Pages

Saturday, December 1, 2012

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

 রাজধানীর দক্ষিণখানে এক নারী চিকিৎসককে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম সাদিয়া আফরিন ইভা (২৬)। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাদিয়ার কর্মস্থল ক্লিনিকের মধ্যেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহত চিকিৎসক দক্ষিণখানের আমতলির ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের কেয়ারটেকার ফয়সাল পলাতক রয়েছেন। তবে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে, খিলক্ষেত এলাকায় রওশন আরা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিন দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় মা হাসিনা বেগম ও ছোটবোন নাদিয়া আফরিন ইমনকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্র্যাক ক্লিনিক থেকে একজন প্রসূতি অপারেশনের জরুরি ডাক আসে। তিনি ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশন শেষ করে তৃতীয় তলায় চিকিৎসকদের কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। গতকাল সকালে ক্লিনিকের একজন নার্স তাকে কয়েক দফা মোবাইল করে না পেয়ে তৃতীয় তলার ওই কক্ষে গিয়ে তাকে ফ্লোরে শায়িত ও অচেতন অবস্থায় দেখেন। পরে তার চিৎকারে অন্য সহকর্মীরা গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিনকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তার গালে খামচির দাগ, চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ও কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এছাড়া ওই কক্ষের একটি প্লাস্টিকের চেয়ারের পায়া ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, রাতের ডিউটি করার সময় কেউ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ডা. সাদিয়া আফরিন বাধা দিলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিসারুল আরিফ জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফয়সাল জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
জানা গেছে, নিহত ডা. সাদিয়া আফরিনের বাবা মনিরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ডা. সাদিয়া আফরিন রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পড়ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বালিথুবায়।

তাজরীন ও বহদ্দারহাট: নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তাজরীন ও বহদ্দারহাট:

নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী


সাভারের নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ করে টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। খবর ইউএনবির।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল আজ শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা নিহত হয়েছেন এবং যাঁদের শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ১৩ জনের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা ও ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পোশাক কারখানা তাজরীনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে ১১১ জনের প্রাণহানি হয়। ওই দিনই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে মারা যায় ১৩ জন।

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচে হারের মুখ দেখলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা চমত্কারভাবে করেছে বাংলাদেশ। খুলনায় আজ সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। টেস্টে ব্যর্থতার পর আত্মবিশ্বাস ফেরানো এ জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উত্সর্গ করেছেন ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১১ জন শ্রমিক।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ চমৎকার দলীয় পারফরমেন্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। দলের অন্যতম প্রধান ভরসা সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতেও ৭ উইকেটের জয়টা সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক। প্রথমে বল হাতে সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের দারুণ পারফরমেন্সে ভর করে উইন্ডিজকে মাত্র ১৯৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। পরে ব্যাট হাতেও দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম, অভিষিক্ত ওপেনার এনামুল হকের বিবেচনাপ্রসূত ব্যাটিংয়ের ফলে ১০ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরমেন্স নিয়ে কিছু বলার আগে মুশফিক বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। বিসিবি তাঁর স্মৃতি স্মরণে রেখে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে বলে আমরা খুবই খুশি। আমরা আজকের এই জয়টা উত্সর্গ করছি তাঁর ও ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশে।’
টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচেই হারের পর ওয়ানডে সিরিজটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সেই সঙ্গে চমৎকার বোলিং করার জন্য স্পিনারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, সেটা মাথায় রেখে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘টেস্টে আমরা বেশ কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখেছি। কিন্তু দলগতভাবে সমন্বিত পারফরমেন্স সেভাবে ছিল না। আজ আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত পারফরমেন্সটাই দেখাতে পেরেছি। সেটার জন্য আমি খুবই খুশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা করবে। ফলে আমাদেরও সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ ২ ডিসেম্বর খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ হবে।

বাংলাদেশের সহজ জয়

বাংলাদেশের সহজ জয়


সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিজাদু, এরপর তামিম-এনামুল-নাঈমদের ব্যাটিং-ঝড়। বলে-ব্যাটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আজ শুক্রবার খুলনায় অনেকটা হেসেখেলে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ৪৬.৫ ওভারে দলীয় ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোহাগ গাজী সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আবদুর রাজ্জাক শিকার করেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।
জয় পেতে প্রয়োজন ২০০ রান। এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৮৮ রানের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৫৮ রানের নজরকাড়া এক ইনিংস খেলে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। তাঁর ৫১ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছয়ের মার। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক ফেরেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে। নাসির হোসেন আউট হন ব্যক্তিগত ২৮ রানে।
বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায় ৪০.২ ওভার খেলে। বড় জয় নিশ্চিত করে নাঈম ইসলাম ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ৫০ রানের মধ্যে পতন ঘটে আরও দুটি উইকেট। ইনিংসের গোড়ার দিকে পাওয়া এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। নবম উইকেটে নারাইন ও রামপলের ৫৭ রানের জুটিটা না হলে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ সুনীল নারাইনের (৩৬)। ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো দুজনেরই সংগ্রহ ৩৫ রান। রবি রামপল করেন ২৫ রান।
আইসিসির ‘ব্যাটসম্যান-বান্ধব’ নতুন নিয়মের কারণে ওয়ানডে ম্যাচ এখন বোলারদের জন্য বলতে গেলে অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশি বোলাররা উতরে গেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত এ জয়ের পর কথাটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আইসিসির নতুন নিয়মে এখন ম্যাচের ৫০ ওভারই বলতে গেলে পাওয়ার প্লে! ম্যাচের প্রথম ১০ ওভার বাধ্যতামূলক পাওয়ার প্লেতে দুজন ফিল্ডার ৩০ গজি বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে সর্বোচ্চ তিনজন। বাকি ৩৫ ওভারে বাউন্ডারি ঠেকাতে চারজনের বেশি বৃত্তের বাইরে রাখা যাবে না। ওয়ানডের এই নতুন নিয়ম এ মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে চালু হয়েছে। তবে এই নিয়মে আজই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা।
সাড়ে চার বছর পর সাকিব আল হাসানকে ছাড়া ওয়ানডে খেলল বাংলাদেশ। শিনবোনে চোট পাওয়ায় পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে রাখা হয়নি এই অলরাউন্ডারকে।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে আজ দলে অভিষেক হয়েছে মমিনুল হকের। অভিষিক্ত হয়েছেন আরও তিনজন—এনামুল হক, সোহাগ গাজী ও আবুল হাসান। এক ম্যাচে চার ক্রিকেটারের অভিষেক! ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এমন ঘটনা এই প্রথম।
এর আগে বাংলাদেশ দলে চার বা এর বেশি খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে অভিষেকের উদাহরণ পেতে ফিরে যেতে হবে ১৭ বছর আগে। তখনকার প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলার জন্য তখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকত এশিয়া কাপের দিকে। সেটি কখনো দুই বছর পর আসত, কখনো পাঁচ বছর পর। ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে পাঁচজনের অভিষেক তাই স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। আজ বাংলাদেশের অসাধারণ জয়ের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে চার ক্রিকেটারের অভিষেকের মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে রইল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯/১০ (৪৬.৫ ওভার)
নারাইন ৩৬, গেইল ৩৫, ব্রাভো ৩৫
সোহাগ ৪/২৯, রাজ্জাক ৩/৩৯
বাংলাদেশ: ২০১/৩ ( ৪০.২ ওভার)
তামিম ৫৮, নাঈম ৫০*, এনামুল ৪১
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

