Pages

Monday, October 29, 2012

সরকার ধর্ম ও ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো আঘাত পছন্দ করে না: প্রধানমন্ত্রী

সরকার ধর্ম ও ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো আঘাত পছন্দ করে না: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী বলে তার সরকার ধর্ম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো প্রকার আঘাত পছন্দ করে না।
তিনি বলেন, আমরা ধর্ম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনো ধরনের আঘাত দেখতে চাই না। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে।
প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রোববার সকালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কাল তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, সম্প্রতি রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার তদন্ত চলছে এবং ওই হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের ধরা হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ২৯ সেপ্টেম্বর সংঘটিত বর্বরোচিত ওই ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, কোনোভাবেই এটা বিশ্বাস করা যায় না যে এ ধরনের অমানবিক ঘটনাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, “আমার প্রশ্ন হলো কারা কোন উদ্দেশ্যে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটালো।”
শেখ হাসিনা বলেন, সকল ধর্মেই মানবিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। শান্তির বার্তা রয়েছে এবং একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “কিন্তু মাঝে মধ্যে আমাদের সমাজে এ ধরনের আত্মঘাতী ঘটনা ঘটে যে পথ ধরে আসে অশান্তি এবং এখানে কোনো ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার মধ্যদিয়ে এ দেশের হাজার বছরের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বিনষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের হাজার বছরের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে তা বিনষ্ট করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সংঘনায়ক সুদ্ধানন্দ মহাথেরো, সংঘরাজ ধর্মসেন মহাথেরো, বৌদ্ধ ফেডারেশনের সভাপতি বিশ্বপতি বড়–য়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির মহাসচিব অজিত রঞ্জন বড়–য়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক কনক কুমার বড়–য়া, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি সজল তালুকদার বড়–য়া ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমাত ধর্মমিত্র মহাথেরোও বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সুপ্তা ভূষণ বড়ুয়া। সূত্র: বাসস

Sunday, October 28, 2012

আইনশৃঙ্খলায় বাধা দিলে সর্বক্ষমতা দিয়ে প্রতিহত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :

আইনশৃঙ্খলায় বাধা দিলে সর্বক্ষমতা দিয়ে প্রতিহত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :
বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, ‘যদি কোনো দল বা বিশেষ গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বাধার সৃষ্টি করে, তাহলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে প্রতিহত করা হবে।’

রোববার চাঁদপুরের কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে যুবলীগের প্রতিনিধি সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,  এই দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই এ দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতসহ সব অপশক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।

কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি-সাহিত্যিক বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বিল্লাল।

স্কটল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি চ্যান্সেলর হলেন ড. ইউনূস :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

স্কটল্যান্ডে ইউনিভার্সিটি চ্যান্সেলর হলেন ড. ইউনূস :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর নিযুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ইউনিভার্সিটির সলটায়ার সেন্টারে জাকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

ঢাকার ইউনূস সেন্টার গতকাল এক বিবৃতিতে এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথি উপস্থিত ছিলেন।  এর আগে নতুন চ্যান্সেলর ড. ইউনূস, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক পরে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূস বলেন, “চ্যান্সেলর হিসেবে আমি আমার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করব। এর মধ্য দিয়ে তরুণদের সঙ্গে কাজ করার আরও সুযোগ তৈরি হলো।”

তিনি বলেন, তিনি যা করেছেন তা নতুন কিছু নয় এবং তরুণ প্রজন্ম চেষ্টা করলেই তা করতে পারে।

গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর পামেলা গিলিস একে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমার বিশ্বাস ড. ইউনূসের নেতৃত্ব আমাদের প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের কন্যা অপেরা গায়িকা মনিকা ইউনূসও ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি গান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্কটল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী মাইক রাসেল এবং স্টুডেন্ট প্রেসিডেন্ট কারলা ফাইফে।

এর আগে ২০০৮ সালে মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডি লিট দিয়েছিল এই ইউনিভার্সিটি।

বিবৃতিতে জানা গেছে, গত জুনে মাসে ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর পামেলা গিলিসের আহ্বানে এর চ্যান্সেলর পদ নিতে সম্মত হন ড. ইউনূস।

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার
 মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে নতুন করে শুরু হওয়া জাতিগত দাঙ্গার সূত্র ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষত টেকনাফের নাফ নদী থেকে সেন্টমার্টিন সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার কারণে আরাকানের রোহিঙ্গারা যাতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি এবং কোস্টগার্ডকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহের রোববার থেকে আরাকানের চকপো, পাত্তরখিল্যা, ম্রো, মিনবাউসহ কয়েক টাউনশিপে নতুন করে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয়। এ সময় রোহিঙ্গাদের শত শত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ হামলা ও লুটপাট করা হয়। এসব হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়ে শত শত রোহিঙ্গা ছোট বড় ইঞ্জিন নৌকা করে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করে।
এসব রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন, পুলিশ-বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।
বিজিবি টেকনাফের ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান রোববার সকালে টেকনাফের নাফনদীর শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট থেকে সেন্টমার্টিন উপকূল পর্যন্ত নিজেই বিজিবির টহল পরিচালনা করেন।
সন্ধ্যায় তিনি জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নাফনদীল মোহনা থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোনো নৌযানকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়নি।
তিনি আরো জানান, সাগরপথে কোনোভাবেই যাতে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড। এ ব্যাপারে টেকনাফে বিজিবির জনবলও বাড়ানো হয়েছে।
অপরদিকে উখিয়ার বালুখালী, ঘুমধুম এবং নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্ত দিয়ে গতকাল ১০ জন এবং আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ জন রোহিঙ্গাকে অনুপ্রবেশকালে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
কক্সবাজারের বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান জানান, অনুপ্রবেশের এ চেষ্টাটি স্বাভাবিক ঘটনা। আরাকানে নতুন করে সহিংসতার পর উখিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা শান্ত থাকলেও বিজিবির টহলদলকে জোরদার রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

