Pages

Wednesday, December 5, 2012

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার


২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের এমন একটি আশঙ্কাকে নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। গত সোমবার ইন্টারনেট ব্লগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই বক্তব্য পোস্ট করা হয়।

এতে বলা হয় নাসার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই মর্মে লাখ লাখ চিঠি পেয়েছে যে আগামী ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। একটি প্রাচীন মায়ান ক্যালেন্ডারকে ভিত্তি করে ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এই ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই মনে করেন, বিরাট একটা ধূমকেতু ওইদিন পৃথিবীতে আঘাত আনবে। অন্য একটা গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ। নাসার এক বিজ্ঞানী বলেন, তিনি তরুণদের কাছ থেকে বহু চিঠি পেয়েছেন, যেগুলোতে তারা ভয়ানক কোন বিপর্যয় ঘটার আগেই আত্মহত্যার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।

এ বছরের গোড়ার দিকে নাসা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মায়ান ক্যালেন্ডারে প্রকৃত পক্ষে ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘটার কথা বলা হয়নি এবং নিবিরু নামে একটি গ্রহ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাও সত্যি নয়। এমন কোন গ্রহের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীরা দেখতে পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়াও তাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে এদিন মহাপ্রলয় ঘটার কোনো আশংকা নেই।

অভিনয়ের জন্য রাজি নয় কারিনা

অভিনয়ের জন্য রাজি নয় কারিনা


রকাশ ঝা পরিচালিত নতুন ছবি 'সত্যগ্রহ'-তে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন কারিনা কাপুর। সব ঠিকই ছিল, ঝামেলাটা বাঁধল শুটিংয়ের কয়েকদিন আগে। যদিওবা এখনও শুটিং শুরু হয়নি। এই ছবিতে কারিনার চরিত্র একজন সাংবাদিকের। আর সেখানেই কারিনার যত আপত্তি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কারিনাকে কাটতে হবে চুল। কিন্তু খুব যত্ন করে চুলগুলো গড়েছেন কারিনা। এই চুল মোটেও কাটবেন না তাই। কারিনা বলেন, 'আমি ছবিটিতে একজন সাংবাদিকের ভূমিকায় কাজ করতে যাচ্ছি। দুঃসংবাদ হলো চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে চুল কাটতে হবে। কিন্তু আমি মোটেও চুল কাটব না। আমি নিজের থেকে বেশি পছন্দ করি আমার চুলকে, যত্নও করি বেশ। এই চুল আমি মোটেও কাটছি না। চরিত্রের জন্য আমি প্রকাশকে বলেছি চুল বড় থাকলে তো কোনো সমস্যা নেই। সেই জায়গা থেকে যদি একেবারেই না হয়, তাহলে আমি কাজটি করতে পারব না।' উল্লেখ্য, আগামী বছরের শুরুর দিকে এই চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হবে।

২২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেল নকিয়ার সদর দপ্তর

২২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেল নকিয়ার সদর দপ্তর


আলোচনা চলছিল অনেকদিন থেকেই। অক্টোবরের শুরুর দিকে নকিয়ার পক্ষ থেকেই জানানো হয়, নানা ধরনের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা তাদের নন-কোর অ্যাসেট বা অপ্রধান সম্পদগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অপ্রধান সম্পদের মধ্যে তাদের ফিনল্যান্ডের এসপোতে স্থাপিত সদর দপ্তরটিকেও তালিকাভুক্ত করে তারা। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কাঁচ আর ইস্পাতের তৈরি এই নয়নাভিরাম সদর দপ্তরটি অবশেষে বিক্রি করে দিয়েছে নকিয়া। ফিনল্যান্ডের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এক্সিলিয়ন ২২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৭০ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে নিচ্ছে এই ভবন। অবশ্য এটাতে ঠিক বিক্রি বলে অভিহিত করছে না নকিয়া। তারা জানিয়েছে, 'দীর্ঘ মেয়াদে' এই ভবনটি এক্সিলিয়নের কাছে 'লিজ' দেওয়া হচ্ছে। তবে শেষ বিচারে এটি বিক্রিই হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নকিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতির মুখে রয়েছে। অ্যানড্রয়েড এবং আইওএস-এর দাপটে নকিয়ার নিজস্ব সিমবিয়ান প্ল্যাটফর্ম এখন বাজারে বিলুপ্তপ্রায়। শুধু তাই নয়, মাইক্রোসফটের সাথে তারা যে উইন্ডোজ ফোনগুলো বাজারে এনেছে, সেগুলোও আশানুরূপ সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না নকিয়া। কিছুদিন আগে তারা কর্মীও ছাটাই করে। তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারেনি নকিয়া। শেষ পর্যন্ত সদর দপ্তরটি বিক্রি করে বড় অংকের টাকা হাতে আসল তাদের।

তাপে আয়ু বাড়বে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের

তাপে আয়ু বাড়বে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের


কম্পিউটারের ব্যবহার যেভাবে বিশ্ববাপী বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলেছে বহনযোগ্য স্টোরেজ এবং মেমারির ব্যবহার। ইউএসবি হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, মোবাইলসহ নানা ধরনের ডিভাইসে ব্যবহূত হয়ে যাচ্ছে এই ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ। তবে ফ্ল্যাশ মেমোরির অন্যতম একটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, ১০ হাজারবার রিড-রাইট সাইকেল সম্পন্ন করার পর ফ্ল্যাশ মেমোরির কর্মদক্ষতা অনেকখানি কমে যায়। তবে এই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি উপায় উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা। তাপের মাধ্যমে তারা ফ্ল্যাশ মেমোরির কর্মদক্ষতাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন। ইলেকট্রনিক কোম্পানি ম্যাক্রোনিক্সের গবেষকরা জানিয়েছেন, তাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাশ মেমোরির রিড-রাইট সাইকেলের পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব ১০০ মিলিয়নে। এর আগেও গবেষকরা তাপকে ফ্ল্যাশ মেমোরির আয়ু বাড়াতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কিছু মাত্রায় সেই কাজ করেও দেখিয়েছেন। তবে বৃহত্ আকারে সেই গবেষণাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল না। তবে মাইক্রোনিক্সের গবেষকরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে নতুন করে ডিজাইন করেছেন ফ্ল্যাশ মেমোরিকে। এই নতুন ডিজাইনে তারা ফ্ল্যাশ মেমোরি ম্যাটেরিয়ালের পাশাপাশি একটি হিটার সংযোজন করে দিয়েছেন। এই হিটারটি ছোট ছোট মেমোরি কোষগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর পর তাপ প্রদান করবে। ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ প্রদান করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত মেমোরি সেলগুলো পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে কর্মক্ষম হয়ে উঠবে। তবে ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মেমোরি সেলগুলোকে উত্তপ্ত করা হলেও তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে না। গবেষকরা জানিয়েছেন, খুব ক্ষুদ্র এলাকাজুড়ে মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড সময় ধরে তাপ প্রদান করা হবে। আর এই প্রক্রিয়াতে শক্তি খরচও হবে অত্যন্ত কম। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই দাবী গবেষককদের। আবার বহনযোগ্য ডিভাইসগুলোর চার্জও এতে খুব একটা খরচ হবে না বলে জানান তারা। মাইক্রোনিক্সে যে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানো হয়েছে, তাতে ১০০ মিলিয়ন সাইকেল পর্যন্ত ফ্ল্যাশ মেমোরিকে কর্মক্ষম রাখা গেছে। তবে এই সাইকেলের পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলেই আশাবাদী গবেষকরা। আপাতত সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে মাইক্রোনিক্স। তবে তারা কবে নাগাদ এই নতুন প্রযুক্তির স্টোরেজ ডিভাইস বাজারে আনবে, তা সম্পর্কে কিছু জানায়নি তারা।