Friday, November 30, 2012

জেনারেল মোটরসের গাড়িতে অ্যাপলের সিরি

জেনারেল মোটরসের গাড়িতে অ্যাপলের সিরি

অ্যাপলের ভয়েস কন্ট্রোল ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন 'সিরি' সুবিধা দিয়ে গাড়ি তৈরি করবে জেনারেল মোটরস। ফলে অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারীরা কণ্ঠের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর বেশ কিছু কাজ সম্পাদন করতে পারবে।
জেনারেল মোটরস জানিয়েছে, রাস্তা না দেখে গাড়িতে থাকা টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে গাড়ি চালানো, মোবাইল কল রিসিভ করা, আইটিউনস থেকে সরাসরি গান ও রেডিও শোনা এবং আইফোন বা আইপডে থাকা গানও চালু করা যাবে সিরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে।
জেনারেল মোটরস আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গাড়ি প্রদর্শনী মেলায় সিরি প্রযুক্তি সংবলিত শেভ্রলেট স্পার্ক, সনিক এলটিজেড এবং আরএস মডেলের গাড়ি দেখানো হবে। আইফোনে আইওএস সিক্স সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা এসব গাড়িতে বসে সিরি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে গাড়ির জন্য বিশেষভাবে সিরি অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কথা বলেছিল অ্যাপল।

হাসপাতালে রোগী ফেলে ভোট উৎসব

হাসপাতালে রোগী ফেলে ভোট উৎসব

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেখা যায় রোগীদের ভিড়। কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, কেউ অপলক চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। সামনে একের পর এক চিকিৎসকের কক্ষ। কোনোটির দরজা তালাবদ্ধ, কোনোটির দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে তখন সব মিলিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক কেবল উপস্থিত। ডাক্তার কম, অথচ রোগী আসছে তো আসছেই।
ডেমরা থেকে আসা রোগী নাহার অনেকক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ ঝিমুনি কাটিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন, 'হাসপাতাল খোলার দিন রোগী হালাইয়া ওনারা একখান ভোট পাতছে, এতোই যদি ভোট করন লাগে, তাইলে ডাক্তারি ছাইর‌্যা হেরা রাজনীতি করলেই তো পারে।'
কমবেশি এ রকম চিত্রই গতকাল দেখা গেছে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে। আর এ রকম অবস্থা সৃষ্টি হয় চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গতকাল ছিল এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বিএমএ নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনাসহ সারা দেশেই দেখা গেছে হাসপাতাল ফাঁকা করে, রোগী ফেলে রেখে চিকিৎসকরা মেতে উঠেছেন ভোটের উৎসবে। সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার চিকিৎসক ভোটার হিসেবে ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকার ভোটার সর্বোচ্চ_১৩ হাজার ৩৩২ জন। ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সামনে একজন নামকরা চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা হতেই বললেন, 'এই যে ভোট দিয়ে এলাম।' কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চলে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রের চারপাশে ভোটার অর্থাৎ চিকিৎসকদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেশির ভাগই আসেন হাসপাতালে রোগী ফেলে রেখে। কেউ বা মেডিক্যাল শিক্ষার ক্লাস ফেলে। সবাই আসেন ভোট দিতে। প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার এক পাশ আটকে দিয়ে চলে ভোটের কাজ। তাতে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট।
চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীদের ভোগান্তির কথা জানিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই হাসপাতালের প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজেই একজন বড় প্রার্থী। তাইলে অন্য চিকিৎসকরা কী করবেন? শুধু তো ভোট দিয়ে ফিরে আসলে হবে না, ভোটের জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকাটাও তো তাঁদের কাছে খুব জরুরি। তাই হয়তো ভোট বাদ দিয়ে রোগী দেখতে আসার মতো সাহস অনেকেই পাননি।'
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোগীদের ভিড় দেখা যায় অন্য দিনের চেয়ে কিছুটা কম। আবার অনেকে এসে নির্দিষ্ট চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে গেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরিবর্তে আরেকজন চিকিৎসা দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মজিদ ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা আগেই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের পালা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। তবে অন্য দিনের চেয়ে রোগীর সংখ্যা অর্ধেক ছিল।'
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক রাশেদুল হাসান বলেন, 'পালা করে চিকিৎসকরা ভোট দিতে গেছেন। তবু কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে। বন্ধের দিনে ভোট করতে পারলে এমন সমস্যা হতো না।'
শুধু সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালেই নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও ছিল প্রায় একই ধরনের চিত্র। বিকেল ৪টায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মাসুদুল আলম তুষার কাকরাইল এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হলে তাঁকে নেওয়া হয় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। সে সময় ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন মাত্র একজন চিকিৎসক। তিনি রোগীর পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকটাই হিমশিম খান। তুষারের তাৎক্ষণিক অর্থোপেডিক চিকিৎসকের দরকার হলেও এমন কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ফোন করে চিকিৎসকদের খোঁজ জানতে চাইলে সবাই বলেন_ভোট তো, একটু ব্যস্ত!
সকাল সাড়ে ৮টায় বারডেমের গেটের কাছে বসে ছিলেন নুরুল হক নামের এক বয়স্ক রোগী। বললেন, 'যেই স্যারের কাছে আইছি, হ্যায় নাহি ভোডে গেছে। কুনসুম আয় না আয় কইতে পারি না। এহন কী করমু হেইডা চিন্তা করতে আছেলাম।'
হাসপাতাল ছেড়ে বড়-ছোট সব চিকিৎসকই গতকাল ভিড় জমান জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টো দিকে বিএমএ কার্যালয়ের সামনে। এর রোগীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাতে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল ও অফিস খোলার দিনে চিকিৎসকদের মতো পেশাজীবীরা রাজপথ বন্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে ভোট উৎসবে মেতে ওঠায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক_সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পুরো বিষয়টি উদ্ভট লাগছে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন আচরণ আশা করা যায় না। বিশেষ করে যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, তাঁদের এভাবে ভোটের নামে রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করা আইনগতভাবেও অন্যায়। আর চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালের রোগী দেখার দায়িত্ব ফেলে রেখে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকা চিকিৎসানীতিরও পরিপন্থী।'
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী এবং সরকার সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক নিজেও গতকালের পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, 'আসলেই ব্যাপারটি ভালো হয়নি। খোলার দিনে এ ভোটের আয়োজন না করে বন্ধের দিনে করলেই ভালো হতো।'
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ভোটের তারিখ ও স্থান ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিএমএ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি চিকিৎসক হয়েও এমন অবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এমনভাবে এটা আয়োজন করা ঠিক হয়নি। অন্য কোনো ভেন্যুতে খুব সহজেই এটা করা যেত, যেখানে চিকিৎসকদেরও ভোট দিতে সুবিধা হতো। আবার সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তি হতো না।'
বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, 'আগে ভোটারসংখ্যা কম ছিল, তাই এত ব্যাপক আয়োজন ছিল না। তবে বর্তমান আয়োজকদের এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল। এত উচ্চ মর্যাদার পেশাজীবী সংগঠনের কোনো আয়োজনে যদি মানুষের দুর্ভোগ হয় সেটা দুঃখজনক।'
এদিকে ভোটকেন্দ্রে বেশি সময় লাগায় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ফিরতে অনেকটা দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক চিকিৎসক।
বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির মহাসচিব ডা. আব্দুল গণি মোল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ব্যালট যেভাবে করা হয়েছে, তাতে প্রার্থী খুঁজে খুঁজে ভোট দিতে একেকজন ভোটারের দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে।'
রোগী ও জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমএর বর্তমান মহাসচিব (বিদায়ী কমিটির) অধ্যাপক ডা. মো. সারফুদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আগামীতে যাতে এমন পরিস্থিতি দেখা না দেয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার আসলেই বিষয়টি বুঝে ওঠা যায়নি।'

সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায়!

সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায়!


নিজের সাবলীল অভিনয় ও পারফরমেন্সের গুণে ইতিমধ্যে হলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন মেগান ফক্স। এছাড়া অন্য অভিনেত্রীদের তুলনায় মেগানের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলনামূলক অনেক কম। কেবলমাত্র কাজ নিয়েই সব সময় ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন তিনি। এর বাইরে পরিবারকে সময় দিতেই বেশি ভালবাসেন এই অভিনেত্রী। ইতিমধ্যে বিভিন্ন চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মেগান ফক্স। তবে এবার একেবারেই ভিন্ন একটি চরিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন মেগানকে। তিনি এবার অভিনয় করছেন সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায় প্রবেশ করা এক তরুণীর চরিত্রে। ছবিতে দেখা যাবে মেগান একজন সাধারণ ঘরের তরুণী, যে কিনা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়ে বার ড্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। বার ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয় তাকে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নানা রকম চাপ প্রয়োগ করা হয় তার ওপর। এখান থেকেই এক সময় বেরিয়ে আসেন মেগান। এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে মেগান বেশ কিছু বিছানার দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন তরুণ অভিনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও কাজ করেছেন। মূলত মেগানকে কেন্দ্র করেই ছবিটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবিটি প্রযোজনা করছে ওয়ার্নার ব্রস ইন্টারন্যাশনাল। এই ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সম্প্রতি মেগান মিডিয়াকে জানান, আসলে প্রতিদিনই অনেক ছবির প্রস্তাব থাকে। তবে আমি সব সময়ই বেছে বেছে ভাল কিছু ছবি করার পক্ষে। এ কারণে আমার ছবির সংখ্যাও কম। সেদিক থেকে অনেক দিন পর এই নতুন ছবির কাজ শুরু করলাম। ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। আর এখানে আমার চরিত্রটিও অনেক ভিন্নধর্মী। এখানে দেখা যাবে সাধারণ তরুণী থেকে অন্ধকারের দুনিয়ায় প্রবেশের পর নানান ঘটনা ঘটতে থাকে আমার সঙ্গে। এরকম চরিত্রে এই প্রথমবারের মতো কাজ করছি। আশা করছি ভাল কিছুই হবে।

সর্বোৎকৃষ্ট সুইজারল্যান্ড

সর্বোৎকৃষ্ট সুইজারল্যান্ড

বিশ্বে শিশু জন্মের স্থান হিসেবে ২০১৩ সালে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থানের জায়গা দখল করেছে সুইজারল্যান্ড। দি ইকোনমিস্টের সহযোগী কোম্পানি দি ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সবচেয়ে সুখী হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে তারা সম্পদ, স্বাস্থ্য আর সরকারি সংস্থার ওপর আস্থার প্রশ্নে সবচেয়ে উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পাবে। সবচেয়ে উন্নত জীবনের তালিকাসূচির শীর্ষ পাঁচে নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্কের মতো স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোও স্থান করে নিয়েছে। আগামী বছরে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর উন্নত জীবন যাপনের জন্য কোন দেশ সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে সেটার প্রেক্ষিতেই ইআইইউ এ তালিকা তৈরি করে থাকে। জীবনযাপনের ব্যাপারে মানুষের সন্তুষ্টির জরিপের ফলাফলও এ তালিকাসূচি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে সম্পদকে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অপরাধ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা এবং পারিবারিক জীবনের অবস্থার মতো বিষয়ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন আরও ১১টি নিয়ামককে বিবেচনায় রেখে প্রতি বছর এ তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকার শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং হংকং। এ তালিকাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৬তম এবং চীন ৪৯তম অবস্থানে রয়েছে।

মাহি জানতো না পকেটে কাঁচি রাখতে নেই

মাহি জানতো না পকেটে কাঁচি রাখতে নেই 


স্কুল বন্ধ থাকায় গতকাল বাড়িতেই ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মাহি (৮)। কাঁচি আর কাগজ নিয়ে ঘরে বসেই খেলছিল কাটাকুটি। সকাল ১১টার দিকে ফোন এলো মায়ের মোবাইলে। হাতের কাঁচিটা বুক পকেটে রেখে মোবাইল সেটটা হাতে নিয়েই দেখল বিদেশ থেকে ফোন করেছেন বাবা। বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মাকে খুঁজতে লাগল সে। আশপাশে দেখতে না পেয়ে বুঝল মা নিচতলার রান্নাঘরে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে ছুটল মাহি। কিন্তু ফোনালাপে ব্যস্ত থাকায় পা পিছলে গেল বেখেয়ালে। পকেটের কাঁচিটা ঢুকে গেল ছোট্ট মাহির পেটে। তবু সাহস হারাল না মাহি। নিজেই পেট থেকে টেনে বের করল কাঁচি। ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্তের ধারা। তার আর্তচিৎকার শুনে ছুটে এলেন মা। কিন্তু এই ছোট্ট দেহে আর কতটা ধকল সয়। তাই হাসপাতালে নিতে নিতেই ঝরে পড়া রক্তের সঙ্গে ঝরে গেল ছোট্ট মাহির প্রাণও।
গতকাল বুধবার রাজশাহী নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। রাজপাড়া থানার বহরমপুর এলাকার প্রবাসী মিঠুন হোসেন মিঠুর ছেলে মাহি।
মাহির মা বিথী বেগম সাংবাদিকদের জানান, মাহিকে নিয়ে তিনি তাঁর বাবার বাড়ি নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় থাকেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে মাহি ঘরে বসে খেলছিল। তিনি ছিলেন নিচতলার রান্নাঘরে। হঠাৎ মাহির চিৎকার শুনে সিঁড়ি কাছে ছুটে গিয়ে দেখেন মাহি মেঝেতে পড়ে আছে। তার পেট থেকে রক্ত ঝরছে। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই কথাগুলো জানায় মাহি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। মাহি মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরব আমিরাতে তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আরব আমিরাতে তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সহকর্মীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন সেখানকার সর্বোচ্চ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুবাইভিত্তিক বার্তা সংস্থা আমিরাত ২৪/৭ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