রোহিঙ্গাদের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে দাঙ্গা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ বলছে, এই সহিংসতায় বাস্তচ্যুত হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসাহায্য দরকার।
মিয়ানমার সরকারের হিসাবেই জুন মাসে দাঙ্গা শুরুর পর থেকে ২০ হাজারের মতো লোক গৃহহীন হয়েছে। তবে জাতিসংঘের হিসাবে গৃহহীনের সংখ্যা অন্ত লাখখানেক, যাদের সিংহভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সর্বশেষ এই সহিংসতায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। শরণার্থীদের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প, নৌকা, বিভিন্ন দ্বীপ ও পাহাড়ের চূড়ায়।

সরকারি প্রতিনিধি দলের সাথে শনিবার এসব এলাকা সফরে গিয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন যে, তাদের এখন জরুরি  ত্রাণসাহায্য প্রয়োজন।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবিষয়ক প্রধান আশোক নিগম বলছেন, প্রকৃত শরণার্থীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছে, এদের কেউ কেউ সাগরে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ নিখোঁজ।

আশোক নিগম বলেছেন, পরিস্থিতি খুবই গুরুতর এবং তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজটাই এখন সবচে বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করার পর মিয়ানমারে  জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধি হান্স টেড ফেল্ড বিবিসিকে বলছেন, “জরুরি ভিত্তিতে যা করা দরকার সেটা হচ্ছে তাদের জন্যে খাবার-দাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। তাদের কাছে অন্যান্য সামগ্রীও পৌঁছাতে হবে। কারণ আগুনে তারা সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।”

এদিকে, মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য সরকারের মুখপাত্র দাবি করছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তবে রাজধানী সিতওয়েতে নতুন করে কোনো শরণার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বলা হয়, সবশেষ এই সহিংসতায় উপকূলীয় চাওপিউ শহরের রোহিঙ্গা মুসলিম-অধ্যুষিত একটি এলাকার পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সংস্থাটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ওই এলাকার ছবিও প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বিবিসির কাছে ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গত জুন মাস থেকে এই সহিংসতা শুরু হয় যাতে এ পর্যন্ত এক লাখের মতো মানুষ উদ্ধাস্ত হয়েছে। এদের প্রায় সকলেই রোহিঙ্গা মুসলিম।
সরকারও স্বীকার করেছে যে সহিংসতায় ৮০ জনের মতো নিহত হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টা, ৬০ জনকে ফেরত ::

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টা, ৬০ জনকে ফেরত 
 মিয়ানমারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নতুন করে শুরু হওয়া দাঙ্গায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮২ জন মারা গেছে। এছাড়া অগ্নিসংযোগে অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সহিংসতায় উপকূলীয় চাওপিউ শহরের রোহিঙ্গা মুসলিম-অধ্যুষিত একটি এলাকার পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।

দাঙ্গা শুরুর পর থেকেই ট্রলার ও নৌকায় করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে দুর্ভাগ্যতবলিত রোহিঙ্গারা। গত দুই দিনে টেকনাফ ও উখিয়া থেকে ৬০ জনকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দেশ টিভির টেকনাফ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শনিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা ৪০টি ট্রলারে করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি ও কোস্টগার্ডের বাধায় পরে তারা ফিরে যায়।
গত দুই দিনে টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে কমপক্ষে ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর পর তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

মিয়ানমারে পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, মিয়ানমারে নতুন করে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হলেও কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সাগরে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার কুতুপালং পাহাড়ে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করছে। এছাড়া সরকারি পাহাড় দখল করে বসবাস করছে আরো দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে সববাসের সুযোগ করে দিতে সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে।
গত মে মাসে একজন বৌদ্ধ নারীকে কয়েকজন মুসলমান ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতায় প্রায় ৮০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল।

সে সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সেখানে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে রোববার থেকে দেশটিতে আবারো জাতিগত সহিংসতা শুরু হয়।সূত্র: বিবিসি ও দেশ টিভি।

চামড়ার প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা :: অর্থ ও বাণিজ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

চামড়ার প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ::

চামড়ার প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগের তীর ট্যানারি মালিকদের দিকে। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে যাতে তারা বাজার থেকে কম দামে চামড়া কিনতে পারে।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ঈদের দিন ও ঈদের পর দিন চামড়া কেনাবেচা হয়। সেখানে সরেজমিনে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যানারি মালিকদের কিছু ফড়িয়া আছে। তারা এগুলোর সঙ্গে যুক্ত। তাদের দিয়ে ইচ্ছে করে এগুলো করানো হয়।

এ ব্যাপারে মিরপুর থেকে আসা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, অনেক বেশি দামে এলাকা থেকে চামড়া কিনেছি। অথচ এরা যা দাম বলছে তাতে লাভ দূরে থাক, চালানও উঠবে না। তিনি বলেন, আমরা ২ হাজার আড়াই হাজার টাকা দিয়েও চামড়া কিনেছি কিন্তু এখানে সিন্ডিকেট করে গড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকার উপড়ে কেউ চামড়ার দাম বলছে না।

