Pages

Thursday, November 15, 2012

বিনিয়োগ নেই, তাই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বিনিয়োগ নেই, তাই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ 

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নিয়ে বেশ উচ্চবাচ্য হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগ মন্দাসহ বেশকিছু কারণ রয়েছে এই রিজার্ভ বৃদ্ধির নেপথ্যে। গ্যাস-বিদ্যুত্ সমস্যা, ব্যাংক ঋণে সুদের হার চড়া হওয়ায় বিনিয়োগ ক্রমাগত কমছে। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমে যাচ্ছে। এতে আমদানি খরচ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও তা দেশের জন্য তেমন উপকারে আসছে না। বৈদেশিক মুদ্রা উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহার না হওয়ায় তা মূল্যস্ফীতিকেও অনেকাংশে উস্কে দিচ্ছে বলে তাদের অভিমত। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার একটা বড় অংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ আকারে বাজারে ছাড়া হয়। যা উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহূত হয়। কিন্তু দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে তা কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। আর অলসভাবে এই টাকা পড়ে থাকায় ‘টাইম ভেলু অব মানি’র কারণে এক সময় এ অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন এজন্য এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ রিজার্ভকে কিভাবে উত্পাদনশীল খাতে কাজে লাগানো যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেশি থাকা অবশ্যই ভাল। তবে রিজার্ভ উত্পাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে না পারলে তা তেমন লাভ পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় উত্স হচ্ছে রেমিট্যান্স। কিন্তু রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছে তারা সেটাকে উত্পাদনমুখি কাজে না লাগিয়ে বাড়ি-ঘর তৈরি বা জমি কেনার কাজে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা উত্পাদনমুখি কাজে না লাগিয়ে ভোগ্যপণ্যে ব্যবহার করায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি এসবের তীব্র সঙ্কটে শিল্প-কারখানার উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় শিল্পের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শিল্প উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, একদিকে অবকাঠামোগত ত্রুটি অপরদিকে ব্যাংকের উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হচ্ছে। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমছে এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১২ বিলিয়ন (এক হাজার ২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি ব্যয় পরিশোধ বাবদ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিটে (আকু) ৬৮ কোটি ডলার পরিশোধ করায় রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে রিভার্ভের পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩২ মিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূচকের সর্বশেষ ধারা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স ছাড়া বেশিরভাগ সূচকের প্রবৃদ্ধিই কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে। তবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কম হওয়াতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারকে প্রচুর পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে। যার বেশিরভাগই বিদ্যুত্-জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হিসাবে গেছে। সরকারের বেশি ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের গতি কমেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় দ্বিতীয় মাসে (আগস্ট) ঋণ প্রবাহ ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই মাসে ছয় হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও আগস্ট মাসে ছয় হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগই মূল বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। আর পঞ্চবার্ষিকী (২০১১-১৪) পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা থেকেও বিনিয়োগ অনেকখানি পিছনে রয়েছে। এরমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগও আশানুরূপ হয়নি। এজন্য স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বলেছেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে না পারা আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বিগত এক যুগে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো ছিল। গত বছরে এক দশমিক এক বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি আশানুরূপ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে বিনিয়োগকারী অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটছেন। তারা বলছেন, শেয়ারবাজার কারসাজি, হলমার্ক কেলেংকারি, সরকারি কাজে ব্যাংক ঋণের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অনেক বিনিয়োগ উপযোগী মূলধন বিনিয়োগের বাইরে থেকে গেছে।
বিনিয়োগের অন্যতম নিদর্শন মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার ক্রমেই কমছে। একইসঙ্গে যে পরিমাণ এলসি খোলা হচ্ছে তার সবগুলো নিষ্পত্তিও হচ্ছে না। এতে দেশে নিত্যপণ্যসহ মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও কমে যাচ্ছে। এলসি খুলতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ প্রকাশ, কিছু ক্ষেত্রে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কম থাকা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে পরিস্থিতি এমন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৭৪ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৮১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে আগের একই সময়ের তুলনায় এলসির মূল্য কমেছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে এলসি নিষ্পত্তির মূল্যও একই সময়ে কমেছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। সাধারণত এলসি নিষ্পত্তি ও প্রকৃত আমদানি মোটামুটি কাছাকাছি হলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও উচ্চমূল্যস্ফীতির পরও ব্যবসায়ীরা কোনমতে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের উচ্চসুদহারের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্বিকভাবে এসব কারণে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা উত্সাহিত হচ্ছেন না। চলতি বছরের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের ব্যাংকঋণে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) প্রত্যাহার করে নেয়। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে পরে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতে সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) নিম্নতর এক অংক তথা ৫ শতাংশীয় পয়েন্টে সীমিত রাখতে বলা হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সে নির্দেশনা না মেনে নানা অযুহাতে শিল্পাদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায় করছে।

 

অপহরণকারীদের দেড় মাস আগে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়


‘৫০ লাখ টাকার’ মুক্তিপণে আপস

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে নাজিম, আমির আর নিরঞ্জন নামে তিন সন্ত্রাসীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনেন কেরানীগঞ্জের যুবলীগের এক নেতা। এদের ছাড়িয়ে আনতে ওই নেতার ৪ লাখ টাকা খরচও হয়েছে। উদ্দেশ্য— বড় কোন অপারেশনে তাদের ব্যবহার করা। হয়েছেও তাই। এদের দিয়েই পাওয়া গেছে ‘৫০ লাখ টাকা’। আর এই টাকাটা দিয়েছেন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার বিমল মণ্ডল। কারণ—তার একমাত্র ছেলে পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করেছিল এই গ্রুপটি। এই অপহরণের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সরকারের শীর্ষ মহল পর্যন্ত নড়েচরে বসে। শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক ফিরে পাওয়া গেছে জীবিত পরাগকে। যদিও টাকা দেয়া, না দেয়া চলছে এক রহস্যময় লুকোচুরি। র্যাব বলছে, ৫০ লাখ টাকা দিয়েই মুক্ত করা হয়েছে পরাগকে। তাদের কাছে পরাগের বাবার কথপোকথনের রেকর্ডও আছে। আর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, টাকা দিয়ে নয়, এমনিতেই উদ্ধার হয়েছে পরাগ। এমন পরিস্থিতিতে ‘চুপ’ হয়ে গেছেন বিমল।

এদিকে পরাগ অপহরণের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মামুনকে ডিবি আটক করেছে। তার মাধ্যমে পরাগ অপহরণের বিস্তারিত জানতে পারে পুলিশ। সে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে ছিল। তাকে পরাগ উদ্ধারের পর ঐ রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। গত রাতে মামুনকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় পুলিশ পরাগ অপহরণের মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অপহরণকারী সাতজনকে শনাক্ত করেছে। এদেও মধ্যে ছয়জন ডেমরা এলাকা একটি কলেজের ছাত্র।

জমি নিয়ে যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিরোধ

পরাগ অপহরণের ঘটনায় তার বাবা বিমল মণ্ডলের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার জমি নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ জায়গা ৩০ বছর আগে কেনেন বিমল মণ্ডলের বাবা মৃত জীবন মণ্ডল। এই বাড়িতেই বাসবাস করেন বিমল। এ বছরই প্রতিবেশী নিতাই চন্দ্র মন্ডল এবং তার ভাতিজা গণেষ মন্ডল এই সম্পত্তির ১৪ শতাংশের ওয়ারিশ বলে দাবি করেন। এই জায়গা দখলে নেয়ার জন্য তারা আইনগত অধিকার (পাওয়ার অব এটর্নি) দেন শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জুয়েল মোল্লাকে। জুয়েল মোল্লা জমি ছেড়ে দিতে বিমলকে বেশ কয়েকবার হুমকিও দেন। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে একটা আপসরফা হয়। যাতে বলা হয়, জমি বিমলেরই থাকবে, তার নামে জমির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) হবে। বিনিময়ে যুবলীগ নেতাকে দিতে হবে ১৭ লাখ টাকা। গত রবিবার বিমলকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে টাকা নেয়ার কথা ছিল যুবলীগ নেতার।

‘৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত’

সূত্র জানায়, জমি নিবন্ধন করে দেয়ার বিষয়টি ছিল নিছক সাজানো নাটক। কারণ বিমল টাকা সংগ্রহ করলে আসল মিশন শুরু করা হবে বলে নীলনকশা করে দুর্বৃত্তরা। সেভাবেই ওইদিন সকালে বিমলের স্ত্রী, মেয়ে ও গাড়ি চালককে গুলি করে ছেলেকে অপহরণ করে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। পুরো দুইদিন কোন যোগাযোগ না করে মঙ্গলবার সকালে প্রথম বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা। দাবি করে ২ কোটি টাকা। দিনব্যাপী চলে দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত রফা হয় ‘৫০ লাখ টাকায়’। আর জমি নিয়ে যে ঝামেলা তা কিন্তু থেকেই গেছে। এর জন্য ঠিক করা টাকা কিন্তু বিমলকে দিতেই হবে। অপহরণকারীদের কথামতো মঙ্গলবার রাতেই ৫০ লাখ টাকা নিয়ে শিশুটির বাবা প্রথমে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাঁকে মুগলা বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইল ফোন সেটের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দু’জন সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। তখন রাত ১১টা ৪০ মিনিট। এর ২০ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটি নয়াবাজারে যেতে বলে অপহরণকারীরা। আরো ২০ মিনিট পর সেখানেই রাত ১২টা ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল পরাগ মণ্ডলকে।

