Pages

Wednesday, October 31, 2012

সোনারগাঁয়ে গলিত লাশ উদ্ধার

সোনারগাঁয়ে গলিত লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জে সেলিম মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর শীতলক্ষা নদী থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেলিম মিয়া গত শনিবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে চা খেতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরে তার আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুঁজি করেও সন্ধান না পাওয়ায় সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মঙ্গলবার সকালে কাঁচপুর এলাকায় শীতলক্ষা নদীতে তার ভাসমান গলিত লাশ দেখতে পেয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, নিহত সেলিম মিয়া মাদকাসক্ত ছিলো। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 

তাণ্ডব শেষে দুর্বল স্যান্ডি

তাণ্ডব শেষে দুর্বল স্যান্ডি

 যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী হারিকেন স্যান্ডি আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে আরো অভ্যন্তরে অগ্রসর হওয়ার পথে মঙ্গলবার সকালে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এখনো ঝড়টির প্রভাবে প্রবল বাতাস ও বন্যা দেখা দেওয়ার শংকা রয়েছে।

গ্রিনিচ সময় ০৯০০টায় মায়ামিভিত্তিক জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র জানায়, ঘণ্টায় ৬৫ মাইল (১০৫ কিলোমিটার) বেগে দক্ষিণাঞ্চলীয় পেনসিলভেনিয়ার ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্ব উপকূলের বেশ কটি এলাকার ওপর দিয়ে এখনো দমকা বাতাস বইছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নিউ জার্সিতে আঘাত হানার কিছু আগে দুর্বল হয়ে মৌসুমী ঝড়ে পরিণত হলেও ব্যাপক তাণ্ডব চালায় স্যান্ডি ।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও বাতাসের সৃষ্টি হয়। ম্যানহাটানের নিম্নাঞ্চলের একটি বড় এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে গণপরিবহনগুলো স্থবির হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয়।

এ ঘটনায় নিউ ইয়র্ককে দুর্যোগ-আক্রান্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এএফপি।

এবারও আদালতে হাজির হননি গ্রামীণফোন প্রধান

এবারও আদালতে হাজির হননি গ্রামীণফোন প্রধান

 এবারও আদালতে হাজির হননি গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী টোরে জনসেন ও সাবেক প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা হারুন ভাট্টির আদালতে হাজির হবার কথা থাকলেও আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় বাড়ানোর প্রার্থনা করেছেন তারা। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অফিসে জরুরি মিটিং থাকার কথা।

এদিকে শুনানির একদিন আগে সোমবার পৃথক দুটি মামলায় জামিন নিয়েছেন গ্রামীণফোনের ৯ শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে জামিন নেননি মামলায় অভিযুক্ত অপর গ্র্রামীণফোনের সাবেক প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা হারুন ভাট্টি।

এর আগে শ্রম আইন ভঙ্গ করে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন ঢাকার শ্রম আদালত-১। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রম আদালত-১-এর চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ মিয়া মোহাম্মদ শরীফ অভিযুক্তদের সশরীরে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। একই সাথে ৩০ অক্টোবর বেলা ১২টায় আদালতে হাজির না হলে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়।

গ্রেপ্তার এড়াতে গত সোমবার আদালতে এসে জামিন নেন অভিযুক্তরা। সোমবার গ্রামীণফোন প্রধান নির্বাহী টোরে জনসন ছাড়াও গ্রামীনফোনের পিএনও শরীফুল ইসলাম, তাওহীদ আবদুল্লাহ, নাঈমুজ্জামান এবং সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্মকার্তা নাসের ফজলে আযম, সাজ্জাদ হাসিব ও আওলাদ হোসেন জামিন প্রার্থনা করেন বলে জানিয়েছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী গাজী এম শওকত।

একই সাথে অফিসের জরুরি কাজে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হতে না পারার কারণ দেখিয়ে সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পকর্মী ছাঁটাইয়ে দেশে বিদ্যমান শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত ৩০ আগস্ট গ্রামীণফোন প্রধান নির্বাহী টোরে ইয়ানসেন ও সাবেক প্রধান মানব সম্পদ কর্মকর্তা হারুন ভাট্টির বিরুদ্ধে একই আদালতে মামলা করেন চাকরিচ্যুত কর্মী রাসুলুল আমিন মুরাদ ও আদিবা জেরিন। ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমন অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা আদালতে হাজির না হওয়ায় ফের ৩০ অক্টোবর তাদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সেলিম আহসান খান জানান, শ্রম আইনের ১৮৬ ধারার ১ ও ২ উপধারা, ১৯৫ ধারার (ঘ) এবং দণ্ডবিধির ২৯১ ও ৩০৭ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণফোনের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মোবাইল টাওয়ারের কারণে ক্ষতির বিষয়ে জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

মোবাইল টাওয়ারের কারণে ক্ষতির বিষয়ে জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

