Pages

Tuesday, December 18, 2012

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু


তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড সূত্রপাতের পেছনে ছিল ‘নাশকতা’। আর অমার্জনীয় অবহেলার কারণে ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন সহ ৯ জন দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তাজরিন গার্মেন্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব বক্তব্য উল্লেখ করেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রিপোর্টটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদের কাছে জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার। গার্মেন্ট ভবনটি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে। রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ। ঘটনার কারণ চিহ্নিত করাসহ সামগ্রিক বিষয়ে একটি রিপোর্ট আজই (গতকাল) বিকালে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, এতগুলো মানুষের মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ জন্য আমরা তদন্ত রিপোর্টে বলেছি, অমার্জনীয় অবহেলার কারণেই ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে গার্মেন্টটিতে আগুন লাগার পেছনে নাশকতা কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষণ করা হয়। এজন্য গার্মেন্টটির কোন কোন কর্মকর্তা দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন, তাজরিন ফ্যাশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক আল আমিনসহ গার্মেন্টটির বিভিন্ন ফ্লোরে দায়িত্ব পালনকারী আরও ৫ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বলেন, আগুন নেভানোর মহড়া চলছে। শ্রমিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নির্দেশেই কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল ও অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও ঘটনার দিন একটিও ব্যবহার করা হয়নি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, আগুনের সতর্ক সঙ্কেত বাজার পরও কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগে বাধা দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আগুন দেখার পর তা নিয়ন্ত্রণের জন্য একদিকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়ে বরং কারখানার ভেতরে কাজ করতে নির্দেশ দিয়ে শ’ শ’ শ্রমিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানার মালিকপক্ষ বা শ্রমিকরা কেউ সাধারণ অগ্নি আত্মরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ করেনি। তাজরিন ফ্যাশনের মান সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার অবস্থান একটি পল্লীর ভেতরে। কারখানার সামনের দিকে ৮ থেকে ১০ ফুট রাস্তা। পেছনে তিনদিকে লাগোয়া বাড়িঘর। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি অভিযান চালাতে পারে না। কোন ধরনের বহির্মুখী জরুরি নির্গমন পথ অথবা বিকল্প সিঁড়ি না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শ্রমিকরা লোহার গ্রিল, কাচ, এগ্‌জস্ট ফ্যান ভেঙে জীবন বাঁচাতে পাশের টিনের চালে লাফিয়ে পড়েন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তাজরিন গার্মেন্টটি কোনভাবেই শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উপযোগী বা যথাযথ মান পরিপালনকারী (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা নয়। কারখানার ভবন তৈরিতেও ন্যূনতম ‘ভবন নির্মাণ বিধিমালা’ অনুসরণ করা হয়নি। কর্মক্ষেত্রের উপযোগী ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হলে এত বেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনসে একাধিকবার সরজমিন পরিদর্শন প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজরিন ফ্যাশনস কারখানার নয়তলা ভবনটির নিচতলার পুরোটাই ছিল গুদাম বা ওয়্যার হাউস। এখানে সুতা ও কাপড় গুদামজাত করা হয়। সেখানে ঢুকতেই একটি সদর দরজা, এরপর নিচতলার ওয়্যার হাউসের ভেতর থেকেই তিনটি সিঁড়ি প্রতিটি তলা স্পর্শ করে ছাদে গিয়ে মিলেছে। প্রতি তলার প্রবেশমুখেই কলাপসিবল দরজা। নিচতলার ওয়্যার হাউসে আগুন লাগায় এর অগ্নিদাহ্য সিনথেটিক জাতীয় সুতা, কাপড়ের বিশাল মজুত থাকায় আগুন লাগার পর পরই পুরো ভবনটি ইটভাটার মতো রূপ নেয় এবং সিঁড়িগুলো হয়ে ওঠে উত্তপ্ত চিমনি। নিচতলার ভয়াবহ আগুনের তাপ, শিখা ও কালো ধোঁয়া তিনটি সিঁড়ি দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে শ’ শ’ কর্মব্যস্ত শ্রমিকরা প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার বহির্গমনের কোন পথ না পেয়ে দমবন্ধ ও পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে গত ২৪শে নভেম্বর রাতে তাজরিন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ছিলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আবদুস সালাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
ওদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি চূড়ান্ত এবং ১৬টি সাধারণ সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তাজরিনের মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহেলার জন্য শাস্তির সুপারিশ, দেশের যেসব জেলায় এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ওইসব জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। উল্লেখ্য, গত ২৪শে নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরী পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক পালন করা হয়। এরই মধ্যে নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৬ লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Monday, December 17, 2012

অপেক্ষায় সোনাক্ষী

অপেক্ষায় সোনাক্ষী


বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার ভক্তরা বেশ কিছু ভাল নাচের মুদ্রা দেখতে পাবেন প্রভু দেবা পরিচালিত পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘নামাক’-এ। তার বিপরীতে অভিনয় করবেন শহিদ কাপুর। সোনাক্ষী এ বিষয়ে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ‘নামাক’-এর কাজ শুরু করবো। আমি অনেক আগ্রহের সঙ্গে চলচ্চিত্রটির জন্য অপেক্ষা করছি। এটি পরিচালনা করবেন প্রভু দেবা এবং অভিনয় করবেন শহিদ। অর্থাৎ বেশ ভাল কিছু নাচের মুদ্রা দেখা যাবে এ চলচ্চিত্রে। সোনাক্ষী আরও বলেন, আমার নাচতে খুব ভাল লাগে। আর এটি নাচ-গানে ভরপুর একটি মাসালামুভিই হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রভু দেবার সঙ্গে ব্যবসা সফল ছবি ‘রাওডি রাঠর’-এ কাজ করেছেন সোনাক্ষী। ‘ও মাই গড’ চলচ্চিত্রেও একটি আইটেম নাম্বারে প্রভুর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ‘নামাক’ চলচ্চিত্রের জন্য নতুন কোন নাচ শিখছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সোনাক্ষী বলেন, এখনও নতুন কিছু শিখিনি। তবে শুটিং শুরু হলে প্রভুর আয়োজনে কোন না কোন নতুনত্ব তো থাকবে অবশ্যই।

আরেক রূপে প্রিয়াংকা

আরেক রূপে প্রিয়াংকা


এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন বলিউড নায়িকা প্রিয়াংকা চোপড়া। কিছুদিন আগেই প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘ইন মাই সিটি’। অ্যালবামটি ইতিমধ্যে শ্রোতাদের মাঝে আলোড়ন তুলেছে। এই সাফল্য উদযাপনেই তিনি এখন ভক্তদের সঙ্গে পার্টি করে বেড়াচ্ছেন। পার্টিগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্নরূপের এক প্রিয়াংকাকে। ১৪ই ডিসেম্বর রাতে কয়েকটি পার্টিতে ডিজে হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রিয়াংকা বলেছিলেন, শুক্রবার রাতে আমি মুম্বইয়ের চারটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবে যাবো এবং আমার বন্ধু ও ভক্তদের সঙ্গে কিছুক্ষণ পার্টি করবো। এ ধরনের পার্টি আমরা দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতেও করেছিলাম। সেগুলো দারুণ উপভোগ্য হয়েছিলো। ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফিউশন ট্যুরের উদ্যোগে ওই পার্টিগুলো মুম্বইয়ের হার্ড রক ক্যাফে, এফ বার, ঘোস্ট এবং হাইপ নামের ক্লাবগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। সবক’টি পার্টিতেই ডিজে হিসেবে পারফর্ম করে বেশ সাড়া ফেলেন প্রিয়াংকা।

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি- ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী পতাকা

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি- ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী পতাকা

ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী জাতীয় পতাকা। বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল প্রতিটি ছিটমহলে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত ভারতীয় গারাতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান মো. মফিজার রহমান বলেন, আমরা নিজেদের বাংলাদেশী নাগরিক মনে করি। এজন্য শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে তারা বিজয় দিবস পালন করেছেন। এদিকে, পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে শিক্ষার্থী, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। এছাড়া, জেলা পরিষদ, পঞ্চগড় পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়। এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এসব কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও মজাহারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও পুলিশ সুপার শাহরিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে


স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে কৌশলে ৪০ মিনিট আটকে রাখা হলো বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। শনিবার মধ্যরাত থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা। ভোরে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সকালে সাভার স্মৃতিসৌধ যাওয়ার আগ মুহূর্তে ৬টার দিকে তার প্রটোকল গাড়িটি গুলশান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ৪৫ মিনিট আটকে রেখে পরে গাড়িটি আবার খালেদার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসা হয়। এতে স্মৃতিসৌধে যেতে এক ঘণ্টা দেরি হয় খালেদা জিয়ার। এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে খালেদা জিয়া যাতে সময়মতো স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে না পারেন, সেজন্য তার গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখে পুলিশ। বিরোধী দলীয় নেতাকে গুলশানের বাসা থেকে ভোরে যথাসময়ে বের হতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতার প্রোটোকল গাড়ি আটকে রাখা হয়।
জিয়ার কবরে খালেদা: স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে যান খালেদা জিয়া। সকাল ৯টায় সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি সমর্থিত অনেক সংগঠন আলাদাভাবে জিয়ার মাজারে ফুল দেন। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়ার কবরে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন নেতা-কর্মীরা।

সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড

সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড


একের পর এক গোপনে জামিনে বেরিয়ে আসছে রাজধানীর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরা। রাজনীতির গরম হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড। পরিবেশ আরও গরম করে তুলতে প্রভাবশালীরা জামিন পেতে সহায়তা করছে তাদের পছন্দের সন্ত্রাসীদের। জামিনে বেরিয়েই সন্ত্রাসীরা আবার জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে, শুরু করেছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা ও জেলে থাকা হাইপ্রোফাইল সন্ত্রাসীরাও হঠাৎ করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রিক তাদের ক্যাডারদের সক্রিয় করতে শুরু করেছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। দেশের বাইরে থেকে মোবাইল ফোনে দখলবাজিও চলছে। ভয়ঙ্কর সব সন্ত্রাসীর প্রকাশ্য সশস্ত্র মহড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সাধারণ
মানুষ। অন্যদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন পাওয়ায় গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে তাদের ক্যাডাররা।
নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ রাজধানীর নাখালপাড়ায় ঢাকার সন্ত্রাসীদের একটি বৈঠক হয়। সভাশেষে বড় আকারে খানাপিনার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সমাবেশটি ছিল রাজধানীর উত্তরাংশের সন্ত্রাসীদের সমঝোতা বৈঠক। সেখানে বর্তমান সরকার আমলে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ মনোমালিন্য দূর করা হয়। সূত্রমতে, এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে দু’গ্রুপ সশস্ত্র অবস্থানে চলে যায়। পরে স্থানীয় সরকারের এক সাবেক জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে উত্তেজনার নিরসন হয়। ওই বৈঠকে ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ত্রাসী গডফাদার উপস্থিত ছিল। রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন অতিপরিচিত হয়ে উঠেছে একটি ভিনদেশী মোবাইল নম্বর। কোন ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন স্ক্রিনে ওই নাম্বারটি ভেসে ওঠামাত্র তার শরীর থেকে ঘাম ঝরতে শুরু করে, জীবন-ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন তিনি। নম্বরটি ব্যবহার করে মিরপুরের সন্ত্রাসী গাজী সুমন। সে এক সময়ে ছিল মিরপুরের শাহাদত বাহিনীর কিলার। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নিজেই এক বাহিনী গড়ে তোলে সে। বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে সে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করছে ঢাকায়। গত এক মাসে ভারতীয় ৯১৮৩৪৯৯৩১৪৯৬ নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছে রাজধানীর একাধিক ব্যবসায়ীর কাছে।
তিন মাস আগে গোপন জামিনে বেরিয়ে এসেছে মিরপুরের আরেক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ব্যাঙ্গা বাবু। ক্ষমতাধর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা জামিন করিয়ে এনেছেন তাকে। জেল থেকে বেরিয়েই বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে সে। গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গা বাবু এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে ওই ব্যবসায়ী দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু তাতে ফল আসে নি কোন। এখনও প্রকাশ্যে মিরপুর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাঙ্গা বাবু। চার মাস আগে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল চার লাখ টাকা খরচ করে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে কেরানীগঞ্জের পরাগ অপহরণকারী মুক্তার হোসেন আমির ও তার তিন সহযোগীকে। পুরান ঢাকার সন্ত্রাসী কালা খোকনের নামে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে অবস্থান করছে র‌্যাব পুলিশের তালিকাভুক্ত ওই সন্ত্রাসী। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত বাহিনীর প্রধান শাহাদত ভারতে অবস্থান করেই মোবাইল ফোনে ওলট পালট করছে মিরপুর। মোবাইলেই চলছে তার দখল বাণিজ্য। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের মিরপুর-মহাখালী ও মিরপুর-ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডটি মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে দখল করে নিয়েছে সে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওই বাসস্ট্যান্ডটির আয় ভোগ করতেন মিরপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হানিফ। সূত্র মতে, শাহাদতের ভয়ে তিনি বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছে। বাংলাদেশে তার ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও চাঁদবাজি করতে গিয়েই পশ্চিমবাংলা পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। ঢাকার মগবাজার এলাকায় আবার সংগঠিত হতে শুরু করেছে তার ক্যাডাররা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইন কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকায় তার ক্যাডারদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বড় মগবাজার এলাকার একটি চারতলা ভবনের দোতলায়। সূত্র মতে, ওই বৈঠকে সুব্রত বাইনের পক্ষে উকিল নিয়োগের জন্য টাকা পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কিভাবে টাকার যোগাড় হবে সে বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মিরপুরের শাহাদত ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে গুজব ছড়িয়ে তার মুক্তির জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে গত মাসে। ভারতের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় ও হারিস। দেশের অভ্যন্তরে তাদের ক্যাডারাও হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যাডারদের মাধ্যমে ওই দুই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করছে ঢাকায়। সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি পরিশোধ করার পর মুখ খুলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। এমনই একজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলাপকালে জানান, রাজধানীর একটি থানায় এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ দায়ের করার এক ঘণ্টার মধ্যে বিদেশ থেকে ওই সন্ত্রাসী ফোন করে তাকে হুমকি দেয় অভিযোগ তুলে আনতে, ভয়ে তিনি থানায় যান অভিযোগ প্রত্যাহার করতে। থানায় গিয়ে দেখেন তার অভিযোগটি থানা আমলেই নেয়নি, থানা অভিযোগ রেকর্ডই করেনি- কিন্তু তার আগেই অভিযোগ দায়েরের কথা জেনে যায় বিদেশে অবস্থান করা ওই সন্ত্রাসী। সমপ্রতি কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে প্রভাবশালীদের সহায়তায় রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের জামিন নিয়ে আত্মগোপন করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গোপন জামিনের তোড়জোড় চলছে রাজধানীর কয়েক ডজন চেনা সন্ত্রাসীর। দেনদরবার, বোঝাপড়া ঠিক হলে আরও কঠোর গোপনীয়তায় জামিন পেয়ে যাবে ওইসব সন্ত্রাসীরা।

Sunday, December 16, 2012

এবারই প্রথম

এবারই প্রথম


ইতিমধ্যে বিভিন্ন ছবিতে ভিন্নমাত্রার সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা বসু। পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে বার ডান্সার, গ্যাং স্টার, প্রেমিকা, রাজনীতিবিদসহ আরও অনেক ধরনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী তিনি দেখিয়েছেন। এসব চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে ব্যাপক খোলামেলাই সব সময় দেখা গেছে বিপাশাকে। এদিকে সর্বশেষ ‘রাজ-৩’ ছবিতে একজন কালো জাদু প্রণেতার ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। এ ছবিতেও তিনি খোলামেলা ও রগরগে দৃশ্যে কাজ করেছেন ইমরান হাশমির বিপরীতে। এটি ছিল ইমরানের সঙ্গে বিপাশার প্রথম ছবি। এটি ছিল চলতি বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি। তবে এবার নতুন একটি ছবিতে বিপাশাকে দেখা যাবে পতিতার ভূমিকায়। দ্বিতীয়বারের মতো এ ছবিতে বিপাশার বিপরীতে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। এর আগে পতিতা চরিত্রে কোন ছবিতে অভিনয় করেননি বিপাশা। সেদিক থেকে চরিত্রটিকে বেশ চ্যালেঞ্জিংই মনে করছেন এ অভিনেত্রী। এ ছবিটি প্রযোজনা করতে যাচ্ছেন মহেশ ভাট। ইতিমধ্যে বিপাশা ও ইমরানকে ছবির জন্য পাকাপাকি করা হয়েছে। মূলত এই ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে পতিতাপল্লী নিয়ে। যেখানে দেখা যাবে জোরপূর্বক সাধারণ ঘরের একজন তরুণীকে নিয়ে এসে পতিতার কাজ করানো হয়। আর এ চরিত্রেই কাজ করছেন বিপাশা। এই পতিতাপল্লীর দালাল হিসেবে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। তবে এক সময় বিপাশার প্রেমেই পড়ে যেতে দেখা যাবে তাকে। ছবিটির শুটিং ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মহেশ ভাট। এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে বিপাশা বসু বলেন, আমি এ পর্যন্ত অনেক ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে মহেশ জি’র এই নতুন ছবি। এখানে পতিতা চরিত্রে কাজ করতে যাচ্ছি আমি। ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। আশা করছি দর্শকদের অনেক ভাল লাগবে।

ভারতে ধর্ষিতারা মুখ খুলছে...

ভারতে ধর্ষিতারা মুখ খুলছে...


