Pages

Friday, March 8, 2013

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়


দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই অভিষেক। শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতোই। পাঁচ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিসহ করেছেন ১৯৫ রান। তবে আনামুল হক বিজয়ের আসল লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট। আজ শুরু হতে যাওয়া গল টেস্টের আগে এমনটাই জানালেন এই বাংলাদেশি ওপেনার। আর সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশের হয়ে আজ টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের এই সাবেক অধিনায়কের; স্বপ্ন পূরণ হবে বিজয়ের।

'আমি বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তবে এর পরেও টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি সুযোগ পাই তাহলে টেস্ট ক্রিকেট হবে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।'—বিজয় জানিয়ে দিলেন নিজের স্বপ্নের কথা।

শ্রীলংকার মাটিটাও খুব অপরিচিত নয় বিজয়ের। এর আগে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলে গেছেন এই দেশে; খেলেছেন তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও। তাই কন্ডিশনটা বেশ পরিচিত এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। তাই আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়লো তার কণ্ঠে, 'অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমি এখানে খেলে গেছি। কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল। এখানে আমি যতোটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছি তার সবটাই ছিল স্পোর্টিং পিচে। প্র্যাকটিস উইকেটও খুব ভালো ছিল। এখানকার আবহাওয়া কিছুটা গরম হলেও আমি সময়টা বেশ উপভোগ করছি।' দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বিজয় শোনালেন নিজের সন্তোষের কথা, 'আমার মতে শ্রীলংকা ইমার্জিং স্কোয়াডের বিপক্ষে দলের প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। তবে আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এরপর নেটে আমি অনেক সময় দিয়েছি এবং নিজের সমস্যা কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে আমি কাজ করেছি এবং এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী।' অভিষেক ম্যাচ; নার্ভাসনেস কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এনামুল জানালেন ভিন্ন কথা। দলের সবাই সাহায্য করছেন বিজয়কে নির্ভার রাখতে। বিজয় বলেন, 'মমিনুল হক, রাজু'র (আবুল হাসান) সাথে আমি অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছি। সোহাগ গাজী আর আমরা তিনজন একসাথে খেলেছি একাডেমি দলে। তাই তাদের সাথে সম্পর্কটা আগে থেকেই ভালো। আর দলের সিনিয়ররা, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই অনেক সহযোগিতা করে। সব মিলিয়ে আমি নির্ভার আছি।'

বিজয়ের নির্ভার থাকাটা আজ বাংলাদেশের জন্যও খুব দরকার!

মিরপুরে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

মিরপুরে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা


রাজধানীর পল্লবীতে বৃহস্পতিবার রাতে সামিউর রহমান (২৫) নামে এক তরুণ ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে অংশ গ্রহণ শেষে ফার্মগেট থেকে বাসে বাড়ি ফেরার পথে পূরবী সিনেমা হলের গলিতে ঢুকলে তার ওপর হামলা হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় শাহবাগ এলাকা থেকে মিরপুরগামী একটি বাসে করে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে নামেন। পল্লবীর ইস্টার্ণ হাউজিংয়ে তার বাসা। সিনেমা হলের গলি দিয়ে তার বাসার দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় ২ জন পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা অজ্ঞাত যুবক তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় তিনি চিত্কার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে তাকে আহত অবস্থায় মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সামিউর রহমান জানান, তিনি ব্লগে লেখালেখি করতেন। ফার্মগেট থেকে বাসে ওঠার পর অজ্ঞাত যুবকরা তাকে অনুসরণ করে। অজ্ঞাত যুবকরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। আহত সামিউরের বাবা রবিউর রহমান বাংলাদেশ বিমানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। মা নিলুফার ইয়াসমিন ছেলেকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবীর পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন (৩০)।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে


যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে এ শপথ পাঠ করান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সমাবেশ থেকে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণজাগরণ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি। আজকের শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নারী জাগরণ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ৭ই মার্চের চেতনায় সারা দেশের প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে আগামী ২২শে মার্চ পর্যন্ত এ কর্মসূচির সময় বাড়ানো হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। দুপুরের পর থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্রোতের মতো আসতে থাকে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ডের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে আসতে থাকেন নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোক সমাগম। একসময় পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। গণসংগীত, প্রতিবাদী কবিতা আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা। বিকাল চারটার দিকে সমাবেশে গান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ৭১ সালের ৭ই মার্চের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তখন আমি তার পাশে বসে গান পরিবেশন করে জনতাকে উজ্জীবিত করেছিলাম। তিনি পরপর দু’টি গান পরিবেশন করেন। তার গানে উদ্বেল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেটের প্রবেশপথে বসানো হয় আর্চওয়ে। শতাধিক র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজরদারি করেন। অপূর্ব নামের এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করে ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়। তার ভাষণ শুনে সমবেত জনতা অভিভূত হয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সবাই সেই দিনের মতো বারবার আওয়াজ তোলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে। মুক্তিযুদ্ধ না দেখা তরুণ প্রজন্ম ফিরে যায় একাত্তরে। এরপর ৭১ সালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার হাতে নির্যাতিত সখিনা খাতুনের হাতে পূর্বঘোষিত ১০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। গতকাল ছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের ৩১তম দিন। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগের বাইরে ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, বাহাদুর শাহ পার্ক ও যাত্রাবাড়ীতে গণজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নারী জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ পরিচালনা ও বক্তব্য রাখবেন নারীরা। এর জন্য গার্মেন্ট শ্রমিক ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বিকাল ৩টা থেকে ছুটি দিতে মালিকদের আহ্বান জানানো হয়। এরপর ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ৫ই মার্চ আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আজ তীব্র গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমরা যে ৬ দফা দাবি উত্তোলন করেছি তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ইতিমধ্যে আমাদের দাবি পূরণে সংসদে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সারা দেশে সহিংসতা চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা সামপ্রদায়িক হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। মনে রাখবেন যাতে কোন ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমরা জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না। ৭ই মার্চের চেতনা নিয়ে আমাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তেই উপনীত হয়েছি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিন তার ভাষণ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের রক্তকণিকায় মূর্ছনা তুলেছিল। ৭ই মার্চ আমাদের অনুপ্রেরণা। ইমরান বলেন, আমরা ৭ই মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের কারণে সারা দেশে কার্যক্রম চালাতে পারিনি। তাই আগামী ২২শে মার্চে পর্যন্ত এই কর্মসূচির সময় বাড়ানো হলো। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আপনারা সবাই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি সমবেত জনতাকে শপথ পাঠ করান। শপথে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্র্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম বয়কট করবো। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসির, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিঠু, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও ছাত্র সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান খান বক্তব্য রাখেন।

