Pages

Friday, November 16, 2012

৪ দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে

৪ দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে 

আগামী ৪ দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে। সাব মেরিন ক্যাবল মেরামতের জন্য এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে  গ্রাহকদের। তবে  দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সিমইউ ফোরের মালিক বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) থেকে বলা হয়েছে তারা বিকল্প রেখেছেন।
গতকাল রাতে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার  হোসেন জানিয়েছেন, সব ধরনের বিকল্প রেখেই এ মেরামত কাজ হচ্ছে। তবে মেরামত চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেটের গতি আংশিক ধীর হতে পারে। তিনি জানান, গত বুধবার রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ল্যান্ডিং স্টেশনের পাওয়ার রিকনফিগারেশনের কারণে সকল সার্কিট তিন ঘণ্টার জন্য ব্যাহত ছিল। তবে স্যাটেলাইট ও ভিস্যাটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক  সংযোগ চালু ছিল।
মনোয়ার হোসেন জানান, আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে  ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ দিন পূর্ব প্রান্তের (সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া) সব সার্কিট ব্যাহত হবে। তবে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার সব ভয়েস ও ইন্টারনেট সার্কিট চালু থাকবে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যের সেকশনে একটি রিপিটার প্রতিস্থাপনের জন্য এ ইন্টারেপশন হচ্ছে এবং ব্যান্ডউইথের শূন্যতা পূরণের জন্য বিএসসিসিএল বিকল্প পথে সার্কিট চালু ও অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ আমদানির ব্যবস্থা করেছে। তিনি আশা করছেন এ ব্যবস্থায় আপদকালীন সময় পার করা সম্ভভ হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলাম

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলাম

বর্তমানে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, ইভটিজিং, যৌতুকের কারণে নির্যাতনসহ তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। বর্তমান নারীদের প্রতি বর্বর নির্যাতন দেখে মনে হয় আমরা একটি আধুনিক জাহেলিয়াত পেয়েছি। সে যুগে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। আর বর্তমানে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে কন্যাভ্রƒণ ধ্বংস করা হচ্ছে। চীন, ভারত, পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভপাতকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কন্যা সন্তানের পিতা যৌতুক ও নারী নির্যাতনের নির্মম বলি থেকে ভবিষ্যতে মেয়ে সন্তানকে রেহাই দেয়ার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় জেনে কন্যাভ্রƒণকে আগেই হত্যা করছে। আর সেখানে প্রচার করা হচ্ছে। ‘Pay 500 rupees and save 500000!’ এফবিআইর ক্রাইম রিপোর্টের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ১৫ হাজার আমেরিকান মহিলা তাদের স্বামী, পূর্বস্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের পৈশাচিক নির্যাতনে প্রাণ হারায়। দেশটিতে অপমৃত্যুর শিকার নারীদের ৩৪ শতাংশ নিহত হয় স্বামীদের নির্যাতনে। নির্যাতিত নারীদের ১০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই নির্মম অবস্থার শিকার হয়। (সূত্র : ড. মু: ইব্রাহীম খলিলÑ ইসলামে সামাজিক ব্যবস্থা ও পরিবার কল্যাণ পৃ: ১৭৩)
বাংলাদেশেও নারী নির্যাতনের হার কম নয়। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদন মতে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৩৪৫ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন, নিহত ১ জন, আহত ৩৫ জন, লাঞ্ছিত ৫৯ জন, অপহরণ ৮ জন, ধর্ষণের অপচেষ্টার শিকার ৯ জন। নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১০৫ জন পুরুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ জন বখাটে বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আক্রমণে নিহত ও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময়কালে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটের হাতে ২৩ জন নারী আহত ও ১ জন নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, একই সময়ে ২৯৭ জন নারী ও মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৩ জন নারী, ১৯১ জন মেয়েশিশু ও  তিনজনের বয়স জানা যায়নি। ওই ১০৩ জন নারীর মধ্যে ৩৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ও ৫৭ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ১৯১ জন মেয়েশিশুর মধ্যে ১৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৫০ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের কারণে চার নারী ও সাতজন শিশু আত্মহত্যা করেছে। এ সময়কালে একজন শিশু ও একজন নারী যথাক্রমে আনসার ও সেনাবাহিনী সদস্যের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। (আমার দেশ ২২ জুলাই, ২০১১)।
দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ ও লজ্জাস্থানের হিফাজত করা : ইসলাম চায় নারী নির্যাতনের সব পথ বন্ধ করতে। শয়তানের প্রথম ফাঁদ দৃষ্টি শক্তি দ্বারা নর-নারীকে আকৃষ্ট করা এবং ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য ইসলাম এ ব্যাপারে আগেই সতর্ক করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।’ (সূরা : নূর-৩০) শুধু পুরুষ নয়, মহিলাদেরও চু এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করতে হবে। অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।’ (সূরা : নূর-৩১)
এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, ‘হজরত বুরাইদা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) একদা আলী (রা:)-কে বললেন, হে আলী! পর নারীর প্রতি (হঠাৎ) একবার দৃষ্টি পড়লে দ্বিতীয়বার আর দৃষ্টিপাত করো না। কারণ প্রথমবার দৃষ্টিপাতের জন্য গুনাহগার না হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় দৃষ্টিপাত করলে গুনাহ হবে।’ (তিরমিজি)
সৌন্দর্য প্রকাশ না করা : বর্তমানে ইভটিজিং ও ধর্ষণের অন্যতম কারণ হচ্ছেÑ নারীদের বেপর্দা চলাফেরা করা। এ ব্যাপারে সতর্ক করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মুমিন নারীরা যেন সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গলা এবং বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে।’ (সূরা নূর : ৩১) ‘জাহিলিয়া যুগের মতো সাজসজ্জা করে রাস্তায় বের হয়ো না।’ (সূরা : আহজাব-৩৩)
হাদিসে এসেছে, ‘ওই সব নারী যারা হবে পোশাক পরিহিতা অথচ নগ্না। যারা পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথাগুলো হবে বড় বড় হেলে যাওয়া উটের কুঁজের ন্যায়। এসব নারী জান্নাতে প্রবেশ তো করতে পারবেই না, এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’ (আল-হাদিস)
অশ্লীলতা প্রসারের সব পথ বন্ধ রাখা : দুনিয়াতে যারা অশ্লীলতা প্রচার ও প্রসারের কাজে নিয়োজিত তাদের লক্ষ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি।’ (সূরা : ১৯)
ধর্ষণ অপরাধের শাস্তি : বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অপকর্ম বৃদ্ধির মূল কারণÑ অপরাধীদের শাস্তির বিধান যথাযথভাবে কার্যকর না করা। পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের উপযুক্ত বিচার না থাকায় সেখানে ধর্ষণ কমাতে পারেনি, সেখানে আরো ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে, আবার কোথায়ও উভয়কেই শাস্তি দেয়া হচ্ছেÑ যা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কেননা, এ কাজ সংঘটিত হয় পুরুষ কর্তৃক জোরপূর্বক। এ জন্য অপরাধী ধর্ষক, ধর্ষিতা নয়। ইসলাম এই কথাটিরই সমর্থন করে। ইসলাম বলেÑ কাজটি যদি নারীর অমতে হয়, তাকে যদি এ কাজে বাধ্য করা হয় এবং সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে নারীর অসহায়ত্ব ও অমত সুস্পষ্ট ধরা পড়ে তাহলে এ জন্য নারী কোনো শাস্তি পাবে না। বরং এ জন্য ধর্ষক পুরুষই শাস্তি পাবে। সে অবিবাহিত হলে তাকে এক শত কশাঘাত করা হবে। আর সে বিবাহিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নারীর অব্যাহতি প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘যে তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করে তাহলে তাদের জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা নূর : ৩৩)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জনৈক ক্রীতদাস এক ক্রীতদাসীর সাথে জোরপূর্বক ব্যভিচার করল। এই বিচার হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা:)-এর আদালতে পেশ করা হলো। তিনি ঘটনা তদন্ত করে ক্রীতদাসীকে বেকসুর খালাস দিলেন।’ (সহিহ আল বুখারি)
যৌতুক প্রতিরোধ : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী নির্যাতনের নেপথ্য যৌতুক প্রথার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বেশির ভাগ নারীরা নির্যাতিত হয় যৌতুকের কারণে। বিশেষত যৌতুক প্রথা এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে। এটা প্রথমাবস্থায় হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কালের আবর্তনে ধীরে ধীরে এই নিষ্ঠুর প্রথাটি মুসলিমসমাজে অনুপ্রবেশ করে, যা বর্তমানে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যৌতুকবিরোধী আইন থাকার পরও তা যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকার কারণে দিন দিন এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নিষ্ঠুর এবং অমানবিক কাজ থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামি বিধান মান্য করা ব্যতীত বিকল্প পথ বা মত কোনোটাই হতে পারে না। কেননা, ইসলাম বলে কোনো পুরুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে বিয়ে করতে পারবে না, আর যেহেতু বেশির ভাগ পুরুষ যৌতুক নেয় আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাব মুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।’ (সূরা : নূর, ৩৩)
আবার ইসলাম বিয়ের সময় নারীকে মহর প্রদান করে নারীর মর্যাদা এবং যৌতুকের পথ রুদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ত্রীদের মহর দিয়ে দাও।’ (সূরা : নিসা, ৪)