এ সময় হাজারীবাগ থেকে চামড়া নিয়ে আসা সাজ্জাদ কবির বলেন, প্রতি বছর আমাদের চামড়া কেনার একটি দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় কিন্তু এ বছর তা নির্ধারণ করা হয়নি। এর দরুন আমরা আগের বছরের দাম দিয়ে চামড়া কিনেছি।

চামড়ার দাম আছে কিন্তু ট্যানারি মালিকরা ইচ্ছে করে বাজার ফেলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।


এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্যানারি মালিক আদনান করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান রহমান প্রিন্স মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্যানারি মালিকদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম। এ কারণে আমরাও দাম দিয়ে চামড়া  কিনতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, না বুঝে কেউ চামড়া কিনলে তাকে ক্ষতি স্বীকার হতে হবে। কারণ এ বছর আমরা আগে থেকেই জানিয়েছি যে, বাজার ভালো হবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ঋণ না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চামড়ার মজুদ আগের মতো করতে পারবেন না বলে তিনি মনে করেন। তাই সব কিছু মিলিয়ে চামড়ার বাজার আগের বছরের চেয়ে কিছুটা খারাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে অন্য একটি সূত্র মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা থাকার পরও আমাদের দেশে চামড়ার বাজার ভালো আছে।

গাছের চূড়ায় নারিকেলের অঙ্কুরোদ্গম

গাছের চূড়ায় নারিকেলের অঙ্কুরোদ্গম

 

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় গাছের চূড়াতেই নারিকেলের অঙ্কুরোদগম হয়েছে! এই গাছের মালিক মিরসরাই থানা।
মিরসরাই থানার উত্তর সীমানার নারিকেল গাছগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অনেক নারিকেল পেকে ঝুলে আছে। কয়েকটি গাছে ৫০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত নারিকেল পেকে আছে। এছাড়া গাছগুলো  অযত্নে-অবহেলায় ভুতুড়ে হয়ে আছে।
এই অবহেলার মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি নারিকেল গাছের চূড়ার একটি নারকেলে অঙ্কুরোদগম হয়েছে। সেখানে চারা হয়ে বেড়ে উঠছে। কিন্তু এই চারার ভবিষ্যৎ কী?

 

ভারতে ৬ মাস কারাভোগের পর ৬ বাংলাদেশীকে ফেরত ::


ভারতে ৬ মাস কারাভোগের পর ৬ বাংলাদেশীকে ফেরত :: 

দীর্ঘ ছয় মাস ভারতে কারাভোগের পর শনিবার রাতে শিশুসহ ছয় বাংলাদেশী নারী-পুরুষকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় বিএসএফ। বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, নড়াইল জেলার শিশুসহ ছয় নারী-পুরুষ ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে ভারতে যান। ভারতের ব্যাঙ্গালোর শহরে যাওয়ার পর সেখানকার পুলিশ তাদের আটক করে। পরে ব্যাঙ্গালোর সেন্ট্রাল জেলে দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগের পর সাজার মেয়াদ শেষ হলে ভারত সরকার তাদের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। ফেরত আসা নারী পুরুষরা হলেন আজম শিকদার (২৫), রেশমা (২২), মান্নান সরদার (৩৮), সনিয়া (২৫), লামিয়া (৯) ও রাবেয়া (২৫)।

মহিলা টি-২০ এশিয়া কাপের সেমিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা

মহিলা টি-২০ এশিয়া কাপের সেমিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা

 মহিলা টি-২০ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ওঠেছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। শনিবার গ্রুপ এ-তে থাকা পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দল ১৪২ রানের বিশাল ব্যবধানে হংকং মহিলা দলকে পরাজিত করে। এর ফলে ২ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। এর আগে এই গ্রুপ থেকে ভারত ২ খেলার দুটিতে জয়ী হয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়।

অপরদিকে গ্রুপ-বি থেকে সেমিফাইনালে ওঠেছে শ্রীলঙ্কা। শনিবার গ্রুপ-বি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে চায়না মহিলা দলকে পরাজিত করে দুই খেলার দুটিতে জয়ী হয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমির টিকিট পায়। এর আগে এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল দুই খেলার দুটিতে জয়ী হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।

শনিবার গুয়াংগং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রুপ-বির ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পাত্তাই পায়নি চায়না মহিলা ক্রিকেট দল।

টসে জিতে শ্রীলঙ্কা চায়নাকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায়। ক্রিকেট বিশ্বে নতুন দল হিসেবে চায়না অবশ্যই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করেছে তারা। লঙ্কান প্রমিলা ক্রিকেটাররা তাদের অলআউট করতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে চায়নার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৫২ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৫.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান স্কোরবোর্ডে জমা করলে ৯ উইকেটে জয়ী হয় শ্রীলঙ্কা।

অপরদিকে একই মাঠে গ্রুপ-এ’র ম্যাচে হংকং মহিলা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দল টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে করে ১৫৭ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নামা হংকং মহিলা দল মাত্র ১৫ রানে গুটিয়ে গেলে ১৪২ রানের বড় জয় পায় পাকিস্তান। হংকংয়ের সাতজন ব্যাটসম্যান রানের খাতা খুলতে পারেননি। ১৫ রানের মধ্যে অতিরিক্ত থেকে আসে ৯ রান। বাকি চার ব্যাটসম্যান মিলে করেন ৬ রান।

