Pages

Thursday, January 10, 2013

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

প্রায় দুই দশকের আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষাধিক বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের এক মহাসমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ২০০ বিদ্যালয়ের এক লাখ ৩৮৪৫ জন বেসরকারি শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন যত্রতত্র  স্কুল গড়ে তুললে হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিভাবে হবে। কোথায় প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে তা আমরা দেখবো। যেগুলো বেসরকারি আছে সেগুলো থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২২ হাজার ৯৮১টি বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ২৪ জন শিক্ষক চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকেই সরকারের আওতায় চলে এলেন। এজন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা চেয়েছিলেন শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ। আমরা যে শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করছি তা নয়- আমরা স্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমপিও-বহির্ভূত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এনজিও বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত বিদ্যালয় এবং স্থাপিত কিন্তু চালুর অনুমতির অপেক্ষাধীন বিদ্যালয়সমূহ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী/অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও পরিচালিত ২২৫২টি বিদ্যালয়ের ৯০২৫ জন শিক্ষককে ১লা জুলাই থেকে এবং পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত এবং পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা ৯৬০টি বিদ্যালয়ের ৩৭৯৬ জন শিক্ষককে তৃতীয় ধাপে আগামী বছর ১লা জুলাই জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় ধাপের জাতীয়করণের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি ৩৭১ কোটি টাকা এবং তৃতীয় ধাপে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন এবং সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী। প্যারেড স্কোয়ারে নির্মিত বিশাল শামিয়ানা ছাড়িয়ে হাজার হাজার শিক্ষক দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য শোনেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বেশির ভাগ সদস্য এই সমাবেশে অংশ নেন বলে সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী জানান। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয়করণের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সমিতি বিলুপ্ত হলো। এই সমিতির সকল সদস্য এখন থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সদস্য। শিক্ষকদের জাতি গড়ার মূল কারিগর অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষকরাই একটি জাতিকে গড়ে তুলতে পারেন। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীসহ ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতির পিতা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আমরা কেন পারবো না? শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে শিক্ষকরা এই দাবিতে অনশন করেন। আন্দোলনে একজন শিক্ষক যখন মারা গেলেন তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী- যিনি এখনকার বিরোধীদলীয় নেতা তার সুগন্ধা কার্যালয়ে একটি উৎসব করছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়ে গেলেও পরে বিএনপি আমলে তা কমে যায়। ভর্তির পর ঝরে পড়া রোধ করতে শিশুদের উপবৃত্তি দেয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা হাত পাততে চাই না, আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়ালেই হবে না। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সমাবেশে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭২০টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শাখা খোলা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শতভাগ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে। শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চালু করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মূল বেতনের ১০০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৩৯টি নতুন রেজিস্টার্ড বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১৪০৫ জন শিক্ষক এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জাতীয়করণ রেজিস্টার্ড বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বহুদিনের দাবি। আমরা জানি, এর একটা যৌক্তিকতা রয়েছে। তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু আপনারা জানেন, এজন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সরকারি হয়ে গেছে বলে স্কুলে না গিয়ে বাসায় বসে থাকবেন- তা হবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা যে টাকা পাচ্ছেন তা জনগণের টাকা। আমি আশা করছি, আপনাদের প্রতি সরকারের এ আন্তরিকতার প্রতিদান দিতে আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের ২৭শে মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন শিগগিরই শিক্ষক মহাসমাবেশ থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হবে।
 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ


ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ১০ মাস পাকিস্তানে কারাবাস শেষে ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। লাখো বাঙালি উৎসবের আনন্দে এদিন প্রিয় নেতাকে বরণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য গভীর রাতে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ওই রাতেই তারা নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে বলা হয়। তা না হলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু বাঙালির অধিকার ছাড়া তিনি কোন কিছু মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের নির্জন-অন্ধকার কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিচার। এতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি ও প্রহসনের বিচার বন্ধ করতে প্রবল বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে স্বৈরাচার পাকিস্তানি সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার সদ্য ভূমিষ্ঠ স্বাধীন বাংলাদেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ইতিহাসের মহানায়ক লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ই জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে বিশেষ বিমানে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। এ সময় অস্থায়ী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাসহ লাখো মানুষ বিমানবন্দরে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেয় প্রিয় এই নেতাকে। বঙ্গবন্ধুও তার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে অকৃত্রিম ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু নিজেই তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, সমাবেশ, র‌্যালি ও রক্তদান।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। শত জেল-জুলুম-নির্যাতন এমনকি ফাঁসির মঞ্চকে উপেক্ষা করে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে কাঙিক্ষত অগ্রগতির পথে। কোন অপশক্তি যাতে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের এ ধারা ব্যাহত করতে না পারে, জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বেলা তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে সংগঠনের সব শাখাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Wednesday, January 9, 2013