অন্যসব দেশের মতোই ভারতেও ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিষয়টিকে লুকিয়ে চেপে যাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে বিচার না চেয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রচলন বেশি। কারণ এতে ধর্ষিতাকে অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সবাই হেয় করে। এমনকি বিয়ে পর্যন্ত হয় না। ফলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পিতা-মাতাসহ সব আত্মীয়-স্বজন বিচার না চেয়ে চেপে যেত ধর্ষণের ঘটনা। তবে সমপ্রতি হরিয়ানায় একটি গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পাল্টে যাচ্ছে এই চেপে যাওয়ার মানসিকতা। হরিয়ানার ঘটনাটি ছিল খুবই হৃদয় বিদারক। মাত্র ১৬ বছর বয়সী দলিত শ্রেণীর হাইস্কুল পাস একটি মেয়েকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করেছে আট দুর্বৃত্ত। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা নিপীড়ন চালায় মেয়েটির উপর। ভিডিও করে রাখে দৃশ্যটি। ধর্ষণের পর তাকে হুমকি দেয়া হয় কাউকে বললে হত্যা করে ফেলবে। মেয়েটিও চুপ করে থাকে সম্মানের ভয়ে। এরই মধ্যে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এটি দেখে ক্ষোভে অপমানে আত্মহত্যা করে মেয়েটির বাবা। তারপরই আলোচনায় আসে বিষয়টি। বিচারের দাবি জানায় দলিত সমপ্রদায়। ভিকটিমের মা বলেন, আমরা দেখলাম স্বামীকে হারিয়ে সম্মান হারিয়েছি আমাদের আর সম্মান হারানোর কিছুই নেই। ফলে চুপ থেকে লাভ কি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এভাবেই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাতে দলিত ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। গত ৫ বছরে ধর্ষণের হার উদ্বেগজনকভাবে ২৫ ভাগ বেড়ে গেছে। গায়ে পড়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় মেয়েদের উপর নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। হরিয়ানা সরকারি দল কংগ্রেসের একজন মুখপাত্র বলেন, ৯০ ভাগ ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রথমে স্বেচ্ছায় ঘটছে। ফলে তারা মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করার পক্ষে। এতে মেয়েরা তাদের চাহিদা স্বামীর সঙ্গে শেয়ার করলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে বলে জানান তিনি। হরিয়ানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা অনেক বেশি। আর এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন দলিত শ্রেণীর মেয়েরা। সর্বশেষ ১৯টি ধর্ষণের ঘটনায় ৬টির ভিকটিম দলিত শ্রেণীর। এতদিন মান-সম্মানের ভয়ে তাদের চুপ থাকাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে আসছিল সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্তরা। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। সর্বশেষ গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি সবাইকে সাহস যোগাচ্ছে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য।
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এখনও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে সে। সে বলেছে, আমি আমার স্বপ্ন হারিয়েছি। বাবার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার বানানোর। এখন সেটা পূরণ করতে পারবো কিনা জানি না। ধর্ষণের বিরুদ্ধে চুপ করে না থেকে মুখ খুলে প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচারের দাবি করার পথে উৎসাহী করার জন্য অনেক সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ওমেন এসোসিয়েশনের জাগমতি বলেন, তারা অপরাধ ও অপরাধীকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শাকিলকে অবশেষে প্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্বজিৎকে যারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, শাকিল তাদের হোতা। তাকে নিয়ে বিশ্বজিৎ হত্যায় অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করল ডিবি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করার নির্দেশ পেয়েই সেদিন ছাত্রলীগকর্মীরা নিরীহ বিশ্বজিৎ দাসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগকর্মীরা পুলিশকে বলেছে, জগন্নাথ ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নির্দেশেই তারা ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দিন পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসের ওপর হামলা চালায়।
শাকিলকে বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তার করে এরই মধ্যে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে বিশ্বজিতের কোনো পূর্ববিরোধ থাকা বা অন্য কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র মতে, হামলাকারীদের ওপর নির্দেশ ছিল, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করতে হবে। আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে ছাত্রলীগের নেতারাই হামলাকারীদের 'ব্যাপারটি দেখতে' ও 'সাইজ' করতে বলেন। এমন উসকানি পেয়ে কয়েকজন ক্রেজি হয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে! গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমনই দাবি করছে জগন্নাথ ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গ্রেপ্তারকৃতদের ছাত্রলীগের 'কেউ না' বলে দাবি করলেও বলছে, তারা সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। এই অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি গতকালই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শাকিল যেভাবে গ্রেপ্তার : ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলাম শাকিলকে ঢাকায় নিয়ে আসে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বেতাগী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযানে ডিবিকে সহায়তা করে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবারই শাকিলের অবস্থান জানা যায়।
আমাদের বরিশাল অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদককে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি জানান, বেতাগীর দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মীরের বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে শাকিল তার বোনের বাসায় পালিয়ে ছিল। তার বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার বাবা পটুয়াখালী কর কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনসার আলী গতকাল সকালে মারা গেছেন।
স্বজনরা জানান, ছেলের নৃশংসতার দৃশ্য দেখার পর থেকেই লজ্জায়-গ্লানিতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আনসার। গতকাল ভোরে ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর তাঁর মৃত্যু হয়।
'সাইজ' করতে চাপাতি : গোয়েন্দা সূত্র মতে, শাওন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অবরোধের সময় মিছিল করে শক্ত অবস্থান নিতে বলেছিলেন। অবরোধকারীদের ব্যাপকভাবে 'সাইজ' করতেও তাঁরা নির্দেশ দিয়েছিলেন। হামলার আগে মিছিল করে তারা জগন্নাথ ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ঘটনাটি 'দেখতে' বলেন। তাই অভিযুক্ত কর্মীরা প্রথমে আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ককটেল বিস্ফোরণকারী সন্দেহে বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। শাকিল অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সবাই বিশ্বজিৎকে মারধর করেছে।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ছাত্রলীগকর্মী নাহিদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছে, ককটেল নিক্ষেপকারী ভেবেই তারা বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। তার মতে, 'আঘাত বেশি হয়ে গেছে।' তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ নাহিদ অস্বীকার করে।
শাওন ও সাইফুল রিমান্ডে : আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুল আলম আকন্দ আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ সালামের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত দুই আসামির আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সিলেটের জাফলংয়ের 'পর্যটন' হোটেল থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন ও উৎপল দাস নামে দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ার কারণে গতকাল পর্যন্ত উৎপলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এদিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক সাইফুলকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলায় আরো তিন আসামি নাহিদ, কিবরিয়া ও টিপুকেও আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আলোচিত এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তবে এক সপ্তাহেও সেই হিসাব মেলেনি। কোতোয়ালি থানায় আটক চার পিকেটারকেও বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী। বিশ্বজিৎ হত্যার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাদের চারজনকে খুব ভালোভাবে দেখা গেছে। এসব কর্মী হলো শাকিল, শাওন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও সাইফুল। অন্য গ্রেপ্তারকৃত কাইয়ুম মিয়া টিপু ও এইচ এম কিবরিয়াও ঘটনাস্থলে ছিল বলে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছবি দেখে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রাজন তালুকদার, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, মীর নুরে আলম লিমন, ওবায়দুল কাদের তাহসীন, আজিজুল হক, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, আল-আমিন উজ্জ্বল, আলাউদ্দিন, রিন্টু, হিসাববিজ্ঞানের মোশারফ, কালা সুমন, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব, সোহেল, শিপলু ও পাভেল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
মামলা ডিবিতে : আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যার পর থেকেই ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে ডিবিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গতকাল। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিডিও ফুটেজে যাদের ছবি দেখা গেছে, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শাকিলসহ মোট ছয়জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। সব আসামিকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।'
হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি : এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল বিকেলে শাঁখারীবাজারে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, 'নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করতে হবে।' সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক বাবুল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিশ্বজিতের ভাই অপু দাস, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, নির্মল চ্যাটার্জি, বিপুল ঘোষ শঙ্কর, অ্যাডভোকেট শ্যামল রায়, রজত সুর রাজু, অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু, ব্রজগোপাল দেবনাথ, সজীব দে, মিন্টু দত্ত, দিলীপ ঘোষ শম্পা প্রমুখ।

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্থনৈতিক দিক দিয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক এসব বিষয় তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কাছে। ১৪ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান- বর্তমানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেখানকার অর্থনীতিও খারাপ অবস্থায়। তারা এখন ওয়াল-মার্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ক্রেতাদের কাছে তৈরী পোশাক রপ্তানি করতে পারে না। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। তার সফরের সর্বশেষ খবর কি? বাংলাদেশের এখন খুব বেশি কি প্রয়োজন- এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্র কি প্রস্তাব দিয়েছে? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমি নিশ্চিত আপনার এ বিষয়গুলো রবার্ট ব্লেক তার সফরের সময় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছেন।