পরিবারে খুশির বন্যা

এদিকে পরাগকে ফিরে পেয়ে তাদের বাড়িতে চলছে খুশির বন্যা। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া কালীবাড়ি এলাকায় পরাগদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিমল মণ্ডল বলেন, ‘যেভাবে হোক, আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ এ জন্য তিনি পুলিশ, র্যাবসহ সব প্রশাসন ও মিডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরাগের ঠাকুর মা (দাদী) সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, ‘টাকা গেছে যাক, এতে কোন দুঃখ নেই, বড় কথা হলো, নাতি ফিরে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার নাতিকে টাকার জন্য অপহরণ করেছিল। অপহরণ না করে আমাদের কাছে টাকা চাইত, আমরা লুকিয়ে দিয়ে আসতাম।’

মা-ছেলে স্কয়ার হাসপাতালে

মঙ্গলবার রাতে পরাগকে উদ্ধারের পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিত্সা চলছে। গতকাল সন্ধ্যায় পরাগের মা লিপি মণ্ডলকে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মায়ের কাছে তুলে দেয়া হয় তার আদরের নিধিকে।

পরাগের তত্ত্বাবধানকারী শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, পরাগকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়া হয়েছিল। গতকাল সে স্বাভাবিক আচারণ করতে শুরু করেছে। যদিও না খেয়ে তিন দিনে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার হার্ট ও কিডনিতে নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আশঙ্কাজনক কিছু না। শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে সে।

নাজিম, আমিরকে ধরতে অভিযান, মামুনকে থানায় সোপর্দ

অপহরণ মিশনে নেতৃত্ব দেয়া নাজিম, আমির আর নিরঞ্জন নামে তিন সন্ত্রাসীকে ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের অভিযান চলছে। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধারের জন্য র্যাবের অভিযান চলছে। অন্যদিকে পুলিশের ঢাকা বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক নূরুজ্জামান বলেন, কোন টাকা দিয়ে নয়, অভিযানেই পরাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন অপরাধীদের গ্রেফতারই তাদের আসল কাজ। তিনি বলেন, ‘মুক্তিপণ দিয়ে অপহূতকে উদ্ধার করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবসা নয়। দেশে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এত সদস্য আছে কি করতে?’

এদিকে মামুন নামে এক সন্ত্রাসীকে ডিবি পুলিশ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে। মামুন পুলিশকে জানিয়েছে, এই অপহরণের সঙ্গে ৭ জন সরাসরি সম্পৃক্ত। এদের একজন ছাত্র ও ৬ জন পেশাদার সন্ত্রাসী। এদের বাড়ি পুরনো ঢাকা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি ও ধলপুরে। সন্ত্রাসীদের তিনজনকে দেড় মাস আগে সরকার দলীয় এক নেতা চার লাখ টাকা খরচ করে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়িয়ে আনেন। এদের একজন আমির অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী।

মামুন স্বীকার করেছে, কালাচাঁন নামে ব্যক্তি বিমল মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সব তথ্য সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করেছে। ঘটনার পর থেকে কালাচাঁন ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জুয়েল মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তাদেরও খুঁজছে র্যাব ও পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকি মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে শুভাঢ্যা বাংলাবাজার হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগকে (৬) তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরাগের বোন পিনাকি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। গাড়িচালক নজরুল মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অপহরণ মামলায় প্রথম গ্রেফতার মামুন

পরাগ অপহরন মামলায় কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মোহাম্মদ মামুন মিয়াকে গতকাল রাতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পুর্ব পাড়ার মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া। দক্ষিন কেরানীগঞ্জের ডিউটি অফিসার এসআই আব্দুল হাকিম জানান, গতকাল বিকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ২০০১ সালে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। পরাগ অপহরণের ঘটনায় মামুনই প্রথম গ্রেফতারহলেন। আজ তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানায়, পরাগ অপহরনকারী যার নামের আধ্যক্ষর‘ এ’। ‘এ’ সুই মেশিন ব্যবসায়ি। তার ব্যবসায়ি পার্টনার মামুন। তিনি বলেন, মামুনকে ব্যবহার করেই উদ্ধার করা হয় পরাগকে।

সূত্র জানায়, ঘটনার পরের দিনই ঢাকা জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এ জন্য একটি সার্বক্ষনিক কনন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ মামুনকে আটক করে। পরে মামুনের দেওয়া তথ্য মতে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জুয়েলকে না পেয়ে তারা স্ত্রী সন্তান ও কয়েকজন আত্মীয়কে আটক করে । এরপর মামুনের মাধ্যমে অপরহরকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুলিশ। এ অবস্থায় মধ্যে অপরনকারীরা পরাগকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় হয়। পুলিশ জানায়, মামুনের কথা মতো অপহরনকারীরা মোবাইল ফোনে বুধবার সন্ধ্যায় পরাগের বাবা বিমাণ মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পুলিশ সুপার (ঢাকা) হাবিবুর রহমান বলেন, পরাগ উদ্ধারের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Wednesday, November 14, 2012

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধা দিয়ে লাভ নেই। সরকার এ বিচারের অঙ্গিকার করে ক্ষমতায় এসেছে। বিচার হবে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেই ক্ষমতায় এসেছি। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল ও ভবন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে দারিদ্র মুক্তির হাতিয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশী যোগ্য, কর্মঠ এবং মেধাবী। তাদের দরকার শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ। তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি কখনও উন্নত হতে পারে না। দেশের শিক্ষার হার শতভাগ করার লক্ষ্যে আমরা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ ফান্ড করেছি। দেশের স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতৃভাষা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার আন্দোলন সবই শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে এর সক্রিয় উপস্থিতি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশকে ডিজিটাল করব ঘোষণা দিয়েছিলাম। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেকাংশে সফল। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ । শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। যে প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। তিনি আরও বলেন, অধিক মুনাফা লাভের লক্ষ্যে অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। আমরা আইন করে এপথ বন্ধ করেছি। নাহিদ শিক্ষানীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে আমরাই প্রথম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করছি। এর আগে অনেক শিক্ষানীতি হাতে নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি এ সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের সমতা এসেছে। শিক্ষা উপযোগী প্রতিটি শিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করেছি।

বাংলাদেশ ৩৬৩ রানে পিছিয়ে

বাংলাদেশ ৩৬৩ রানে পিছিয়ে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৪। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশ এখনও ৩৬৩ রান পিছিয়ে আছে। এর আগে সফরকারী দল ৪ উইকেটে ৫২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের নাঈম ইসলাম ২৭ ও সাকিব আল হাসান ১৬ রানে অপরাজিত আছেন। তামিম ইকবাল ৭১ বলে ৭২ রান করে আউট হন। দু’টি ছক্কা ও ১০টি চার মারেন তিনি। অপর ওপেনার জুনাইদ সিদ্দিকী আউট হন ১৪ বলে ৭ রান করে। ওয়ান ডাউনে নামা শাহরিয়ার নাফিস ২৭ বলে ৩১ রান করেন ৭টি চারের সাহায্যে। ২৩ ওভারে ১১৯ রাান তুলে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর নাঈম ও সাকিব ধীরে খেলা শুরু করেন। পরের ১৩ ওভারে রান ওঠে ৪৫ রান। বাংলাদেশের দুটি উইকেট নেন রবি রামপল আর একটি নেন স্যামি। এর আগে গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ৩৬১ রান নিয়ে খেলতে নেমে আরও ১৪৬ রান তুললেও কোন উইকেট হারায় নি। চন্দরপল অপরাজিত থাকেন ২০৩ রানে আর দিনেশ রামদিন ১২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। চন্দরপলের ডাবল সেঞ্চুরি হওয়ার পর ইনিংস ঘোষণা করেন ড্যারেন স্যামি।

Tuesday, November 13, 2012

রাশিফল

রাশিফল

মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)

পরিশ্রম বৃদ্ধি পাবে। ক্লান্তি ও অবসাদে ভুগতে পারেন। কোনো বন্ধুর সহযোগিতা পাবেন। ভ্রমণ আনন্দদায়ক হতে পারে। নির্জনতা উপভোগ করার চেষ্টা করুন। রোমন্স ও বিনোদন শুভ।

 