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জাপা নেতা বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপনকে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ছেলের যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে সদস্য পদ বাতিলের রেশ কাটতে না কাটতে তার এই ঘটনা আলোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। হাজী রিপন জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক। সোমবার বিকালে শহরের পাইকপাড়া ভুঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাজী রিপনকে এক তরুণীসহ আটক করে এলাকাবাসী। পরে জনতার রোষানল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ হাজী রিপন ও লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি নামে ওই তরুণীকে ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সকালে আদালতে পাঠায়। বিকালে নারায়ণগঞ্জের চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেন শুনানি শেষে তাদের উভয়ের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এলাকাবাসীর রোষানলের শিকার বজলুর রহমান রিপন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার না করে বলেন, তিনি নির্দোষ। তার সঙ্গে আটককৃত তরুণীকে আদালতে নিজের পারিবারিক আত্মীয় পরিচয় দেন হাজী রিপন। শুনানিকালে আটককৃত তরুণী লিন্ডা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার স্বামী বিদেশে থাকে। আত্মীয়তার সুবাদে রিপন বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাড়িতে যেতো। রিপন ও লিন্ডার পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট বিদ্যুৎ কুমার সাহা।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, সোমবার বিকালে পাইকপাড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দোতলায় ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে পার্লারে ঢুকে বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। পার্লারটির মালিক লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি। মহিলাদের পার্লারে একজন পুরুষ প্রবেশ করায় বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। আধা ঘণ্টা পরেও রিপন ওই পার্লার থেকে বের না হওয়ায় স্থানীয়রা পার্লারের বাইরের দরজায় তালা বদ্ধ করে দেয়। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ওই পার্লার থেকে রিপনকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই আজিজ লস্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে রিপনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে লিন্ডাকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি পক্ষ তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু অপর পক্ষ তাকেও পুলিশের কাছে সোপর্দের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে র‌্যাবের সহায়তায় সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত পার্লার ব্যবসায়ী লিন্ডাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হাজী রিপন ও তার সহযোগীরা প্রায় সময়েই লিন্ডার পার্লারে যাতায়াত করতো। রিপনের মদদে ওই পার্লারটিতে নারী ও মাদক ব্যবসা হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর (সিটি করপোরেশনের ১৭নং) আলমগীর ইসলামেরও নেপথ্য মদদ রয়েছে বলেও তারা জানান। হাজী রিপন ও আলমগীর দুজনই ঘনিষ্ট বন্ধু। সম্প্রতি জামায়াত ও শিবিরের আটক নেতাদের থানায় তদবির করে ছাড়াতে এসে ফেঁসে গিয়েছিল আলমগীর ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ১৭টি প্রতারণা মামলা ছিল। এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, রিপনের সঙ্গে সোমবার বিকালে আটককৃত লিন্ডা আক্তার বৃষ্টিকে রিপন বেশ কিছু দিন আগে বিয়ে করেছে। এটি রিপনের দ্বিতীয় বিয়ে। লিন্ডাকে বিয়ের পর রিপন তাকে ফতুল্লার আফাজ নগরের ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ দিপুর বাড়িতে বাসা ভাড়া করে রাখে। ঘটনাটি জানতে পারলে কয়েক মাস আগে বাড়িওয়ালা দিপু তাদের নোটিশ দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এরপর রিপন লিন্ডাকে শহরের পাইকপাড়ার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাখে। ওই ফ্ল্যাটেই লিন্ডা ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে বিউটি পার্লার চালু করে। ওই পার্লারের ভেতর থেকেই সোমবার বিকালে এলাকাবাসী রিপন ও লিন্ডাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর এলিট শ্রেণীর ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের (সাবেক ইউরোপিয়ান ক্লাব) স্টাফদের বাথরুম থেকে অহনা নামে এক তরুণীসহ রিপনের ছেলে সীমান্তকে আটক করে ক্লাবের সদস্য ও স্টাফরা। এ অভিযোগে বজলুর রহমান রিপনের ক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার ১৬ দিনের মাথায় বজলুর রহমান রিপন একই অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হলেন।

আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীরআকারের গ্রহ ১৭শ কোটি

আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীরআকারের গ্রহ ১৭শ কোটি


আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীর সমান অন্তত ১৭শ' কোটি গ্রহ আছে। নাসার কেপলার টেলিস্কোপে ধরা পড়া গ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা জানান, ছায়াপথের নক্ষত্রগুলোর ১৭ শতাংশ গ্রহ বা প্রতিটি নক্ষত্রের ছয়টি গ্রহের মধ্যে একটি করে পৃথিবীর আকারের গ্রহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। খবর বিবিসি ও এএফপির।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে পৃথিবীর সমান বড় থাকার ফলে পৃথিবীর মত বৈশিষ্ট্যের গ্রহ আবিষ্কারের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, তারা নাসার মহাকাশযান ব্যবহার করে দেখতে পেয়েছেন, আমাদের সৌরমন্ডলের অন্তর্গত ১৭ শতাংশ নক্ষত্রেরই কাছাকাছি কক্ষপথে আমাদের পৃথিবীর সমান গ্রহ আছে। বিজ্ঞানীদের মতে ছায়াপথে ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। হার্ভাড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ফ্রাসোয়া ফ্রেসিন ও তার সহযোগী বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, ১৭ শতাংশ নক্ষত্রেরই পৃথিবীর দশমিক ৮ থেকে ১.২৫ গুণ আকারের একটি গ্রহ রয়েছে যার আবর্তনকাল ৮৫ দিন বা তার কম। আর চার শতাংশ নক্ষত্রের পৃথিবীর ১.২৫ গুণ থেকে দ্বিগুণ আকৃতির একটি গ্রহ আছে যার আবর্তন কাল ১৫০ দিন বা তার কম।

নাসার কেপলার মিশন পৃথকভাবে ঘোষণা করে, তারা ৪৬১টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। এদের মধ্যে ৪টি পৃথিবীর আকারের দ্বিগুণের কম এবং তারা বাসযোগ্য দূরত্বে তাদের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। যেখানে পানি থাকার এবং প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৯ সালের মে থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে গবেষকরা এ বিন্যস্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।

Tuesday, January 8, 2013

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

 

টাঙ্গাইলে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এসে মেয়েটির খোঁজ-খবর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ড. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই! তিনি বলেন, ছাত্রীটি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান বলেন, মেয়েটির মা আমাকে দুটো বাক্য বলেছেন। তা হলো- আল্লাহর ভরসায় ফেলে রাখলে বিচার হয় না। মানুষের বিচার মানুষকেই করতে হবে। এখন বিচার বিভাগকে নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ কথা মুখে নয় কার্যকর করতে হবে। এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তিনি বলেন, এখন মানুষের অস্তিত্ব নেই। মানুষ অন্যায়ের বিচার পায় না। এই মেয়েটিও বিচার পাবে না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই সময় বীথিকে এক দিন রিমান্ড নেয়ার পর আর রিমান্ড না চাওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই দেশে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষকদের কোন অভিযোগে আটক করা হলে ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার মূল বীথিকে মাত্র এক দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। বীথিকে আরও কিছু দিনের রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো।
এদিকে টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানালেন ওসিসির করডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে সে। ডা. বিলকিস আরও জানান, মেয়েটির মুখে খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাই তাকে নাক দিয়ে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এদিকে গত রোববার মেয়েটির এইচআইভি পারীক্ষা করা হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এদিকে সাভারে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী গত রোববার ওসিসি ত্যাগ করেছে বলে ডা. বিলকিস বেগম জানান। তিনি বলেন, ওই মেয়েটির মেডিসিনের প্রয়োজন হয়নি তবে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংগঠিত গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সংগঠন। গতকাল দুপুরে ব্র্যাক, সেবক, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, পেইস, সংযোগ, পল্লী সমাজ, পিডিএস, নিরাপদ সড়ক চাই ও আসকসহ বিভিন্ন সংগঠন শহরের নিরালা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে। পরে তারা মৌন মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম সরোয়ার, সমন্বয়কারী মুনির হোসেন খান, চিত্তরঞ্জন সরকারসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। একই দাবিতে নিজেরা করি, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ভূমিহীন সমিতি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নিজেরা করি’র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. শামছুল আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। স্মারকলিপি দুটি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম। এদিকে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আসামিদের গত রোববার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে যা দরকার তার সবই করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ‘খ’ অঞ্চল আমলী আদালত আসামি হারুণ অর রশিদ, নুরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনি ও শাজাহান আলীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামি ধর্ষিতার বান্ধবী বীথি আক্তারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়