আমিরাত ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট (এফএসসি) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ওই তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি জানায়, অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশির সঙ্গে কাজ করতেন ওই নিহত ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে ওই ব্যক্তি ১০০ দিরহাম ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় ২০০৯ সালে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যা করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বিবাদীরা তাদের পাওনা টাকা চেয়ে ওই ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিতে চেয়েছিল, হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। কিন্তু আদালত আইনজীবীর আরজি খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ওই তিন বাংলাদেশি ও নিহতের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম এবং জামায়াত-শিবিরের সহিংস আক্রমণসহ নানা কারণে জীবনের নিরাপত্তা চান জেলা পরিষদের প্রশাসকরা। এ জন্য  জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে একজন গানম্যান, দুই জন সশস্ত্র পুলিশ এবং দুই জন সশস্ত্র আনসার সংবলিত নিরাপত্তা দল চান তারা। অনেক জেলা পরিষদের প্রশাসক দিনের আলো নেভার পর আর ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। ইতিমধ্যে পাঁচ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ সংক্রান্ত চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। এখন বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকদের চিঠির ভিত্তিতে অক্টোবর থেকে কাজ চলছে। আশা করছি সরকার তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের চিঠিতে নিজেদের ওপর আক্রমণের সম্ভাব্য নানা কারণের বর্ণনা দিচ্ছেন। চিঠিতে তারা বলছেন, প্রতিদিনের অফিসিয়াল কার্যক্রম, বিভিন্ন সভা বা সমাবেশে অংশ নেয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকে প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাফেরা করতে হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রশাসক হিসেবে নিরাপত্তা বিধানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ওদিকে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ার পর থেকেই এসব চিঠি প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয় সরকার বিভাগে আসছে। চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) মো. আবু ওসমান চৌধুরী তার চিঠিতে বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আট নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে আমাকে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সহিংস অবস্থা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনার উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি বলেছেন, ১৯৯০-৯১ সালে চাঁদপুর জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে কিছু দুষ্কৃতকারী শারীরিকভাবে নির্যাতনের উদ্দেশে তার অফিস ও বাসভবনে আক্রমণ করে ভাঙচুর করে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখেছিল। আবু ওসমান চৌধুরীর এ চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু ওসমান চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগে দিয়েছি। তারা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত চেয়ে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান মনে করেন, গানম্যান বা কঠিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা কখনও চিন্তা করিনি। মৌলভীবাজারে জামায়াত-শিবির ছাড়া আমরা সবাই একতাবদ্ধ। তাই কোন সমস্যা হবে বলে মনে করছি না। এর আগে স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আনার জন্য দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রশাসকদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে শুরু থেকেই প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য কোন গানম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের ইতিহাস ২০০ বছরের। পাকিস্তান আমলে ১০ বছর ছাড়া এ পর্যন্ত নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি পরিষদে। এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালে প্রথম জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০০ সালে নতুন করে জেলা পরিষদ আইন করে। তখনও তা গেজেট দ্বারা আইনের কার্যকারিতার সময় উল্লেখ করার কথা বলা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। নির্বাচিত জেলা পরিষদ ছাড়াই ২২ বছর পার হয়ে গেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। এখনও দলীয় বিবেচনায় অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। ওদিকে বর্তমানে বেশির ভাগ জেলা পরিষদ নিজস্ব আয় দিয়ে চলে। এমনকি বেতন-ভাতাও জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদের বার্ষিক আয় কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া, অন্য সব জেলা পরিষদের গড়ে আয় ৫৭ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। জমি রেজিস্ট্রির শতকরা ১ ভাগ টাকা জেলা পরিষদের বড় আয়। এর বাইরে রাস্তা-ঘাট, পুকুর ও মার্কেট ইজারা থেকে আয় হয়। জেলা পরিষদ সৃষ্টির পর এখন পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এর দায়িত্ব নেননি। বর্তমানে উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা।

Thursday, November 29, 2012

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

 


সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বছর বেশ ভাল করেছে। গত বছর বাংলাদেশের (সিভিল জাস্টিস সিস্টেমে) অবস্থান ছিল ৬২-তে। গত বছরের পর্যালোচনা ছিল ৬৬ দেশের মধ্যে। এবার সে সংখ্যা বেড়ে ৯৭ হয়েছে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে সিভিল জাস্টিসের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক স্বাধীন ও অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট’র ‘আইনের শাসন ইনডেক্স-১২’র বার্ষিক রিপোর্টে এ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি হচ্ছে সংস্থাটির তৃতীয় বার্ষিক রিপোর্ট। ৯৭ দেশে আইন-বিচার-মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এমন ২৫ সহস্রাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ৯৭ সহস্রাধিক সচেতন নাগরিকের সাক্ষাৎকার/মতামতের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং তা গতকাল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশ হয়। এ রিপোর্টে আইনের শাসনের ইনডেক্স নির্র্ধারণে ৮টি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মুক্ত শাসন ব্যবস্থা, আইনের প্রয়োগ, সিভিল জাস্টিস এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস। এ রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে নিম্নে অর্থাৎ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এক্ষেত্রে ৮৩ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে দ্বাদশ। গতবার এ ইনডেক্স ছিল ৪৭ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে তৃতীয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও কোন উন্নতি ঘটেনি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে সারাবিশ্বে সর্বনিম্নে অর্থাৎ এর চেয়ে বাজে অবস্থায় আর কোন দেশ নেই। মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে আদালতে ঝুলে থাকা এবং বিচার ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এহেন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় ওই রিপোর্টে। মানবাধিকার লংঘন এবং পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাবলিও বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা বলে মন্তব্য করা হয়েছে এই রিপোর্টে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভাল করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে নবম। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অপরাধের হার অনেক কম। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় আইনের শাসনের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে ভারতের র‌্যাঙ্ক হচ্ছে ৭৮। ভারতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৩৭ নম্বরে এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। স্বাধীন বিচার বিভাগ, বাক-স্বাধীনতা রক্ষা এবং সরকারের উদারনীতির সূচকে ভারতের অবস্থান সারাবিশ্বে পঞ্চম এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে চতুর্থ। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে কতটা সজাগ এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৭৯। পাকিস্তানে আইনের শাসন বলতে তেমন কিছু নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। আইনের শাসনের যে ৮টি ক্যাটিগরি চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থানের ৩ দেশের একটি হচ্ছে পাকিস্তান। নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের ব্যাপারেও পাকিস্তানের অবস্থা নাজুক। দক্ষিণ এশিয়ার অপর যে কোন দেশের চেয়ে পাকিস্তানে আইনের শাসন ব্যবস্থা দুর্বল এবং জবাবদিহি-স্বচ্ছতার কোন বালাই নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। শ্রীলঙ্কায় আইনের শাসন খুবই কার্যকর। তবে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এখনও দুর্বলতা রয়েছে। ক্রিমিনাল জাস্টিসে শ্রীলঙ্কার অবস্থান দ্বিতীয়, মুক্ত সরকার ব্যবস্থায় তৃতীয়, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে দুর্নীতি অনেক কম বলে মন্তব্য করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার প্রশ্নে দেশটির অবস্থানে কোন হেরফের হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম এইচ নিউকম বলেছেন, ‘আইনের শাসনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফলতা অর্জনের বিষয়টি সবার জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আশার কথা হচ্ছে, সব দেশেই কিছু না কিছু অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। আমরা কোন দেশের কী অবস্থা তার ইনডেক্স প্রকাশ করছি দেশগুলোকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য নয়, ‘এটি করা হচ্ছে দেশগুলোর সংশোধনের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে।’

