Pages

Friday, December 14, 2012

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আলবদর-রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় এদিন নারকীয়ভাবে হত্যা করেছিল এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের ঠিক দুই দিন আগে দিশাহারা হানাদার বাহিনী পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে
দেশ হারিয়েছিল তার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীদের। আজ পুরো জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে সেসব সূর্যসন্তানকে; যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, আমরা পেয়েছি স্বাধীন মানচিত্র। লাল-সবুজের পতাকা। ১৪ই ডিসেম্বর চারদিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের রব, ঠিক তখনই পাকিস্তানি ঘাতকরা মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, আনোয়ার পাশা, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, ডা. আলীম উদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, নাজমুল হক, খন্দকার আবু তালেব, ডা. আমির উদ্দিন, সাইদুল হাসান প্রমুখ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। এছাড়া আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে তুলে নিয়ে যায় হানাদাররা। চালানো হয় পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর। তবে পরাজয়ে বাধ্য হওয়ায় তারা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। স্বাধীনতার ৪১ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবী কৃতী সন্তানদের অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীরা দেশের বিভিন্ন সঙ্কটে জাতিকে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের সৃষ্টিশীলতা ও অসামপ্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আমাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত আমাদের বুদ্ধিজীবীরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এদেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বহু গুণীজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতিকে মেধাহীন করাই ছিল তাদের হীন উদ্দেশ্য। এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন প্রজন্ম একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির মহান মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের ফলে জাতি হারায় তার মেধাবী সন্তানদের।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হামলা চালিয়েছে মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের ওপর। এসব হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। বাংলার মাটিতে তাদের অপকর্মের বিচার হবেই। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে জাতির জীবনে চিরদিন অম্লান হয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি কখনওই বিস্মৃত হবে না। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সকাল ৮টায় প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ সময় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তাদের প্রস্থানের পর সকাল ৭টায় সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল সোয়া ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দলের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দলের সব শাখা, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা, কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Thursday, December 13, 2012

২১শে ডিসেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী! চীনে পাগলপারা মানুষ

২১শে ডিসেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী! চীনে পাগলপারা মানুষ

আগামী ২১শে ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে! এমন এক গুজবে চীনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা যেখানে যা পায় তা-ই সংগ্রহ করে কাছে রাখছে। ফলে মোমবাতি, ম্যাচসহ দরকারি বিভিন্ন জিনিসপত্র হট কেকের মতো বিক্রি হচ্ছে। মায়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২১শে ডিসেম্বর পৃথিবীর শেষদিন। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে এর পরের টানা তিন দিন সারা পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে থাকবে। এমন গুজবে কান দিয়ে সিচুয়ান প্রদেশের শুয়াংলিউ ও লংচাং অঞ্চলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। তারা ছুটছেন দোকানে দোকানে। সেখান থেকে দরকারি জিনিসপত্র কিনে মজুত করছেন। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। এতে বলা হয়, ওই গুজব চীনের ক্ষুদ্র বার্তার ওয়েবসাইট ঝরহধ ডবরনড়’র মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা। তারা পণ্যের স্পেশাল সব প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে। নিজেকে নিজে কিভাবে সাহায্য করা যায় তার প্যাকেজ দিয়েছে। এমনকি শেষ সময়ে কিভাবে সাজতে হবে তার জন্যও পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। জিংসু প্রদেশের ইয়াং জোংফু ঘটিয়ে ফেলেন তুলকালাম কাণ্ড। তিনি নবী নূহ (আ.)-এর মতো করে নৌকা তৈরি করছেন। স্টেইনলেস স্টিলের বিশাল বল আসলে তার নৌকা। পৃথিবী শেষ হওয়ার সময় এতে জীবিতদের আশ্রয় দেয়া যাবে। এমন বলের তরী তিনি বিক্রি করেছেন ৮ লাখ ডলারে। শানসি’র এক ব্যক্তি এরকম ১৫টি ডিভাইস অর্ডার দিয়েছেন। অর্ডার এসেছে নিউজিল্যান্ড থেকেও। এক নারী তার সহায় সম্পত্তি বন্ধক রেখেছেন। এই অর্থ তিনি এতিমদের জন্য দান করবেন। বাকি অর্থ দিয়ে পৃথিবী শেষ হওয়ার আগে মজা করে কাটাতে চান। আবার অনেকে ওই দিনের আগেই বিয়ে সেরে নিতে চান। সিয়ান, হেফেই, গুয়াংঝু ও শাংহাইয়ের বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিসগুলো ২১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বুক হয়ে আছে। তবে চীনের লুনার অরবিটার প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী ওয়াং জিয়ুয়ান বলেছেন, মায়া ক্যালেন্ডার নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। ২১শে ডিসেম্বর আসলে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দিন হবে। 

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কলেজ ছাত্র খুন

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কলেজ ছাত্র খুন


নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় রফিউল আলম (১৮) নামে বাংলাদেশি এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভুত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত রফিউল নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স কমিউনিটি কলেজের ছাত্র। তার বাসা কুইন্সের জ্যামাইকার ১৭৩ স্ট্রিট ও ৯০ এভিনিউতে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রফিউল বাসার কাছে একটি হালাল চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়েছিল। হঠাত্ তিন যুবক এসে তাকে গালমন্দ শুরু করে। এ সময় তার সঙ্গে ওই যুবকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে যুবকরা তাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। তাদের মধ্যে একজন হঠাত্ মাথায় আঘাত করলে অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায় রফিউল। লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে রফিউলকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কোমায় চলে যায় সে। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি তার। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে চিকিত্সকেরা রফিউলকে মৃত ঘোষণা করে। নিউইয়র্ক পুলিশ এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত রফিউলের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। অনেক আগে রফিউল বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল।

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার


বিশ্বজিত্ দাস হত্যায় জড়িত মাহফুজুর রহমান নাহিদকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গ্রেফতার করেছে। সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি পৌর এলাকার আজিমপুরে লুকিয়ে ছিল নাহিদ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো চারজনকে গ্রেফতারে পুলিশ রাজধানী ও তাদের গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার ভোরে ডিবি আশুলিয়া থেকে শাকিল নামে একজনকে আটক করে। তবে বিশ্বজিত্ হত্যায় এই শাকিল জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ গ্রেফতারকৃত আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল কোতয়ালী ও সূত্রাপুর থানা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহী উদ্দীন খান আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত যেই হউক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলামের নির্দেশে একাধিক টীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও র্যাব গত মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রাম ঘেরাও করে। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ ঘরে তল্লাশি চালিয়েও নাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে ডিবি ও র্যাব জানতে পারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিন এবং তার ভাই সিঙ্গাইর সরকারি কলেজের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা সমিজের বাসায় নাহিদ লুকিয়ে আছে। রমিজ ও সমিজকে পুলিশ আটক করে সিঙ্গাইর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করে, নাহিদ তাদের ঘরে লুকিয়ে ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাহিদকে আরেক ছাত্রলীগ নেতা মোহসীনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। দুইভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোহসীনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রাত ১টায় পুলিশ নাহিদকে গ্রেফতার করে। নাহিদকে ঢাকায় ডিবি অফিসে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানান তিনি ডিবিকে। ৯ ডিসেম্বর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম ঠিকানা বলে দেন তিনি। তাদের কেউ কেউ নাহিদের সঙ্গে সিঙ্গাইরে আশ্রয় নিতে চাইলে নাহিদ তাদের সঙ্গে করে আনেননি। নাহিদের গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান।