হার্টের জন্য ওমেগা-৩ কার্যকর নয়

হার্টের জন্য ওমেগা-৩ কার্যকর নয় 

ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। এবার বিশেষজ্ঞগণ হার্ট সার্জারি হয়েছে এমন সব রোগীদের ওপর ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাদের এই সাপ্লিমেন্টটি সেবন করতে দেয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায় হার্টের কোন উপকারেই আসেনি এই ফ্যাটি এসিডটি। অথচ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় গত ২০১১ সালে বিশ্বে বিক্রয় হয়েছে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ওমেগা-৩ সহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।
তবে বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন মাছের তেল কৃত্রিম ফিস অয়েল বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অপেক্ষা হিতকর। বিশেষজ্ঞগণ হার্টের সার্জারি প্রয়োজন এমন সব রোগীদের সার্জারির পূর্বে ও পরে অতি উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে দেন। কিন্তু এতে দেখা যায় সার্জারির রোগীর হিলিং-এ এই সাপ্লিমেন্টটি কোন ভূমিকা রাখেনি। আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর বিশেষজ্ঞ ড: ডারিউশ মোজাফফারিয়ান রিপোর্টে উল্লেখ করেন গবেষণার ফলাফলে ওমেগা-৩ সেবনে হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে কোন ধরনের এন্টি অ্যারিথমিক কার্যকারিতা প্রতীয়মাণ হয়নি।
তবে মাছের তেল হার্টের জন্য হিতকর এমন তথ্য দিয়েছেন অটোয়ার হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ড: এন্ড্রিয়াস ওয়েলগজ। তিনি স্ট্রোক ও হার্ট ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন মাছের তেলের খনিজ উপাদান ও অন্যান্য উপাদান হার্টের জন্য ভালো। এই খ্যাতিমান হূদরোগ বিশেষজ্ঞের মতে প্রাকৃতিক উত্স থেকে প্রাপ্ত ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টের চেয়ে কার্যকর।
এছাড়া অতীতেও একাধিক গবেষণায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং কোন গবেষণায়ই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি।

 

কাটরিনা-আনুশকার লড়াই

কাটরিনা-আনুশকার লড়াই


আজ মুক্তি পেয়েছে সদ্য প্রয়াত স্বনামধন্য পরিচালক-প্রযোজক যশ চোপড়ার সর্বশেষ ছবি ‘জাব তাক হে জান’। দীর্ঘদিন পর যশ চোপড়া এই ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এটিই তার পরিচালিত শেষ ছবি বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ছবিতে অভিনয় করেছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান, কাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মা। তবে নতুন ও মজার খবর হচ্ছে মুক্তির অনেক আগে থেকেই বহুল আলোচিত এই ছবিটি নিয়ে কথার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে মুখোমুখি অবস্থান করছেন কাটরিনা ও আনুশকা। ছবিতে কার চরিত্রটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়েই মূলত তাদের মধ্যেকার এই লড়াই। সম্প্রতি আনুশকা তার টুইটার একাউন্টে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় তাদের মধ্যেকার এই লড়াই। আনুশকা টুইটারে লিখেন, ‘জাব তাক হে জান’ এর মাধ্যমে যশরাজ ফিল্মসের চার নম্বর ছবিতে আমি অভিনয় করছি। অল্প সময়ের মধ্যে এরকম একটি বড় ব্যানারের ছবিতে কাজ করে আমি সত্যিই অভিভূত। ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে আমার রসায়ন দর্শক খুব ভাল উপভোগ করবেন। ছবিতে কাটরিনা থেকে আমার চরিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটুও বেশি বেশি বলছি না আমি। ছবিটি দেখলেই সবাই তা বুঝবে। ব্যাস, আনুশকার এমন মন্তব্যে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন কাটরিনা। বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে কাটরিনা বলেন, আসলে ছবির মূল জুটি হলাম শাহরুখ ও আমি। এটা আপনারা ছবির প্রমো ও গান দেখে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন। তো কার চরিত্র ছবিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ছবিটি মুক্তি পেলেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে কারও কারও তর্ক করার ইচ্ছে থাকলেও আমার তা একদমই নেই। ‘জাব তাক হে জান’ ছবিটি নিয়ে আনুশকা ও কাটরিনার এমন কথার লড়াই বেশ ফলাও করে প্রচার করছে ভারতীয় মিডিয়াগুলো। ছবি মুক্তির কয়েকদিন আগে থেকে এ দুই অভিনেত্রীর এমন আচরণকে অনেকেই শিশুসুলভ আচরণ বলেই মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকেই এটাকে আনুশকা ও কাটরিনার মিলিত স্ট্যান্ডবাজি হিসেবেও দেখছেন। এখন আজ ছবিটি মুক্তির মধ্যে দিয়েই বোঝা যাবে যে কে কতটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন কিংবা আসলেই এগুলো স্ট্যান্ডবাজি ছিল কিনা।

ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার

ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার


বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভারতের উত্তর ২৪ পরগণার কাছে বশিরহাট স্বরূপনগর সীমান্তের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে, এর মধ্যে দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। শেষ রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপরাধীদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওই কিশোরী বশিরহাটের মাটিয়া এলাকায় তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। গত শনিবার রাতে সে তার বড় বোন ও আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে একটি গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলো। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে গাড়ি থামাতে বাধ্য হন তারা। হঠাৎ করেই চারপাশ থেকে ৫ যুবক গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর তারা টেনেহিঁচড়ে ওই কিশোরীকে গাড়ি থেকে বের করে। তার সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা চেষ্টা করেও দুর্বৃত্তদের থামাতে ব্যর্থ হয়। তারা জোর করে ওই কিশোরীকে নিজেদের গাড়িতে উঠিয়ে সেখান থেকে দ্রুত চলে যায়। তারা তাকে কাছেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর পালাক্রমে একে একে ৫ জনই তার ওপর ঘৃণ্য পাশবিক নির্যাতন চালায়। ধর্ষকরা সেখানেই মেয়েটিকে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে ও বশিরহাটের উপ-বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। স্বরূপনগর থানায় গণধর্ষণের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওদিকে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা গণতান্ত্রিক সমিতি পাশবিক এ ঘটনার প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইস্যু’র জন্য প্রস্তাবিত প্রয়োজনীয় জনবলের পেছনে এ ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজটিকে বাধা দিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক অবস্থান পত্রে তারা বলেছে, ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে অহেতুক। এছাড়া পত্রে জনবল নিয়োগে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাময়িক কাজের চাপ মোকাবিলার জন্য মিশনগুলোতে স্থায়ীভাবে ‘পাসপোর্ট ও ভিসা উইং’ খোলা হচ্ছে। এ উইংটি পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে। অবস্থান পত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব পদ সৃষ্টি করা হলে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, বৈদেশিক ভাতা, শিক্ষা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, বদলি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বাবদ নিয়মিতভাবে বছরে সরকারের ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয় হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত জনবলের কাজ শুরু করার জন্য এককালীন ও মূলধনী খরচ বাবদ অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এসব কিছু বিবেচনায় পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্যুসহ সব কনস্যুলার কাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবলের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের ব্যয়ভার বাড়তেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দূতাবাসগুলোর জন্য এদেশ থেকে পদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বদেশ ভিত্তিক জনবল পাঠানো হলে সরকারের ব্যয় অহেতুক বেড়ে যাবে। এজন্য সরকারের আর্থিক ব্যয় বাস্তব পর্যায়ে রাখতে এমআরপি ও এমআরভি কার্যক্রমের শুরু থেকে স্থানীয় ভিত্তিক কর্মচারী  নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য ৫৮টি পদের বিপরীতে স্থানীয় জনবলও তারা নিয়োগ দিয়েছে। দূতাবাসে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠানো হলে সরকারকে মাসে চার হাজার পাঁচ শ’ ডলার ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে তাকে বৈদেশিক ভাতা ৭০০ ডলার, চিকিৎসা ভাতা ৩০০ ডলার, শিক্ষা ভাতা ১৬০০ ডলার, বাসা ভাড়া ১৬০০ ডলার এবং পরিবারের সদস্যসহ ভ্রমণ ভাড়া ও ভাতা ৫০০ ডলার দিতে হবে। সব মিলিয়ে ৪৫০০ ডলার দিতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে তা ১২-১৫ গুণ বেশি। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের ভাষাজ্ঞান জানা একজন শিক্ষিত তরুণ বাংলাদেশীকে নিয়োগ করা হলে সরকারের ৭০০ ডলার ব্যয় হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ও ভিসা উইং স্থাপন এবং ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির বিষয়ে গত ৩০শে আগস্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের কার্য বিবরণী এখনও পাননি তারা। এজন্য গত ৮ই নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের পরিচালক (সংস্থাপন, নীতি ও সংগঠন)। ওই চিঠিতে ৩০শে আগস্ট আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর এমআরপি সংক্রান্ত কনস্যুলার কাজের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ওই সময় এসব পদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর বিপরীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি হিসাব দিয়ে বলেছে, বর্তমানে বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে রাষ্ট্রদূতসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা ১৬৬ এবং পুরো বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৩০। মিশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা ৩১৫ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত উইংয়ের জনবল এককভাবে সব মিশনের বর্তমান জনবলের সমান। তাই এটা নিতান্তই বাহুল্য। 