 মোবাইল ফোন টাওয়ারগুলো থেকে ক্ষতিকর তেজষ্ক্রিয়তার ফলে স্বাস্থ্যগত কী ক্ষতি হয় তা আগামী ৩ মাসের মধ্যে জানাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে মোবাইল ফোন টাওয়ারগুলো থেকে ক্ষতিকর তেজষ্ক্রিয়তা নির্গমন বন্ধে প্রশাসনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা  হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে।

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত  অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
জনস্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন  হিউম্যান রাইটস্ এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ রিটটি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পরিবেশ সচিব, টেলিযোগাযোগ সচিবসহ ৭ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া চার সপ্তাহের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার পরিস্থিতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দিতে আনবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিটকারী মনজিল মোরশেদ জানান, গত ১৮ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন ইটিভির একুশের চোখ অনুষ্ঠানে প্রচারিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট করার পরে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন আদালত। শুনানিতে রিটকারী মনজিল মোরেশেদ অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার 


বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার দেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শুভেচ্ছা বার্তা কাছে পৌঁছে দেন।

এ সময় তিনি জানান, ভারতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনগণের সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

হাইকমিশনার একই সঙ্গে তার দেশের নেতৃবৃন্দের ঈদ শুভেচ্ছা বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
 
ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে ম্যাক্রো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতির হার কম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও হাইকমিশনার ভারতের শিলিগুড়ি থেকে রংপুর হয়ে গ্যাস আমদানি এবং সিলেট ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মেঘালয়কে সংযুক্ত করে দ্বিতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বৈঠকে দু দেশের সীমান্তের জমি বিনিময়ে ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির ভিত্তিতে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত সীমান্ত প্রোটোকলের বাস্তবায়ন ও ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বাসস

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে লিমনের মাকে ডিসির প্রস্তাব!

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে লিমনের মাকে ডিসির প্রস্তাব!

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়ার কলেজছাত্র লিমনের মাকে র্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগমের সঙ্গে দেখা করে এ প্রস্তাব দেন।

জানা গেছে, গত বুধবার বেলা ১২টায় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামের অফিস কক্ষে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগমকে ডেকে নিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক এ প্রস্তাব করলেও গণমাধ্যমসহ কাউকে বৈঠকের কথা জানানো নিষেধ ছিল।

কিন্তু সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বৈঠকের ব্যাপারে সোমবার এ তথ্য বেরিয়ে এলে লিমন, কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেন।

লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম জানান, জেলা প্রশাসক এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করায় তারা কাউকে জানাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ১২টায় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম লিমন ও তা মা হেনোয়ারা বেগমকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।

তারা সেখানে উপস্থিত হলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ ব্যাপারে লিমন হোসেন বলেন, “আমাদের ডাকার পর ইউএনও সাহেব একজন বড় মেহমান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। পরে ডিসি সাহেব আমাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন।”

লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বলেন, “ডিসি সাহেব আমাকে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। আমরা মামলা প্রত্যাহার করলে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাও প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি। এ সময় ইউএনও সাহেবও মামলা প্রত্যাহারের করার অনুরোধ করেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করার কথা অস্বীকার করে বলেন, “ওই দিন ছুটি ছিল বলে ডিসি স্যার এখানে এসেছিলেন। লিমনদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্যই তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।”

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি কাউখালি ইউএনওর একটি দাওয়াতে ওই দিন সেখানে গিয়েছিলেন। লিমন ও তার মায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তবে মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব বা ওই সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কথা হয়নি বলে তিনি জানান।

নৌমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ

নৌমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ


নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শ্রম ও জনসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইস্রাফিল আলমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হুমকি ও মানহানির অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেছিলেন শামীম চৌধুরী নামের এক আইনজীবী। বিকেলে এ মামলটি খারিজ করে দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলাম।
 
২৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি চ্যানেল আরটিভির টক শোতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
 
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলামের আদালতে মামলার শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। আদালত তার খারিজ আদেশে উল্লেখ করেন, মামলার বাদীর এ মামলা আনয়ন করার কোনো এখতিয়ার না থাকায় মামলাটি খারিজ করা হলো।
 
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের উপস্থাপনায় সরাসরি একটি টক শোতে ‘ঈদে ঘরে ফেরায় যাত্রীদের দুর্ভোগ’ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।
 
বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে এবং উভয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় একজন অন্যজনের দিকে হাত তুলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে থাকেন। উপস্থাপক তাদের থামাতে চাইলেও ব্যর্থ হন। ব্যারিস্টার রফিক এক পর্যায়ে শাজাহান খানকে উদ্দেশ্য করে ‘স্টপ ইট’ বললে, মন্ত্রী শাহজাহান খান তা ‘স্টুপিড’ শুনে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনিও রফিকুল ইসলাম মিয়াকে ‘বেয়াদব’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘হারামজাদা, তোর চোখ তুলে ফেলবো’।
 