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানটা বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মত। কাল আরেকবার সিরিজের এই পরিসংখ্যানের কথা মনে করিয়ে দিতে নিজেই যেন একটু থমকে গেলেন মোমিনুল হক। বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছেন আজ বুধবার। আর এমন একটা সময় তিনি দলের এগারজনের একজন যখন সিরিজ জেতা থেকে বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচ পেছনে। তাই আগের দুই ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান না তরুণ এই ক্রিকেটার। শুধু আজকের ম্যাচ জিততে চান তিনি। তবে এই চাওয়া তার একার নয়, পুরো জাতি আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দিবা-রাত্রি এই ম্যাচে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা নিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে মুশফিকরা। তাদের সাথে থাকবে কোটি কোটি দর্শকের প্রার্থনা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের একদিকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের হাতছানি অন্যদিকে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের জন্য অস্থিত্ব রক্ষার লড়াই। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। ১৯৯৩ সালের পর একসাথে চারটি টেস্ট ম্যাচও জিতেছে তারা এ বছর। আর এরপরই ঘটেছে অঘটন। প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে তাদের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। এসব হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে ড্যারেন স্যামিকেও কঠিন ভাবনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সমীকরণ অনেক কঠিন তবে এই সমীকরণের কথা প্রতিপক্ষকে জানাবেন না বলেই কাল হরতালের কারণে অনুশীলনে আসেননি তারা। হোটেল বন্দি হয়ে নিজেদের মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আসলেই কি মানসিক চাপ কমেছে?

এই দিক থেকে নির্ভার থাকার চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা। এখনো তিনটি ম্যাচ আছে, সিরিজ জেতার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে তাদের। তবে সাকিব আল হাসানের মত ওয়ানডে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে মুশফিকরা পাচ্ছে না পেসার আবুল হাসানকে। ইনজুরির কারণে তিনি দলের বাইরে, তার জায়গায় আজ খেলতে পারেন অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। সেরা একাদশে ঠাঁই হলে বাংলাদেশের আরেক খেলোয়াড়ের ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যাবে আজ। সাকিবের অনুপস্থিতি যেমন দলকে বুঝতে দেয়নি, আবুলের অনুপস্থিতিও কোন সমস্যা হবে না এমনটি মনে করছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। কাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুরের কণ্ঠে তাই দৃঢ় শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে, 'আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে'। অর্থাত্ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের পারদটা এখন অনেক উঁচুতে।

খুলনার জয় থেকে মুশফিকদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ঠিকই তবে আড়ালে দুশ্চিন্তাও ভর করছে স্বাগতিকদের। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম যদি বাংলাদেশের জন্য 'পয়মন্ত' ভেন্যু ঠিক বিপরীত হবে মিরপুর স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেট যাকে ধরা হয়, সেই মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৫১টি ম্যাচ খেলেছে। মাত্র ২১টি জয় পেয়েছে তারা বাকি ৩০টি ম্যাচে হারতে হয়েছে তাদের। আরো ভয়ংকর পরিসংখ্যানও রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এই মাঠে সর্বশেষ ১৫টি ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে তারা। সঙ্গে যোগ হয়েছে সন্ধ্যার কুয়াশার যন্ত্রণা। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা তো কাল বলেই ফেলেছেন, যেভাবে কুয়াশা পড়ছে তাতে পরে বল করা দলের বেশ সমস্যা হতে পারে। অর্থাত্ টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে বল করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, কিউরেটর জানিয়েছেন এই মাঠে তিনশ রানও অসম্ভব নয়।

আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে প্রস্তুত তামিম ইকবালও। দায়িত্বটা তার উপরই বেশি তবে এনামুল হক বিজয়ের মত একজন যোগ্য ওপেনারকে পেয়ে আড়ালে নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া এনামুলের সামনে আজও নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটার মোমিনুলের সামনেও দারুণ সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশ আজ পাড়ি দিতে চায় স্বপ্নের দেশে। যেখানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি রয়েছে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে উপরে যাওয়ার সুযোগ। আর দুটি ম্যাচ জিতলে র্যাংকিংয়ে সাত নম্বর জায়গায় উঠে আসবে তারা।

বাংলাদেশ দলে এখন তিন পেসার। সঙ্গে যোগ হয়েছে পেস নির্ভর অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান জিয়া। টিমের কম্বিনেশন কি হবে তা বলতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক, আজ দুপুরে উইকেট দেখে কম্বিনেশন ঠিক করা হবে বলে জানালেন তিনি। বাংলাদেশের ১৫তম সিরিজ জয়ের সুযোগ, ২০১০ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আর কোন সুযোগ আসেনি বাংলাদেশের। তাই সেই সুযোগের অপেক্ষায় স্বাগতিকরা।

পরিণীতাকে দেখতে এসে!

পরিণীতাকে দেখতে এসে!


প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বোন বলে নয়, 'ইশাকজাদে' চলচ্চিত্র দিয়েই পরিণীতা চোপড়া বলিউডে বেশ আলোচিত হয়েছেন। তার আগে আবার 'লেডিস ভার্সেস রিকে বেল'ও করেছেন তিনি। সেখানেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। আর সুনিপুণ অভিনয়ের গুণেই বোধহয় নতুন ব্যস্ত বলিউডি অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি একজন। নতুন তিনটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি, যার দুইটির শুটিং এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একটির পরিচালনা করছেন 'রাবনে বানা দি জোড়ি' ও 'ব্যান্ড বাজা বারাত'খ্যাত পরিচালক মনীষ শর্মা। এই ছবিটির নাম এখনো ঠিক হয়নি। অন্য দুইটি ছবির নাম 'বেশরম' ও 'থুপ্পাকি'। মনীষ শর্মার চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের প্রয়োজনেই সম্প্রতি বিশাল ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। শুটিং রাস্তার মাঝে না হলেও শুটিং দেখতে আসা দর্শকরা আশপাশের সড়কসহ প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয়।

