Pages

Saturday, November 3, 2012

ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি: যোগাযোগমন্ত্রী

ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি: যোগাযোগমন্ত্রী

বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে সওজ কর্মকর্তাদের শাসিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি করে দেব’’।

এসময় তিনি সীতাকুণ্ডের শীতলপুর, ফৌজদার হাট, সিটিগেট এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে সড়ক কাজের পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘কাজ তো কিছুই হয়নি। লিখিত রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবের তো কোনো মিল নেই’’।

মন্ত্রী শুক্রবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারহাটস্থ লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধন শেষে শহরে ফেরার পথে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ টনের বেশি মালবোঝাই কোনো ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানকে চলতে দেয়া হবে না। এ মহাসড়কে অতিরিক্ত ভারি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য সীতাকুণ্ডে চালু করা হয়েছে এ লোড কন্ট্রোল স্টেশন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের উপযোগী হবে। লোড কন্ট্রোল স্টেশন উদ্বোধনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, চালকদের সতর্ক করার জন্য আগামী এক মাস এই স্টেশনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। এরপর থেকে ২০ টনের বেশি মালবোঝাই কোনো ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানকে এ সড়কে চলাচল করতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত ১১ মাসে বিভিন্ন মহাসড়কের ৫টি স্থানে লোড কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপন করা হয়। আগামী ৪ নভেম্বর টেকনাফে ষষ্ঠ স্টেশনের উদ্বোধন করা হবে। এ মাসের শেষের দিকে সিলেটে চালু করা হবে সপ্তম স্টেশনটি।

অনেকগুলো স্টেশন আগেই স্থাপন করা হলেও কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সেগুলো এতোদিন চালু করা যায়নি বলে মন্ত্রী জানান।

সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার সীতাকুন্ডের বড় দারোগারহাটে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সর্বাধুনিক এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনের নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এনার্জী লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল স্কেলটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রথম দিকে দেড় বছরের মধ্যে স্কেলটির কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পরিবর্তন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে কাজ পিছিয়ে পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বারবার ভাঙতে থাকলে এর কারণ খুঁজতে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানতে পারেন ওভার লোডিং জনিত কারণেই এটি বারবার ভাঙছে। প্রতিরোধের উপায় হিসেবে তিনি স্কেলটি চালুর সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি কর্মকর্তাদের শাসিয়ে বলেন, ঠিক মতো কাজ না করলে সোজা বদলি করে দেব। পরে তিনি বিকেলে অক্সিজেন-হাটহাজারী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ পরিদর্শন এবং ফটিকছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের কুলখানি উপলক্ষে আয়োজিত মেজবানে যোগ দেন।

 

No comments:

Post a Comment