Pages

Saturday, February 2, 2013

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি


বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে থাকছে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন হচ্ছে না সেজন্য সহ-অর্থায়নকারী এডিবি'র পক্ষেও প্রকল্পে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। একই সাথে এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এডিবি। অবশ্য বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

এডিবির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এডিবি জানতে পেরেছে যে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের তদন্ত নিয়ে অর্থায়নের বিষয়টি দৃশ্যত: 'অনির্দিষ্টকালের' জন্য ঝুলে যাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) পাশাপাশি সহযোগী অর্থায়নকারী এডিবি। যেহেতু এটি একটি যৌথ অর্থলগ্নিকারী প্রকল্প, সেহেতু সেখান থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় এডিবির পক্ষে আর অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশে সবচে' তাত্পর্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। এটির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অংশের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন। এই কারণে প্রকল্পটির আঞ্চলিক গুরুত্ব আছে। এর মাধ্যমে অন্তত ৩ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। এডিবি এখনো আশাবাদী যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

'বিবৃতিতে বলা হয়, এডিবি সর্বোচ্চ সততা, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে থাকতে বদ্ধপরিকর। এ কারণে আমরা বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে এই অভিযোগের পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং সরকারের প্রতি পুনর্গঠনমূলক কাজগুলো চালিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি। এসব পদক্ষেপে জনগণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রগুলো উপকৃত হবে।'

এডিবি বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। এডিবি বাংলাদেশ এবং এর জনগণের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহযোগী হিসেবে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হবে গ্রহানুপুঞ্জের!

১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হবে গ্রহানুপুঞ্জের!


এসটেরিওড নামের পাথর আকৃতির একটি গ্রহানুপুঞ্জ (বিজ্ঞানীদের কাছে ২০১২ডিএ১৪ নামে পরিচিত,একটি ফুটবল মাঠের অর্ধেকের সমান) ১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর খুব কাছে দিয়ে অতিক্রম করে যাবে। নাসার প্রকাশ করা খবরে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৭ হাজার ২০০ মাইল ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে কি না এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসটেরিওড পৃথিবীর এত বেশি কাছ দিয়ে অতিক্রম করার বিষয়ে নাসার বিজ্ঞানী ডন ইয়োম্যান বলেন, এটা কোন গ্রহের পৃথিবীর এত বেশি নিকট দিয়ে অতিক্রম করার রেকর্ড। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে মহাকাশ সার্ভে চালু করার পর থেকে পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে এতো বড় আর কোন বস্তু অতিক্রম করতে দেখা যায়নি। ডন আশাবাদী হয়ে বলেন, প্রতি ৪০ বছরে একবার এসটেরিওড পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেও প্রতি ১২শ’ বছরে একবার সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে আশা করা হচ্ছে, এ যাত্রায় এটি পৃথিবীতে আঘাত হানবে না। এসটেরিওডের কক্ষপথ সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এসটেরিওড বা ২০১২ডিএ১৪ ৫০ মিটারের একটি পাথর খণ্ডের মতো। অন্যান্য গ্রহানুপুঞ্জগুলোর মতো বরফ বা বিভিন্ন মেটারিয়াল দিয়ে গঠিত হয়নি ২০১২ডিএ১৪। এটি পাথর দিয়ে গঠিত।