Tuesday, December 4, 2012

একটি কাঁচা মরিচ বনাম একটি আপেল

একটি কাঁচা মরিচ বনাম একটি আপেল

ভিটামিন সি হচ্ছে একটি কার্যকর এন্টি-অক্সিডেন্ট। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই খাদ্য অত্যন্ত জরুরি। ত্বকের ক্ষত সারানো, শরীর, রক্তনালী ও তরুণাস্থি গঠনে ভিটামিন সি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শরীরের জন্য এটিপি ডোপামিন ও পেপটাইড হরমোন তৈরিতেও এই ভিটামিনটি অবদান রাখে। এছাড়া ক্যান্সার নিরাময় ও মানসিক অবসাদ কমাতেও ভিটামিন সি'র ভূমিকা কম নয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে শুধুমাত্র কাঁচা মরিচ ও লাল মরিচেই রয়েছে অন্যান্য যে কোন খাবারের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি। পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিনটি স্যুপ, কারি ও সস-এর মধ্যে ব্যবহূত হয়। অনেকে আবার সালাদ তৈরিতেও কাঁচা মরিচ ব্যবহার করেন। শুধু একটি মাত্র কাঁচা মরিচে থাকে ১০৯ দশমিক ১৩ মিলিগ্রাম (১৮২%) ভিটামিন সি। একই ভাবে লাল মরিচে প্রতিটিতে থাকে ৬৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (১০৮%)। প্রতি ১০০ গ্রাম সার্ভিং পরিমাণের মধ্যে থাকে ৪০ খাদ্যশক্তি। চর্বি, কোলেস্টেরল সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে শূন্য শতাংশ। শর্করা ৩%, খাদ্য আঁশ ৬%, ভিটামিন এ ২৪%, ভিটামিন সি ৪০৪%, ক্যালসিয়াম ২%, আয়রণ ৭%, ভিটামিন ই ৩%, ভিটামিন কে ১৮%, থায়ামিন ৬%, রায়বোফ্লভিন ৫%, নিয়াসিন ৫%, প্যান্টোথেনিক এসিড ৫%, ভিটামিন বি-৬ ১৪%, ফলিক এসিড ৬%, পটাশিয়াম ১০% এবং মাঙ্গানিজ ১২% ইত্যাদি। তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তত ১টি কাঁচা বা লাল মরিচ রাখুন এবং শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ভিটামিনটির অভাব পূরণ করুন। আঙ্গুর, নাশপাতি, আপেলের মত বিদেশী ফল অপেক্ষা একটা ছোট্ট কাঁচা মরিচ হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গী। আর একটি মিডিয়াম আপেলের ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ টুকরায় থাকে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি। অবশ্য আপেলের অন্যান্য গুণাগুণ বেশি।

৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ই মার্চ পর্যন্ত তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে ৬ই মার্চ। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে তারা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১লা ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার হওয়ায় তা ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

কারিনার অবাক করা ঘটনা

কারিনার অবাক করা ঘটনা


সব সময়ই বলিউডের তিন খানকে নিজের অভিনয়ের অন্যতম আদর্শ মানেন কারিনা কাপুর। আমির খান, সালমান খান ও শাহরুখ খানের বিপরীতে ইতিমধ্যে অভিনয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি আমির ও কারিনা জুটির ‘তালাশ’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। অন্যদিকে সালমান খান অভিনীত ২১শে ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া ‘দাবাং-২’ ছবির ‘ফেভিকল’ শীর্ষক আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন কারিনা। এ গানটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়ে ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি অবাক করা ঘটনা ঘটিয়েছেন কারিনা। সালমান খানের মন রক্ষা করতে গিয়ে আমির খানের মন ভাঙলেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া আমিরের ‘তালাশ’ ছবির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না কারিনা। ব্যাপারটি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। এ ছবির প্রিমিয়ারে আমির, রানীসহ অন্যরা উপস্থিত থাকলেও কারিনা ছিলেন না। বরং আমিরের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে কারিনা সোজা চলে যান সালমান খানের উপস্থাপনার ‘বিগ বস’ রিয়্যালিটি শোর সেটে। এই শোর নতুন পর্বের শুটিংয়ে অংশ নেন কারিনা। এখানে ‘দাবাং-২’ ছবির প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। এদিকে ‘তালাশ’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে সবাই কারিনার অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও উপস্থিত হননি তিনি। জানা গেছে, সালমানকে আগে থেকেই ওয়াদা করে রেখেছিলেন কারিনা। আর সে কারণেই ‘তালাশ’-এর প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকেননি তিনি। এ বিষয়ে কারিনার সাফ ভাষ্য হলো, আসলে আমি অসুস্থবোধ করছিলাম আগে থেকেই। তাই প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আর সালমানের ‘বিগ বস’-এ অংশ নেয়ার কথা আগে থেকেই ছিল। তাকে ওয়াদা করেছিলাম আমি। সেই ওয়াদা রাখতেই আসলে সেদিন এই শোর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এছাড়া অন্য কিছু নয়।