আবার বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড তারকা রবীনা টেন্ডন। ‘শোভানা সেভেন নাইটস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন ঘটছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর। ছবিটির সাফল্য নিয়ে দারুণ আশাবাদী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ৩৮ বছর বয়সী রাভিনা টেন্ডনের। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, এরই মধ্যে ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছে। এখন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনী সীমাবদ্ধ থাকলেও অচিরেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘শোভানা সেভেন নাইটস’। এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
নব্বই দশক ও বর্তমান সময়ের বলিউডের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে রাভিনা বলেন, এখন বলিউডে পেশাদারিত্বের বিষয়টি অনেক বেড়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সব কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু দর্শকরা ছবি দেখার পরপরই তা ভুলে যাচ্ছেন। এদিক থেকে বিবেচনা করলে বর্তমান সময়ের চেয়ে নব্বই দশকই ভাল ছিল। তখন ভাল কোন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকরা তা অনেক দিন মনে রাখতেন। রাভিনা আরও বলেন, বর্তমানে বলিউডের ছবির কলাকুশলীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। আমরা দশটি ছবিতে কাজ করে যে আয় করতাম, এখন একটি ছবিতেই সেই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তারা।

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

বাংলাদেশে ভারতের এয়ারটেল এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, টাটা গ্রুপও জুতো ও সাইকেল তৈরির জন্য দুটি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, অরবিন্দ মিলসও কুমিল্লায় ডেনিম কারখানা তৈরির জন্য তিন বছরে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়লেও বাংলাদেশের শিল্পপতিরা ভারতে বিনিয়োগ করতে এসে সমস্যার মুখে পড়ছে। আর এ ক্ষেত্রে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে রেখেছে। এই অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহমেদ করিম। তিনি বলেছেন, ভারতের আর্থিক সংস্থার কাছে বাংলাদেশ এখনও নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশও কারখানা গড়তে চায়। তবে ব্যাংকিং লেনদেনের অসুবিধার বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার করিম বলেছেন, আমরা শুধু জামদানি আর ইলিশ রপ্তানি করতে চাই না। বাংলাদেশের আরও অনেক কিছু রপ্তানি করার রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা তুলে দিলেও সেগুলি নিচু স্থরে এখনও বাধা হয়েই রয়েছে। এক বাংলাদেশী কূটনীতিকের মতে, রাজনৈতিক স্তরে দুই দেশ সব সমস্যার সমাধান করে ফেললেও সীমান্তের শুল্ক অফিসাররা লিখিত নির্দেশ না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। আর এক্ষেত্রে ভারতীয কাস্টমস কর্তাদের পুরানো মনোভাবই সমস্যা বড় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেয়া এবং দ্রুত টেস্টিং করার ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে দুই দেশের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য হয়। এই অত্যাধিক চাপ একটি চেকপোস্টে থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের এক সেমিনারে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেছেন, দুটি সুসংহত চেকপোস্ট ছাড়া আরও এক ডজন চেক পোস্ট রয়েছে। পণ্য চলাচলের জন্য সেগুলি খুলে দেয়া জরুরি। আর তাহলেই কানিকটিভিটি কথাটি প্রকৃত অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এখনও যদি কানেকটিভিটি খুলে না দেয়া হয় তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত রুদ্ধ হয়েই থাকবে এবং এর ফলে ব্যবসা মার খাবে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ তাদের তৈরি সামগ্রী, রেফ্রিজারেটর থেকে টিভি সবই রপ্তানি করতে আগ্রহী। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই উপকৃত হবে। অথচ এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকেও মুখ্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাথুরিয়া জানিয়েছেন, কানেকটিভিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু করলে দুই দেশ উইন-উইন অবস্থায় পৌঁছাবে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার মানুষের দারিদ্র্যও দূর করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্তবাণিজ্য নীতি প্রযুক্ত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও পরিমাণ একশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