এ সময় টক শোতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, গোলাম মাওলা রনি, সাংবাদিক মনির হায়দার, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার সোহায়েল আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, পূজা কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর প্রমুখ।
 
মামলার আরজিতে বলা হয়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া একজন স্বনামধন্য আইনজীবী এবং সাবেক মন্ত্রী। তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হত্যা করার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার পক্ষে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
 
এ নিয়ে ঢাকার আদালতে বর্তমান সরকারের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হলো। ইতিপূর্বে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী  গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঐ দিনই মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। এ মামলাটিও দিনের মধ্যেই বাদির এখতিয়ারহীনতায় খারিজ করা হলো।

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে ৪২ রোহিঙ্গাকে ফেরত

টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে ৪২ রোহিঙ্গাকে ফেরত 

 কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী, পালংখালী, ঘুমধুম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪২ মিয়ানমারের নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।

জানা গেছে, মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের রাজধানী সিটওয়েসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি ওপারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে গত কয়েক দিন থেকে ঘুমধুম বালুখালী পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি সদস্যরা।

কক্সবাজারস্থ বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান জানান, অনুপ্রবেশের এ চেষ্টাটি স্বাভাবিক ঘটনা। আরাকানে নতুন করে সহিংসতার পর উখিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা শান্ত থাকলেও বিজিবির টহলদলকে সতর্ক অবস্থায় রাখার পাশাপাশি সীমান্তে পাহারাও জোরদার করা হয়েছে।

অপরদিকে টেকনাফের নাফ নদী থেকে সেন্টমার্র্টিন সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি-৪২ টেকনাফস্থ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান জানান, সাগরপথে কোনোভাবেই যাতে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড। এ ব্যাপারে টেকনাফে বিজিবির জনবলও বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

 সুনামগঞ্জে বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয় খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবসস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন  দাসের সমন্বয়ে গঠিত  অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

জনস্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ রিটটি করেন।

মনজিল মোরশেদ বলেন গত ২৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কাজ না করে বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাত’ শিরোনামে প্রকাশিত পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত করে রিটটি আদালতে উপস্থপন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিকল্পনা, অর্থ সচিব ও এলজিআরডি সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে পরিবেশ ও অর্থ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ড. মসিউরকে ডেকেছে দুদক

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ড. মসিউরকে ডেকেছে দুদক

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ডাকা হয়েছে।

আগামী ৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার তাকে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক।

দুদকের পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান দলের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মীর মো. জয়নাল আবেদীনের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় ড. মসিউরকে দুদকের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কানাডার নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট মো. মোস্তফাকেও দুদকে হাজির হতে নোটিশ দিয়েছে অনুসন্ধান দল।

Tuesday, October 30, 2012

নাফিস ইস্যু: দিস ইস নট আওয়ার ফেস

নাফিস ইস্যু: দিস ইস নট আওয়ার ফেস 
 সপ্তাহ তিনেক আগে এক ভারতীয় বন্ধুকে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের একটি দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক আমেরিকান পর্যটকের সঙ্গে পরিচয়। কথায় কথায় ভদ্রলোক আমাদের আদি নিবাস জানতে চেয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই অনেকটা হিউমার সেন্স মিশিয়ে বললেন, “পাকিস্তানি নও তো!”

দুজনেই একসঙ্গে মাথা নেড়ে না-সূচক উত্তর দিয়ে আমাদের পরিচয় তুলে ধরে আমি তাকে বললাম, পাকিস্তানি হলেই বা ক্ষতি কী! সব পাকিস্তানি তো জঙ্গি নয় কিংবা সব জঙ্গিই তো আর পাকিস্তানি নয়।

‘ভেরি স্মার্ট!’ বলেই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাদের বাংলাদেশ তো এখনো বেশ ভালো। আল কায়েদা বা জঙ্গিসম্পৃক্ত কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর আমার নজরে পড়েছে কিনা তা মনে করতে পারছি না।”

ভদ্রলোক আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন নিছক বেড়ানোর জন্য। কথা বলে বোঝা গেল তিনি হাই প্রোফাইল কেউ নন। সাধারণ আমেরিকান নাগরিক। বহু বছর বিদেশযাপনের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটা উপলব্ধি করতে পেরেছি, শুধু ওই একজন আমেরিকানই নন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই বাংলাদেশকে ধর্মপ্রিয় ও শান্তি অন্বেষণকারী দেশ হিসেবেই জানতেন। দেশের ভেতরে মাঝে মধ্যে জঙ্গি কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ছিল এ বদনাম থেকে অনেকটাই মুক্ত। কিন্তু গত ১৭ অক্টোবরের ঘটনায় বিশ্বদরবারে দেশটির চেহারা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হলো।