জানি, কে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল

জানি, কে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল


বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে সরকার জরুরি অবস্থা জারির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নয়াপল্টনে লাখো জনতার সমাবেশে তিনি বলেছেন, ফিসফাস শোনা যায়- সরকার কার্ফু জারি বা জরুরি অবস্থা দেবে। সরকারের উদ্দেশে পরিষ্কার বলতে চাই, এ দেশের মানুষ ইমার্জেন্সি পছন্দ করে না। ইমার্জেন্সিতে কাজ হবে না, দেশের মানুষ কোন কিছুই মানবে না। এ রকম অবস্থায় তারা জরুরি অবস্থা দিলে সব কিছু ব্রেক করে রাজপথে নেমে আসবে। কারণ জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তেমন কিছু করা হলে সেটা সরকারের জন্যই কাল হবে। তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকজন দেশকে দেউলিয়া করে লুটপাটের অর্থ দেশেও রাখেনি, বিদেশে পাচার করেছে। তবে কে কোথায় কত টাকা পাচার করেছে এবং কে পাচার করতে গিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল, সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। সময় অনুযায়ী তা প্রকাশ করা হবে। বিএনপি নেত্রী বলেন, কোন দল বা পরিবারের কথায় নয়, জনগণের কথায় এ দেশ চলবে। এ দেশে গণতন্ত্র আমরাই এনেছি। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এ দেশের মাটিতে আমরা অন্য কিছু দেখতে চাই না। সরকারকে বলতে চাই- গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে যথাসময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে ১৮ দল আয়োজিত স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ থেকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ৯ই ডিসেম্বর থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। সেই সঙ্গে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি প্রয়োজনে লাগাতার হরতালে যাওয়ার হুমকি দিয়ে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেন। আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মহলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১৮ দলের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যর্থ ও দুর্নীতিবাজ এ সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি, দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাই। সেই সঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা আর কত চোখের পানি ফেলবেন? আর কত নির্যাতন সহ্য করবেন? আসুন এ জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মহাজোট সরকার ৪ বছরে দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। অর্থনৈতিক উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা মেশিন এনে ফেলে রেখেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালু করতে পারছেন না। ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ বিএনপির লোক নয়, তিনিই বলেছেন- দেশে ৩৮টি ব্যাংক আছে কিন্তু বিনিয়োগের জন্য টাকা পাওয়া যায় না। অথচ সরকারের লোকজনকে অনেকগুলো ব্যাংক দেয়া হয়েছে। জনগণের প্রশ্ন, তারা ব্যাংক করার এত টাকা কোথায় পেলেন? একদিন এর হিসাব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ দিন। দেশকে স্বাবলম্বী করে তুলবো। দেশের চেহারা পাল্টে দেবো। সেটা না পারলে যে শাস্তি দেবেন, তা মেনে নেবো। তবে বিএনপি অতীতেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সফল হয়েছে, ভবিষ্যতেও করতে পারবে। বিরোধী নেতা বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ শান্তিতে নেই। হয় খুন করা হচ্ছে, নয় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া। যদি তারা ভাল কাজ করে, সে নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা মেনে নেবো। তবে নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকারের মন্ত্রীদের দুর্নীতির জন্য পদ্মা সেতু হলো না। বিশ্বব্যাংকসহ সব আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিষ্ঠান অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সরকার এখন জনগণের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা সেতুতে দু’টিসহ প্রয়োজনীয় আরও বহু সেতু নির্মাণ করা হবে। আমরা আঞ্চলিকতায় বিশ্বাসী নই, তাই প্রথমে মাওয়া ও পরে দৌলতদিয়া দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার কুইক রেন্টালের নামে কুইক টাকা বানিয়েছে। জনগণ কুইক বিদ্যুৎ না পেলেও তারা কুইক বড়লোক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের পদলেহী হিসেবে কাজ করছে। তারা এখন মিথ্যাবাদী কমিশনে পরিণত হয়েছে। সরকারের লোক হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে, তাদের ধরছে না কিন্তু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখন দুদকের কথা জনগণ বিশ্বাস করে না, কারণ সরকার যা বলে তারা তাই করে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ সমাজ শিক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সরকার অঙ্গীকার করেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সরকার যুবসমাজের হাতে ফেনসিডিল তুলে দিচ্ছে। শোনা যায়, এ সরকারের উঁচু পর্যায়ের কেউ কেউ নাকি ফেনসিডিল খায়।
বিরোধী নেতা বলেন, দলীয় লোক ও অযোগ্যদের ভারে প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়েছে। পুলিশ এখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে মিলে বিরোধী দলের ওপর হামলা করছে। সরকারি দলের কর্মীদের বিচারকরা মুক্তি দেয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জামিনও দেয় না। এ সরকার ২১ জন ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক। দেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, সেভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করুন। সরকারের আদেশ-নির্দেশে অন্যায় বা একতরফা বিচার করবেন না।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস দমন করবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাতে কেন অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে, পুলিশ থাকতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন তাদের বিরোধী দল দমনের নির্দেশ দিয়েছেন তার জবাব দেয়া-নেয়া হবে।
বিরোধী নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেন। সত্য বলার সাহস উনার নেই। সংসদে প্রতিনিয়ত নোংরামি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেন। আমাদের পক্ষে এত নোংরামি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ সরকার নামফলক বসাতে জানে, কাজ করতে পারে না। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ মিথ্যা নামফলক থাকবে না। খালেদা জিয়া বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয় করে দেশের মান উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তাকে হেনস্তা ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেয়ার সব কাজ করেছে। তারা আসলে ভাল কাজ করতেও পারে না, কেউ করলে সহ্যও করতে পারে না। বক্তব্যের শুরুতে তিনি আশুলিয়ায় গার্মেন্ট ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত কামনা ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া ১৮ দলের পক্ষে আগামী মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৬ই ডিসেম্বর সারাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস, ৯ই ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধ, ১১ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি, ২৩শে ডিসেম্বর সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সারাদেশে গণবিক্ষোভ, ২৬শে ডিসেম্বর ঢাকায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ও সারাদেশে ১৮ দলের গণসংযোগ। কর্মসূচি ঘোষণা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে আমরা লাগাতার হরতালে যাব, আপনাদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নিতে হবে।
অন্য নেতারা যা বলেছেন : এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, যৌবনে আমরা জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ও নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এখন যারা যুবক তাদের সমৃদ্ধ দেশের জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ব্যর্থ সরকারকে হটিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন দলের সঙ্গে নয় সম্পর্ক গড়তে হবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে, দেশে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে। তিনিই হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কোকো পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে দুদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ জানে বিদেশ থেকে কোকোর নামে টাকা আনা হচ্ছে। আসলে তা শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, সোনালী ব্যাংক ও হলমার্কের লুটের টাকা। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র ও আইন প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, পুলিশ দিয়ে জামায়াত-শিবির দমন করা যাবে না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে জিয়া পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, রাজপথেই সরকারকে মোকাবিলা করা হবে। তরিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিকভাবে শুধু টাকা বানানোর জন্য চট্টগ্রামে উড়াল সেতু করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে এই কাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হচ্ছিল। ফলে সেখানকার মৃত্যু রাজনৈতিক মৃত্যু, এ মৃত্যুর দায় সরকারের। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকার শুধু মানি লন্ডারিং নয়, দেশটিই লন্ডারিং করে ফেলেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বক্তব্য দেন। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জোটের শরিক দলের নেতা ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, জমিয়তে উলামা ইসলামীর মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনিসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত-শিবিরের শোডাউন: ১৮দলীয় জোটের সমাবেশে বরাবরের মতোই ব্যাপক শোডাউন করেছে জামায়াত-শিবির। সমাবেশ শুরুর আগেই সভাস্থলের পশ্চিমাংশ জুড়ে অবস্থান নেয় তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তাদের উপস্থিতি। পর্যায়ক্রমে সভামঞ্চের পশ্চিম অংশ থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত দখলে নেয় তারা। এছাড়া ফকিরাপুল এলাকায়ও অবস্থান নেয় কিছু নেতাকর্মী। এ সময় তাদের হাতে শোভা পায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ও তাদের মুক্তির স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। মঞ্চের সামনে উড়ানো বেলুনেও নেতাদের ছবি শোভা পায়। এছাড়া মঞ্চে নেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারবিরোধী গণসংগীত পরিবেশন করে শিবিরের সহযোগী সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী। শিবিরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। টার্গেট ছিল ৪০-৪৫ হাজার লোক জড়ো করার। সে টার্গেটের চেয়ে বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন।
রাজধানীতে পথে পথে বাধা: গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি আহূত সমাবেশে আসার পথে বেশ কিছু স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছে পুলিশ। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। রাজধানী শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশ যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়েছে। আগত লোকদের রাজনৈতিক পরিচয় পেলে তাদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সমাবেশের ব্যানার কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, সূত্রাপুর, গাবতলী, কাঁচপুর ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী ও বুড়িগঙ্গা সেতু দিয়ে আসার পথে বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশির কারণে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর: ১৮ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সমাবেশমঞ্চের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। পুরো মঞ্চ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করা হয়। রাজধানীর প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দেয়াল তৈরি করেন।
সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ১৮ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে সাভারের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সন্দেহ হলেই তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশপথ আমিনবাজার, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, রাজফুলবাড়িয়া, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও রেডিও কলোনিতে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহর তল্লাশি চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন যানবাহনকে তার গন্তব্যে যেতে না দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। বিএনপি কর্মী সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ওদিকে মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, নয়াপল্টনের জনসভাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের করিডোর মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। মাওয়া থেকে কম সংখ্যক ফেরি কাওড়াকান্দি ঘাটে আসতে দেখা গেছে। এতে ঢাকামুখী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরিতে আগুন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরিতে আগুন 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ে একটি সাবান ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে সানারপাড় বাসস্ট্যান্ডের পাশে রহিম মার্কেট সংলগ্ন সাবান ফ্যাক্টরীতে আগুন লেগে লাকী টিম্বারসহ আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিভাতে ডেমড়া ও হাজীগঞ্জের ৪টি ইউনিট চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ মণ্ডলপাড়া থেকে আরো ২টি ইউনিট রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘটনাস্থলে আগুন নিভানোর কাজে নিয়োজিত হাজীগঞ্জ ইউনিটের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।