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত



পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে পারেনি জামায়াত। গতকাল দেশব্যাপী তাদের পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গুলিতে নিহত হয়েছে শিবির কর্মী মুজাহিদ (১৮)। এ ঘটনার পর চিরিরবন্দর থানায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সেখানে বিজিবি নামানো হয়েছে। অপরদিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ হরতালের ডাক দেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এই প্রথম এককভাবে হরতালের ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত। খেলাফত আন্দোলন এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এদিকে সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টন, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। তবে দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০টি স্পটে মিছিল করার দাবি করা হয়। এ সময় ৪৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। যাত্রাবাড়ীতে মিছিলকারীরা মশাল নিয়ে বের হয়। তারা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। জামায়াতের এই সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ ও র‌্যাব। এছাড়া সিলেট, ফেনী, নোয়াখালী, বগুড়া, মাগুরাসহ কয়েকটি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে জামায়াতের হরতাল ঘোষণার পর গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। জনমনেও খানিকটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার  আগেই কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা শুরু করে মানুষ। এজন্য শেষ বিকালে রাজধানীতে বেশ যানজটও দেখা যায়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয় জামায়াত। কিন্তু পূর্বানুমতি না থাকায় এই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে রোববার সাফ জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী কোন  অনুমতি নেয়নি। তাই তাদের এ সমাবেশ হবে বেআইনি। বেআইনি সমাবেশ হতে দেবো না। তবে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই সমাবেশের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কথা বলে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এদিকে হরতালের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। জামায়াতের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা বাস্তবায়নের দিকে নজর না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় লিপ্ত। সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যাতে বিরোধী দল কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য দমননীতি চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক দল। আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকারের চার বছরের মেয়াদকালে জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। সরকারের এসব জুলুম-অত্যাচার মোকাবিলায় ধৈর্যসহকারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। গত ২৯শে নভেম্বর জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি তো দেয়াই হয়নি, উপরন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত কড়া ও রূঢ় ভাষায় বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের কোথাও জামায়াতকে সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয়া হবে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি বলেছেন, জামায়াত সভা ও মিছিলের অনুমতি নেয়নি এবং আবেদনও করেনি। অথচ গত ২৯শে নভেম্বরই ঢাকা মহানগর জামায়াতসহ সব শাখার পক্ষ থেকে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ সব ঘটনাপ্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।
দিনাজপুর: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই শিবির কর্মীর নাম মুজাহিদ (১৮)। নিহতের পিতা আতাউর রহমান খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পাগলা পীর নামক স্থানে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে থানার ওসি এবং পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত পুলিশ শতাধিক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা রানীরবন্দর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে। সংঘর্ষের সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।  এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রানীর বাজারে পুলিশের পাশাপাশি দুই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট জামায়াতের ঘোষণা: হরতাল সফলে সিলেটে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা এ ঘোষণা  দেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গতকাল সিলেটে প্রস্তুত ছিল জামায়াত। এর আগে দলের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ কারণে দিনভর জামায়াতে ইসলামীর মিছিল বের করার গুজব থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিছিল বের করেনি। তবে, সিলেট নগরীতে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। নগরীর বন্দরবাজার ও কোর্টপয়েন্ট এলাকায় বিরাজ করছিল  উত্তেজনা। এদিকে, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সিলেটের সব ক’টি উপজেলায় জামায়াতের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের আয়োজন করায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ছাড়াও বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধরপাকড় করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াত নেতা হাফিজ আবদুল হাই হারুন, জেলা নেতা আনোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান, ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সিলেটে গত এক মাসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮ হাজার নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে ২ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, প্রায় ৫০ জন নিরীহ মানুষকে জামায়াত মনে করে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ তোলেন তারা। একই সঙ্গে সিলেটের এমসি ও মদনমোহন কলেজে দুই ছাত্রকে ছাত্রলীগ পেটানোর পর পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
গাজীপুর: গাজীপুরের চান্দনায় জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের পর ৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তায় তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের বাধায় জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে নির্ধারিত সমাবেশ করতে না পেরে তারা স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করে। এতে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম খান বক্তব্য রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের সমাবেশে বাধা দেয়। এতে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতাকর্মীরা চলে যান।
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): আখাউড়ায় জামায়াত অফিস ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশত নেতাকর্মী পৌরশহরের শহীদ স্মৃতি কলেজ সংলগ্ন জামায়াতে ইসলামীর অফিস ‘আল মদিনা কমপ্লেক্সে’ হামলা চালায়। তারা অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং  বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ স্মৃতি কলেজ ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবির বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে শহরের সড়ক বাজারে চলে আসে। অফিস ভাঙচুর চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতাকর্মী সেখানে ছিল না। তবে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলা জামায়াতে আমীর বিল্লাল আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্যায়ভাবে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।
রাজশাহী: রাজশাহীতেও জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশ ঠেকাতে সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে মহানগর পুলিশ। মহানগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, শালবাগান, নওদাপাড়া, ভদ্রা স্মৃতি অম্লান চত্বর, তালাইমারী, বিনোদপুর, কাটাখালি, মালোপাড়া, লক্ষ্মীপুর, কুমারপাড়া, কোর্ট চত্বর, সিএনবির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সক্রিয় ছিল র‌্যাব।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ইমরুল কায়েস (২০) নামে এক শিবিরকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। সকালে শহরের জামে মসজিদ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ-জামায়াত কর্মী সংঘর্ষের ঘটনায়  পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল কাশেম, শিবিরকর্মী ফারুক হোসেন, নাইমুদ্দিন ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে শহরের সরকারপাড়া শিবির ছাত্রাবাস ও পীরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, গত ৫ই নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেনী: ফেনীর মিজান ময়দানে গতকাল বিকাল ৩টায় ডাকা সমাবেশ করতে পারেনি জেলা জামায়াত। এ নিয়ে গত ৩ দিন ধরে জেলা ও উপজেলায় প্রচারণা চালালেও গতকাল মাঠে নামেনি তাদের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সমাবেশ করার বিষয়ে শহরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন সবাই। জেলার ছাগলনাইয়া বাজারে স্থানীয় জামায়াত গতকাল সমাবেশ আহবান করলেও একই সময়ে উপজেলা যুবলীগ ও সমাবেশ ডাকে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন রোববার রাত ৯টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করায় কেউ সমাবেশ করতে পারেনি।
ফরিদপুর: ভাঙ্গা উপজেলার হাসপাতাল সংলগ্ন হেলিপোর্ট মাঠে জামায়েত ইসলামী ও আওয়ামী লীগ একই স্থানে সভা ডাকায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির জানান, লিখিত ভাবে প্রথমে জামায়াত ও পরে আওয়ামী লীগ একই স্থানে সমাবেশের জন্য আবেদন করে। তাই কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল বিকাল ৩টা একই সময়ে একই স্থানে জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর ঘটনায় এড়াতে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যায় ৮টা পর্যন্ত সকল ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ। একই দিন রায়পুর উপজেলা শহরের আলীয়া মাদরাসা মাঠে বিকাল ৩টায় জামায়াত ও যুবলীগ একই সময়ে সমাবেশ ডাকায়। ওই দিন বিকাল ৩টা- সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  দুলাল চন্দ্র সূত্রধর।
রাজশাহী: হরতালের সমর্থনে গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৫জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ১০রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এদিকে, পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের ১১নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
বরিশাল: নগরীতে হরতালের সমর্থনে এক সংগে ৮টি স্পটে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আকস্মিক এ মিছিল বের হয়। মিছিলের পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থারে ৭ জামায়াত শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে মুলাদীতে ৪জন, মেহেন্দিগঞ্জে ২জন এবং বাবুগঞ্জে ১জন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলার দালাল বাজার ও মান্দারী বাজারে জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের শহর আমীর ফারুক হোসাইন নুর নবী ও সেক্রেটারি সামছুল ইসলাম, শিবিরের জেলা সভাপতি আলী হোসেন মুরাদ ও শহর সভাপতি আবদুল আউয়াল রাসেল প্রমুখ।
ফরিদপুর: হরতালের সমর্থনে সোমবার ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের ৩টি পয়েন্ট থেকে হরতালের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের মুজিব সড়ক, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও টেপাখোলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল ও সমাবেশ থেকে পুলিশ পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ২ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে দুঁপচাচিয়া থেকে ২ জামাত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শেরপুরের জামাত সমর্থক ধানঘরা ফাজিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক আলতাফ হোসেন (৫০) ও  সুঘাট জামে মসজিদের ইমাম ফরিদুল ইসলাম (২৮)। শেরপুর থানা পুলিশ জানায়, জামায়াত শিবির মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে। থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের উপর চড়াও হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনায় জড়িত থাকায় আলতাফ হোসেন ও ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হরতালে নৈতিক সমর্থন বিএনপি’র
জামায়াত আহূত আজকের হরতালে নৈতিক সর্মথন দিয়েছে বিএনপি। গত রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে এ নৈতিক সর্মথন ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে তাদের শান্তিপূর্ণ জনসভা অনুষ্ঠানে সরকার অন্যায়ভাবে বাধা দিয়েছে। সরকারের এই বেআইনি ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে তাদের ডাকা আজকের হরতাল কর্মসূচি যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক। জামায়াতের কর্মসূচি বানচালের জন্য পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীদের মাঠে নামানোর ন্যক্কারজনক আহ্বানের মাধ্যমে দেশকে রাজনৈতিক সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জনগণ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আহূত হরতাল কর্মসূচির প্রতি বিএনপি নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করছে। উল্লেখ্য, আজকের হরতালের প্রতি আরও সমর্থন জানিয়েছে শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন।