বিজ্ঞানময় ইসলাম

বিজ্ঞানময় ইসলাম


আপাতবিরোধপূর্ণভাবে, ইসলামের বিজ্ঞান শাস্ত্রের সংগঠন ও ধরনের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয়টি প্রতিভাত হয় তখন, যখন এ শিক্ষা বিদ্যমান ছিল না। এ ঘটনাটি ঘটে রাসূল সা:-এর সময়ে কুরআনিক ওহির যুগে। রাসূল মুহাম্মদ সা: তাঁর জনগণের মধ্যে বসবাসের সময়েই ওহি পেয়েছিলেন। এ জনগণের কেউ কেউ তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাথী হয়েছিলেন। রাসূল সা: যে ২৩ বছর ধরে ওহি লাভ করেছিলেন তা বিবেচনা করলে যে-কেউ সহজেই সেই মর্মস্পর্শী আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পর্যায়গুলো উপলব্ধি করতে পারে। রাসূল সা: বা তাঁর সাহাবিদের কেউ ইসলামী বিজ্ঞান বা কোনো বিশেষীকরণের সুযোগ পাননি। তাঁরা আল্লাহর কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন। সেই বাণী দ্বারা বিধৌত হয়েছেন, যা তাদের ধারণাকে গভীরতর এবং বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে; আর এভাবেই তারা তাদের ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের বন্ধনের প্রকৃতিকে এক আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত চেতনাবোধ থেকে স্পষ্ট ও ব্যাপক উপলব্ধির ভিত্তিতে তারা আচরণ করেছেন ও রাসূল সা:-এর শিক্ষার ওপর নির্ভর করে কাজ করেছেন, যা ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের শিক্ষা, যা ছিল নীরবতা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের, শান্তি ও সংগ্রামের, জয় ও পরাজয়ের এবং কখনো কখনো মৃত্যুর সাথী। আল্লাহর মনোনীত মানুষ এসেছেন তাঁর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে, সতর্ক করিয়ে দিতে, পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতিকে, যিনি মানুষ ছাড়া ভিন্ন কিছু ছিলেন না, যাঁর ছিল মহান গুণাবলি, কিন্তু আমরা যেমন, তেমনই মরণশীল মানুষ। পূর্ববর্তী ওহিগুলোর মধ্যে কুরআনের মধ্যেই আমরা পয়গম্বরির তিনটি প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। এগুলো হলোÑ ক. আল্লাহর বার্তাবাহক হওয়ার গুণাবলি, যাঁকে আল্লাহর অস্তিত্ব সমগ্র মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। খ. এ বার্তাবাহক হবেন একজন মানুষ ও পথপ্রদর্শক আর অবশেষে গ. সবচেয়ে উত্তম আচরণ ও নৈতিক গুণাবলি দিয়ে গড়া একটি আদর্শ।

‘আমি তো তোমাকে সমগ্র মানবজাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ জানে না কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।

বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।

বলো, ‘আমি তো তোমাদেরই মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’

তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।

মানুষকুলের মধ্যে সদ গুণাবলির আধার হিসেবে মনোনীত একজন নবী ও রাসূল রূপে তাঁর কর্তব্য এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য আহ্বান জানানোর সাথে একটি নতুন পথে গমনের অনুমতি দেয়া, যা মহাবিশ্ব তথা সমগ্র সৃষ্টিকে এবং উপাদানগুলোকে বিবেচনায় আনে। ওই সব হৃদয়ের উদ্দেশে প্রথম আয়াত ও সূরাগুলো নাজিল হয়েছিল, নতুনভাবে যা পূর্ণ হয়েছিল ঈমানের দ্বারা, এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সঙ্কীর্ণ দৃষ্টির মানুষকে পুরোপুরি সংশোধন ও বিগলিত করা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল বিশ্বকে এবং সর্বোপরি তাদের নিজেদের সম্পূর্ণ বদলে দেয়ার কাজ :

‘পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেনÑ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ থেকে। পাঠ করো, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেনÑ শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে, যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক : ১-৫)

তাঁর আয়াতের ভেতর থেকে এর বাইরে তাঁর সৃষ্টি থেকে তাওহিদ তথা আল্লাহর একাত্মকে উপলব্ধির পথে প্রাথমিক প্রবেশ একটি নতুন ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি দান করেছিল। বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য ঈমানদারকে উৎসাহিত করা হতো।

‘আমি তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করব বিশ্ব জগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, তা-ই সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সর্ববিষয়ে অবহিত?’

আল্লাহর হুকুমে এ বিশ্বই (আল কিতাব আল মানসুর) সত্য ওহির প্রথম সমর্থন ও নিশ্চয়তার (আল কিতাব আল মাসতুর) কথা বলে তথা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কথা বলে। পুরো কুরআনে এ বিষয়টি বিভিন্ন আয়াতে বিধৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান এনে নতুন একটা জগতে প্রবেশ করতে পারে।

‘সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পারো না।’

এটিই আসলে এক আল্লাহর ওপর ঈমান, এটিই গভীরতম আধ্যাত্মিকতা। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে তাদের কাছেই এ আধ্যাত্মিকতার দ্বার খুলে গিয়েছে। তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে নতুনভাবে দেখে :

‘সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে, তৃণলতা ও বৃক্ষাদি মেনে চলে তাঁরই বিধান।’

বাস্তব ও দৃশ্যমান হওয়ার কারণে বুদ্ধি দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণের পথকে বোঝা যায় : উপর্যুক্ত আয়াতের প্রথম অংশটি থেকে আমরা আমাদের প্রশ্নের জবাব পাই। আয়াতের দ্বিতীয় অংশটি আমাদের অন্তরের ভেতরের অবস্থানকে বর্ণনা করে, আমাদের মনের কথা বলে। এর মাধ্যমে আমরা বৃক্ষরাজি ও নক্ষত্রমণ্ডলীকে অবিরাম সিজদারত দেখতে পাই। ঈমান বা বিশ্বাস হলো নতুন বাস্তবতার একটি বিশেষ পথ, যার মাধ্যমে মানুষ আপাত অস্তিত্বহীন আর অপ্রকৃতের (ঁহৎবধষ) কাছে পৌঁছে যায়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে কুরআনের বাণী যা হচ্ছে আর যা অনুমিত হতে পারে তার পুরো বিপরীত।

তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।

গভীরভাবে ঈমানকে উপলব্ধি করা আর সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যকে বোঝার জন্য প্রয়োজন বিশ্ব ও নিজেকে জানা আর সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে চিন্তা করা। রাসূল সা:-এর অশ্রুসিক্ত বিনিদ্র রজনীর এটিই ছিল কারণ। রাসূলের সাথী বিলাল ফজরের সময় বিশ্বাসীদের সালাতে ডাকার জন্য আজান দিতে এলেন। তিনি দেখলেন অন্ধকারে রাসূল সা: বসে শুধু কাঁদছেন। রাসূল সা:-এর কাছে বিলাল কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। তিনি সা: বললেন, ‘আমি কি কাঁদবো না, সপ্ত-আকাশমণ্ডলী থেকে এ আয়াত আমার ওপর নাজিল হয়েছে?’ এ বলে রাসূল সা: তিলাওয়াত করলেন : আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য।

তিনি আরো বললেন, ‘দুঃখ তার জন্য, যে এ আয়াত শোনেনি আর যে এ আয়াতের বিষয়ে চিন্তা করে না।’ কোনো দুর্বিপাকের কারণে বা কোনো শাস্তির ভয়ে তিনি কেঁদেছেন তা নয়, বরং সমস্ত সৃষ্টির পেছনে যে পবিত্র ও সত্যিকারের একটা অর্থ রয়েছে, যা লালিত হয়েছে দৃশ্যমান আয়াত ও আল্লাহর প্রতি সৃষ্টির পূর্ণ আনুগত্য স্বীকারের মাধ্যমে। সৃষ্টিকর্তার এ বিষয়টি তারই জন্য যার দেখার, শোনার ও অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করার ক্ষমতা আছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে যারা সত্যকে স্বীকার করে না তাদের জন্য এই গুণাবলির বিষয়গুলো কল্পনা করা যাবে না।

‘তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চু আছে তা দিয়ে দেখে না এবং তাদের কর্ণ আছে তা দিয়ে শ্রবণ করে না।’

এটি অন্তর্ভেদী শিক্ষার প্রথম ধাপ : সব কিছুই আল্লাহর উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। আর এর মাধ্যমেই মানুষ চরম তাকওয়ার দিকে পৌঁছে যেতে পারে এবং ঈমানদারের হৃদয়ে কুরআনের সত্য সুপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।

‘এটা সেই কিতাব; এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ।’

এ স্বর্গীয় কিতাবকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে আর মনের সব প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে খুঁজতে হবে। আদম আ: থেকে রাসূল সা: পর্যন্ত মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাস, তাঁর সাহাবিদের ইতিহাস আমাদের জানতে হবে।

এভাবেই আল্লাহর ওহি ইতিহাসের ওপর নতুনভাবে আলোকপাত করে আর আমাদের বিশ্বাস ও আল্লাহ ভীরুদের মাধ্যমে আমাদের চার পাশের এবং তার বাইরের জগৎ সম্পর্কে আমাদেরকে চিন্তা করা সুযোগ করে দেয়। অতীতের মধ্যে ডুবে গিয়ে আমরা একটা নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ধরনের একটি অদৃশ্যমান জগৎ সম্পর্কে জানতে পারি। এ জগৎ সৃষ্টির সময়ে আমরা ছিলাম না বা এটিকে আমরা দেখিওনি, আল্লাহ তার আকাশমণ্ডলী আর পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদেরকে সাক্ষ্য হিসেবেও রাখেননি, এমনকি আমাদের সৃষ্টির বেলাতেও কোনো রূপ সাক্ষ্য রাখা হয়নি। আল্লাহর ওহি আমাদের সময়কে অতিক্রম করে যায়। এটি মানুষ সৃষ্টিরও আগের বিষয় :

স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদের বললেন : …‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি।’

এবং আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রথম প্রভাতটি অবলোকন করলাম :

‘এবং তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তৎপর সে সমুদয় ফিরিশতাদের সম্মুখে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, এ সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল, ‘আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোনো জ্ঞানই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।’