তিমির বমির দাম দেড় কোটি টাকা

তিমির বমির দাম দেড় কোটি টাকা


‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়্যা দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন’- না এ প্রবাদটিকে খুব একটা মূল্য দেননি বৃটিশ নাগরিক কেন উইলম্যান। তবে তিনি না দিলেও তার পোষা কুকুরটি কিন্তু ছাই উড়িয়ে ঠিকই খুঁজে বের করেছে অমূল্য রতন। সমুদ্র সৈকতে কুকুর নিয়ে হাঁটতে গিয়ে উইলম্যান কুড়িয়ে পেয়েছেন সুগন্ধযুক্ত শিলাখণ্ড অ্যাম্বারগ্রিস (তিমি মাছের পেটে থাকে এক ধরনের নরম পদার্থ বিশেষ, যা দিয়ে দামি সুগন্ধি তৈরি করা হয়) নামের অমূল্য রতনটি। তিমি বমি করে ফেলে দিলে সাধারণত এটি কুড়িয়ে পাওয়া যায়। এর দাম হাঁকা শুরু হয়েছে ৫০ হাজার ইউরো থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে অ্যাম্বারগ্রিসটি। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা। স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়, বৃটেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চিলীয় শহর মোক্যাম্বির সমুদ্র সৈকতে নিজের পোষা কুকুরটি নিয়ে হাঁটতে যান উইলম্যান। এ সময় তার কুকুরটি একটি বড় হলুদ আকারের পাথরে খোঁচাখুঁচি শুরু করে। কিন্তু সে দিকে লক্ষ্য না করে অনেক দূর চলে যান তিনি। পরে আবার কি মনে করে ফিরে এসে সেটি হাতে তুলে নেন। শিলাখণ্ডটি হাতে নিয়েই উইলম্যান বুঝতে পারেন এটি হচ্ছে মহামূলবান অ্যাম্বারগ্রিস। তারপরই দামি রতনটি নিজ হাতে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাধারণত তিমির বমি থেকে বেরিয়ে আসে দামি সুগন্ধি অ্যাম্বার গ্রিস। বমির পর এটি পানিতে ভাসতে থাকে। তাজা অ্যাম্বারগ্রিস থেকে বের হয় বাজে গন্ধ। কিন্তু পর্যায়ক্রমে যত পুরান হতে থাকে ততই সুগন্ধযুক্ত হতে থাকে এটি। আস্তে আস্তে বের হয়ে আসে কস্তুরির গন্ধ। তারপর এর থেকে তৈরি হয় দামি দামি সব সুগন্ধি। উইলম্যানের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুটি সত্যিকার অর্থে অ্যাম্বারগ্রিস কি না তা এখনও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই এটি বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। ফরাসি এক ব্যবসায়ী এরই মধ্যে এর দাম হেঁকে বসেছেন ৫০ হাজার ইউরো। নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাম্বারগ্রিসটির দাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর দাম বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে এতে বিশেষ গুণ রয়েছে। যা সুগন্ধি তৈরির কাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংস্থান হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণই ছিল এ প্রকল্পের সবচেয়ে সহজ অর্থায়ন। বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়াকে খুব বেশি যৌক্তিক হয়নি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তার আগে তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মীর্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম মনে করেন সরকারের সিদ্ধান্ত খুব একটা যৌক্তিক হয়নি। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করে সেতু বাস্তবায়ন হলে তা সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরকার নিজে থেকেই সরে আসার বিষয়ে ড. আকবর আলি খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল সবচেয়ে উত্তম পথ। আর এটা সরকার জানে বলেই প্রথমে বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরে যখন দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে তখন তাদের খুশি করার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী বদল করা হয়। দুর্নীতির তদন্ত করা হয়। তাদের শর্ত পালন করতে গিয়ে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু যখন সমাধান হয়নি তখনই সরকার নিজে থেকেই সরে এসেছে। এখন সরকার বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করার চিন্তাভাবনা করছে। বিকল্প অর্থায়ন থেকে এই সেতু করা হলে এর ব্যয় বেড়ে যাবে এবং সময় লাগবে বেশি। বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করবে কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, ঋণ চুক্তি কি হবে তার ওপর। এটি প্রকাশ করলে বোঝা যাবে পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নই ছিল সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে আসায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোন প্রকল্পে সহায়তায় এর প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তা করার সময় তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। যদিও বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তারা বাংলাদেশের সহায়তা বন্ধ করবেন না।
সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে খুব বেশি যৌক্তিক বলে মনে করি না। কারণ বিশ্বব্যাংক দরজা বন্ধ করেনি। আমরা নিজেরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের কিছু প্রশ্ন ছিল। যার জবাব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই জবাবের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের মতামত আসার আগেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাভ-লোকসান পর্যালোচনা না করে এখন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করা বাস্তব সম্মত নয়। নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন উচ্চাভিলাষী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইতিবাচকভাবে দেখলে পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল সরকারের সিদ্ধান্তে তা শেষ হলো। সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এখন ভিন্নভাবে অর্থায়নে মনোযোগী হতে পারে। আশা করি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সুষ্ঠুভাবেই নিতে পারবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। সহজ শর্তে ঋণ থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু যে কারণে বৃহৎ এ প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো সেই অপবাদ কিভাবে দূর হবে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পেলাম না, তাই নিলাম না। এমন পরিস্থিতিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর চেয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রমোট করাই সরকারের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরকার একটি বড় সুযোগ হারালো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছিল মামলায় সেসব ব্যক্তিকে আসামি করা হলে বিশ্বব্যাংক অবশ্যই অর্থায়ন করতো। একই ইস্যুতে কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে। আবার কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এ বিষয়ে যা বলেছে তা সরকার ও দেশের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে- বিশ্বব্যাংক থেকে তারা এ বিষয়ে ঋণ নেবে না। এখন দুদকের তদন্তের ফল কি দাঁড়াবে তা-ও দেখার বিষয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাংক-এর চ্যাপ্টার ক্লোজড হওয়ার পর সেতু নির্মাণে বিকল্প পন্থা বের করা যুক্তিযুক্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে সুদ কি হবে? শর্ত কি হবে? এসব বড় বিষয়। বিকল্প পন্থা থেকে বিশ্ব ব্যাংক-এর মতো কম সুদে ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ হারে ঋণ নিয়ে সেতু নির্মাণ করলে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির ওপর কি প্রভাব পড়বে তা বড় প্রশ্ন। ভবিষ্যতে সরকার কতটুকু দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সেতু বাস্তবায়ন করতে পারবে সে প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।