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই


নাখোশ বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না হলে গুডবাই জানাবেন তারা। অবশ্য আজ পদ্মা সেতুর ভাগ্যনির্ধারণী বৈঠক বসছে দুদকে। এটাই হতে পারে শেষ বৈঠক। রোববার দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন কঠোর মনোভাবই ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বৈঠকে বারবার তারা দুদকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতির দিকগুলো জানতে চেয়েছেন। সেগুলো না দেখে হতাশ ও নাখোশ হয়েছেন। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে দৃশ্যমান অগ্রগতি মানে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। দুদক সূত্র বলছে, তাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এখনও তারা মামলা করার মতো অবস্থানে যেতে পারেননি, তেমন কোন দালিলিক প্রমাণ পাননি। দুদকের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আনিসুল হকও বলেছেন, মামলা করার মতো প্রমাণাদি তাদের হাতে নেই। গত ২রা ডিসেম্বর দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেননি বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল। ওই বৈঠক সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তিনিও পুরো সন্তোষের কথা বলতে পারেননি। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তদন্ত ও পদ্মা সেতুর কাজ এক সঙ্গে চলবে। দুদকের মামলার দু’টি স্তর। একটি অনুসন্ধান, অন্যটি তদন্ত। এখানে অনুসন্ধান হয় মামলা দায়ের করার আগে। তদন্ত হয় মামলা করার পরে। অর্থমন্ত্রীর কথা সঠিক হলে মামলা হচ্ছে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে। গতকাল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে দুদকের অনুসন্ধান। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আজ জমা হতে পারে অনুসন্ধানের প্রতিবেদন। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত হলে বা মামলা করার গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলে মামলা দায়েরের অনুমতি দেবে দুদক। মামলার অনুমোদন হলে আগামী ৫ই বা ৬ই ডিসেম্বর মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রমতে, মামলা হতে পারে ৫ জনের বিরুদ্ধে। ওই ৫ জন হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশররাফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ লিটন চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। অন্য একটি সূত্র বলছে, মামলায় অভিযুক্তর সংখ্যা আরও দু’জন বাড়তে পারে। তাদের একজন এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি, তার মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের দরবার হয়েছিল। অন্যজন মূল্যায়ন কমিটির, এসএনসি লাভালিনকে কাজ দেয়ার পেপারে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলা দায়ের হলেই পদ্মা সেতুতে বিশ্ব্যাংক অর্থায়ন শুরু করবে- এমন কোন নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি। নাকি মামলা দায়ের করার পর আবার নতুন কোন শর্ত দেবে বিশ্বব্যাংক সেটাও নিশ্চিত বলতে পারছেন না কেউ। সে কারণে একটি মহল চিন্তা করছে- মামলাও হলো, আবার সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হলো- কিন্তু পদ্মা সেতুর অর্থ পাওয়া গেল না- এমনটা হলে সরকারের ক্ষতি দু’দিকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মামলা করে কি লাভ? মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। গ্রেপ্তার না হলে সরকারের সামনে আরেক বিপদ এসে দাঁড়াবে। ওইসব বিষয় চিন্তা করে দ্বিধা আছে মামলা দায়ের নিয়ে। সূত্রমতে, সরকারেরই একটি মহল মামলা দায়েরে অতি আগ্রহী- অন্যরা ততটা নয়। সূত্র জানায়, মামলা দায়ের করার আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সেটা পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে মামলাসহ কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণে দুদককে অব্যাহতভাবে চাপ দিলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির বিষয়ে কোন ডকুমেন্ট সরবরাহ করেনি। কানাডিয়ান রয়েল পুলিশের উদ্ধার করা ডায়েরির মালিক রমেশ সাহার সঙ্গেও এখনও কথা বলতে পারেনি দুদক। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে নালিশ গিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত একটি মেইল থেকে দুর্নীতির কাহিনী পাঠানো হয়েছিল বিশ্বব্যাংকে। এখনও দুদককে ওই ই-মেইল পাঠিয়েছিল তার সন্ধান করতে পারেনি। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসা বিশ্বব্যাংক গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের তিন সদস্য তাদের প্রধান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল ওকাম্পো ও হংকং-এর দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান আজ তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসবেন দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ওই তিন জনের সঙ্গে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি এ্যালেন গোল্ডস্টেইন। সূত্রমতে, আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতুর ভাগ্য। হয়তো মামলা না হলে গুডবাই জানাবে বিশ্বব্যাংক- এমনটিই বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

Monday, December 3, 2012

কণ্ঠ দিয়েই চেনা যাবে মোবাইল ব্যবহারকারী

কণ্ঠ দিয়েই চেনা যাবে মোবাইল ব্যবহারকারী


মোবাইল ফোন এখন বিশ্বব্যাপী মানুষের হাতে হাতে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটিতে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সব ফিচার। মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে এতে যুক্ত হওয়া নতুন নতুন সেবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন ও সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিয়েও সচেতনতা বেড়েছে। মোবাইল ফোনের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পাসওয়ার্ড, ছবির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই ধরনের নানা ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এবারে বাইদু এবং ইন্সটিটিউট অব ইনফোকম রিসার্চ যৌথভাবে উদ্ভাবন করেছে এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কণ্ঠস্বরকে মানুষের পরিচয় চিহ্নিত করার অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানেও বাজারে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের জন্য নানা ধরনের ভয়েস রিকগনিশন সফটওয়্যারের ব্যবহার রয়েছে। তবে এদের সবার চাইতে নতুন এই অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন এই ফিচারটি সম্পর্কে উদ্ভাবকদের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্পিকার ভেরিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো অনুমোদিত ব্যক্তি ফোনকে আনলক করতে পারবে। এর জন্য তাকে ফোনের সামনে কিছু একটা বললেই হবে। কোনো ধরনের পিন, পাসওয়ার্ড, হাতের স্পর্শ কিছুই লাগবে না। লেনোভোর এ৫৮৬ স্মার্টফোনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম এই সফটওয়্যারটি যাত্রা শুরু করেছে। ১.২ গিগাহার্জ ডুয়েল কোর প্রসেসর এবং অ্যানড্রয়েড ৪.০ অপারেটিং সিস্টেমে চালিত লেনোভোর এই স্মার্টফোন চীনের বাজারে যাত্রা শুরু করবে চলতি ডিসেম্বরের ১২ তারিখ থেকে। মোবাইল ফোন লক রাখার জন্য আমরা এখন যেমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি, লেনোভোর এই ফোনকে তেমনি আনলক করার জন্য ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কোনো বাক্য বা শব্দ নির্বাচন করে দিতে পারবে। এরপর মূল ব্যবহারকারী এই শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করলেই ফোনটি আনলক হবে। এই সফটওয়্যারটি মানুষের কণ্ঠস্বর থেকেই মানুষকে সনাক্ত করতে পারবে বলেই জানিয়েছেন উদ্ভাবকরা। উল্লেখ্য, চীনের অনলাইন জায়ান্ট বাইদু এবং সিঙ্গাপুরের ইন্সটিটিউট অব ইনফোকম রিসার্চ যৌথভাবে যাত্রা শুরু করে চলতি জুলাইয়ে। মাত্র ৬ মাসের মাথাতেই তারা এই ভয়েস রিকগনিশন প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। বাইদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং মেংকিউ এর আগেই এই প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সকলকে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি একে বাইদুর উয়ি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