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি


একটি অপরিচিত সিটিসেল নাম্বার থেকে বিকাশের ফোন, নিরাপদে আছি। তবে সীমান্তের কাছাকাছি, অবস্থা বুঝছি, সম্ভবত দেশেই থাকবো। পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পাড়ি দেবো। শুক্রবার বিকাল ৫টায় বিকাশের ওই ফোনটি
আসে মিরপুর এলাকার তার এক ক্যাডারের কাছে। বিকাশের নিকট আত্মীয় ওই ক্যাডার নিজেও ছিল কাশিমপুর কারাগারের গেটে। বিকাশকে বহনকারী গাড়িটি নিরাপদে চলে গেলে ওই ক্যাডার ফিরে আসে ঢাকায়। বিকাশের জামিনে মুক্তির বিষয়টি বৃহস্পতিবারই জানাজানি হয়েছিল কাশিমপুর কারাগারে। কারাগারের সিপাহিরাও জানতো বিষয়টি, কিন্তু নিষেধ ছিল কারাগারের বাইরে কাউকে জানাতে। এর আগে ঢাকার দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্টরা জেনেছিল তার জামিনের বিষয়টি, সেখানেও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় উপরের নির্দেশে। জেল থেকে মুক্তির জন্য বেছে নেয়া হয় সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবারকে। সময় ঠিক করা হয় সকালে। সকাল ৭টায় জামিনের কাগজপত্র পৌঁছে যায় জেল গেটে। অতি দ্রুত কাগজপত্র ঠিকঠাক করে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জেলগেট থেকে বেরিয়ে যায় বিকাশ। সূত্রমতে সকাল ৭টার আগেই অফিসে হাজির হয় কারা কর্তৃপক্ষ। একটি সূত্র জানায়, অত সকালে অফিসারদের অফিসে দেখে হতবাক হয়েছিলাম। সাধারণত ওনারা ওই সময়ে অফিসে আসেন না। একাধিক সূত্রে জানা গেছে বিকাশের জামিনের সঙ্গে জড়িত দুই ক্ষমতাধর রাজনীতিক। একজন আদালত থেকে গোপনে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন, অন্যজন ম্যানেজ করেছেন পুলিশ সহ কারাকর্তৃপক্ষকে, সহায়তা করেছেন গোপনে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যেতে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দু’জন জেলগেটের অদূরে অবস্থান করছিলেন। জেল গেটে ছিল দু’টি গাড়ি। দু’টি গাড়ির একটি ছিল পাজেরো, অন্যটি নোয়া মাইক্রোবাস। একটু দূরে ছিল সাদা রঙের দু’টি প্রাইভেট কার। জেল থেকে বেরিয়ে বিকাশ দ্রুত উঠে পড়ে দামি গাড়িটিতে। ওই গাড়িতে তার সঙ্গে ওঠে কালো চশমা পরা এক যুবক। সানগ্লাস পরা যুবক নিজেকে এক মন্ত্রীর ভাগনে বলে পরিচয় দেয়। এক কারারক্ষী জানান, গাড়িগুলো চলে যাওয়ার পর পুলিশ পরিচয়ের দু’জন চলে যায় রিকশায়। বিকাশের অন্য একটি সূত্র জানায়, মুক্তির সময় মিরপুর এলাকার তার ঘনিষ্ঠ লোকজন ও পরিবারের লোকেরাই ছিল, তারাই মন্ত্রীর ভাগনের পরিচয় দিয়েছে। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার পরই বিকাশ মুক্তি পেয়েছে। সে ভারতে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও আপাতত যাচ্ছে না, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে গ্রেপ্তার করা হবে না। সে দেশের ভেতরেই থাকবে। বর্তমানে বিকাশের নামে কোন মামলা নেই, সে সব মামলা থেকে জামিন পেয়েছে। তাদের মতে এখন বিকাশের শত্রু মিডিয়া।
বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের উত্থান হয় ’৮৭ সালে কল্যাণপুর পুড়াবাড়ি বস্তিতে চাঁদাবাজির মাধ্যমে। তবে এক বছর পর তাকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় মুগদা এলাকায়। আবার এক বছর পর ফিরে আসে মিরপুরে। সে সময় বাসা নেয় আগারগাঁও তালতলা এলাকায়। সে সময় এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের পর আবার চলে যায় মিরপুর এক নম্বর সেকশনের পাইকপাড়া এলাকায়। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে যুবলীগের রাজনীতিতে যোগ দেয় বিকাশ ও তার ভাই প্রকাশ। ছাত্রলীগের নেতা জরিপকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের কর্মীদের রোষানলে পড়ে তারা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওই সময়ের প্রভাবশালী যুবনেতার আশীর্বাদের কারণে ছাত্রলীগ নেতা হত্যার পর তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা যায়নি বলে একটি সুত্র জানায়। বিকাশ জামিনে মুক্তি পাওয়ায় মিরপুর এলাকার সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠলেও বিকাশ-প্রকাশের বিরোধীরা চরম মাত্রায় নাখোশ বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 



শোকসাগরে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্রধারী এডাম লানজা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে একটি স্কুলের ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। এমন বেদনাবিধুর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেঁদেছেন। তিনি শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের হৃদয় আজ ভেঙে গেছে। ঘাতক যে বা যারাই হোক রাজনৈতিক বিবেচনা দূরে রেখে উচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় তার চোখে অশ্রু ছল ছল করে ওঠে। ওবামা হাত দিয়ে সেই অশ্রু মোছেন। তিনি এ ঘটনায় আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সঙ্গে এতগুলো শিশুর প্রাণহানিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই শোকে আচ্ছন্ন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশী একমাত্র ছাত্র মামনুন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২০ বছর বয়সী এডাম লানজা আক্রমণ চালিয়ে রক্তের হোলি ছুটিয়ে দেয়। এর আগে বাড়িতে সে নিজের মাকেও হত্যা করে। তার মা ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষিকা। পরে স্কুলে হামলা চালানোর পরে সে আত্মহত্যা করে। খবরে বলা হয়, এডাম লানজা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই স্কুলে। তখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এমন সময় সে এক একটি ক্লাসে গিয়ে পাগলের মতো গুলি ছোড়ে। শিশুরা তখন যে যেভাবে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ওই স্কুলের বাতাস। কিন্তু খুনির মন গলেনি। সে এই অভিযানে ওই স্কুলের কমপক্ষে ৬ জন স্টাফকেও হত্যা করে। কিন্তু কি কারণে সে এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে, হামলার সময় সে তার অন্য ভাই রায়ানকে সঙ্গে নিয়েছিল কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। বলেন, যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছোট্ট ছোট্ট শিশু। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর। তাদের সামনে পুরোটা জীবন পড়েছিল। তাদের জন্মদিন, গ্র্যাজুয়েশন, বিয়ে, নিজের মতো করে একটি সংসার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকও। তারা এসব শিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছিলেন। তিনি বলেন, এসব শিশু আমাদের সন্তান। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন নিরাপদ
কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলে পড়া একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন আহমেদ (৬)। তাকে জীবিত কাছে পেয়ে পিতামাতা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বের শহর নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার সকালে যখন বন্দুকধারীর তাণ্ডব চলে, তখন বিদ্যালয়েই ছিল মামনুন। সে প্রথম গ্রেডের ছাত্র। সে বলেছে, স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্লাস টিচার আমাদের ক্লোজেটে ঢুকিয়ে চুপ হয়ে থাকতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্য শিক্ষিকা ও পুলিশের সাহায্যে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর আর কিছু জানি না। আমার খুব ভয় লেগেছিল। এখনও ভয় পাচ্ছি। তার মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, স্কুলে ৯টা ৪০ মিনিটে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় টেলিফোন বেজে ওঠে। বলা হলো স্কুলে না যেতে। এরপর টেলিভিশনে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সুরাইয়া। বলেন, ছুটে যাই স্কুলের কাছে। বেলা ১২টায় দেখতে পেলাম আরও কিছু ছেলের সঙ্গে লাইন ধরে মামনুন বের হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বড় ছেলে পড়ে কাছেরই মিডল স্কুলে। তাদের স্কুলও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম এডাম লানজা। তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ স্কুলশিশুসহ ২৭ জন নিহত হন। তার মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে হত্যার পর এডাম আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি


‘বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎকে কুপিয়েছি। রড দিয়ে খুঁচিয়েছি।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিরপরাধ পথচারী বিশ্বজিৎকে হত্যার কথা এভাবেই স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে
৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি এলাকার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিরার বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরান ঢাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সিলেটের জাফলং এলাকার একটি রেস্টহাউজ থেকে শনাক্ত হওয়া আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন (২৪) ও রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হচ্ছে উৎপল ও রায়হান। এদের মধ্যে রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে উৎপলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আজ শাকিল ও রায়হানকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশেদুজ্জামান শাওন সাংবাদিক পরিচয়ে সিলেটের জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনের একটি রুম ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল বরগুনার বেতাগী উপজেলার নানার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। সেখান থেকেই শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শাকিল সাদা রঙের চকচকে চাপাতি দিয়ে বিশ্বজিৎকে উপর্যুপরি কোপাচ্ছে। বার বার মিনতি করলেও বিশ্বজিৎকে ছাড়েনি। শোনেনি তার কথা। কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে বীরদর্পে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়েছে। এদিকে পুত্রের এহেন বর্বরতার দৃশ্য দেখে শাকিলের পিতা আনসার আলী গতকাল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানায়, পরিকল্পিতভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করিনি। বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় বিশ্বজিৎকে পিটিয়েছি। আহত বিশ্বজিৎ বাঁচার জন্য কি বলেছে সে কথাই শুনতে পাইনি। শিবির মনে করেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছি। কোপানোর পরে রক্তমাখা শার্ট গায়ে দিয়েই নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। পরে বাসায় গিয়ে চাপাতি ও শার্ট রেখে বাইরে বেরিয়েছি। দুপুরের দিকে খবর পেয়েছি, বিশ্বজিৎ মারা গেছে। তখন থেকেই মনে ভয় ঢুকেছে। ভয়-ভীতি কাটানোর জন্য ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে ফোন দিয়েছি। তারা ধমক দিয়ে বলেছে, কিছুই হবে না, চুপচাপ থাক। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে পালানোর নির্দেশ পেয়ে ঢাকা ছেড়েছি। শাকিলের খালাতো ভাই রায়হান জানায়, আমি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র। বাবা মানসিক বিকলাঙ্গ। ছোট একটি বোন আছে। তাই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে বাড়িতে টাকা পাঠাই। ঘটনার পরপরই শাকিল আমাকে তার কাছে ডেকে নিয়ে যায়। বলে, আমার ভয় করছে। তুই সঙ্গে থাক। তার কথামতো দু’জনে একসঙ্গে নানা বাড়িতে অবস্থানকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। সূত্র জানায়, তাদের গ্রেপ্তার করার পরপরই শাকিলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম পুরান ঢাকার একটি বাড়ি থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ৯ই ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানা এলাকায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক যুবক দুষ্কৃতকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশকে সহায়তা করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগিতা করছে। গণমাধ্যমে ধারণকৃত ছবি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার একপর্যায়ে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অপর অভিযানে সিলেট জেলার জাফলং থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন, উৎপল এবং রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার এস আই মাহবুবুল আলম আকন্দ বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্রমতে, শনাক্ত হওয়া আসামি সাইফুল ইসলামের পিতার নাম মো. আবদুল হাই। বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার চন্দনবাড়ি গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য উত্তরা এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। অপর শনাক্ত হওয়া আাসামি রাশেদুজ্জামান শাওনের পিতার নাম জি এম লুৎফর রহমান। তার পিতা-মাতা উভয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার নাসিরপুর গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
নেতারা গোয়েন্দা নজরদারিতে: বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক ছাত্রলীগ নেতার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই পলাতক আসামিরা ওই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শনাক্ত হওয়া আসামিরা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। একারণে ওই ছাত্রলীগ নেতাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, জবি ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের গ্রুপভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন, তাহসিন কাদের ও ইউনুছ সভাপতি গ্রুপের। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান নাহিদ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের।
পুত্রের কর্মকাণ্ডে পিতার মৃত্যু: এদিকে আমতলী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে ঢাকার একটি গোয়েন্দা পুলিশের টিম বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে তার পিতা আনসার সিকদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনি মারা যান। শাকিলের বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রি শিবপুর গ্রামে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা ডিবিতে: এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা সূত্রাপুর থানা পুলিশ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এবং গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্তের ভার গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বাদী সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম আকন্দ।
জাফলংয়ে রুম ভাড়া নেয় উৎপল ও শাওন
ওয়েছ খছরু ও মিনহাজ উদ্দিন, সিলেট থেকে জানান, জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে রুম ভাড়া নিয়েছিল উৎপল ও শাওন। এরপর তারা ঘুরে বেড়িয়েছে জাফলংয়ের পর্যটন স্পট পিয়াইন নদীতে। ঘুরেছে আদিবাসী পল্লীতে। বেশ ফুরফুরে মেজাজে তাদের ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আর রাতে যখন তারা হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল তখনই ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের অভিযানে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাদের দেখতে ভিড় জমান পর্যটন হোটেলের সামনে। জাফলংয়ের মামার দোকান এলাকায় হোটেল পর্যটনের অবস্থান। পর্যটন স্পট বল্লাঘাটে যাওয়ার মূল রাস্তার পাশেই এ হোটেল। এর বিপরীত পাশে হোটেল প্যারিস। স্থানীয় লোকজন জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেল প্যারিসের সামনে এসে দাঁড়ায় একটি নোয়া মাইক্রোবাস। ওই মাইক্রোবাসে ছিল ৬ থেকে ৭ জন সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ। তারা গাড়ি থেকে নেমেই চলে যান হোটেল প্যরিসে। প্রায় ৫ মিনিট ব্যাপী তারা হোটেল প্যারিসের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান। এ সময় সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা চলে আসে হোটেলের নিচে। এরপর প্যারিস হোটেলে ঠিক বিপরীত পাশের হোটেল পর্যটনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে হোটেলের এক রুম এক রুম করে তল্লাশিকালে ১২নং কক্ষে পাওয়া যায় উৎপল ও শাওনকে। গোয়েন্দা পুলিশ তাদের নাম জিজ্ঞেস করলে ছন্দনাম ব্যবহার করে দু’জনই। তবে পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যর ভিত্তিতেই তাদের সনাক্ত করে এবং কক্ষের ভেতরেই কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এরপর দু’জনকে নিয়ে আসে গাড়িতে। গাড়িতে বসিয়ে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মানিক মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রায় ৫ মিনিট অবস্থানকালে সেখানে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ছুটে এলে গোয়েন্দা পুলিশ আটক দু’জনকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন। হোটেল পর্যটনের ম্যানেজার মানিক মিয়া অভিযানের পর মানবজমিনকে জানিয়েছেন, উৎপল ও শাওন শুক্রবার দুপুর ১২টায় তাদের হোটেলে আসে। এ সময় উৎপল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোটেল কক্ষে রুম চায়। এ কারণে তাদের হোটেলের ১২নং কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। তিনি জানান, তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ১২নং রুম নেয়ার পর তারা একাধিকবার নিচে নেমে গেছে। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে তাদের। তারা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভাত খেয়েছে। জাফলং বল্লাঘাট পর্যটন স্পট ঘুরে বেড়িয়েছে। এদিকে, হোটেল সূত্রে জানা গেছে, উৎপল তার নিজের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে হোটেল কক্ষে রুম নিলেও শাওন তার ঠিকানা ভুল দেয়। এর মধ্যে উৎপল নিজেকে উৎপল দাস, পিতা চিত্তরঞ্জন দাস, থানাহাটি, রায়পুরা বলে হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লেখায়। আর শাওন নিজেকে পরিচয় দেয় রাশেদ হাসান বাদল নামে। তার পিতার নাম শাহরিয়ার হাসান উল্লেখ করে ঠিকানা ব্যবহার করে ১০৪ মহসিন হল ঢাকা। এদিকে, হোটেল প্যারিসের কর্তৃপক্ষ গতকাল জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হোটেলেও তল্লাশি চালিয়েছে। তবে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে যায়। সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়ার হোসেন অভিযানের পরপরই উৎপল ও শাওন গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ জাফলংয়ে অভিযান চালাতে জেলা পুলিশের সহায়তা চায়। এ কারণে জেলা পুলিশ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়েছে। অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি শফিকুর রহমান ও জৈন্তাপুর থানার ওসি আবদুল জলিল। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উৎপল ও শাওনকে আটকের পর রাতেই তারা ঢাকা নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। পুলিশ সুপার জানান, আটককৃত দু’জনকে নিয়ে সিলেটের কোথাও ঢাকার গোয়েন্দারা অবস্থান করেননি।