একুশ বছরের বাংলাদেশী তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস  নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চাইলে এফবিআই (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা) ও সিটি পুলিশ তাকেহাতে নাতে ধরে ফেলে এবং সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমে তা লিড নিউজ আকারে প্রকাশ পায়। এফবিআইর দেয়া তথ্য অনুযায়ী  এ তরুণকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট এক সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে প্রচারমাধ্যমে খবরটা প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

নাফিস আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গি কিংবা অন্ধ জিহাদি যাই হোক না কেন সেটা বড়ো কথা নয়, একজন বাংলাদেশী হয়ে সে যে জঘন্যতম হঠকারিতার আশ্রয় নিয়েছে সেটাই সত্যি (যদিও আসলে বোকার মতো এফবিআইর পাতানো ফাঁদেই পা দিয়েছে)। ফেডারেল ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার মতো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার খবর বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিটি প্রবাসী বাঙালিকে আজ চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।

পত্রিকায় দেখা গেল, আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটিতে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা। নাফিসের ঘটনার সংবাদ সম্পর্কে স্কুলের বাঙালি ছেলেমেয়েরা অবহিত কিনা সে বিষয়েও শিক্ষকরা তাদের কাছ থেকে জানতে চাচ্ছেন। এ ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশের মোকাবিলা করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড়ই কষ্টের। আমেরিকার বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ধিক্কার ও বিদ্রূপাত্মক শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদেশিরা বাঙালি অস্তিত্বে আঘাত হানছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি আমেরিকাকেন্দ্রিক বলে ওখানকার বাঙালিদের ভয়ানক নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে সত্যি, কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালি অভিবাসীর উপরই এর নেতিবাচক প্রভাব কমবেশি পড়ছে। এমনকি আমাকেও সহকর্মীদের কাছে নাফিসবিষয়ক কিছু কৌতূহলী প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে।    

নাফিসের এ ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মন্দা প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবাসে চাকরির বাজারে স্বকীয় গুণের জন্য বাঙালিদের বেশ সুনাম থাকলেও বর্তমান বৈরী পরিস্থিতিতে তা মলিন হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। অভিবাসী হিসেবে যারা বর্তমানে বেকার, তাদের যেমন চাকরিবাকরি পেতে কষ্ট হবে, তেমনি নতুন করে কর্মসংস্থান নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোটাও হবে খুব কঠিন। অনেক অভিবাসী যারা যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে স্থায়ী অধিবাসী বা নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াধীন আছেন, তাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার শংকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে যে আইনের শিথিলতা বা অবৈধভাবে বসবাসরতদের বৈধকরণের যে অঘোষিত নীতিমালা সেসব থেকেও বাঙালিরা বঞ্চিত হতে পারেন বলে আপাতদৃষ্টিতে ধারণা করা যায়। নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসাসহ ট্যুরিস্ট বা বিজনেস যে কোনো ভিসা পেতেই পোহাতে হবে হাজারো অযাচিত ঝামেলা, এতে  সন্দেহ নেই। মোট কথা, বিদেশী রেমিটেন্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াল নাসিফের এ ঘটনা।

একুশ বছরের নাফিস বুঝেই হোক  বা না বুঝেই হোক এফবিআইয়ের কৌশলী ফাঁদে পা দিয়ে বাঙালির মুখে যে চুনকালি দিয়েছে তা অত সহজে মুছে ফেলার নয়। তারপরও আমাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। সত্যি যদি সে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিবাদের পূজারি হয়ে থাকে তবে সম্প্রতি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাফিস ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার কথা বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে ভূলুণ্ঠিত ভাবমূর্তি পুরোপুরি ফিরে না পেলেও বিশ্বে অন্তত এতোটুকু প্রতীয়মান হবে যে, নাফিসদের মতো বিপথগামীরা আল-কায়েদার প্রেমে হাবুডুবু খেলেও গোটা দেশ বা জাতি তাদেরকে ধিক্কার জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের একজন মধ্যম সারির নেতা নাফিসের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে একটি বিশেষ দলকে দায়ী করে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন তা অবশ্যই পরিতাজ্য। এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনীতির চোরাবালিতে গুলিয়ে ফেলা যে মোটেও শোভন নয় তা আমাদের রাজনীতিবিদদের উপলব্ধি করা উচিত।