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

সাভার থেকে: হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে পিতার চল্লিশার খরচের জন্য জমানো ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দেয়। গত ৪ঠা নভেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার সলমাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী জিন্নাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাভার থানার এসআই এমদাদুল হক বাড়িতে হানা দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলে রিপন (২০)কে ঘুম থেকে উঠিয়ে ঘরে ফেনসিডিল রয়েছে বলে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাইরে রাখা ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পিতা-পুত্রকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়।
জিন্নাহ মিয়া আরও বলেন, পুলিশের মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে কিছু টাকা দিতে রাজি হলে আমাদের দুজনকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ৯ই নভেম্বর মরহুম পিতা কিতাব আলীর চল্লিশা। এলাকায় দাওয়াত দেয়াও শেষ হয়েছে। পিতার খরচের জন্য রাখা ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা এসআই এমদাদকে দিলে সে আমাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমার ছেলে রিপনকে আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে ওই ২০ হাজার টাকাও দিতে হয়েছে পুলিশকে। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় প্রকাশ পেলে তার স্বজনরা এসআই এমদাদসহ তার গাড়ি আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন তথ্যাদির কথা জানালে তিনি তা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে রিপোর্টটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এমদাদকে বলছি আপনার সঙ্গে দেখা করবে। তবে বাবার চল্লিশার টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাকেও সে কিছু টাকা দিয়েছে। তবে সে টাকা যে তার বাবার চল্লিশার জন্য রেখেছিল তা জানা ছিল না। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল


১৬ মিলিয়ন মানুষের শহর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি। জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মহানগরী। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরাঞ্চল এ দিল্লিতেই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম আবাসন কলোনি দ্বারকা উপনগর। আর ব্যস্ত নয়া দিল্লির প্রাণ দ্রুতগতির মেট্রো রেল। চারদিকে ছুটছে লাখ লাখ ব্যস্ত মানুষ। অল্প সময়ে কম খরচে পৌঁছে যাচ্ছে শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। চারদিকে গতি আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পরিবেশ। এক দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষ দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করায় দিল্লি পরিণত হয় বহুজাতিক মহানগরে। সে সঙ্গে ঘটেছে দ্রুত উন্নয়ন ও নগরায়ণ। নব্বইয়ের দশকে জনসংখ্যা ও যান আধিক্যে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল দিল্লি শহর। প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল নগরবাসীর জীবনযাত্রা। বেড়ে গিয়েছিল শব্দ ও বায়ু দূষণ। যানজটে নষ্ট হচ্ছিল মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কিন্তু মাত্র একদশকের মধ্যেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভারত সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দিল্লি ফিরে পায় গতি। মেট্রো রেল ফিরিয়ে দিয়েছে নগরবাসীর প্রাণচাঞ্চল্য। যেটুকু পথ ট্যাক্সিতে পাড়ি দিতে খরচ পড়ে ১০০ রুপি সেটা মেট্রো নামিয়ে এনেছে ১০ রুপিতে। যেখানে দিল্লির অটো ও ট্যাক্সিওয়ালারা মিটারে যেতে অনাগ্রহী সেখানে মেট্রোই হয়ে উঠেছে নগরবাসীর প্রধান উপায়। আর পুরো নয়া দিল্লি শহরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে এ মেট্রো লাইন। দিল্লিতে বেশিরভাগ লোকই আপনাকে স্বাগত জানাবে মেট্রো রেলে। আপনার জিজ্ঞাসার জবাবে পরামর্শও দেবে মেট্রো জার্নির। রসিকজন মাত্রই বলবেন, যে দিল্লির মেট্রোতে চড়েনি সে তো ‘জরুর পস্তায়ে’।
মেট্রো রেলের মাধ্যমে দিল্লি কেবল যানজটই দূর করেনি, উল্টো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। শহর পেরিয়ে যার দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করেছে পার্শ্ববর্তী গুরগাঁও ও নয়দা অঞ্চলকে। বর্তমানে ৬টি মেট্রো লাইন দিল্লি শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে করেছে সহজ ও সুলভ। বর্তমানে উড়াল, ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ মিলিয়ে ১৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল লাইনের ১৪২টি স্টেশনে বিস্তৃত এ নেটওয়ার্ক। দিল্লি মেট্রোতে ভ্রমণ যেমন সাশ্রয়ী তেমনি নিরাপদও। দ্রুত গতির এ পরিবহনে চলছে ৫-৭টি কোচের সমন্বয়ে ২১০টি ট্রেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনবরত ৩ থেকে ৫ মিনিটের ব্যবধানের প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে। আপনি যে কোন মেট্রো স্টেশনে গিয়ে গন্তব্যের দূরত্ব অনুযায়ী টোকেন নিতে পারে। সেটা আর্চওয়ে গেটে স্পর্শ করলেই খুলে যাবে দুয়ার। ভ্রমণের পর কয়েনটি আর্চওয়ে বক্সের মধ্যে ফেললে ফের খুলে যাবে বেরোনোর দরজা। ফাঁকি দেয়ার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোটায়। আবার যাত্রীদের টিকিট কাটার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। তাৎক্ষণিক যাত্রার জন্য দূরত্ব অনুযায়ী ওয়ান টাইম টোকেন। যা সর্বনিম্ন ৮ রুপি থেকে সর্বোচ্চ ৩০ রুপি। এছাড়া রয়েছে ৩ দিন থেকে এক মাসের ট্রাভেল কার্ড। যা সর্বনিম্ন ১০০ রুপি থেকে ৮০০ রুপি। প্রতিটি স্টেশন এবং কোচেই সাঁটানো রয়েছে চার্ট ও ম্যাপ। আপনি কোন স্টেশনে যেতে চাইলে কোন ট্রেনে উঠতে হবে। অনাবরত এনাউন্স হচ্ছে হিন্দি ও ইংরেজিতে। প্রতিটি স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই কোচে এনাউন্স হচ্ছে স্টেশনের নাম। প্রতিটি ট্রেনের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে আলাদা কোচ। এছাড়া দিল্লি মেট্রোর নিরাপত্তায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, প্লাটফর্মে ঢোকার মুহূর্তে আর্চওয়ে। কোন যাত্রীকে লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না প্লাটফর্মে। নেই নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠতে না পারার ঝক্কি। ভুল ট্রেনে উঠলেও পরের স্টেশনে নেমে ট্রেন পাল্টানোর সুযোগ আছে। তবে সমস্যার মধ্যে রয়েছে অফিস আওয়ারে টিকিট কাটার দীর্ঘলাইন ও কোচে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি। ২০১০ সালের এক জরিপ মতে, ১৪২ স্টেশন থেকে প্রতিদিন মেট্রোতে যাতায়াত করছে ২.০৬ মিলিয়ন যাত্রী। উদ্বোধনের প্রথম ৭ বছরে দিল্লি মেট্রোর সার্ভিস ভোগ করেছে প্রায় ১০০ কোটি যাত্রী। সার্বিকভাবে মেট্রো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত সরকার প্রমাণ করেছে একটি জনবহুল ব্যস্ত শহরকে কিভাবে যানজটমুক্ত রাখা যায়। কিভাবে সাশ্রয় করা যায় কোটি মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা যায় নগরবাসীর যাতায়াত।
জানা যায়, ১৯৮১ থেকে ৯৮ সালে শহরে জনসংখ্যা ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ে ব্যাপকহারে। বেড়ে যায় যানবাহনের ভিড়, শব্দ ও বায়ু দূষণ। নষ্ট হয় মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮৪ সালে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও আরবান আর্টস কমিশন দিল্লি শহরের জন্য একটি বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখলে দিল্লি মেট্রোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার যৌথ উদ্যোগে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) স্থাপন করে ১৯৯৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে দিল্লি মেট্রোর প্রথম অংশ রেড লাইন চালু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ইয়েলো, ২০০৫ সালে ব্লু, ২০০৯ সালে ব্লু লাইনের নতুন শাখা, ২০১০ সালে গ্রিন লাইন চালু হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় ভাগে ২০১১ সালে এই লাইনগুলোর সম্প্রসারণ এবং দিল্লি এয়ারপোর্ট মেট্রো এক্সপ্রেস ও ভায়োলেট লাইন চালু হয়। কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারের আধাআধি মালিকানার এ প্রকল্প লাভজনক বলে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এখন চলছে সমপ্রচারণ কাজ। নতুন এ সমপ্রসারণ কাজে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৩৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার ৩০ ভাগ করে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার এবং বাকিটা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে জাইকা দেবে। বর্তমানে রেড লাইনে দিলশাদ গার্ডেন থেকে রিতালা পর্যন্ত ২৫.১৫ কিলোমিটারে মধ্যে ২১টি স্টেশনে ২৩টি ট্রেন, হলুদ লাইনে জাহাঙ্গির-পুরী থেকে হুদা সিটি সেন্টার পর্যন্ত ৪৪.৬৫ কিলোমিটারে ৩৪টি স্টেশনে ৪৫টি ট্রেন চলে। নীল লাইনে নয়দা সিটি সেন্টার থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ৪৯.৯৩ কিলোমিটারে ৪৪ স্টেশনে এবং যমুনা ব্যাংক থেকে বৈশালী পর্যন্ত ৮.৭৫ কিলোমিটারে ৮টি স্টেশনে ৫৯টি ট্রেন এবং সবুজ লাইনে ইন্দারলোক থেকে মুন্ডকা পর্যন্ত ১৮.৪৬ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ও কীর্তি নগর থেকে অশোকনগর পর্যন্ত ৩.৩২ কিলোমিটারে ২টি স্টেশনে ১৫টি ট্রেন চলে। বেগুনি লাইনে কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে বদরপুর পর্যন্ত ২০.০৪ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ২৯টি এবং বিমানবন্দর এক্সপ্রেস নয়া দিল্লি থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ২২.৭০ কিলোমিটারে ৬ স্টেশনে ৮টি ট্রেন চলাচল করে। এখন হলুদ লাইন হুদা সিটি সেন্টার ছাড়িয়ে বাদলি পর্যন্ত, বেগুনী লেন বদরপুর ছাড়িয়ে কাশ্মির গেট পর্যন্ত ও আরেকটি লাইন বল্লভপুর ফরিদাবাদ পর্যন্ত, নীল লাইন নাজাফগড় পর্যন্ত, সবুজ লাইন বাহাদুরগড় পর্যন্ত সমপ্রসারিত করার কাজ চলছে। দিল্লি মেট্রো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে রাজধানী ছাড়িয়ে পাশপাশের এলাকাগুলো পুরোপুরি মেট্রোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। দিল্লি মেট্রো কেবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেট্রো রেল নেটওয়ার্কই নয়, নয়া দিল্লির শাস্ত্রী পার্কে অবস্থিত ডিএমআরসি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় রেলের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। যা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মেট্রো রেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটও বটে। যেখানে মেট্রো প্রযুক্তির উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সও চালু রয়েছে। এছাড়া ডিএমআরসি বিদেশেও কনসালটেন্সি করে সুনাম অর্জন করেছে। জাকার্তা মেট্রো রেল সিস্টেমে ‘ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং সেবা’র জন্য ২০১২ সালে পুরস্কৃত করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এছাড়া দিল্লি মেট্রো ট্রেন ও ট্রেন যোগাযোগকে সহনীয় দূষণমাত্রার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকা। যানজটে নাকাল নগরবাসী। ঢাকাকে যানজট মুক্ত করে মানুষের লাখ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের প্রধান উপায় হতে পারে মেট্রো রেল চালু উদ্যোগ।