আমাদের সিঙ্গাইর প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দলীয় সূত্রে নাহিদের সঙ্গে রমিজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। আর এ কারণেই রমিজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

হাতিয়া সংবাদদাতা জানান, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বাবা মাওলানা মহিউদ্দীন ইত্তেফাককে নিজের ছেলের আসল পরিচয় না দিয়ে বলেছেন, তার ছেলের নাম মাহফুজুর রহমান নাহিদ। মাওলানা মহিউদ্দিন আজহারুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও স্থানীয় জামায়াত নেতা। তাওসীনের বড় ভাই তাফসীর উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সভাপতি। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। তিনি সেই থেকে পলাতক।

জানা যায়, উত্তেজিত কর্মীদের তাওসীনই বোমা নিক্ষেপকারী হিসাবে দেখিয়ে দেয়। তাওসীন হাতিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়। হাতিয়া থাকাকালে তাওসীন শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাওসীনের ছোট বোন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের মহিলা কর্মী বলে পুলিশ নিশ্চিত।

গতকাল ইমদাদুল হকের গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচকাঘরায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এএসআই রেজাউল হক মুন্সীকে ইমদাদুল হকের ছোট ভাই জাকির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার তার ভাই দুইবার বাড়িতে ফোন করেছে। জাকির জানায়, ইমদাদ বাড়িতে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিতো। টিভি দেখে ইমদাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জাকির কৃষিকাজ করেন। তাদের বাবা আকরাম আলী বেঁচে নেই। মা জোহরা বেগমকে নিয়ে জাকির গ্রামের বাড়িতে থাকে। তার ভাই দ্রুত বড় লোক হওয়ার কারণে ছাত্রলীগ করে বলে জাকির পুলিশকে জানায়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিলের পটুয়াখালীর ফায়ার সার্ভিস রোডস্থ বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালী সদর সার্কেল এএসপি আনছার উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ এই তল্লাশী অভিযান চালানো হয়। এসময় বাসায় শাকিলের বড় ভাবী ও গৃহপরিচালিকা ছাড়া কোন পুরুষ সদস্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মিডিয়ায় শাকিলের পরিচয় প্রকাশিত হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই গা ঢাকা দিয়েছে। তার পিতা আনসার আলী আয়কর বিভাগের একজন চতুর্থ শ্রেণীর (এমএলএসএস) অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। শাকিল ৩ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় ভাই সফিকুল ইসলাম শাহিন ওরফে ট্যাক্স শাহিন পটুয়াখালী শহর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ।

আনসার মিয়া আয়কর বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও তার রয়েছে পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস রোডে চারতলা বিশিষ্ট সুরম্য অট্টালিকা। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জেও রয়েছে বিশাল সানসৈকত সম্পন্ন বাড়ি। সে চার বছর আগে আয়কর বিভাগের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রংপুর থেকে ওয়াদুদ আলী এবং আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে মীর মোঃ নূরে আলম লিমন ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে বড় নেতা ও ধন-সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলো। এ কারণে একের পর এক অপরাধ এবং অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলো। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের শুল্লিপাড়া।

গতকাল বুধবার এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শুল্লিপাড়া গ্রামের মীর মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র মীর মোঃ নূরে আলম লিমন গত ১২/১৩ বছর আগে মা নূরবানুর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় মা নূরবানু ঢাকায় গিয়ে আশ্রয় নেন আগারগাঁও এলাকায়। পরে লিমনের বাবা মীর মোঃ নুরুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। রংপুরের পীরগাছা থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে লিমন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো। পরে সে ঢাকায় গিয়ে আবার স্কুলে ভর্তি হয়। মাঝে-মধ্যে এলেও রংপুর মহানগরে নেতাকর্মীদের সঙ্গ দিতেন। গ্রামে তাদের কোন বাড়ি-ঘর নেই। মাত্র ৫ কাঠা পৈত্রিক ভিটা রয়েছে। অথচ রংপুর এলে সে একাধিক দামি মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ রাজকীয় হালে চলাফেরা করতো। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে লিমন সবার ছোট। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় লিমনের পিতা মীর মোঃ নূরুল ইসলাম গত ৮ মাস আগে ঢাকা ছেড়ে আবার এলাকায় এসে হাট-বাজারে মসলা বিক্রি শুরু করেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও প্রক্টোরিয়াল বডির জরুরি সভায় বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং দুইজনের সনদ বাতিল করা হয়। প্রাথমিকভাবে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মো. নূরে আলম ও মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বিরুদ্ধে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় প্রমাণ পায় প্রক্টোরিয়াল বডি। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও একই শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে ইমদাদুল হকের সনদ বাতিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম ব্যাচের ছাত্র নূরে আলম লিমন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনকে বহিষ্কার করা হয়

আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল


ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ্‌ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী ও সহপাঠী মাওলানা আবদুল হাই। প্রায় ২১ মাস গৃহবন্দি থাকা মুফতি আমিনী মঙ্গলবার রাতে পুলিশ পাহারাতেই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। প্রয়াত এ নেতার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা শাহ্‌ আহমাদুল্লাহ আশরাফসহ দেশের প্রায় সব ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। জানাজায় জড়ো হওয়া লক্ষাধিক লোকের জমায়েত জাতীয় ঈদগাহ্‌ মাঠ ও সংলগ্ন রাজপথ ছাপিয়ে উত্তরে মৎস্য ভবন, পূর্বে জাতীয় প্রেস ক্লাব, পশ্চিমে দোয়েল চত্বর দক্ষিণে শিক্ষাভবন পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। জানাজায় সমবেত লোকের ভিড়ের কারণে শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর ও দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে জানাজা শেষে জাতীয় ঈদগাহ্‌ ময়দান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কওমি মাদ্‌রাসার বেশকিছু ছাত্র আমিনীর মৃত্যুর জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয়। তারা দাবি করেন- সরকারের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই মুফতি আমিনীর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। অবশ্য জানাজার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমিনীর দীর্ঘ বন্দি জীবনের জন্য সরকারের সমালোচনা করেন। সরকারের পতন এবং আমিনীর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলে শপথ নেন। এতে জানাজা এক রকম প্রতিবাদ সমাবেশে রূপলাভ করে।
দেশবরেণ্য আলেম, সংগ্রামী রাজনীতিক, বাংলাদেশ কওমি মাদ্‌রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি, লালবাগ জামেয়া ও বড় কাটারা মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপাল, সাবেক এমপি, মুফতি ফজলুল হক আমিনী মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর লালবাগের বাসায় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ও বহির্বিশ্বে ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ধানমন্ডি ইব্‌নে সিনা হাসপাতালে ও লালবাগ মাদ্‌রাসায় আলেম-উলামা ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ ছুটে যান। ইসলামী আন্দোলন ও কওমি মাদ্‌রাসা অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা রাতেই লালবাগ মাদ্‌রাসায় ভিড় করেন। ফজরের আগেই গোসল দিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য তার লাশ লালবাগের দারুল হাদীসে রাখা হয়। হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ কাতারবান্দি হয়ে তার লাশ দেখেন। ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আমিনী প্রায় ২১ মাস ধরে গৃহবন্দি ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিয়মিত হাদিসের ক্লাস, ইসলাহী মজলিস ও বিভিন্ন্ন অঞ্চল থেকে আগত রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতেন। সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে মাঠে ময়দানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কোন ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। ইন্তেকালের দিন মাগরিবের পর বুখারী শরীফের হাদিসের দরস দেন। এশার পর লালবাগ শাহী মসজিদে একটি জানাজা নামাজের ইমামতিও করেন। মাদ্‌রাসার ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণ পায়চারি করেন। রাতে বাসায় যাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ৬৭ বছর বয়স্ক মুফতি আমিনী আগে থেকেই ছিলেন ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত। ২০০৭ সালে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। গতকাল জাতীয় ঈদগাহে নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ লালবাগ শাহী মসজিদের সংরক্ষিত কবরস্থানে দাফন করা হয় ।
১৯৪৫ সালের ১৫ই নভেম্বর বি-বাড়িয়া জেলার আমীনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জন্ম। পিতা-আলহাজ মরহুম ওয়ায়েজ উদ্দীন, মাতা- মোছা. ফুলবানুন্নেছা। বি. বাড়িয়া জামেয়া ইউনুসিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মুফতি আমিনী মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন বিক্রমপুরের মোস্তফাগঞ্জ মাদ্‌রাসায় তিন বছর পড়াশুনা করেন। তারপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্‌রাসায় ভর্তি হন। এখানে তিনি হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী ও হযরত হাফেজ্জী হুজুর, হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ, আরেফ বিল্লাহ মাওলানা সালাহ উদ্দীন, হযরত মাওলানা আবদুল মজীদ ঢাকুবী এবং শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আজিজুল হকের বিশেষ তত্ত্বাবধানে ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদ লাভ করেন। ১৯৬৯ ইংরেজি সালে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরীর কাছে হাদিস ও ফিকাহ্‌ তথা ইসলামী আইনের উপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশে পাকিস্তান করাচি নিউ টাউন মাদ্‌রাসায় গমন করেন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদিস ও ইসলামী আইনের উপর বিশেষ ডিগ্রি অর্জন করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। প্রথমে মাদরাসা-ই-নূরীয়া কামরাঙ্গীরচরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তিনি হজরত হাফেজ্জী হুজুরের কন্যার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭২ সালে মাত্র নয় মাসে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ হেফ্‌জ করেন। এ সময় তিনি ঢাকার আলু বাজারে একটি মাদ্‌রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে আলু বাজার মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্‌রাসার শিক্ষক ও সহকারী মুফতি নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি লালবাগ জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকালের পর থেকে তিনি লালবাগ জামেয়ার প্রিন্সিপ্যাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে বড়কাটারা হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপ্যাল ও মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান। ইন্তেকালের আগ পর্যন্তই এই দু’টি মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার কাকরাইল, দাউদকান্দির গৌরীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মাদ্‌রাসার প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা: ইসলামী আইন ও আদর্শের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল মুফতি আমিনীর সরব পদচারণা। দুই যুগ ধরে আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল সরব ও সোচ্চার কণ্ঠ হিসাবে তাকে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮১ সালে খেলাফত আন্দোলন গঠিত হলে তিনি মনোনীত হন এ সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল। হযরত হাফেজ্জী হুজুর এর ইন্তেকালের পর তিনি দেশে অধিকাংশ ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ লংমার্চসহ, ১৯৯৪ সালে নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনের তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক। বর্তমানে তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর, উলামা কমিটি বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা ও খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান। তিনি ছিলেন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা চারদলীয় জোটের অন্যতম প্রধান রূপকার ও শীর্ষ নেতা।
২০০১ সালে হাইকোর্ট থেকে ‘সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ’- সংক্রান্ত কোরআন-হাদীস বিরোধী রায় ঘোষিত হওয়ার পর তিনি প্রথম গর্জে উঠেছিলেন। রায় প্রদানকারী দুই বিচারপতিকে শরীয়তের আলোকে তিনি মুরতাদ ঘোষণা করেছিলেন। আান্দোলন তুঙ্গে উঠলে তিনি আওয়ামী দুঃশাসনের কোপানলে পড়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। দীর্ঘ চার মাস তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করেন। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চারদলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বি. বাড়িয়া-২ [সরাইল ও সদরের আংশিক] নির্বাচনী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
বেশ কয়েকবার হজ-ওমরাহ্‌ পালনসহ তিনি লন্ডন, সিরিয়া, ভারত, কুয়েত ও পাকিস্তান সফর করেছেন। ইরান-ইরাক ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বন্ধে ১৯৮৪ ইং সালে তিনি হযরত হাফেজ্জী হুজুরের শান্তি মিশনের সদস্য ছিলেন। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে মুফতি আমিনী ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর এর ‘মুজাযে সুহবত’। পরবর্তী সময়ে তাকে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের অন্যতম খলিফা হযরত মাওলানা আবদুল কবীরসহ হযরত হাফেজ্জী হুজুর-এর আরও কয়েকজন বিশিষ্ট খলিফা বাইয়াত করার অনুমতি প্রদান করেন।
মুফতি আমিনীর আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা যইনুল আবেদীন, সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, মিরশরাই পীর মাওলানা আবদুল মোমেন নাছেরী শোক প্রকাশ করেন।

Wednesday, December 12, 2012

না'গঞ্জ বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মিছিল

না'গঞ্জ বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মিছিল


গতকাল মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে বগুড়া শহর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সশস্ত্র মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের সামনেই রামদা, ছুরি ও লাঠি হাতে নিয়ে তারা মহড়া দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হরতালে ফতুল্লায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বগুড়ায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সংর্ঘষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তিন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে হরতাল চলাকালে সকালের দিকে নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটাররা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এ সময় ইটের আঘাতে পথচারী এনামুলসহ অন্তত ৩ জন আহত হন। পুলিশ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৮ জনকে আটক করেছে। এছাড়া দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটিংয়ের ছবি তুলতে গেলে দুইজন সিনিয়র ফটো সাংবাদিককে মারধর করে পুলিশ এবং তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। পরে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করলে অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একটি হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এসময় অনেকের হাতে ধারালো রাম দা, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র দেখা গেছে। হরতালবিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিলটি সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হরতালের সমর্থনে শহর বিএনপির নেতাকর্মীরা উকিলপাড়া এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি চাষাঢ়া নূর মসজিদের সামনে এলে পুলিশ মিছিল থেকে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালসহ ৮ জনকে আটক করে।

অন্যদিকে সকাল পৌনে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। এসময় তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে ৭-৮টি যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও নিউএজের দুই ফটো সাংবাদিক এমরান হোসেন ও সৌরভ লস্করকে পেটানো শুরু করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে শতাধিক সাংবাদিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এস আই) মামুনকে ক্লোজ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্যদিয়ে বগুড়ায় হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাজারে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে। এসময় হরতাল সমর্থকদের হামলায় ওয়াজেদ ও জাহিদসহ তিন পুলিশ আহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দেড় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।