রাজপথ অবরোধ ও গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

রাজপথ অবরোধ ও গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা:১৮ দলীয় জোটের জনসভায় খালেদা জিয়া 

রাজপথ অবরোধ, গণবিক্ষোভ ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা দিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার বিকেলে বিএনপির নয়া পল্টনস্থ কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার সমম্ত ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছে। কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উর্পাজন করেছে। জনগণের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন না করে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিবে তাতে কোনো আপত্তি থাকবে না। খালেদা জিয়া আরো বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে নেই। সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। তাদের উচিত ছিল ব্যর্থতার দায় নিয়ে আরো আগেই পদত্যাগ করা।

বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়া কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন-আগামী ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস হিসেবে পালন, ৯ ডিসেম্বর নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে থানা, পৌরসভা, জেলা পর্যায়ে রাজপথ অবরোধ, ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে গণবিক্ষোভ, ২৬ ডিসেম্বর সারাদেশে গণসংযোগ।

Wednesday, November 28, 2012

চুল পড়া সমস্যা-২০ যে কারণে মাথা টাক হয়


চুলপড়া সমস্যা সব বয়সেই হতে পারে। কি পুরুষ কি মহিলা অথবা কিশোর-কিশোরী। আমি সব সময় বলে আসছি চুলপড়া সমস্যা কোন রোগ নয়। যে কোন রোগ অথবা সমস্যা থেকে চুলপড়তে পারে। এবার আমরা মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের এক ধরণের চুলপড়া নিয়ে আলোচনা করবো। মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস হচ্ছে পুরুষের চুলপড়া সমস্যার অন্যতম একটি ধরন। সাধারণত: জিন ও পুরুষ সেক্স হরমোন হিসাবে খ্যাত টেসটেসটেরনই দায়ী। এধরণের চুলপড়া সমস্যাকে এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া বলা হয়। এধরণের চুলপড়া সমস্যা বুঝতে বা ডায়াগনোসিস করতে খুব একটা সমস্যা হয়না। হেয়ারলাইন বা কপালের উপরের অংশের চুল ফাকা হয়ে যায় এবং মাথার উপরি ভাগের অংশে চুল কমে যায়। এ ক্ষেত্রে চুলপড়ার ধরণ দেখেই বুঝা যায় এটা হরমোনাল বা বংশগত কারণে চুল পড়ছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ হরমোন জনিত চুলপড়া সমস্যার কোন ভালো চিকিত্সা নেই। কারণ হরমোন পরিবর্তন করে চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যৌক্তিক নয়। তবে মেলপ্যাটার্ন বল্ডনেস বা পুরুষের চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে মার্কিন ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন এ পর্যন্ত দু’টো ওষুধ অনুমোদন দিয়েছে। আশার কথা এ দু’টো ওষুধই এখন বাংলাদেশে তৈরী হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে মিনক্সিডিল। মিনক্সিডিল হচ্ছে এক ধরণের লোশন বা সলিউশন যা সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করতে হয়। এই ওষুধটি হেয়ার ফলিকিউল স্টিমুলেট করে এবং চুলগজাতে