ঢাবির প্রবেশপথে রক্ষণাবেক্ষণ নেই, অবাধে চলছে ভারী যানবাহন

ঢাবির প্রবেশপথে রক্ষণাবেক্ষণ নেই, অবাধে চলছে ভারী যানবাহন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলায় অবাধে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত ভারী ও অন্যান্য যানবাহন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় দিনই ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে বহুসংখ্যক বহিরাগত যানবাহন।  এজন্য শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষর অবহেলাকেই।
 
ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে ‘ভারী যানবাহন প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। হরহামেশাই ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাতায়াত করছে বাস-ট্রাকসহ নানা ভারী যানবাহন। এতে করে নানা সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরোজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি প্রবেশপথ সব সময় খোলা থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ রয়েছে আটটি। এগুলোর কোনোটিরই নিরাপত্তাকর্মী বেশির ভাগ সময় থাকেন না। বারবার ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসানের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ।
এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোর অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়া হলেও এখনো মেরামত করা হয়নি। যেখানে সেখানে কার্পেট উঠে গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায় না। রিকশা, সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাব চালকরা আবাসিক হলগুলোতে সহজে ভাড়া যেতে চান না। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোশাহিদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যাতায়াত করলে নিজের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।”
ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বহিরাগত ভারী যানবাহনসহ নানা ধরনের গাড়ি চলাচলকে এর কারণ হিসেবে জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জেবরা ক্রসিং, ওভারবব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় যাতায়াতের ফলে গত বিশ বছরে ১১ জন শিক্ষার্থী অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট শাহবাগে বাসের ধাক্কায় নিহত হন তৌহিদ নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির যানবাহন চলছে। ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকের যন্ত্রণায়ও অতিষ্ঠ অনেকে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট আটটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বংশাল, চাঁনখারপুল, গুলিস্তান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন। এসব প্রবেশপথ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘‘ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দু-এক দিন এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।’’
জানা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, বাইসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব এবং বাসসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এছাড়া কয়েক হাজার গাড়ি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসের মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, স্যার এ এফ রহমানসহ বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে রাত-দিনে সমানে যানবাহন চলাচল করে। ৎ
জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী মূল ক্যাম্পাসের বাইরে যেমন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ও ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে থাকেন এবং যেসব ছাত্রছাত্রী সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন,  তাদের নীলক্ষেতের দুটি ক্রসিং রোড পার হওয়ার সময় বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কেননা ওই হল ও ইনস্টিটিউট পিলখানার ৩ নম্বর গেটে অবস্থিত।
ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ওই দুই ছাত্রী হলের জন্য দুটি মিনি বাস বরাদ্দ থাকলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
যানজটের কারণে ইতোমধ্যে নীলক্ষেত হয়ে নিউমার্কেট দিয়ে বিডিআর গেট পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। তবে পরিচয়পত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখানোর সময় বিড়ম্বনা পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন মৈত্রী হল, ফজিলাতুননেছা হল এবং শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা ।
 
এ বিষয়ে শাহবাগ থানা ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেবো। তবে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।’’
ক্যাম্পাসে যানজট এবং প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ক্যাম্পাস দিয়ে বহিরাগত যান চলাচল করায় নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

আন্টার্কটিকায় বরফ বাড়ছে

আন্টার্কটিকায় বরফ বাড়ছে

আন্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরুর ভূমি আবিষ্কার করা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে। রুশ সমুদ্র অভিযাত্রী লাজারেভ ও বেল্লিনসহাউজেন এই কাজ করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে সেখানে প্রথম সোভিয়েত মেরু স্টেশন ‘মিরনি’ খোলা হয়। তার পর থেকে রাশিয়া ষষ্ঠ মহাদেশের গবেষণায় নেতৃস্থানীয় জায়গা দখল করে রেখেছে। সেখানে বর্তমানে কাজ করছে ১১টি দেশের ৬০ খানি ঘাঁটি।

 মনে হয়, আন্টার্কটিকা এলাকায় বেঁচে থাকাই সম্ভব নয়। চারিদিকে শুধু বরফ আর এমনই ঠাণ্ডা যে, গরমে তা মাইনাস ২০ এবং শীতে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো বাতাসের জোর আর যাবতীয় সৌররশ্মিসহ প্রবল রোদ, তা সত্ত্বেও এ ভয়ঙ্কর এলাকা মানুষকে টানে।

রাশিয়ার ‘বেল্লিনসহাউজেন’ স্টেশনে ২০০৭ সালে ‘পবিত্র ত্রয়ী’র গির্জায় প্রথম বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছিল। দক্ষিণ মেরুতে এমনকি শিশুর জন্মও হয়েছে। প্রথম বাচ্চা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। কিন্তু এখানকার বেশির ভাগ লোকই মেরু স্টেশনের বিজ্ঞানি। এখানে রাশিয়ার সাতটি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী, দুটি ঋতুনির্ভর। সেখানে কাজ করছে দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার জাহাজ ‘অ্যাকাডেমিক ফিওদরভ’ ও ‘অ্যাকাডেমিক কারপিনস্কি’।

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া। কারণ ষষ্ঠ মহাদেশ বিশ্বের আবহাওয়ায় বিশাল প্রভাব ফেলে, এ কথা উল্লেখ করে আর্কটিক ও আন্টার্কটিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর আলেকজান্ডার দানিলভ বলেছেন: ‘সারা বিশ্বের উষ্ণায়নের ঝুঁকি রয়েছে। এই সম্পর্কে আন্টার্কটিকা বিশ্বের জীবজগতের উপরে নির্দিষ্ট রকমের বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ এখানের বরফ গলতে শুরু করলে মহাসমুদ্রের জলের স্তর উঁচু হবে। এর অর্থ হল্যান্ডের মতো বহু দেশ পানির নিচে চলে যাবে। এরর মধ্যে রাশিয়ার অংশও রয়েছে। এটা খুবই গুরুতর বিপদ।’