খবরে প্রকাশ, নাফিস বড়ো ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানোর পূর্বপরিকল্পনা  নিয়েই আমেরিকাতে পাড়ি জমায় গত জানুয়ারিতে। এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষেই যদি সে ওই হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্যই দেশ ছেড়ে যেত, তাহলে বাংলাদেশ থেকে কিংবা আমেরিকাতে বসবাসরত শক্তিশালী কোনো নিজস্ব লোকের দক্ষ ও সুপরিকল্পিত হাত তার পেছনে কাজ করত। এফবিআইর পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ইঁদুরছানার মতো তাকে ধরা পড়তে হতো না। হতে পারে, নাফিস আমেরিকাবিদ্বেষী জিহাদি মনোভাবসম্পন্ন এক তরুণ। দুনিয়া কাঁপানো কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করাও ছিল তার লক্ষ্য। কিন্তু এসব করতে গেলে যে শক্তি-সামর্থ্য, পরিপক্কতা বা মুন্সিয়ানা ও অর্থনৈতিক যোগানের প্রয়োজন তার কি আদৌ কোনোটা ছিল? আজ নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টায় এক হাজার পাউন্ড ওজনের যে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ভ্যানের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর জোগানদাতা কারা তা আমরা সবাই জানি। পত্রিকায় যে দুজন বন্ধুবেশি বাংলা ভাষাভাষী এফবিআই এজেন্টের কথা উঠে এসেছে তারা যদি নাফিসকে নিয়ে ব্যাঙের মতো খেলা না খেলতেন তাহলে হয়তো তাকে এত দ্রুত আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ঘৃণ্য জঙ্গি অপবাদ নিয়ে বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ করতে হতো না। কিংবা চারপাশের অসংখ্য প্রতিকূলতার মুখে পরাস্ত হয়ে অপকর্মের স্পৃহা হারিয়ে আপন মনেই সঠিক পথে ফিরে আসত। আজ নাফিসের আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসের খবর বিশ্ব মিডিয়াকে আজান দিয়ে যেভাবে প্রচার করতে হচ্ছে, তখন হয়তো তার কোনো প্রয়োজনই হতো না ।         

ভারতীয় প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাসের গল্প দিয়ে লেখাটি শেষ করব। বহু বছর আগে পড়া (উপন্যাসটির নাম মনে নেই)। গ্রামের এক মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে আসে। প্রথম দিনেই সাক্ষাৎ মেলে এক নকশাল নেতার। ভর্তিসহ হোস্টেলে সিট পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে দলে টানে। সময়ে-অসময়ে মিছিল-মিটিংয়ে যাবারও তাগাদা দেয়। এভাবে এক পর্যায়ে দলীয় ক্যাডার থেকে সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় সে। কোনো এক রাজনৈতিক দাঙ্গায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সময় তার পা গুলিবিদ্ধ হয়। কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় পুরো পা। পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বারো বছর জেল খেটে অবশেষে ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে আসে প্রিয়ার কাছে। লেখাপড়া দূরের কথা, বিপন্ন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন তার দায় হয়!  

গল্পের এ তরুণটির মতো নাফিসের জীবনে এরকম অন্ধকার নেমে আসুক তা আমরা কখনো চাই না। আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সঠিক তদন্তসাপেক্ষে যদি সে নির্দোষ প্রমাণিত হয় তবে যাদের অপব্যাখ্যা বা ভুল তথ্য পরিবেশনের ফলে তার তথা বাঙালি জাতির গায়ে জঙ্গিবাদের দুর্গন্ধ লেগেছে, তাদেরকে যেমন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি থাকবে, তেমনি দোষী সাব্যস্ত হলে তারও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক তা আমরা চাই।

আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো সংগঠন লীগ অফ আমেরিকা ‘সন্ত্রাসী হামলার’ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নাফিস আমাদের পরিচয় নয়। দিস ইস নট আওয়ার ফেস। আমি মনে করি সংগঠনটির সাথে সুর মিলিয়ে প্রবাসে বসবাসরত প্রতিটি বাঙালিরই উচিত নিজস্ব অবস্থান থেকে বিদেশীদের কাছে এ বার্তাটি পৌঁছে দেয়া– দিস ইস নট আওয়ার ফেস।    

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেটযুদ্ধ :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেটযুদ্ধ :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট
 এশিয়া কাপ টি২০-তে মঙ্গলবার বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট দলের অগ্নিপরীক্ষা। তারা ক্রীড়াযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী পাক নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে।

এশিয়া কাপ টি২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ বি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে। আর মঙ্গলবারের ম্যাচে জয় পেলেই সালমা বাহিনী বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হবে। এ দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। অবশ্য এ ম্যাচে প্রতিশোধেরও একটি বিষয় থাকছে। ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে হেরে সোনা হাতছাড়া করেছিল। সে কারণেই এ ম্যাচটি এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো বিষয়।

২০১১-র নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মেয়েদের দল ওডিআই সার্টিফিকেট পায়। সেই সাফল্যের পর তারা এবারই প্রথম কোনো আমত্মর্জাতিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলছে। ম্যাচটা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য খুব সহজ নয়। কারণ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কঠিন দল। ২০১১-র ওডিআই সার্টিফিকেটের মিশনে নিজ মাটিতে সালমার দল পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে ছিল মিরপুরে। তবে ২০১১ থেকে ২০১২, এক বছরে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বেশ উন্নতি হয়েছে। এর প্রমাণও সালমারা দিয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে অলআউট হলে প্রতিপক্ষকে ৫৭ রানে অলআউট করার মধ্যে দিয়ে।