Sunday, December 2, 2012

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ


প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং ভিআইপি ঘোষিত দেশী বা বিদেশী অতিথিদের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের সচিব বা রাষ্ট্রীয় যে কোন অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিরাও অনুষ্ঠান প্রবেশকালে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এ বিষয়ে কঠোর হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টসহ ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সরকারের বিশেষ একটি ফোর্স। মোবাইল সদৃশ পিস্তলের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন না নিয়ে আসতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে মোবাইল সদৃশ পিস্তল দেখা যাচ্ছে। এ পিস্তলের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। এটা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের মোবাইল সদৃশ পিস্তলের কারণে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টসহ সরকারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে দেয়া চিঠিতে তারা বলেছেন, এসব পিস্তল নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যথাসম্ভব মোবাইল ফোন আনা থেকে বিরত রাখতে হবে। বিশেষ বাহিনী তাদের চিঠিতে বলেছে, রাষ্ট্রের ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় কাজ করছে আমাদের বাহিনী। সমপ্রতি তারা মোবাইল ফোনের মতো বিভিন্ন ধরনের পিস্তল দেখতে পাচ্ছেন- যা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক হুমকিস্বরূপ। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ভিভিআইপির নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনীটি কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হয় এমন সব জিনিসপত্র বা যন্ত্রপাতি নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা ঠিক নয়। এতে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা একান্তই প্রয়োজন মনে করলে আগে থেকে ফোন ব্যবহারকারীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে বিশেষ ফোর্সকে জানাতে হবে। এতে সার্বিক বিষয়ে নজরে রাখা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে অতিথি করে ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে বর্তমানে মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এটা কোন কোন ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়। আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দেখা যায় প্রয়োজনের খাতিরে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের বিশেষ ফোর্সের সদস্যরা কোন ধরনের বাধা দিতেন না। তবে মোবাইল সদৃশ পিস্তলের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ বিষয়ে কঠোর হয়েছে সরকার। এখন থেকে কোন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে যাতে বিষয়টি কঠোরভাবে লেখা থাকে এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিশেষ বাহিনীর ওই চিঠিতে।

Saturday, December 1, 2012

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ক্রিস গেইল যেন তামিম ইকবালে ভর করলেন! বাংলাদেশের ওপেনার বল মারলেন একদিকে কিন্তু গেল অন্যদিকে। তবে এমন জোরে মারলেন যে সেটি শেষ পর্যন্ত ছক্কাই হয়ে গেল। আইপিএল কিংবা বিপিএলে গেইলের ব্যাটে এমন কত ছক্কা হতে দেখেছেন নিশ্চয়ই! গায়ের জোরে মিস হিটেও বল বাতাসে ভেসে সীমানাছাড়া হওয়ার ঘটনা গেইলের ব্যাটেই রচিত হতে দেখবেন বলে প্রস্তুতি ছিল পরম বাংলাদেশ-ভক্তেরও। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শারীরিক শক্তির অভাব নিয়ে হাহাকারের মধ্যে গেইলের জোরটা কিনা উল্টো ক্ষণিকের জন্য চলে এলো তামিমেই!
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওলট-পালটের বিশাল ও বিস্তৃত ছবির এটি একটি সামান্য খণ্ডচিত্র মাত্র। বাংলাদেশের বিপক্ষেই যেসব ঘটবে বলে অনুমান ছিল, এর বেশির ভাগই ঘটল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে। এই যেমন টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার ঘটনায় সমালোচনা হয়েছে খুব। পরিস্থিতির দাবি বুঝে ব্যাটিং করার অক্ষমতার জন্য তাঁদের শূলে চড়ানোই বাকি ছিল কেবল। অথচ কাল ম্যাচের শেষে ঠিক এ কাজটাই করার জন্য নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড। উল্টো ঘটনার শেষ এখানেই নয়, আরো আছে।
নতুন নিয়মে ওয়ানডের ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার খৰ বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে বলেই মত ছিল সর্বাধিক। বাংলাদেশ যেহেতু স্পিন-নির্ভর দল, কাজেই তাদের স্পিনারদের ওপর দিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা ঝড় বইয়ে দেবেন বলেও মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক বিপরীত। আশঙ্কার 'নন-পাওয়ার প্লে' ওভারেই বরং বাংলাদেশ শেষ করে দিল ক্যারিবীয়দের। দিলেন স্পিনাররাই। প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের আটটিই তো তুলে নিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে ক্যারিবীয়রা ১৯৯ রান করেছেন বটে, কিন্তু তাঁদের সব উইকেটই পড়েছে নন-পাওয়ার প্লের ৩১.৫ ওভারে। তাও আবার মাত্র ১১২ রানে। এত কিছু উল্টে-পাল্টে যখন যায়, তখন অনুমানের ফলটাও ওল্টাতে বাধ্য। বাংলাদেশও তাই ৭ উইকেটের অনায়াস জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আনন্দে ডুবল না শুধু, নিউজিল্যান্ডকে টপকে এই প্রথমবারের মতো আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরেও উঠে গেল!
সাতসকালে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন সামি টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর আশঙ্কার মেঘ জমছিল আরো। তাঁরা না আবার সাড়ে তিন শ-চার শ করে ফেলে! কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই দেখা মিলতে লাগল ভিন্ন সব চিত্রের। ম্যাচ শেষে যে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জয়ের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার কৃতিত্বটা দলের দুই পেসারকে দিচ্ছিলেন, সেটা তো আর এমনি এমনি দেননি। সকালে মাশরাফি বিন মর্তুজা আর অভিষিক্ত আবুল হাসান মিলে কেমন বোলিং করছিলেন, সেটি প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ক্যারিবীয়দের ৩ রান জমা হওয়াতেই পরিষ্কার। প্রথম পাওয়ার প্লেতে অবশ্য তাঁদের দুজনের খরুচে ওভারও আছে। মাশরাফির ১ ওভার থেকে দুটো বাউন্ডারি আর ছক্কায় গেইল তুলেছিলেন ১৪ রান। হাসানের আরেক ওভার থেকে ১৬। এ দুটো বাদ দিলে প্রথম পাওয়ার প্লের বাকি ৮ ওভারে তাঁরা দিয়েছেন মোটে ১৭ রান!
এ সময়ের মধ্যে হাসানের বলে ওপেনার লেন্ডল সিমন্স জীবন ফিরে পেয়েছেন একাধিকবার। পরাস্ত হয়েছেন আরো বহুবার। সেই সিমন্সকে (১৩) এলবিডাবি্লউ করে ক্যারিবীয়দের প্রতি প্রথম আঘাতটা হানেন মাশরাফিই, যাঁর প্রথম স্পেলটা এখানে না তুলে দিলে হচ্ছেই না : ৭-২-২৪-১!
আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন সোহাগ গাজীও। টেস্টে দুবার এ অফ স্পিনারের বলে আউট হওয়া গেইল (৩৫) এবারও তাঁর শিকার। লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যাওয়া মারকাটারি ব্যাটসম্যান সীমানা দড়ির ঠিক আগে তামিমের অসাধারণ এক ক্যাচ হয়েছেন। যে ধরনের ক্যাচ নেওয়ার সুখ্যাতি তামিমের নেই বললেই চলে। পরের ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে (০) স্লিপে মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে সোহাগ ক্যারিবীয়দের ওপর চেপে বসার পথ খুলে দেন আরো। ১৬ বলের মধ্যে ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবীয়দের বিপদ আরো বাড়তে থাকে বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক আক্রমণে আসতেই। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতেই থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর গেইল-স্যামুয়েলসদের ব্যর্থতার দিনে দলের ত্রাতা হতে ব্যর্থ পোলার্ড-আন্দ্রে রাসেলরাও। তাঁদের দুজনকে ফেরানো রাজ্জাক ৩৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে টেস্টের পর ওয়ানডে অভিষেকেও সবাইকে ছাড়ানো পারফরম্যান্স সোহাগ গাজীর। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়াই এত দিন ওয়ানডে অভিষেকে কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ছিল। কাল ২৯ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে সোহাগ ফিরিয়েছেন 'পথের কাঁটা' হয়ে থাকা সুনীল নারিনকেও (৩৬); ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসে যিনি দলকে প্রায় ২০০ ছোঁয়া স্কোরে নিয়ে যেতে রেখেছেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা। না হলে ১৩৩ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে বসা ক্যারিবীয়দের তো আরো আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
লক্ষ্য যখন সাধ্যের মধ্যে, তখন একটু উচ্চাভিলাষী হতেও খুব একটা বাধা নেই। তামিম তাই চালাতে শুরু করলেন। কেমার রোচের বলে যেমন একদিকে মেরে অন্যদিকে ছক্কা পেলেন। ৪৬ বলে ফিফটিতে পেঁৗছে যাওয়া এ বাঁহাতি ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৫৮ করে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সহজ জয়ের ভিত গড়া হয়ে গেছে। বিসিবি একাদশের হয়ে জাতীয় দল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে বড্ড নড়বড়ে দেখানো এনামুল হকও (৪১) অভিষেকে দারুণ সঙ্গ দিলেন তামিমকে। ওপেনিংয়েই তাই ৮৮ উঠে যাওয়ার পর অন্যদের কাজটা ছিল সাবধানে বাকি পথটা পেরোনোর। নাসির হোসেনের (২৮) বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাট করা নাঈম ইসলাম (৫০*) আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (১৬*) মিলে নিরাপদেই গন্তব্যে পেঁৗছে দিয়েছেন দলকে।
এরপর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ম্যাচ সেরার প্রতীকী চেক হাতে সোহাগ গাজী! ওলট-পালটের সবচেয়ে বড় ছবিও বোধ হয় দিনের শেষে এটাই!

বাইরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভেতরে শূন্য

বাইরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভেতরে শূন্য

অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও ডাক্তার-কর্মচারীদের অবহেলা, নানা অব্যবস্থাপনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে চলছে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। জেলা সিভিল সার্জন দুলাল দত্ত সততা স্বীকার করে বলেন, ইতিপূর্বে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শক করতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা প্রমাণিত হয়ায় ৭ জনকে শোকজ এবং ৪ জনের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র। গত শনিবার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের কেউ নেই।  সেবার জন্য অপেক্ষায় বসে রয়েছেন কয়েক একজন রোগী। আউটডোরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন অসংখ্য শিশুসহ নারী-পুরুষ। টিকিট কাউন্টারের চেয়ারশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীরা টিকিট নেয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে গিয়াস উদ্দিন নামের এক কর্মচারীকে দেখা যায়, গেটের বাইরে এক মহিলার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। প্যাথলজি ও এক্সরে  বিভাগ ছিল তালা বন্ধ। এক্সরে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মহিউদ্দিনের সঙ্গে করে নিয়ে এক্সরে বিভাগের ভেতরে ঢুকলে সেখান থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে বোঝা যাচ্ছিল কক্ষটি বেশ ক’দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মহিউদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ওখানে নিয়মিত এক্সেরে করা হয়। তবে এক্সরে রেজিস্টার দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহিউদ্দিন হাসপাতাল শুরু থেকেই এক্সরে বিভাগে কর্মরত। তিনি  হাসপাতালে এক্সরে ফ্লিম নেই বলে রোগীদের পাঠিয়ে দেন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বন্দর বাজারস্থ আল রাজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। দন্ত বিভাগের ডা. সাহারা আক্তার সপ্তাহে একদিন রোগী দেখেন। সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আবুল হাসনাত অবসর সময় কাটাচ্ছেন। কারণ, এ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগ এখনও চালু করা হয়নি। দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হয় রোগীদের খাবার। ওদের নেই নিজস্ব বাবুর্চি। রান্না করা হচ্ছে বহিরাগত এক মহিলাকে দিয়ে। রোগী থাকার দুটি ওয়ার্ডে পুরুষ ৫-৬ জন এবং মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ৪ জন রোগী রয়েছে। বাকি শয্যাগুলো নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে। দুজন নার্স বসে তাদের কক্ষে আড্ডা দিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, ভর্তি হওয়ার পর, থেকে ডাক্তাররা কোনই খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রোগীরা ২-৩ দিন পরই স্বেচ্ছায় চলে যায়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল হাসান কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে না থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা তিনিও সপ্তাহে এক-দু দিন হাসপাতালে থাকলে বাকি সময় বাইরেই থাকেন। এ সময় ডা. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে দেখা হয়। তবে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি নিয়েছে কিনা তা তিনি জানতে চান। ডায়রিয়া রোগী বিজয়ের মা রুমি আক্তার জানান, হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা, বেড কভার নোংরা, টয়লেটে সব সময় ময়লা-আর্বজনা জমে থাকে বলেই ওয়ার্ডে সর্বক্ষণ দুর্গন্ধ লেগেই থাকে। রোগী আছিয়া জানান, প্রতিদিন দুপুরে পাঙ্গাশ মাছ ছাড়া আর কোন মাছ দেয়া হয় না। নার্স আসমা জানান, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত ৮টিসহ সর্ব মোট ৩৯টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বেডই অকেজো। ৫টি মেরামত করলে ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রমেশ চন্দ্র সাহাকে সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি তার অফিস পাওয়া না গেলেও তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. আ. কাদেরকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অফিস প্রধান আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিএসআই স্যার ফিল্ডে আছেন। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন নার্স ও ১০ ডাক্তার কর্মরত থাকলেও তারা নিয়মিত আসেন না বলে এমন অভিযোগও করেন রোগী ও এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন দুলাল দত্তের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনের গিয়ে অব্যবস্থাপনা ও নানা সমস্যা অবহেলা দেখে ৭ জনকে শোকজ করেছি এবং ৪ জনের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ ব্লু’

মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ ব্লু’


উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আনার পর আগামী বছরেই নতুন আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আনতে পারে মাইক্রোসফট। এক খবরে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘উইন্ডোজ ৮.১’ বা ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামের নতুন সফটওয়্যার আনতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে উইন্ডোজ সফটওয়্যারের দ্রুত আপডেট আনবে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ৮ বাজারে আনার পরপরই ‘ব্লু’ নামের নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট। ‘উইন্ডোজ ৮.১’ বা ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামের নতুন এ অপারেটিং সিস্টেমটি উইন্ডোজ ডেস্কটপ ও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি করা হবে। উইন্ডোজ ৮ ও উইন্ডোজ ফোন ৮ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে আলাদা নাম ব্যবহারের পরিবর্তে একত্রে ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামটি রাখতে পারে মাইক্রোসফট। ‘উইন্ডোজ ব্লু’ বিনামূল্যেই আপডেট করার সুযোগ দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
উইন্ডোজের পরবর্তী সংস্করণ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেদের ধারণা সম্পর্কে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