Thursday, March 7, 2013

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে


আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুল জলিল আর নেই। গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় আবদুল জলিলকে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত সোমবার বাইপাস সার্জারির পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী,এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। সদা অমায়িক দরাজ হৃদয়ের অধিকারী আবদুল জলিল দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় নেতা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জলিল। তার আগে আওয়ামী লীগের বিগত সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর একটি চিঠিতে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জলিল। ওই সময়ের পর দলের একটি অংশের কাছে বিরাগভাজন হয়ে পড়েন প্রবীণ এ নেতা। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। গত নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪১ সালের ২১শে জানুয়ারি নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। নওগাঁ কে.ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখানে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য লন্ডনে যান। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবদুল জলিল স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জলিল একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে শোক
আবদুল জলিলের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদে আবদুল জলিলের মৃত্যুর খবরটি জানিয়ে সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।

Wednesday, March 6, 2013

এবারও...

এবারও...

undefined
‘জয়ন্ত ভাই কি লাভ স্টোরি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নেহা শর্মা। এ ছবিতে বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে বেশ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন এ অভিনেত্রী। এই প্রথম ছবিতে নেহা ব্যাপক খোলামেলা হয়েই কাজ করেছেন। কুমার তরুণী পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ আলোচিতও হচ্ছেন নেহা। তবে শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না তিনি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছবির প্রস্তাব এসেছে তার কাছে। এ ছবিগুলোর মধ্যে সবক’টিতে কাজ না করলেও দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এ দুটি ছবিতেই প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই এতোটা ব্যস্ত নেহা হয়ে পড়বেন সেটা নিজেও কল্পনা করেননি। এদিকে ছবি দুটির মধ্য থেকে একটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন তিনি। এ ছবিটিও পরিচালনা করছেন কুমার তরুণী। ছবিতে এবার নেহাকে দেখা যাবে অজয় দেবগানের বিপরীতে। গত সপ্তাহ থেকে এ ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এদিকে ‘জয়ন্ত ভাই কি লাভ স্টোরি’ ছবিতে রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর এবার এ ছবিতেও ব্যাপক খোলামেলা হয়ে পর্দায় আসছেন নেহা। অজয়ের সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও তাকে দেখা যাবে। এ ছবিটিতে একজন পতিতার চরিত্রে অভিনয় করছেন নেহা, যে কিনা এক সময় অজয়ের প্রেমে পড়ে অন্ধকার জীবন থেকে বের হওয়ার স্বপ্ন দেখে। দ্বিতীয় এ ছবিতে অজয়ের মতো সুঅভিনেতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে বেশ আনন্দিত নেহা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমত বলবো এই ছবির কাহিনী অনেক চমৎকার। সে কারণেই মূলত কাজটি করা। আর কুমার তরুণীর হাত ধরেই আমার বলিউডে আসা। তাই তার আরও একটি ছবিতে কাজ করছি বলে ভাল লাগছে। এখানে আমি পতিতার চরিত্রে কাজ করছি। বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। আর ছবিতে অজয় দেবগানের মতো সুঅভিনেতা বিপরীতে কাজ করছি, তার কাছ থেকে প্রতিনিয়তই শিখতে পারছি। তিনি অনেক কো-অপারেটিভ। আশা করছি এ ছবিতে আমাদের জুটি দর্শকরা পছন্দ করবে।

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল


কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হরতাল পৃষ্ঠা
পালন ও বর্জনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরে এ ঘটনা ঘটে। হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির একাংশ ও আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে মহানগরীতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ অন্তত ১৫টি দোকানপাট ভাঙচুর ও ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে গতকাল বেলা ১২টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সমর্থিত আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন সমর্থিত বিএনপির একটি গ্রুপ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। বিকালে জেলা দক্ষিণ বিএনপি’র সভানেত্রী বেগম রাবেয়া চৌধুরী নগরীর বাদুরতলাস্থ তার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিনসহ তার সমর্থিত কর্মীদের দায়ী করেন এবং এ ‘অতর্কিত হামলা’র প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুল হক ফজলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমীর, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে, গুলিবিদ্ধ নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা হচ্ছেন যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম মাছুদ, আবদুর রশীদ, আকরাম হোসেন এরশাদ, মহসিন, আউয়াল, সুমন, ছাত্রদল নেতা তুহিন, জনি পাটোয়ারী, মহসিন খন্দকার কাকনসহ ২০ জন এবং অপরপক্ষের যুবলীগ নেতা রাসেল, সানি, তুহিন, সবুজ, ছাত্রলীগ নেতা শরীফ, রাজীবসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপি দাবি করেছে।
এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’গ্রুপে বিরোধ চলে আসছে। দুপুরে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী আতঙ্কে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এসময় খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কারণে তিনি আমাকে অভিযুক্ত করেছেন।
এছাড়া, জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বিষ্ণুপুরে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থক মোস্তফা খান, ঝন্টু মিয়া, আওয়ামী লীগ কর্মী আবু কাউছার, মাহমুদ সরকার, আলাউদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

Tuesday, March 5, 2013

এ কি কথা বীণার মুখে!

এ কি কথা বীণার মুখে!


বীণা মালিকের মুখে এ কি কথা! যা দারুণ বিস্ময়েরই সৃষ্টি করেছে সবার মধ্যে। যে বীণা সমপ্রতি এক মিনিটে ১৩৭ বার চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিনি নাকি পর্দায় চুম্বনের দৃশ্য ঘৃণা করেন। বীণার মুখে এমন কথা যেন একেবারেই বেমানান! এর আগে এমন একটি রেকর্ড গড়েছিলেন সালমান খান এক মিনিটে ১০৮ বার চুম্বন করে। কিছুদিন আগে তার উনত্রিশতম জন্মদিন উপলক্ষে শত চুম্বন উপহার পেয়ে রীতিমতো সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন বীণা। সতীশ রেড্ডির প্রযোজনা ও হারুন রশীদের পরিচালনায় ‘সিটি দ্যাট নেভার স্লিপ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য নায়ক খুঁজতে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই ঘটে এ ঘটনা। এ সম্পর্কে বীণা বলেন, আমি আরও তিন-চার বার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়বো, ইনশাল্লাহ। মজার ব্যাপার হলো, বীণা যে সব তথ্য দিয়েছেন তাতে তার ভক্তরা কিছুটা হলেও বিস্মিত হয়েছেন। বীণা বলেন, আমি সত্যি বলছি, পর্দায় চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করতে আমার মোটেও ভাল লাগে না। যদিও আমার সামনের চতুর্থতম ছবি ‘ডার্টি পিকচার’-এর দক্ষিণী ভার্সনেও চুম্বনের দৃশ্য আছে। আমি সততার সঙ্গে বলছি, রুপালি পর্দায় চুম্বনের দৃশ্য আমি ঘৃণা করি। চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করা একেবারে সহজ কথা নয়। এটা তো পপকর্ন বা চকোলেট খাওয়া নয়, ভাগ দিতে হয় অন্যকে। আমি এ বিষয়টা থেকে সরে আসতে চাই।