বিনিয়োগে সোনা এক নম্বরে

বিনিয়োগে সোনা এক নম্বরে


২০১৩ সালে কোন পণ্যটি বিনিয়োগের জন্য ভালো হবে? বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা অবস্থা বিরাজ করায় এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাথাব্যথা ক্রমশ: বাড়ছে। তবে তাদের জন্য একমাত্র সমাধান সোনা নামক ধাতুটি। শুধু বিনিয়োগকারীরাই নয়, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঝুঁকছে সোনা কেনার দিকে। উন্নত দেশগুলো মন্দার রেশ কাটাতে প্রচুর পরিমাণ কাগুজে মুদ্রা ছাপিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সোনাকেই শক্তিশালী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনার মজুদ কিছুটা বাড়াচ্ছে। এছাড়া ২০১৩ সালে পণ্যখাতে বিনিয়োগে দ্বিতীয় নামটি হচ্ছে গম। তৃতীয় হচ্ছে তামা। চতুর্থ স্থানে আছে পরিশোধিত তেল এবং তুলা। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ করে ভারতীয় প্রভাবশালী ইকোনমিক টাইমস্ এ খবর দিয়েছে।

গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে কাগুজে মুদ্রার দাম ক্রমাগত পড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের শংকা বিরাজ করে আসছে। অনেক বিনিয়োগকারী মুদ্রা কেনাবেচার চাইতে পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বেশি। যদিও ২০১২ সালে চীনা মুদ্রা ইউয়ান ছিলো বিনিয়োগের বড় খাত। কিন্তু এবার সে ইউয়ানও পেছনে পড়ে গেছে।

সোনা: বিনিয়োগে একনম্বর

বিনিয়োগকারীদের ধারণা ছিলো গতবছর সোনা হবে বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় পণ্য। বলা হয়েছিলো প্রতি আউন্স সোনার দাম এ সময়ে দুই হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। কিন্তু তা হয়নি। সোনার দাম আগের বছরের চাইতে মাত্র ৭ শতাংশ বেড়ে সেপ্টেম্বর মাসে ১৯'শ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেকে সোনা বিক্রি না করে ধরে রেখেছিলেন। বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা মজুদ করা সোনা বিক্রি করেননি তারা এবছর লাভবানই হবেন। কারণ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অর্থনৈতিক দুরাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে কাগুজে মুদ্রা ছাপিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবছর ৪৫০ টন সোনা কিনবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সারাবিশ্বে সোনার যে মজুদ আছে তার বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। এ মজুদের পরিমাণ সাড়ে ১০ হাজার টনেরও বেশি। আট হাজার টনের বেশি সোনার মজুদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আছে দ্বিতীয় স্থানে-যা তাদের মোট বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ৭৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানগুলো হচ্ছে- জার্মানি-৩ হাজার ৩৯৬ টন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- ২ হাজার ৮১৪ টন, ইটালি- ২ হাজার ৪৫১ টন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সাড়ে ১৩ টন সোনা মজুদ করে রেখেছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে- সারাবিশ্বে যে পরিমাণ সোনা রয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে জুয়েলারিতে যার পরিমাণ ৫২ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ যার পরিমাণ ১৮ শতাংশ। ব্যক্তিগত বিনিয়োগের আওতায় আছে ১৬ শতাংশ, আর বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে ১২ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বা অন্যান্য মুদ্র্রার চাইতে বেশি পরিমাণে কিনতে পারে কিনা?—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব টিম আছে। তারা পর্যালোচনা করে দেখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রা কেনা লাভবান হবে নাকি সোনায় লাভবান হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট অতীতে রিজার্ভ হিসেবে সোনা কিনে লাভবান হয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