প্রথম নবী আদম আ:-এর ঘটনার সাথে সাথে আল্লাহর ওহি দিয়ে ঈমানদারকে জ্ঞানময় অতীতের আর মহাবিশ্বের অভিজ্ঞতা দান করেছেন যার সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞানই ছিলো নাÑ ‘এ জ্ঞান ছিল মানুষের অতীত অভিজ্ঞতারও বাইরে।’ এটি মহাবিশ্বের এমন একটি স্থান যেখানে আল্লাহর ফিরিশতারা বসবাস করে, যারা প্রতি ঘণ্টা, মিনিট, মুহূর্তে অবিরাম সর্বশক্তিমান আল্লাহর গুণগান করে। এটি অদৃশ্য এক জগৎ, জৈবিক অনুভূতির বাইরের জগৎ। এ জগতের ওপরই বিজ্ঞানী বা যুক্তিবাদীরা, বিশ্লেষণী দর্শন গবেষণা করে থাকে : এখানে মানুষ অনুভূতির স্পর্শ পায়, মানুষের গভীর বিশ্বাস জন্মে, আধ্যাত্মিক সত্তা ও শক্তির বিষয়ে মানুষ চিন্তা করতে পারে। জন্মের পর মৃত্যুর, বিশ্বজগৎ সৃষ্টির উদ্দেশ্য, আল্লাহর ওপর ঈমানের বিষয়কে মানুষ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। মানুষের এ ঈমান হবে আদি ও অনন্তের প্রারম্ভিক পদ্ধতির ওপর, যা এ সময়ে মানুষের মধ্যে মজবুত হবে ও আরো বেশি করে ঈমান বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রেক্ষাপটকে নিয়ে নতুন আলোকে মানুষের ইতিহাস অধ্যয়ন করা হয়ে থাকে। এর আলো মানুষের চিন্তার সব দিকে আলোকিত করে। এ এক অর্থবহ আলো, এটি আমাদের জানা কাহিনী ও ঘটনাপ্রবাহের বাইরের ইতিহাসের একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট আমাদের সম্মুখে প্রকাশ করে। আদমের পর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের কাছে যত নবী-রাসূল এসেছেন তাঁরা সবাই মানুষকে এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনার বিষয়টি শিক্ষা দিয়েছেন। (চলবে)

অনুবাদক : এম রুহুল আমিন

লেখক : ১৯৬২ সালে তারিক রমাদান জেনেভায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল আজহার থেকে অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে ডক্টরেট করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশেষ করে পাশ্চাত্য এবং সমকালীন বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কিত তর্কবিতর্কে লেখা ও বক্তৃতার মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন

‘রেস-২’ ছবিতে অর্ধনগ্ন জ্যাকুলিন

‘রেস-২’ ছবিতে অর্ধনগ্ন জ্যাকুলিন

 


ব্যাপক খোলামেলা হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর আগে এতটা খোলামেলা পোশাকে কখনও দেখা যায়নি তাকে। ‘রেস-২’ ছবিতে দর্শকরা জ্যাকুলিনের এই খোলামেলা রূপ উপভোগ করতে পারবেন। ছবিটির শুটিং বর্তমানে শেষের দিকে। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। এদিকে এই ছবির একটি গানে অনেকটাই অর্ধনগ্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে জ্যাকুলিনকে। বর্তমানে এই গানটির প্রমো বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়ে বেশ আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। ‘মার্ডার-২’ ছবিতে ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় জ্যাকুলিনের। এই ছবিতে বেশ রগরগে কিছু দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর পরই তিনি ‘রেস-২’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নেন। এই ছবির শুটিংয়ের পর পরিচালক সাজিদ খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান জ্যাকুলিন। বর্তমানে সাজিদ ছাড়া অন্য কারও ছবিতে অভিনয় করছেন না তিনি। তাই সাজিদের বাইরের কোন পরিচালকের ছবিতে ‘রেস-২’ হতে পারে জ্যাকুলিনের সর্বশেষ কাজ। কারণ খুব শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতেও বসতে যাচ্ছেন সাজিদ-জ্যাকুলিন। এদিকে জানা গেছে ‘রেস-২’ ছবিতে জ্যাকুলিনের করা অর্ধনগ্ন দৃশ্যের গানটি বাদ দেয়ার সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন সাজিদ। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়। তাই কোনভাবেই গানটি আটকাতে সমর্থ হননি সাজিদ। অবশেষে গানটির প্রমো প্রচার শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই গানটি ইউটিউবেও প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে। এদিকে এই ছবিতে অভিনয় ও অর্ধনগ্ন দৃশ্যে কাজ করা বিষয়ে জ্যাকুলিন জানিয়েছেন, ‘রেস-২’ ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। এখানে আমার চরিত্রটিও বেশ মজার। মূলত আমি এখানে অ্যাকশন একটি চরিত্রে কাজ করেছি। এ কারণেই আসলে বেশ কিছু খোলামেলা দৃশ্যে পারফরম করতে হয়েছে। এটা একদমই বাড়তি কিছু মনে হবে না। আশা করছি ছবিটি দর্শকরা খুব উপভোগ করবেন।

২৫ নভেম্বর পবিত্র আশুরা

২৫ নভেম্বর পবিত্র আশুরা

বাংলাদেশের আকাশে আজ বৃহস্পতিবার ১৪৩৪ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র মুহাররম আরবী নববর্ষ ১৪৩৪ হিজরি সন গণনা শুরু হবে। আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য সচিব সামীম মোহাম্মদ আফজাল।
সভায় পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৪ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
এর ফলে ২৫ নভেম্বর রোবববার পবিত্র আশুরা উদযাপন করা হবে।

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

(ডা: ফারজানা চৌধুরী)
মানুষ যখন ভূমি চাষ, আগুনের ব্যবহার আয়ত্তে এনেছে, তখন থেকেই তামাকপাতা ও আফিম ফল মস্তিষ্কে যে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে তাও আবিষ্কার করে ফেলেছে। সেসব নেশাই কয়েক দশক ধরে সমাজকে গ্রাস করছে। সারা পৃথিবীতে অস্ত্রের পরপরই বড় ব্যবসা হচ্ছে মাদকদ্রব্যের। মাদকদ্রব্য হচ্ছে সেগুলোই, যেগুলো মস্তিষ্কের ওপর কাজ করে এবং আচরণের অনাকাক্সিত পরিবর্তন ঘটায়। এগুলোর মধ্যে আছেÑ
১. স্নায়ু নিস্তেজক মাদকদ্রব্য, যেমনÑ আফিম, মরফিন, হেরোইন, প্যাথেডিন, কোডেইন, গার্ডিনাল, ডায়াজিপাম, মদজাতীয় দ্রব্য ইত্যাদি।
২. স্নায়ু উত্তেজক মাদকদ্রব্য : যেমন গাঁজা, ভাং, চরস, সিদ্ধি, মারিজুয়ানা, কোকেন ইত্যাদি।
৩. মায়াবিভ্রমকারী বা হেলোসিনেজিক মাদকদ্রব্য : যেমন এলএসডি।
৪. অন্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে তামাক, নিকোটিন, নাকে শুঁকার দ্রব্য ও যন্ত্রণা নিবারক ওষুধ।
কিন্তু আমাদের দেশের তরুণেরা তাদের তারুণ্যের প্রকাশ ঘটাচ্ছে ধ্বংসাত্মকরূপে। বিভিন্ন আর্থসামাজিক কারণে তাদের গঠনমূলক প্রবণতাগুলো বিকশিত হচ্ছে না। ফলে সহজলভ্যতা ও সেবনের সহজ পদ্ধতির কারণে তারা আকৃষ্ট হচ্ছে ফেনসিডিলের প্রতি। এই ফেনসিডিলে আছে (এক চামচে) প্রোমিথাজিন হাইড্রোকোরাইড ৩.৬ গ্রাম, কোডিন ফসপেট ৯ মি.গ্রাম এবং ইফিড্রিন ৭.২ মি. গ্রাম। বর্তমানে এ ওষুধটি নিষিদ্ধ। তার পরও নানাভাবে এ ওষুধটি বাজারে আসছে।
আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থবিরতা, নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ চিত্তবিনোদনের অভাব, জীবনের উদ্দেশ্যবিহীনতা, পিতামাতার সন্তানের প্রতি অবহেলা, পরিবারে মাদকের প্রভাব, বিষণœতা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও মারাত্মক মানসিক রোগের কারণে, বন্ধুদের প্ররোচনা, অত্যাধুনিক হওয়ার প্রবণতা, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের আকাক্সা, মানসিকভাবে দুর্বলচিত্ত, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তরুণেরা ফেনসিডিলে আসক্ত হয়। এই নিষিদ্ধ ওষুধটি তরুণদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তাশক্তি হ্রাস করছে। স্মৃতিবৈকল্য ও স্মৃতিভ্রংশতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে। তরুণের জগৎ ও জীবন সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ে, ফলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করে না। নিস্পৃহ ও নির্লিপ্ত হয়ে যায়। মুখে কথা জড়িয়ে আসে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখ লাল ও বড় হয়ে থাকে। ফেনসিডিলের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়, যাকে বলে ড্রাগ ডিপেনডেনস।  ফলে নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়।
একটানা এ মাদকদ্রব্য খাওয়ার ফলে দেহে সৃষ্টি হয় নানা রোগ। যেমনÑ জন্ডিস, কিডনির রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও জটিল লিভারের রোগ।
তরুণদের এই ফেনসিডিল বা মাদকদ্রব্যের আসক্তি থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব কেবল সমাজ ও সরকারের নয়Ñ অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া তরুণেরা হতাশ হলে চলবে না। মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো ভাবতে হবে। ভাবতে হবে পরিবার, সমাজ ও জাতির কথা।

এ যেন অন্য এক ছক্কা নাঈম

এ যেন অন্য এক ছক্কা নাঈম


নাঈম আসলে যখনই জাতীয় দলে খেলেছেন, বেশির ভাগই ৬ অথবা ৭ এ করেছেন ব্যাটিং। এবার একেবারে চারে উঠে আসার কারণটা জানান দেন তিনি নিজেই। ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের বিরুদ্ধে যখন খেলি, তখন আকরাম ভাই (প্রধান নির্বাচক) বলেছিলেন, জাতীয় ক্রিকেটে চার নাম্বারে ব্যাটিং করতে। তখনই একটা ইঙ্গিত পাই। ভালো করলে জাতীয় দলে ফিরব এবং টপ অর্ডারে ব্যাটিং করব। হাই পারফরম্যান্সের পর জাতীয় লিগেও ভালো করার পরই জাতীয় দলে ফেরা এবং চার নাম্বারে ব্যাটিংয়ের এ সুযোগ। এখানে ব্যাটিং করার ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতিটা আগেরই ছিল।’ নাঈমের নাম রয়েছে আরো একটা। বন্ধুরা তাকে ছক্কা নাঈম বলেও ডাকেন। একবার তার অনবরত ছক্কাতেই ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই নাঈম গতকাল ১৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করবেন এটা তো কল্পনাতীত। সেঞ্চুরি করেছেন ২২৮ বল মোকাবেলা করে ৩১৬ মিনিট ক্রিজে থেকে। ইনিংসে কোনো ছক্কা নেই। ১৭টি বাউন্ডারি শুধু। অন্য নাঈমকেই তো দেখা! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ওটিস গিবসনও প্রশংসা করেন তার। ‘দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন তিনি।’

মৃদুভাষী নাঈম জানালেন, ‘আসলে শর্টার ভার্সনের ম্যাচে স্ট্রোক খেলি। কিন্তু লংগার ভার্সন ম্যাচে দেখবেন আমি ধীরেই ব্যাটিং করে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘ক্রিজে আমি সব সময় আমার খেলাটাই খেলার চেষ্টা করি। আর এ ম্যাচেও আমার প্ল্যান ছিল তেমন। আমার জোনে বল পড়লে শট খেলব নতুবা না। সেটাই করেছি।’ নাঈম দলের টার্গেট সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করতে পারি সেটাই মূলত চেষ্টা। দিনের শুরু থেকেই যা ছিল, দেখবেন রিয়াদ নাসিরও সেই রোলটাই প্লে করেছে। তবে ম্যাচের এখনো বাকি দুই দিন। এুনি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা যতক্ষণ পারি ব্যাটিং করব।’ নাঈম সাকিব-তামিম সম্পর্কে বলতে যেয়ে বলেন, ‘আসলে সাকিব-তামিম চমৎকার ব্যাটিং করেন। আমার সৌভাগ্য যে তাদের সাথে ব্যাটিং করেছি। কাছ থেকে দেখেছি। অনেক কিছু শেখারও আছে সে থেকে।’

নাঈমের ফেরাটা এবার একটু অন্যরকমই! নাঈম মানেই ৬ বা ৭ এ ব্যাটিং করা। মোটামুটি একটা স্কোর করেই আউট। সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের প্রিয়পাত্র বলেই দলে চান্স তার, শুনতে হয়েছে এমন কথাও। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও দলে ছিলেন। কিন্তু (প্রথম টেস্ট ৩৬ ও ব্যাট করেননি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৫ ও ৩) এ ছিল দুই টেস্টের পারফরম্যান্স। এ জন্যই পাকিস্তানের সাথে সিরিজে স্থান হয়নি তার। তবে এ সিরিজে ফিরতে কিছুটা দৃঢ়তাই ছিল বৈকি তার! চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স তার। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩৭ ও ৪৪ এবং দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ১২৭ ও ৩ করেই আবার ফিরলেন টেস্ট স্কোয়াডে। এর আগে ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের সাথেও ভালো খেলেছিলেন নাঈম। ওই ধারাবাহিকতায়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও চমৎকার পারফরম্যান্স করে তার ফলও পেয়েছেন। সেঞ্চুরি। ব্যাটসম্যানদের স্বপ্নের ওই স্কোর। এর আগে ৬ টেস্টের ১১ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৫৯ রান এ মিরপুরে। হাফ সেঞ্চুরি বলতেও ছিল ওটাই। কাল একেবারে সেঞ্চুরি করেই থেমেছেন এ টপ অর্ডার। সকালে আগের দিনে ২৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১০৮ করে যখন আউট হন ততক্ষণে শুধুই তার সেঞ্চুরিই নয়, দলকেও সম্মানজনক এক ড্র করার স্বপ্ন দেখিয়ে রেখে গেছেন। যদিও ওটা বলার সময় আসেনি এখনো তবুও ম্যাচ কন্ডিশন এমনই একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ম্যাচের এমন চিত্র আঁকার ব্যাপারে নাঈম, সাকিবের রয়েছে অসাধারণ অবদান। তাদেরই চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ রেকর্ড ১৬৭ রানের পার্টনারশিপটাই পাল্টে দেয় সব চিত্র। সাকিব ব্যর্থ হলেও সে থেকে শিক্ষা নিয়ে নাঈম ঠিকই পৌঁছে যান ওই লক্ষ্যে। ফাস্ট বোলার টিনো বেস্টের করা লেগ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা বলটি ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির মার্কে। এটা বাংলাদেশের ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টস : ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে.

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : আগের দিনের ১৬৪/৩ (৩৬ ওভার) তামিম ৭২, জুনায়েদ ৭, নাফীস ৩১।

রান বল ৪ ৬

নাঈম ক রামদিন ব সামি ১০৮ ২৫৫ ১৭ ০

সাকিব ক ফুদাদিন ব রামপাল ৮৯ ১৪৩ ১০ ১

মুশফিক ক অ্যান্ড ব পারমাল ৪৩ ৯৭ ৭ ১

নাসির ব্যাটিং ৩৩ ৭৫ ১ ১

রিয়াদ ব্যাটিং ৪২ ৭৯ ৩ ১

অতি: (বা ৮, লেবা ১১, ও ৩, নো ৮) ৩০

মোট (১২৬ ওভার ৬ উই.) ৪৫৫

ব্যাট করেননি : সোহাগ, শাহাদত ও রুবেল।

উইকেট পতন : ১/২৫, ২/৮৮, ৩/১১৯, ৪/২৮৬, ৫/৩৬২, ৬/৩৬৮।

বোলিং : রামপাল ২৬-২-১০১-৩, বেস্ট ২০-৩-৬৮-০, সামি ২৩-৩-৮৩-২, নারিন ২১-৫-৮৯-০, পারমাল ২৭-৭-৬০-১, গেইল ৩-০-১৪-০ ও স্যামুয়েলস ৬-০-২১-০।

Thursday, November 15, 2012

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই!

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই! 

রিপাবলিকান মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বারাক ওবামা। তার বিজয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ছে ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা। আর মিট রমনি তাকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। কিন্তু সবাই ওবামাকে অভিনন্দন জানাতে  পারেননি। লাখ লাখ মার্কিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওবামার শাসন থেকে নিজ নিজ রাজ্যকে পৃথক করতে চাইছেন! এই দাবিতে দিয়েছেন গণস্বাক্ষরও। হোয়াইট হাউসের ‘উই দ্য পিপল’ ওয়েবসাইটে এ নিয়ে ২০টিরও বেশি রাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়েছে, যাতে সমর্থন দিচ্ছেন ‘স্বাধীন’ রাজ্য পেতে ইচ্ছুক এই নাগরিকরা। স্বাক্ষর দিয়েছে আড়াই লাখের বেশি লোক। তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ দেশ থেকে পৃথক হতে চান। কেবল টেক্সাস থেকেই স্বাক্ষর পড়েছে ২৩ হাজার লোকের। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেকোনো আবেদনে ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর পড়লে তা প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে বিবেচনার জন্য পাঠানো যেতে পারে। ডেইলি মেইল এক রিপোর্টে একথা জানায়।
হোয়াইট হাউসের এই ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিকেরা দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে পারে। কোনো প্রস্তাব ২৫ হাজারের বেশি সমর্থন পেলে তা গোচরে নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। টেক্সাসের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে সবচে বেশি মার্কিনি সমর্থন দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়ার বেশিরভাগ আবেদনেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার একটি অংশের উদাহরন টানা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে নাগরিকদের সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করা বা তা ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করার অধিকার আছে। এছাড়াও পৃথক হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্যগুলো। সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া টেক্সাসের আবেদনে বলা হয়েছে, সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কার না করায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ছে। টেক্সাস বিশ্বের পঞ্চদশ বৃহত্তম অর্থনীতি। আলাদা হয়ে দিব্যি চলতে পারবে রাজ্যটি। আর এর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাপনের মানও রক্ষা করা যাবে। তবে টেক্সাসের গর্ভনর রিক পেরি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এ আবেদনকে সমর্থন করেন না।
ওরেগন বলছে, ফেডারেল সরকারের আকার এত বড় হয়ে গেছে যে এটি রাজ্যের সংবিধান লঙ্ঘন করছে এবং অসংবিধানিক আইন নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। একই বক্তব্য ইউসকনসিনকে পৃথক করার আবেদনেও রয়েছে। ওহাইওকে পৃথক করার জন্য দুটি আবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, রাজ্যটির জনসংখ্যা আর অর্থনীতি সুইজারল্যান্ডের চেয়েও বড়। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক রেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চলতে পারবে! উল্লেখ্য, নাগরিকদের আবেদনের এই অধিকার মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া হয়েছে। এ অধিকার নিশ্চিত করতেই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের আবেদনের এই ঘটনাও নতুন কিছু না।

 

রুদ্ধশ্বাস ৪০ মিনিট

রুদ্ধশ্বাস ৪০ মিনিট 

অপহরণকারীদের চাহিদামত মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেয়া হয়েছে টাকা। কিন্তু ফেরত পাওয়া যায়নি আদরের নিধিকে। শেষ পর্যন্ত ১২টা ২০ মিনিটে ছেলে পরাগকে ফিরে পান বিমল মন্ডল। টাকা দেয়া থেকে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার এই ৪০ মিনিট ছিল বিমলের কাছে এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়। এর আগের এক ঘন্টা কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে যে ফিরে পেয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট কেরানি-গঞ্জের এই ব্যবসায়ী।
গত রবিবার সকালে বিমলের স্ত্রী, মেয়ে ও গাড়ি চালককে গুলি করে ছেলে  পরাগকে অপহরণ করে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। পুরো দুইদিন অন্ধকারে ছিলেন বিমল। মঙ্গলবার সকালে প্রথম বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা। দাবি করে ২ কোটি টাকা। দিনব্যাপী চলে দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত রফা হয় ‘৫০ লাখ টাকায়’।
অপহরণকারীদের কথামতো মঙ্গলবার রাতেই ‘৫০ লাখ টাকা’ নিয়ে বিমল প্রথমে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাকে মুগরার বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইল ফোনের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দু’জন সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। তখন তিনি ছেলেকে ফেরত চাইলে তারা বলেন, সময়মত জানানো হবে।
তখন ঠিক রাত ১১টা ৪০ মিনিট। টাকা দেয়ার পর পুরোটাই অন্ধকারে ছিলেন বিমল। টাকা গেল এবার যদি ছেলেকে না পান তাহলে সব শেষ। ঠিক ২০ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটি নয়াবাজারে যেতে বলে। আরো ২০ মিনিট পর সেখানেই রাত ১২টা ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল পরাগ মন্ডলকে। অবশ্য এক নৈশ্যপ্রহরী পরাগকে আবিষ্কার করে বিমলকে ফোন করেন। ডিবি পুলিশের সঙ্গে বিমল সেখানে গিয়ে ছেলেকে পান। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান স্কয়ার হাসপাতালে। এখনও যেখানে চিকিত্সাধীন আছে পরাগ।

 

বিনিয়োগ নেই, তাই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বিনিয়োগ নেই, তাই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ 

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি নিয়ে বেশ উচ্চবাচ্য হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগ মন্দাসহ বেশকিছু কারণ রয়েছে এই রিজার্ভ বৃদ্ধির নেপথ্যে। গ্যাস-বিদ্যুত্ সমস্যা, ব্যাংক ঋণে সুদের হার চড়া হওয়ায় বিনিয়োগ ক্রমাগত কমছে। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমে যাচ্ছে। এতে আমদানি খরচ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও তা দেশের জন্য তেমন উপকারে আসছে না। বৈদেশিক মুদ্রা উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহার না হওয়ায় তা মূল্যস্ফীতিকেও অনেকাংশে উস্কে দিচ্ছে বলে তাদের অভিমত। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার একটা বড় অংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ আকারে বাজারে ছাড়া হয়। যা উত্পাদনশীল খাতে ব্যবহূত হয়। কিন্তু দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে তা কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। আর অলসভাবে এই টাকা পড়ে থাকায় ‘টাইম ভেলু অব মানি’র কারণে এক সময় এ অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন এজন্য এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ রিজার্ভকে কিভাবে উত্পাদনশীল খাতে কাজে লাগানো যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেশি থাকা অবশ্যই ভাল। তবে রিজার্ভ উত্পাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে না পারলে তা তেমন লাভ পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় উত্স হচ্ছে রেমিট্যান্স। কিন্তু রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছে তারা সেটাকে উত্পাদনমুখি কাজে না লাগিয়ে বাড়ি-ঘর তৈরি বা জমি কেনার কাজে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা উত্পাদনমুখি কাজে না লাগিয়ে ভোগ্যপণ্যে ব্যবহার করায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি এসবের তীব্র সঙ্কটে শিল্প-কারখানার উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় শিল্পের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শিল্প উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, একদিকে অবকাঠামোগত ত্রুটি অপরদিকে ব্যাংকের উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হচ্ছে। আর বিনিয়োগ না হওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমছে এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১২ বিলিয়ন (এক হাজার ২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি ব্যয় পরিশোধ বাবদ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিটে (আকু) ৬৮ কোটি ডলার পরিশোধ করায় রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে রিভার্ভের পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩২ মিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূচকের সর্বশেষ ধারা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স ছাড়া বেশিরভাগ সূচকের প্রবৃদ্ধিই কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে। তবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কম হওয়াতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারকে প্রচুর পরিমাণ ঋণ নিতে হয়েছে। যার বেশিরভাগই বিদ্যুত্-জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হিসাবে গেছে। সরকারের বেশি ঋণের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের গতি কমেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় দ্বিতীয় মাসে (আগস্ট) ঋণ প্রবাহ ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই মাসে ছয় হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও আগস্ট মাসে ছয় হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগই মূল বিনিয়োগ হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। আর পঞ্চবার্ষিকী (২০১১-১৪) পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা থেকেও বিনিয়োগ অনেকখানি পিছনে রয়েছে। এরমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগও আশানুরূপ হয়নি। এজন্য স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বলেছেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে না পারা আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বিগত এক যুগে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো ছিল। গত বছরে এক দশমিক এক বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি আশানুরূপ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে বিনিয়োগকারী অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটছেন। তারা বলছেন, শেয়ারবাজার কারসাজি, হলমার্ক কেলেংকারি, সরকারি কাজে ব্যাংক ঋণের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অনেক বিনিয়োগ উপযোগী মূলধন বিনিয়োগের বাইরে থেকে গেছে।
বিনিয়োগের অন্যতম নিদর্শন মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার ক্রমেই কমছে। একইসঙ্গে যে পরিমাণ এলসি খোলা হচ্ছে তার সবগুলো নিষ্পত্তিও হচ্ছে না। এতে দেশে নিত্যপণ্যসহ মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও কমে যাচ্ছে। এলসি খুলতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ প্রকাশ, কিছু ক্ষেত্রে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কম থাকা এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে পরিস্থিতি এমন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৭৪ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৮১ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে আগের একই সময়ের তুলনায় এলসির মূল্য কমেছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে এলসি নিষ্পত্তির মূল্যও একই সময়ে কমেছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। সাধারণত এলসি নিষ্পত্তি ও প্রকৃত আমদানি মোটামুটি কাছাকাছি হলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুত্ সঙ্কট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও উচ্চমূল্যস্ফীতির পরও ব্যবসায়ীরা কোনমতে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের উচ্চসুদহারের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্বিকভাবে এসব কারণে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তারা উত্সাহিত হচ্ছেন না। চলতি বছরের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের ব্যাংকঋণে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) প্রত্যাহার করে নেয়। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে পরে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতে সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) নিম্নতর এক অংক তথা ৫ শতাংশীয় পয়েন্টে সীমিত রাখতে বলা হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সে নির্দেশনা না মেনে নানা অযুহাতে শিল্পাদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায় করছে।

 

অপহরণকারীদের দেড় মাস আগে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়


‘৫০ লাখ টাকার’ মুক্তিপণে আপস

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে নাজিম, আমির আর নিরঞ্জন নামে তিন সন্ত্রাসীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনেন কেরানীগঞ্জের যুবলীগের এক নেতা। এদের ছাড়িয়ে আনতে ওই নেতার ৪ লাখ টাকা খরচও হয়েছে। উদ্দেশ্য— বড় কোন অপারেশনে তাদের ব্যবহার করা। হয়েছেও তাই। এদের দিয়েই পাওয়া গেছে ‘৫০ লাখ টাকা’। আর এই টাকাটা দিয়েছেন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার বিমল মণ্ডল। কারণ—তার একমাত্র ছেলে পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করেছিল এই গ্রুপটি। এই অপহরণের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সরকারের শীর্ষ মহল পর্যন্ত নড়েচরে বসে। শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক ফিরে পাওয়া গেছে জীবিত পরাগকে। যদিও টাকা দেয়া, না দেয়া চলছে এক রহস্যময় লুকোচুরি। র্যাব বলছে, ৫০ লাখ টাকা দিয়েই মুক্ত করা হয়েছে পরাগকে। তাদের কাছে পরাগের বাবার কথপোকথনের রেকর্ডও আছে। আর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, টাকা দিয়ে নয়, এমনিতেই উদ্ধার হয়েছে পরাগ। এমন পরিস্থিতিতে ‘চুপ’ হয়ে গেছেন বিমল।

এদিকে পরাগ অপহরণের অন্যতম পরিকল্পনাকারী মামুনকে ডিবি আটক করেছে। তার মাধ্যমে পরাগ অপহরণের বিস্তারিত জানতে পারে পুলিশ। সে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে ছিল। তাকে পরাগ উদ্ধারের পর ঐ রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। গত রাতে মামুনকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় পুলিশ পরাগ অপহরণের মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অপহরণকারী সাতজনকে শনাক্ত করেছে। এদেও মধ্যে ছয়জন ডেমরা এলাকা একটি কলেজের ছাত্র।

জমি নিয়ে যুবলীগ নেতার সঙ্গে বিরোধ

পরাগ অপহরণের ঘটনায় তার বাবা বিমল মণ্ডলের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার জমি নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ জায়গা ৩০ বছর আগে কেনেন বিমল মণ্ডলের বাবা মৃত জীবন মণ্ডল। এই বাড়িতেই বাসবাস করেন বিমল। এ বছরই প্রতিবেশী নিতাই চন্দ্র মন্ডল এবং তার ভাতিজা গণেষ মন্ডল এই সম্পত্তির ১৪ শতাংশের ওয়ারিশ বলে দাবি করেন। এই জায়গা দখলে নেয়ার জন্য তারা আইনগত অধিকার (পাওয়ার অব এটর্নি) দেন শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জুয়েল মোল্লাকে। জুয়েল মোল্লা জমি ছেড়ে দিতে বিমলকে বেশ কয়েকবার হুমকিও দেন। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে একটা আপসরফা হয়। যাতে বলা হয়, জমি বিমলেরই থাকবে, তার নামে জমির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) হবে। বিনিময়ে যুবলীগ নেতাকে দিতে হবে ১৭ লাখ টাকা। গত রবিবার বিমলকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়ে টাকা নেয়ার কথা ছিল যুবলীগ নেতার।

‘৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত’

সূত্র জানায়, জমি নিবন্ধন করে দেয়ার বিষয়টি ছিল নিছক সাজানো নাটক। কারণ বিমল টাকা সংগ্রহ করলে আসল মিশন শুরু করা হবে বলে নীলনকশা করে দুর্বৃত্তরা। সেভাবেই ওইদিন সকালে বিমলের স্ত্রী, মেয়ে ও গাড়ি চালককে গুলি করে ছেলেকে অপহরণ করে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। পুরো দুইদিন কোন যোগাযোগ না করে মঙ্গলবার সকালে প্রথম বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা। দাবি করে ২ কোটি টাকা। দিনব্যাপী চলে দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত রফা হয় ‘৫০ লাখ টাকায়’। আর জমি নিয়ে যে ঝামেলা তা কিন্তু থেকেই গেছে। এর জন্য ঠিক করা টাকা কিন্তু বিমলকে দিতেই হবে। অপহরণকারীদের কথামতো মঙ্গলবার রাতেই ৫০ লাখ টাকা নিয়ে শিশুটির বাবা প্রথমে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাঁকে মুগলা বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইল ফোন সেটের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দু’জন সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। তখন রাত ১১টা ৪০ মিনিট। এর ২০ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটি নয়াবাজারে যেতে বলে অপহরণকারীরা। আরো ২০ মিনিট পর সেখানেই রাত ১২টা ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল পরাগ মণ্ডলকে।

পরিবারে খুশির বন্যা

এদিকে পরাগকে ফিরে পেয়ে তাদের বাড়িতে চলছে খুশির বন্যা। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া কালীবাড়ি এলাকায় পরাগদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিমল মণ্ডল বলেন, ‘যেভাবে হোক, আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ এ জন্য তিনি পুলিশ, র্যাবসহ সব প্রশাসন ও মিডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরাগের ঠাকুর মা (দাদী) সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, ‘টাকা গেছে যাক, এতে কোন দুঃখ নেই, বড় কথা হলো, নাতি ফিরে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার নাতিকে টাকার জন্য অপহরণ করেছিল। অপহরণ না করে আমাদের কাছে টাকা চাইত, আমরা লুকিয়ে দিয়ে আসতাম।’

মা-ছেলে স্কয়ার হাসপাতালে

মঙ্গলবার রাতে পরাগকে উদ্ধারের পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিত্সা চলছে। গতকাল সন্ধ্যায় পরাগের মা লিপি মণ্ডলকে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মায়ের কাছে তুলে দেয়া হয় তার আদরের নিধিকে।

পরাগের তত্ত্বাবধানকারী শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, পরাগকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়া হয়েছিল। গতকাল সে স্বাভাবিক আচারণ করতে শুরু করেছে। যদিও না খেয়ে তিন দিনে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার হার্ট ও কিডনিতে নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আশঙ্কাজনক কিছু না। শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে সে।

নাজিম, আমিরকে ধরতে অভিযান, মামুনকে থানায় সোপর্দ

অপহরণ মিশনে নেতৃত্ব দেয়া নাজিম, আমির আর নিরঞ্জন নামে তিন সন্ত্রাসীকে ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের অভিযান চলছে। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধারের জন্য র্যাবের অভিযান চলছে। অন্যদিকে পুলিশের ঢাকা বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক নূরুজ্জামান বলেন, কোন টাকা দিয়ে নয়, অভিযানেই পরাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন অপরাধীদের গ্রেফতারই তাদের আসল কাজ। তিনি বলেন, ‘মুক্তিপণ দিয়ে অপহূতকে উদ্ধার করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবসা নয়। দেশে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এত সদস্য আছে কি করতে?’

এদিকে মামুন নামে এক সন্ত্রাসীকে ডিবি পুলিশ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে। মামুন পুলিশকে জানিয়েছে, এই অপহরণের সঙ্গে ৭ জন সরাসরি সম্পৃক্ত। এদের একজন ছাত্র ও ৬ জন পেশাদার সন্ত্রাসী। এদের বাড়ি পুরনো ঢাকা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি ও ধলপুরে। সন্ত্রাসীদের তিনজনকে দেড় মাস আগে সরকার দলীয় এক নেতা চার লাখ টাকা খরচ করে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়িয়ে আনেন। এদের একজন আমির অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী।

মামুন স্বীকার করেছে, কালাচাঁন নামে ব্যক্তি বিমল মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সব তথ্য সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করেছে। ঘটনার পর থেকে কালাচাঁন ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জুয়েল মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তাদেরও খুঁজছে র্যাব ও পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে মা লিপি মণ্ডল, বোন পিনাকি মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে শুভাঢ্যা বাংলাবাজার হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগকে (৬) তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরাগের বোন পিনাকি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। গাড়িচালক নজরুল মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অপহরণ মামলায় প্রথম গ্রেফতার মামুন

পরাগ অপহরন মামলায় কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মোহাম্মদ মামুন মিয়াকে গতকাল রাতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পুর্ব পাড়ার মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া। দক্ষিন কেরানীগঞ্জের ডিউটি অফিসার এসআই আব্দুল হাকিম জানান, গতকাল বিকালে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ২০০১ সালে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। পরাগ অপহরণের ঘটনায় মামুনই প্রথম গ্রেফতারহলেন। আজ তাকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানায়, পরাগ অপহরনকারী যার নামের আধ্যক্ষর‘ এ’। ‘এ’ সুই মেশিন ব্যবসায়ি। তার ব্যবসায়ি পার্টনার মামুন। তিনি বলেন, মামুনকে ব্যবহার করেই উদ্ধার করা হয় পরাগকে।

সূত্র জানায়, ঘটনার পরের দিনই ঢাকা জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এ জন্য একটি সার্বক্ষনিক কনন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ মামুনকে আটক করে। পরে মামুনের দেওয়া তথ্য মতে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম জুয়েলকে না পেয়ে তারা স্ত্রী সন্তান ও কয়েকজন আত্মীয়কে আটক করে । এরপর মামুনের মাধ্যমে অপরহরকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুলিশ। এ অবস্থায় মধ্যে অপরনকারীরা পরাগকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় হয়। পুলিশ জানায়, মামুনের কথা মতো অপহরনকারীরা মোবাইল ফোনে বুধবার সন্ধ্যায় পরাগের বাবা বিমাণ মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পুলিশ সুপার (ঢাকা) হাবিবুর রহমান বলেন, পরাগ উদ্ধারের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Wednesday, November 14, 2012

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’

‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধা দিয়ে লাভ নেই। সরকার এ বিচারের অঙ্গিকার করে ক্ষমতায় এসেছে। বিচার হবে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেই ক্ষমতায় এসেছি। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল ও ভবন উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে দারিদ্র মুক্তির হাতিয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশী যোগ্য, কর্মঠ এবং মেধাবী। তাদের দরকার শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ। তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি কখনও উন্নত হতে পারে না। দেশের শিক্ষার হার শতভাগ করার লক্ষ্যে আমরা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ ফান্ড করেছি। দেশের স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতৃভাষা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার আন্দোলন সবই শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে এর সক্রিয় উপস্থিতি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশকে ডিজিটাল করব ঘোষণা দিয়েছিলাম। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেকাংশে সফল। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমেদ । শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। যে প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। তিনি আরও বলেন, অধিক মুনাফা লাভের লক্ষ্যে অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। আমরা আইন করে এপথ বন্ধ করেছি। নাহিদ শিক্ষানীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে আমরাই প্রথম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করছি। এর আগে অনেক শিক্ষানীতি হাতে নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি এ সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের সমতা এসেছে। শিক্ষা উপযোগী প্রতিটি শিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করেছি।

বাংলাদেশ ৩৬৩ রানে পিছিয়ে

বাংলাদেশ ৩৬৩ রানে পিছিয়ে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৪। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশ এখনও ৩৬৩ রান পিছিয়ে আছে। এর আগে সফরকারী দল ৪ উইকেটে ৫২৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের নাঈম ইসলাম ২৭ ও সাকিব আল হাসান ১৬ রানে অপরাজিত আছেন। তামিম ইকবাল ৭১ বলে ৭২ রান করে আউট হন। দু’টি ছক্কা ও ১০টি চার মারেন তিনি। অপর ওপেনার জুনাইদ সিদ্দিকী আউট হন ১৪ বলে ৭ রান করে। ওয়ান ডাউনে নামা শাহরিয়ার নাফিস ২৭ বলে ৩১ রান করেন ৭টি চারের সাহায্যে। ২৩ ওভারে ১১৯ রাান তুলে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর নাঈম ও সাকিব ধীরে খেলা শুরু করেন। পরের ১৩ ওভারে রান ওঠে ৪৫ রান। বাংলাদেশের দুটি উইকেট নেন রবি রামপল আর একটি নেন স্যামি। এর আগে গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ৩৬১ রান নিয়ে খেলতে নেমে আরও ১৪৬ রান তুললেও কোন উইকেট হারায় নি। চন্দরপল অপরাজিত থাকেন ২০৩ রানে আর দিনেশ রামদিন ১২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। চন্দরপলের ডাবল সেঞ্চুরি হওয়ার পর ইনিংস ঘোষণা করেন ড্যারেন স্যামি।

Tuesday, November 13, 2012

রাশিফল

রাশিফল

মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)

পরিশ্রম বৃদ্ধি পাবে। ক্লান্তি ও অবসাদে ভুগতে পারেন। কোনো বন্ধুর সহযোগিতা পাবেন। ভ্রমণ আনন্দদায়ক হতে পারে। নির্জনতা উপভোগ করার চেষ্টা করুন। রোমন্স ও বিনোদন শুভ।

 

হার্টের জন্য ওমেগা-৩ কার্যকর নয়

হার্টের জন্য ওমেগা-৩ কার্যকর নয় 

ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। এবার বিশেষজ্ঞগণ হার্ট সার্জারি হয়েছে এমন সব রোগীদের ওপর ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাদের এই সাপ্লিমেন্টটি সেবন করতে দেয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায় হার্টের কোন উপকারেই আসেনি এই ফ্যাটি এসিডটি। অথচ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় গত ২০১১ সালে বিশ্বে বিক্রয় হয়েছে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ওমেগা-৩ সহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট।
তবে বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন মাছের তেল কৃত্রিম ফিস অয়েল বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অপেক্ষা হিতকর। বিশেষজ্ঞগণ হার্টের সার্জারি প্রয়োজন এমন সব রোগীদের সার্জারির পূর্বে ও পরে অতি উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে দেন। কিন্তু এতে দেখা যায় সার্জারির রোগীর হিলিং-এ এই সাপ্লিমেন্টটি কোন ভূমিকা রাখেনি। আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর বিশেষজ্ঞ ড: ডারিউশ মোজাফফারিয়ান রিপোর্টে উল্লেখ করেন গবেষণার ফলাফলে ওমেগা-৩ সেবনে হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে কোন ধরনের এন্টি অ্যারিথমিক কার্যকারিতা প্রতীয়মাণ হয়নি।
তবে মাছের তেল হার্টের জন্য হিতকর এমন তথ্য দিয়েছেন অটোয়ার হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ড: এন্ড্রিয়াস ওয়েলগজ। তিনি স্ট্রোক ও হার্ট ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন মাছের তেলের খনিজ উপাদান ও অন্যান্য উপাদান হার্টের জন্য ভালো। এই খ্যাতিমান হূদরোগ বিশেষজ্ঞের মতে প্রাকৃতিক উত্স থেকে প্রাপ্ত ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্টের চেয়ে কার্যকর।
এছাড়া অতীতেও একাধিক গবেষণায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং কোন গবেষণায়ই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি।

 

কাটরিনা-আনুশকার লড়াই

কাটরিনা-আনুশকার লড়াই


আজ মুক্তি পেয়েছে সদ্য প্রয়াত স্বনামধন্য পরিচালক-প্রযোজক যশ চোপড়ার সর্বশেষ ছবি ‘জাব তাক হে জান’। দীর্ঘদিন পর যশ চোপড়া এই ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এটিই তার পরিচালিত শেষ ছবি বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ছবিতে অভিনয় করেছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান, কাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মা। তবে নতুন ও মজার খবর হচ্ছে মুক্তির অনেক আগে থেকেই বহুল আলোচিত এই ছবিটি নিয়ে কথার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে মুখোমুখি অবস্থান করছেন কাটরিনা ও আনুশকা। ছবিতে কার চরিত্রটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়েই মূলত তাদের মধ্যেকার এই লড়াই। সম্প্রতি আনুশকা তার টুইটার একাউন্টে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় তাদের মধ্যেকার এই লড়াই। আনুশকা টুইটারে লিখেন, ‘জাব তাক হে জান’ এর মাধ্যমে যশরাজ ফিল্মসের চার নম্বর ছবিতে আমি অভিনয় করছি। অল্প সময়ের মধ্যে এরকম একটি বড় ব্যানারের ছবিতে কাজ করে আমি সত্যিই অভিভূত। ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে আমার রসায়ন দর্শক খুব ভাল উপভোগ করবেন। ছবিতে কাটরিনা থেকে আমার চরিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটুও বেশি বেশি বলছি না আমি। ছবিটি দেখলেই সবাই তা বুঝবে। ব্যাস, আনুশকার এমন মন্তব্যে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন কাটরিনা। বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে কাটরিনা বলেন, আসলে ছবির মূল জুটি হলাম শাহরুখ ও আমি। এটা আপনারা ছবির প্রমো ও গান দেখে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন। তো কার চরিত্র ছবিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ছবিটি মুক্তি পেলেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে কারও কারও তর্ক করার ইচ্ছে থাকলেও আমার তা একদমই নেই। ‘জাব তাক হে জান’ ছবিটি নিয়ে আনুশকা ও কাটরিনার এমন কথার লড়াই বেশ ফলাও করে প্রচার করছে ভারতীয় মিডিয়াগুলো। ছবি মুক্তির কয়েকদিন আগে থেকে এ দুই অভিনেত্রীর এমন আচরণকে অনেকেই শিশুসুলভ আচরণ বলেই মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকেই এটাকে আনুশকা ও কাটরিনার মিলিত স্ট্যান্ডবাজি হিসেবেও দেখছেন। এখন আজ ছবিটি মুক্তির মধ্যে দিয়েই বোঝা যাবে যে কে কতটা যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন কিংবা আসলেই এগুলো স্ট্যান্ডবাজি ছিল কিনা।

ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার

ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার


বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভারতের উত্তর ২৪ পরগণার কাছে বশিরহাট স্বরূপনগর সীমান্তের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যে জানা গেছে, এর মধ্যে দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। শেষ রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপরাধীদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওই কিশোরী বশিরহাটের মাটিয়া এলাকায় তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। গত শনিবার রাতে সে তার বড় বোন ও আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে একটি গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলো। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে গাড়ি থামাতে বাধ্য হন তারা। হঠাৎ করেই চারপাশ থেকে ৫ যুবক গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর তারা টেনেহিঁচড়ে ওই কিশোরীকে গাড়ি থেকে বের করে। তার সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা চেষ্টা করেও দুর্বৃত্তদের থামাতে ব্যর্থ হয়। তারা জোর করে ওই কিশোরীকে নিজেদের গাড়িতে উঠিয়ে সেখান থেকে দ্রুত চলে যায়। তারা তাকে কাছেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর পালাক্রমে একে একে ৫ জনই তার ওপর ঘৃণ্য পাশবিক নির্যাতন চালায়। ধর্ষকরা সেখানেই মেয়েটিকে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে ও বশিরহাটের উপ-বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। স্বরূপনগর থানায় গণধর্ষণের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওদিকে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা গণতান্ত্রিক সমিতি পাশবিক এ ঘটনার প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইস্যু’র জন্য প্রস্তাবিত প্রয়োজনীয় জনবলের পেছনে এ ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজটিকে বাধা দিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক অবস্থান পত্রে তারা বলেছে, ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে অহেতুক। এছাড়া পত্রে জনবল নিয়োগে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাময়িক কাজের চাপ মোকাবিলার জন্য মিশনগুলোতে স্থায়ীভাবে ‘পাসপোর্ট ও ভিসা উইং’ খোলা হচ্ছে। এ উইংটি পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে। অবস্থান পত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব পদ সৃষ্টি করা হলে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, বৈদেশিক ভাতা, শিক্ষা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, বদলি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বাবদ নিয়মিতভাবে বছরে সরকারের ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয় হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত জনবলের কাজ শুরু করার জন্য এককালীন ও মূলধনী খরচ বাবদ অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এসব কিছু বিবেচনায় পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্যুসহ সব কনস্যুলার কাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবলের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের ব্যয়ভার বাড়তেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দূতাবাসগুলোর জন্য এদেশ থেকে পদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বদেশ ভিত্তিক জনবল পাঠানো হলে সরকারের ব্যয় অহেতুক বেড়ে যাবে। এজন্য সরকারের আর্থিক ব্যয় বাস্তব পর্যায়ে রাখতে এমআরপি ও এমআরভি কার্যক্রমের শুরু থেকে স্থানীয় ভিত্তিক কর্মচারী  নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য ৫৮টি পদের বিপরীতে স্থানীয় জনবলও তারা নিয়োগ দিয়েছে। দূতাবাসে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠানো হলে সরকারকে মাসে চার হাজার পাঁচ শ’ ডলার ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে তাকে বৈদেশিক ভাতা ৭০০ ডলার, চিকিৎসা ভাতা ৩০০ ডলার, শিক্ষা ভাতা ১৬০০ ডলার, বাসা ভাড়া ১৬০০ ডলার এবং পরিবারের সদস্যসহ ভ্রমণ ভাড়া ও ভাতা ৫০০ ডলার দিতে হবে। সব মিলিয়ে ৪৫০০ ডলার দিতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে তা ১২-১৫ গুণ বেশি। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের ভাষাজ্ঞান জানা একজন শিক্ষিত তরুণ বাংলাদেশীকে নিয়োগ করা হলে সরকারের ৭০০ ডলার ব্যয় হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ও ভিসা উইং স্থাপন এবং ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির বিষয়ে গত ৩০শে আগস্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের কার্য বিবরণী এখনও পাননি তারা। এজন্য গত ৮ই নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের পরিচালক (সংস্থাপন, নীতি ও সংগঠন)। ওই চিঠিতে ৩০শে আগস্ট আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর এমআরপি সংক্রান্ত কনস্যুলার কাজের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ওই সময় এসব পদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর বিপরীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি হিসাব দিয়ে বলেছে, বর্তমানে বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে রাষ্ট্রদূতসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা ১৬৬ এবং পুরো বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৩০। মিশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা ৩১৫ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত উইংয়ের জনবল এককভাবে সব মিশনের বর্তমান জনবলের সমান। তাই এটা নিতান্তই বাহুল্য। 

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

সাভার থেকে: হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে পিতার চল্লিশার খরচের জন্য জমানো ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দেয়। গত ৪ঠা নভেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার সলমাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী জিন্নাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাভার থানার এসআই এমদাদুল হক বাড়িতে হানা দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলে রিপন (২০)কে ঘুম থেকে উঠিয়ে ঘরে ফেনসিডিল রয়েছে বলে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাইরে রাখা ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পিতা-পুত্রকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়।
জিন্নাহ মিয়া আরও বলেন, পুলিশের মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে কিছু টাকা দিতে রাজি হলে আমাদের দুজনকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ৯ই নভেম্বর মরহুম পিতা কিতাব আলীর চল্লিশা। এলাকায় দাওয়াত দেয়াও শেষ হয়েছে। পিতার খরচের জন্য রাখা ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা এসআই এমদাদকে দিলে সে আমাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমার ছেলে রিপনকে আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে ওই ২০ হাজার টাকাও দিতে হয়েছে পুলিশকে। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় প্রকাশ পেলে তার স্বজনরা এসআই এমদাদসহ তার গাড়ি আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন তথ্যাদির কথা জানালে তিনি তা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে রিপোর্টটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এমদাদকে বলছি আপনার সঙ্গে দেখা করবে। তবে বাবার চল্লিশার টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাকেও সে কিছু টাকা দিয়েছে। তবে সে টাকা যে তার বাবার চল্লিশার জন্য রেখেছিল তা জানা ছিল না। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল

দিল্লির প্রাণভোমরা মেট্রো রেল


১৬ মিলিয়ন মানুষের শহর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি। জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মহানগরী। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরাঞ্চল এ দিল্লিতেই রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম আবাসন কলোনি দ্বারকা উপনগর। আর ব্যস্ত নয়া দিল্লির প্রাণ দ্রুতগতির মেট্রো রেল। চারদিকে ছুটছে লাখ লাখ ব্যস্ত মানুষ। অল্প সময়ে কম খরচে পৌঁছে যাচ্ছে শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। চারদিকে গতি আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পরিবেশ। এক দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষ দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করায় দিল্লি পরিণত হয় বহুজাতিক মহানগরে। সে সঙ্গে ঘটেছে দ্রুত উন্নয়ন ও নগরায়ণ। নব্বইয়ের দশকে জনসংখ্যা ও যান আধিক্যে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিল দিল্লি শহর। প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল নগরবাসীর জীবনযাত্রা। বেড়ে গিয়েছিল শব্দ ও বায়ু দূষণ। যানজটে নষ্ট হচ্ছিল মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কিন্তু মাত্র একদশকের মধ্যেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ভারত সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দিল্লি ফিরে পায় গতি। মেট্রো রেল ফিরিয়ে দিয়েছে নগরবাসীর প্রাণচাঞ্চল্য। যেটুকু পথ ট্যাক্সিতে পাড়ি দিতে খরচ পড়ে ১০০ রুপি সেটা মেট্রো নামিয়ে এনেছে ১০ রুপিতে। যেখানে দিল্লির অটো ও ট্যাক্সিওয়ালারা মিটারে যেতে অনাগ্রহী সেখানে মেট্রোই হয়ে উঠেছে নগরবাসীর প্রধান উপায়। আর পুরো নয়া দিল্লি শহরে জালের মতো ছড়িয়ে আছে এ মেট্রো লাইন। দিল্লিতে বেশিরভাগ লোকই আপনাকে স্বাগত জানাবে মেট্রো রেলে। আপনার জিজ্ঞাসার জবাবে পরামর্শও দেবে মেট্রো জার্নির। রসিকজন মাত্রই বলবেন, যে দিল্লির মেট্রোতে চড়েনি সে তো ‘জরুর পস্তায়ে’।
মেট্রো রেলের মাধ্যমে দিল্লি কেবল যানজটই দূর করেনি, উল্টো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। শহর পেরিয়ে যার দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করেছে পার্শ্ববর্তী গুরগাঁও ও নয়দা অঞ্চলকে। বর্তমানে ৬টি মেট্রো লাইন দিল্লি শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে করেছে সহজ ও সুলভ। বর্তমানে উড়াল, ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ মিলিয়ে ১৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল লাইনের ১৪২টি স্টেশনে বিস্তৃত এ নেটওয়ার্ক। দিল্লি মেট্রোতে ভ্রমণ যেমন সাশ্রয়ী তেমনি নিরাপদও। দ্রুত গতির এ পরিবহনে চলছে ৫-৭টি কোচের সমন্বয়ে ২১০টি ট্রেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনবরত ৩ থেকে ৫ মিনিটের ব্যবধানের প্রতিটি ট্রেন চলাচল করে। আপনি যে কোন মেট্রো স্টেশনে গিয়ে গন্তব্যের দূরত্ব অনুযায়ী টোকেন নিতে পারে। সেটা আর্চওয়ে গেটে স্পর্শ করলেই খুলে যাবে দুয়ার। ভ্রমণের পর কয়েনটি আর্চওয়ে বক্সের মধ্যে ফেললে ফের খুলে যাবে বেরোনোর দরজা। ফাঁকি দেয়ার সুযোগ প্রায় শূন্যের কোটায়। আবার যাত্রীদের টিকিট কাটার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। তাৎক্ষণিক যাত্রার জন্য দূরত্ব অনুযায়ী ওয়ান টাইম টোকেন। যা সর্বনিম্ন ৮ রুপি থেকে সর্বোচ্চ ৩০ রুপি। এছাড়া রয়েছে ৩ দিন থেকে এক মাসের ট্রাভেল কার্ড। যা সর্বনিম্ন ১০০ রুপি থেকে ৮০০ রুপি। প্রতিটি স্টেশন এবং কোচেই সাঁটানো রয়েছে চার্ট ও ম্যাপ। আপনি কোন স্টেশনে যেতে চাইলে কোন ট্রেনে উঠতে হবে। অনাবরত এনাউন্স হচ্ছে হিন্দি ও ইংরেজিতে। প্রতিটি স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই কোচে এনাউন্স হচ্ছে স্টেশনের নাম। প্রতিটি ট্রেনের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে আলাদা কোচ। এছাড়া দিল্লি মেট্রোর নিরাপত্তায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, প্লাটফর্মে ঢোকার মুহূর্তে আর্চওয়ে। কোন যাত্রীকে লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না প্লাটফর্মে। নেই নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠতে না পারার ঝক্কি। ভুল ট্রেনে উঠলেও পরের স্টেশনে নেমে ট্রেন পাল্টানোর সুযোগ আছে। তবে সমস্যার মধ্যে রয়েছে অফিস আওয়ারে টিকিট কাটার দীর্ঘলাইন ও কোচে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি। ২০১০ সালের এক জরিপ মতে, ১৪২ স্টেশন থেকে প্রতিদিন মেট্রোতে যাতায়াত করছে ২.০৬ মিলিয়ন যাত্রী। উদ্বোধনের প্রথম ৭ বছরে দিল্লি মেট্রোর সার্ভিস ভোগ করেছে প্রায় ১০০ কোটি যাত্রী। সার্বিকভাবে মেট্রো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত সরকার প্রমাণ করেছে একটি জনবহুল ব্যস্ত শহরকে কিভাবে যানজটমুক্ত রাখা যায়। কিভাবে সাশ্রয় করা যায় কোটি মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা যায় নগরবাসীর যাতায়াত।
জানা যায়, ১৯৮১ থেকে ৯৮ সালে শহরে জনসংখ্যা ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ে ব্যাপকহারে। বেড়ে যায় যানবাহনের ভিড়, শব্দ ও বায়ু দূষণ। নষ্ট হয় মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮৪ সালে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও আরবান আর্টস কমিশন দিল্লি শহরের জন্য একটি বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখলে দিল্লি মেট্রোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার যৌথ উদ্যোগে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) স্থাপন করে ১৯৯৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০২ সালে দিল্লি মেট্রোর প্রথম অংশ রেড লাইন চালু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ইয়েলো, ২০০৫ সালে ব্লু, ২০০৯ সালে ব্লু লাইনের নতুন শাখা, ২০১০ সালে গ্রিন লাইন চালু হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় ভাগে ২০১১ সালে এই লাইনগুলোর সম্প্রসারণ এবং দিল্লি এয়ারপোর্ট মেট্রো এক্সপ্রেস ও ভায়োলেট লাইন চালু হয়। কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকারের আধাআধি মালিকানার এ প্রকল্প লাভজনক বলে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এখন চলছে সমপ্রচারণ কাজ। নতুন এ সমপ্রসারণ কাজে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৩৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার ৩০ ভাগ করে কেন্দ্রীয় ও দিল্লি সরকার এবং বাকিটা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে জাইকা দেবে। বর্তমানে রেড লাইনে দিলশাদ গার্ডেন থেকে রিতালা পর্যন্ত ২৫.১৫ কিলোমিটারে মধ্যে ২১টি স্টেশনে ২৩টি ট্রেন, হলুদ লাইনে জাহাঙ্গির-পুরী থেকে হুদা সিটি সেন্টার পর্যন্ত ৪৪.৬৫ কিলোমিটারে ৩৪টি স্টেশনে ৪৫টি ট্রেন চলে। নীল লাইনে নয়দা সিটি সেন্টার থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ৪৯.৯৩ কিলোমিটারে ৪৪ স্টেশনে এবং যমুনা ব্যাংক থেকে বৈশালী পর্যন্ত ৮.৭৫ কিলোমিটারে ৮টি স্টেশনে ৫৯টি ট্রেন এবং সবুজ লাইনে ইন্দারলোক থেকে মুন্ডকা পর্যন্ত ১৮.৪৬ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ও কীর্তি নগর থেকে অশোকনগর পর্যন্ত ৩.৩২ কিলোমিটারে ২টি স্টেশনে ১৫টি ট্রেন চলে। বেগুনি লাইনে কেন্দ্রীয় সচিবালয় থেকে বদরপুর পর্যন্ত ২০.০৪ কিলোমিটারে ১৫টি স্টেশনে ২৯টি এবং বিমানবন্দর এক্সপ্রেস নয়া দিল্লি থেকে দ্বারকা সেকশন ২১ পর্যন্ত ২২.৭০ কিলোমিটারে ৬ স্টেশনে ৮টি ট্রেন চলাচল করে। এখন হলুদ লাইন হুদা সিটি সেন্টার ছাড়িয়ে বাদলি পর্যন্ত, বেগুনী লেন বদরপুর ছাড়িয়ে কাশ্মির গেট পর্যন্ত ও আরেকটি লাইন বল্লভপুর ফরিদাবাদ পর্যন্ত, নীল লাইন নাজাফগড় পর্যন্ত, সবুজ লাইন বাহাদুরগড় পর্যন্ত সমপ্রসারিত করার কাজ চলছে। দিল্লি মেট্রো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে রাজধানী ছাড়িয়ে পাশপাশের এলাকাগুলো পুরোপুরি মেট্রোর আওতায় নিয়ে আসা হবে। দিল্লি মেট্রো কেবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেট্রো রেল নেটওয়ার্কই নয়, নয়া দিল্লির শাস্ত্রী পার্কে অবস্থিত ডিএমআরসি ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় রেলের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। যা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মেট্রো রেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটও বটে। যেখানে মেট্রো প্রযুক্তির উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্সও চালু রয়েছে। এছাড়া ডিএমআরসি বিদেশেও কনসালটেন্সি করে সুনাম অর্জন করেছে। জাকার্তা মেট্রো রেল সিস্টেমে ‘ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং সেবা’র জন্য ২০১২ সালে পুরস্কৃত করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। এছাড়া দিল্লি মেট্রো ট্রেন ও ট্রেন যোগাযোগকে সহনীয় দূষণমাত্রার বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকা। যানজটে নাকাল নগরবাসী। ঢাকাকে যানজট মুক্ত করে মানুষের লাখ লাখ কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের প্রধান উপায় হতে পারে মেট্রো রেল চালু উদ্যোগ।