Monday, March 4, 2013

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব



রোববার মাঝরাতে চাঁদের গায়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতি দেখা গেছে বলে গতকাল গুজব ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকেই মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে, মেসেজের মাধ্যমে এবং ফেসবুকেও ছড়ানো হয় এই গুজব। বগুড়ার মসজিদ থেকেও প্রচার করা হয় এই
তথ্য। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায়। হরতালের পক্ষে পিকেটিংয়েও অংশ নেয়। এ কারণে বগুড়ায় সকাল থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়ও এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামে এমন গুজব শুনে।
এদিকে আলেমরা জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব বা প্রচারণা সত্য বলে মনে করা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের বিরোধী। যারা এমন গুজব সত্য বলে মনে করবেন তারা বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন।

কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বিমর্ষ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দৈনিক পত্রিকাও পড়ছেন না। সারাক্ষণ চিন্তা করেন, তসবিহ জপেন। আদালতে ফাঁসির রায় হওয়ার আগেও তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, সে সময় পত্রিকা পড়তেন, আচরণও অনেকটা স্বাভাবিক ছিল, নিরাপত্তা প্রহরীদের নাগালে পেলে আলাপ জমাতেন, কথা বলতেন। কিন্তু বদলে গেছেন ২৮শে ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ হওয়ার পর থেকে। মামলার রায়ের দিন থেকে তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না, নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গেও কথা বলছেন না।
তিনি খুবই বিমর্ষ, চিন্তিত, সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, তসবিহ জপছেন। চুল-দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করলেও এখন সেটাও করছেন না।
কোন আত্মীয়-স্বজনও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, পরিবারের কেউ আসেন নি জেলগেটে, সাক্ষাতের অনুমতিও চাননি। কয়েদির পোশাক পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ ফুট বাই ৮ ফুট কনডেম সেলে বসবাস করছেন তিনি। জেল কোডের বিধান অনুসারে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের কোন কাজ দেয়া হয় না, সে কারণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কোন কাজ দেয়া হয়নি। জেলের বাইরে থেকে তার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মধ্যে ব্রাশ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান নেয়ার অনুমতি আছে সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেল গেটে তার নামে টাকাও জমা আছে। সূত্রমতে মামলার রায়ের পর তিনি নিত্য ব্যবহার্য ওই সব দ্রব্যের কিছু নেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ২৩ জন ফাঁসির আসামি। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৫ জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের খাবার দেয়া হয় অন্যান্য সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মতোই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও সে ভাবেই খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খাবার দেয়া হয় চিকিৎসকের পরীক্ষার পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে তিন বেলা ১২ ছটাক চাল ও আটা। সকালে দেয়া হয় আটার রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত। প্রতিদিন ডাল এক বেলা, সবজি দুই বেলা, যেদিন দুপুরে মাছ সেদিন রাতে দেয়া হয় মাংস আবার দুপুরে মাংস দেয়া হলে রাতে মাছ। তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য বাইরের কোন খাবার দেয়ার অনুমতি নেই। জেলের খাবারই তাকে খেতে হয়। সূত্রমতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সব দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ করা হয় ওই সব পত্রিকার মধ্য থেকে যে কোন একটি পত্রিকা নিজের টাকায় পড়তে পারবেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীই আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গোলাম আযম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ১-এ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ২-তে আছেন জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী।

Sunday, March 3, 2013

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি


পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশের ১৬ জেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ছাড়াও আছে পুলিশসহ দেশের সাধারণ নাগরিক। ওইসব মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়ে জেলাগুলোর পুলিশ সুপাররা একটি করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়ার পর থেকে সারা দেশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও জীবনহানি অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা স্বাক্ষরিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। গৎবাঁধা ওইসব প্রতিবেদনের আকার, ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। সূত্রমতে, প্রেরিত ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র একতাবদ্ধ হয়ে জনসারণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বাধা প্রদান করলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনসাধারণের জানমাল রক্ষা পুলিশের আত্মরক্ষা ও পুলিশের অস্ত্র রক্ষার জন্য পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেটের নির্দেশে গুলিবর্ষণ করে। উল্লিখিত প্রতিবেদনটি গাইবান্ধা থেকে প্রেরিত তবে দেখা গেছে যে সকল জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেসব জেলা থেকে প্রেরিত পুলিশি প্রতিবেদনের ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। কক্সবাজার জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সেখানকার পুলিশ গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেছে পুলিশ কোন গুলি ছুড়েনি। পুলিশের গুলিবর্ষণ ও জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহতদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির কর্মী পুলিশ, আওয়ামী লীগের কর্মী, নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, ছাত্র, প্রকৌশলী, পথচারী। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় জেলা প্রশাসকের অধীনে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিধান থাকলেও ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহতদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোন জেলাতেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। রংপুরের ডিসি জানিয়েছেন, এখনও কোন তদন্ত কমিটি হয়নি, তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি, তিনি জানিয়েছেন আজ অফিস খোলার পর হয়তো তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে।

Saturday, March 2, 2013

বিব্রত পরিনীতি


বিব্রত পরিনীতি


‘ইশকজাদে’-এর পর বর্তমানে তিনটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রিয়াংকা চোপড়ার চাচাতো বোন পরিনীতি চোপড়া। তিনটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন তাকে। এর মধ্যে একটি ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয় সমপ্রতি। সে মহরত অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে প্রিয়াংকা ও নিজেকে নিয়ে বেশ কিছু বক্তব্য নিজে থেকেই প্রদান করেন পরিনীতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমি প্রিয়াংকার মাধ্যমে বলিউডে আসিনি। নিজে অনেক কষ্ট করে বলিউডে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু বেশ কিছু মিডিয়া এ বিষয়ে কাল্পনিক খবর প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন আমি নাকি বলিউডে পথ চলছি প্রিয়াংকার হাত ধরে। এটা একদমই ঠিক নয়। কারণ, এর মাধ্যমে প্রিয়াংকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে আমার। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমার ক্যারিয়ারে প্রিয়াংকার প্রভাব নেই। এটা প্রিয়াংকা নিজেও ভাল করে জানেন। আমি যে ছবিগুলো করছি নিজের যোগ্যতাতেই করছি। দর্শকরা পছন্দ করলে কাজ করবো, আর না করলে কাজ করবো না। এটাই আমার নীতি।

দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

 দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

দেশের সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গতকাল এক বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, একদিনে প্রায় ৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম। জাতীয় জীবনের এ ‘সন্ধিক্ষণে’ ধীরস্থিরভাবে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। এরশাদ বলেন, শাহবাগের আন্দোলন এবং বিচার বিভাগের ‘সমান্তরাল অবস্থান’ পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বিবেচনাপ্রসূত, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে আজ গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে এমন এক সংঘাতময় পরিস্থিতির যা দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আমার এবং আমার দলের বক্তব্য সুস্পষ্ট। আমরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল প্রভাব ও চাপমুক্ত। কিন্তু সমপ্রতি শাহবাগ স্কয়ার এবং বিচার বিভাগের সমান্তরাল অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে। আমরা শাহবাগের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে নই কিন্তু তাদের কিছু কিছু দাবি ও কর্মসূচি প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি যে আরও জটিল হচ্ছে আমি তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া ভারতের প্রেসিডেন্টের সফরকালে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভাষা সংযত রাখারও আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

Friday, March 1, 2013

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২ টেস্টে বাংলাদেশের সমান ১২ হার। আর তাদের বিপক্ষেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশ ছাড়ার আগে এমই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তবে প্রত্যাশার পেছনে যুক্তিও দেখাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ। প্রতিপক্ষ দলে লঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতি দেখে বাড়তি আশাবাদ বাংলাদেশ দলের সেকেন্ড চিফ-এর। বলেন, ‘লঙ্কান দলের কয়েক জন তারকা ব্যাটসম্যান এবার দলে নেই। দলটিতে অনেক নতুন ক্রিকেটার। তাই সিরিজ জয়ের আশা করতে পারি।’ তবে বাস্তবতা ভিন্ন এখানেও। বাংলাদেশ দলেও বয়ে চলেছে ইনজুরি ঝড়। এতে এরই মধ্যে ঝরে পড়েছেন চার সেরা ক্রিকেটার সাকিব, নাইম, এনামুল ও নাফীস। এছাড়াও ইনজুরির ভোগান্তিতে আছেন দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও। মাহমুদুল্লাহর স্বপ্ন পূরণ আপাতত দেখার বিষয়। গতকাল দুপুর ১২টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিহিন লঙ্কান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ দল সরাসরি কলম্বো পৌঁছে বিকাল ৪টায়। ইনজুরি নিয়ে কোচ ও অধিনায়ক চিন্তিত হলেও আশা করছেন শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা উপহার দেবে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এ সফরে একটি অনুশীলন ম্যাচ, ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ৩রা মার্চ অনুশীলন ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা মিশন। এরপর ৮ই মার্চ শুরু হবে টেস্ট সিরিজ। এই মিশনে দলের প্রধান কোচ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ শেন জার্গেনসনের। তবে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও দল নিয়ে আশাবাদী কোচ বিমানে ওড়ার আগে শিষ্যদের শুনিয়েছেন আলাদা মন্ত্র। এর আগে শিষ্যদের জার্গেনসন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে বিমানে চড়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে একটি দল হিসেবে পারফরম করার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে।’ শাহরিয়ার নাফিসের দুর্ঘটনায় দলে সুযোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর অধিনায়াক মুশফিকের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন তরুণ ক্রিকেটার, সোহাগ গাজী ও আনামুল হক বিজয়। এছাড়াও আছেন টেস্ট দলে একেবারে নতুন মুখ তরুণ ক্রিকেটার মমিনুল হক সৌরভ ও মার্শাল আইউব। তবে দলের সহ-অধিনায়কও তরুণদের ওপর ভীষণ আস্থা রাখেন। তার বিশ্বাস তাদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের চেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখাবে বাংলাদেশ দল। সহ-অধিনায়কের মতো আত্মবিশ্বাসী দলের তরুণরাও। দেশ ছাড়ার আগে আনামুল হক বিজয় বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন সবার থাকে। এখন সুযোগ হয়েছে। আর এই সুযোগে নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’ আর মার্শাল আইউব বলেন, ‘দলে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ এসেছে আমার। তবে প্রাথমিক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার। যদি মাঠে নামার সুযোগ পাই তাহলে নিজের সেরাটা দিয়েই পূরণ করতে চাইবো বাকিটা। গতকাল এয়ারপোর্টে যথারীতি ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের বাবা। তিনি শুধু বিদায় বেলা ছেলেকেই আশীর্বাদ দেননি, তিনি আদরে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেন দলের বাকিদেরও। আর রওনার আগে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও বললেন, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটই খেলবে।

গণজাগরণ মঞ্চে উল্লাস আজ মহাসমাবেশ

গণজাগরণ মঞ্চে উল্লাস আজ মহাসমাবেশ

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের খবর পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। সমস্বরে বলে উঠেন ‘জয় বাংলা’। মোবাইল ফোনে গ্রুপ মেসেজ চলে যায় শুধু ‘জয় বাংলা’ লিখে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আলীঙ্গন করেন অনেকে। বিজয়ের আনন্দে কেঁদে ফেলেন কেউ কেউ। এদিকে আজ বিকাল তিনটায় মহাসমাবেশের ঘোষণাসহ আরও কিছু নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা এক বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি দেন। আজ জুমার নামাজের পর সারা দেশে দোয়া পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। শনিবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছে।
আনন্দ মিছিল: গতকাল দুপুর পৌনে দুইটায় গণজাগরণ মঞ্চে সাঈদীর ফাঁসির রায়ের খবর আসার পরই উত্তাল আনন্দ মিছিলে স্লোগান শুরু হয়, ‘এই মাত্র খবর এলো, সাঈদীর ফাঁসি হলো’। প্রাণোচ্ছল শাহবাগে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে উৎসবের আমেজ আনে তরুণরা। নাচতে শুরু করে ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, সবাই। মঞ্চ থেকে আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা করেন, সবাইকে অভিনন্দন যে, আপনারা রাজপথে থেকে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিরপেক্ষ রায় প্রদানের সহযোগিতা করেছেন। সারা দেশে যে যেখানে আছেন রাজপথে নেমে আসেন। জামায়াত-শিবিরকে যেখানে পাবেন ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করুন। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। এই বিচার বাংলার বিজয়। আমরা কাঙিক্ষত রায় পেয়েছি। সর্বত্র আনন্দ মিছিল করুন। সারা দেশে অহিংস, শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলের আহ্বান জানিয়ে শাহবাগ চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন ডা. ইমরান। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে স্বাগত জানায় জনতা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে যায়। সেখান থেকে আবার শাহবাগে ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনের ২৪তম দিনে এই রায় পেলো তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গতকাল বেলা পৌনে দুইটায় রায় ঘোষণার পরপরই সমবেত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
মিষ্টি বিতরণ: সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর মিছিল শেষে শাহবাগে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে মিষ্টি কিনে আন্দোলনকারীদের মাঝে বণ্টন করেছেন।
হরতালবিরোধী মিছিল: শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে গতকাল সকালে হরতালবিরোধী মিছিল হয়েছে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থেকে দু’টি মিছিল শুরু হয়। একটি মিছিল শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও পল্টন হয়ে আবার শাহবাগে ফিরে আসে। আরেকটি মিছিল শাহবাগ থেকে বাংলামোটর, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ হয়ে শাহবাগে ফিরে আসে। এর আগে সকাল থেকেই লোক সমাগম বাড়তে থাকে শাহবাগে। সকাল আটটা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি ও হরতালবিরোধী স্লোগান শুরু হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালের সামনে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংহতি জানান।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগের আন্দোলন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চলবে বলে জানিয়েছেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। আমিনুল হক পলাশ জানান, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ চলবে। আজকের সমাবেশ ছাড়াও ৫ই মার্চ যাত্রাবাড়ীতে মহাসমাবেশ হবে। ৭ই মার্চ শিখা চিরন্তনে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, এই রায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয়ের দিকে আরেক ধাপ এগিয়েছি। তবে চূড়ান্ত বিজয় এখনও হয়নি। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম চলবে।

Thursday, February 28, 2013

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই


কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

বস্তির কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা মর্জিনা। তার একমাত্র মেয়ে জুলেখা। ৫ সন্তানের মধ্যে সে ছোট। বড়ই ইচ্ছে ছিল একটু ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। এ জন্য অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা না করিয়ে কষ্টে উপার্জিত ৭৫ হাজার টাকা ঘরে জমিয়ে ছিলেন। মার্চ মাসে মেয়েকে স্বামীর ঘরে তুলে দেবেন। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড মর্জিনা পরিবারের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। মা ও মেয়ের আহাজারিতে বস্তির আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দৃষ্টিতে ভাসছে কেবল আগুনের ধ্বংসাত্মক চিহ্ন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির অন্য পরিবারে বইছে কান্নার রোল। শ’ শ’ হতদরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার ১০টি ইউনিট সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় র‌্যাব, পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ বস্তিবাসীদের জানমাল উদ্ধার করে। লুটপাটের আশঙ্কায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। ৭ নম্বর বস্তির সব ঘর ভস্মীভূত এবং ১ নম্বর বস্তির কিছু ঘর পুড়ে গেছে। বস্তির ৪০টি দোকান ঘর ও গোডাউনসহ দেড় শতাধিক কাঁচাঘর ভস্মীভূত হয়েছে। বস্তিবাসী অনেকে অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি হয়েছে। তারা যখন এসে পৌঁছেছে তখন আগুন বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহাবুব বলেন, সংবাদ পেয়ে ছুটে আসতে কোন বিলম্ব হয়নি। রাস্তায় জ্যাম ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সদস্যরা ৪৫ মিনিটে পুরো বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অন্যথায় আগুন পুরো বস্তির ঘরগুলো গ্রাস করতে পারতো। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি রান্না ঘরের লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণলপুর নতুন বাজার ৭ নম্বর বস্তির একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া উঠতে থাকে। বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কুণ্ডলি বড় হয়ে বস্তিতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যে আগুন একের পরে এক বস্তির বিভিন্ন ঘর গ্রাস করে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১ নম্বর বস্তির ঘরগুলোতে। এ সময় বস্তির বেশির ভাগ নারী-পুরুষ কাজে বাইরে ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তারা ছুটে আসেন। আগুনের থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে গিয়ে এবং মালামাল উদ্ধার করার সময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সংবাদে বস্তির পাশের র‌্যাব-৪ ক্যাম্প সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা বস্তিবাসীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন।

Wednesday, February 27, 2013

গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩

গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩


'গুগল' নামটির সাথে এই প্রযুক্তির বিশ্বে কাউকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। প্রযুক্তি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবদান রেখে বিশ্বকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে এই টেক জায়ান্ট। তবে কেবল নিজেরাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে না, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে যাদের আগ্রহ এবং প্রতিভা রয়েছে, তাদের প্রতিভা এবং মেধার স্বাক্ষরকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতেও কাজ করে যাচ্ছে তারা। কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গুগল গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারেও আয়োজন করেছে 'গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩'। ৩১ জানুয়ারি থেকে এই প্রতিযোগিতায় প্রকল্প জমা দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। চলবে এপ্রিলের শেষ দিন পর্যন্ত। গুগল সায়েন্স ফেয়ারের এই প্রতিযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব

টেক জায়ান্ট গুগল তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী দিয়ে ক্রমশই বিশ্বকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে। তবে কেবল নিজেদের উদ্ভাবনী নিয়েই বসে নেই গুগল। অন্যদের প্রতিভা আর মেধাও যাতে গোটা বিশ্বকে সমৃদ্ধ করতে পারে, তা নিয়েও তারা কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গুগল কয়েক বছর ধরে আয়োজন করে যাচ্ছে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি নিয়ে এক বিশেষ প্রতিযোগিতা। সারা বিশ্বের ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতা। চলতি বছরেও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার নাম 'গুগল সায়েন্স ফেয়ার'। সার্বিকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন দিককে ১১টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব ক্যাটাগরির যেকোনো একটিতে নতুন কোনো উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে একটি প্রকল্প জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই প্রতিযোগিতায়। আর সেই সাথে প্রকল্পটি প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হলে থাকছে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নে কাজ করার সুযোগ। তার সাথে শিক্ষাবৃত্তি এবং আরও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা তো রয়েছেই। আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীদের জন্যও উন্মুক্ত রয়েছে এই প্রতিযোগিতা। তাদের জন্যই এই লেখায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

প্রতিযোগিতার সাধারণ তথ্য

কিশোর-কিশোরীদের জন্যই এই সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন করেছে গুগল। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহীদের বয়সসীমা ১৩ বছর থেকে ১৮ বছর। অর্থাত্, যাদের জন্ম ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে, কেবল তারাই অংশ নিতে পারবে এই প্রতিযোগিতায়। ব্যক্তিগত এবং দলগতভাবে অংশ নেওয়া যাবে এই প্রতিযোগিতায়। আমেরিকা, এশিয়া প্যাসিফিক এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য—এ তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্যায়ে প্রতি অঞ্চল থেকে তিনটি বয়সভিত্তিক দলে ১০টি করে মোট ৯০টি দলকে নির্বাচিত করা হবে আঞ্চলিক ফাইনালিস্ট হিসেবে। এরপর ওই ৯০টি প্রকল্প থেকে নির্বাচিত করা হবে ১৫টি ফাইনালিস্ট দল। এই ১৫টি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনের প্রতিযোগিতা। বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের বিভক্ত করা হয়েছে তিনটি গ্রুপে। ১৩ থেকে ১৪, ১৫ থেকে ১৬ এবং ১৭ থেকে ১৮ বছরের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নেবে এখানে। যেকেউ ব্যক্তিগতভাবে একাই অংশ নিতে পারবে এতে। আবার দলগতভাবেও অংশ নিতে পারবে। দলের সদস্য সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ তিনজন। আর সেক্ষেত্রে দলের সদস্যদের মধ্যে যার বয়স বেশি হবে, তার বয়স অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে বয়সের গ্রুপ। অঞ্চল এবং বয়সের গ্রুপ মিলিয়ে যে ১৫টি প্রকল্পকে চূড়ান্ত হিসেবে নির্বাচন করা হবে, সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গুগল'র সদর দপ্তরে সে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে সরাসরি বিচারকদের সামনে। সেখান থেকেই বাছাই করা হবে তিনটি সেরা প্রকল্প।

প্রকল্প জমা দেওয়ার জন্য করণীয়

প্রাথমিকভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বাসায় বসেই অংশ নেওয়া যাবে এই প্রতিযোগিতায়। যে প্রকল্প বা উদ্ভাবন বা ধারণা নিয়ে প্রতিযোগী অংশ নিতে চায়, তার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র তৈরি করতে হবে। আর সেটি আপলোড করে দিতে হবে গুগল সায়েন্স ফেয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। http://google.com/sciencefair ওয়েব লিংকে গেলেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিওটি আপলোড করা যাবে। ভিডিও'র দৈর্ঘ্য অবশ্য হতে হবে সর্বোচ্চ ২ মিনিট। যাদের ভিডিও ২ মিনিটের চাইতে বেশি হবে, তাদের ভিডিওর প্রথম ২ মিনিটই কেবল প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচনা করা হবে। বাকী অংশ বিবেচনা করা হবে না। ভিডিও চিত্রের বদলে অবশ্য প্রজেক্ট সামারি স্লাইডশো জমা দিলেও চলবে। সে ক্ষেত্রে স্লাইডশোতে সর্বোচ্চ স্লাইড হবে ২০টি। এ ক্ষেত্রেও যাদের স্লাইড সংখ্যা ২০টির বেশি হবে, তাদের ক্ষেত্রে কেবল প্রথম ২০টি স্লাইডকেই বিবেচনা করা হবে প্রতিযোগিতার জন্য। এই ২ মিনিটের ভিডিও কিংবা ২০টি স্লাইডের মধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত সব তথ্য সংযোজন করতে হবে। এর আগে অবশ্য প্রতিযোগীদের প্রয়োজন হবে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট। https://accounts.google.com/NewAccount লিংক থেকে বিনামূল্যেই গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যাবে।

প্রতিযোগিতার বিষয়

আগেই বলা হয়েছে, সর্বমোট ১১টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু। বিষয়গুলো হচ্ছে—কম্পিউটার বিজ্ঞান ও গণিত, পৃথিবী এবং পরিবেশ বিজ্ঞান, আচরণ ও সামাজিক বিজ্ঞান, প্রাণী ও উদ্ভিদ, শক্তি ও মহাবিশ্ব, আবিষ্কার ও উদ্ভাবন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, খাদ্য বিজ্ঞান এবং বিদ্যুত্ ও ইলেকট্রনিক্স। এসব বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয়েই প্রকল্প জমা দেওয়া যাবে। একজন প্রতিযোগী প্রতিযোগিতায় কেবল একটি প্রকল্পেই অংশ নিতে পারবে। কেউ যদি একাধিক প্রকল্পে অংশ নিয়ে থাকে, তবে তার জমা দেওয়া প্রথম প্রকল্পটিই কেবল বিবেচনা করা হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, এই প্রতিযোগিতার জন্য এমন কোনো প্রকল্প নিয়ে কাজ করা যাবে না যাতে কোনো মানুষ বা জন্তুর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো পরীক্ষাও চালানো যাবে না।

যা থাকবে প্রকল্পে

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে যে প্রকল্প জমা দিতে হবে, তাতে ৮টি অংশ থাকতে হবে। এই অংশগুলোর প্রথমেই থাকবে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ। এখানে এই প্রকল্পে কোন বিষয়গুলো থাকবে, প্রকল্পটি কী নিয়ে; তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় অংশে থাকবে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী বা অংশগ্রহণকারীদের তথ্য। এককভাবে অংশ নিলে নিজের তথ্য এবং দলগতভাবে অংশ নিলে দলের সকল সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত করতে হবে এখানে। তৃতীয় অংশে থাকবে প্রশ্ন বা প্রস্তাবনা। যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কিংবা কোন সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে, তা জানাতে হবে এখানে। প্রকল্পের চতুর্থ অংশে থাকবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য। প্রকল্পের প্রস্তাবনা বা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে কী পড়ালেখা করা হয়েছে এবং তা প্রকল্পটিকে কীভাবে সহায়তা করছে, তা উল্লেখ করতে হবে এখানে। পঞ্চম অংশে থাকবে এই প্রকল্পে যে পরীক্ষণ করা হয়েছে, তার বিববরণ। আলোচ্য সমস্যার যে সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটাই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে এই অংশে। ষষ্ঠ অংশে থাকবে পরীক্ষণের ফলাফল। প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষণে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, সেই ফলাফলকে ব্যাখ্যা করতে হবে এই অংশে। সপ্তম অংশে থাকবে উপসংহার বা রিপোর্ট। গোটা প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে সমস্যার সমাধান হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে এই অংশে। সবশেষে থাকবে নির্ঘণ্ট, যেখানে পুরো প্রকল্পে যেসব রেফারেন্স বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে তার তথ্য এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার।

সাধারণ নিয়মাবলী

এই প্রতিযোগিতায় প্রকল্প জমা দিতে হলে বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, যেসব তথ্য বা উপাত্ত ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়ে গেছে বা সকলের মধ্যে বিদ্যমান, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। অবৈধ কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা যাবে না। প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালালে সেটা এমন পরিবেশে করতে হবে, যেখানে পরিবেশ প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলবে না। কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না। কেবল তা-ই নয়, অন্যের মেধাস্বত্ব ভঙ্গ করে এমন কোনো উপাদানও ব্যবহার করা যাবে না। সায়েন্স ফেয়ারের ওয়েবসাইটেই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

বিচারে যা বিবেচ্য

প্রতিটি প্রকল্পকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে বিচার করা হবে। এর মধ্যে সারসংক্ষেপ অংশের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪০ নম্বর। এর বাইরে প্রতিযোগীদের তথ্য, প্রশ্ন বা প্রস্তাবনা এবং উপসংহার বা রিপোর্ট অংশের প্রতিটির জন্য রয়েছে ২০ নম্বর। নম্বর বিভাজনকে মাথায় রেখেই তাই প্রকল্প জমা দিতে হবে।

পুরস্কার

এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রকল্পগুলোর জন্য রয়েছে প্রচুর পুরস্কার। বয়সভিত্তিক তিনটি ক্যাটাগরিতে রয়েছে তিনটি পুরস্কার, যার মধ্যে একটিকে বিবেচনা করা হবে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে। গ্র্যান্ড পুরস্কার বিজয়ীর জন্য রয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির পক্ষ থেকে একটি ভ্রমণের সুযোগ; গুগল'র পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি; গুগল, লেগো বা সার্নে শিক্ষাভ্রমণ; একটি লেগো প্রাইজ এবং বিজয়ীর স্কুলের জন্য থাকবে সায়েন্টিফিক আমেরিকানের আর্কাইভে অ্যাকসেস। অন্য বিজয়ীদের জন্যও রয়েছে একই ধরনের পুরস্কার। এ ছাড়া ফাইনালিস্ট ১৫ প্রকল্পের জন্যও রয়েছে পুরস্কার।

সাঁকোতে সাবধান

সাঁকোতে সাবধান


প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জোটের নেতাদের অতিকথনে। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মিডিয়া ও দলীয় নেতাদের সামনে সংযত হয়ে বক্তব্য দিতে। বলেছেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অতিকথা অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে সরকারকে। তাই যে কোন বিষয়ে কথা বলতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এমন উস্কানিমূলক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে তাই। ২৫শে ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের পক্ষে আগ বাড়িয়ে কিছু করা বা বলা ঠিক হবে না। আপনাদের আগ বাড়ানো বক্তব্যকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। দয়া করে ওই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সাহায্য করবেন না উস্কানিতে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর সজাগ দৃষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাব ও সরকারি অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চাইছেন উদ্ভূত অবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্থাৎ পরিস্থিতি যেন ঘোলাটে না হয়ে ওঠে, সরকারকে যেন বিব্রত না হতে হয়। শাহবাগ চত্বরের তরুণ-যুব সমাজের মৌলবাদমুক্ত অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জাগরণ-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সরকার, সংসদ, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বেশির ভাগ বিরোধী দল ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সবাই। আন্দোলনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিকে যথোচিত উদ্যোগ-কার্যক্রমও নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢুকে পড়ে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং একটি অকথ্য ব্লগ। দ্রুত পালটে যেতে থাকে পরিস্থিতি। তারপর ইস্যু হয়ে ওঠে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ বনাম নাস্তিক্যবাদ। তারপর মহানবীর অবমাননা বনাম জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অবমাননা। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে এখন। এ অবস্থান মরিয়া। ঘৃণা-বিদ্বেষ-আক্রোশ-আক্রমণ এখন স্থান করে নিয়েছে মুখের ভাষায়। সমবেত হামলায়। স্থান অদল বদল করে নিচ্ছে রাজনীতি ও নাশকতা। রক্ত ঝরছে, স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ। হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে।
শান্তিভূমি পুণ্যভূমি বাংলাদেশ আবার যুদ্ধভূমি? তাহলে কোথায় সেই শুভবুদ্ধি? সোমবারের ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদকে। তিনি জানেন, এই আলোচনার পথই একমাত্র পথ। এ পথেই সমাধান ঘটতে পারে বিরোধ, বিবাদ, বিভ্রান্তির।
কিন্তু সবাই কি তা জানেন? বা সবাই কি তা চান?
বিভাজিত জাতির উন্নতি কঠিন জেনেও আমরা বিভাজিত। এ বিভাজন এখন তীব্র। সবাই জানেন বিচারক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিকরা যদি দলীয় হয়ে যান তাহলে দেশের মানুষের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না, তারপরও আমাদের অনেকের চলন বলন কাজকর্ম তো দলীয় কর্মীদের চেয়েও উগ্র আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এর অবসান কোথায়?
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের খবর ‘মন্ত্রীদের অতিকথনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে মানবজমিন-এ। খবরটির লিঙ্ক ফেসবুক-এ দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই মন্তব্য আসে এক স্নেহভাজন কবি-সাংবাদিকের, ‘চ্যানেলগুলোর... বন্ধ হবে এতে? মন্ত্রীদের ক্যামেরা-প্রীতি থাকবে না... বলেন কি?’
প্রশ্নটি মিডিয়ার প্রতি। কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু এ সঙ্কটকালে কি হতাশার কারণ হয়ে উঠছে তার ভূমিকা? আসলে আমাদের দেশে কি ভূমিকা নেয় মিডিয়া? স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিজের যে ভূমিকা বেছে নেয় মিডিয়া আসলে তার ওপরই নির্ভর করে সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা। সে কি সমাজের নেতা? নাকি সংস্কারক? পরিবর্তনের অনুঘটক? নাকি খবর ও মতামতের বাহক মাত্র? বার্তাবাহক হিসেবেও কি সে স্বাধীন নাকি অভ্যন্তরীণ বা বহিঃস্থ চাপ বা শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
যা-ই হোন, দয়া করে সাঁকো নাড়তে বলবেন না কাউকে।

Thursday, February 21, 2013

২০ বছর পর চীনকে হারালো বাংলাদেশ

২০ বছর পর চীনকে হারালো বাংলাদেশ


ওয়ার্ল্ড হকি লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা আইরিশদের বিপক্ষে ২-৫ গোলে হেরে হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কাল আবার আশার আলো জাগিয়ে তুললেন জিমি-চয়নরা। গতকাল ভারতের ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে তারা ৩-২ গোলে হারালো ২২ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনকে। বাংলাদেশের মামুনুর রহমান চয়ন, মইনুল ইসলাম কৌশিক এবং পুষ্কর খীসা মিমো একটি করে গোল করেন।
সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে জাপানের হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকিতে চীনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে মামুনুর রহমান চয়ন স্কুপ করে গোল আদায় করে নেন (১-০)। ১১ মিনিটে চীনের না ইউবো গোল দিলে খেলা সমতায় ফেরে (১-১)। ২৭ মিনিটে চীনের অধিনায়ক জিমি পিসি থেকে গোল করলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় চীন। ৩৪ মিনিটে ফিল্ড থেকে মইনুল ইসলাম কৌশিক গোল করে খেলায় ফের সমতা আনেন (২-২)। পরে ম্যাচের ৫০ মিনিটে পুষ্কর খীসা মিমো গোল করলে ৩-২ গোলের জয় পায় বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে থাকা ওমানের সঙ্গে খেলবে জাহিদ বাহিনী। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে চারটায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টেন স্পোর্টস।

অমর একুশে আজ

অমর একুশে আজ


আজ মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছিল যেদিন, তা-ই একুশে ফেব্রুয়ারি। এ দিনের ইতিহাস, মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো রাজপথের ইতিহাস। প্রাণ দিয়ে সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল বাংলার সূর্যসন্তান, ভাষাসৈনিকেরা। এদিন এখন শুধু বাঙালির নয়। সবার জন্য পালনীয়। ১৯৫২-এর এদিনে জীবন দিয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। আজ তার ৬১তম বার্ষিকী। তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি শুরু হলো বাঙালির। আজ একুশের প্রথম প্রহর থেকে শহীদদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিয়ে শহীদ মিনারে সমবেত সবাই। মধ্য রাতেই শুরু হয়েছে সে জমায়েত। কেবল বাংলাদেশে নয়। বিশ্বের সব প্রান্তে আজ পালিত হবে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে।
৬১ বছর আগের এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাথা রচনা করেছিলেন তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল সবুজের পতাকা। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। এবারও বিশ্বের সব ক’টি দেশে পালিত হবে মহান একুশে। মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে পুরো জাতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভাষাশহীদদের। সারা দেশের সব রাস্তার শেষ ঠিকানা ছিল শহীদ মিনার। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?’ একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ঢাকা সিটি মেয়র, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, তিন বাহিনীর প্রধান শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয় স্মৃতির মিনার।
শহীদ মিনারে যাওয়ার পথ
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজিমপুর কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের জন্য একটি রুটম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাস্তা নিরাপত্তার জন্য বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি এটি প্র্রণয়ন করে। ১. পুরানো হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল ক্রসিং, বাংলা একাডেমী, টিএসসি মোড়, উপাচার্য ভবনের পাশ দিয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়, নিউ মার্কেট-ক্রসিং পার হয়ে আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর দিকের গেইট দিয়ে কবরস্থানে প্রবেশ করবেন এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের পর আজিমপুর গোরস্তানের মূল গেইট (দক্ষিণ দিকের) দিয়ে বের হয়ে আজিমপুর সড়ক হয়ে পলাশী মোড় ও ফুলার রোড মোড় হয়ে অর্থাৎ সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। ২. গোরস্তানে না গিয়ে বিকল্প পথে যারা শহীদ মিনারে যেতে চান তারা ভিসি ভবন পার হয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড় থেকে বাম দিকের রাস্তা দিয়ে (জহুরুল হক হলের পশ্চিমের রাস্তা) সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যেতে পারবেন। ৩. নিউ মার্কেট ক্রসিং থেকে হোম ইকোনমিক্স ও ইডেন কলেজের সামনের রাস্তা দিয়েও আজিমপুর (বেবী আইসক্রিম) মোড়, পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে। ৪. চাঁনখার পুল এলাকা থেকে বকশীবাজার মোড় হয়ে বুয়েটের দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়েও পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে।
যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য টিএসসি মোড় থেকে জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের রাস্তা অর্থাৎ শিব বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে ও মেডিকেল কলেজে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভিসি ভবন গেট থেকে ফুলার রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তা এবং চাঁনখার পুল থেকে কার্জন হল পর্যন্ত রাস্তা জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বর ও পেছনের রাস্তা দিয়ে চাঁনখার পুল হয়ে শুধুমাত্র প্রস্থান করা যাবে, শহীদ মিনারের দিকে আসা যাবে না।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঢাকা
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় গতকাল বিকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় ঢাকা। মিনারমুখী সব রাস্তায় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সতর্ক পাহারা। তাদের সঙ্গে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের কয়েক হাজার সদস্য। সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোন গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, অমর একুশে উদযাপনের জন্য শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
নানা কর্মসূচি: দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি।
ইতিহাসের পাতা থেকে
১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চারজন চারজন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বেলা তিনটায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল চারটায় পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালনের রেওয়াজ চালু হয়। সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার।
প্রেসিডেন্টের বাণী: মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবলই আমাদের মাতৃভাষার দাবি আদায় করেনি, বরং তা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায় এবং স্বাধিকার অর্জনে বিপুলভাবে উদ্বুদ্ধ করে। বাঙালি অর্জন করে মাতৃভাষার অধিকার। ভাষা আন্দোলন আমাদের নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির লালনসহ সামনে এগিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত প্রেরণা যোগায়, অন্যায়-অবিচার ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উজ্জীবিত করে। তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলে। পৃথিবীর বর্ণাঢ্য ভাষা ও সংস্কৃতির বহমান ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে লুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষায় বিশ্ববাসী আরও অবদান রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী: পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান একুশে বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। আজ তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণের অনুরণিত হয়। সারা বিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।