সরকারের বিরুদ্ধে বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা- বি. চৌধুরী

সরকারের বিরুদ্ধে বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা- বি. চৌধুরী


সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি, লোভ আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে দলীয় পরিচয়ে লুটপাট হচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতির জন্য দেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বাড়ছে
। বহির্বিশ্বে দুর্নীতির জন্য আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ছাত্র জনতা, কৃষক, বঞ্চিত মানুষের ঐক্যের প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীর গুলশানস্থ অল কমিউনিটি ক্লাব মিলনায়তনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের বর্ধিত সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় দলের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহি বি. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বি. চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে আমি ও ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। পরদিন পবিত্র হজ্বব্রত পালনে বিদেশ গিয়েছি। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে এরকম বক্তব্য কাম্য ছিল না। তিনি বলেন, দেশ চালান রাজনীতিবিদরা। তারা যদি দুর্নীতি করেন সমাজের সকল স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে। দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে মানুষ গুম হয়ে গেলেও প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না। এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সন্ত্রাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেষ চেষ্টা করবো। মাহি বি. চৌধুরী বলেন, আওয়ামী দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সে ডাক নিয়ে বিকল্পধারা দেশের জেলায় জেলায় যাবে। তিনি বলেন, দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপির বক্তব্যে প্রতিহিংসার রাজনীতির ভাষা স্পষ্ট। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে এলে বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে সহযোগিতার ব্যাপারে চিন্তা করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিকল্প ধারা কোন নির্বাচনে যাবে না। এছাড়া, সমপ্রতি দুই নেতার জাতীয় ঐক্য নিয়ে সৈয়দ আশরাফুলের বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ আখ্যায়িত করে তীব্র সমালোচনা করেন মাহি বি. চৌধুরী।

Daily Manab Zamin | হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদন, একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

 হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদন, একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে গতকাল অনলাইন হাফিংটন পোস্ট-এ এসব কথা লিখেছেন জোলিয়ন রুবিনস্টেইন। ‘বাংলাদেশ জার্নালিস্টস ডিনাইড প্রেস ফ্রিডম দ্যাট উই টেক ফর গ্র্যান্টেড’ শীর্ষক মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি বাংলাদেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকরা যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন তা তুলে ধরেছেন। ওতে উঠে এসেছে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের সন্তান এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গও। এতে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে সত্য খবর লেখার পরিণামে সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার হন। তাদেরকে প্রহার করা হয়। এমনকি তাদের মৃত্যুও ঘটে। তিনি লিখেছেন, গত বছর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর পর্যায়ক্রমে আঘাত করেছে। গত বছর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার শতাধিক ঘটনা নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করা বা দুর্নীতি উন্মোচন করে দেয়ার জন্য। একটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের সদস্যরা ১৯ জন সাংবাদিককে শহর ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়। তা না করলে তাদেরকে কেটে টুকরো টুকরো করে কবর দেয়ার হুমকি দেয়। এতে বলা হয়, সমপ্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তা এখানে উল্লেখ করা দরকার। সামপ্রতিক ঘটনার মধ্যে একটি নিউজরুমের ভিতরে হামলা হয়েছে। ছাত্রদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশ কভার করার কারণে তিনজন ফটো সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রহার করা হয়েছে। পুলিশের দু’জন এসআই ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হয়রানি করছিল। এ বিষয়ে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় পুলিশ তিন সাংবাদিককে অবমাননা করে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসমাবেশ কভার করা থেকে বিরত রাখা হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে। দি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস রিপোর্ট করেছে, বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের ওপর হুমকি ও হয়রানি অব্যাহতভাবে চলছে। দ্য ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডিকেটরে ১৯৯২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্থান দেয় ইমপিউনিটি ইনডেক্সে ১১ নম্বরে। সাংবাদিক হত্যার অনিষ্পন্ন ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে এমন নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে যেসব সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে তাদের শতকরা ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে দুর্নীতি, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা রিপোর্ট করার কারণে। তিনি আরও লিখেছেন, বৃটিশ সরকারের কারণে এ পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লন্ডন অলিম্পিকের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা তাকে সংবর্ধনা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনার সমর্থকরা যখন তার দেশে ন্যক্কারজনক কাজ করছিল তখন তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ভাষণ দিচ্ছিলেন। জোলিয়ন আরও লিখেছেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারী শাসকদের বৃটিশ সরকারের দেয়া এই মৌন সম্মতি আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। বৃটেন বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্থের যোগানদাতা। তারা প্রতি বছর বাংলাদেশে ২৫ কোটি পাউন্ড সহায়তা দেয়। এই অবস্থানকে ধরে রেখে বৃটিশ সরকারের উচিত এই নিদারুণ নিপীড়ন বন্ধ করার দাবি করা। ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রীর অবশ্যই শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে যে, তাকে সংবাদ মাধ্যমের মৌলিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। যখন প্রহার, নিখোঁজ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা কমছে না তখন রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা ‘নিশ্চয়তা’ আদায় করাই যথেষ্ট নয়। জোলিয়ন আরও লিখেছেন, বৃটিশ সরকারকে কোথা থেকে শুরু করতে হবে? তিনি নিজেই এর জবাব দিয়েছেন। লিখেছেন, সম্ভবত এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় একটি তদন্ত দাবি করতে পারে। এম ইলিয়াস আলী বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি তার গাড়ির চালকসহ নিখোঁজ হয়েছেন। জোলিয়ন লিখেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন- সরকারের একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছে। ওই সংস্থাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় সাধারণ ক্ষমার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর দায়ে মুস্তাফিজুর রহমান সুমনকে প্রহার করা হয়। তাকে এখনও আটক রাখা হয়েছে। জোলিয়ন লিখেছেন, বৃটিশ সরকার মুস্তাফিজুর রহমান সুমনকে মুক্তি দেয়ার দাবি তুলতে পারে। তারা দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের প্রধান মীর কাসেম আলীকেও মুক্তি দেয়ার দাবি তুলতে পারে। যুদ্ধাপরাধ আদালতের সমালোচনা করায় তাকে জেলে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় বিশ্বাস করা কষ্ট যে, কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার আহ্বানও জানান। বাংলাদেশে নির্বাচন আগামী বছর। তার আগেই বাংলাদেশ একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে। দৃশ্যত দেশটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশীদের দিতে হবে একটি সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। যখন আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা লজ্জাজনকভাবে নীরবতা অবলম্বন করছে তখন যারা বাংলাদেশে কথা বলতে সাহস রাখেন তাদের পক্ষ অবলম্বন করা উচিত আমাদের। 

হলমার্ক কেলেঙ্কারি , ফেঁসে গেলেন জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা

 হলমার্ক কেলেঙ্কারি , ফেঁসে গেলেন জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা
হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে এবার ফেঁসে গেছে জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা। সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে হলমার্ককে টাকা দিয়ে এ  কেলেঙ্কারির সঙ্গে ফেঁসে যাচ্ছে জনতা ব্যাংক। নন ফান্ডেন্ড ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায়  সোমবার বিকালে  
ব্যাংকটির  জিএম, ডিজিএমসহ ১৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়েছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে।
যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন জনতা ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল ব্রাঞ্চের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আমিনুল ইসলাম, উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জয়নাল আবেদীন, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রুহুল আমিন খান, ব্যবস্থাপক (এক্সপোর্ট) আলাউদ্দিন আকন্দ, এক্সপোর্ট ইনচার্জ আবদুল গফুর, এলিফ্যান্ট রোড শাখার  জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা একে আজাদ, শাহবাগ শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়েব কবির। এ সাত কর্মকর্তাকে ১৮ই নভেম্বর দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।
১৯ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে সাতজনকে  নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন- এলিফ্যান্ট রোড শাখার এজিএম মুসতাক আহমেদ খান, জিএম আবদুস সালাম আজাদ, ডিজিএম এসএম আবু হেনা মোস্তফা কামাল,  বৈদেশিক শাখার ডিজিএম শেখ হায়দার  হোসেন ও এজিএম মিজানুর রহমান।
দুদক জানায়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা  হোটেল শাখা থেকে ৩৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত হলমার্ক ব্যতীত অন্য পাঁচ প্রতিষ্ঠান ও ২৬ ব্যাংকের ৬১টি শাখা জড়িত। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক জনতা ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়েছে। 