শমলার জীবনের মোড় ঘুরেনি এখনও

শমলার জীবনের মোড় ঘুরেনি এখনও


শমলা জানেন না তাকে নিয়ে লেখা ‘ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ জাতিসংঘ পুরস্কার পেয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তা মাহতাব হায়দার ও নাদের রহমানের লেখা ‘শমলার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ বিশ্বের ৬৬টি দেশ থেকে ১২০টি গল্পের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। কিন্তু শমলার জীবনের মোড় এখনও ঘুরেনি। সাত বছর আগে নিরুদ্দেশ হওয়া স্বামী জালালের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন আজও। বলেন, আমার স্বামী ফকির মানুষ। মাজারে মাজারে ঘুরে। গান শোনে। কোথায় আছে কি জানি! আজও তার অপেক্ষায় আছি। এই কষ্ট আমার কপালে আছিল। সে যাওয়ার পর আমি খালি কানছি। কথা বলতে পারি নাই। আমার তিন বছরের মেয়েটাও কথা বন্ধ করে দেয়। কতো হাসপাতাল, মর্গে তারে তালাশ করছি। মানসে কইতো, তোমার স্বামী গেছে গা। কান্না কইরা কি হইবো। স্থানীয়রা বলেন, দুইটা মেয়ে জন্ম হওয়ার কারণেই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে জালাল। তারপর অনেক সংগ্রাম করে শমলা স্বাবলম্বী হয়েছেন। মেয়েদের রেখে তার বাপ গেছে। মা-ওতো পালিয়ে যেতে পারতেন। পারতেন আত্মহত্যা করতে। তিনি তা করেননি। বলেন, তাইলে ওরা কই যাইতো? ওদের জন্যই আমি সংগ্রাম করেছি। আমার বড় কোন আশা নেই। ওরা যেন আমার চেয়ে একটু ভাল থাকে। সুখ কইরা যেন ওরা খাইতে পারে- এটাই আশা।
১৪ বছর আগে গ্যারেজ শ্রমিক জালালের সঙ্গে বিয়ে হয় শমলার। চার বছর পর প্রথম তার কোলজুড়ে আসে কন্যা সন্তান শাহনাজ আক্তার (১০)। আরও তিন বছর পর শমলা পেটে ধারণ করেন আরেক কন্যা রত্নাকে (৭)। তের দিনের কন্যাসহ সংসার ফেলে ভবঘুরে স্বামী উধাও হয়ে যায় এক সকালে। সাত বছর ধরে নিরুদ্দেশ সে। ঋণ আর বন্ধকের দায়ে জর্জরিত সংসারে কপর্দকহীন শমলা তখন নিরুপায়। তবু হাল ছেড়ে দেননি। একটি চায়ের দোকান তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। শমলা এখন স্বাবলম্বী। দুই কন্যা শাহনাজ আর রত্নাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। শমলার জীবন জয়ের এই গল্প এখন বিশ্বজয়ী। নিজের বয়স কত তাও বলতে পারেন না তিনি। কত বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল তাও জানেন না। বিয়ের আগে খেলতেন, বেড়াতেন। বাবা-মা মারা গেছেন স্বামী পালানোর আগেই। দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে ছোট তিনি। বড়বোনও মারা গেছেন। তার নাম ছিল কমলা। শমলা নামটুকুই শুধু লিখতে পারেন। আর কোন অক্ষরজ্ঞান নেই। মেয়েরা কে কোন ক্লাসে পড়ে তাও জানেন না। জানেন শুধু স্কুলে যায় ওরা। এমনকি তারা অসুস্থ হলে তিনি ডাক্তারের কাছে যান না। পাশের কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ আর পানি পড়া এনে সুস্থ করেন সন্তানদের। শমলা বলেন, ছোট্ট মাইয়াডা রাইতে চিৎকার কইরা ওঠে। এইডাতো আর ডাক্তারে সারাইতে পারব না তাই তাবিজ লাগাইছি। বড় মেয়ে শাহনাজ জানায়, বস্তির এক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ছোট মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে বছর খানিক ধরে। ১৪ বছর ধরেই রাজধানীর কড়াইল বস্তির জামাই বাজার মহল্লায় বাস করেন শমলা। সেখান থেকেই স্বামী পালিয়ে যায়। যে ঘরটিতে থাকতেন তা শমলার ভাইয়ের। কিছুদিন ভাইদের সহায়তায় সেখানে থাকলেও এখন ভাড়া দিতে হয় ভাইকে। একটি ছোট্ট খুপরি ঘরের ভাড়া মাসে এক হাজার টাকা। স্থানীয় বস্তিবাসী অধিকার সুরক্ষা কমিটির সদস্য হুমায়ূন কবিরের মাধ্যমেই প্রথম আড়াই হাজার টাকা অনুদান পায় ইউএনডিপির আরবান পার্টনারশিপ ফর পোভার্টি রিডাকশন (ইউপিপিআর) প্রকল্প থেকে। সেই টাকার সঙ্গে ভাইয়ের দেয়া কিছু টাকা এবং মানুষের বাড়িতে কাজ করে জমানো টাকা মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি সংগ্রহ হয়। সেই পুঁজি নিয়ে থাকার ঘরের অর্ধেক জায়গায় শুরু করেন একটা চায়ের দোকান। দুই মাসের মধ্যেই পুুঁজির চেয়ে বেশি মুনাফা লাভ করেন শমলা। চা আর বিস্কুট দিয়ে শুরু করা দোকানে একে একে এনেছেন ফ্রিজ, টিভি, আরও আনুষঙ্গিক জিনিস। তা দিয়ে এখন ভাল চলছে তার দোকান। অভাব কেবল স্বামীর। সন্তানের বাবার।
পুরস্কার প্রাপ্ত ওই গল্পে উঠে আসে, শমলার মতো আরও প্রায় ৫৫ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে অর্থসহায়তা করেছে ইউএনডিপির ওই প্রকল্প। তরুণ তরুণীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে গত এক দশকে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। জীবনযুদ্ধে সফল সেই সব মানুষেরই একজন শমলা। শমলার এই সাফল্য নিয়ে ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি সফল হয়েছে। মানবিক উন্নতি ঘটেছে বিভিন্ন স্তরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। গত ২৮শে জানুয়ারি সোমবার বিকালে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর রাত) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্কের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএ মোমেন। এ সময় ইউএনডিপির প্রেসিডেন্ট রোবেল ওলহাইয়ে, বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার বরুণ দেব মিত্র উপস্থিত ছিলেন।

