Pages

Thursday, December 20, 2012

দুধ : প্রতিদিন দুই কাপ

দুধ : প্রতিদিন দুই কাপ দুধকে বলা হয় সুষম খাবার। শিশু মায়ের বুকের দুধ ছাড়ার পর পরিমাণ মতো গরুর দুধ খেলে শরীরের হাড় ও পুষ্টি বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু 'পরিমাণ' মানে কতটুকু তা এত দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন দুই কাপ গরুর দুধ ভালো স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয়। কানাডার সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের শিশুরোগ চিকিৎসকরা ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা এক হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যবান শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে এ সিদ্ধান্তে পেঁৗছেন।
সঠিক পরিমাণ জানা না থাকার কারণে অনেকে মনে করেন, যত বেশি দুধ খাওয়ানো যাবে ততই শিশুর পুষ্টি বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অধিক পরিমাণে দুধ পানের কারণে শরীরে লৌহের
(আয়রন) পরিমাণ উল্টো কমতে থাকে। গঠনগত কারণে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে তা লৌহের পরিমাণ কমাতে থাকে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুই কাপ সমপরিমাণ গরুর দুধ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকলে শিশু প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন পেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব উপাদান সুষমভাবে শরীরে বজায় থাকে। গবেষকরা জানিয়েছেন, শীতকালে শিশুর ত্বকে তুলনামূলক কালচে রং দেখলে বুঝতে হবে, তার শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
গবেষকদলের প্রধান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. জোনাথন মেগুর জানিয়েছেন, কী পরিমাণ গরুর দুধ দরকার সে সম্বন্ধে মায়েদের যেমন অগুনতি জিজ্ঞাসা থাকে, তেমনি পেশাদার চিকিৎসকরাও সঠিক পরিমাণ বলতে পারেন না। শিশুর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি ও আয়রনের স্থিতি মাপার জন্য তাঁরা এ গবেষণা চালিয়েছেন বলে তিনি জানান।

বিচারকদের জন্য প্রধান বিচারপতির সতর্ক বার্তা

বিচারকদের জন্য প্রধান বিচারপতির সতর্ক বার্তা


বিচারকদের জন্য সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। বলেছেন, আমি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংযত আচরণ প্রত্যাশা করি। অতীতে আপনারা দেখেছেন, সংযত আচরণ না করায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা পিছপা হবো না। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট করেই বলছি। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া অভিভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, কোন কোন জেলা জজের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবে কয়েকটি জজশিপ ও ম্যাজিস্ট্রেটশিপে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে- যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, বিচার বিভাগ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। যুগ যুগ ধরে জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে অন্য বিভাগ থেকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নৈতিকতা নিয়ে যেসব কথা বলি, কেতাবি কথা সবারই জানা আছে। আমি মনে করি, এখনও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাকে কিছু ব্যক্তি-বিশেষের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ভূলুণ্ঠিত হতে দেয়া যায় না। আমি বিচারকদের সৎ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেখতে চাই। বিচারে আপনারা হবেন দৃঢ় এ নির্ভীক। জনগণও এটা প্রত্যাশা করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, সাংবিধানিক বিদ্যমান বিধান ও মাসদার হোসেন মামলার নির্দেশনা অনুসারে অধঃস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। অত্যন্ত উচ্চমহল থেকেই দিয়েছেন। আশা করি অতি শিগগিরই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে আমরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন ও সংবিধান অনুসারে আমাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবো। এ বিষয়ে সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব অবস্থান থেকে যথাযথভাবে কাজ করে যাবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি।

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ


কান টানলে মাথা আসে বলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আপনারা সরকারের কাছে একবার জানতে চান কেন পদ্মা সেতু হলো না? কেন আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আসলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি কারণ কান টানলে মাথা আসে। তাদের টান দিলেই মাথা চলে আসবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকারের লোকজন বিদেশে ঘুষ আদান-প্রদান করেছে। তাই দীর্ঘদিন টালবাহানার পর সরকার বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিয়েছে টাকা দিলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকারের এ শর্তেই প্রমাণ হয় দুর্নীতি হয়েছে এবং সরকারই তা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যস্ত কমিশন নিয়ে ও চোরদের বাঁচাতে। সরকারের ডানে চোর, বাঁয়ে চোর। মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আত্মীয়-স্বজনসহ সরকার নিজেই চোর। হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক লুটপাট করেছে সরকারের লোকজন। আওয়ামী লীগ শেয়ারবাজার লুটের মাধ্যমে দেড় কোটি মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করেছে সরকার। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। একদল গ্রেপ্তার হলে আন্দোলনে আরেক দল যোগ হবে। এখন যোগ হওয়ার সময়।
বিরোধী নেতা বলেন, মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীদের হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। মাথা নিচু করে, হাত জোড় করে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে যেভাবে পদানত করে রেখেছে ঠিক তেমনি তারা বিদেশে মাথা নত করে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরা। ’৭১-’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজনই পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাংক লুট করেছে। তারা তাদের নেতার কথাও শোনেননি। তাই শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি। চোর কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই চোরের দল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি জবাব দেবে? যুদ্ধের পর তো প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেগুলো বিদেশে পাচার করে পকেট ভারি করেছিল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, খুন, লুটপাট ও চুরির শাসন। তিনি সরকারের কৃষিনীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার কৃষকদের কাছে ধান কিনছে না। তারা কমিশনের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনের নিরুৎসাহী করে তুলছে। একই ভাবে কলকারখানায় উৎপাদন নেই। সেখানে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। বিদেশী বিনিয়োগ তো নেই-ই। কিন্তু বিদ্যুতের কথা বলে সরকার কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, বিশ্বজিতের মতো তরুণকে কেন রাজপথে প্রাণ দিতে হলো? তারপরও প্রধানমন্ত্রী কেন মিথ্যা বলছেন? কারণ ছাত্রলীগকে ধরলে তারা বলবে, আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওইখান থেকে নির্দেশ পেয়ে কেবল নির্দেশ পালন করেছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ দেশের কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র আনেনি, তারা বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা জালিম সরকারের পতন ও দেশ রক্ষার এ সংগ্রামে শরিক হোন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এ হলে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। তবে এদেশকে কারও পৈতৃক সম্পত্তি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আপনাদের মতোই নিজের জায়গায় ফিরে গেছেন। আপনারাই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে দেশকে স্বাধীন করেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম কাটার হুমকি দিয়েছে সরকার। ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি নাম কাটা হয় ভবিষ্যতে সে নাম যোগ হবে, ভাতাও দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আমিই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলাম। ভবিষ্যতে সে মন্ত্রণালয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের সম্পদ নয়
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জাতিসংঘ নাকি শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করেছে। তারা যদি জানতেন তিনি দেশে কি রকম অশান্তির ও দুর্নীতির মডেল বাস্তবায়ন করছেন তাহলে দুর্নীতির একটি পুরস্কার দিতো। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন গুমের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, খুনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে, সরকার লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সে চলমান প্রক্রিয়াকে ফের যুদ্ধে পরিণত করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ২৫শে মার্চ রাতেই জিয়াউর রহমান তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। সেদিন এত উন্নত গণমাধ্যম ছিল না বলেই তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবে সেটাই সত্য। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের উদ্দেশে বলেন, ’৯৬ সালে আপনার উল্টাপাল্টা কাজের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা করবেন না, জবাব দিতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এর ৩রা মার্চ ঢাকায় সংসদ বসলে শেখ মুজিব হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন, আপস করেছেন। আমরা ভাসানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশবাসী জিয়ার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনীতি করেছি আমরা, যুদ্ধও করেছি। কিন্তু এখন তা সম্পদ হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। অতীতে অনেক কোয়ার্টার-সেমিফাইনাল খেলেছি, এবার ফাইনাল খেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদিন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কাটার এখতিয়ার হেলাল মোর্শেদ খানদের কে দিয়েছে? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদের পদত্যাগ দাবি করছি। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মে. জেনারেল (অব.) আইনউদ্দিন বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহবারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব.) শাহজাহান মিয়া, ইশতিয়াক আহমেদ উলফাত, প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব.) ড. রেজা প্রমুখ। বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হেলাল মোর্শেদ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা দেশের সম্পদ। ৭১ দেশের স্বাধীনতার জন্য একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এবার দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মহানগর নাট্যমঞ্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার জন্য বিরোধী দল বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার অয়োজন করে।

Wednesday, December 19, 2012

আজ বাংলা ব্লগ দিবস

আজ বাংলা ব্লগ দিবস

'বাক স্বাধীনতা, বাকদায়িত্বশীলতা' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ দেশে চতুর্থবারের মতো 'বাংলা ব্লগ দিবস' পালিত হচ্ছে। ২০০৯ থেকে দিনটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিকেল পাঁচটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ১৪টি ব্লগের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
সামহোয়্যার ইন ব্লগের পরিচালক সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামহোয়্যার ইন ব্লগের মাধ্যমে দেশে প্রথম বাংলা কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু হয়। সৃষ্টি হয় ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাভাষীদের নিজের কথা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে তিনি বলেন, ব্লগ তার জন্মলগ্ন থেকেই বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে। এ স্বাধীনতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন বাক্দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে। এ বিষয় নিয়েই এবার ব্লগ দিবসে আলোচনা হবে।
তিনি জানান, এবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও দিবসটি উদ্যাপন করবে। আর রাজশাহীর ব্লগারদের উদ্যোগে পদ্মাপাড়ে হবে বিশেষ আয়োজন। খুলনা ও রংপুরেও আনন্দ-আলোচনার আয়োজন করছেন স্থানীয় ব্লগাররা।

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


নিজেদের কার্যপরিধি বৃদ্ধির জন্য তৈরী পোশাকের বড় ক্রেতা ওয়াল-মার্ট স্টোরস ইনকরপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নতুন নতুন স্টোর খোলার জন্য এ ঘুষ দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে সোমবার। এতে বলা হয়, মেক্সিকোতে এরকম ১৯টি স্টোর খোলার জন্য ওয়াল-মার্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালমেক্স স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। গত এপ্রিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম রিপোর্ট করে যে, ওয়ালমেক্সের এ রকম দুর্নীতির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে ওয়াল মার্ট। গত মাসের শেষের দিকে মেক্সিকোর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা বলে যে, তারা মেক্সিকোতে ওয়াল-মার্টের অনুমোদন পাওয়ার পেছনে কোন অনিয়ম খুঁজে পায়নি। কিন্তু তখনও দুটি অডিট চলছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস তার নতুন রিপোর্টে ওয়াল মেক্সের অর্থ দেয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াল মেক্স মেক্সিকোতে নতুন স্টোর খোলার জন্য আইনি বিষয় ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে অর্থ দিয়েছে। তবে বেশির ভাগ দৃষ্টি পড়েছে মেক্সিকো শহরের উত্তরে প্রাচীন শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণের দিকে। ওই শহর থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে একটি ওয়ারহাউজ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল ওয়ালমেক্স ২০০৪ সালে। তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়। ওদিকে সোমবার রাতে ওয়াল-মার্টের মুখপাত্র ডেভিড তোভার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তিনি বলেন, এ অভিযোগ নিয়ে আমরা এখনও তদন্ত করছি। এখনও তা শেষ হয়নি। ওয়াল-মার্ট এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা ও মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ওদিকে মেক্সিকোর এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে গত এপ্রিলে প্রথম এ বিষয়ক রিপোর্ট দেখার পর একটি তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউটররা এতে অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পাননি। ওই তদন্ত কয়েক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ঘুষের অভিযোগে রিপোর্ট করলেও মোট কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে তা জানাতে পারেনি। তবে তারা কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণ করতে ওয়াল-মার্ট ২ লাখ ২১ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বাসিলিকা ডি গুয়াডালুপেতে একটি স্টোর প্রতিষ্ঠায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ডলার ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে


পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর। তারা এখন দুদকের মামলার নথি পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ হয়েছে_ এ মর্মে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দলের ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের পথে অগ্রসর হবে বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুদকের মামলা করার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এ সরকারের আমলে সেতুর কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী তিনি। অন্যদিকে পদ্মা সেতুর ভাগ্য নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন, পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে, তা বিধাতাই জানেন।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন। আজকালের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলার একদিন পর দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কারও চাপে এ মামলা করা হয়নি। অন্যদিকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দুদক সচিব ফয়জুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ঘটনায় আবুল হোসেনের ভূমিকা 'ইররিগুলার হলেও ইলিগ্যাল নয়'। গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওএসডি করেছে সরকার। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর দুর্নীতির গভীরতা অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুদক।
এদিকে, দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে।' সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির
মামলা বিষয়ে প্যানেল দলের পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তাদের মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন।
অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তদন্ত ও মামলা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট না হলে আবারও জটিলতায় পড়তে পারে পদ্মা সেতু প্রকল্প।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের কাছে জমা দেবে। তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক একটি বিবৃতিও দেবে প্যানেল দল। দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির এজাহার কপি বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে দুই দফা ঢাকা সফর করে। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর প্যানেল দল ঢাকায় আসে। দুদকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর আলোচনা এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। মূলত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দুর্নীতির মামলায় আসামি করা হবে, কি হবে না_ এ নিয়ে দুদকের সঙ্গে মতভেদের কারণে আলোচনা সফল হয়নি।
গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ে প্যানেল দল। এর পরপরই বিশ্বব্যাংক কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয়। ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, 'কেবল পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।' বিশ্বব্যাংক আরও মনে করিয়ে দেয়, তারা দুর্নীতির বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সাক্ষ্য-প্রমাণও দিয়েছে সরকারকে। এরপরই দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তারা মামলা করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠাবে। সে অনুযায়ী, সোমবার মামলা করল দুদক। তবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মামলা করায় বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ভালোভাবে দেখেনি বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। কারণ, একটি দুর্নীতিমুক্ত সেতুর বিষয়ে আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে আসছে তারা। কাজেই ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান একই থাকবে বলে ওই সূত্র জানায়।
কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। দুদক এরপর তদন্ত শুরু করলেও সরকার এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে অনড় থাকেন। এই প্রেক্ষাপটে গত জুন মাসে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর আবুল হোসেনের পদত্যাগ, প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ছুটিতে পাঠানোসহ সরকারের নানামুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। তাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসে। তারা চলে যাওয়ার ১২ দিনের মাথায় সোমবার দুদক যে মামলা করেছে তাতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আলোচনায় থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তবে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর।

অভিনব হরতাল

অভিনব হরতাল


এ এক অভিনব হরতাল হয়ে গেল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। হঠাৎই বদলে গেলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি হরতালে যাদের ব্যস্ত দেখা যেতো পিকেটার দমনে গতকাল ইউটার্ন নিলেন তারা। স্বল্প সংখ্যক পিকেটারকে কোন বাধাই দেয়া হলো না। উল্টো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পিকেটারের ভূমিকায় দেখা গেল পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। রাস্তায় ব্যারিকেড আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে হরতাল পালন করলেন তারা। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন হরতাল আর কোন দিন দেখা যায়নি। হরতালের আহ্বায়ক ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। যাদের সংসদে আসন নেই, কোনকালে ছিলও না। তাদের পিকেটারদের গানবাজনা করতে দেখা গেছে হরতালের সময়। এ হরতালের প্রধান দাবি দু’টো। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। হরতাল সফলে আগের রাতেই প্রস্তুতি নেয়া হয় সরকারের তরফে। মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল রাস্তায় বাস নামানো যাবে না। সরকারি সিদ্ধান্তে বিআরটিসির কোন বাসও রাস্তায় নামেনি। যদিও আগের হরতালগুলোতে বিআরটিসির বাসই দেখা যেতো সবচেয়ে বেশি। রাস্তায় নিজের প্রাইভেট গাড়ি চালাতে গিয়েও অনেকে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কারণ জানতে চাওয়া হলে অজুহাত দেখানো হয়েছে নিরাপত্তার। পরিবহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে চলতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। মজার ব্যাপার হলো এতে নাকি তাদের কোন কষ্টই হয়নি। দিন শেষে হরতাল আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। অভিযুক্ত পক্ষ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কেউই কোন আপত্তি জানায়নি। দেশের প্রায় সব মানুষই এ বিচার চান। এ বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে পালিত হরতালে সরকারের সমর্থনে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, তাহলে কি যুদ্ধাপরাধের দ্রুত বিচার নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে কোন সংশয় আছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা। এমন এক সময়ে এ দাবি উত্থাপিত হলো যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের কথা বলা আছে। এমনকি পঞ্চদশ সংশোধনীতে এটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু আছে সেখানে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। হরতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ নষ্ট করে দেয়ার জন্যই সরকারি আয়োজনে এমন হরতাল পালনের গুঞ্জন এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
হরতালে পুলিশের সহায়তা!
বাম রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা হরতাল চলাকালে হরতালকারীদের সহায়ক হিসেবে দেখা গেছে পুলিশকে। শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। বিআরটিসিসহ অন্যান্য পরিবহনের বাস রাস্তায় না নামায় ছোট যানবাহনই ছিল যাত্রীদের ভরসা। কিন্তু রাস্তার মোড়ে মোড়ে এসব যানবাহনও আটকে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। কোন কোন রাস্তায় অস্থায়ী ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে পুলিশ। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক বাংলামোটরে পুলিশকে দেখা যায় যানবাহন আটকে দিতে। দুপুর দেড়টায় দু’টো অ্যাম্বুলেন্স শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে তাতেও বাধা দেয়া হয়। পুলিশ যানবাচনকে বিকল্প পথে মগবাজার হয়ে গন্তব্যে যেতে বলে।
শাহবাগ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাংলামোটর, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পল্টন পয়েন্টকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট দিয়ে পল্টনমুখী রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। মতিঝিল পয়েন্টে যানবাহন বন্ধ করার প্রবেশমুখগুলোতে বাধা দেয়া হয়। কোথাও কোথাও রাস্তা বন্ধ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এদিকে রাজধানী ডিআরএইউতে একটি অনুষ্ঠানে আজ আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম হরতালে সরকারের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অহিংস হরতালে সরকার বাধা দেবে না। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। নৈরাজ্য না হলে সরকার হরতাল পালনে সহযোগিতা করবে।
পল্টনে অবস্থান
হরতাল চলাকালে সকাল থেকেই পল্টন মোড়ে সিপিবি ও বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতা-কর্মীরা অবস্থান করেন। তারা সেখানে রাস্তায় মিছিল ও সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় পুলিশ আশপাশের রাস্তায় অবস্থান করে। সকাল থেকেই দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল এবং সমাবেশ করেন। তাদের হাতে ছিল লাল পতাকা। জাতীয় পতাকাও বহন করেন কর্মীরা।
প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর গণসংগীত
হরতালে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট এলাকায় সকাল থেকে গাড়ি চলাচল ছিল বন্ধ। প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। বন্ধ করে দেয়া হয় উভয় পাশের রাস্তা। কোন যানবাহনই চলতে দেয়া হয়নি প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন যাওয়ার রাস্তা দিয়ে। এই এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তায় ব্যাপক পুলিশ র‌্যাব নিয়োজিত থাকলেও রাস্তায় বসে দাঁড়িয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট ও সচিবালয় এলাকায় সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ব্যানারে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে সকাল থেকেই। প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশের সামনের রাস্তায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে হরতালের সমর্থনে সংগীত পরিবেশন করে। দুপুর দুইটার পর হাইকোর্ট মৎস্যভবন এলাকা দিয়ে কিছু গণপরিবহন চললেও যাত্রী ছিল কম।
শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল সমাবেশ
সকাল থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। ভোর ছ’টা থেকে বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরা টিএসসি ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় মিছিল শেষে তারা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তারা পুলিশের ব্যবহার করা কাঁটাতারের ব্যারিকেড, বাঁশ-কাঠ দিয়ে পথ আটকে চারপাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপর প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে এ এলাকায় দফায় দফায় মিছিল করে কর্মীরা। বাস, সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন এ এলাকায় চলাচল না করলেও রাস্তাঘাটে যথেষ্ট পরিমাণ রিকশা চলাচল করে। শাহবাগ মোড়ের অস্থায়ী মঞ্চে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ঢাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি
হরতালের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। এর আগে সব হরতালে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের অফিসগুলো বন্ধ। বিভাগে শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল না। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রতিদিনের মতো সচল ছিল। এদিকে বামদলগুলোর ছাত্র সংগঠন প্রগতিশীল ছাত্র জোট হরতাল উপলক্ষে শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ করেছে।
হরতাল সফল: সিপিবি-বাসদ
বিকালে হরতাল সফল বলে দাবি করেন সিপিবি ও বাসদ নেতারা। হরতালকে সফল উল্লেখ করে একে নতুন মাত্রার গণতন্ত্রের রাজনীতি হিসেবে বর্ণনা করেন তারা বলেন, এ হরতালে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। জনগণের ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিকাল ৪টায় রাজধানীর মুক্তিভবনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অভিযোগ করে বলেন, হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ হরতাল সমর্থনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ১৫ জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। পুলিশ আটক করেছে ২০ জন নেতা-কর্মীকে। বিশেষ করে বরিশাল, সুনামগঞ্জ, যশোর, গাজীপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজারে মিছিলে হামলা করেছে শাসক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই হরতাল ব্যতিক্রম ছিল। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছে। মানুষ দেশে এখন একটা বিকল্প পথ খুঁজছে। আর এই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে থাকবে তাদের সংগঠন। সরকারের মন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিষয়ে আগেই মন্তব্য করছেন। তারিখ উল্লেখ করছেন। এটা ঠিক নয়। দেশে বিদেশে এই বিচার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অহেতুক কালবিলম্ব করে বিচার ঠেকাতে মদতদাতাদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এই বিচার বানচাল করতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচের অভিযোগ করেন সিপিবির সভাপতি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের ‘কার স্বার্থে হরতাল’ এ বক্তব্যের জবাবে সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা হরতাল করেননি। একই দাবিতে আগামী ২৮শে ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল-সমাবেশ, ৩রা থেকে ৭ই জানুয়ারি জাগরণ অভিযান নামে দেশব্যাপী ঝটিকা সফর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে ২৬টি জনসভা, ৫১টি সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার


তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের টানাপড়েন স্পষ্ট। একই সময়ে দিল্লির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বৈঠক এবং দেশে ফিরে খালেদা জিয়ার ভারত নিয়ে নয়া কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা সকল মহলেই। ঢাকা সফরে আসা আনন্দবাজারের দিল্লি প্রতিনিধি অগ্নি রায় আরও লিখেছেন:
জনশ্রুতি আছে, বেগম খালেদা জিয়া যে কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলে সাধারণত তার মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যয় করেন ভারত-বিরোধিতায়!
সেই খালেদা জিয়া গত ১৮ই নভেম্বর ভারত সফর সেরে ফিরে আসার পর এক মাস কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত চারটি জনসভা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার, উখিয়া, ঢাকা ও বরিশালে। এ দেশের রাজনীতির কারবারিরা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করছেন, ভারত শব্দটাই তার অভিধান থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে! বাংলাদেশে ভোটের আগে বিএনপির এই পরিবর্তিত অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি এমন নয় যে, খালেদার দল বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে মনমোহন সিংহ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বরং দলীয় সূত্রের খবর, ভারত সম্পর্কে খালেদা জিয়ার এ নরম অবস্থান তার নিজের দলের ভিতরেই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত সম্পর্কে খালেদার এই নয়া নীতি নিয়ে তার দলের অনেক নেতাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন যুগের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভারত নীতিতে কোন পরিবর্তন না আনার কথাও বলা হচ্ছে। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী। খালেদা পরিবারের ব্যক্তিগত বন্ধু এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মাহমুদুর রহমান এ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, এ পরস্পরবিরোধিতা কি ভোটের আগে দলের হাসিনা-বিরোধিতাকে সর্বাঙ্গীণভাবে লঘু করে দেবে না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ভারত সম্পর্কে খালেদার এ তুলনামূলক নরম অবস্থান নিছকই কৌশলগত কারণে। সামনাসামনি উগ্র ভারত বিরোধিতা না করে জামায়াতের মতো জোটসঙ্গীদের দিয়ে সেই কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন খালেদা। এটা ঘটনা যে, ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি এখনও রূপায়ণ না করতে পারার প্রশ্নে যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন উঠছে, তার ভারত-বন্ধুত্বের ফল নিয়ে। আওয়ামী লীগের একটি অংশও মনে করছে, এ দু’টি চুক্তির বিষয় নিয়ে প্রচার এতটা উচ্চগ্রামে নিয়ে যাওয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, ‘তিস্তা চুক্তি হলে সরাসরি রাজশাহী এলাকা উপকৃত হবে এবং পদ্মায় পলি পড়ার হার কমে তা সচল হবে। একথা ঠিকই। কিন্তু গোটা দেশজুড়ে তিস্তা নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা প্রায় জাতীয় ইস্যুর সমান!’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই দুই চুক্তি না হওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে যে ভারত-বিরোধী আবেগ তৈরি হয়েছে, তাকে সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত।
বাংলাদেশের বক্তব্য, মুখে ভারত-বিরোধী কোন বিবৃতি না দিলেও খালেদা জিয়া পেছন থেকে গোটা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমানের কথায়, ‘পাকিস্তানের হাতে তামাক খেয়ে ভারতকে যতটা সম্ভব চাপে রাখতে জামায়াত প্রবলভাবে সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতকে সবসময় অস্বস্তিতে রাখতে পারলে বেশ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি হয়। এ কাজে পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশ টাকাও ঢালছে।’ হাসিনা শিবিরের বক্তব্য, বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখে (মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ইত্যাদি) বেগম জিয়া কৌশলগতভাবে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা বন্ধ রেখেছেন ঠিকই- কিন্তু ক্ষমতায় এলেই তিনি ফের পুরনো অবস্থানে ফিরবেন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, জামায়াতকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির কাজটিও এগোবে।
তবে ঘটনা হলো- শুধুমাত্র ভারত-বিরোধিতা দিয়ে যে ভোটের কিস্তিমাত করা যাবে না, তা বিলক্ষণ জানে বিরোধী জোট। তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তি রূপায়ণে ব্যর্থতা (যদিও দীপু মনি এখনও বলছেন, তারা আশাবাদী, এই দু’টি চুক্তি সই করেই ভোটে যেতে পারবে হাসিনা সরকার) নির্বাচনী প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, পদ্মায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামসহ অনেক বিষয়ই গুরুত্ব পাবে বিরোধীদের প্রচারে।
তবে বিরোধীদের ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে ভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গড়তে না-চাওয়া নিয়ে সরকারের যুক্তি- যা উড়িয়ে দিচ্ছে সরকার-পক্ষ। দীপু মনির কথায়, ‘বিএনপির কাছে প্রচারের অন্য কোন হাতিয়ার নেই। তাই তারা এই ধুয়ো তুলেছে। আমরা যেভাবে নির্বাচনী সংস্কার করেছি, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ। কমিশনও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।’ তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার জন্য খালেদা জিয়া যদি কোন প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তাহলে অবশ্যই আলোচনায় রাজি সরকার।

Tuesday, December 18, 2012

চীনকে সার্কভুক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

চীনকে সার্কভুক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

চীনকে সার্ক-এর সদস্য করতে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে হেকাপ প্রজেক্টের অধীনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান ব্যবসা সহযোগী। উন্নয়ন সাহায্যেও চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। চীনের সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তানের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশেরও নিকট প্রতিবেশী চীন। চীন বর্তমানে সার্ক-এর পর্যবেক্ষক সদস্য। আশিয়ানে যেমন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ সদস্য হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য, শান্তি, উন্নয়ন ইত্যাদি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের কারণে চীনকে সার্ক সদস্য করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা। ‘এশিয়ান স্টাডিজ’ শিরোনামের উক্ত সেমিনারে ‘ইভলভিং পাকিস্তান-ইন্ডিয়া-চায়না ট্রায়াঙ্গুলার রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মনিস আহমের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থান করেন ‘কনটিনিউটি অ্যান্ড চেঞ্জ ইন দ্য রিলেশনশিপ বিটুইন বাংলাদেশী অ্যান্ড নেইভারস ইন দ্য কনটেক্স অব রাইস অব চায়না’ শিরোনামের প্রবন্ধ। সেমিনারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. আলাউদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ভিসি প্রফেসর আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, প্রফেসর আসমা সিরাজুদ্দীন, ড. মাহমুদুল হক, ড. ভূঁইয়া মনোয়ার কবির, ড. আনোয়ারা বেগম, ড. মাহফুজ পারভেজ প্রমুখ।   

সালতামামি ২০১২: পদক্ষেপ বহু বাস্তবে নেই

সালতামামি ২০১২: পদক্ষেপ বহু বাস্তবে নেই


ফুলে ফেঁপে ওঠা পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বড় ধরনের ধস নামে। এর পর আর থেমে থাকেনি দরপতন। এরই ধারাবাহিকতায় হতাশার মধ্যদিয়ে গত একটি বছর পার করলো বিনিয়োগকারীরা। বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা বহু পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপই কাজে আসেনি। অন্যদিকে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা একগুচ্ছ প্রণোদনা ঘোষণা করেন। তিনটি ধাপে এসব প্রণোদনা বাস্তবায়নের কথা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রণোদনা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিও কোটা এবং মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এসবের মাঝে বাজারের হাল ধরার দায়িত্ব নেন ডিএসই সভাপতি রকিবুর রহমান। তাতেও আশানুরূপ স্থিতিশীল বাজার পাননি বিনিয়োগকারীরা। বরং, দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক নিম্নগামী হচ্ছেই। সে সঙ্গে প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২০০ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির অভাবেই বাজার ধারাবাহিক দরপতনের দিকে এগিয়েছে। এসইসি বাজারের দিকে না তাকিয়ে এসইসি গঠনের দিকে বেশি কাজ করছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
বাজার চিত্র: বাজারে বিপর্যয়ের নামার আগের দিন অর্থাৎ ২০১০ সালের ৭ই ডিসেম্বর একদিনে যেখানে ডিএসইতে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল; সেখানে গত বৃহস্পতিবার ছিল মাত্র ১৭৬ কোটি টাকায়।
সূচক: ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। বর্তমানে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮ পয়েন্টে।
বাজার মূলধন: বাজার মূলধন ছিল ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর গত বৃহস্পতিবার তা এসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪ কোটি টাকায়।
আইপিও: গত এক বছরে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন ১৪টি কোম্পানি এবং ৯টি মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্তি হয়েছে। এর পরও ডিএসইর সাধারণ সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট থেকে নেমে ৪ হাজার ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ সময়ের ৪৭২ কার্যদিবসের মধ্যে ২৬২ দিনই সূচকের পতন হয়েছে।
এসইসির মহাপরিকল্পনা: গত অক্টোবর মাসে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা ৭টি ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় এসইসি। যার মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এর মধ্যে ৮৫টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শুরু হওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২২ সাল পর্যন্ত ধরা হয়। এর মধ্যে মার্জিন লোনের অনুপাত ৩ ধাপে বাস্তবায়ন করবে এসইসি। যেমন: ১লা জুলাই ২০১৪-এ অনুপাত দাঁড়াবে ১:০.৫। অর্থাৎ প্রতিবছর দশমিক ৫% করে হ্রাস হবে।
বিও একাউন্ট: পুঁজিবাজার পতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলেও আসন্ন আইপিওকে কেন্দ্র করে বেনিফিশিয়ারি একাউন্ট (বিও) খোলার প্রবণতা বেড়েছে। গত এক মাসে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার বিও বেড়েছে। নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে বিও একাউন্ট ছিল ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৩টি। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৩টিতে। মোট বিওর মধ্যে ১৮ লাখ ২৭ হাজার ২৮৪টি পুরুষ, ৬ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭টি মহিলা এবং ৮ হাজার ৭৫২টি কোম্পানি একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে দেশের মধ্যে থাকা নাগরিকের ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৪২টি ও প্রবাসীদের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯টি বিও একাউন্ট রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন: মাহা ধসের মাস কয়েক পরেই সরকার পক্ষ থেকে এ কারসাজিদের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্ন্‌িত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসইসির তৎকালীন সদস্য একজন নির্বাহী পরিচালক বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে এসইসিকে পুনঃগঠন করে সরকার। নতুন এসইসির চেয়াম্যান হিসেবে ১৫ই মে ২০১১ সালে দায়িত্ব নেন ড. এম খায়রুল হোসেন। চারজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দায়িত্ব দিয়ে এসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, আগামী তিন মাসের মধ্য পুঁজিবাজারের সব সমস্যা সমাধান করবো। বাজার স্থিতিশীল করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ হবে। কিন্তু তিন মাসের কথা বলে দেড় বছর পার হলেও বাজার ঠিক হয়নি। বরং, এসসির চেয়ারম্যান তার সুর পাল্টে বলেন, বাজার ঠিক রাখা আমার কাজ আমার নয়। আমি আইন সংস্কার, বাজারে তারল্য সঙ্কট নিরসনের জন্য কাজ করছি।
প্রণোদনা প্যাকেজ: এরপরও যখন বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। প্রতিদিনই যখন দরপতন চলছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামে। ঠিক তখনি গত বছর ২৩শে নভেম্বর সরকার পক্ষ থেকে নেয়া হয় স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি ২০ দফার পরিকল্পনা। কিন্তু এক বছর পার হলেও প্রণোদনার কোন সুফল পায়নি বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োকারীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হলেও এক বছরে বেশি সময় পার হলেও তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। মার্চেন্ট ব্যাংকার্সরা বলছে তাদের কাছে টাকা নেই। ব্রোকারেজ হাউসগুলো এখনও এগিয়ে আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে দু’বছর ধরে থেকে থেমে চলতে থাকা দরপতনের ফলে নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।
বাজার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের কথা: এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এসইসিতে দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যক্তির অভাবের কারণে বাজারে ধাবাবাহিক দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসইসির বাজারে দিকে না তাকিয়ে এসইসি গঠনের দিকে বেশি কাজ করছে। তিনি বলেন, গত দু’বছরে পতন ঠেকাতে প্রণোদনা প্যাকেজ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনাস্বরূপ বিশেষ স্কিম, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের ঘোষণা, বাংলাদেশ ফান্ড নামে বিশাল আকারের ফান্ড গঠন এমন অনেক পদক্ষেপই ছিল। কিন্তু এর কোনটিই কাজ দেয়নি। কারণ এসব পদক্ষেপ সুচিন্তিত ছিল না বা সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এসইসির অপর সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ দু’বছরেও সঙ্কটের মূল অনুধাবন করতে না পারায় এ সময়ে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার প্রায় সবই ছিল অপরিপক্ব, অদূরদর্শী ও অকার্যকর। তিনি বলেন, মুদ্রা বাজারের তারল্য সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য আসছে না। এ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিশেষত বেসরকারি ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আসছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দরপতনের প্রধান কারণ হচ্ছে পুঁজিবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচার না করা। ইব্রাহিম খালেদের প্রতিবেদন অনুসারে পুঁজিবাজার পরিচালনা করা। তিনি বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ কর্মকর্তা পুঁজিবাজার সম্পর্কে কিছুই বুঝেন না। দু-একজন কিছু জানেন, তারা আবার নিজেদের স্বার্থে কাজ করছেন।

চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ

চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ


পুলিশের পথ অনুসরণ করেছে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে হামলাকারীরা শনাক্ত হলেও পুলিশের রিপোর্টে তারা ছিল ‘অজ্ঞাত’। ঠিক একই ভাবে রড, লাঠি দিয়ে পেটানো ও চাপাতি দিয়ে কোপানোর দৃশ্য দেখা গেলেও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা নিহত বিশ্বজিতের শরীরে ওইসব অস্ত্রের কোন আঘাত খুঁজে পাননি। ধরা পড়েনি কিল-ঘুষি ও লাথির জখম। বিস্ময়কর হলেও এমন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক। অথচ ভিডিও চিত্রে অসংখ্যবার দেখা গেছে, চাপাতি শাকিল উপর্যুপরি কোপাচ্ছিল বিশ্বজিতের শরীরে। রাশেদুজ্জামান শাওন পেটাচ্ছিল রড দিয়ে। তার সঙ্গে ছিল মাহফুজুর রহমান নাহিদ, নূরে আলম লিমন, রাজন, ওবায়দুল কাদের, তাহসিন কাদের ও ইউনুছ। তাদের সবাইকে রড ও লাঠি হাতে বিশ্বজিৎকে পেটানোর দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়েছে। এছাড়া শনাক্ত হওয়া বেশির ভাগ আসামি গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রড, লাঠি দিয়ে পেটানো ও চাপাতি দিয়ে কোপানোর কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু চিকিৎসকের পোর্স্টমর্টেম রিপোর্টে সেই শাকিলের চাপাতির আঘাত খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বজিতের শরীরের ২০-২৫ জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রক্তাক্ত ক্ষত স্থানসহ অসংখ্য ফোলা-জখমের দাগ ছিল লাশের দেহে। এ সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া লাশ কাটায় নিয়োজিত কর্মচারীরা (ডোম) বিশ্বজিতের শরীরে পৃথক অস্ত্রের পৃথক আঘাত শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকের চূড়ান্ত ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে তা গোপন করা হয়েছে। তার ধারণা, হামলাকারীদের বাঁচাতেই এমন তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের নথিপত্র অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিশ্বজিৎ দাসের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ডা. মাকসুদুর রহমান। রিপোর্ট নম্বর ৪৬৭/১২। রিপোর্ট তৈরির তারিখ ১৫ই ডিসেম্বর/২০১২। রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, পিঠের ডান পাশে ৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দেড় ইঞ্চ প্রস্থের একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম পা থেঁতলে গেছে। মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। এর বাইরে আর কোন তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাকসুদুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে কয়েক দফায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘পরে কথা বলবো’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ প্রসঙ্গে ওই হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বলেন, চাঞ্চল্যকর যতগুলো হত্যাকাণ্ডের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এগুলোর মধ্যে বিশ্বজিতের প্রতিবেদনটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম। এ রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট মাত্র হাতে পেয়েছি। রিপোর্টে উল্লেখ করা বিষয়গুলো এখন নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সূত্রমতে, শুরু থেকেই হামলাকারীদের বাঁচাতে বিশেষ মহল মরিয়া। ঘটনাস্থলের অল্প দূরেই লালবাগ জোনের ডিসি হারুন-অর রশীদ তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের হাত থেকে বিশ্বজিতের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে যাননি। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে যখন এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে যান, তখনও চিকিৎসকরা কার্যকর চিকিৎসাসেবা দেননি। এর প্রতিবাদে জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, নিহতের স্বজনদের ফিরিয়ে দিয়ে মামলার বাদী হন সূত্রাপুর থানা পুলিশের কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে আসামিদের সবাই চিহ্নিত হলেও পুলিশের এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত হিসাবে ২০-২৫ সংখ্যা উল্লেখ করেন। সর্বশেষ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের মনগড়া রিপোর্ট নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। মামলার বাদী সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, বিশ্বজিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা ও ফোলা জখমসহ অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলার এজাহার লেখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এসআই জাহেদুল হক। তিনি বলেন, লাশের সুরত (চেহারা) যেমন দেখেছি তেমনই রিপোর্টে উল্লেখ করেছি। নিহতের সারা শরীর ছিল রক্তাক্ত। মাথা, হাত, পা ও পিঠসহ সারা শরীরেই অসংখ্য ফোলা ও কাটা জখমের দাগ ছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু


তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড সূত্রপাতের পেছনে ছিল ‘নাশকতা’। আর অমার্জনীয় অবহেলার কারণে ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন সহ ৯ জন দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তাজরিন গার্মেন্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব বক্তব্য উল্লেখ করেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রিপোর্টটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদের কাছে জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার। গার্মেন্ট ভবনটি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে। রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ। ঘটনার কারণ চিহ্নিত করাসহ সামগ্রিক বিষয়ে একটি রিপোর্ট আজই (গতকাল) বিকালে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, এতগুলো মানুষের মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ জন্য আমরা তদন্ত রিপোর্টে বলেছি, অমার্জনীয় অবহেলার কারণেই ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে গার্মেন্টটিতে আগুন লাগার পেছনে নাশকতা কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষণ করা হয়। এজন্য গার্মেন্টটির কোন কোন কর্মকর্তা দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন, তাজরিন ফ্যাশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক আল আমিনসহ গার্মেন্টটির বিভিন্ন ফ্লোরে দায়িত্ব পালনকারী আরও ৫ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বলেন, আগুন নেভানোর মহড়া চলছে। শ্রমিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নির্দেশেই কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল ও অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও ঘটনার দিন একটিও ব্যবহার করা হয়নি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, আগুনের সতর্ক সঙ্কেত বাজার পরও কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগে বাধা দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আগুন দেখার পর তা নিয়ন্ত্রণের জন্য একদিকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়ে বরং কারখানার ভেতরে কাজ করতে নির্দেশ দিয়ে শ’ শ’ শ্রমিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানার মালিকপক্ষ বা শ্রমিকরা কেউ সাধারণ অগ্নি আত্মরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ করেনি। তাজরিন ফ্যাশনের মান সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার অবস্থান একটি পল্লীর ভেতরে। কারখানার সামনের দিকে ৮ থেকে ১০ ফুট রাস্তা। পেছনে তিনদিকে লাগোয়া বাড়িঘর। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি অভিযান চালাতে পারে না। কোন ধরনের বহির্মুখী জরুরি নির্গমন পথ অথবা বিকল্প সিঁড়ি না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শ্রমিকরা লোহার গ্রিল, কাচ, এগ্‌জস্ট ফ্যান ভেঙে জীবন বাঁচাতে পাশের টিনের চালে লাফিয়ে পড়েন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তাজরিন গার্মেন্টটি কোনভাবেই শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উপযোগী বা যথাযথ মান পরিপালনকারী (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা নয়। কারখানার ভবন তৈরিতেও ন্যূনতম ‘ভবন নির্মাণ বিধিমালা’ অনুসরণ করা হয়নি। কর্মক্ষেত্রের উপযোগী ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হলে এত বেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনসে একাধিকবার সরজমিন পরিদর্শন প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজরিন ফ্যাশনস কারখানার নয়তলা ভবনটির নিচতলার পুরোটাই ছিল গুদাম বা ওয়্যার হাউস। এখানে সুতা ও কাপড় গুদামজাত করা হয়। সেখানে ঢুকতেই একটি সদর দরজা, এরপর নিচতলার ওয়্যার হাউসের ভেতর থেকেই তিনটি সিঁড়ি প্রতিটি তলা স্পর্শ করে ছাদে গিয়ে মিলেছে। প্রতি তলার প্রবেশমুখেই কলাপসিবল দরজা। নিচতলার ওয়্যার হাউসে আগুন লাগায় এর অগ্নিদাহ্য সিনথেটিক জাতীয় সুতা, কাপড়ের বিশাল মজুত থাকায় আগুন লাগার পর পরই পুরো ভবনটি ইটভাটার মতো রূপ নেয় এবং সিঁড়িগুলো হয়ে ওঠে উত্তপ্ত চিমনি। নিচতলার ভয়াবহ আগুনের তাপ, শিখা ও কালো ধোঁয়া তিনটি সিঁড়ি দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে শ’ শ’ কর্মব্যস্ত শ্রমিকরা প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার বহির্গমনের কোন পথ না পেয়ে দমবন্ধ ও পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে গত ২৪শে নভেম্বর রাতে তাজরিন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ছিলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আবদুস সালাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
ওদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি চূড়ান্ত এবং ১৬টি সাধারণ সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তাজরিনের মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহেলার জন্য শাস্তির সুপারিশ, দেশের যেসব জেলায় এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ওইসব জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। উল্লেখ্য, গত ২৪শে নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরী পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক পালন করা হয়। এরই মধ্যে নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৬ লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Monday, December 17, 2012

অপেক্ষায় সোনাক্ষী

অপেক্ষায় সোনাক্ষী


বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার ভক্তরা বেশ কিছু ভাল নাচের মুদ্রা দেখতে পাবেন প্রভু দেবা পরিচালিত পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘নামাক’-এ। তার বিপরীতে অভিনয় করবেন শহিদ কাপুর। সোনাক্ষী এ বিষয়ে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ‘নামাক’-এর কাজ শুরু করবো। আমি অনেক আগ্রহের সঙ্গে চলচ্চিত্রটির জন্য অপেক্ষা করছি। এটি পরিচালনা করবেন প্রভু দেবা এবং অভিনয় করবেন শহিদ। অর্থাৎ বেশ ভাল কিছু নাচের মুদ্রা দেখা যাবে এ চলচ্চিত্রে। সোনাক্ষী আরও বলেন, আমার নাচতে খুব ভাল লাগে। আর এটি নাচ-গানে ভরপুর একটি মাসালামুভিই হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রভু দেবার সঙ্গে ব্যবসা সফল ছবি ‘রাওডি রাঠর’-এ কাজ করেছেন সোনাক্ষী। ‘ও মাই গড’ চলচ্চিত্রেও একটি আইটেম নাম্বারে প্রভুর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ‘নামাক’ চলচ্চিত্রের জন্য নতুন কোন নাচ শিখছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সোনাক্ষী বলেন, এখনও নতুন কিছু শিখিনি। তবে শুটিং শুরু হলে প্রভুর আয়োজনে কোন না কোন নতুনত্ব তো থাকবে অবশ্যই।

আরেক রূপে প্রিয়াংকা

আরেক রূপে প্রিয়াংকা


এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন বলিউড নায়িকা প্রিয়াংকা চোপড়া। কিছুদিন আগেই প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘ইন মাই সিটি’। অ্যালবামটি ইতিমধ্যে শ্রোতাদের মাঝে আলোড়ন তুলেছে। এই সাফল্য উদযাপনেই তিনি এখন ভক্তদের সঙ্গে পার্টি করে বেড়াচ্ছেন। পার্টিগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্নরূপের এক প্রিয়াংকাকে। ১৪ই ডিসেম্বর রাতে কয়েকটি পার্টিতে ডিজে হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রিয়াংকা বলেছিলেন, শুক্রবার রাতে আমি মুম্বইয়ের চারটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবে যাবো এবং আমার বন্ধু ও ভক্তদের সঙ্গে কিছুক্ষণ পার্টি করবো। এ ধরনের পার্টি আমরা দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতেও করেছিলাম। সেগুলো দারুণ উপভোগ্য হয়েছিলো। ব্লেন্ডার্স প্রাইড ফিউশন ট্যুরের উদ্যোগে ওই পার্টিগুলো মুম্বইয়ের হার্ড রক ক্যাফে, এফ বার, ঘোস্ট এবং হাইপ নামের ক্লাবগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। সবক’টি পার্টিতেই ডিজে হিসেবে পারফর্ম করে বেশ সাড়া ফেলেন প্রিয়াংকা।

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি- ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী পতাকা

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি- ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী পতাকা

ছিটমহলগুলোতে উড়েছে বাংলাদেশী জাতীয় পতাকা। বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল প্রতিটি ছিটমহলে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত ভারতীয় গারাতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান মো. মফিজার রহমান বলেন, আমরা নিজেদের বাংলাদেশী নাগরিক মনে করি। এজন্য শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে তারা বিজয় দিবস পালন করেছেন। এদিকে, পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে শিক্ষার্থী, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। এছাড়া, জেলা পরিষদ, পঞ্চগড় পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়। এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এসব কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও মজাহারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও পুলিশ সুপার শাহরিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে


স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে কৌশলে ৪০ মিনিট আটকে রাখা হলো বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। শনিবার মধ্যরাত থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা। ভোরে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সকালে সাভার স্মৃতিসৌধ যাওয়ার আগ মুহূর্তে ৬টার দিকে তার প্রটোকল গাড়িটি গুলশান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ৪৫ মিনিট আটকে রেখে পরে গাড়িটি আবার খালেদার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসা হয়। এতে স্মৃতিসৌধে যেতে এক ঘণ্টা দেরি হয় খালেদা জিয়ার। এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে খালেদা জিয়া যাতে সময়মতো স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে না পারেন, সেজন্য তার গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখে পুলিশ। বিরোধী দলীয় নেতাকে গুলশানের বাসা থেকে ভোরে যথাসময়ে বের হতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতার প্রোটোকল গাড়ি আটকে রাখা হয়।
জিয়ার কবরে খালেদা: স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে যান খালেদা জিয়া। সকাল ৯টায় সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি সমর্থিত অনেক সংগঠন আলাদাভাবে জিয়ার মাজারে ফুল দেন। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়ার কবরে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন নেতা-কর্মীরা।

সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড

সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড


একের পর এক গোপনে জামিনে বেরিয়ে আসছে রাজধানীর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরা। রাজনীতির গরম হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ড। পরিবেশ আরও গরম করে তুলতে প্রভাবশালীরা জামিন পেতে সহায়তা করছে তাদের পছন্দের সন্ত্রাসীদের। জামিনে বেরিয়েই সন্ত্রাসীরা আবার জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে, শুরু করেছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা ও জেলে থাকা হাইপ্রোফাইল সন্ত্রাসীরাও হঠাৎ করে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা কেন্দ্রিক তাদের ক্যাডারদের সক্রিয় করতে শুরু করেছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। দেশের বাইরে থেকে মোবাইল ফোনে দখলবাজিও চলছে। ভয়ঙ্কর সব সন্ত্রাসীর প্রকাশ্য সশস্ত্র মহড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সাধারণ
মানুষ। অন্যদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন পাওয়ায় গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে তাদের ক্যাডাররা।
নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ রাজধানীর নাখালপাড়ায় ঢাকার সন্ত্রাসীদের একটি বৈঠক হয়। সভাশেষে বড় আকারে খানাপিনার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সমাবেশটি ছিল রাজধানীর উত্তরাংশের সন্ত্রাসীদের সমঝোতা বৈঠক। সেখানে বর্তমান সরকার আমলে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট মতবিরোধ মনোমালিন্য দূর করা হয়। সূত্রমতে, এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে দু’গ্রুপ সশস্ত্র অবস্থানে চলে যায়। পরে স্থানীয় সরকারের এক সাবেক জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে উত্তেজনার নিরসন হয়। ওই বৈঠকে ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ত্রাসী গডফাদার উপস্থিত ছিল। রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন অতিপরিচিত হয়ে উঠেছে একটি ভিনদেশী মোবাইল নম্বর। কোন ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন স্ক্রিনে ওই নাম্বারটি ভেসে ওঠামাত্র তার শরীর থেকে ঘাম ঝরতে শুরু করে, জীবন-ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন তিনি। নম্বরটি ব্যবহার করে মিরপুরের সন্ত্রাসী গাজী সুমন। সে এক সময়ে ছিল মিরপুরের শাহাদত বাহিনীর কিলার। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নিজেই এক বাহিনী গড়ে তোলে সে। বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে সে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করছে ঢাকায়। গত এক মাসে ভারতীয় ৯১৮৩৪৯৯৩১৪৯৬ নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছে রাজধানীর একাধিক ব্যবসায়ীর কাছে।
তিন মাস আগে গোপন জামিনে বেরিয়ে এসেছে মিরপুরের আরেক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ব্যাঙ্গা বাবু। ক্ষমতাধর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা জামিন করিয়ে এনেছেন তাকে। জেল থেকে বেরিয়েই বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে সে। গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গা বাবু এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে ওই ব্যবসায়ী দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু তাতে ফল আসে নি কোন। এখনও প্রকাশ্যে মিরপুর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাঙ্গা বাবু। চার মাস আগে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল চার লাখ টাকা খরচ করে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে কেরানীগঞ্জের পরাগ অপহরণকারী মুক্তার হোসেন আমির ও তার তিন সহযোগীকে। পুরান ঢাকার সন্ত্রাসী কালা খোকনের নামে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে অবস্থান করছে র‌্যাব পুলিশের তালিকাভুক্ত ওই সন্ত্রাসী। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত বাহিনীর প্রধান শাহাদত ভারতে অবস্থান করেই মোবাইল ফোনে ওলট পালট করছে মিরপুর। মোবাইলেই চলছে তার দখল বাণিজ্য। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের মিরপুর-মহাখালী ও মিরপুর-ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডটি মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে দখল করে নিয়েছে সে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওই বাসস্ট্যান্ডটির আয় ভোগ করতেন মিরপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হানিফ। সূত্র মতে, শাহাদতের ভয়ে তিনি বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছে। বাংলাদেশে তার ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও চাঁদবাজি করতে গিয়েই পশ্চিমবাংলা পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। ঢাকার মগবাজার এলাকায় আবার সংগঠিত হতে শুরু করেছে তার ক্যাডাররা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইন কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকায় তার ক্যাডারদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বড় মগবাজার এলাকার একটি চারতলা ভবনের দোতলায়। সূত্র মতে, ওই বৈঠকে সুব্রত বাইনের পক্ষে উকিল নিয়োগের জন্য টাকা পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। কিভাবে টাকার যোগাড় হবে সে বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মিরপুরের শাহাদত ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে গুজব ছড়িয়ে তার মুক্তির জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে গত মাসে। ভারতের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় ও হারিস। দেশের অভ্যন্তরে তাদের ক্যাডারাও হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্যাডারদের মাধ্যমে ওই দুই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করছে ঢাকায়। সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি পরিশোধ করার পর মুখ খুলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। এমনই একজন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলাপকালে জানান, রাজধানীর একটি থানায় এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ দায়ের করার এক ঘণ্টার মধ্যে বিদেশ থেকে ওই সন্ত্রাসী ফোন করে তাকে হুমকি দেয় অভিযোগ তুলে আনতে, ভয়ে তিনি থানায় যান অভিযোগ প্রত্যাহার করতে। থানায় গিয়ে দেখেন তার অভিযোগটি থানা আমলেই নেয়নি, থানা অভিযোগ রেকর্ডই করেনি- কিন্তু তার আগেই অভিযোগ দায়েরের কথা জেনে যায় বিদেশে অবস্থান করা ওই সন্ত্রাসী। সমপ্রতি কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে প্রভাবশালীদের সহায়তায় রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশের জামিন নিয়ে আত্মগোপন করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গোপন জামিনের তোড়জোড় চলছে রাজধানীর কয়েক ডজন চেনা সন্ত্রাসীর। দেনদরবার, বোঝাপড়া ঠিক হলে আরও কঠোর গোপনীয়তায় জামিন পেয়ে যাবে ওইসব সন্ত্রাসীরা।

Sunday, December 16, 2012

এবারই প্রথম

এবারই প্রথম


ইতিমধ্যে বিভিন্ন ছবিতে ভিন্নমাত্রার সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা বসু। পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে বার ডান্সার, গ্যাং স্টার, প্রেমিকা, রাজনীতিবিদসহ আরও অনেক ধরনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী তিনি দেখিয়েছেন। এসব চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে ব্যাপক খোলামেলাই সব সময় দেখা গেছে বিপাশাকে। এদিকে সর্বশেষ ‘রাজ-৩’ ছবিতে একজন কালো জাদু প্রণেতার ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। এ ছবিতেও তিনি খোলামেলা ও রগরগে দৃশ্যে কাজ করেছেন ইমরান হাশমির বিপরীতে। এটি ছিল ইমরানের সঙ্গে বিপাশার প্রথম ছবি। এটি ছিল চলতি বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি। তবে এবার নতুন একটি ছবিতে বিপাশাকে দেখা যাবে পতিতার ভূমিকায়। দ্বিতীয়বারের মতো এ ছবিতে বিপাশার বিপরীতে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। এর আগে পতিতা চরিত্রে কোন ছবিতে অভিনয় করেননি বিপাশা। সেদিক থেকে চরিত্রটিকে বেশ চ্যালেঞ্জিংই মনে করছেন এ অভিনেত্রী। এ ছবিটি প্রযোজনা করতে যাচ্ছেন মহেশ ভাট। ইতিমধ্যে বিপাশা ও ইমরানকে ছবির জন্য পাকাপাকি করা হয়েছে। মূলত এই ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে পতিতাপল্লী নিয়ে। যেখানে দেখা যাবে জোরপূর্বক সাধারণ ঘরের একজন তরুণীকে নিয়ে এসে পতিতার কাজ করানো হয়। আর এ চরিত্রেই কাজ করছেন বিপাশা। এই পতিতাপল্লীর দালাল হিসেবে দেখা যাবে ইমরান হাশমিকে। তবে এক সময় বিপাশার প্রেমেই পড়ে যেতে দেখা যাবে তাকে। ছবিটির শুটিং ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মহেশ ভাট। এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে বিপাশা বসু বলেন, আমি এ পর্যন্ত অনেক ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হচ্ছে মহেশ জি’র এই নতুন ছবি। এখানে পতিতা চরিত্রে কাজ করতে যাচ্ছি আমি। ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। আশা করছি দর্শকদের অনেক ভাল লাগবে।

ভারতে ধর্ষিতারা মুখ খুলছে...

ভারতে ধর্ষিতারা মুখ খুলছে...


অন্যসব দেশের মতোই ভারতেও ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিষয়টিকে লুকিয়ে চেপে যাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে বিচার না চেয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার প্রচলন বেশি। কারণ এতে ধর্ষিতাকে অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সবাই হেয় করে। এমনকি বিয়ে পর্যন্ত হয় না। ফলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পিতা-মাতাসহ সব আত্মীয়-স্বজন বিচার না চেয়ে চেপে যেত ধর্ষণের ঘটনা। তবে সমপ্রতি হরিয়ানায় একটি গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পাল্টে যাচ্ছে এই চেপে যাওয়ার মানসিকতা। হরিয়ানার ঘটনাটি ছিল খুবই হৃদয় বিদারক। মাত্র ১৬ বছর বয়সী দলিত শ্রেণীর হাইস্কুল পাস একটি মেয়েকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করেছে আট দুর্বৃত্ত। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা নিপীড়ন চালায় মেয়েটির উপর। ভিডিও করে রাখে দৃশ্যটি। ধর্ষণের পর তাকে হুমকি দেয়া হয় কাউকে বললে হত্যা করে ফেলবে। মেয়েটিও চুপ করে থাকে সম্মানের ভয়ে। এরই মধ্যে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এটি দেখে ক্ষোভে অপমানে আত্মহত্যা করে মেয়েটির বাবা। তারপরই আলোচনায় আসে বিষয়টি। বিচারের দাবি জানায় দলিত সমপ্রদায়। ভিকটিমের মা বলেন, আমরা দেখলাম স্বামীকে হারিয়ে সম্মান হারিয়েছি আমাদের আর সম্মান হারানোর কিছুই নেই। ফলে চুপ থেকে লাভ কি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এভাবেই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাতে দলিত ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। গত ৫ বছরে ধর্ষণের হার উদ্বেগজনকভাবে ২৫ ভাগ বেড়ে গেছে। গায়ে পড়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় মেয়েদের উপর নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। হরিয়ানা সরকারি দল কংগ্রেসের একজন মুখপাত্র বলেন, ৯০ ভাগ ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রথমে স্বেচ্ছায় ঘটছে। ফলে তারা মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ করার পক্ষে। এতে মেয়েরা তাদের চাহিদা স্বামীর সঙ্গে শেয়ার করলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে বলে জানান তিনি। হরিয়ানায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা অনেক বেশি। আর এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন দলিত শ্রেণীর মেয়েরা। সর্বশেষ ১৯টি ধর্ষণের ঘটনায় ৬টির ভিকটিম দলিত শ্রেণীর। এতদিন মান-সম্মানের ভয়ে তাদের চুপ থাকাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে আসছিল সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্তরা। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। সর্বশেষ গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি সবাইকে সাহস যোগাচ্ছে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য।
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর এখনও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে সে। সে বলেছে, আমি আমার স্বপ্ন হারিয়েছি। বাবার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার বানানোর। এখন সেটা পূরণ করতে পারবো কিনা জানি না। ধর্ষণের বিরুদ্ধে চুপ করে না থেকে মুখ খুলে প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচারের দাবি করার পথে উৎসাহী করার জন্য অনেক সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ওমেন এসোসিয়েশনের জাগমতি বলেন, তারা অপরাধ ও অপরাধীকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শাকিলকে অবশেষে প্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্বজিৎকে যারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, শাকিল তাদের হোতা। তাকে নিয়ে বিশ্বজিৎ হত্যায় অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করল ডিবি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করার নির্দেশ পেয়েই সেদিন ছাত্রলীগকর্মীরা নিরীহ বিশ্বজিৎ দাসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগকর্মীরা পুলিশকে বলেছে, জগন্নাথ ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নির্দেশেই তারা ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দিন পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসের ওপর হামলা চালায়।
শাকিলকে বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তার করে এরই মধ্যে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে বিশ্বজিতের কোনো পূর্ববিরোধ থাকা বা অন্য কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র মতে, হামলাকারীদের ওপর নির্দেশ ছিল, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করতে হবে। আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে ছাত্রলীগের নেতারাই হামলাকারীদের 'ব্যাপারটি দেখতে' ও 'সাইজ' করতে বলেন। এমন উসকানি পেয়ে কয়েকজন ক্রেজি হয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে! গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমনই দাবি করছে জগন্নাথ ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গ্রেপ্তারকৃতদের ছাত্রলীগের 'কেউ না' বলে দাবি করলেও বলছে, তারা সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। এই অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি গতকালই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শাকিল যেভাবে গ্রেপ্তার : ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলাম শাকিলকে ঢাকায় নিয়ে আসে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বেতাগী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযানে ডিবিকে সহায়তা করে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবারই শাকিলের অবস্থান জানা যায়।
আমাদের বরিশাল অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদককে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি জানান, বেতাগীর দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মীরের বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে শাকিল তার বোনের বাসায় পালিয়ে ছিল। তার বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার বাবা পটুয়াখালী কর কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনসার আলী গতকাল সকালে মারা গেছেন।
স্বজনরা জানান, ছেলের নৃশংসতার দৃশ্য দেখার পর থেকেই লজ্জায়-গ্লানিতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আনসার। গতকাল ভোরে ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর তাঁর মৃত্যু হয়।
'সাইজ' করতে চাপাতি : গোয়েন্দা সূত্র মতে, শাওন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অবরোধের সময় মিছিল করে শক্ত অবস্থান নিতে বলেছিলেন। অবরোধকারীদের ব্যাপকভাবে 'সাইজ' করতেও তাঁরা নির্দেশ দিয়েছিলেন। হামলার আগে মিছিল করে তারা জগন্নাথ ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ঘটনাটি 'দেখতে' বলেন। তাই অভিযুক্ত কর্মীরা প্রথমে আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ককটেল বিস্ফোরণকারী সন্দেহে বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। শাকিল অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সবাই বিশ্বজিৎকে মারধর করেছে।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ছাত্রলীগকর্মী নাহিদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছে, ককটেল নিক্ষেপকারী ভেবেই তারা বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। তার মতে, 'আঘাত বেশি হয়ে গেছে।' তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ নাহিদ অস্বীকার করে।
শাওন ও সাইফুল রিমান্ডে : আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুল আলম আকন্দ আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ সালামের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত দুই আসামির আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সিলেটের জাফলংয়ের 'পর্যটন' হোটেল থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন ও উৎপল দাস নামে দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ার কারণে গতকাল পর্যন্ত উৎপলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এদিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক সাইফুলকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলায় আরো তিন আসামি নাহিদ, কিবরিয়া ও টিপুকেও আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আলোচিত এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তবে এক সপ্তাহেও সেই হিসাব মেলেনি। কোতোয়ালি থানায় আটক চার পিকেটারকেও বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী। বিশ্বজিৎ হত্যার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাদের চারজনকে খুব ভালোভাবে দেখা গেছে। এসব কর্মী হলো শাকিল, শাওন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও সাইফুল। অন্য গ্রেপ্তারকৃত কাইয়ুম মিয়া টিপু ও এইচ এম কিবরিয়াও ঘটনাস্থলে ছিল বলে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছবি দেখে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রাজন তালুকদার, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, মীর নুরে আলম লিমন, ওবায়দুল কাদের তাহসীন, আজিজুল হক, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, আল-আমিন উজ্জ্বল, আলাউদ্দিন, রিন্টু, হিসাববিজ্ঞানের মোশারফ, কালা সুমন, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব, সোহেল, শিপলু ও পাভেল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
মামলা ডিবিতে : আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যার পর থেকেই ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে ডিবিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গতকাল। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিডিও ফুটেজে যাদের ছবি দেখা গেছে, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শাকিলসহ মোট ছয়জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। সব আসামিকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।'
হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি : এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল বিকেলে শাঁখারীবাজারে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, 'নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করতে হবে।' সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক বাবুল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিশ্বজিতের ভাই অপু দাস, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, নির্মল চ্যাটার্জি, বিপুল ঘোষ শঙ্কর, অ্যাডভোকেট শ্যামল রায়, রজত সুর রাজু, অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু, ব্রজগোপাল দেবনাথ, সজীব দে, মিন্টু দত্ত, দিলীপ ঘোষ শম্পা প্রমুখ।