সোহাগ গাজীর শিকার গেইল-ব্রাভো

সোহাগ গাজীর শিকার গেইল-ব্রাভো  

সোহাগ গাজী নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছেন। ক্রিস গেইলের পর তিনি ফিরিয়েছেন ড্যারেন ব্রাভোকে। টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ এই মুহূর্তে ২ উইকেটে ১০৫ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে খেলা হয়েছে ২৭ ওভার। সোহাগ গাজী ১০ ওভার বল করে ২৮ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন গেইল ও ব্রাভোর উইকেট। মুশফিকুর রহিমের ব্যবহূত অন্য দুই বোলার শাহাদাত হোসেন ও রুবেল হোসেন,সাকিব আল হাসান। সকালে ব্যাটিংয়ে নেমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন ক্রিস গেইল। টেস্ট মেজাজের বিপরীতে মাত্র ১৭ বলে ২৪ রান তুলে ফেলেছিলেন তিনি। তাঁর এই সংগ্রহে ছিল ২টি চার ও ২টি ছয়ের মার। কিন্তু সোহাগ গাজীর বলে লং অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহর হাতে। গেইল ফিরে যাওয়ার পর যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ঢংয়ে ব্যাট চালাতে থাকেন ব্রাভো এবং কিরান পাওয়েল। ওভারপ্রতি চার রান তুলে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কপালে যখন চিন্তার রেখে এঁকে দিয়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে মুশফিকুরের সামনে এসে দাঁড়ান সোহাগ গাজী। তাঁর বলে রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়ে ব্রাভোর ইনিংসটির পরিসমাপ্তি ঘটে। ব্রাভোর আউটের পর উইকেটে এসেছেন মারলন স্যামুলেস। ব্যক্তিগত ৪১ রান নিয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার পথে কিরান পাওয়েল।

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’


গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ সামলাতে চলতি বছরই ঢাকার রাস্তায় নামছে ‘আর্টিকুলেটেড’ বাস।

দুটি কোচ জোড়া দিয়ে বানানো এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ; যাত্রী ধারণ ক্ষমতাও দ্বিগুণ।

অবশ্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা না করলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যরে এসব বাসের কারণে সড়কে বিপত্তি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ২৫ থেকে ৩০টি আর্টিকুলেটেড বাস রাজধানীতে চলাচল শুরু করবে।

“৫০টি আর্টিকুলেডেট বাস তৈরির জন্য ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানিকে অর্ডার দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে সবগুলো বাস রাজধানীর রাস্তায় চলে আসবে।”

ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে ‘বিশেষভাবে তৈরি’ এসব বাস আনা হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

তিনি বলেন, “এই বাসের বিশেষ সুবিধা হলো- আসনের বাইরে অনায়াসে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। গণপরিবহন হিসাবে এটা ভাল কাজে আসবে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকায় যেসব আর্টিকুলেটেড বাস আসছে- সেগুলোতে আসন সংখ্যা হবে ৫৮টি।

তিনি বলেন, “এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের মতো দুটি বাস জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। বিআরটিসির একটি সাধারণ বাস রাস্তার মোড় ঘুরতে যতটুকু জায়গা প্রয়োজন- আর্টিকুলেটেড বাসের ক্ষেত্রে তার চেয়ে মাত্র দশমিক ২৫ মিটার জায়গা বেশি লাগবে।”

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শামসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আর্টিকুলেটেড বাসের চালক দক্ষ না হলে এর পেছনের অংশের সঙ্গে অন্য বাসের সংঘর্ষ হতে পারে।

ঝুঁকিমুক্ত চলাফেরার জন্য এসব বাসের আলাদা লেন থাকা উচিৎ জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার ব্রড ব্যান্ডের হলে লাইনও ব্রড ব্যান্ডের হতে হবে। আর্টিকুলেটেড বাস সাধারণত এক্সক্লুসিভ লেনেই চলাচল করে।”

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯২০ সালে ইউরোপে প্রথম আর্টিকুলেটেড বাসের প্রচলন দেখা যায়। বিভিন্ন দেশে বেন্ডি বাস, ট্যান্ডেম বাস, ব্যানান বাস, ক্যাটারপিলার বাস বা অ্যাকর্ডিয়ন বাস নামে পরিচিত এই বাহন। এসব বাসের দৈর্ঘ্য ১৮ থেকে ২২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, ঢাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) অর্থাৎ নির্ধারিত বাসের জন্য নির্দিষ্ট লেনের ব্যবস্থা চালু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

ঢাকার কয়েকটি রাস্তা চিহ্নিত করে বিআরটি চালুর জন্য সড়কের উভয় পাশে দুটি আলাদা লেন করা হবে। বিআরটির জন্য নির্ধারিত লেনে অন্য কোনো বাস আসতে পারবে না। এই লেনের গাড়িও লেনের বাইরে যেতে পারবে না।

আর বাংলাদেশে ‘নতুন ধাঁচের’ আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল শুরু করলে সবার কাছে যদি তা আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে হয়, তাহলে এ ধরনের আরো বাস আমদানি করা হবে।

“পজিটিভ রেসপন্স পেলে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর আশেপাশের এলাকায় এই বাস নামানোর চিন্তা রয়েছে”, বলেন এম এ এন ছিদ্দিক।

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’

এ বছরই সড়কে নামছে ‘আর্টিকুলেটেড বাস’


গণপরিবহনে যাত্রীদের চাপ সামলাতে চলতি বছরই ঢাকার রাস্তায় নামছে ‘আর্টিকুলেটেড’ বাস।

দুটি কোচ জোড়া দিয়ে বানানো এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট দীর্ঘ; যাত্রী ধারণ ক্ষমতাও দ্বিগুণ।

অবশ্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা না করলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যরে এসব বাসের কারণে সড়কে বিপত্তি আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরেই ২৫ থেকে ৩০টি আর্টিকুলেটেড বাস রাজধানীতে চলাচল শুরু করবে।

“৫০টি আর্টিকুলেডেট বাস তৈরির জন্য ভারতের অশোক লেল্যান্ড কোম্পানিকে অর্ডার দেয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে সবগুলো বাস রাজধানীর রাস্তায় চলে আসবে।”

ঢাকা মহানগরীতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে ‘বিশেষভাবে তৈরি’ এসব বাস আনা হচ্ছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

তিনি বলেন, “এই বাসের বিশেষ সুবিধা হলো- আসনের বাইরে অনায়াসে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। গণপরিবহন হিসাবে এটা ভাল কাজে আসবে।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকায় যেসব আর্টিকুলেটেড বাস আসছে- সেগুলোতে আসন সংখ্যা হবে ৫৮টি।

তিনি বলেন, “এই গাড়িগুলো সাধারণ বাসের মতো দুটি বাস জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। বিআরটিসির একটি সাধারণ বাস রাস্তার মোড় ঘুরতে যতটুকু জায়গা প্রয়োজন- আর্টিকুলেটেড বাসের ক্ষেত্রে তার চেয়ে মাত্র দশমিক ২৫ মিটার জায়গা বেশি লাগবে।”

তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শামসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আর্টিকুলেটেড বাসের চালক দক্ষ না হলে এর পেছনের অংশের সঙ্গে অন্য বাসের সংঘর্ষ হতে পারে।

ঝুঁকিমুক্ত চলাফেরার জন্য এসব বাসের আলাদা লেন থাকা উচিৎ জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার ব্রড ব্যান্ডের হলে লাইনও ব্রড ব্যান্ডের হতে হবে। আর্টিকুলেটেড বাস সাধারণত এক্সক্লুসিভ লেনেই চলাচল করে।”

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯২০ সালে ইউরোপে প্রথম আর্টিকুলেটেড বাসের প্রচলন দেখা যায়। বিভিন্ন দেশে বেন্ডি বাস, ট্যান্ডেম বাস, ব্যানান বাস, ক্যাটারপিলার বাস বা অ্যাকর্ডিয়ন বাস নামে পরিচিত এই বাহন। এসব বাসের দৈর্ঘ্য ১৮ থেকে ২২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সড়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, ঢাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) অর্থাৎ নির্ধারিত বাসের জন্য নির্দিষ্ট লেনের ব্যবস্থা চালু হবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

ঢাকার কয়েকটি রাস্তা চিহ্নিত করে বিআরটি চালুর জন্য সড়কের উভয় পাশে দুটি আলাদা লেন করা হবে। বিআরটির জন্য নির্ধারিত লেনে অন্য কোনো বাস আসতে পারবে না। এই লেনের গাড়িও লেনের বাইরে যেতে পারবে না।