বর্তমানের আন্টার্কটিকা সংক্রান্ত পরিকল্পনার মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বরফের নিচে থাকা ‘ভস্তক’ হ্রদের পানি অবধি পৌঁছনোর কাজ করছেন। এর জন্য প্রায় ৪০০০ মিটার বরফ খুঁড়তে হচ্ছে। এখন বাকি মাত্র ২০ মিটার। সম্ভবত এটা এ বছরেই শেষ করা যাবে। আর তাহলে এটা মানুষের মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মতই বড় মানবসভ্যতার আবিষ্কার হবে। এই হ্রদ বৈকালের অর্ধেক কিন্তু এর নিচে বা পানিতে একবার পৌঁছনো গেলেই হতে পারে যে, একেবারেই অন্য ধরনের প্রাণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, যা আগে কখনও জানা ছিল না।

এ হ্রদ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে বিগত ৪২০ হাজার বছরে পৃথিবীর আবহাওয়াতে কি ধরনের পরিবর্তন হয়েছে – এ কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমির ভূগোল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির কতলিয়াকভ বলেছেন: ‘এটা চারটে আবহাওয়ার বৃত্ত, যখন পরিস্থিতি ছিল হিম যুগের, আর তার পরে মধ্য হিম যুগের। বর্তমানে আমরা রয়েছি মধ্য হিম যুগে, আর আগের যুগের পৃথিবীর মাটির তাপমাত্রা থেকে এখনকার তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি কম হয়েছে। তার মধ্যে আবার বিশ্বে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে, যা তখন ছিল না। মানব সমাজের ভাগ্য ভালো যে, আমাদের কাজকর্মে বিশ্বের প্রধান আবহাওয়ার প্রক্রিয়াতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রকৃতির যন্ত্র আগের মতোই কাজ করছে, তা ভালোই ভারসাম্য রেখে চলে।’
মেরুতে কাজ করা বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে যে, আর্কটিকের তুলনায় আন্টার্কটিকায় বরফ জমা কমছে না, বরং তা উল্টো বাড়ছে, অর্থাৎ দক্ষিণ মেরু উত্তর মেরুর সঙ্গে ভারসাম্য রেখেই রয়েছে। সূত্র: রেডিও রাশিয়া।

টম ক্রুজের মানহানি মামলা

টম ক্রুজের মানহানি মামলা

 হলিউড তারকা টম ক্রুজ দুটি মার্কিন পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন। সম্প্রতি লস এঞ্জেলসের একটি আদালতে ‘ইন টাচ’ এবং ‘লাইফ অ্যান্ড স্টাইল’ নামের দুটি পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলায় ৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মিশন ইমপসিবল খ্যাত টম ক্রুজ।

এ বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এই দুই পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, স্ত্রী কেটি হোমসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর কন্যা সুরিকে ত্যাগ করেছেন পিতা টম ক্রুজ। ইন টাচ পত্রিকার প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছিল, বিচ্ছেদের পর প্রায় ৪৪ দিন বাবার মুখই দেখেনি ৬ বছরের সুরি। এরপরই ওই দুই পত্রিকার মালিক জার্মান প্রকাশনা সংস্থা বয়ের মিডিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ। তার আইনজীবী বার্ট ফিল্ডসের দাবি, পিতার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন টম ক্রুজ। তার বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।

ক্রুজের আইজীবী আরও জানিয়েছেন, মামলায় জিতলে ক্ষতিপূরণের টাকা কোনও অনাথ আশ্রমে দান করবেন টম ক্রুজ।সূত্র: অনলাইন।

এই ঈদেও সুস্থ থাকুন

এই ঈদেও সুস্থ থাকুন

ঈদের অনেকেরই কমবেশি  গরু, খাসি ও অন্যান্য পশুর মাংস খাওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ সময়ও আপনি চাইলেই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতন হয়ে ঈদকে করে তুলতে পারেন স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময়।

 কোরবানির মাংস এক-দুই দিন খেলে যে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হবে তা নয়, তবে যারা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, বিশেষ করে করোনারি হৃদরোগী, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা ডিসপেপসিয়ার রোগী, তারা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ঈদের সময় খাওয়াদাওয়ার পরিকল্পনা করলে ভালো হয়।

যারা স্থূল শরীরের অধিকারী তারা ঈদের সময় খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। নিয়মিত ওজন পরীক্ষা করবেন। কোরবানির মাংসে জীবাণুর সংক্রমণ হলে মারাত্মক অ্যান্টারাইটিস হতে পারে। এটি পেটের এক ধরনের সংক্রামক, যা খুবই ভয়াবহ।

পশুচর্বি এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কোরবানির সময়ও এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় আমরা খাবার সুস্বাদু হবে এমন ভুল ধারণা পোষণ করে কোরবানির মাংসে আলাদাভাবে চর্বি যোগ করি। এটা একাবেরই ঠিক নয়, বরং যতটুকু সম্ভব মাংসের চর্বি অপসারণ করে খাওয়া ভালো।