এবার টার্গেট পাকিস্তান। যদি বাংলাদেশ এ ম্যাচে জয়ী হয় তাহলে সালমাদের উন্নতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাবে। অবশ্য জয়ের জন্য বাংলাদেশের স্পিনের উপরই নির্ভর করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের মেয়েরা এখনো পেস বোলিংয়ে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছুতে পারেনি।

চীনের গুয়াংজুতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টার এ ম্যাচের উদ্বোধন হবে।

Monday, October 29, 2012

ডেসটিনির দিদারুলের টাকা পাচারের কথা স্বীকার

ডেসটিনির দিদারুলের টাকা পাচারের কথা স্বীকার

ডেসটিনি-২০০০ এর পরিচালক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা দিদারুল আলমকে আট দিনের রিমান্ড শেষে আজ ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। মহানগর হাকিম কেশব রায় ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।   

অন্যদিকে আসামিপক্ষে জামিন চান তার নিয়োজিত আইনজীবী সৈয়দ শাহ আলম। সিএমএম ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে  শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি মোশারফ হোসেন কাজল । তিনি বলেন, আসামি আজ আদালতে বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক  জবানবন্দি দিয়েছেন, তাই তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

আসামিপক্ষের আইজীবী শাহ আলম জবাবে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ এ আসামি ডেসনিটির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড বিল্ডার্সেরও নির্বাহী কমকর্তা । তিনি প্রতি মাসে দুই লক্ষ টাকা হিসেবে এ পর্যন্ত ৯২ লক্ষ টাকা বেতন হিসেবে উত্তোলন করেন। তিনি ডেসটিনির একজন কর্মকর্তা মাত্র। 

২০ অক্টোবর শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহাখালী ডিওএইচএসে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে দিদারকে গ্রেফতার করা হয়।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দিদারও আসামি।

অর্থ পাচারের ওই দুই মামলায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মো. হোসেন বর্তমানে কারাবন্দি। দুই মামলায় ১৮ দিনের হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক।

ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ এই দুই মামলায় কারাগারে গেলেও পরে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেয়।

দিল্লিতে খালেদা-মনমোহন বৈঠক::পানির হিস্যা দাবি

দিল্লিতে খালেদা-মনমোহন বৈঠক::পানির হিস্যা দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নয়াদিল্লির ৭ রেসকোর্স রোডে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠককালে ভারতের কাছে অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা
দাবি করেন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহউদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সঙ্গে ছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পুলক চ্যাটার্জি ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই।

বৈঠকের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া।

আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। এটি হবে কোনো বিদেশী নেতার সঙ্গে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।

গতকাল রোববার ভারত সরকারের আমন্ত্রণে এক সপ্তাহের সফরে নয়াদিল্লি গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গতকাল বিকেলেই তিনি ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি।

সব শেষে আজমির শরিফ জিয়ারত করে ৩ নভেম্বর দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া।

নারায়ণগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল

নারায়ণগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল

নারায়ণগঞ্জ: ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে টানা তিন দিন পর্যটকদের ঢল নেমেছে। নগর জীবনের ছক বাঁধা এক ঘেয়েমি থেকে বের হয়ে ছুটির অবসাদে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর জন্য সোনারগাঁ জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিসহ সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থানগুলো বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর পদচারনায় মূখোর ছিল।

ঈদের ৩য় দিন সোমবার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর), বাংলার তাজমহল, সোনারগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো এবং রূপগঞ্জের জিন্দা পার্ক, পনড গার্ডেন, রাসেল পার্ক, বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এছাড়া ফতুল্লার পাগলা মেরী এন্ডারসন, হাজীগঞ্জ দূর্গ, বন্দরের সোনাকান্দা দূর্গ। এসব পর্যটন এলাকা দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

লোক কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বর ও বাংলার তাজমহলের ভেতরের সাজ-সজ্জা ছিল এবারের ঈদে পর্যটকদের বাড়তি আর্কষণ। এছাড়া কারুশিল্প ফাউন্ডেশন তিন দিনব্যাপী বাউল গানের আসরসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের নির্মিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে ও সোনারগাঁয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল পেরাব এলাকায় বাংলার তাজ মহলে।


অনেক পর্যটক সোনারগাঁওয়ে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরের লেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে নৌকা দিয়ে বেড়ানোর মাধ্যমে এ ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। শিশু-কিশোররা নাগর-দোলায় দোল খেয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছেন।

তাছাড়া  দর্শনাথীদের আনন্দ বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা। দর্শনার্থীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে  উপভোগ করছেন এসব আনন্দ বিনোদন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরের ভেতর কারুপল্লীতে জামদানী শাড়িসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী কেনার সুযোগও রয়েছে। ঈদের দিন বন্ধ থাকার পর ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয় সোনারগাঁও জাদুঘর।

সোমবার জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনাথীদের চাপে জাদুঘরের আশপাশের সড়ক গুলোতে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। তাছাড়া কিছু দর্শনার্থী যানবাহনে বেশি ভাড়া ও খাবারের চড়া মূল্য আদায়ের অভিযোগ করেছেন।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে কিছু সময় আনন্দে কাটানো যাবে এতেই খুশি আগত দর্শনার্থীরা।

এদিকে বাংলার তাজমহলেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, সারাদেশ থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে তাজমহলে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। যানজটের কবলে পড়ে শত শত পরিবহন যাত্রী ও পর্যটকরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। তবুও এখানে আসা দর্শনাথীদের আনন্দের কোনো কমতি ছিল না।

সোনারগাঁওয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসা অনেক দর্শনার্থীরা বলেন, সোনারগাঁওয়ের পর্যটন নগরীগুলোর আশপাশের রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় ও সংস্কার কাজ না করায় প্রতিনিয়ত এখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সবের নিরসন দরকার।

বাংলার তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা, চিত্র পরিচালক, শিল্পপতি আহসান উল্লাযাহ মনি বার্তা২৪ ডটনেটেকে জানান, প্রতি বছরই প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাংলার তাজমহলে পর্যটকদের ঢল নামে। এ বছরও ঈদুল আজহায় তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

তিনি আরো জানান, তাজমহলের আশপাশে পর্যটকদের বিনোদন বাড়িয়ে দিতে ফিল্ম সিটিসহ আরো নতুন নতুন বিনোদন পার্ক, পিরামিড, হারিকেনের আদলে বিশ্ববিদ্যালয়, আইফেল টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ বার্তা২৪ ডটনেটেকে জানান, পর্যটকদের ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিতে কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। পর্যটকদের আনন্দ দিতে তিন দিনব্যাপী বাউল সঙ্গীতসহ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন ছিল।

আগত পর্যটকরা বাউল গানের আসর উপভোগ করেন। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর ঈদুল আজহার দিন থেকে টানা তিন দিন যাবত পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।  

যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্যান্ডি’ মোকাবিলায় ছয় রাজ্যে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্যান্ডি’ মোকাবিলায় ছয় রাজ্যে জরুরি অবস্থা

 ভয়ংকর হ্যারিকেন স্যান্ডি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এছাড়া চয়টি অঙ্গরাজ্যে মেরিল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি ও নর্থ ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


এদিকে হারিকেন স্যান্ডির সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় নিউ ইয়র্ক গভর্নর এনড্র কোয়ামো সিটির বাস, রেল বা সাবওয়েসহ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মকর্তারা হারিকেন স্যান্ডির ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা একটি মারাত্মক ঝড়। প্রস্তুতি নিতে হবে।” ঝড়ের প্রভাবে গত কয়েক দিন মধ্য আটলান্টিকের মার্কিন উপকূল অশান্ত ছিল। ক্যারিবিয়ানে কমপক্ষে ৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটিয়ে হারিকেন স্যান্ডি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় সম্ভাব্য ঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় শনিবার আমেরিকা সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ঝড়ে প্রায় ছয় কোটি মার্কিন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ফেডারেল এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এ ঝড়ের সময় নানা ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডিকে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টর্ম’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ঝড়টি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। এর আশেপাশে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার। লং আইল্যান্ডের অধিকাংশ জায়গা , আটলান্টিক সিটিসহ বেশ কটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান থেকে বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিউ জার্সি, কানেক্টিকাট, বস্টনসহ প্রায় ১০০০ বর্গমাইল এলাকা এলাকা জুড়ে হারিকেন স্যান্ডি ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে বলে এই সাবধানতা নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসা স্যান্ডির কারণে আগামী ৬ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রচারাভিযানের সময়সূচি বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, বাদ দিতে হচ্ছে আরো অনেক কর্মসূচিও।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম তীরের দিকে এগিয়েছে শীতকালীন ঝড় স্যান্ডি। বর্তমানে প্রচারণা অভিযান চলতে থাকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আটটি অঙ্গরাজ্যের দুটি এ ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের মধ্যে পড়েছে।

ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রোববার ভার্জিনিয়া প্রচারণা অভিযান বাতিল করেন। পরে ওহাইওর দিকে রওনা দেন তিনি।
ওদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বারাক ওবামা ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সোমবার ভার্জিনিয়া ও মঙ্গলবার কলোরাডোয় প্রচারণা কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ায় প্রচারণা কর্মসূচি বাতিল করেছেন। অন্যদিকে, শনিবার আরেক উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডে আগাম ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে অনেক ভোটারকে ভিড় করতে দেখা যায়। ওহাইও, ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গরাজ্য ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এসব এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি ৬ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তকাজ শিগগিরই শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাগর-রুনি হত্যার তদন্তকাজ শিগগিরই শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ শিগগিরই শেষ করা হবে।’

সোমবার দুপুরের তিনি চাঁদপুরের কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি এই বিষয়টি ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছি। অচিরেই এই তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারব।