Friday, February 1, 2013

নারী বসের লালসার শিকার...পুরুষ ‍নির্যাতন

নারী বসের লালসার শিকার...“পুরুষ ‍নির্যাতন”


নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার অধঃস্তন পুরুষ কর্মকর্তা ম্যাথিউ শিন্ডলার (৩৯)। এ বিষয়ে গতকাল মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ম্যাথিউ শিন্ডলারের বিধবা স্ত্রী গিনা শিন্ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি ম্যাথিউ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে’তে আত্মহত্যা করেন ম্যাথিউ। তার স্ত্রী মামলায় দাবি করেছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তা সার্জেন্ট ক্রিস্টিন হার্টজেল তার স্বামীকে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন। এই চাপ থেকে ম্যাথিউ কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছিলেন না। ম্যাথিউ তিন সন্তানের জনক। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে করা মামলা অনুযায়ী, যদি ক্রিস্টিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ন করে, তার চাহিদা ম্যাথিউ পূরণ না করেন তাহলে তার চাকরির এসাইমেন্ট, কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি কোনটিই শুভ হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এতে এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ম্যাথিউ আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় গিনা সুনির্দিষ্ট কোন অংকের ক্ষতিপূরণ চান নি।

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ কয়েক জনকে  কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।