এই ঈদে অতিভোজন আর হঠাৎ বিশ্রামে স্বাস্থ্য-সচেতনেরাও হঠাৎ মুটিয়ে যেতে পারেন। আর যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য-সচেতন থাকা বেশি জরুরি।
অবশ্যই অধিক চর্বিযুক্ত মাংস খাবেন না। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত সেবন করতেও ভুলবেন না।

দাঁতের দিকে খেয়াল অবশ্যই রাখবেন, কেননা শুধু মাংস নয়, হাড় চিবানোর মজাও অনেকেই ছাড়তে চান না। কিন্তু এতে দাঁত ভাঙার বিড়ম্বনাতেও  পড়তে পারেন অনেকে। সূত্র: স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট।

 

ইমরান খানকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ::

ইমরান খানকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ :: 
 মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে রাজনীতিবিদ ইমরান খানকে বিমান থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তারা পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলা সম্পর্কে তার অভিমত সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। পার্টি কর্মকর্তারা শনিবার এ কথা জানান।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর নেতা ইমরান খান তার দেশে উপজাতীয় এলাকাগুলোতে সন্দেহভাজন তালেবান ও আল-কায়েদা সক্রিয় কর্মীদের ওপর বিতর্কিত মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে জোর প্রচারাভিযান চালিয়েছেন। তার যুক্তি, এই হামলা বেআইনি ও নিরর্থক। গত মাসে তিনি ড্রোন হামলার প্রতিবাদ জানাতে অশান্ত উপজাতীয় এলাকা অভিমুখে কয়েক হাজার সমর্থক ও একদল মার্কিন শান্তি কর্মীর এক মার্চে নেতৃত্ব দেন।

ইমরান খান টুইটারে লিখেছেন, টরোন্টোতে তাকে মার্কিন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে বিমান থেকে নামিয়ে কানাডায় মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা ড্রোন হামলা সম্পর্কে আমার অভিমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ ব্যাপারে আমার ভূমিকা পরিষ্কার। ড্রোন হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। কোনো কিছুই আমার ভূমিকা পরিবর্তন করতে পারবে না।’

ইমরান খান বলেছেন, বিলম্বের ফলে তিনি ফ্লাইট ধরতে এবং নিউইয়র্কে তহবিল সংগ্রহের কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। সূত্র: এএফপি

Saturday, October 27, 2012

ভারতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের লাইন

ভারতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের লাইন
 ভারতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের ঠিক আগের দিন ইউপিএ-২ সরকারের মন্ত্রিদের মধ্যে পদত্যাগের লাইন পড়েছে। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণর পর আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে লাইন দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া শুরু করেছেন।

 ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অম্বিকা সোনি, পর্যটনমন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায়, রাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেব খান্ডেলা। আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল ওয়াসনিকও গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন।

কংগ্রেস সূত্র মতে, দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার জন্য সোনি মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে শুক্রবার এম এস কৃষ্ণর পদত্যাগের পর ওই দিন রাতেই প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেন।

আগামীকাল রবিবারের ক্যাবিনেট রদবদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মা। এছাড়া শোনা যাচ্ছে কপিল সিব্বাল এবং শশী থারুরের নামও।

এছাড়া রাহুল গান্ধীর কাছের মানুষ হিসেবে মনিকা ঠাকুর এবং মিনাক্ষী নাতারাজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

পশ্চিমবাংলা থেকে আবু হাসেন খান চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় যোগদান মোটামুটি চূড়ান্ত। এছাড়া উঠে আসছে প্রদীপ ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরী ও দীপা দাসমুন্সির নাম। তবে এদের মধ্যে প্রদীপ ভট্টাচার্য্ সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। শোনা যাচ্ছে মৌসম বেনজির নুরের কথাও।

আগামীকাল সকাল ১১.৩০ নাগাদ সম্ভবত ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হতে চলেছে। সূত্র: ২৪ঘণ্টা.কম।

দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির 
  রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ঈদুল আজহার আনন্দে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার সকালে বঙ্গভবনে পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে আয়োজিত সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার শিক্ষা দেয়, যা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আজকের এদিনে আমি সবাইকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এ উপলক্ষে আমি আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদেরও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম ফারুক খান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ সম্বর্ধনায় যোগ দেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের ডিন, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারকবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক, তিন বাহিনীর প্রধান, সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ সম্বর্ধনায় যোগ দেন।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করেন।  সুত্র: বাসস।

আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি সিসিসির

আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি সিসিসির

 ঈদের দিন সন্ধ্যার আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জবাই করা কোরবানির পশুর আশি ভাগ বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) কর্তপক্ষ।
কর্পোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমদ বার্তা২৪ডটনেটকে জানান, দ্রুত বর্জ্য অপসারণে আগে থেকে বাস্তবভিত্তিক ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে কোরবানির পশুর প্রায় আশি শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বাকি বর্জ্য-আবর্জনা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ সম্ভব হবে। অনেক বাসা বাড়ি থেকে জমে থাকা বর্জ্য-আবর্জনা দিনের বেলায় না ফেলে রাতে একসাথে ফেলতে পারে । এ কারণে বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাত ১২টা পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালাবে। তাছাড়া আগামী কাল জবাই করা পশুর বর্জ্য অপসারণে সিসিসির চলমান প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।
সিসিসি কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে দেড় শতাধিক গাড়ি, ১৫০০ পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীও নিয়োগ করেছে। খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কোরবানি উপলক্ষে বর্জ্য অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারক করতে পুরো শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ জোনে বিভক্ত করে দুই জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সিসিসি সূত্র মতে, নগরীতে কোরবানি উপলক্ষে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ গরু আর ২০ থেকে ৩০ হাজার ছাগল জবাই হয়ে থাকে ।
সিসিসি কর্তৃপক্ষ  এই প্রথমবারের মতো ক্রমানুসারে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণে সক্ষম এমন তিনটি ওয়ার্ডকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় ময়লা-আবর্জনা অপসারণে এলাকাভিত্তিক এক ধরনের প্রতিযোগিতা লক্ষ করা গেছে।
সিটি মেয়র এম মনজুর আলম বিকেলে নগরীর হালিশহর ও আরেফিন নগরস্থ প্রধান দুই আবর্জনাগার পরিদর্শন ছাড়াও বেশ কটি ওয়ার্ড সফর করে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখেন এবং লোকজনের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ।

