Pages

Sunday, November 4, 2012

‘জনমত যাচাইয়ের নামে মন্ত্রণালয় মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে’

‘জনমত যাচাইয়ের নামে মন্ত্রণালয় মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে’

 ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ নির্ধারণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জনমত যাচাইয়ের নামে একটি মিমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করছে বলে অভিযোগ করেছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন ‘নিড়াপদ সড়ক চাই’(নিসচা)।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জনমত যাচাইয়ের উদ্যোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের জন্য ‘নিরড়াপদ সড়ক চাই’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

লিখিত বক্তব্য বলা হয়, “আমাদের আগে কেউ নিরাপদ সড়ক দিবসের দাবি তোলেনি। আমরাই প্রথম ২২ অক্টোবরকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের দাবি করি। ইতিমধ্যে দিবসটি সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর তা গেজেট বিজ্ঞপি আকারে প্রকাশের জন্যে দাবি করেছি। কিন্তু এরকম একটি মিমাংসিত বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয় নতুন করে জনমত যাচায়ের নামে পক্ষপাত দুষ্ট আচরণের মাধ্যম্যে বিষয়টিকে বিতর্কিত করছে।’’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়,‘‘ আমরা জনমত যাচায়ের বিপক্ষে নই। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনমত যাচায়ের নামে একটি নির্দিষ্ট দিবসকে সুপারিশ করছে। তাছাড়া হঠাৎ করে কেনই বা নিরাপদ সড়ক দিবসের ব্যাপারে জনমত যাচায়ের প্রয়োজন পড়লো? যেখানে দেশে প্রায় সকল জনসাধারণ ২২ অক্টোবরকেই নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে জানে।

প্রসঙ্গত ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সকড় চাই’ গঠন করেন। এবং তখন থেকেই তার সংগঠনের পক্ষ থেকে   ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং ২০০২ সালে নভেম্বরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্বা কাউন্সিলের ৮ম সভায় ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিসব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  কিন্তু তৎকালীন সময়ে মন্ত্রিপরিষদের সভায় তা অনুমোদন না হওয়ায় তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় নি।

কিন্তু গত ২২ অক্টোবর রাতে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইটে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের জন্যে ৪টি তারিখ দিয়ে ইন্টারনেটে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে ফটোসাংবাদিক কাজী বিপ্লব সহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এবং নিহতদের স্মরণে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।

দেশের জনগণ শান্তিতে আছেন: সাহারা

দেশের জনগণ শান্তিতে আছেন: সাহারা

 দেশ মানুষ এখন শান্তিতে আছে বলে আবারো স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মন্তব্য করলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সকল জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দূর করেছে। এখন দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও চাঁদাবাজী নেই। মানুষ এখন শান্তিতে আছে।”
 
শনিবার দুপুরে ঢাকা প্রেস ক্লাবে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। জনতার প্রত্যাশা নামের একটি সামাজিক সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
এ সময় জাতীয় চারনেতা হত্যা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাহারা বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে চার নেতার বিচার কাজকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতেও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল।”
 
তারা এখন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁনোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও মন্তরেন তিনি।
 
তিনি বলেন, “সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। জাতীয় চারনেতা ও বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। রায়কার্যকর করার মধ্যে দিয়ে কলঙ্কমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।”
 
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, “৭১ এর ঘাতকদের বিচার করার জন্য আমরা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি। তাদের বিচার শুরু হয়েছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন প্রকার ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।”
 
এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে প্রতিরোধ করার আহবান জানিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত জয়ী না হতে পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাদে বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
 
জামায়াতের বিরুদ্ধে সারা দেশে জনমত গঠন করার আহবানও জানান মন্ত্রী।
সংগঠনের সভাপতি এম এ করিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন আইনপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা, সহ-সভাপতি ও আবাহানী লিমিটেডের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

চারনেতা হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত করা হবে: আশরাফ

চারনেতা হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত করা হবে: আশরাফ

 জাতীয় চারনেতা হত্যাকারীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “এই বিচার সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। যে কোনো মূল্যে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, “যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে এবং যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তারাই জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করেছে।”

তিনি বলেন, “এর পেছনে ক্রীড়ানক হিসেবে যারা কাজ করেছে তারা পরবর্তীতে এই দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখনও তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।”

এই অপশক্তিকে দেশের মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, পাঠ ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুন, কেন্দ্রীয় নেতা মো. নাসিম, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ হ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেসা মোশাররফসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ডা. শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছোট ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তিয়েতনামে তিনদিনের সরকারি সফরে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বড়ডুবা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শুভ নিহত হন।
 
মহাসড়ক পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকাল ছয়টার দিকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক মুশফিকুরের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

 

জেল হত্যার পুনর্বিচার দাবি আওয়ামী লীগের

জেল হত্যার পুনর্বিচার দাবি আওয়ামী লীগের

 দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেল হত্যার পুনর্বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করতে আদালতের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

তারা বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বিচার শেষ করে আইনের মাধ্যমে চূড়ান্ত দণ্ড ঘোষণা করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।

শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘জাতির কলঙ্কমোচন ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে জেল হত্যার পুনর্বিচার ও খুনিদের ফাঁসি চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শহীদ এম মুনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতিশ চন্দ্র রায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভুইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘জাতির জনককে হত্যার পর বার বার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে আঘাত হানা হয়েছে। পরাজিত শক্তি দেশের স্বার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে।’’ জেল হত্যাও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সমালোচনা করে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘‘আজকে তারা (বিরোধী দল) মুখে যাই বলুক, অন্তরে বিশ্বাস করেন অন্য। তারা কোনোদিনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছাড়তে পারবেন না।’’

বিরোধী দলের নেত্রীকে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বলেন, ‘‘আপনারা বিদেশের প্রভূর কাছে ক্ষমা না চেয়ে দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চান। দেশের জনগণের কাছে স্বীকার করুন আপনি এতদিন ভুল রাজনীতি করেছেন।’’

তিনি বলেন, বিদেশী প্রভুর কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনো লাভ হবে না। কারণ ক্ষমতায় বসানোর মালিক দেশের জনগণ। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কোনো দিন আপনার সাথে যাবে না।’’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেল খানায় জাতীয় চারনেতা হত্যার দায় কোনোভাবেই জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া এড়াতে পারেন না।’’

তিনি বলেন, ‘‘জিয়া ও খালেদা জিয়া যে জড়িত তার উদাহরণ ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনি কর্নেল রশিদকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল।’’

দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিচার করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেল হত্যার পুনর্বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে।  বিরোধী দলীয় নেত্রী বিদেশ সফরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বিদেশে ঘোরার সময় পান, রামুতে যাওয়ার সময় পান না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ নজরুল ইসলামের ছেরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। আমাদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের সুসর্ম্পক আছে।

ভারতীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে আওয়ামী লীগের ভালো সর্ম্পক রয়েছে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যে সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘‘শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রতিটি গণমনা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সর্ম্পক ভালো।’’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক রয়েছে বলেই আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা।’’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়েই বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভালো সর্ম্পক ছিল। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম  শুধু মাত্র নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার জন্য নয়। দেশের জনগণের কল্যাণের জনই আওয়ামী লীগের জন্ম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে আওয়ামী লীগের সুসর্ম্পক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে একটি নির্দেশনা তুলে ধরা হবে।

ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কিছু কিছু লোক রয়েছে যারা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন। বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন ৭১ সালে। আর ঐক্য নষ্ট হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে।

তিনি বলেন, আমরাও ঐক্যে বিশ্বাস করি। আমরা ভিন্ন মতের রাজনীতি করতে পারি। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে কোনো বিভেদ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এখন যদি রমনি প্রেসিডেন্ট হয়, তাহলে বারাক স্বাগত জানাবে। জাতীয় ঐক্যর ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিভেদ নেই।

বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আশরাফ বলেন, যদি জাতীয় ঐক্য চান তাহলে ১৫ আগস্টের দিন জন্মদিন পালন বিরত থেকে অন্যদিন পালন করুন। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ বা অন্যদিন পালন করে প্রমাণ করুন আপনি জাতীয় ঐক্য চান।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য শোকের দিন। আর একটি গোষ্ঠী এইদিনটিতে উল্লাস করে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার কলঙ্কমোচন হয়েছে। আজ জেল হত্যার কলঙ্কমোচন করা হোক, জাতি এটাই চায়। সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের বলবো ন্যায় বিচার করুন।

জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বার বার ক্ষমতায় থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের রক্ষা করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পুনর্বাসন করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা বাবা হারানো শোকে কষ্ট পাই। কিন্তু গর্ববোধ করি আমরা শহীদ পরিবারের সন্তান। কোনো বেঈমানের সন্তান না। মির্জাফরের সন্তানের কোনো গর্ব নেই। শহীদের সন্তানের গর্ব করার আছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘জেল হত্যা ষড়যন্ত্রের কোনো ক্ষুদ্র অংশ ছিল না। এটা ছিল ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতারই অংশ। পুথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে আর বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই।’’ বর্তমান সরকারের মেয়াদেই জেল হত্যার বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।

জেল হত্যার দিন জাতীয় চারনেতার সঙ্গে জেলখানায় বন্দী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘‘এখনো ৩ নভেম্বর এরে আমার কাছে মনে হয় কোয়ামতের রাত। জীবন্ত অবস্থায় সেদিন কেয়ামত দেখেছি।’’

শহীদ তাজউদ্দিনের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপি তার বাবার স্মৃতিচারণ করেন। এসময় হলরুমে সুনশান নীরবতা নেমে আসে।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নুহে আলম লেলিন ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

Saturday, November 3, 2012

‘বেনগাজির মার্কিন মিশন ছিল মূলত সিআইএ’র তৎপরতার কেন্দ্র’

‘বেনগাজির মার্কিন মিশন ছিল মূলত সিআইএ’র তৎপরতার কেন্দ্র’


 

 লিবিয়ার বেনগাজিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর যে মার্কিন মিশনে জঙ্গি হামলা চালানো হয়, সেটি ছিল মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র গোপন তৎপরতার কেন্দ্র।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বেনগাজির মার্কিন কনস্যুলেটে চালানো হামলায় রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্সসহ চার মার্কিন নাগরিক নিহত হন।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মিশনটি মূলত সিআইএ’র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো উল্লেখ করে বলা হয়, হামলার পর বেনগাজি থেকে সরিয়ে নেয়া ৩০ মার্কিন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র সাতজন পররাষ্ট্র দফতরে কাজ করতেন।

এতে বলা হয়, হামলায় নিহত দুই নিরাপত্তা কন্ট্রাক্টর সাবেক নেভি সিলস সদস্য টাইরোন উডস ও গ্লেন ডোহার্টি পররাষ্ট্র দফতরে নয়, সিআইএ’র হয়ে কাজ করতেন।

এতে আরো বলা হয়, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে সিআইএ’র তৎপরতা আড়াল করতে নিহতদের কফিন আমেরিকা পৌঁছলে সিআইএ’র পরিচালক ড্যাভিড পেট্রাউস সেখানে যাননি।

এতে বলা হয়, ‘এ্যানেক্স’ নামে পরিচিত একটি পার্শ্ববর্তী ভবনে প্রায় দু’ডজন সিআইএ কর্মকর্তা গোপন তৎপরতা চালাতেন। প্রাথমিক হামলার পর কনস্যুলেট কর্মকর্তারা সেখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন।

মেহেরপুর সীমান্ত থেকে বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

মেহেরপুর সীমান্ত থেকে বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

মেহেরপুর সদর উপজেলার সুবরাজপুর সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গিয়েছে বিএসএফ। শুক্রবার দুপুরে সুবরাজপুর সীমান্তের মেইন পিলার ১৩২ এর কাছ থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়।
 
তার নাম- ফাকের আলী (৫৫)। তিনি একই উপজেলার ষোলমারী গ্রামের মৃত ইয়ার আলীর ছেলে।
 
ইয়ার আলীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সুবরাজপুর সীমান্তের বাংলাদেশী ভূখণ্ডে ১৩২ নং মেইন পিলারের কাছে ঘাস কাটতে যায় ফাকের আলী। এ সময় বিএসএফ এর একটি টহল দল তাকে ধরে নিয়ে যায়। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে সে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ভারত থেকে মাদক আনতে গেলে তাকে আটক করে বিএসএফ।
 
কাথুলী কম্পানি কমান্ডার জুলফিকার আলী ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, “তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসএফ কে চিঠি দেয়া হয়েছে।”

ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন মোবাইল ব্যবহারকারীরা

ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন মোবাইল ব্যবহারকারীরা

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন বা বিকিরণের কোনো মাত্রা বেধে দেয়া নেই৷ নেই তা পরীক্ষার ব্যবস্থাও৷ ফলে উচ্চমাত্রায় রেডিয়েশন ছাড়ায় এমন হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে দেদারসে৷ যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে৷

বাংলাদেশে এখন মোবাইল ফোনের গ্রাহক প্রায় সাড়ে নয় কোটি৷ আর প্রতি মাসে গড়ে ১২ লাখের বেশি হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে৷ কিন্তু কি ক্রেতা, কি বিক্রেতা তাদের কেউই মোবাইল ফোনের হ্যান্ডসেটের রেডিয়েশন এবং তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন নন৷

হ্যান্ডসেটের বিকিরণের মাত্রা মাপার আন্তর্জাতিক পরিমাপককে বলা হয় ‘স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট বা এসএআর৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডায় এর সর্বোচ্চ মাত্রা ১.৬ কিলোওয়াট৷ আর ইউরোপে ২ কিলোওয়াট৷ হ্যান্ডসেটে এর চেয়ে বেশি রেডিয়েশন হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার৷

আর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদারও জানান এ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকির কথা৷
কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে, বাংলাদেশে এই রেডিয়েশনের মাত্রা বেঁধে দেয়া নেই৷ আর সেখানে তা পরীক্ষা করারও কোনো ব্যবস্থা নেই৷ বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল জানান, তারা চান এখানে রেডিয়েশন পরিমাপের একটি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হোক৷

এই অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার৷ আর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করেন অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার৷

বাংলাদেশে প্রতিবছর বৈধভাবে মোবাইল ফোনের দেড়কোটি হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়৷ আর অবৈধভাবে আসে আরো ২৫ লাখ সেট৷ বৈধ, অবৈধ কোনো ধরনের সেটেই রেডিয়েশনের মাত্রা লেখা থাকে না৷ অথচ আন্তর্জাতিক আইনে এটা কিন্তু বাধ্যতামূলক৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

আগামী বছর বিয়ে করবেন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন

আগামী বছর বিয়ে করবেন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন

বলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন আগামী বছর বিয়ে করতে যাচ্ছেন। খোদ এমনটাই সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন।

নয়া দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্দো-জার্মান উর্বান মেলা পরিদর্শন করতে গিয়ে মিডিয়াকে নিজের এই বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

৩৬ বছর বয়সী সুস্মিতা বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ের। আর সেটা হচ্ছে নতুন বছরেই। কারণ বিয়ের সময় এখন হয়েছে বলে আমি মনে করি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই আসলে আমার এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া।

এদিকে সুস্মিতা এর আগে পরিচালক বিক্রম ভাট, মুদাসসের আজিজ ও অভিনেতা রণদীপ হুদার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে এই সম্পর্কগুলো একে একে ভেঙেও যায়। সর্বশেষ ২৩ বছর বয়সী তরুণ ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ খাতরির সঙ্গে প্রেমে জড়ান তিনি। তবে সুস্মিতা এবার বিয়ের মালা কাকে পরাতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।

সুস্মিতা ইতিমধ্যে রিনি এবং আলিশা নামের দু’জন মেয়েকে দত্তক নিয়েছেন। নিজের মেয়ের আদরেই এই দু’জনকে বড় করছেন তিনি। অন্যদিকে আগামী বছর খ্রিস্টীয় রীতিতে বিয়ে করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ছোট বেলা থেকেই খ্রিস্টীয় রীতিতে বিয়ের স্বপ্ন বুকে লালন করে চলেছেন সুস্মিতা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ছোট বেলাতেই খ্রিস্টান ধর্মের বিয়ের প্রতি আমার একটি টান ছিল। ওদের স্টাইলটা আমার কাছে ভালো লাগে। তখন থেকেই নিজেকে কল্পনা করতাম লম্বা সাদা গাউন পরে বধূ বেশে সেজেছি আমি। তাই নিজের এই স্বপ্নটা পূরণ করতে চাই। খ্রিস্টীয় রীতিতেই বিয়ের কাজটি সারতে চাই। কিন্তু বর সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছি না এখন। সব কিছু পাকাপাকি হলে তবেই সবাইকে জানাবো।

শ্বাস দিয়ে বাঁচানো হল কচ্ছপের জীবন

শ্বাস দিয়ে বাঁচানো হল কচ্ছপের জীবন

 যুক্তরাজ্যের এক ডাক্তারের ত্বরিত সিদ্ধান্তে বেঁচে গেছে আট বছর বয়সী একটি কচ্ছপের জীবন। পোষা কচ্ছপটির শ্বাস-প্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে আবেগতাড়িত হয়ে গেলেও দ্রুতই নিজেকে সামলে নেন তিনি। তারপরই শুরু করে দেন মুখ থেকে মুখে শ্বাস দেয়ার কাজ। টানা ছয় মিনিট শ্বাস দেয়ার পর কচ্ছপটির শ্বাস-প্রশ্বাস চালু হয়।

মহত এই ডাক্তারের নাম বেন ওয়াটারফল। থাকেন উত্তর ডেভনে। বাড়ির পোষা কচ্ছপ ‘এটলাস’ তার খুব প্রিয়। সেদিন তিনি বাইরে থেকে ফিরে এসে দেখেন পানির চৌবাচ্চা থেকে বের হয়ে পড়েছে এটলাস। কাছে গিয়ে দেখেন এটা মরার মতো পড়ে আছে। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ। বুদ্ধিমান ডাক্তার সময় ব্যয় না করে শুরু করে দেন কৃত্রিমভাবে শ্বাস দেয়ার কাজ। যেমনটি তিনি দেন মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে। সূত্র: ডেইলি মেইল।

দুবাইয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশী নিহত

দুবাইয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশী নিহত

দুবাইয়ে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন প্রায় ২০ শ্রমিক। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশী রয়েছেন ১০ জন।

নিহতরা হলেন, শরিয়তপুরের আলাউদ্দিন সর্দারের ছেলে সুমন। সিলেটের ঈদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল কাদির। চাঁদপুরের আদম আলীর ছেলে রহিম এবং মৌলভীবাজারের রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে সুমন উদ্দিন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেশ দুবাইয়ে গত ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আটটায় রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

ওই শ্রমিক ক্যাম্পের ১৩০টি রুমে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ শ্রমিক বাস করেন। গরম চুলার পাশে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েকটি কক্ষে আগুন ধরে যায়। আহতদের দুবাইয়ের রাশেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

রাজধানীতে অপহৃত ২ শিক্ষক উদ্ধার : ৪ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

রাজধানীতে অপহৃত ২ শিক্ষক উদ্ধার : ৪ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

 পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে অপহরণের ৭ ঘণ্টা পর রূপনগর আবাসিক এলাকা থেকে দুই স্কুল শিক্ষককে উদ্ধার করেছে।

অপহরণকারীরা এক কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়ে গত সন্ধ্যায় তাদের অপহরণ করে।

রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল রূপনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে এবং মিরপুর এলাকার ঢাকা সিটি স্কুলের দুই শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাদা (২৮) ও সাব্বির হোসেনকে (২৫) রাত প্রায় ২টার দিকে উদ্ধার করে।
 
আটককৃতরা হচ্ছে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ওরফে চান (৩৮), মোহাম্মদ জালাল হোসেন (৫৭), আসগর আলী (২২) ও শকওত আলী (৪০)।

অপহরণের শিকার শাহজাদা আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সাংবাদিকদের বলেন, চানের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে বন্দুকের মুখে একটি দোকান থেকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি বোতল ফ্যাক্টরির নিচতলার এক কক্ষে আটকে রাখে। তারা রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমাকে ভীষণ নির্যাতন করে এবং আমার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

তিনি বলেন, সশস্ত্র গুন্ডারা তারপর আমার চাচাতো ভাই সাব্বির আহমেদকে ডাকতে বাধ্য করে। পরে তারা ফ্যাক্টরির ঠিক বিপরীত দিক রজনীগন্ধা এলাকা থেকে বন্দুকের মুখে তাকে আটক করে।
 
ওসি বলেন, অপহরণকারী ও ঘটনার শিকার দুই স্কুল শিক্ষকের মধ্যে পূর্বে শত্রুতা থাকতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চানের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের মামলা রয়েছে।
 
পুলিশ জানায়, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ তাদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করেছে।

পরকীয়াগ্রস্ত এসআই লতিফের কাণ্ড

পরকীয়াগ্রস্ত এসআই লতিফের কাণ্ড

ভাষানটেক থানার পরকীয়াগ্রস্ত এসআই আব্দুল লতিফ তার প্রেমিকা লাভলিকে দিয়ে তার প্রাক্তন স্বামী আমানুর রহমানকে ফাঁসানের জন্য তিনিও তার স্বজনদের নামে একের পর এক মামলা দিচ্ছেন। প্রত্যেকটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থাকছেন তিনিই। এমনকি যে থানায় বদলি হয়ে যাচ্ছেন সে থানায়ই মামলা করা হচ্ছে।

মিরপুর মডেল থানা ও ভাষানটেক থানা সূত্রে জানা যায়,  আমানুর রহমানের সঙ্গে মনোয়ারা বেগম লাভলীর ২০০৬ সালে বিয়ে হয়। তারা মিরপুর মডেল থানা এলাকার কল্যাণপুরে থাকতেন। এর মধ্যে লাভলীর সঙ্গে এসআই লতিফর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এর জের ধরে  চলতি বছরের মে মাসে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। এর পর আমানুরের পরিবার ও তার নামে দুটি মামলা করেন লাভলী। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসাই লতিফ। প্রায় দুইমাস আগে এসআই লতিফ ভাষানটেক থানায় বদলি হন। সেখানে ১৫ অক্টবর আমানুর ও তার স্বজনদের নামে মামলা করেন লাভলী। এ মামলারও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লতিফ।

এ ব্যাপারে এসআই লতিফ জানায়, পরকীয়ার ঘটনা মিথ্যা। মামলা তদন্ত করে দেখছি। আপনি যে থানায় বদলি হচ্ছেন সে থানয় মামলা হওয়া এবং এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও আপনি থাকার কারণ কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেন নি।

মিরপুর মডেল থানা সূত্রে আরো জানা যায়, লাভলি কুসঙ্গে মিশে ও প্রেমিক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেন। তার পিতা আব্দুর রউফ মেয়েকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে না পেরে ২০০৮ সেপ্টেম্বর মাসে মিরপুর মডেল থানায় মেয়ের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আরো জান যায়, এসআই আব্দুল লতিফ এর আগে মোহাম্মদপুর থানায় থাকাকালে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে উপরমহলকে ম্যানেজ করে আবার চাকরিতে যোগদেন তিনি।

আজ জেলহত্যা দিবস

আজ জেলহত্যা দিবস

 ৩ নভেম্বর। কলঙ্কময় জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের যে কয়টি দিন চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এরমধ্যে এ দিনটি অন্যতম।

বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন।

এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট তৎকালিন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যুর রক্তাক্ত অধ্যায়ে ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় জেল হত্যাকাণ্ড। সেই থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে ঘাতকচক্র স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে নিজেরা ক্ষমতা দখল করেছিল। আর একই চক্রান্তকারীরা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির ৪ সূর্যসন্তানকে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শ্রত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষমবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে।

ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাসঘাতক খুনিদের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আজ জাতির সামনে পরিস্কার।

এই জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এই কাপরুষোচিত হত্যা মামলার প্রকৃত বিচার হয়নি। অনেক খুনি ও তাদের দোসররা এখনও বহাল তবিয়তে। কবে সাজা পাবে ঘাতকরা তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

জেল হত্যাকাণ্ডের পর ওই সময়ই লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এলডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধা।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন,  কর্নেল অব. সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল অব. সৈয়দ শাহরিয়ার রশিদ, মেজর অব. বজলুল হুদা, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ বরখাস্ত, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল অব. এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল অব. একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল অব. এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহাম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন অব. আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) কিসমত হোসেন এবং ক্যাপ্টেন অব. নাজমুল হোসেন আনসার।

খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন বিএনপি নেতা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর অব. খায়রুজ্জামান।

২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার আবুল হাসেম মৃধা এবং যাজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর চার আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল অব. শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর অব. বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল অব. এ কেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ওই চার আসামির ৪টি আপিল ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন।

তবে জেল হত্যাকাণ্ডের সুদীর্ঘ সময় পর এর বিচারের রায় হলেও জাতীয় নেতার পরিবারের সদস্যরাসহ বিভিন্ন মহল থেকে ওই সময় রায়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' ও প্রহসনের রায়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। একইসঙ্গে রায়টি প্রত্যাখ্যানও করা হয়। তাদের অভিযোগ জেলহত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। জাতির ইতিহাসের নৃশংসতম এ হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্ত ও পুনর্বিচার দাবি করেন তারা।

অবশ্য জেলহত্যা মামলায় খালাস পেলেও লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল অব. শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর অব. বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল অব. একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি এদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে পলাতক অপর ৮ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি সম্পর্কে কোনো মতামত না দেয়ায় তাদের দণ্ডাদেশ বহাল রয়েছে।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতাসীন হওয়ায় এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে জেল হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার হওয়ার সুযোগ এসেছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ডেরর পুনর্বিচার শুরুর জন্য গোটা জাতি অপেক্ষায় আছে।

ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি: যোগাযোগমন্ত্রী

ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি: যোগাযোগমন্ত্রী

বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে সওজ কর্মকর্তাদের শাসিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি করে দেব’’।

এসময় তিনি সীতাকুণ্ডের শীতলপুর, ফৌজদার হাট, সিটিগেট এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে সড়ক কাজের পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘কাজ তো কিছুই হয়নি। লিখিত রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবের তো কোনো মিল নেই’’।

মন্ত্রী শুক্রবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারহাটস্থ লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধন শেষে শহরে ফেরার পথে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ টনের বেশি মালবোঝাই কোনো ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানকে চলতে দেয়া হবে না। এ মহাসড়কে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য সীতাকুণ্ডে চালু করা হয়েছে এ লোড কন্ট্রোল স্টেশন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের উপযোগী হবে। লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, চালকদের সতর্ক করার জন্য আগামী এক মাস এই স্টেশনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। এরপর থেকে ২০ টনের বেশি মালবোঝাই কোনো ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানকে এ সড়কে চলাচল করতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত ১১ মাসে বিভিন্ন মহাসড়কের ৫টি স্থানে লোড কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপন করা হয়। আগামী ৪ নভেম্বর টেকনাফে ষষ্ঠ স্টেশনের উদ্বোধন করা হবে। এ মাসের শেষের দিকে সিলেটে চালু করা হবে সপ্তম স্টেশনটি।

অনেকগুলো স্টেশন আগেই স্থাপন করা হলেও কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সেগুলো এতোদিন চালু করা যায়নি বলে মন্ত্রী জানান।

সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার সীতাকুন্ডের বড় দারোগারহাটে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সর্বাধুনিক এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনের নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এনার্জী লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল স্কেলটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রথম দিকে দেড় বছরের মধ্যে স্কেলটির কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পরিবর্তন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে কাজ পিছিয়ে পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বারবার ভাঙতে থাকলে এর কারণ খুঁজতে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানতে পারেন ওভার লোডিং জনিত কারণেই এটি বারবার ভাঙছে। প্রতিরোধের উপায় হিসেবে তিনি স্কেলটি চালুর সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি কর্মকর্তাদের শাসিয়ে বলেন, ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি করে দেব। পরে তিনি বিকেলে অক্সিজেন-হাটহাজারী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ পরিদর্শন এবং ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের কুলখানি উপলক্ষে আয়োজিত মেজবানে যোগ দেন।

 

আমেরিকায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর জেল

আমেরিকায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর জেল

 

 বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান যুবক রেজওয়ান ফেরদৌসকে (২৭) ১৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

আমেরিকার সেনা সদর দফতর পেন্টাগন এবং ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বোস্টনের ফেডারেল আদালত এ রায় দেয়।

গত বছর সেপ্টেম্বরে রেজওয়ানকে গ্রেফতার করে এফবিআই। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্যে আল কায়েদাকে রসদ সরবরাহেরও অভিযোগ আনা হয়।

দূর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকভর্তি বিমান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে বস্টন আদালত চলতি বছর ২০ জুলাই মাসে রেজওয়ানকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ম্যাসাচুসেটসের অধিবাসী রেজোয়ান বোস্টনের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক।

Friday, November 2, 2012

ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট

ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট

 স্কুল জীবনে ছাত্রশিবির, কলেজ জীবনের শুরুতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে উত্তরজেলা ছাত্রলীগের নেতা বনে গেছেন মিরসরাইয়ের ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া নামে এক সন্ত্রাসী।

তার বাড়ি উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের গনকছরা গ্রামে। তার বাবা কোববাদ ভূঁইয়া।

মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, উপসনালয় ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা, চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্থরা তার ভয়ে থানায় মামলা করতে ভয় পান। তার হাতে নির্যাতিত অনেকেই নাম প্রকাশে না করা শর্তে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ২০০৭ সালে উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের দুই বছর মেয়াদী গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। এরপর থেকে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার অপকর্মে উপজেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। এমপির গাড়িতে করে বিভিন্ন সময় তাকে ঘুরতে দেখা যায়। তিনি বিভিন্ন স্থানে এমপির আস্থাভাজন নেতা দাবি করে নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার বারইয়ারহাট ডিগ্রি কলেজ, বারইয়ারহাট পৌর বাজার এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনা তার নেতৃত্বে হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় থানায় মামলা হয় না এবং ভুক্তভোগীরা তার ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, ইব্রাহীম একসময় শিবির এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন ছাত্রলীগে নাম লিখিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে নেতৃস্থানীয় নেতাদের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা। তা না হলে ভবিষ্যতে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সে প্রায় ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল নিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার শিমলা হেয়ার কাটিং সেলুনে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় হেয়ার কাটিংয়ে কর্মরত জন্টু দাশ ও অর্জুন দাশ গুরুতর আহত হন।

শিমলা হেয়ার কাটিংয়ের সত্ত্বাধিকারী জনটু দাশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “পৌর মেয়র আবু তাহেরকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।”

একই বছরের আগষ্টস্ট মাসে উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পশ্চিম হিঙ্গুলী এলাকার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে করের বাড়ির সাধুর উপসনালয়ে হামলা চালায়। এসময় পূজারী কালু সাধুকে বেদম মারধর করে এবং সাধুর আশ্রমের পূজার নানা জিনিসপত্র ফেলে দেয়। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে অর্থ জরিমানা করা হয়।

মিরসরাই উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম কুমার শর্ম্মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া বলেন, “কখন কি ঘটেছে তা সমাধান হয়ে গেছে এটা নিয়ে সাংবাদিকরা কেনো এখন আবার লিখবে।”

২০০৭ সালে গঠিত হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ শিফাত বলেন, “ইব্রাহীম ২০০৭ সালে দুই বছর মেয়াদী গঠিত হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে।”

শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তৎকালীন ছাত্র শিবিরের উপজেলা সভাপতি রেদোয়ানুল হক বলেন, “বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে সে ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিল।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইব্রাহীম খলিল ভূঁইয়া বলেন, “অভিযোগ কি শুধু আমার বিরুদ্ধে অন্য কারো বিরুদ্ধে নাই?” এ কথা বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরবর্তীতে তিনি এ প্রতিনিধিকে ফোন করে বলেন, “আমি কলেজ জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তবে বারইয়াহাট পৌর ছাত্রলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে এ প্রতিনিধিকে জানান, তার অত্যাচারে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সুনাম নষ্ট হচ্ছে। মূলত সে শিবির এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংসদ সদস্যের না ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসে সে বারইয়াহাট পৌর বাজারের শাহাদাত হোটেলের মালিককে মারতে উদ্যত হলে বাজারের লোকজন তাকে ঘিরে ফেলে। ফলে সে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও নইলে আমি মোশাররফ ভাইকে (ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন) ফোন করছি।”
তবে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার কোনো সখ্যতা নেই বলেও পৌর ছাত্রলীগের ওই নেতা এ প্রতিনিধিকে জানান।

মিরসরাইয়ের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রশ্নের মুখে চিনের এক সন্তান নীতি ::

প্রশ্নের মুখে চিনের এক সন্তান নীতি ::

চীনের এক সন্তান নীতি আবারও তাদের নিজের দেশেই প্রশ্নবিদ্ধ। খোদ চীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীরই এক অংশ এর বিরুদ্ধে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তারা দাবি করছেন, ২০১৫ সালের মধ্যেই এক সন্তান নীতি থেকে সরে এসে প্রতি পরিবারের জন্যে দুই সন্তান গ্রহণের অনুমতি দয়া হোক। ইতিমধ্যেই চায়না ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন সরকারের কাছে এ প্রস্তাব পাঠিয়েছে
চায়না ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বেঁধে দেয়া এ সময়কে কোনো কোনো জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিপক্ষে নেয়া একটা দৃঢ় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। অনেকে এমনটাও মনে করছেন এক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করলে চীনে কঠোর জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে যে ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ফাউন্ডেশন সুপারিশ করেছে কিছু কিছু প্রদেশে দুই সন্তান নীতি এ বছরই গ্রহণ করা হোক। আর সারা দেশে ২০১৫ সালের মধ্যে।
তাদের পেশ করা ঐ সুপারিশের বরাত দিয়ে সিনহুয়া জানায়, ইতিমধ্যেই এক সন্তান নীতির কারণে চীনকে বিশাল সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যয় বহন করতে হয়েছে। এর ফলে সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, প্রশাসনিক ব্যয় বেড়েছে এবং জাতি এক দীর্ঘমেয়াদি লিঙ্গ-অসমতার মধ্যে পড়েছে।
তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে চীনা নেতৃবৃন্দের মনোভাব এখনো জানা যায়নি। বুধবার পর্যন্ত চীনের জাতীয় জনসংখ্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে এই সুপারিশের ব্যাপারে কোনো মতামত জানানো হয়নি।
চীনে যা এক সন্তান নীতি বলে পরিচিত, এর আইনটা যথেষ্ট জটিল। এই আইনে সরকারের পক্ষ থেকে শহরাঞ্চলে দম্পতিদের এক সন্তান নিতে বাধ্য করা হয়। অথচ গ্রাম এলাকায় যদি কোনো দম্পতির প্রথম সন্তান মেয়ে হয় তবে তাদের জন্য দ্বিতীয় সন্তান গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আরো কয়েক রকমের ব্যতিক্রমও রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ছাড় রয়েছে। আবার বাবা-মায়ের যদি কোনো ভাইবোন না থেকে থাকে তাহলে সেই দম্পতিরও দুই সন্তান গ্রহণের সুযোগ আছে।
চীনের জনগণের মধ্যে এই নীতি নিয়ে প্রথম থেকেই দ্বিধা ছিল। তবে কিছু দিন আগে এর প্রতিবাদ জানানোর সাহস না করলেও এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অনেক সংস্থার পক্ষ থেকেই জন্মদানের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেবার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সিবিসি নিউজ

মঙ্গলে হাওয়াই দ্বীপের মতো মাটি! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মঙ্গলে হাওয়াই দ্বীপের মতো মাটি!

 মঙ্গল গ্রহে হাওয়াই দ্বীপের মতো ‘মাটি’ পাওয়া গেছে। এই মাটি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট মাটির মতোই।
 
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা এ কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, ওই মাটির বালুকণার রং কমলা-তামাটে। এগুলো অতিক্ষুদ্র ও স্বচ্ছ খনিজ পদার্থ। কিউরিওসিটি মঙ্গলের যে জায়গায় অবতরণ করেছে, তার সর্বত্রই এ ধরনের বালুকণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গেইল নামের ওই জ্বালামুখ এলাকাটি মঙ্গলের ঝড় বা প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের অবশিষ্টাংশ থেকে গঠিত হয়েছে।
কিউরিওসিটিতে থাকা বিশেষ ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে ওই মাটি শনাক্ত করা হয়েছে।
 
নাসার বিজ্ঞানী ডেভিড ব্লেইক জানান, এই প্রথম মঙ্গল গ্রহে এক্স-রে রশ্মি ব্যবহার করা হয়েছে এবং মাটি শনাক্ত করার বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর।
 
ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির খনিজবিদ ডেভিড বিশ বলেন, মঙ্গলের বেশির ভাগ জায়গাই ধূলিকণা দিয়ে আবৃত এবং এসব খনিজ ধূলিকণার গঠন সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ফক্স নিউজ।

Wednesday, October 31, 2012

বন্ধ হয়ে গেল হলমার্কের সব কারখানা

বন্ধ হয়ে গেল হলমার্কের সব কারখানা

 সাভারে হলমার্ক গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার রাতে লিফলেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কারখানাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

হলমার্ক গ্রুপের শ্রমিকসহ স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ‘হলমার্ক গ্রুপের সকল কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ- আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ’ সম্বলিত একটি লিফলেট বিলি করেন। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর হেমায়েতপুরসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তবে মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুরের নন্দখালী এলাকায় হলমার্ক গ্রুপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে কারখানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।

শিল্প পুলিশ সাভার সার্কেলের পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল বাতেন জানান, লিফলেট বিলি করে প্রতিষ্ঠানটির সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কারা বা কী কারণে লিফলেট বিতরণ করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মশিউদ্দৌল্লাহ রেজা জানান, কারখানা বন্ধের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সব ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।

আলোচিত ব্যাংক কেলেঙ্কারির নায়ক তানভীর মাহমুদের মালিকানাধীন হলমার্ক গ্রুপের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক তাদের চলতি মাসের বেতন, ঈদ বোনাস এবং অতিরিক্ত কাজের মজুরির দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিল। এ নিয়ে দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এক পর্যায়ে কারখানাটি ঈদের আগে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বাসস।