সক্রিয় আম্মাজান, কৃষ্ণবালা ও সুইসগিয়ার গ্রুপ

সক্রিয় আম্মাজান, কৃষ্ণবালা ও সুইসগিয়ার গ্রুপ

আম্মাজান, কৃষ্ণবালা ও সুইসগিয়ার গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ট্রেনের যাত্রীরা। প্রতিদিনই দুর্ধর্ষ এই তিন গ্রুপের ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন যাত্রীরা। তাদের টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটে বগি থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে হাওয়া হয়ে যায় তারা। কেউ বাধা দিলে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়। রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ট্রেনের প্রায় সব রুটেই ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের অবাধ প্রবেশ। তাদের কাছে ট্রেনচালকও জিম্মি। বিশেষ কৌশলে ট্রেন থামিয়ে তারা ইঞ্জিন বগিতে উঠে পড়ে। কখনও কখনও তাদের লোকজন আগে থেকেই ট্রেনে অবস্থান করে, নির্ধারিত পয়েন্টে আসার পরপরই চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে ডাকাত দলের প্রবেশে সুযোগ করে দেয়। এরপর একযোগে ডাকাতি শেষে পালিয়ে যায়। একই কৌশলে গতকাল ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থেকে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের তিনজন যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও আরেকজনের পরিচয় মেলেনি। এরা হলেন বিজয়নগর উপজেলার মিরাশানি গ্রামের সুদ মিয়া (৫০) ও তার প্রতিবেশী সাহানা বেগম (৪০)। আহত হয়েছেন আখাউড়া পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। খোরশেদকে জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার  মাথা, পা ও গলার নিচে ছুরিকাঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা। আহত খোরশেদ পুলিশের কাছে বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কাছে ভাদুঘর কুরুলিয়া রেলসেতু এলাকায় আসার পরপরই ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে তাদের ফেলে দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। তাদের ধারণা এটি ভয়ঙ্কর ‘আম্মাজান’ গ্রুপের কাজ হতে পারে। রেলওয়ে সূত্রমতে, বিভিন্ন ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য হয়েও ছদ্মবেশে রেলস্টেশনে সারা দিন ঘুরে বেড়ায় ছিনতাইকারীরা। তাদের  বয়স ১৭ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। কেউ পপকর্ন বিক্রি করে। কেউ বাদাম কিংবা আমড়া। কিন্তু আসল পেশা তাদের  ‘লেডিস কাম’। এর মানে মহিলাদের স্বর্ণালঙ্কার ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া। একাজ তারা দিনের বেলায়ই করতে পারে। রাত হলে উঠে পড়ে চলন্ত ট্রেনে। বগির বাতি নিভিয়ে যাত্রীদের টাকা ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এ কাজে তাদের মূল অস্ত্র বেল্ট। ছিনতাইয়ের সময় কোন যাত্রী বাধা দিলে প্রথমে গলায় বেল্ট বেঁধে নির্যাতন এবং পরে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এ গ্রুপে আছে শিপন ওরফে বিল্লাল ওরফে বিলাই, জীবন ওরফে অসহায় জীবন ওরফে দুখু মিয়া। রেলওয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ‘আম্মাজান’ গ্রুপের সদস্যরা তাদের ওস্তাদ। নির্ধারিত ট্রেনে তাদের বখরা দিয়েই তারা কাজ চালায়। ‘আম্মাজান’-এর মূল অস্ত্র বড় ড্যাগার ও ধারালো অস্ত্র। বগিতে প্রবেশ করে একযোগে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুটে চলন্ত ট্রেন থেকেই সটকে পড়ে। এ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য সোহেল, রাকিব, রনি ও জাভেদ। ‘সুইসগিয়ার’ গ্রুপের কাজ ছোট চাকু দিয়ে গলায় পোচ মারা। তারপরও উচ্চবাচ্য করলে চ্যাংদোলা করে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া। এ গ্রুপে আছে রিপন, তোফাজ্জল, সিলা মনির, রফিক, আলমগীর ও রানা। ২০১১ সালে গফরগাঁওয়ে জোড়া খুনের মামলায় তারা এখন কারাগারে। তবে এ গ্রুপের অন্যান্য সদস্য এখনও সক্রিয়। রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, ‘লেডিস কাম’ পার্টির পুরনো নাম ‘কৃষ্ণবালা’। এরা যাত্রীর গলায় গামছা ও বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মালামাল লুট করে। বাধা দিলে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এদের সহজ বিচরণ ট্রেনের ছাদ ও বগিতে। প্রথমে ছাদে অবস্থান নিয়ে কৌশলে খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছলে তাদের অপারেশন শুরু করে। গত ২৩শে ডিসেম্বর আন্তঃনগর ট্রেন তুরাগ এক্সপ্রেস থেকে দুই বস্ত্র প্রকৌশলীকে ফেলে দেয় এ চক্রটি। পুলিশ ওই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সমপ্রতি তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা করেছে আদালতের কাছে। এরা হচ্ছে মমিন ওরফে সুজন ওরফে কালু (২০), শাহিন (২৪), রাব্বী ওরফে দুর্জয় (১৭), মহাব্বত (২২) ও আকাশ (১৭)। আদালতে কালু তার জবানিতে দুই বস্ত্র প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম রিপন ও গোলাম মোরশেদ নয়নকে ফেলে দেয়ার নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দেয়। সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বিভিন্ন রুটের ট্রেনে একের পর এক ছিনতাই ও ডাকাতির পর দুর্ধর্ষ কৃষ্ণবালা পার্টির নাম জানতে পারে পুলিশ। পরে ওই গ্রুপের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের বর্ণনায় বের হয়ে আসে কিভাবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে যাত্রীদের ফেলে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশের সতর্কতা এবং ট্রেনের ছাদে ওঠার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এহেন অপরাধ কর্মকাণ্ড কিছুটা কমে আসে। তবে গত বছরের শেষের দিকে আবারও এসব পার্টি স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে। কমলাপুর জিআরপি থানা পুলিশ জানায়, ২৩শে ডিসেম্বর সকালে তুরাগ এক্সপ্রেসে জয়দেবপুর যাওয়ার সময় তেজগাঁও রেলস্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে দুই প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম রিপন ও গোলাম মোরশেদ নয়নকেও ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা। একই বগির যাত্রী রেলের এক সাবেক পয়েন্টম্যানকেও খিলক্ষেত এলাকায় ট্রেন থেকে ফেলে দেয় একই চক্র। এ ঘটনায় ২৫শে ডিসেম্বর কমলাপুর জিআরপি থানায় মামলা করেন রিপনের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম। গত ১৯শে নভেম্বর সন্ধ্যায় আজিজুর রহমান নামের এক চিকিৎসককে গাজীপুরে তুরাগ এক্সপ্রেস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। আজিজুর রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এবং পলমল গার্মেন্টের চিকিৎসক ছিলেন। গত ১৭ই ডিসেম্বর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে শারমিন সুলতানা নামে এক নারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সমপ্রতি ট্রেন থেকে কয়েকজনকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বেশির ভাগ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন আমাদের আওতাবহির্ভূত এলাকায় কিছু ঘটনা ঘটছে।

আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা

আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা


এটিই প্রথম ঘটনা নয়। তিতাস কমিউটারের যাত্রী হয়ে এর আগেও মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন অনেক যাত্রী। আর গতকাল দুর্বৃত্তরা ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করলো ৩ যাত্রীকে। আহত হয়েছেন ২ জন। একটি কামরার ৫ জন যাত্রীকেই চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হয় সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার পর। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান দুই যাত্রী। যদিও তাদের অবস্থা গুরুতর। গতকালের এ ঘটনার পর এ ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তদের নিয়মিত অভিযানের আরও অনেক ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আখাউড়া-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি গতকাল সকাল সাড়ে ৫টায় আখাউড়া থেকে ছেড়ে পাঘাচং রেলস্টেশনে পৌঁছলে তাতে ডাকাতরা হানা দেয়। ৭-৮ জনের ডাকাত দলটি ইঞ্জিনের পেছনের বগিটিতে ওঠে। ওই কামরায় যাত্রী ছিলেন ৫ জন। এর মধ্যে একজন মহিলা। ঘটনার শিকার আখাউড়া কালাছড়া গ্রামের রুবেল মিয়া (২২) জানান, ডাকাতরা কামরাতে উঠেই এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে সবাইকে। তার কাছ থেকে নগদ ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দরজা দিয়ে তাকে ছুড়ে বাইরে ফেলে দেয়। সমতল জায়গায় পড়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এভাবে একে একে বাকি ৪ যাত্রীকেও ছুড়ে মারা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী রেল ব্রিজে ওঠার আগে পরে ডাকাতরা আরও ৩ যাত্রীকে ছুড়ে ফেলে। এই ৩ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। তাদের একজনের লাশ পাওয়া গেছে কুরুলিয়া রেলসেতুর নিচে পাথরের ওপর। এ থেকে আরও কয়েক শ’ গজ দক্ষিণে পাওয়া গেছে বাকি দু’জনের লাশ। ফজরের নামাজ শেষে লোকজনের চলাফেরা শুরু হলে তারা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ও আখাউড়া জিআরপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে। নিহত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী গ্রামের সুদ মিয়া (৫০) এবং একই গ্রামের মুসলিম মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম (৪০)। তারা দু’জন সম্পর্কে চাচা-ভাইঝি। দুপুরে খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা ছুটে আসেন জেলা সদর হাসপাতালে। লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডাকাতরা তাদের ছুড়ে ফেলে দিয়েই হত্যা করেছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোন আঘাত ছিল না। তিনি জানান, ট্রেনে ঢাকা জিআরপির একটি টহল দল ছিল। তবে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। বলেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এ ব্যাপারে জানবো। তবে এলাকার লোকজন ট্রেনে জিআরপি দায়িত্ব পালন করা না করা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সকালে ঘটনাস্থলে গেলে ভাদুঘর ও কাউতলী এলাকার অনেক লোকজন জানান, তারা প্রায়ই এভাবে রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল এ ট্রেনটিতে মোট ৬টি যাত্রীবাহী বগি ছিল।
আতঙ্কের ট্রেন: শুধু গতকালই ছুড়ে ফেলে দিয়ে ৩ জনকে হত্যা করেনি দুর্বৃত্তরা- এর আগে ঘটেছে এমন আরও অনেক ঘটনা। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমানায় ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তরা নিয়মিতই এমন ঘটনা ঘটিয়ে নেমে পড়ছে। এখানে সেখানে রেললাইনের পাশে আহত-অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকছে মানুষ। ২রা ডিসেম্বর রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয় এক ব্যবসায়ীকে। ব্যবসায়ীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, বেশ কিছু টাইলস এবং আচারের সামগ্রী নিয়ে যায়। আখাউড়া উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বাসিন্দা, আচার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ওই রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতশালা এলাকায় ট্রেনটি ধীরগতিতে চলতে থাকলে চারজন যুবক ট্রেনের ওই বগিতে ওঠে। তাদের মধ্য থেকে একজন এসে লাভলুর কাছে সিগারেট চায়। একটু পরেই সংঘবদ্ধ হয়ে এসে সবাই মিলে তাকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে ফেলে দেয়া হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার টহল পুলিশের একটি দল এদিক দিয়ে গেলে একজনকে হাত উঠিয়ে সাহায্য চাইতে দেখে পুলিশের দলটি এগিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে রাত দেড়টার দিকে এক মহিলা আখাউড়া রেলজংশনে এসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। জানান, তার ছেলেকে তালশহরের এখানে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। পরে ওই ছেলের কি দশা হয়েছে তা আর জানা যায়নি। এ ঘটনার মাস দুয়েক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাঘাচং যাওয়ার পথে কাছাইট গ্রামের আবদুল হান্নানকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। আবদুল হান্নান দুধ বিক্রেতা। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন তিনি। তাকে ফেলা হয় কুরুলিয়া রেলব্রিজের কাছে। আহত অবস্থায় সেখান থেকে তিনি কাউতলী এলাকায় এসে লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অহরহই এমন ঘটনা ঘটছে। ট্রেনটি সকাল ৫টায় ঢাকার পথে ঠিক সময়ে ছাড়লেও রাতে ঢাকা থেকে এর পৌঁছার সময় ঠিক থাকে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে এর পৌঁছার সময় রাত পৌনে ৯টা হলেও কখনও ১১টা-১২টার আগে পৌঁছায় না। এরপর এখান থেকে আখাউড়া পৌঁছতে বেজে যায় সাড়ে ১২টা-১টা। তবে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমার মধ্যেই দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তার এমন ঘটনা জানা নেই। তার এখানে যোগদানের পর এমন ঘটনা ঘটেনি।