এর আগে মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় অংশ নেন। একই দিন সকালে তিনি নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের একটি ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

চার দিনের সফরে গত ২৬ অক্টোবর নিজ নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার দুপুরে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কচুয়া ত্যাগ করেন।

মিয়ানমারে মত প্রকাশের অধিকার

মিয়ানমারে মত প্রকাশের অধিকার

 

মিয়ানমারে এখন অনেকেই প্রার্থনার সময় বলেন, ‘‘এমন মুক্ত হাওয়া ভবিষ্যতেও যেন থাকে৷’’ তাদের এই প্রার্থনা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে৷

ইয়াঙ্গুনের ঐতিহ্যবাহী শোয়েদগাও বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে কোথায় তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন, তা নয়,  অনেকেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের প্রতি! কারণ তারা যে এখন কিছুটা হলেও প্রাণ খুলে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারছেন, যেটি কিছুদিন আগেও সম্ভব ছিল না। দাবি আদায়ের জন্য মিছিল দূরের কথা, একটু জোরে কোনো সমস্যার কথা কোথাও বলেছেন তো পাকড়াও করবে এসে পুলিশ– এমনই ছিল অবস্থা৷

সে তুলনায় এখন পরিস্থিতি যে অনেক ভালো সে কথা মিয়ানমারের এক নারী চিকিৎসকও মানেন৷ তবে এখনো নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েই তিনি বলেন বদলে যাওয়া অবস্থার কথা৷ এখন যে সাংবাদিকরা অনেক স্বাধীন, কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা সম্মিলিতভাবে প্রকাশ্যে জানাতে পারছেন – এর পেছনে ইন্টারনেট, রেডিও, ইউটিউবকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি৷

তার মতে, ‘‘আমার মনে হয় লোকজন ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের বাইরে বিশ্বের কোথায় কী কী হচ্ছে তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন৷ ওভাবে বাইরের খবর জেনে এবং নিজ দেশের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে বুঝতে পারেন যে নিজেরা কেমন আছেন৷ তখন অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগও আসে৷''

মিয়ানমারে অবশ্য আরব বসন্তের মতো প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোনো গণজোয়ার আসেনি৷ তারপরও সেখানে সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে উদারতা দেখিয়েছে৷ আগে সাংবাদিকরা স্পর্শকাতর কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করলে প্রচারের আগে সরকারের অনুমতি নিতে হতো ৷ সম্প্রতি সরকার জানিয়েছে,  তার আর দরকার নেই৷
দ্য মিয়ানমার টাইমস-এর এক সাংবাদিক জানালেন, এ ঘোষণার পরও সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর ঠিকই কড়া নজর রাখছে৷ আগে রিপোর্ট জমা দিতে হতো, আপত্তি থাকলে প্রচার করা যেত না৷ কিন্তু এখন প্রচারের পর যদি দেখা যায় যে আপত্তিকর কিছু আছে, তাহলে মামলা ঠুকে দেয়া হয়৷
এ অবস্থাকেও বড় উন্নতি হিসেবেই দেখছেন ওই সাংবাদিক৷ কয়েক বছর আগে সাংবাদিকরা চায়ের দোকানে সরকারের সমালোচনা করলেও ধরে নিয়ে যেত পুলিশ৷ এখন সেখানে তুমুল আড্ডা জমে, সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেও গ্রেপ্তার হতে হয় না– এটাই বা কম কিসে! সূত্র: ডয়েচে ভেলে

পুকুরে ডুবে বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট

পুকুরে ডুবে বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু ::

কক্সবাজার শহরে মোহাজেরপাড়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে মুরছালিম করিম নামে এক বুয়েট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর দুইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মুরছালিম করিম চট্টগ্রাম অক্সিজেন এলাকার জিল্লুর করিমের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম বষের্র শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ বিষয়ে মুরছালিমের নানা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঈদের ছুটিতে রোববার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন মুরছালিম। দুপুর দুইটার দিকে পুকুরে গোসল করতে যেয়ে ডুবে যান। পরে আত্মীয়স্বজনরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ লক্ষ্মীপূজা

আজ লক্ষ্মীপূজা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মীর পূজা আজ। এ উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করবেন।


শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন। প্রতিটি ঘরে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ তথা ঐশ্বর্যের দেবী হিসেবে পূজিত হন।


লক্ষ্মী হলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধনসম্পদ, ঐশ্বর্য, উন্নতি (আধ্যাত্মিক ও পার্থিক), আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী।


দিনটি উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও অতিথি আপ্যায়ন করা হবে। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় আঁকা হবে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা। সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে প্রদীপ প্রজ্জলন করা হবে।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, পঞ্চানন্দ শিব মন্দির,গৌতম মন্দির, রাধামাধব বিগ্রহ মন্দির, রাধা গোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির এবং পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরোয়া পরিবেশে লক্ষ্মীপূজার বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।