Saturday, December 15, 2012

বিজয়ের পুনর্পাঠ

বিজয়ের পুনর্পাঠ হারলে হাহাকার করো। জিতলে জোয়ারে ভেসে যাও। আমাদের ক্রীড়া-সংস্কৃতির হাওয়াটা মোটামুটি এ রকম। গত কয়েক বছরে চিন্তায় একটু আধুনিকতা এসেছে, এখন হারলে আমরা এর মধ্যে শিক্ষা খুঁজি। কেন হলো না! ভবিষ্যতে তাহলে এমন করা উচিত! অমুকের জায়গায় তমুককে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে- ইত্যাদি। কিন্তু জয়ের ক্ষেত্রে এখনো সেই মধ্যযুগেই পড়ে। আবেগী জোয়ারে সব ভেসে গিয়ে বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে যা হয়েছে সব ঠিক হয়েছে। যিনি জেতা ম্যাচে শূন্য রান করেছেন তিনিও ঠিক করেছেন। বেদম ঠ্যাঙানি খাওয়া বোলারও এখানে নির্দোষ। কোনো কিছুই আর ভুল নয়। এবং ভুলটা আসলে এখানেই। জয়ের মধ্যেও শিক্ষা থাকে। সেই শিক্ষা নিতে হয়। নিলে ছোট জয় বড় জয়ের পথ তৈরি করে। এখন যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের গরমটা একটু কমে এসেছে, যখন স্বপ্নে ওড়াউড়ি থেমেছে তখন একটু ফিরে গিয়ে দেখি আসলে এই বিজয় আমাদের কী শিক্ষা দিল! চলুন একটু পুনর্পাঠ হয়ে যাক।
ছোটখাটো অনেক শিক্ষা আছে। সেগুলোকে এক পাশে সরিয়ে একটু বড় করে চিন্তা করলে দেখছি শিক্ষা হচ্ছে তিনটি।
১. সাকিব-তামিম ছাড়াও বাংলাদেশ পরাক্রমশালী দলকে সিরিজে হারাতে পারে।
২. অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক পারফরম করলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
৩. সাফল্যের জন্য কোচের আসলে দরকারই নেই কোনো। ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়েই তো চলে।
প্রত্যেকটা ব্যাপার একটু সরলীকৃত। টীকা বা ব্যাখ্যা আবশ্যক। এক-এক করে একটু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি।
সাকিব-তামিম ছাড়াও হয়
এই উপশিরোনামের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত করবেন। তথ্যগত ভ্রান্তিই তো আছে। সাকিব ছিলেন না, তামিম তো ছিলেন। ছিলেন কিন্তু না থাকার মতোই তো। আমাদের আলোচ্য ওয়ানডে সিরিজে একটি বাদ দিলে বাকি চার ইনিংসে তাঁর সেই অর্থে রান নেই, তিনি ব্যর্থ, তবু দল চারটির দুটোতেই জিতেছে। মোটের ওপর সাকিবের পাঁচ ম্যাচে না থাকা এবং তামিমের প্রায় না থাকার মতো থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে। জিতে দিয়েছে বড় একটা স্বস্তি। বাংলাদেশ এখন আর শুধু দুই খেলোয়াড়ের দল নয়। এর বাইরের বাংলাদেশ তৈরি হয়ে গেছে। এতটাই যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও সিরিজ হারিয়ে দিতে পারে।
কোনোরকম ভণিতায় না গিয়ে স্পষ্ট বলে ফেলা যাক, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলেছেন সাকিব-তামিম। এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশ কিছু ভালো করছিল, হাবিবুল বাশার দীর্ঘদিন একা লড়াই করে বাংলাদেশকে টেস্টে টিকিয়ে রেখেছিলেন, আশরাফুল-মাশরাফিরাও নিজেদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে আগমনী ধ্বনি শুনিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো আগমনী ধ্বনিই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে সত্যিকারের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা সাকিব-তামিমের মাধ্যমেই। বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিভা তাঁরা, কিন্তু শুধু প্রতিভা বোধ হয় নয়, সঙ্গে এর যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষকে সুপার পাওয়ার না ভেবে স্রেফ প্রতিপক্ষ ধরে খেলে যাওয়ার মানসিকতা ঘটিয়েছে আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলটি। সাকিব পারফরম্যান্সের বিস্ময়কর ধারাবাহিকতায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন, তামিম অবিশ্বাস্য সামর্থ্যে বিশ্বের অনেক বোলিংকে তুলোধুনো করেছেন। বাংলাদেশের মূল যে সমস্যা ছিল, প্রতিভার পারফরম্যান্সে অনূদিত না হওয়া, সেই আফসোসও দূর হয়েছে ওদের সামর্থ্যে ভর করে। আর তাতে পরের প্রজন্মে ছড়িয়েছে এই শিক্ষা। আমাদের এখানে যে বা যাঁরা সেরা তাঁরা বিশ্ব-ক্রিকেটেও সেরাদের কাতারে যেতে পারেন, যখন প্রাক সাকিব-তামিম যুগে ধরেই নেওয়া হতো আমাদের সেরারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেছনের বেঞ্চের ছাত্রই থাকবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-তামিম এতটাই আর এতটা যখন তখন তাঁদের ছাড়া সিরিজ জেতার মূল্য কতটা! তাঁদের ছাড়া সিরিজ জিতে বাকিদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা তৈরি হলো যে, আমরাও পারি। ব্যক্তিগতভাবে ওদের মতো বিশ্বসেরাদের কাতারে না যেতে পারলেও মিলিত শক্তিতে আমরাও আন্তর্জাতিক স্তরের। যে কাউকে হারাতে পারি। ব্যক্তিই দলের প্রতীক হয়, দলকে উঁচু থেকে উঁচুতে নেয়, কিন্তু ব্যক্তিসর্বস্ব হয়ে থাকলে সামগ্রিক উন্নতি ঘটে না। ব্যক্তির অবর্তমানেই তো সব শেষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় জানিয়ে গেল, সাকিব-তামিমের বাইরেও বাংলাদেশের ক্রিকেট আছে। ক্রিকেটার আছে। এই সিরিজ দিয়ে চিন্তার, বিশ্বাসের একটা পথবদলও বোধ হয় ঘটল।
অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক যদি সামনে থাকেন
যে সাকিব-তামিম বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে ছিলেন, তাঁরাই আবার আরেক দোষে দুষ্ট ছিলেন। পারফরম্যান্সগত পার্থক্যের কারণে দলের দুজন হয়েও তাঁরা ছিলেন একটু আলাদা। একটু ওপরে। সেটা প্রায় সব দলেই কেউ না কেউ থাকেন। এবং তাঁদের পারফরম করার পাশাপাশি আরেকটা দায়িত্বও থাকে। এই ব্যবধানটা স্পষ্ট হতে না দেওয়া। এমন কিছু না করা যাতে করে দলের বাকিদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। বিশ্বকাপের সময় এবং জিম্বাবুয়ে সফরে সেটা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিতে হয় দায়িত্ব থেকে। অপ্রিয় এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অনেকেরই তখন সন্দেহ ছিল, দলের এত বড় দুজন তারকাকে দলে রেখে কে নেতৃত্ব দেবে? আদৌ সাফল্যের সঙ্গে সেটা সম্ভব হবে কি না! এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উজ্জীবিত ছবিতে সন্দেহটা দূর হয়েছিল। মুশফিকের বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের এক দলের ছবি। তবু যেন কিছু বাকি ছিল। সেবার ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য হেরে চূড়ান্ত বিজয়টা হয়নি। অধিনায়কও সাফল্যের মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন না। এবার হলো, দল জিতল আর একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মুশফিক। ঠিক তাঁর পাশে পাশেই চললেন আরেকজন। সহঅধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলুক ক্রিকেট খেলাটা আজও শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের খেলা, সেখানে অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক লড়াইয়ে সামনে থাকলে দল উজ্জীবিত হবেই। হতে বাধ্য। নিজে পারফরম করলে বাকিদের তাগিদ দিতে সুবিধা হয়, বলার মতো গলাও থাকে, পারফরম্যান্স না থাকলে যে শক্তিটা হারিয়ে যায়। নেতার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং অভিভাবকত্ব মিলেই তৈরি হয় ক্রিকেট দলের গতিপথ। মুশফিক-মাহমুদের ব্যক্তিত্বে সংকট নেই, সতীর্থদের মধ্যে তাঁরা প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয়। এখন দেখছি সংকট নেই তাঁদের পারফরম্যান্সেও। কাজেই আশার উজ্জ্বল আলো।
কোচ নিয়ে অকারণ বাড়াবাড়ি
রিচার্ড পাইবাসকে আনতে গিয়ে যেভাবে প্রায় নাকে খত দেওয়া হয়েছিল এবং যেভাবে প্রায় বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তিনি গেলেন, সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো উদাহরণ হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগেই এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলাম এই নিয়ে আমরা যতটা বাড়াবাড়ি করি অতটা বাড়াবাড়ির আসলে কি দরকার আছে? এই সিরিজের শিক্ষা- দরকার নেই আসলে। কারণ, এবার তো এক অর্থে বাংলাদেশ কোচ ছাড়াই খেলল। শন জার্গেনসেন দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তিনি তো ভারপ্রাপ্ত কোচ। কেউ ছিলেন না বলে তাঁকেই...। এমন অগতির গতি দিয়ে যখন সিরিজ জিতেছি, যখন অনেক নামকরা কোচ নিয়েও লজ্জাজনক হার হয়েছে। তাতে প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে না যে কোচ লাগবে না কিন্তু অন্তত এটা বোঝা যাচ্ছে, কোচই সব করে দেন না। করে খেলোয়াড়রা। করে দল। সেই দলীয় সংহতি ঠিক রেখে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয়টা যিনি ঠিক রাখতে পারবেন তাঁকেই আসলে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এখন যাঁরা বিখ্যাত কোচ তাঁদের কেউই বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ছিলেন না, তাঁদের নামটা হয়েছে ট্যাকটিকসের সূত্রে। সেই ট্যাকটিকস ঠিকঠাকমতো প্রয়োগ করা আবার মাঠের অধিনায়কের হাতে। সেখানেই সাফল্যের ফর্মুলাটা ঠিকঠাক তৈরি হয় যেখানে কোচ-অধিনায়কের রসায়নটা ঠিক জমে। ভাষা আর সংস্কৃতিগত ঘাটতি, তারকাখ্যাতিসূত্রে কোচের উন্নাসিকতা ক্ষেত্রবিশেষে সেই জুটি তৈরির পথে বাধা। নতুন কোচ নেওয়ার আগে এসব ভাবা উচিত। তা ভাবার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে গেল সিরিজ। আর এর চেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো আমাদের জন্য ট্যাকটিশিয়ান হেড কোচের চেয়েও বেশি জরুরি হলো স্পেশালিস্ট কোচ বা এই জাতীয় কিছু। নিশ্চিতভাবেই সাকলায়েন মুশতাকের কারণে আমাদের স্পিনারদের এমন ধারালো আর বিষাক্ত দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে তাঁর দেওয়া টোটকা টনিকের মতো কাজ করেছে নিশ্চয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ রকম বিশেষজ্ঞ কোচই বোধ হয় এখন দরকার, যেমন একজন বিখ্যাত ব্যাটসম্যান এসে ব্যাটসম্যানদের ভুলের সূক্ষ্ম জায়গাগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে হেড কোচ হিসেবে ট্যাকটিকস জানা লোকই আদর্শ, কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের খেলোয়াড়রা খুব ভালো কোচিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উঠে আসেন না। মূল দলে এসেও তাই কিছু শিক্ষা, টেকনিকের কিছু বিন্যাস তাঁদের দরকার পড়ে। দরকার পড়ে ম্যাচ সিচুয়েশনের কিছু মনস্তাত্ত্বিক চাপ জেতার কৌশলও। কাজেই হেড কোচের মতো একজন ব্যাটিং কোচও বোধ হয় খুব তাড়াতাড়িই দরকার।
এর বাইরেও শিক্ষা আছে কিছু। টেস্টসহ পুরো সিরিজটাকে ধরলে আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আমাদের পরের প্রজন্ম খুব ভালো তৈরি হয়ে গেছে। যতই আমরা জাতীয় লিগকে হেলাফেলা করি না কেন, সেখানকার পারফরমাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচকদের মাঠটা তাই বড় হয়ে গেল। সোহাগ-এনামুল-মমিনুলদের দেখে তাঁরা বিশ্বাসের সঙ্গেই জাতীয় লিগের যেকোনো পারফরমারকে দলে নিতে পারেন। চিন্তার বিষয় শুধু এটাই, এই পারফরমাররা শুরুর চমকটা ঠিক ধরে রাখতে পারেন না। কেন? দিকভ্রান্তিটা ঘটে ঠিক কী কারণে?
এই জয়োৎসবেও এসব নিয়ে কি একটু ভাবব! ভয় কিন্তু ওটাই। জিতলে যে আমাদের মনে হয় সবই ঠিক আছে। আমাদের কাছে জয় মানে তো জোয়ারে ভেসে যাওয়া। প্রাণঢালা সংবর্ধনা, আন্তরিক অভিনন্দন, হৃদয় নিংড়ানো আবেগ, লম্বা বক্তৃতা, বিস্তর পুরস্কার ইত্যাদি ইত্যাদি।