Thursday, January 31, 2013

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

রংপুরের প্রতিশোধ

রংপুরের প্রতিশোধ




মাত্র ১২২ রান করেও ৩৩ রানের বড় জয় তুলে নিলো রংপুর রাইডার্স। গতকাল চট্টগ্রামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় রংপুর ১২২ রানে গুটিয়ে গেলেও খুলনাকে অলআউট করে দেয় মাত্র ৮৯ রানে। চলতি আসরে এটি সর্বনিম্ন দলীয় রান। অথচ এর আগে এক ম্যাচে খুলনা বিনা উইকেটে ১৯৭ রান তুলে রেকর্ড গড়েছিল। খুলনাকে ধসিয়ে দেয়ার পেছনে রংপুরের ক্যারিবীয় পেসার ফিডের এডওয়ার্ডস মূল ভূমিকা রাখেন। তিনি নেন ১১ রানে চার উইকেট। আর তাকে যোগ্য সহায়তা দেন অধিনায়ক দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তিনি ৩ উইকেট নেন ২১ রানে। খুলনার শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৭৯ থেকে ৮৯ রানে। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আসিফ। ১৫ রান করেন ডেভ হ্যারিস ও মিজান। এর আগে রংপুরের পক্ষে কেভিন ও’ব্রায়েন সর্বোচ্চ ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৩ রান করেন ডেভ হায়াত, ২১ রান করে করেন নাসির ও বরগাস। গত শুক্রবার খুলনায় রংপুর রাইডার্স খুলনার ১৫০ রানের জবাবে ১৪১ রান করে হেরে গিয়েছিল। কাল যেন সেই হারের প্রতিশোধ নিলো তারা। পাঁচ খেলায় রংপুরের এটি তৃতীয় জয় আর ৬ খেলায় খুলনার চতুর্থ হার। ম্যাচসেরা হন চার উইকেট নেয়া এডওয়ার্ডস। পুরো ম্যাচে চক্কা হয় দুটি। একটি মারেন রংপুরের বরগাস আর অপরটি খুলনার ওয়েসেলস।

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি


নিজেকে নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাকযুদ্ধে ভীষণ বিরক্ত বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাই তিনি এবার নিজেই মুখ খুললেন। নিঃসংকোচে বললেন, আমি একজন ভারতীয়। আমার পিতা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। ভারতে আমার নিরাপত্তায় কোন সমস্যা নেই। সমপ্রতি একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে বাকযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়েন দু’ দেশের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমনকি পাকিস্তানের জামায়াতুত দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ পর্যন্ত শাহরুখ খানকে ভারতে নিরাপত্তায় সমস্যা হলে পাকিস্তান চলে যেতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরেই শাহরুখ খানকে নিরাপত্তা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। এর কড়া জবাব দেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই। তারা যেন তাদের নিজেদের নিয়ে ভাবেন। একই রকম বক্তব্য উঠে আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে যখন এমন বাকযুদ্ধ চলছে তখন ফের মুখ খুললেন শাহরুখ খান। তিনি বললেন, ওই ম্যাগাজিনকে এমন কিছু আমি বলি নি যে, আমি ভারতে নিরাপত্তাহীন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় হয়ে এবং আমার পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে গর্বিত। এখানে আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, আমাদের সবারই তিনটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় আছে। এর মধ্যে দু’টি পরিচয় আমরা জন্মসূত্রে অর্জন করি। প্রথমটি হলো- জন্মস্থান। যা আমার মাতৃভূমি। এটাই আমাদের পরিচয়। তাই আমি ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করি এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। দ্বিতীয়টি হলো পারিবারিক নাম। যা আমাদের পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমার জন্য সেই নাম হলো খান। আমি আমার পিতা-মাতাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এখানকার অন্যরাও তাদের পিতা-মাতাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। শর্তহীনভাবে আমি তাদেরকে ভালবাসি। তৃতীয় পরিচয় হলো- আমাদের পেশা। কোন এক ভাগ্যবশত আমি একজন সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছি। এটি আর্ট ও মিডিয়ার একটি ফিগার। আমার মতো অনেকেই আছেন। তৃতীয় এই পরিচয়টি আমাকে মাঝে মধ্যেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কখনো তা ভাল। কখনও তা শুভ নয়। কখনও আমাকে নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ আমার নামকে ব্যবহার করেন। তাতে কেউ ইতিবাচক, কেউ নেতিবাচক ফল পান। আমি এসবই মেনে নিই। কারণ এইতো জীবন। আমাকে যারা স্টার বা তারকা বানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন আসি আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক তাতে। আমাকে নিয়ে (ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে) যে বিতর্কের সূচনা তার কোন ভিত্তি আমি দেখি না। ওই বিবৃতিতে শাহরুখ খান আরও বলেন, আমি যে প্রতিবেদনটি লিখেছি তাতে আমি বলতে চেয়েছি, আমি একজন ভারতীয় মুসলিম তারকা হিসেবে কি সব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি মনে করি (যারা এই বিতর্কে জড়িয়েছেন) তারা এই লেখাটি ঠিকমতো পড়েননি। তাই আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আগে লেখাটি পড়ুন। দ্বিতীয়ত বলবো- যদি পড়ে থাকেন তাহলে এতে কোথাও এমন কোন কথা পাবেন না যেখানে আমি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলেছি যে, আমি ভারতে নিরাপদ নই। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে, তা-ও বলিনি। এমনকি আমি গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে যাদের ভালবাসায় আজকের শাহরুখ খান হয়েছি তাদের প্রতি কোন অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিনি। আমাকে আমার দেশবাসী ও নারীরা খুবই ভালবাসেন। তাই আমি আজকের খান। আমার মধ্যে কোন অহমিকার ধারণা আসে নি। তার পরিবর্তে আমার জীবন লাখ লাখ ভারতীয়ের ভালবাসায় সিক্ত। গত ২০ বছরে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি তা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোন সমপ্রদায়ের নয়, সবার। আমি শুধু দেশেই নয়, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভালবাসা পেয়েছি। ওই বিবৃতিতে তিনি হাফিজ সাঈদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আমাকে অনাকাঙিক্ষত পরামর্শ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা যেন বুঝতে পারেন যে, আমরা ভারতীয়রা ভীষণভাবে নিরাপদ ও সুখী। আমাদের চমৎকার গণতন্ত্র আছে। জীবনে রয়েছে মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ পথ বেছে নেয়ার সুযোগ। আমরা ভারতে যে পরিবেশে বাস করি এখানে কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান নয় এমন ইস্যু নিয়ে কথা বলা অমূলক। তারপরও যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যভাবে দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা আমার ওই লেখাটি দয়া করে একবার পড়ে দেখুন। বিবৃতির শেষের দিকে তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। আমার নিজের পরিবার ও বন্ধুরা যারা আমার কাছে একটি মিনি ভারত- এই আমাদের সঙ্গে সবার রয়েছে সহনশীলতা, সমঝোতা, ভালবাসা। আমি লাখ লাখ ভারতীয় ও ভারতের বাইরে যেসব দর্শক-ভক্তের ভালবাসা পেয়েছি সেই ভালবাসাই আমার পুঁজি। এটা আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই।