আর বাংলাদেশে ‘নতুন ধাঁচের’ আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল শুরু করলে সবার কাছে যদি তা আরামদায়ক ও সুবিধাজনক মনে হয়, তাহলে এ ধরনের আরো বাস আমদানি করা হবে।

“পজিটিভ রেসপন্স পেলে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর আশেপাশের এলাকায় এই বাস নামানোর চিন্তা রয়েছে”, বলেন এম এ এন ছিদ্দিক।

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান


আসামের মুসলমানরা এবার বাংলাদেশী অভিবাসী সনাক্তের নামে তাদের হয়রান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বোরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (বিটিসি)-এর মুসলমানদের রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা সন্দেহের চোখে দেখে। সেখানে ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশী অভিবাসীরা অবস্থান করছে বলে অভিযোগ আছে। এর ফলে সেখানে বাংলাদেশী চিহ্নিত করার নামে মুসলমানদের হয়রান করা হচ্ছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন রেডিফ। এতে বলা হয়, এর ফলে সেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বার বার বোরো বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছর জুলাইতে বিটিসি ও ধুবরি জেলার আশপাশের এলাকায় দাঙ্গা হয়। ওদিকে গতকাল গোয়াহাটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিষদের কয়েক হাজার সদস্য বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা তাদের দাবির পক্ষে একটি বিবৃতি জমা দেয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর কাছে। এ সংগঠনের এক মুখপাত্র বি আলী আহমেদ বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গায় যত জন মুসলমান নিহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত প্রতিজনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৭ লাখ রুপি। তারা আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর যেসব বাংলাদেশী আসামে গিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে কোন শর্ত ব্যতিরেকেই ফেরত পাঠাতে হবে।

অপহৃত পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে?

অপহৃত পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে?


কেরানীগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্র পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে? অপহরণের দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কোন সন্ধান পায়নি। এমনকি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়েও কোন যোগাযোগ করেনি। এ অবস্থায় পরাগের ভাগ্যে কি ঘটেছে- এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। গতকাল সরজমিন ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় সর্বত্র আতঙ্ক। পরাগের বোন পিয়ালী মণ্ডল বলেন, আমার সামনে থেকে ওরা আমাদের ভাইকে অস্ত্র উঁচিয়ে অপহরণ করেছে। মা, বোন ও ড্রাইভার চাচ্চুকে গুলি করেছে। আপনারা আমার ভাইকে খুঁজে এনে দিন। গুলিবিদ্ধ মা হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায়, আহত বড় বোন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে। আজ দু’দিন হলো আমার ভাই নেই। ভাইয়ের অপহরণ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে সে মূর্ছা যাচ্ছিল বারবার। রোববার সকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার মা, বোন ও গাড়ির চালককে গুলি করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের একমাত্র পুত্র স্কুলছাত্র পরাগ মণ্ডল (৬)-কে অপহরণ করে মুখোশধারী ৪ সন্ত্রাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা এসেছিল দু’টি মোটরসাইকেলে।
ওই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের মা সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেছেন। পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, এএসপি সার্কেল শহিদুল ইসলাম গতকাল সকালে বিমল মণ্ডলের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। ডিআইজি মিজানুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাটি একটি বিশেষ মামলার গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশের পাশাপাশি তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাবের বিশেষ টিম শিশু পরাগকে উদ্ধারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপহরণকারী চক্রকে শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ বিমল মণ্ডলের সঙ্গে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক বিরোধ- তিনটি ক্লু নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে তিনি জানান। তবে ঘটনার তদন্তে পুলিশের বেশ অগ্রগতি এবং শিগগিরই ভাল ফল পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকা জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সরজমিন বিমল মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে গোটা পরিবারের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক। পুলিশের আশার বাণীতে কোন আস্থা আনতে পারছে না মণ্ডল পরিবার। এমনকি স্থানীয় জনগণও। এলাকায় বিমল মণ্ডল একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধ রয়েছে এমনটি ভাবতেও পারেন না কেউ। শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ার মণ্ডলবাড়ী এলাকাবাসীর কাছে বহুদিন ধরে ভাল মানুষের বাড়ি বলে পরিচিত। কি কারণে সেই পরিবারের ওপর এই ঘটনা, তা অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীকে। ব্যবসায়ী মণ্ডল পরিবারের দাবি, যে কোন কিছুর বিনিময়ে তাদের একমাত্র পুত্র সন্তানকে তারা ফেরত পেতে চান। বিমল মণ্ডল জানান, আমার সঙ্গে কারও এমন কোন বিরোধ নেই যার ফলে শিশু পুত্রকে অপহরণ করতে পারে। তবে কিছুদিন আগে শুভাঢ্যা এলাকার জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। কিন্তু সেটা মিটে গেছে। বিমল মণ্ডলের প্রতিবেশী জয়দেব চন্দ্র জানান, কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ভূমিদস্যুদের পক্ষে কাজ করে আসছে। হিন্দু সমপ্রদায়ের জমি পুলিশ দিয়ে দখল করে নিলেও পিছু ক্ষতির আশঙ্কায় সবাইকে নীরব থাকতে হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ- পরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, আসামি ধরার চেয়ে পুলিশ পরাগকে উদ্ধার করাটাকে জরুরি মনে করছে । তদন্তের স্বার্থে তেমন কোন কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় রহস্যজনক কারণে মণ্ডল পরিবার নিশ্চুপ। এদিকে ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ীর একমাত্র পুত্র অপহরণের পর থেকে বাড়ির লোকজন মুখে কুলুপ দিয়ে রেখেছে। সবার মুখে এক কথা- এর পেছনে কি রয়েছে কেউ জানে না।
প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলযোগে অস্ত্রধারী ৪ সন্ত্রাসী মায়ের কোল থেকে তার একমাত্র পুত্রকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে অন্যান্য পরিবার। পুলিশ আদৌ স্কুলছাত্র পরাগ মণ্ডলকে উদ্ধার করতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় এলাকাবাসীর। অন্য অভিভাবকরা তাদের স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাজধানীর এক সময়ের সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ কি আবার অশান্ত হয়ে উঠছে- এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর। আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের অভিভাবক রুমা জানান, পরাগ মণ্ডলের অপহরণ ঘটনার পর থেকে এলাকার সব বিদ্যালয়ের অভিভাবক মহল এখন উদ্বিগ্ন।
এদিকে আমাদের কেরানীঞ্জ প্রতিনিধি জানান, অপহৃত পরাগ মণ্ডলের পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়ায় তাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পশ্চিম শুভাঢ্যা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকালে পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী। অপহৃত পরাগের মা লিপি রানী মণ্ডল বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ বোন পিণাকি মণ্ডলকে বাড়িতে আনা হয়েছে। ড্রাইভার নজরুল মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছেন শূন্য হাতে, কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিমানবন্দরে কান্না

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছেন শূন্য হাতে, কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, বিমানবন্দরে কান্না