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাস করে বস্তিতে। অন্যান্য দেশের মেগাসিটির বাসিন্দারা নানা নাগরিক সুবিধা পেলেও ঢাকার অধিকাংশ বাসিন্দা রয়েছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার বাইরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চরিত্রের দিক থেকে ঢাকা মেগাসিটি নয়। এখানে শুধু লোকসংখ্যা বাড়ছে। নাগরিক সুবিধাদি বাড়েনি। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা নগরীর বস্তিগুলোতে যে ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে, তাদের অধিকাংশই অশিক্ষিত। বস্তির ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পড়তে এবং লিখতে পারেন। এদের ১৯ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে-ছেন। বস্তির পুরুষদের ৪০ শতাংশ দিনমজুর। ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত আছেন ১৬ শতাংশ, ১১ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক। আর বস্তির নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ ভিক্ষুক, ২৩ শতাংশ গৃহকর্মী, রাস্তাঘাটে দোকান করছেন ৯ শতাংশ। এছাড়া ৮ শতাংশ মহিলা যৌন শ্রমিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর একেএম নুরুন্নবী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো নয় বলেই ঢাকা শহরে দিন দিন বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বস্তিবাসীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের শিক্ষা নেই, কাজ নেই, খাবার নেই। চাষাবাদে টিকে থাকতে না পেরে এরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। ডক্টর নুরুন্নবীর মতে, সাধারণ মানুষের স্থান বদল বেড়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে যে কারণে স্থান বদল বাড়ছে, তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। এদের বেশিরভাগ লোক নিঃস্ব হয়ে গ্রামে কিছু না করতে পেরে শহরে আসছে।

ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর নিঃস্ব ও নিম্নআয়ের লোকজনের মধ্যে ২০ শতাংশই গত ১০ বছর ধরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন। সবচে ভয়াবহ তথ্য হল-নিম্নআয়ের যেসব মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি (নারী ৩০ শতাংশ, পুরুষ ১৮ শতাংশ)। জরিপে

দেখা গেছে, ফুটপাতে নারীর অবস্থান গড়ে ৯ বছর। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এ গড় ছয় বছর। ফুটপাতবাসী ৭১ শতাংশ মহিলা বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তারা ফুটপাতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পরিবারের নানা ঝামেলার কারণে ১২ শতাংশ ফুটপাতে বাস করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকজনের স্থান বদলের সাথে একটি দেশের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের লোকেরা যে স্থান বদল করছে, তাতে উপকার কিছুই হচ্ছে না। ডক্টর নুরুন্নবী এ বিষয়ে বলেন, যারা ঢাকা শহরের দিকে ছুটছেন তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে এখানে আসছেন। আমাদের হাতে বিকল্প শহর নেই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যা আছে। ৭০-এর দশকে অনেকে জেলা শহরে বাস করেছেন। এখন যুগ পাল্টেছে। সবাই রাজধানীমুখী। মানুষ মনে করে, এখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকামুখো জনস্রোত ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তার মত হচ্ছে, এটিও এখন শক্ত কাজ। প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক নতুন করে ঢাকার বাসিন্দাদের সাথে যুুক্ত হচ্ছেন। আবার কৃষি জমি কমছে এক শতাংশ হারে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা শহরের পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যাপক নুরুন্নবীর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার দুটি সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম। এছাড়া শহরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাচ্ছে। ধনী এবং গরীবের বৈষম্য অনেক বাড়ছে।

ঢাকা শহরে শুধু যে বস্তিবাসীই বাড়ছে তা নয়, যেসব শিক্ষিত শ্রেণী চাকরি নিয়ে ঢাকার বাইরে যান, তারাও সেখানে থাকতে চান না। সরকারি চাকরিজীবীরাও ঢাকার বাইরে যেতে চান না বললেই চলে। অনেকে গেলেও আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। এর ফলেও ঢাকাতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমাদের দেশে প্রশাসনের বিকেন্দ ীকরণ করা না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। যারা ঢাকার বাইরে চাকরি করেন, তাদের যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হয় তাহলে সেখানে তারা থাকবেন কেন? উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি নষ্ট হলে তিনি সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সারাতে পারেন না। তাকে কেন্দে র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসব কারণে অনেকে মফস্বলে যেতে চান না। আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অনেকে গ্রামে যেতে চান না।

১৩ সদস্যের ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি দেড় হাজার শিক্ষার্থী:পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৩ সদস্যের ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি দেড় হাজার শিক্ষার্থী:পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের ১৩ সদস্যের বর্তমান কমিটির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে সিট দখল, ডাইনিংয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে যেতে বাধ্য করা, ভাঙচুর, এমনকি নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষকদের একটি অংশের প্রশ্রয় রয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রনমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশীদকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা শিক্ষক সমিতির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ও কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ ক ম মোস্তফা জামানের বাসভবনে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে আগুন জ্বালায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগকর্মীরা তিনটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়।
হামলার কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান সোহাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হারুন অর রশীদ স্যার যোগ্য। তাই তাঁকেই ভিসি হিসেবে আমরা দেখতে চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় মিছিলে এসেছে। মিছিলের মধ্য থেকেই কেউ হয়তো জামান স্যারের বাসায় ইটপাটকেল ছুড়ে থাকতে পারে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত নয়।'
অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, 'ছাত্রলীগ আমাকে উপাচার্য হিসেবে চাইছে_এটা তাদের দাবি। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।

'আবুল হোসেন কেঁচো!'

'আবুল হোসেন কেঁচো!' 

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে কেঁচোর সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। তিনি বলেছেন, 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে!' গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাভিশনের টক শো 'নিউজ এন্ড ভিউজ'-এর আলোচক এবিএম মূসা এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় টক শোর অন্য আলোচক ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আবুল হোসেন দোষী কি নির্দোষী- বিষয়টি আদালতে প্রমাণ না করে সরকার কেন তাঁকে রক্ষার ব্যাপারে গো ধরল- সঞ্চালকের এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এ বিষয়টি অবশ্যই সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হয়নি। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, মামলা হওয়া তার মানে সে অপরাধী তা কিন্তু নয়। আমার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে আমি তো অনিয়ম করিনি, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাব।'
এ সময় এবিএম মূসা বলেন, 'এটা আমার যা মনে হয়, আবুল হোসেন কেঁচো। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে যায়। এ কারণে কেঁচোটাকে (সৈয়দ আবুল হোসেন) ধরা হচ্ছে না। মাটি খুঁড়ে কেঁচো বের করা হচ্ছে না, কারণ সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। যারা সাপুড়ে তারা ইচ্ছে করেই গর্তে হাত দিচ্ছে না। কারণ গর্তে হাত দিয়ে কেঁচো খুঁড়ে বের করতে গেলে সাপে কামড় দিতে পারে।'
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে- এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'একটু অশালীন গ্রাম্য ভাষায় বলতে হয়, তাহলো সরকার ফাটা বাঁশে আটকে গেছে।'
সরকার যদি পদ্মা সেতু প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে অন্যদিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে কী ক্ষতি হবে- মোস্তফা ফিরোজের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এখন সরকারের জন্য এটা দুই দিকেই নেতিবাচক বা বিপদ। এটা এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যে পর্যায় এসেছে তাতে বিশ্বব্যাংক বা অন্য দাতা সংস্থা আবার নতুন করে পদ্মা সেতুতে আসবে এটা কঠিন। কারণ এখানে মূল জায়গায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যা করছে তা বিতর্কিত হচ্ছে।' তিনি আরো বলেন, 'এটা বাংলাদেশের মধ্যে একটি বড় প্রকল্প। মানুষের মধ্যে একটা আশার সৃষ্টি হয়েছিল। পদ্মা সেতু হলে শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষেরই লাভ হতো না, সারা দেশের লাভ হতো। এমন একটি পর্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প এসেছে এখন এটাকে ছেড়ে দিলেও বিপদ আর এভাবে ধরে রাখলেও বিপদ।'
পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'পদ্মা সেতুর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে পদ্মা সেতুর বিষয়টির সুরাহা হলো না। এ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করে, তাহলে আর যে সময় আছে এই সরকারের হাতে তাহলো ১০ মাস। যে কাজ চার বছরে হয়নি সে কাজ ১০ মাসে হবে তা পাগলেও বিশ্বাস করে না। এই একটি বিষয়ে এই সরকারের সব স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে একটা প্রশ্ন সবাই বারবার সামনে নিয়ে আসছে তাহলো আবুল (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন) দোষী কি নির্দোষ? এটা সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত হচ্ছে না।' পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তাঁর নিজ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে এবিএম মূসা বলেন, 'সৈয়দ আবুল হোসেন সৎ ও দেশপ্রেমিক। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি (সৈয়দ আবুল হোসেন) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।' তিনি আরো বলেন, 'এই পদ্মা সেতু করতে গিয়ে এই সরকার অনেক বেকায়দায় পড়েছে। এখন আমার মনে হয় না এই গ্যাঁড়াকল থেকে সরকার বেরোতে পারবে।'