অন্যদিকে বেলা ১২টার দিকে শহরের সাতমাথা থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি ও চেলাকাঠ হাতে নিয়ে হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি ফতেহ আলী মোড়ে পৌঁছলে হরতাল সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় মিছিলকারীরা পিছু হটলে ধাওয়াকারীরা কবি নজরুল ইসলাম সড়কে এসে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশ তাদের পিছন থেকে ধাওয়া করলে তারা সামতাথা চত্বরে গিয়ে উপর্যুপুরি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সেখানেও রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।

অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ট্রেনে হামলা

হরতাল সমর্থকরা বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের নওদাপাড়ায় পিকেটিং করার সময় রংপুর থেকে বগুড়া অভিমুখী একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালায়। রোগী ও তার স্বজনদের নামিয়ে দিয়ে পিকেটাররা তা ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পিকেটাররা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এসময় পুলিশ তিন শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বগুড়া রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম জানান, সকালে শহরের কড়িতলা এলাকায় বোনারপাড়া অভিমুখী একটি ট্রেনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া সান্তাহার অভিমুখী একটি ট্রেন বগুড়া স্টেশন ছেড়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের তিনমাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় পিকেটাররা লাইনের ওপরে আগুন ধরিয়ে দিলে ট্রেনটি বেশকিছু সময় আটকে থাকে। এছাড়া হরতাল চলাকালে শেরপুর ও শাজাহানপুরে বেশ কয়েকটি পত্রিকার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের সব তথ্য উধাও

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের সব তথ্য উধাও:উপমহাদেশে তুমুল সাইবারযুদ্ধ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইট হ্যাক্‌ড্‌- খবরটি জানা গিয়েছিল গতকাল সোমবার। এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখনো স্বাভাবিক হয়নি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। পাকিস্তানের হ্যাকাররা সাইটটিকে হ্যাক করে লিখে দেয় : পাকিস্তান জিন্দাবাদ। তারা সেই সঙ্গে বার্তা দেয়: This is a Payback From Pakistan Cyber Army. This is not a game you kidz. Don�t play with fire.

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের ঠিকানা : www.mofa.gov.bd. আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সাইটটিতে ঢুকে দেখা যায় সাইটটি উ্দ্ধার করা সম্ভব হলেও নেই কোনো তথ্য। সাদা পৃষ্ঠায় শুধু লেখা: Under Maintennace

hackread.com সাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে গত কয়েকদিন সাইবারযুদ্ধ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। ৯ ডিসেম্বরের পৃথক দুটি খবরে বলা হয় বাংলাদেশের ২৬টিরও বেশি সাইট এবং ভারতেরও ৩ শ‌রও বেশি সাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে পাকিস্তানি হ্যাকাররা। ওদিকে পাকিস্তানে সরকারি সাইটসহ আড়াই শয়েরও বেশি সাইট হ্যাক হয়েছে ভারতীয় হ্যাকারদের হাতে।

বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত রবিবারে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাস হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী নয় দাবি করে আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ইতিমধ্যে বিশ্বজিতের হত্যাকারী সন্দেহে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এরা কেউই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী না, বহিষ্কৃত কর্মী। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আজকের মধ্যেই (মঙ্গলবার) গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত "যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াত বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিরোধে করণীয়" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অপরাধের স্বর্গরাজ্য নয়। এখানে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সবাইকেই বিচারের আওতায় আনা হবে। বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেবো না। বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষ হত্যা করে, এই দুই শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়। বিএনপি জামায়াতকে দেশ, স্বাধীনতা ও জনগণের শত্রু। এ ছাড়া বিএনপি শাসনামলে দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যা ও নৈরাজ্যসহ সকল অপরাধের বিচার করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

রবিবারের অবরোধে পুরান ঢাকায় বিশ্বজিত দাস নামের এক যুবককে হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনার পর গণমাধ্যমে দোষী হিসাবে যাদের নাম এসেছে তারাসহ দায়ী কেউ যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

সাপ্তাহিক সপ্তবর্ণা নামে এক পত্রিকার সম্পাদক নাজিম আহমেদেরে পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ ফৌজদারি কার্যবিধিতে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি দাখিল করেন।

একটি দৈনিকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আবেদনে বিশ্বজিত হত্যায় জড়িত হিসাবে রফিকুল ইসলাম, মীর মো. নূরে আলম, মাহফুজুর রহমান, ওবায়দুল কাদের, এমদাদুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়। এদের সঙ্গে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আর্জিও জানানো হয় আবেদনে।

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করতে পারে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মনে করে, আইনের ব্যত্যয় ঘটছে; লঙ্ঘন হচ্ছে, তাহলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গত কয়েকদিনে জামায়াত-বিএনপির চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও সংঘর্ষের দায় বিরোধী দলীয় নেত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন। সেখানে অবস্থানের সময় বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে হানিফ একথা বলেন।

বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বরাবরের মত আজও রাজপথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অনুসারীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে। সকালে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, কাকরাইল ও মতিঝিলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে। তবে রবিবারের অবরোধ কর্মসূচিতে তারা যেমন মারমুখী ছিল, আজ মঙ্গলবার তেমন ছিল না। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ ছিল বিশ্বজিতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষ হরতাল অবরোধ ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বিরোধী দল দেশকে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলের মহাসচিবও যদি অপরাধ করেন, খুন করেন তাহলে তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে না? সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হানিফ বলেন, বিজয়ের মাসে এ ধরনের কর্মসূচি অনাকাঙ্খিত। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হরতাল প্রত্যাখান করেছে। রাস্তায় যান চলাচল ও অফিস আদালত স্বাভাবিকভাবে চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সে জন্য আমরা বারবার বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সংসদে আসেনি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম; মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ; ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সহ-সভাপতি জহিরউদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন; ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রায়হান প্রমুখ।

মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে যুবলীগ, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর উত্তর ও দণি যুবলীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠন গতকাল রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে।

Tuesday, December 11, 2012

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার


ইন্টারনেট এখন সারাবিশ্বের দৈনন্দিন জীবনের এক আবশ্যক অনুষঙ্গ। আর ইন্টারনেটের গতিও দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবারে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম তৈরি করতে যাচ্ছে এমন এক ধরনের চিপ, যা ইন্টারনেটের গতিকে বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ। আর এর জন্য এই চিপ প্রচলিত ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে ব্যবহার করবে আলো। আইবিএম জানিয়েছে, নতুন এই চিপের ব্যবহারের ফলে বর্তমানে সার্ভারগুলোতে কম্পিউটারের প্রসেসরগুলোতে যে পরিমাণ তথ্য প্রবাহ হয়ে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে তথ্য প্রবাহিত হবে। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের জন্য এটি উচ্চ কম্পিউটিং গতি প্রদানে সক্ষম হবে। আইবিএম-এর এই উদ্ভাবন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্বে সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, আইবিএম-এর নতুন এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আইবিএম-এর এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, কম্পিউটার চিপগুলোতে ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলোর ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে সার্ভার সেন্টারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করা যাবে অনেক বেশি দূরত্বে এবং তাতে করে তথ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকবে অনেক কম। আর তথ্য স্থানান্তরের গতি হবে আলোর গতির প্রায় সমান, কারণ তথ্য স্থানান্তরে এতে আলোই হবে মূল মাধ্যম। এর মধ্যেই অবশ্য ডাটা সেন্টারগুলো তামার কেবলের পরিবর্তে অপটিক্যাল কেবলের ব্যবহার শুরু করেছে। তবে আইবিএম-এর চিপ এতে যুক্ত করবে নতুন মাত্রা। অপটিক্যাল কেবল ব্যবহারের পাশাপাশি এখন আলোক এনকোডিং সিস্টেম ব্যবহার করা প্রয়োজন। সেই কাজটিই করতে সক্ষম হবে আইবিএম-এর এই নতুন চিপ। নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আইবিএম-এর ন্যানোফোটোনিকস বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. সলোমন আসেফা জানিয়েছেন, 'আপনি যখন ইন্টারনেটে কোনোকিছু সার্চ করে থাকেন, আপনার তথ্যগুলো কোনো একটি ডাটা সেন্টারে চলে যায়। আর আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো একটি চিপের মধ্যেই নাও থাকতে পারে। এমনকি সেগুলো একাধিক র্যাকেও থাকতে পারে। তথ্যগুলো কোনো ডাটা সেন্টারে বিশাল আয়তনের অনেক স্থান দখল করে থাকতে পারে। কাজেই এসব স্থানগুলোতে তথ্য স্থানান্তরের গতি যত বেশি হবে, আপনার ইন্টারনেট সার্চ হবে তত দ্রুত। বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তার তুলনায় প্রচলিত প্রযুক্তি অনেকটাই ধীরগতির।' আইবিএম জানিয়েছে, তাদের নতুন তৈরি চিপের প্রতিটিতে থাকবে একাধিক চ্যানেল যার মাধ্যমে ২৫ গিগাবিট পার সেকেন্ড গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব হবে। এসব চিপের ব্যবহারের মাধ্যমে এখনকার চাইতে শতগুণ বেশি গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব। প্রায় এক দশক ধরে এই চিপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে আইবিএম। আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন ড. সলোমন। এটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তিতে পরিণত হবে বলেই আশাবাদী তিনি।

আবার অবসর চান শ্রীদেবী

আবার অবসর চান শ্রীদেবী


বেশ দীর্ঘ বছরের অবসর শেষে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবিটি দিয়ে বলিউডে ফিরেছেন শ্রীদেবী। কিন্তু এ ছবিটির সাফল্য মুঠোবন্দি করে আবারও তিনি অবসরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর সাফল্যের পর এখন বলিউডের অনেক নির্মাতাই চাইছেন তার সঙ্গে কাজ করতে। সেই তালিকায় রয়েছেন শ্রীদেবীর স্বামী প্রযোজক বনি কাপুর এবং নির্মাতা আর বাল্কিও। তবে এদের মধ্য থেকে কাকে বেছে নেবেন শ্রীদেবী- এটি নিয়েই দ্বিধায় পড়েছেন তিনি। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ এর সাফল্যের পর এখন এর প্রযোজক আর বাল্কি চাইছেন এটির সিক্যুয়েল নির্মাণ করতে। অন্যদিকে বনি কাপুর চাইছেন স্ত্রীর জন্য এমন কোন একটি সিনেমা, যা তার এই সাফল্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এদিকে শ্রীদেবীর চাওয়া কিন্তু অন্যরকম। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে আমি যে পরিমাণ সাক্ষাৎকার মিডিয়াগুলোকে দিয়েছি, আমার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে এরকম কখনও হয়নি। আমার এখন চাই আবার অবসর।
সন্তান এবং স্বামীর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাই আমি।

এক ওভারের আক্ষেপ

এক ওভারের আক্ষেপ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তার পরও সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১৯৮ রানের দুরূহ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত জমা হয়েছে ১৭৯ রান। ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আজ টি-টোয়েন্টিতে ১৮ রানের জয় নিয়ে বাংলাদেশ সফর শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬১ বলে ৮৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন তামিম ইকবাল। ৪৮ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত মাহমুদুল্লাহ।
ম্যাচ শেষে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শেষ ওভারটিই আসলে গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। ১৯তম ওভার পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১৬৮ রান। রুবেল হোসেনের শেষ ওভারে দানবীয় ব্যাটিং করে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস ও লেন্ডি সিমন্স। সেই ওভারেই বাংলাদেশের লক্ষ্যটা দুরূহ বানিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান। তামিম-মাহমুদুল্লাহ চমত্কার ব্যাটিং করলেও তাই শেষপর্যায়ে মনে হয়েছিল যেন অসম্ভবের পেছনে ছুটছেন তাঁরা। কিন্তু তার পরও শেষ বলটি পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান যে রকম লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতে নিশ্চয়ই মুগ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সমর্থকেরা।
১৯৮ রানের দুরূহ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৪ ওভারে ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক। পঞ্চম ওভারে কেমার রোচের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন এনামুল। ১২ বলে ২২ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পঞ্চম ওভারে এনামুল সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা কমে যায় রান সংগ্রহের গতি। দ্বিতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়ে প্রাণপণ লড়ে যান তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ।

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

 

 অনেক আশা জাগিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ। এ হার সাধারণ হার নয়। একেবারে রেকর্ডগড়া হার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনই কোন দল পরে ব্যাট করে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারেনি। সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তারা ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭৯ রান। হার মানে ১৮ রানে। মনে হলো আগের দিন ওয়ানডে সিরিজ জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন ক্যারিবীয়দের শেষ ম্যাচে একটি জয় উপহার দিলো। আশ্চর্যজনকভাবে তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উইকেট আগলে রেখে খেলতে 
গিয়ে রানের গতি একেবারে টেস্ট পর্যায়ে নিয়ে আসেন। ফলে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারের লজ্জায় ডুবতে হলো বাংলাদেশকে। রান তাড়া করতে গিয়ে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করে কোন দল হারেনি। ওপেনার তামিম ইকবাল ৮৮ আর মাহমুদুল্লাহ ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে দু’জনেরই সর্বোচ্চ রানের স্কোর এটি। তামিমের তৃতীয় ফিফটি হলেও ২১ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর এটি প্রথম। ২৩ ম্যাচে ২ ফিফটি করা তামিমের আগের সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৬৯ রান। অনেকের মন্তব্য-বিপিএলে নিজেদের দাম বাড়ানোর জন্যই উইকেট হারাতে চাননি এ দু’জন। ১২ ওভারে ১০০ করলেও পরের ৬ ওভারে ওঠে ৪৯ রান।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষেই। জোহানেসবার্গে ১৬৫ রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৭ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে পাকিস্তান ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২০৩ রান করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ১৯৮ রানের টার্গেট তাড়া করে জয় পাওয়া ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মতো।  কিন্তু ব্যাট করতে  নেমে প্রথম ওভারে ১ ছয় ও ২ চারে ১৭ রান করে বাংলাদেশ তা সহজই মনে করিয়ে দেয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও এনামুল হক ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো জুটি গড়লে আশান্বিত হন সবাই। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে কেমার রোচের বলে ড্যারেন স্যামির তালুবন্দি হন আনামুল। ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রান করেন তিনি। এর পর সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর আরেক দফা প্রমোশন। শেষ ওয়ানডেতে ৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন থেকে ৫ নম্বরে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। আর গতকাল নামেন ২ নম্বর পজিশনে।  ৪০ বলে ৭ চারে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি হাঁকান তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান ১৩২ রানের অপরাজিত দেশ-সেরা জুটি গড়েন। কিন্তু তাদের এই জুটি বাংলাদেকে জয় এনে দিতে পারেনি। মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৬৪ রানে। তামিম ২টি হলেও ৪টি ছক্কা হাঁকান মাহমুদ।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ৪ উইকেটে ১৯৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে শেষ ওভারেই তারা সংগ্রহ করে ২৯ রান। প্রথম দুই উইকেট পাওয়া সফল বোলার রুবেল হোসেন শেষ দুই ওভারে দেন ৪৬ রান। তার  শেষ ওভারে পরপর তিনটিসহ ৪টি ছক্কা হাঁকান, চারও মারেন একটি। ১৯ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের সেরা  খেলোয়াড় স্যামুয়েলস ৪৩ বলে ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান লেন্ডন সিমন্স করেন ১২ বলে ১৮। পুরো ইনিংসে ১৪টি ছক্কার মধ্যে ৯টিই আসে স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে। প্রথম ২ ওভারে ১৭ রান দেয়া রুবেল শেষ ২ ওভারে দেন ৪৪ রান। ব্রাভো ৪১ ও পোলার্ড ১৫ রানে আউট হন সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানের বলে।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ও.ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ
শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস:    রান    বল    ৪    ৬
স্মিথ ব রুবেল    ২৪    ২১    ৩    ১
গেইল ব রুবেল    ৬    ৭    ১    ০
স্যামুয়েলস অপরাজিত    ৮৫    ৪৩    ৩    ৯  
ব্রাভো ক মুশফিক ব সোহাগ    ৪১    ২৮    ৫    ২
পোলার্ড ব জিয়াউর    ১৫    ৯    ০    ২
সিমন্স অপরাজিত    ১৮    ১২    ২    ০
অতিরিক্ত: (লেব ১, ও ৭)    ৮
মোট: (৪ উইকেট; ২০ওভার) ১৯৭
উইকেট পতন: ১-২৫(গেইল, ২.৬ ওভার), ২-৩০(স্মিথ, ৪.৫ ওভার), ৩-৯৬(ব্রাভো, ১১.৫ ওভার), ৪-১২১(পোলার্ড, ১৪.৪ ওভার)।
বোলিং: সোহাগ ৪-০-৪৪-১, শফিউল ৪-০-২৬-০, রুবেল ৪-০-৬৩-২, রাজ্জাক ৩-০-৩২-০, মাহমুদুল্লাহ ১-০-১৫-০, জিয়া ৪-০-১৬-১।
বাংলাদেশ ইনিংস: (টার্গেট ১৯৮, ২০ ওভার)
তামিম অপরাজিত    ৮৮    ৬১    ১০    ২
এনামুল ক স্যামি ব রোচ    ২২    ১২    ৩    ১
মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত    ৬৪    ৪৮    ৩    ৪
অতিরিক্ত: (ব ১, লে ব ২, ও ১, ন ব ১)    ৫
মোট: (১ উইকেট; ২০ ওভার)    ১৭৯
উইকেট পতন: ১-৪৭(এনামুল, ৪.২ ওভার)। বোলিং: স্যামি ২-০-৩০-০, রোচ ৪-০-৩৬-১, রাসেল ১-০-১৭-০, স্যামুয়েলস ৪-০-৩২-০, নারাইন ৩-০-২৭-০, গেইল ৪-০-১৮-০, স্মিথ ২-০-১৬-০।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ রানে জয়ী।
টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ব্যাটিং)
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: স্যামুয়েলস

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে


আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন প্রকল্প নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শুরু হবে। ঢাকা শহরের মাতুয়াইল ও আমিনবাজারে দুটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা প্রয়োজন হবে। বিদ্যুতের পাশাপাশি আবর্জনা থেকে জৈব সারও উৎপাদিত হবে। জৈব সার হবে বছরে ৯ লাখ টন। শাক-সবজি, ধানসহ কৃষি উৎপাদনে এই জৈব সার ব্যবহৃত হবে। ইতালির একটি কোম্পানির সঙ্গে ডিসেম্বরেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। পৃথক চুক্তি হবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং ডিপিডিসি, ডেসকো’র সঙ্গে। এই সংস্থা দুটো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইতালির কোম্পানির কাছ থেকে ইউনিট প্রতি ৮ টাকা করে বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এই বিদ্যুৎ তারা সিটি করপোরেশনের কাছে বিক্রি করবে। সিটি করপোরেশন এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে রাজধানীর সড়কগুলোতে আলোকবাতি জ্বালাতে। দু’টি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চারশ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে আবর্জনা ফেলার স্থান প্ল্যান্ট স্থাপন উপযোগী করতে। মাটির নিচে একশ’ ফুট গভীর থেকে প্ল্যান্টের গাঁথুনি দেয়া হবে। নির্মাণ ব্যয়ের পুরোটাই তারা ব্যবহার করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করে তারা বিশ বছরে মুনাফাসহ বিনিয়োজিত অর্থ তুলে নেবে। বিশ বছর পর্যন্ত উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে তারাই থাকবে। বিশ বছর পর প্ল্যান্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। ঢাকা শহরে দৈনিক সাত হাজার টন ময়লা আবর্জনা জমে। জাইকা ডিসিসিকে একশ’টি ট্রাক দিয়েছে। এগুলো দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দৈনিক চার হাজার টন আবর্জনা অপসারণ করা হয়। বাকি তিন হাজার টন থেকে যায়। দুটি প্ল্যান্টের প্রতিটির দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে প্রতিটি প্ল্যান্ট থেকে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সরকার প্রথম পর্যায়ে মাতুয়াইলে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে সময় লাগবে আঠার মাস। সরকার চেয়েছিল তার মেয়াদকালেই অন্তত বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। প্ল্যান্ট দুটো পুরো ক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে দৈনিক সাত হাজার টন আবর্জনা লাগবে। এতে বছরে উৎপাদিত নয় লাখ টন জৈব সার ডিসিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিক্রি করবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। রাজধানীর পথশিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে মাসিক মজুরির ভিত্তিতে।

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক। কি অভিযোগে তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ও জানতে চেয়েছেন তিনি। গত রাতে বিরোধী দলের নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্লেকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। রবার্ট ব্লেক আগামীতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার তাগিদ দেন। খালেদা জিয়া মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। বৈঠকে রবার্ট ব্লেক ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে খালেদা জিয়া ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপরসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও রিয়াজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ক্ষুদ্রক্ষণের অবদান যুগান্তকারী- ও’ব্লেক: আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, দেশের ৮৩ লাখ অতিদরিদ্র নারীর জীবনে গ্রামীণ ব্যাংক আশা জাগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ দেশের নারীদের জীবন-মান উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। হোটেল রূপসী বাংলায় গতকাল সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়ান উইমেন এন্টারপ্রিনারশিপ সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের সিম্পোজিয়ামে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক রবার্ট ও’ব্লেক বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এখানকার নারীরা তাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অংশ নেয়া নারী উদ্যোক্তাদের ‘সফল’ আখ্যা দিয়ে ব্লেক বলেন, এখানে সমবেত নারীরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছেন। এ জীবনে আপনারা যা অর্জন করেছেন তার সুফল আপনাদের অব্যবহিত পরের নারীরা তো পাবেই, আমার বিশ্বাস অনাগত নারী শিশুরাও এর সুফল পাবে।
শাবিতে উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে এগিয়ে আসার আহ্বান: এদিকে আমাদের শাবি প্রতিনিধি জাবেদ ইকবাল জানান, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে বন্ধু ও সহপাঠীদের এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও দরিদ্রতা দূর করতে হবে। এসব সামাজিক অসঙ্গতি সহিংতা ও উগ্র মনোভাবের দিকে চালিত করে। গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের মধ্যে হিংসাত্মক চরমপন্থা প্রতিহত বিষয়ক সংলাপ’ শীর্ষক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়োজন। বেলা তিনটায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপে প্রশ্নোত্তর পর্বে মডারেটর ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জায়েদা শারমিন সাথী।
ওদিকে গোলাপগঞ্জ থেকে চেরাগ আলী জানান, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী আজিরিয়া সিনিয়র আলীয়া মাদরাসা পরিদর্শনকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষা লাভে আগ্রহী হওয়ায় নিজেরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব সময় সহযোগিতা করতে চায়। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সকাল ১১টায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান রবার্ট ও’ব্লেক। তার সফরসঙ্গী ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। মাদরাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সাহাব উদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার গোপাল চক্রবর্তী, ফুলবাড়ি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আতিকুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সদস্য এনাম আহমদ চৌধুরী, মাদরাসা শিক্ষক ফজর আলী, মাওলানা জিয়াউর রহমান, ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শাহান, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল আহাদ, সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, ইংরেজি প্রশিক্ষক বদরুন নেছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

এ দৃশ্য বড় নির্মম। একই সঙ্গে অভিনবও। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর লাশের ওপর উল্লাসনৃত্য বাংলাদেশে নতুন কিছু নয় । কিন্তু রোববার পুরান ঢাকায় যা ঘটে গেল তা একেবারেই অভিনব। রাজনীতির সঙ্গে কোন যোগ ছিল না বিশ্বজিৎ দাসের। তিনি ছাত্রশিবির করতেন না, ছাত্রদলও করতেন না। ছিলেন নিরীহ এক দর্জি দোকানি। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোন শত্রুতা ছিল না। কিন্তু তারপরও ছাত্রলীগের উন্মত্ত আক্রমণের শিকার হলেন তিনি। কোন আক্রোশ না থাকলেও তার ওপর আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। চাপাতি দিয়ে কোপানো হলো তাকে। যাদের হাতে চাপাতি ছিল না তারা এগিয়ে এলো লাঠি হাতে। পিটিয়ে হত্যা করা হলো নিরপরাধ এক যুবককে। খুনিদের হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বজিতের আকুতি হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে সবার। নিজের ধর্ম পরিচয় দিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। কারা সেই ঘাতক পত্রিকায় পরিচয়সহ তাদের ছবি ছাপা হয়েছে। টিভি পর্দায়ও দিনভর দেখা গেছে তাদের। কিন্তু মামলা দায়েরের সময় পুলিশ কোন আসামির নাম খুঁজে পায়নি। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের। এ রিপোর্ট যখন লেখা হচ্ছে তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি কাউকে। বিশ্বজিৎ দাসের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। শিবির দমনে কঠোর তিনি। পুলিশের ওপর নির্ভর না করে যুবলীগ, ছাত্রলীগকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন শিবির দমনের। কার নির্দেশে বেপরোয়া ছাত্রলীগ সে প্রশ্নও আবার উঠেছে। আইন ও বিচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ প্রায়ই কিছু কমন কথা বলেন। ক্ষমার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দেন তিনি। অথচ ক্ষমার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময় ইতিহাসে সবচেয়ে বিরল। ৪০ বছরে সর্বমোট ২৫ ফাঁসির আসামি ক্ষমা পেয়েছেন। এর ২১ জনই ক্ষমা পেয়েছেন বর্তমান সরকারের আমলে। সংবিধান প্রেসিডেন্টকে এ ক্ষমার অধিকার দিয়েছে। তবে এ ক্ষমার পেছনে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তাতে সন্দেহ সামান্যই। বিশ্বজিতের খুনিরাও কি তবে ক্ষমা পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশে দলভিত্তিক ক্যাডারদের নির্মমতার বিচারের নজির খুবই কম। লাশের ওপর উল্লাসনৃত্যের দৃশ্য সম্ভবত সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মী। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাসনৃত্য করেছিল হত্যাকারীরা। সে ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অক্টোবরের খুনিদের বিচার তো দূরের কথা, সে ঘটনায় দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বর্তমান সরকার। বর্তমান মহাজোট জমানাতেই নাটোর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করেও উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিনাশী এ উল্লাসনৃত্য চলছেই। রাজনৈতিক শিকার ছেড়ে এখন অরাজনৈতিক শিকারে মন দিয়েছে খুনিরা। সব ধরনের যুক্তি ত্যাগ করেছে তারা। ক্ষোভ নয়, প্রতিশোধ নয়, শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই মানুষ হত্যা করছে তারা। তবে বিশ্বজিৎ দাসের হত্যা একটি পুরনো প্রশ্ন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

Friday, December 7, 2012

ইমন ওর শাস্তি পেয়ে গেছে

ইমন ওর শাস্তি পেয়ে গেছে

মাত্র কয়েকদিন আগেই অভিযোগের চূড়ান্ত ছিল শওকত আলী ইমন-এর বিরুদ্ধে। এরপর সেই মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার কারণে ইমন গ্রেফতার হলো। ধর্ষণ মামলায় এই গ্রেফতারের বিষয়টিই ছিল গত দুইদিনের শোবিজ জগতের টক অব দ্য টাউন। আর গতকাল এর জের ধরে সেই মেয়ে জিনাত কবীর-এর সাথে বিয়ে হলো সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের। এই সব নানান জটিলতা বা সম্পর্কের এই বিষয়গুলোকেই পাঠকের কাছে স্পষ্ট করতে বিনোদন প্রতিদিন-এর মুখোমুখি হয়েছেন শওকত আলী ইমনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী নৃত্যশিল্পী জিনাত কবীর।


কেমন আছেন?

এখন খুব ভালো আছি। এই মাত্র কোর্ট থেকে এলাম। আশা করছি ওর জামিন হয়ে যাবে খুব শিগগিরই।

আপনাদের প্রেমের শুরুটা একটু বলবেন।

এটা তো সবাই এখন জানে। আপনারা তো সবই প্রকাশ করেছে। তবু বলি। ফেসবুকেই ওর সাথে আমার পরিচয়। আমি তখন কলকাতা একটি কলেজে জার্নালিজমে পড়াশোনা করতাম। ইমন তখন নিজের একাকিত্বের কথা বলত। তার আগের স্ত্রী সম্পর্কে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করে বলত, সেই স্ত্রী তার জীবনে কতটা কষ্ট দিয়েছে। সেই কথা শুনেই আমি আসলে ইমনের মায়ায় পড়ে যাই। এরপর সে-ই আমাকে বলে, কলকাতা একা থেকে কী করবে, ঢাকায় চলে এস। আমি ঢাকায় বাবা-মাকে না বলেই ওর সাথে দেখা করি। এরপর স্টুডিওতে দেখা, পরে ওর বাসায়। এইতো। এরপর থেকেই নিজেদের সংসার বা বিয়ের জন্য বারবার বলতে শুরু করি। কিন্তু শোনেনি। এর পরের ঘটনা তো জানেনই। ওর বিরুদ্ধে এখন বাকি অভিযোগগুলো আর বলতে চাই না। আর আমার আর ইমনের সম্পর্কের কারণে বাবা-মাও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তাহলে ক'দিন আগেই যার বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগের অন্ত ছিল না। তাকেই এখন নিজের করা মামলা থেকে রেহায় দেওয়ার জন্য বিয়ে করলেন?

তো আর কী করব বলুন? মানুষ তো আর বারবার বিয়ে করে না। আর ইমন যেহেতু এখন অনুতপ্ত। তাই ওকে মাফ করাই যায়। আর ওর পাপ অনুযায়ী বরং বেশিই শাস্তি পেয়ে গেছে। ওর মানসম্মান তো গেছেই। ক্যারিয়ারও প্রায় শেষ। তাই মাফ করে দিয়েছি।

তাহলে এখন আপনি ইমনকে শতভাগ বিশ্বাস করেন?

এটা বলা যাচ্ছে না। দেখা যাক কী হয়?

কিন্তু এই 'দেখা যাক কী হয়'-এর ভেতরেই বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন? কোনো দ্বিধা কাজ করল না? এই বিয়ের প্রস্তাব কে আগে দিয়েছিল? সিদ্ধান্তটা কীভাবে এল?

ইমনের পরিবার থেকেই বলা হচ্ছিল। এ ছাড়া তো ওর জামিনের কোনো উপায় নেই। ও আমার মানসম্মান খুইয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তো সে নিজেই মানসম্মান ধুলোয় লুটিয়েছে।

থানায় দেখা হলে কী কথা বললেন?

প্রথমে অনেকক্ষণ গালাগালি করলাম। চিত্কার করলাম। কী বলেছি, অত মনে নেই।

আর আপনার বাবা-মা পরিবারের অবস্থা?

আমার বাবা তো দেশের বাইরে থাকেন। ইমনের সাথে এই সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে বাবা-মা কেউই আমার সাথে কথা বলে না। বাবা মাসের খরচটা পাঠায় আমার ক্রেডিট কার্ডে। তাই তাকে জানানো হয়নি। ভয় পাচ্ছি। আর আমার বোন এই সময় প্রেগনেন্ট। ওকে জানিয়েছি, সেও খুব টেনশন করছে। মা দেশের বাইরে গেছে। মনে হয় আমার বোন মারফত খবরটা পেয়ে গেছে। মাও আমার সাথে অনেকদিন কথা বলে না।

তাহলে আপনি এখনও পরিবারের বিরুদ্ধে থেকেও ইমনকে ভালোবাসেন?

ভালোবাসি, তবে এখন আর আগের মতো ভালোবাসি না। আসলে নিয়তি আমার সাথে অনেক খেলা করেছে। তাই দেখতে চাই, এর শেষ কোথায়?

বিয়ের ব্যাপারে আপনাকে কে বুঝিয়েছে?

আমি নিজের সম্মতিতেই বিয়ে করেছি। ওকে অনুতপ্ত দেখে খারাপ লেগেছে।

বিয়ের সময় কে কে ছিল?

কবির বকুল ভাই, ইমনের বড় বোনসহ আরও আত্মীয়-স্বজন ছিল। এ ছাড়া আমার আঙ্কেল-আন্টি ছিল।

এখন আপনার আগামী দিনগুলোর পরিকল্পনা কী?

পরিকল্পনা আপাতত কিছু নেই। দেখি ও আগে বের হয়ে আসুক। এরপর নতুনভাবে সংসারের প্রস্তুতি নেব। মানুষ ভুল করলে, সুযোগ দেওয়া উচিত, তাই দিলাম।

১০ লাখ পরিবারে পৌঁছলো গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ

১০ লাখ পরিবারে পৌঁছলো গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ


দেশের ১০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ। পরিবার পর্যায়ে এটা এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কর্মসূচি। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর উদ্যোগে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ মানুষের কাছেও যে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব, তা গ্রামীণ শক্তি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রমাণ করলো। বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতাদের সহায়তায় পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিওএল-এর অর্থায়নে গ্রামীণ শক্তি সফলভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০০-এরও অধিক সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম আলোকিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে ৮০ লাখ মানুষ সুফল ভোগ করছে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মেষ ঘটেছে। মসজিদ, গ্রামীণ হাসপাতাল আলোকিত হয়েছে। কাজের সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানপাট, মুদি দোকান, ফার্মেসি, দর্জির দোকান, সেলুন অধিক রাত পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। গ্রামীণ শক্তির ব্যাপক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে গ্রামীণ শক্তি আরও ১০ লাখ সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

Wednesday, December 5, 2012

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন


যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ক্যারোল বর্তমানে প্রচলিত ইলেকট্রিক বাল্বের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির বাল্ব উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন। প্লাস্টিকের কয়েকটি লেয়ারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন বাল্বটি ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের চেয়ে দ্বিগুণ কার্যক্ষম বলে দাবি করেছেন উদ্ভাবকরা। খবর বিবিসির।

প্লাস্টিক বাল্বটির আবিষ্কারক ড. ক্যারোল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি বলেন, বাল্বটি যে কোনো আকারে বানানো সম্ভব এবং বর্তমানে জনপ্রিয় কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব (সিইউএফএ)-এর তুলনায় এটি বেশি উজ্জ্বল ও কম্পন বিহীন। সিইউএফএল বাল্ব মানুষের চোখের উপযোগী নয়। এর কম্পনের কারণে অনেকে মাথাব্যথায় ভোগেন।

নতুন আবিষ্কৃত ফিল্ড-ইনডিউস্ড পলিমার ইলেক্ট্রোলিউমিনেসেন্ট (ফিপেল) টেকনোলজিতে তৈরি বাল্বটির হোয়াইট-এমিটিং পলিমারের তিনটি স্তরের ভেতরের ন্যানোম্যাটেরিয়াল দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো উৎপাদন করে।

বর্তমানে আলো উৎপাদনে ব্যবহৃত আরেকটি উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি) ও অর্গানিক এলইডি (ওএলইডি)। এ প্রযুক্তির বাল্বের আলো কম হয় এবং এগুলোর উজ্জ্বলতা বেশিদিন থাকে না। তবে নতুন উদ্ভাবিত ফিপেল বাল্ব এসব অসুবিধা দূর করবে, বলেন ড. ক্যারোল। এ প্রযুক্তির বাল্ব তাপ উৎপাদন না করেই আলো দেবে এবং এগুলো আগের বাল্বের তুলনায় সস্তা ও প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হবে বলে দাবি করেন আবিষ্কারক। ২০১৩ সালেই এ প্রযুক্তির বাল্ব উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. ক্যারোল।

পৃথিবীর বিদ্যুৎ শক্তির প্রায় ১৯ ভাগ আলো জ্বালাতে ব্যবহার হয়। অল্প শক্তিসম্পন্ন বাল্ব ব্যবহার করলে পৃথিবীর প্রায় ৬শ’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।