লাখ লাখ টাকা খরচ। গিয়েছিলেন আয়-উপার্জনের আশায়। আয়ের মুখ তো দেখেনইনি, উল্টো ফিরছেন দলে দলে- একেবারেই শূন্য হাতে। কারও কাছে বাড়ি পৌঁছার বাস ভাড়াও নেই। সাহায্য নিচ্ছেন সফরসঙ্গীর কাছ থেকে। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কোন সম্বল সঙ্গে নেই অনেকের। তবে সবারই সম্বল আছে একটি- কান্না। যারা দেশের জন্য রেমিটেন্স পাঠাতে গেছেন স্বজন ছেড়ে, রাস্তায় বা মরুভূমির খোলা ময়দানে থেকেছেন তারা দিনের পর দিন, জেল খেটেছেন মাসের পর মাস- তাদের কোন অপরাধ না থাকলেও কাজ থেকে ধরে পাঠিয়ে দেয়া হয় দেশে। ওখানে কপালে কাজ জোটে না। চাকরিও নেই। না খেয়ে, না পরে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন তারা। পুলিশ আর মালিকদের অমানবিক নির্যাতনে প্রাণ যায় যায় অবস্থা ছিল। মন ও শরীরের ওপর এত ধকলের পর তবুও সান্ত্বনা খুঁজছেন তারা। হাজার কষ্টের পর হোক, দেশে তো ফিরেছেন। এরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা বাংলাদেশী। শ্রমিক হিসেবে গিয়েছিলেন সেখানকার বিভিন্ন দেশে। তাদের প্রায় সবাই দেশে ফিরে আসছেন একেবারে। তারা জানান, এখনও দেশগুলোর কারাগারে আছেন কয়েক লাখ বাংলাদেশী। সেখানে অবস্থানকারী শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা, দুর্দশার প্রতিকারে কিংবা কারাগারে আটকদের জন্য কোন ভূমিকাই পালন করছে না বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো। এরা যখন হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন কারও মুখে হাসি ছিল না। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলেও হাসিমুখে কথা বলতে পারেননি। কেঁদেছেন অঝোরে। ঘরে ফেরা শ্রমিকদের চোখে-মুখে ছিল সর্বস্ব হারানো বেদনার ছাপ। যে টাকা খরচ করে গিয়েছিলেন তার সিকি ভাগও উপার্জন করতে পারেননি। এভাবে ফেরার কথা ছিল না তাদের। কিন্তু ফিরছেন। আর যাওয়া হবে না। সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদের। প্রতারিত হয়েছেন নিয়োগকারী কোম্পানির কাছ থেকে। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে শ্রমিকদের। অন্য দেশগুলোর প্রতি সুবিচার দেখানো হলেও বাংলাদেশীদের জন্য কোনই সহানুভূতি দেখাচ্ছে না আরব বিশ্বের দেশগুলো। এজন্য বাংলাদেশ সরকারও কোন ভূমিকা পালন করছে না। ফলে প্রতিদিনই রেমিটেন্স পাঠানো এসব মানুষের ঘরে ফেরার সংখ্যা বাড়ছে।
গতকাল যখন বিমানবন্দরের বাইরে তাদের সঙ্গে কথা হয়, তখন অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের পানি চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি। জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী শ্রমিকরা সুখে নেই। তাদের মধ্যে চলছে মাতম। চাকরি হারানো, পাওনা টাকা না পাওয়া, সুযোগ থাকার পরও বাংলাদেশীদের কাজ করতে না দেয়া, সরকারি ভাবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, অবহেলা আর নির্যাতন- এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবজমিনকে তারা জানান, খরচের টাকা সুদে নিয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। উদ্দেশ্য ছিল, দেনা শোধ করে সংসারে সুখ আনবেন। তাই দূর পরবাসে থেকেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু সুদে নেয়া সেই টাকা আর শোধ হয়নি। বরং পরিশোধ না করায় দেনার পরিমাণ বেড়েছে কেবল। তাই দেশে ফিরলেও তারা এখন রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। বিমান থেকে নেমেই তাই বললেন কেউ কেউ- কি হবে এখন জানি না।
সুখের খোঁজে যাওয়া এসব মানুষের চোখে এত হতাশা কেন? কান্নাই বা কেন তাদের একমাত্র সম্বল? কেন এত ক্ষোভ? তারা নিজেরাই দিয়েছেন এর উত্তর। বিমানবন্দরে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরব, দুবাই, ওমান, কাতার, বাহরাইন, জর্দান থেকে সব হারিয়ে দেশে ফেরা মানুষের স্রোতই বেশি। যে বিমানে করে তারা আসছেন তাতে কোন সিটই ফাঁকা থাকছে না। কিন্তু ওই একই বিমান যাওয়ার সময় অর্ধেক যাত্রী গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারছে না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় আসা চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের প্রায় সব যাত্রী ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা। বিমানবন্দরে এদের যে ক’জনের সঙ্গে আলাপ হয়, তাদের বেশির ভাগকে একেবারে চলে আসতে হয়েছে। আবার ফিরবেন এমন যাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম।
সকাল ১১টায় এয়ার দুবাইয়ের ফ্লাইটে এসেছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার নর কতমপুরের ইউনূস। ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দুবাই গিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। ডকলেন কোম্পানি নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য যাওয়া। গত ৭ মাস ধরে কোম্পানি তাকে দিয়ে কাজ করালেও কোন বেতন দিচ্ছিল না। এক সময় তাকে উল্টো ধরিয়ে দেয়া হয় পুলিশে। বলা হলো সে অবৈধ। পুলিশ অভিযোগ নিলো কিন্তু তা সত্য কিনা বিবেচনায় না নিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো। সেখানে ১ মাস ১৩ দিন জেল খেটে তিনি দেশে ফিরেছেন। এজন্য দেশ থেকে টিকিটের ১৩,০০০ টাকা পাঠাতে হয়েছে। ঢাকা পৌঁছে বাড়ি যাওয়ার পয়সা নেই তার। সফরসঙ্গীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি যাবেন। বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশকে এখন আর কেউই ভাল চোখে দেখছে না। নানা কারণে এদেশের শ্রমিকদের ওপর তাদের বিরক্তি। সুযোগ পেলেই নির্যাতন করা হচ্ছে। তার মতে, সেখানে কারাগারগুলোতে বিদেশীদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই বাংলাদেশী। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু ধরে নিয়ে জেলে রেখে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশে। এমনকি ছুটিতে আসা শ্রমিকদেরও এয়ারপোর্ট থেকে ধরে নিয়ে জেল খাটিয়ে একেবারে বিদায় করে দেয়া হচ্ছে। এখনও শুধু দুবাইয়ের বিভিন্ন জেলে আটক আছেন ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ বাংলাদেশী শ্রমিক। জেলে যেমন শারীরিক নির্যাতন করা হয় তেমনি রাখা হয় মানসিক চাপেও। দুই বেলা পাতলা রুটি এবং একবেলা ডাল আর ঝোল দেয়া হয়। টিকিটের পয়সা নেই বললে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। দেশ থেকে টাকা আনতে দেরি হলে কারাগারে গিয়ে পুলিশ নির্বিচারে পেটায়। তিনি জানান, যে ফ্লাইটে এসেছেন, তার সঙ্গে আসা শ্রমিকদের মধ্যে জেল খেটে এসেছেন ৩০ জন। তারা একই সঙ্গে ছিলেন। ওই ফ্লাইটে আসা মাদারীপুর সদর উপজেলার কুন্তিপাড়ার বাসিন্দা বেলাল আহমদ কাজ করতেন ডায়মন্ড অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ফার্মে। তিনি রঙের কাজ করতেন। তাকে যেদিন পুলিশ ধরে আনে সেদিন সাতুয়া এলাকায় কাজে ছিলেন। তার পোশাকে তখনও রঙ লাগানো ছিল। জোর করে তাকে কোন কারণ ছাড়াই আটক করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আউট পাস দিতে দেরি হওয়ায় ২৪ দিন জেল খেটেছেন। তিনি জানান, তার চেনা ৪ বৈধ শ্রমিককে বাস থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকার অপরাধে পুলিশ বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছে। পরে জেল দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এমন হাজারো ঘটনা ঘটছে। এ মুহূর্তে বৈধ হয়েও প্রায় লুকিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশীদের এই অবস্থা উত্তরণে ভূমিকা রাখতে পারতো সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু তার কোন প্রমাণ পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। ফলে সেখানে অবস্থানকারীদের মাঝে হতাশা বাড়ছে। এয়ার এরাবিয়ানে দেশে ফেরা যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দুর্জয়নগর গ্রামের আবুল কালাম জানান, সেখানে যাওয়ার পর অনেক কোম্পানি পাসপোর্ট নিয়ে যায়। ধরা পড়লে কোন অজুহাতই আমলে নেয় না পুলিশ। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হলে জানানো হয় পাসপোর্ট তারা নেয়নি। ‘আনা মাফি মালুম’ (আমি কিছু জানি না) বলে পুলিশের কাছে দাবি করে। তখন অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। তারা একতরফা দায়ী করে বাংলাদেশী শ্রমিকদের। তিনি তার এলাকার কসবা উপজেলার আলমগীর নামের একজনের কথা জানান যার পাসপোর্ট কোম্পানি গায়েব করে দিয়েছে। তিনি এখন পালিয়ে আছেন। আবুল কালাম বলেন, দুবাইর শারজার আল উর্দুন ক্লিনার কোম্পানির মাধ্যমে যাই। সেখানে কাজ করতাম সরকারি প্রতিষ্ঠানে। কোন কারণ ছাড়াই ২০১১ সালের ২০শে নভেম্বর আমাকে কাজ থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে কিছুদিন অন্যত্র কাজ করলেও গত ৬ মাস বেকার ছিলাম। সেখানে বাংলাদেশী শ্রমিক আউট পাসের জন্য দূতাবাসে গেলে সহযোগিতা করা হয় না। যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের রোহিঙ্গা বলে সহযোগিতা না করে দূতাবাস থেকে বিদায় করে দেয়া হয়। আলমগীরের সঙ্গে এই আচরণই করেছে দূতাবাস। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সাতিয়াদি গ্রামের কৃষক বাদল বিদেশ যাওয়ার আগে সুদে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। দেড় বছর পর গতকাল তিনিও ফিরেছেন খালি হাতে। কথা ছিল সুদ দেবেন ১ লাখ। যত দিন দিতে পারবেন না প্রতি ধানের মওসুমে তাকে দিতে হবে ১০ মণ করে ধান। দাদন ব্যবসায়ীকে সেই ধান পরিশোধ করছেন বছরে দুই বার করে। কিন্তু বিদেশে টাকা উপার্জন করতে না পারায় সুদের এক টাকাও ফেরত দিতে পারেননি তিনি। এখন দেশে ফেরার পর তার ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে আছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বলেন, পুঁজি যা ছিল সব খুইয়েছি। কি করবো এখন ভেবে পাই না। আমার মতো হাজার হাজার শ্রমিক এভাবে ফিরছেন। সরকারের কোন আইনি সহায়তা তারা পান না। তাই অনেকে পাওনা টাকা না পেয়েই ফিরছেন। শ্রমিকরা জানান, অনেক ভুয়া কোম্পানি বাংলাদেশী শ্রমিকদের সেখানে নিয়েছে। তাদের জন্য প্রতারিত হয়েছেন। সেখানে দুঃখ-দুর্দশায় তারা কান্না করলেও শোনার কেউ নেই। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকার ওই দেশগুলোকে কোন সুপারিশ করছে- এমন কথা তাদের জানা নেই।