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরাঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ভাগের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সনদ দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা। এত দিন কেবল কাউন্সিলর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এসব সনদ দেওয়ার এখতিয়ার ছিল। সম্প্রতি এ ক্ষমতা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদেরও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তারা বলছে, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে কোনো সনদ ইস্যুর নজির কোথাও নেই। ডিএসসিসি এই নজির স্থাপন করে নগরবাসীকে অপমান করছে। যাঁরা এসব সনদ দিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন, ভবিষ্যতে তাঁদেরও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডিএসসিসির সচিব মো. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যাঁরা আগে সনদ ইস্যুর দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁরা আর পেরে উঠছিলেন না। সনদ পেতেও অনেক সময় দেরি হচ্ছিল। তখন চিন্তা করা হলো- কিভাবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমিয়ে তাড়াতাড়ি সনদ দেওয়া যায়। তাই এই আদেশ জারি করা হয়েছে।' জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) বিভক্তির আগে কেবল ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ডিসিসির প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারাই এসব সনদে স্বাক্ষর করতেন। বিভক্তির পর মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নগরবাসীকে নানা ধরনের সনদ নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিড়ম্বনা এড়াতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় প্রধান, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের হাতে সনদ দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব মাহবুব হোসেন একটি অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশে দেখা যায়, এসব কর্মকর্তার পাশাপাশি সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদেরও জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব, ওয়ারিশানসহ বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অঞ্চল-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী মো. রোকনুজ্জামানের মূল পদ কেয়ারটেকার। তাঁকেই দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব। তিনি এখন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে অঞ্চল-৫-এর আফজালুল আজম রেজাও কেয়ারটেকার। তিনিও ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে সনদ দিয়ে যাচ্ছেন। অঞ্চল-১-এ দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু নাসের কচি। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ এ দায়িত্ব না দিলেও অঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন বলে সূত্রে জানা যায়। অবশ্য সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি আসার আগে থেকেই কচি সনদ ইস্যু করে যাচ্ছেন। আগের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।'
এ ছাড়া অঞ্চল-৪-এর মেহেদি হাসান ও অঞ্চল-২-এর সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীও কিছুদিন আগে কেয়ারটেকারই ছিলেন। পরে তাঁদের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ দুজন ছাড়া অন্যরা সবাই এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের সনদ ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আইন শাখা বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও কোনো অনুমতি নেয়নি। এতে যেমন আইনের বরখেলাপ হয়েছে, তেমনি তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের দিয়ে সনদ ইস্যু করে নগরবাসীকেও অপমান করা হচ্ছে। আইনগতভাবে এসব সনদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ফলে যারা এসব সনদ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে, ভবিষ্যতেও তারা নানাবিধ সমস্যায় পড়বে।
ডিএসসিসির সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, 'আইন শাখার কোনো মতামত নেওয়া না হলেও মন্ত্রণালয়ের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর এসব কর্মচারীর স্বাক্ষর করা সনদ তো ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কেউ সমস্যায় পড়েছে- এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এর পরও আপনি বিষয়টি আমাদের গোচরে এনেছেন। এখন পর্যালোচনা করে দেখব কী করা যায়।'

Friday, December 14, 2012

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, আসামি করা হচ্ছে ৯ জনকে


সবকিছু চূড়ান্ত করেও মামলায় যেতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে আসামি করা নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিপাক বাধে দুদক কমিশনারদের মধ্যে। অবশেষে নিক্সন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুদকের দুই কমিশনার এবং চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তাদের নাম এজাহারে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে উপস্থাপন করা হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রমাণ করতেই শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একইসাথে বৃহস্পতিবার মামলার দিনক্ষণ পিছিয়ে সোমবারই এ দুজনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দুই কমিশনার মো: বদিউজ্জামান, মো. সাহাবউদ্দিন চুপ্পু ও মহাপরিচালক (আইন) কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকেই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানকে মামলায় এজাহারভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলা হবে বলে গত বুধবার জোর দিয়ে বলেছিলেন দুদক কমিশনার মো:সাহাবউদ্দিন চুপ্পু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়েও তাই গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। শেষ পর্যন্ত মামলার দিনক্ষণ পেছায় দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদককে বার বার বলা হয়েছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে আবুল হোসেনসহ কয়েকজনের ভূমিকা ছিল। তাকে ছাড়া ব্যবস্থা নিলে তা দুদকের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিশ্বব্যাংকও জানতে পেরেছে আবুলকে ছাড়া মামলা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দুদক। তাই গত রবিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, সুষ্ঠু প্রতিবেদন না হলে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না কমিশন। এ কারণে দুদকের এক কমিশনার আবুল হোসেন ও আবুল হাসানকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন। তার কারণেই বৃহস্পতিবার মামলার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী সোমবার মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

বিশ্বজিত্ হত্যা :আরো ৬ জন গ্রেফতার

বিশ্বজিত্ হত্যা :আরো ৬ জন গ্রেফতার

এদের নিয়ন্ত্রণ করেন কিছু ছাত্রনেতা



১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে পুরনো ঢাকায় নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা মাহফুজুর রহমান নাহিদকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭-এ ।

এদিকে বিশ্বজিত্ হত্যার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন এক আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তিনি সূত্রাপুর থানায় একই ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাথে আইনজীবীর আর্জি যুক্ত করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

গতকাল ডিবি পুলিশ নাহিদ তাদের হেফাজতে রয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাইকোর্টকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। প্রথমে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ৮ জন এবং পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ৭ জন ব্যতীত অপর ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ৭ জনকেই গ্রেফতার হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেফতার ১১ জন হলেও অপর ৪ জনের ব্যাপারে যাচাই-বাচাই চলছে। আটক ৭ জনের মধ্যে এইচএম কিবরিয়া ও কাইয়ূম মিয়া টিপুকে গতকাল মগবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিবরিয়ার বাড়ি বরিশাল আগৈঝাড়া উপজেলায়। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। টিপু একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে পুলিশ জানায়। গ্রেফতারকৃত নাহিদ, কিবরিয়া ও টিপুকে আজ শুক্রবার সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ ।

ডিসি (ডিবি, দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত ওই ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পলাতকদের গ্রেফতার করতে একাধিক ডিবির টিম মাঠে রয়েছে বলে তিনি জানান।

৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

এদিকে জেলহাজতে থাকা ৪ জনকে বিশ্বজিত্ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন গতকাল সিএমএম আদালত মঞ্জুর করেছে। সূত্রাপুর থানা ওই আবেদন করে। এরা হলেন- মামুনুর রশীদ, ফারুক হোসেন, নাহিদুজ্জামান তুহিন ও মোসলেহ উদ্দিন। তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পুলিশ জানায়। এর মধ্যে মামুনের বাসা রাজধানীর দক্ষিণখানের ২৯ মধুবাগে, তার পিতার নাম হারুন অর রশিদ। ফারুকের বাসা দক্ষিণখানের পূর্বপাড়ার ২ এয়ারপোর্ট লেনে, তার পিতার নাম ওয়াকিল উদ্দিন। তুহিনের বাসা ডেমরার সারুলিয়ায়, তার পিতার নাম শামসুজ্জামান এবং মোসলেমের বাসা মধ্য বাড্ডায়, তার পিতার নাম মজিবুল হক।

বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে এরা বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই 'ছাত্রলীগের ক্যাডার' বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এরা পুরনো ঢাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেন, এরা রাজনীতি নয়, নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের দলীয় ছত্রচ্ছায়ায় এরা অপরাধ করে বেড়ায়। ছাত্রলীগের এক শ্রেণীর সাবেক নেতা এদের নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিমাসে ওই নেতারা লাখ লাখ টাকার চাঁদার ভাগ পান বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আরো কয়েকজন !

গ্রেফতারকৃত মাহফুজুর রহমান নাহিদ এবং পলাতক রফিকুল ইসলাম শাকিল, ইমদাদুল হক, মীর নূরে আলম লিমন ও ওবাইদুল কাদের তাওসীন সরাসরি বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। এরমধ্যে শাকিল চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এছাড়া ছাত্রলীগের 'ক্যাডার গ্রুপে'র সক্রিয় সদস্য জুনায়েদ, ইউনুস, মেহেদী (কালোগেঞ্জি), রাজন ও আল আমিনও বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে জানা গেছে। তবে এরা তাদের কমিটির কোন সদস্য নয় বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোতোয়ালী ও সুত্রাপুর থানায় এক মাস আগে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে বলে ওই দুই নেতা জানান।

যে ১০ জনের নামে মামলা

কোর্ট রিপোর্টার জানান, এই হত্যার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল আলম দুলাল যে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তারা হলেন: মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মো. এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনুছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। আসামিরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র। এছাড়া মামলায় ওই ১০ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হযেছে।

গত রবিবার অবরোধ চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে 'ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন টেইলারিং ব্যবসায়ী বিশ্বজিত্ দাস। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামে। রাতে অজ্ঞাতনামা ২৫ জনের বিরুদ্ধে সুত্রাপুর থানায় মামলা করেন সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শক জালাল আহমেদ। একই থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলমকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।