সাহায্য করে। এছাড়া এড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়ায় আর একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি হচ্ছে ফিনাস্টেরাইড। এটা এক ধরণের মুখে খাবার ওষুধ। দৈনিক ১ মিলিগ্রাম করে এধরণের ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয়। এই ওষুধটি মিনক্সিডিল অপেক্ষা ভালো এবং চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুল গজাতেও কার্যকর।

তবে যে কথাটি আমি সব সময় বলে থাকি চুলপড়া সমস্যা কোন রোগ নয় এবং চুলপড়া সমস্যার কোন ম্যাজিক চিকিত্সা নেই। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীরা চিকিত্সা নিতে নিতে হতাশ হয়ে পড়ে। ছুটতে থাকে এক ডাক্তার থেকে অন্য ডাক্তারের কাছে। ওষুধও পরিবর্তন করতে হয় বারবার। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়না। স্কিন স্পেশালিষ্টদের প্রতি আস্থা হারিয়ে রোগীরা ছোটে তথাকথিত

অপচিকিত্সার দিকে। এজন্য আমরা ডাক্তাররাও কিছুটা দায়ী। রোগীর সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় দেইনা। রোগীর মানসিক অবস্থা ও চুলপড়া নিয়ে হতাশাও বুঝতে চেষ্টা করিনা। ফলে বড় বড় ডাক্তারদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে রোগীরা। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে শুধু ওষুধ দিয়েই চুলপড়া সমস্যার সমাধান হবেনা। চুলপড়া সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে চিকিত্সার পাশাপাশি যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর রোগীকে আস্থাশীল করতে না পারলে রোগীও দীর্ঘ মেয়াদী চিকিত্সা নিতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই চুলপড়া সমস্যার চিকিত্সা যত বেশী জরুরী তার চেয়ে বেশী জরুরী রোগীর আস্থা ও ধৈর্য। কারণ ধৈর্য ধরে যথাযথ চিকিত্সা নিতে পারলে অবশ্যই উপকার পাওয়া যাবে।

‘চামেলি’ই ‘তালাশ’-এর কারিনা


কারিনা কাপুর একজন যৌনকর্মী হিসেবে ‘চামেলি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি ছিল ২০০৪ সালের। এবার ‘তালাশ’ ছবিতে কারিনা যেই চরিত্রটি করছেন তা ‘চামেলি’র চরিত্রটির সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। এখানেও কারিনা কাপুর যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কারিনা বলেন, ‘ছবিতে আমি যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছি, তবে আমার চরিত্রের গুরুত্ব ছিল অন্য জায়গায়। আমি আমির খানের অনেকটা সহচরীর মতো ছিলাম, তার পথপ্রদর্শক হিসেবেও কাজ করেছি আমি। এ পর্যন্ত আমার অভিনয় করা চরিত্রগুলোর মধ্যে এটি অনেক বেশি সংবেদনশীল। উল্লেখ্য, শুধু চরিত্রই নয়, এই ছবিতে কারিনার আরও একটি মিল রয়েছে, তা হলো ছবিটির নাম। ঠিক একই নামে কারিনা কাপুর ২০০৩ সালে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সেই ছবিতে কারিনার বিপরীতে ছিল তখনকার অ্যাকশন হিরো অক্ষয় কুমার। ছবিটি ২০০৩ সালের ৩ জানুয়ারি মুক্তি পায়। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর একই নামের আরও একটি ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলিউড বেবোর। উল্লেখ্য, ‘তালাশ’ ছবিটি আগামী ৩০ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন আমির খান।

ধূমপান ছাড়ার পর কি কি ঘটতে পারে?

ধূমপান ছাড়ার পর কি কি ঘটতে পারে?


ধূমপান ছাড়ার পর একজন ধূমপায়ীর শরীরে কি ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান ছাড়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় শরীরে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সে ধারা অব্যাহত থাকে। এখানে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় তুলে ধরা হলো।
ধূমপান ছাড়লে-
১) ২০ মিনিটের মধ্যে রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
২) ৮ ঘণ্টার মধ্যে রক্তপ্রবাহে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা কমে অর্ধেকে নেমে আসবে। রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
৩) ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। শরীর থেকে বিষাক্ত নিকোটিন বের হয়ে যাবে। স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসবে।
৪) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসনালীগুলো প্রশান্ত হয়ে আসবে। উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় কর্মশক্তি ও স্পৃহা ফিরে পাবেন আপনি।
৫) ২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বাড়বে। এর পরের ১০ সপ্তাহে ক্রমান্বয়ে এ অবস্থার আরও উন্নতি হতে থাকবে।
৬) ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কাশি, বুক ধড়ফড়, শ্বাস নেয়ার সময় শনশন শব্দ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা প্রশমিত হয়ে যাবে। কারণ এ সময়ের মধ্যে আপনার ফুসফুসের ক্ষমতা ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে।
৭) ১ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসবে।
৮) ৫ বছরের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত ঝুঁকি একজন অধূমপায়ীর পর্যায়ে নেমে আসবে।
৯) ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে অধূমপায়ীর পর্যায়ে নেমে আসবে।
১০) ১৫ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের পর্যায়ে নেমে আসবে।

Tuesday, November 27, 2012

বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ছাড়ছেন আহতরা

বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ছাড়ছেন আহতরা


চিকিৎসার টাকা নেই। ঘরে খাবার নেই। প্রতিদিন হাসপাতালের খরচ দেড় হাজার টাকা। কিভাবে দেবে? স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করতো তানজীর গার্মেন্টে। স্বামী কম আহত, স্ত্রী শম্পা বেশি। দুজনই তিন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। আহত শম্পার আইডি নম্বর ৩৯৬৩। আহত হওয়ার পর শম্পাকে ভর্তি করা হয় পলাশবাড়ী এলাকার হাবিব ক্লিনিকে। টাকার অভাবে গতকাল দুপুরের পর হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় তাকে। শম্পা বেগম অভিযোগ করেন তাকে চিকিৎসার কোন টাকা দেয়া হয়নি। এখন বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, তার আরেক আত্মীয় নাজমা বর্তমানে ভর্তি আছে সাভারের সুপার ক্লিনিকে। সেখানে স্যালাইন দিতে হচ্ছে তাকে কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা দিতে পারছে না। চার তলা থেকে লাফ দিয়ে আহত হওয়া রংপুর মিঠাপুকুর এলাকার আনজুমা বেগম গতকাল পর্যন্ত আছে বিনা চিকিৎসায়। দেখা গেল গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটায় নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে একটি ভ্যানের ওপর শুয়ে রাখা হয়েছে তাকে। আনজুমার কোন নিকট আত্মীয় আসেনি তাকে দেখতে। তাকে হাসপাতালে নেয়ার কেউ নেই। স্কুল মাঠে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলছিলেন- সবাই বলে সরকার চিকিৎসার টাকা দেবে কিন্তু এই শ্রমিকটি তো বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে এখন কে তাকে হাসপাতালে নেবে? নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে দেখা গেল এমনই অনেক চিকিৎসা বঞ্চিত আহত শ্রমিকরা ছটফট করছে সেখানে। এমন শ্রমিকদের মধ্যে গুরুতর আহত দেখা গেল নাজমুল, আলামিন, সফিক সহ অনেককে। তাদের অভিযোগ চিকিৎসার কোন টাকা পাচ্ছে না তারা। মালিক পক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।

বিশ্ব মিডিয়ায় নিশ্চিন্তপুর

বিশ্ব মিডিয়ায় নিশ্চিন্তপুর


আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব মিডিয়াকেও শোকে কাতর করেছে এখানকার ভয়াবহ অগ্নিগ্রাস। অনলাইনে বাংলাদেশ সার্চ দিলেই ভেসে উঠছে নিশ্চিন্তপুরের হৃদয়বিদারক দৃশ্য, বিবরণ। পাশাপাশি উঠে আসছে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা। আরব নিউজে তুলে ধরা হয়েছে এক সাবিনা ইয়াসমিনের আর্তনাদ। তার পুত্রবধূ নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনে পুড়ে মারা গেছেন। তিনি বুক চাপড়ে আর্তনাদ করছিলেন- আমি এই কারখানা মালিকের ফাঁসি চাই। তার জন্যই আজ এতগুলো মানুষের প্রাণ ঝরে গেল। এমনি অনেক সাবিনার কান্নায় নিশ্চিন্তপুরের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এতে বলা হয়, স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী নিশ্চিন্তপুরের আগুন ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার গার্ডার ধসে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২৫। কোন কোন মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টেই পুড়ে মারা গেছে ১২৪ জন। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায় নি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ গার্মেন্ট কারখানা আছে। এর অনেকগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিদেশে তৈরী পোশাক রপ্তানি করে প্রায় ২০০০ কোটি ডলার আয় করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, পশ্চিমাদের কাছে বড় ধরনের চালান সরবরাহ দেয় যেসব গার্মেন্ট বাংলাদেশের সেই সব গার্মেন্টের একটিতে ভয়াবহ আগুনে কমপক্ষে ১১২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ওই কারখানায় আটকা পড়েছিলেন। কারণ, ওই কারখানা থেকে জরুরি ভিত্তিতে বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেড নামের ওই কারখানাটি তুবা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এরা ওয়াল-মার্ট সহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোর কাছে পোশাক সরবরাহ করে থাকে। অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক কর্মকর্তা মেজর মোহাম্মদ মাহবুব বলেছেন, তারা কমপক্ষে ১০০ মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। যারা ওই ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছিলেন হাসপাতালে নেয়ার পর তাদের ১২ জন মারা গিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করেছিল ওয়াল-মার্ট। তারপরও কি করে সেই কারখানা ওয়াল-মার্টের কাজ পায় তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াল-মার্ট তার ‘২০১২ গ্লোবাল রেসপনসিবিলিটি’ শীর্ষক রিপোর্টে বলেছে, তাদের ব্রান্ড পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে তা নেয়ার জন্য আগুন থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি আগে থাকতে হবে। ২০১১ সালে ওয়াল-মার্ট বাংলাদেশের ৪৯টি কারখানার সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ, আগুন থেকে নিরাপত্তা ইস্যুতে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওদিকে বৃটেনের অনলাইন ডেইলি মেইল জানায়, বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ফলে বৃটেনের তৈরী পোশাক ক্রেতাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ চাপ সৃষ্টি করেছে সোয়েটশপ বিরোধী প্রচারণা চালানো গ্রুপগুলো। টেসকো, এইচঅ্যান্ডএম সহ যে সব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক নিয়ে থাকে তাদেরকে এ থেকে শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গত ৪ঠা জুনে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা শীর্ষ স্থানীয় গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি উৎসাহ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ‘আগামীতে এশিয়ার বাঘ’ হতে যাচ্ছে। নিউ সিল্ক রোডে বাংলাদেশ হলো প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কথা বলেন নি। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে যে ঝড় আসতে পারে সে বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও তুলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক মধ্যরাতে তাকে ফোন করে তার কোম্পানির সুনাম নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন। অনলাইন গালফ নিউজ লিখেছে, আশুলিয়ায় আগুনে কমপক্ষে ১১০ শ্রমিক মারা যাওয়ায় বাংলাদেশ যখন শোকাতুর তখনই গতকাল আরেকটি গার্মেন্টে আগুন লেগেছে। ১২ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের ছাদে আটকা পড়েছিলেন বেশ কিছু শ্রমিক। এ ঘটনায় ফুটে ওঠে দরিদ্র হাজার হাজার দরিদ্র গার্মেন্ট শ্রমিক- যাদের বেতন-ভাতা কম- তারা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ওদিকে গতকাল অধিকতর সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন। এতে যোগ দেন আশপাশের অনেক গার্মেন্টের শ্রমিক। ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, তারা তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রধান বদরুল আলম বলেছেন, তারা শ্রমিকদের বিষয়ে অবহেলার দায়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ বিষয়ে সরকার দু’টি ও পুলিশ একটি তদন্ত করছে। তারপরই তারা নিশ্চিত হবেন নিশ্চিন্তপুরের আগুনের জন্য মালিক দায়ী কিনা। কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ প্রায় একই রকম রিপোর্ট লিখেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, লি অ্যান্ড ফাং-এর জন্য বাংলাদেশের যে গার্মেন্ট পোশাক তৈরি করে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের পর গতকাল কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তারা সাভারে সড়ক অবরোধ করে সুবিচার দাবি করেছে। এ সময় তারা বিভিন্ন কারখানায় পাথর ছুড়ে এবং যানবাহন ভাঙচুর করে। এদিন সাভারে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২০০ কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাজরিন ফ্যাশন কারখানা থেকে পোশাক কিনতো হংকংয়ের লি অ্যান্ড ফুং নামের সংস্থা। এর এক মুখপাত্র এতগুলো মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা তাজরিন ফ্যাশনের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। আমরা নিজেদের মতো অনুসন্ধান করবো। তারপর দেখবো কি কারণে ওই অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলো। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, আশুলিয়ার পর ঢাকায় আরেকটি পোশাক তৈরি কারখানায় আগুন লেগেছে। তবে সেখান থেকে কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় নি। ভারতের রিডিফ.কম জানিয়েছে, আশুলিয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে পড়ে নিহতের সংখ্যা ১৩৭-এর বেশি।