 রাজধানীর দক্ষিণখানে এক নারী চিকিৎসককে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম সাদিয়া আফরিন ইভা (২৬)। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাদিয়ার কর্মস্থল ক্লিনিকের মধ্যেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহত চিকিৎসক দক্ষিণখানের আমতলির ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের কেয়ারটেকার ফয়সাল পলাতক রয়েছেন। তবে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে, খিলক্ষেত এলাকায় রওশন আরা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিন দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় মা হাসিনা বেগম ও ছোটবোন নাদিয়া আফরিন ইমনকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্র্যাক ক্লিনিক থেকে একজন প্রসূতি অপারেশনের জরুরি ডাক আসে। তিনি ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশন শেষ করে তৃতীয় তলায় চিকিৎসকদের কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। গতকাল সকালে ক্লিনিকের একজন নার্স তাকে কয়েক দফা মোবাইল করে না পেয়ে তৃতীয় তলার ওই কক্ষে গিয়ে তাকে ফ্লোরে শায়িত ও অচেতন অবস্থায় দেখেন। পরে তার চিৎকারে অন্য সহকর্মীরা গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিনকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তার গালে খামচির দাগ, চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ও কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এছাড়া ওই কক্ষের একটি প্লাস্টিকের চেয়ারের পায়া ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, রাতের ডিউটি করার সময় কেউ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ডা. সাদিয়া আফরিন বাধা দিলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিসারুল আরিফ জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফয়সাল জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
জানা গেছে, নিহত ডা. সাদিয়া আফরিনের বাবা মনিরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ডা. সাদিয়া আফরিন রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পড়ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বালিথুবায়।

তাজরীন ও বহদ্দারহাট: নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তাজরীন ও বহদ্দারহাট:

নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী


সাভারের নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ করে টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। খবর ইউএনবির।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল আজ শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা নিহত হয়েছেন এবং যাঁদের শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ১৩ জনের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা ও ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পোশাক কারখানা তাজরীনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে ১১১ জনের প্রাণহানি হয়। ওই দিনই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে মারা যায় ১৩ জন।

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচে হারের মুখ দেখলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা চমত্কারভাবে করেছে বাংলাদেশ। খুলনায় আজ সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। টেস্টে ব্যর্থতার পর আত্মবিশ্বাস ফেরানো এ জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উত্সর্গ করেছেন ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১১ জন শ্রমিক।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ চমৎকার দলীয় পারফরমেন্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। দলের অন্যতম প্রধান ভরসা সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতেও ৭ উইকেটের জয়টা সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক। প্রথমে বল হাতে সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের দারুণ পারফরমেন্সে ভর করে উইন্ডিজকে মাত্র ১৯৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। পরে ব্যাট হাতেও দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম, অভিষিক্ত ওপেনার এনামুল হকের বিবেচনাপ্রসূত ব্যাটিংয়ের ফলে ১০ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরমেন্স নিয়ে কিছু বলার আগে মুশফিক বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। বিসিবি তাঁর স্মৃতি স্মরণে রেখে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে বলে আমরা খুবই খুশি। আমরা আজকের এই জয়টা উত্সর্গ করছি তাঁর ও ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশে।’
টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচেই হারের পর ওয়ানডে সিরিজটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সেই সঙ্গে চমৎকার বোলিং করার জন্য স্পিনারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, সেটা মাথায় রেখে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘টেস্টে আমরা বেশ কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখেছি। কিন্তু দলগতভাবে সমন্বিত পারফরমেন্স সেভাবে ছিল না। আজ আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত পারফরমেন্সটাই দেখাতে পেরেছি। সেটার জন্য আমি খুবই খুশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা করবে। ফলে আমাদেরও সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ ২ ডিসেম্বর খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ হবে।

বাংলাদেশের সহজ জয়

বাংলাদেশের সহজ জয়


সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিজাদু, এরপর তামিম-এনামুল-নাঈমদের ব্যাটিং-ঝড়। বলে-ব্যাটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আজ শুক্রবার খুলনায় অনেকটা হেসেখেলে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ৪৬.৫ ওভারে দলীয় ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোহাগ গাজী সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আবদুর রাজ্জাক শিকার করেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।
জয় পেতে প্রয়োজন ২০০ রান। এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৮৮ রানের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৫৮ রানের নজরকাড়া এক ইনিংস খেলে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। তাঁর ৫১ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছয়ের মার। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক ফেরেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে। নাসির হোসেন আউট হন ব্যক্তিগত ২৮ রানে।
বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায় ৪০.২ ওভার খেলে। বড় জয় নিশ্চিত করে নাঈম ইসলাম ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ৫০ রানের মধ্যে পতন ঘটে আরও দুটি উইকেট। ইনিংসের গোড়ার দিকে পাওয়া এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। নবম উইকেটে নারাইন ও রামপলের ৫৭ রানের জুটিটা না হলে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ সুনীল নারাইনের (৩৬)। ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো দুজনেরই সংগ্রহ ৩৫ রান। রবি রামপল করেন ২৫ রান।
আইসিসির ‘ব্যাটসম্যান-বান্ধব’ নতুন নিয়মের কারণে ওয়ানডে ম্যাচ এখন বোলারদের জন্য বলতে গেলে অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশি বোলাররা উতরে গেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত এ জয়ের পর কথাটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আইসিসির নতুন নিয়মে এখন ম্যাচের ৫০ ওভারই বলতে গেলে পাওয়ার প্লে! ম্যাচের প্রথম ১০ ওভার বাধ্যতামূলক পাওয়ার প্লেতে দুজন ফিল্ডার ৩০ গজি বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে সর্বোচ্চ তিনজন। বাকি ৩৫ ওভারে বাউন্ডারি ঠেকাতে চারজনের বেশি বৃত্তের বাইরে রাখা যাবে না। ওয়ানডের এই নতুন নিয়ম এ মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে চালু হয়েছে। তবে এই নিয়মে আজই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা।
সাড়ে চার বছর পর সাকিব আল হাসানকে ছাড়া ওয়ানডে খেলল বাংলাদেশ। শিনবোনে চোট পাওয়ায় পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে রাখা হয়নি এই অলরাউন্ডারকে।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে আজ দলে অভিষেক হয়েছে মমিনুল হকের। অভিষিক্ত হয়েছেন আরও তিনজন—এনামুল হক, সোহাগ গাজী ও আবুল হাসান। এক ম্যাচে চার ক্রিকেটারের অভিষেক! ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এমন ঘটনা এই প্রথম।
এর আগে বাংলাদেশ দলে চার বা এর বেশি খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে অভিষেকের উদাহরণ পেতে ফিরে যেতে হবে ১৭ বছর আগে। তখনকার প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলার জন্য তখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকত এশিয়া কাপের দিকে। সেটি কখনো দুই বছর পর আসত, কখনো পাঁচ বছর পর। ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে পাঁচজনের অভিষেক তাই স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। আজ বাংলাদেশের অসাধারণ জয়ের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে চার ক্রিকেটারের অভিষেকের মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে রইল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯/১০ (৪৬.৫ ওভার)
নারাইন ৩৬, গেইল ৩৫, ব্রাভো ৩৫
সোহাগ ৪/২৯, রাজ্জাক ৩/৩৯
বাংলাদেশ: ২০১/৩ ( ৪০.২ ওভার)
তামিম ৫৮, নাঈম ৫০*, এনামুল ৪১
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।