রাজধানীতে ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণের দাবি ডিসিসির

রাজধানীতে ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণের দাবি ডিসিসির
শনিবার সকালে পশু কোরবানির পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বর্জ্য অপসারণ শুরু করেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। সন্ধ্যার আগে নগরীর বিভিন্ন স্থানের ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন অঞ্চল পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তারা।

নগর ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে মো. শাজাহান জানান, ঈদের দিন সকাল ৮টার পর থেকেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের অভিযান শুরু হয়। এর আগে কোরবানির সম্ভাব্য স্পটগুলোতে বিনামূল্যে পলিথিন ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণের জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী সুলতান-উল ইসলাম বলেন, করপোরেশনের ৫৬টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নিয়মিত ৫১০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬০০ ভ্যান সার্ভিসে আড়াই হাজার জনবল কাজ করছেন।

অঞ্চল ১-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টার আগে তার নির্ধারিত এলাকায় ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। বাকি কাজ রাতের মধ্যেই শেষ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকেলেও অনেক স্থানে পশু কোরবানি হয়েছে। এ জন্য সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার পর আবার রিপিট করা হবে।

মিন্টু রোড, বেইলী রোড, সিদ্ধেশ্বরী, গুলিস্তান, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চল-১-এর অন্তর্ভুক্ত।

মাদারটেক, বাসাবো, গোড়ান, মতিঝিল, কমলাপুর, পল্টন, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মেরাদিয়া নিয়ে অঞ্চল-২। এ অঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, সকালে যেসব স্থানে পশু কোরবানি করা হয়েছে তার ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ হয়েছে। বিকেলে যে পশু কোরবানি দেয়া হয় সেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ১০০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। পুরানা পল্টনে বর্জ্য অপসারণের কাজ শতভাগ হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, কমলাপুর এবং গোলাপবাগ হাটে গরু থাকার কারণে দুটি হাটের বর্জ্য অপসারণে বিলম্ব হচ্ছে। বিক্রেতারা গরু নিয়ে চলে যাওয়ার পর এসব হাটে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হবে।

অঞ্চল ৩-এর পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন জানান, এসব এলাকায় অতিরিক্ত ৫টি কনটেইনার কেরিয়ারের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। এছাড়া অতিরিক্ত দুটি কমপেক্টর এবং ৫টি ড্যাম্পার বর্জ্য আপসারণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

হাজারীবাগ, জিগাতলা, রহমতগঞ্জ, নিউ পল্টন, শহীদনগর, ঋষিপাড়া, কিল্লার মোড় ও আজিমপুর নিয়ে অঞ্চল-৩।
সাহাবউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যেই এসব অঞ্চলের ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ হয়েছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যেভাবে কাজ করছেন তাতে রাতের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণের কাজ শতভাগ শেষ করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

তবে রহমতগঞ্জে দুটি গরুর হাটে এখনো গরু থাকায় হাট দুটিতে আজ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, শুরুর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

পশুরহাটসহ নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ডিসিসি ১০ হাটের জন্য ৬টি পোল্ডার, ৫টি টায়ার ডোলার, ২৫টি ড্যাম্পার, ৪টি ট্রেইলার, দুটি প্রাইম মোভার ও ১০টি পানির গাড়ি সরবরাহ করেছে। সূত্র: বাসস

দি সুপারসনিক ম্যান: ফেলিক্স বমগার্টনার

দি সুপারসনিক ম্যান: ফেলিক্স বমগার্টনার

 ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন অস্ট্রিয়ান ‘ডেয়ারডেভিল’ ফেলিক্স বমগার্টনার। ১৪ অক্টোবর মাটি থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০০ ফিট উপরের একটি স্পেস ক্যাপসুল থেকে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে লাফিয়ে পড়েন বমগার্টনার। পতনের গতি ছাড়িয়ে যায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৩৩.৯ মাইল। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে পতনের পর প্যারাসুটের সাহায্যে মাটিতে নামেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েলে। সবচেয়ে উচ্চতম স্কাইডাইভিংয়ে আগের রেকর্ডটি ভেঙে গড়েন নতুন রেকর্ড। সাউন্ড ব্যারিয়ার ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান বিশ্বের প্রথম সুপারসনিক ম্যান হিসেবে। খবর বিবিসির।
ইতিহাস গড়া স্কাইডাইভিংয়ের জন্য বমগার্টনারকে পেরিয়ে আসতে হয়েছে অনেক বাধা বিপত্তি। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দীর্ঘদিন। প্রথমে স্কাইডাইভিংয়ের দিন স্থির করা হয়েছিলো ৮ অক্টোবর। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারবার পিছিয়ে যায় বহু প্রতীক্ষিত দিনটি। শেষে ১৪ অক্টোবর জীবনের ঝুঁকি ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়েন মহাশূন্যে। পৃথিবীর মাটিতে পা দিয়ে গড়েন ইতিহাস।
কিন্তু আরেকটু হলেই শেষ মুহুর্তে বমগার্টনারকে বাতিল করতে হতো স্কাইডাইভ। কাজ করছিলো না তার স্পেস স্যুটটির হিটার। ফলে প্রতিবার নিশ্বাস ফেললেই ঘোলা হয়ে যাচ্ছিলো ভাইজরটি।
স্পেস ক্যাপসুল থেকে লাফ দেবার পর বমগার্টনার মাটিতে নেমে আসেন ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডে। একেবারে মাটির কাছাকাছি এসেই খুলে দেন নিজের প্যারাসুট। অবতরণের পর হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন মাটিতে, হাত দুটো আকাশ পানে ছুঁড়ে করেন বিজয় উল্লাস। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অভিনন্দন জানাতে সেখানে পৌঁছে যায় রিকভারি হেলিকপ্টার।


এর পরপরই এক প্রেস কনফারেন্সে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বমগার্টনার বলেন, ‘আমি যখন পৃথিবীর উপরে স্পেস ক্যাপসুলটিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিলো তখন। ভুলে গিয়েছিলাম বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার কথা। কেবল জীবন্ত পৃথিবীর বুকে ফিরে আসার কথাই ভাবছিলাম বারবার।’
শুরুতেই নিজের রেড বুল স্ট্র্যাটোস টিমের সদস্য আর দর্শক, সাংবাদিকদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন বমগার্টনার। পতনের শুরুতে মাথা নিচে, দু’ হাত ছড়িয়ে দিয়ে তার থাকার কথা ছিলো ডেল্টা পজিশনে। কিন্তু লাফিয়ে পড়ার পরই বায়ুমণ্ডলে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলেন বমগার্টনার। শেষপর্যন্ত দীর্ঘদিনের বেইজ জাম্পিং এবং স্কাইডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতাই তাকে বাঁচিয়ে দেয় মৃত্যুর হাত থেকে। নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান নিজের ওপর। ফিরে আসেন ডেল্টা পজিশনে।

কিন্তু নাটকীয়তার শুরু আরো আগেই। মিশন শুরু হবার আগেই একদম শেষ মুহূর্তের ইকুইপমেন্ট চেকে ধরা পড়ে, নষ্ট হয়ে গেছে বমগার্টনারের স্পেস স্যুটের হিটারটি। ফলে বমগার্টনার শ্বাস ফেললেই ঘোলা হয়ে যাচ্ছিলো তার ভাইজরটি। ছোট ত্রুটি মনে হলেও, ওই নষ্ট হিটারটির জন্য তার মৃত্যু হতে পারতো।


তবুও আর পিছপা হতে রাজি ছিলেন না বমগার্টনার। ঘোলাটে দৃষ্টিসীমার কারণে আছড়ে পড়তে পারতেন পৃথিবীতে। পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা করে মিশন চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ফেলিক্সের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন আরেক কিংবদন্তী মার্কিন এয়ারফোর্স কর্ণেল জো কিটেনগার। বিশ্বের উচ্চতম স্কাইডাইভিংয়ের রেকর্ডটির মালিক এতোদিন ছিলেন কিটেনগার। সেই রেকর্ডের পাঁচ দশক পর নতুন রেকর্ড গড়ে যেন গুরুর নাম রাখলেন শিষ্য ফেলিক্স।

শুরু থেকেই ফেলিক্সের সঙ্গে ছিলেন কিটেনগার। যখনই হতাশ হয়ে পড়েছেন বমগার্টনার, নিজের দক্ষতাকে  প্রশ্ন করেছেন, তখনই উৎসাহ জুগিয়েছেন কিটেনগার। দিয়েছেন সাহস ও অনুপ্রেরণা। ফেলিক্স মাটিতে অবতরণ করার পর জ্যেষ্ঠ এই কিংবদন্তী বলেন, ‘ফেলিক্স খুবই সাহসিকতার সঙ্গে কাজটি করেছে। ওর সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।’


২০০৫ সালে প্রথম এই স্কাইডাইভিংয়ের কথা মাথায় আসে বমগার্টনারের। এরপর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেন তিনি। ১৪ অক্টোবর নিউ মেক্সিকোর আকাশে বাতাসের চাপ ছিলো মাত্র ২ শতাংশ। বমগার্টনারকে মহাকাশে পৌঁছে দিতে নভোচারীদের স্পেস ক্যাপসুলের ডিজাইন অনুকরণ করে বানানো হয়েছিলো একটি বিশেষ ক্যাপসুল। হিলিয়াম বেলুন ক্যাপসুলটিকে উড়িয়ে নিয়ে যায় মাটি থেকে প্রায় ২৪ মাইল উপরে। স্পেস স্যুটটিও বানানো হয়  নভোচারীদের স্পেস স্যুটের আদলে।

বমগার্টনারের এই ইতিহাস গড়া স্কাইডাইভিংয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। দ্রুতগতিতে মহাকাশ থেকে পতন সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা কাজে আসবে ভবিষ্যৎ স্পেস মিশনে। মিশনে বমগার্টনারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলো নাসাও।

বমগার্টনারের মিশনটি নিয়ে বিবিসি এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বানাচ্ছে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম। নভেম্বর মাসে দেখানো হতে পারে ডকুমেন্টারিটি।