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০১৩ সাল কি একটি সন্ধিক্ষণ হবে? আমার দেশ ১৫ কোটি মানুষের। ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশটি স্বাধীন। আমাদের নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক আনুগত্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তিগুলোর দিকে ধাবিত তখন যুক্তরাষ্ট্র অলস অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এ সময়ে দু’দেশের সম্পর্কে চলে টানাপড়েন।
এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তার কিছুই করেনি তা নয়। এখন থেকে ৬ মাস আগে, বিশ্বব্যাংক চার মাইল দীর্ঘ একটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কোন একক অবকাঠামোর প্রকল্প। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপ নিয়ে তদন্ত দাবি করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের সদস্যরা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানান। গ্রামীণ ব্যাংকও ওই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংক লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে অপসারণের কারণ? এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে: ‘যদি বাংলাদেশে কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন, তাহলে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কারের কোন দাবি করেছেন এ বিষয়ে বেশির ভাগ বাংলাদেশী একমত হবেন না। বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী, শেখ হাসিনার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের এ সংখ্যা নিবন্ধিত। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। অথবা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নেতা খুন হওয়া আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথাই বিবেচনা করুন। তাকে হত্যা করার পর এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব রাজনৈতিক নেতা ও তার সমর্থকদের স্থানীয় যুদ্ধ অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এ বিচার করার জন্য যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরে দি ইকোনমিস্ট ফাঁস করে দেয় ই-মেইল ও ফোন রেকর্ডিং। তাতে প্রকাশ হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন কিভাবে এ বিচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং কিভাবে তারা হাসিনার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য বিচারকদের করছে।
সহজ কথা হলো- গত ৫ বছর ধরে, এশিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দেশ থেকে কিভাবে দ্রুতগতিতে সরতে সরতে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে এক পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রে। এখন নির্বাচনের আগে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন মুছে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবে, তিনি নিজেই এই শাসন ব্যবস্থা প্রচলনে সহায়তা করেছিলেন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য গঠন করা হয় নির্দলীয় সরকার- যাতে ক্ষমতাসীন সরকার কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা এক রকম নিশ্চয়তা। যদি ভোটাররা নতুন একটি সরকারের জন্য ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলেই ক্ষমতা হাতবদল হয়। এ বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে প্রতিবাদে সমবেত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দৃশ্যত, শেখ হাসিনা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, জনপ্রিয় বিরোধী দল তার শাসনের বিরোধিতা করলেও এতে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মিয়ানমার সফর করেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই মিয়ানমার ছিল একঘরে। সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এক পরিবারের শাসনে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে এ অঞ্চলের জন্য তা হবে এক বড় পশ্চাৎ যাত্রা। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আশায় ভরা একটি অঞ্চল। কারণ, আমেরিকা স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের, যেমন গ্রেট বৃটেন, আছে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর জন্য প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা। এটাকে নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিরা যারা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে কংগ্রেস ও বৃটিশ পার্লামেন্টের। অন্যদিকে শেখ হাসিনা কেবলমাত্র স্বীকৃতির লোভ করে যান।
শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে যে, যারা শ্রমিক অধিকারকে সমর্থন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা করেন তাদেরকে যদি মত প্রকাশ করতে দেয়া না হয় তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা প্রত্যাহার করা হবে। এই শাসক গোষ্ঠীর যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে খাটো করে দেখে- পশ্চিমা শক্তিগুলোর তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবরোধ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের জনগণের সামনে এসব কথা তাদের প্রকাশ্যে বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের নাগরিকরা তা দেখতে ও শুনতে পান। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক মিশন প্রতিষ্ঠায় রত আছে তা নিশ্চিত করতে পারে।
কথায় আছে, আইনের আদালতের চেয়েও বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। পূর্ণ বিবেকবোধ দিয়ে এটা বলা অসম্ভব যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য দূরীকরণ নিরাপদ নয়। এসবই রয়েছে ভয়ানক বিপদের মুখে। এখন আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার।