রয়োজন নেই। তাদেরকে হয়রানি করার জন্যই এ অযৌক্তিক রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তারা নিয়ম মোতাবেক ঋণ নিয়েছেন এবং নিয়ম মোতাবেক তা পরিশোধ করা হবে।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে বলা হয়, তাদের এসব মামলায়ও ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন পেন্ডিং আছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা সোমবার ম্যাজিস্ট্রেট এরফান উল্লাহ’র আদালতে আসামিদের হাজির করে ১১ টি মামলায় ১০ দিন করে মোট ১১০ দিন রিমান্ড চান। তবে ১১ টি মামলার রিমান্ডের আবেদন থাকলেও সোমবার তিনটি মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন দুদক’র প্রসিকিউটিং জি.আরও।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর থেকে সোনালী ব্যাংকের ঋণপত্র জালিয়াতির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই সঙ্গে তার শ্যালক ও হলমার্কের জিএম তুষার মাহমুদকেও গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা এবং ম্যাগাজিন ও গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব। রাতেই তানভীরকে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঋণপত্র জালিয়াতির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবিরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের দায়ে বৃহস্পতিবার রমনা থানায় ১১টি মামলা করে দুদক। মামলায় সোনালী ব্যাংকের ২০ জন ও হলমার্কের সাত জনকে আসামি করা হয়েছে।

তাজুলের চেম্বারে ডিবির তল্লাশি: নিন্দা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

তাজুলের চেম্বারে ডিবির তল্লাশি: নিন্দা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স টিমের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের চেম্বারে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ১০ থেকে ১২ সদস্যের গোয়েন্দা টিম (ডিবি) হানা দেয়।

তারা সেখানে অবস্থানরত আইনজীবী এবং কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ঘটনার সময় আইনজীবী তাজুল ইসলাম ছিলেন না। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিফেন্স টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, ব্যরিস্টার নাজিব মোমেন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আইনজীবীরা এ ধরনের আকস্মিক অভিযানের কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে ওয়ারেন্ট নেই বলে জানানো হয়।

উপস্থিত আইনজীবীরা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রমে প্রকারান্তরে ডিফেন্স টিমের মামলা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদ করলে ডিবির সদস্যরা কিছুক্ষণ পরে বের হয়ে যায়।

পুলিশি হয়রানির নিন্দা জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, “সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তদের সাক্ষীদের বাড়িতে বাড়িতে যেমন তল্লাশি চালাচ্ছে, তেমনি আমার চেম্বারে হানা দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “মামলার প্রস্তুতি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘৃন্য প্রয়াস চালিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে ডিফেন্স টিম মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করুক তা সরকার চায় না। একটি স্পর্শকাতর মামলার কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত চেম্বারে পুলিশের উপস্থিতি ও ত্রাস সৃষ্টি নজিরবিহীন।”

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এ ধরনের হয়রানিমূলক হানার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে ও মামলার প্রস্তুতি গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

ডিফেন্সের এ আইনজীবী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি পুলিশি হয়রানি বন্ধের জন্য আদালতের  হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মঙ্গলবার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিখিত প্রতিবাদে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিবি পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি বুধবার আদালতের নজরে আনা হবে বলেও তিনি জানান।

২১ জেলার পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

২১ জেলার পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
১১ দফা দাবিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১ জেলায় সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট ১২ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এসএম শাহ আলম মুকুল জানান, সরকারের উচ্চ  পর্যায়ে কথা-বার্তা হওয়ার পর আপাতত এ ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে আগামী শনিবার সকাল ১০ টায় মাদারীপুরে যোগাযোগ ওবাইদুল কাদের ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রী  শাহজাহান খানের সঙ্গে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

শেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধে তিনটি আইনের অনুমোদন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

শেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধে তিনটি আইনের অনুমোদন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রশাসনিক ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিধি-বিধান পরিবর্তন করে তিনটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ তিনটি আইন হলো ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১২’ ‘দি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (সংশোধন) আইন ২০১২’ এবং ‘দি এক্সচেঞ্জ (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) আইন ২০১২’।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভুইঞা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এ তিনটি আইন ছাড়াও সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগের উপস্থাপিত ‘সড়ক তহবিল বোর্ড আইন, ২০১২’ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের উপস্থাপিত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১২’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন ২০১২’ অনুযায়ী আইনটির মেয়াদ আরো দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত আইনটি কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় এবং সংসদ চলমান না থাকায় এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। পরবর্তীতে সংসদের অধিবেশনে এটি আইন আকারে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

শেয়ারবাজার সংক্রান্ত তিনটি আইনে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চাকরির মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে চার করা হয়েছে।

তবে কমিশনের গোপনীয় তথ্য গোপন রাখতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে গোপন তথ্য প্রকাশের জন্য কমিশনের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের ওপর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো চেয়ারম্যান বা কমিশনার কমিশনের গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিধান রাখা হয়েছে বিশেষ আদালত গঠনেরও।

খুনিদের কেউ বিদেশে থাকলেও নিয়ে আসা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

খুনিদের কেউ বিদেশে থাকলেও নিয়ে আসা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, “যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বাইরে খুনিদের কেউ যদি বিদেশেও থাকেন তাকে দেশে নিয়ে আসা হবে।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তাকে তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দফতরে সাংবাদিকদের জানান, সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন সাতজনকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সাতজনের একজন সাগর-রুনির পারিবারিক বন্ধু তানভীর। আরেকজন তাদের বাড়ির এক পাহারাদার। বাকি পাঁচজন হলেন ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যা মামলার আসামি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে সাগর-রুনির বাড়ির আরেক পাহারাদার হুমায়ুন কবিরকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কবিরকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন তিনি।

সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল গ্যালারিতে স্পেনের চিত্রশিল্পী ফান্সিসকো গয়ার চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস, স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুই গেখাগশাকন, বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টসর পরিচালক সুবীর চৌধুরী।

ফান্সিসকো গয়ার জন্ম ১৭৪৬ এবং মৃত্যু ১৮২৮ সালে। প্রদর্শনীতে তার ৮৪টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এটি চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।

তথ্যকে সামাজিক বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

তথ্যকে সামাজিক বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘‘আমেরিকার মতো দেশের গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য উপস্থাপন এখনো চ্যালেঞ্জ। আমাদের জন্যও এটি চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি গণমাধ্যমে খণ্ডিত, আংশিক ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশন নিরুৎসাহিত করাও আমাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ।’’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘ফ্রিডম অব প্রেস ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিআইইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল মোমেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য ‘পণ্য’ নয়। এটাকে একটি ‘সামাজিক বিষয়’ হিসেবে মূল্যায়ণ করতে হবে। এ নিয়ে যারা নাড়াচাড়া করেন (সাংবাদিকরা) জনগণ এবং রাষ্ট্রের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা আছে।’’

‘ফ্রিডম অব প্রেস ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক বইটির লেখক ড. আখতারুজ্জামান তার বইটির নানা দিক তুলে ধরে বলেন, ‘‘বাইটিতে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক বিশদভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। এই পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আইনগত দিকও এতে উঠে এসেছে।’’

এটি সংশ্লিষ্ট পেশাদারদের সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, জাতীয় আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. শাহ আলম, ডিআইইউ’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এস কিউ পাটোয়ারী ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ কাল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসির সংলাপ কাল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বুধবার সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বহুল আলোচিত সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের আসন সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ বিষয়ে কমিশন সাংবাদিকদের মতামত শুনবে।

বেলা ১১টায় আগাঁরগাওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) মিলনায়তনে এ বৈঠক হবে। চলবে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

ইসি সূত্র জানায়, সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে সিনিয়র সাংবাদিকদের কমিশনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত দিনে সিনিয়র সাংবাদিকরা সংলাপে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে তাদের মূল্যবান মতামত দেবেন বলে কমিশন আশাবাদী।

এর আগে এ বৈঠক নিয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘‘বুধবার সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। আমরা সাংবাদিকদের কথা শুনবো। তাদের বিভিন্ন মতামতকে আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আসন সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ডিলিমিটেশন দূর করবো।’’

এ বিষয়ে অতীতের কমিশনগুলোর করা ডিলিমিটেশন দূর করা সংক্রান্ত বিষয় থেকে আমরা ব্যাখ্যা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংলাপের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়।  ওই সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন সীমানা নির্ধারণের ইসির সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে অন্যান্য উপাদানগুলোর প্রতিও মনোযোগ দেয়ার আহবান জানান। কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রথম দিকে কমিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠককে সংলাপ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও এখন এটাকে মতবিনিময় বা মতগ্রহণ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এর কারণ হিসেবে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘‘বৈঠকে আমরাতো শুধু শুনবো, মত দেবো না। তাই এটা মতগ্রহণ বা মতবিনিময় বৈঠক।’’

উল্লেখ্য, এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন এর আগের কমিশন বিদায়ের আগে নির্বাচন কমিশন আইন সংস্কার বিষয়ে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন।

ইসি সূত্র জানায়, সংলাপের অংশ হিসেবে সুশীল ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতগ্রহণের জন্য কমিশনের বৈঠক করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এখনো কমিশন কোনো মতৈক্যে পৌছতে পারেনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আগামীকালের বৈঠকের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানায় সূত্র।

সংলাপে জাতীয় গণমাধ্যমের শতাধিক জৈষ্ঠ সাংবাদিক ছাড়াও নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

আগামী সপ্তাহে আসছে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

আগামী সপ্তাহে আসছে বিশ্বব্যাংকের প্যানেল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেল সামনের সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসছে৷ তারা দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দেবে৷ আর তার ভিত্তিতেই পদ্মা সেতুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্বব্যাংক৷ বাংলাদেশ চেয়েছিল দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত পর্যবেক্ষণে গঠিত আন্তর্জাতিক প্যানেল এবং কর্মপ্রক্রিয়া ঠিক করার জন্য প্রতিনিধি দল এক সঙ্গেই আসুক বাংলাদেশে৷ চেয়েছিল দুর্নীতির তদন্ত এবং সেতুর কাজ পাশাপাশি চলুক৷ কিন্তু তাতে সায় দেয়নি বিশ্বব্যাংক৷ তারা চায় আন্তর্জাতিক প্যানেল আগে দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দেবে৷ তারপরই সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন৷ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানিয়েছেন তাদের এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেমন সময় লাগবে না৷ অর্থমন্ত্রী জানান, তবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ যেখান থেকে বন্ধ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হবে৷ এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে৷ পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদারদের প্রাথমিক বাছাই সবই সম্পন্ন হয়েছিল৷ এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক প্যানেলকে তারা সব ধরনের সহায়তা করবেন৷ আন্তর্জাতিক এই প্যানেলের প্রধান হলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

জজ মিয়ার মতো নাটক সাজাতে আসিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

জজ মিয়ার মতো নাটক সাজাতে আসিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, “সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত হুমায়ুন ওফে এনামুলকে গ্রেফতার করতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক দম্পতির বন্ধু তানভীরকে সন্দেহ করা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জজ মিয়া নাটক সাজানো হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “আমরা জজ মিয়ার মতো কোনো নাটক সাজাতে আসিনি। আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। এ সরকার কখানো এ ধরণের কাজ করতে পারে না।”

তিনি জানান, “গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রফিক, মিন্টু, সাইদ, বকুল, গাড়িচালক কামরুল, তানভীর, দুই জনের মধ্যে প্রহরী রুদ্র ও পলাশ।”

তিনি জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর‌্যন্ত এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে আশা প্রকাশ করেছিলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের রহস্য ১০ অক্টোবরের মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

ওই সময় তিনি বলেছিলেন, “সরকার সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি, এর ভিত্তিতে বলতে পারি, আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

সাগরু-রুনি হত্যাকাণ্ডের এতো দিন পর কেন আসামি ধরা পড়লো এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের কাজ অপরাধ করা। তারা এক জায়গায় অপরাধ করে অন্য জায়গায় চলে যায়।

মন্ত্রী বলেন, “এসব আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। আরো আসামি পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

সাংবাদিকদের আন্দোলন-কর্মসূচির মুখে সর্বশেষে গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সাংবাদিক দম্পতি হত্যা রহস্য আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে উন্মোচন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য সানজিদা খাতুন, স্বরাস্ট্র সচিব সি কিউ এ মোস্তাকসহ র‌্যাব পুলিশের বিভিন্ন কর্মকতা।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

এরপর সাবেক  স্বরষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।

Tuesday, October 9, 2012

নারায়ণগঞ্জে বাড়িভাড়া বাড়ছে লাগামহীন

নারায়ণগঞ্জে বাড়িভাড়া বাড়ছে লাগামহীন
সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জে বাড়িভাড়া বাড়ছে লাগামহীনভাবে। বাড়িওয়ালারা তাদের ইচ্ছামতো বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন। শুধু বাড়িভাড়া নয়, পানির বিল ও বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর অজুহাতে ভাড়া ছাড়াই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
 
তাছাড়া ভাড়া দেয়ার সময় নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকা।
 
বাড়িভাড়া আইনে বাড়িওয়ালাদের এসব স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকলেও সচেতনতার অভাবে বাড়িওয়ালাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে ভাড়াটিয়ারা এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছেন না। ফলে এ সমস্যা থেকে রেহায় মিলছে না ভাড়াটিয়াদের।
 
নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডের বাসিন্দা শান্তনু। তিনি একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চাকরি করেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে তার বাড়িভাড়া ছিল সাড়ে সাত হাজার টাকা। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে তার ভাড়া পাঁচশ টাকা বাড়ানো হয়। জুন মাসে পানির বিল হিসেবে বাড়িওয়ালা তাকে মাসিক তিনশ’ টাকা বাড়তি দেয়ার নির্দেশ দেন।
 
সে অনুযায়ী পানির বিল তার ভাগে কত আসে সে প্রশ্ন তুলে কোনো লাভ হয়নি। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে এক হাজার টাকা ও ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তার ভাড়া আরো এক হাজার টাকা বাড়িয়ে মাসে এখন তার বাড়িভাড়া বাবদ গুণতে হয় ১০ হাজার।
 
তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ বিল নিয়েও রয়েছে ব্যাপক ঘাপলা। তাকে কখনই আসল বিল দেয়া হয় না। বাড়িওয়ালা হাতে লিখে মিটার রিডিং দিয়ে একটি বিল তৈরি করে দেয়। তাদের বিল্ডিংয়ের সব ভাড়াটিয়ার ধারণা, বাড়িওয়ালা তাদের কাছ থেকে প্রকৃত বিদ্যুৎ বিলের দ্বিগুণ আদায় করে থাকেন।
 
এ নিয়ে বিল্ডিংয়ের ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে অনেক ঝগড়া হলেও বাড়িওয়ালার কথাই বহাল থেকেছে। তারা বেশ কয়েকবার মামলা করতে যাওয়ার কথা ভেবেও বাড়িওয়ালাদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় তারা মামলা করতে যাননি।
 
এদিকে শহরের বাইরে নিম্ন মানের টিনসেড বাসাগুলিতেও একই অবস্থা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীর সরল খাঁর বাড়িতে পরিবার নিয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত ভাড়া থাকতেন আদমজী ইপিজেডের ইপিক গার্মেন্টের শ্রমিক আবুল কাশেম প্রধান।
 
তিনি জানান, তার বেতন চার হাজার ৯০০ টাকা। দুই রুমের টিনশেড বাড়ির ভাড়া ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে চাকরি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সরল খাঁ বাড়ির ভাড়া সাত হাজার টাকা করে ফেললেন। নিজেদের বাজেটের মধ্যে বাড়িভাড়াও পাচ্ছিলেন না আবুল কাশেম। তাই স্ত্রীকে সন্তানদেরসহ পাঠিয়ে দিয়েছেন চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে। নিজে ভাড়া নিয়েছেন একটি মেস।
 
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রফিউর রাবিব জানান, বাড়িভাড়া আইন ১৯৯৬ নামের একটি আইন আছে। কিন্তু এর প্রয়োগ নেই। আইন অনুযায়ী ভাড়া দুই বছরের আগে বাড়ানো যাবে না। চুক্তিনামা থাকতে হবে। কিন্তু এসবের ধারে কাছেও নেই নারায়ণগঞ্জের বাড়িওয়ালারা।
 
এ আইন মানানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সিটি করপোরেশন। তারা একটি নীতিমালা তৈরি করতে পারে। সে নীতিমালা পালিত হচ্ছে কি না তা তারা এলাকাভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি।
 
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী জানান, বাড়িভাড়ার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যেহেতু ভাড়াটিয়ারা এক্ষেত্রে অভিযোগ করতে চান না, তাই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাড়িওয়ালারা ভাড়ার রশিদ দেয়া, ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তিনামা করাসহ বাড়িভাড়া আইন মানছেন কি না তা দেখতে পারে। এছাড়া রেন্ট কোর্টটি সিটি করপোরেশনের আওতায় দিলেও তা কার্যকর হবে।
 
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানান, বাড়িভাড়া বিষয় ঢাকা সিটি করপোরেশনের আগে উদ্যোগ নিয়েও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তবে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কারণ বিষয়টি মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমি বাড়িভাড়া আইনটি দেখে এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন কি ভূমিকা নিতে পারে তা দেখব।

রাজশাহীতে বিএসএফের গুলিতে কিশোর নিহত :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজশাহীতে বিএসএফের গুলিতে কিশোর নিহত :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট
রাজশাহীর পবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে এক বাংলাদেশী কিশোর নিহত হয়েছে। রোববার রাত একটার দিকে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজারদিয়াড় সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম সুজন (১৬)। সে ওই এলাকার শুকুর আলীর  ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সুজনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী রোববার রাত একটার দিকে চর মাজারদিয়াড় সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ভারতের হারুডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ করে গুলি চালায়। এতে সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে তার সঙ্গীরা লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সুজনের বাড়ি সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে।

আইনি জটিলতা এড়াতে এ সময় সুজনের পরিবার তড়িঘড়ি লাশ দাফন করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ক্যাম্পে খবর দেন।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, প্রথমে নিহতের স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে দাফন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সুজনের বাবা শুকুর আলী তাকে জানান, বিজিবির অনুমতি নিয়েই তিনি লাশ দাফন করেছেন।

বিজিবি রাজশাহী সদর দফতরের জি-২ মেজর হান্নান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোর হত্যার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হবে।”


এদিকে, রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিজিবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিএসএফর গুলিতেই ওই কিশোর নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে পুলিশ নিহতের লাশটি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মঙ্গলবার তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।