গম: দ্বিতীয় পছন্দ

২০১৩ সালে গমে বিনিয়োগ দ্বিতীয় পছন্দে থাকবে। এক বছরে এ পণ্যটির দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যটির সরবরাহ কম হলেও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। তিনটি শীর্ষ গম আমদানিকারক দেশ হচ্ছে-মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান। গম উত্পাদনকারী দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে বৃষ্টির কারণে এবার ফলন কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার আশপাশের দেশগুলোতে খরা আর যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনায় অকালবৃষ্টি এ পণ্যটির ফলন কমিয়ে দেবে। তবে এক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হবেন। কারণ এবার ভারতে ফলন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিনয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগে এটি দ্বিতীয় নম্বরে রাখতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম উত্পাদন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যার পরিমাণ ১৩ কোটি ১৮ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীন। দেশটি মোট ১১ লাখ ৮০ হাজার টন গম উত্পাদন করে। ভারত উত্পাদন করে ৯ কোটি ৩৯ লাখ, আর যুক্তরাষ্ট্র উত্পাদন করে ৬ কোটি ১৭ লাখ। বিশ্বের গম উত্পাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪ নম্বরে। বাংলাদেশের মোট গম উত্পাদন ১০ লাখ টনের কাছাকাছি।

তামা: আস্থায় তৃতীয়

২০১৩ সালে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় তৃতীয় নম্বরে আছে তামা। বিশেষ করে হাউজিং এবং বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্রমাগতভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ধাতুটির চাহিদা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সারাবিশ্ব যে তামা ব্যবহার হয় তার ৪০ শতাংশই ব্যবহার করে চীন। বিশ্বে এমনিতেই পরিশোধিত তামার ঘাটতি আছে। বিশ্ব কপার স্টাডি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী- ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারবিশ্বে মোট এক কোটি ৪০ লাখ টন পরিশোধিত তামা উত্পাদন করা হয়েছে। আর এ সময়ে মোট তামা ব্যবহার করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টন। চাহিদা এবং উত্পাদনে ঘাটতি থাকায় ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা তামা মজুদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি টন তামা ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে এশিয়াতে ৪৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ শতাংশ, ইউরোপে ১৯ শতাংশ, আফ্রিকায় ৫ শতাংশ তামা ব্যবহার হয়ে থাকে।

পরিশোধিত জ্বালানির অবস্থান চতুর্থ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের উত্পাদন কমে গেছে। আবার চীনসহ বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশের উত্পাদন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়ছে। বিশ্বে গত একবছরে গাড়ী বিক্রির হার ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে এবছর জ্বালানি তেল রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চতুর্থ নম্বরে। সাধারণত: তিনটি কারণে জ্বালানি তেলকে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ তিনটি কারণ হচ্ছে-তেলের উত্পাদন কমে যাওয়া, অন্যতম উত্পাদনকারী দেশ ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ এবং উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে রাখা। তেল উত্পাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ওপেকভূক্ত দেশের মজুদের পরিমাণ ১২'শ বিলিয়ন ব্যারেল। আর ওপেকের বাইরের দেশগুলোর মজুদ ২৮২ বিলিয়ন ব্যারেল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১১ মার্কিন ডলারের ওপরে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে এবছর জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিনিয়োগ সংশ্লিষ্টরা।

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি


সংসদে উত্থাপিত হরতাল বিরোধী বেসরকারি সদস্য বিল ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি। গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২’ আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বৈঠকে কমিটির সদস্য আ স ম ফিরোজ ও জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক চুন্নু।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১০ সালের ২২শে জুলাই ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু। এ বিলে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে জনগণের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে সে দলের প্রধানসহ সর্বোচ্চ কমিটির বিরুদ্ধে মামলার বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন সংগঠনের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় এ আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী সর্বোচ্চ কমিটির প্রত্যেক সদস্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং কৃত অপরাধের জন্য তারা আলাদাভাবে দণ্ডিত হবেন। বিলে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘জনস্বার্থ সংরক্ষণ আদালত’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ওই আদালত নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারবে। আর এ সংক্রান্ত অপরাধ অ-জামিনযোগ্য বলে বিবেচিত হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, বিলটি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তবে এটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং কর্মসূচি জনস্বার্থমুখী করার লক্ষ্যে ওই বিলটি আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ চূড়ান্ত করতে এটর্নি জেনারেল, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট আইনজীবীদের মত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গত ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এ বিলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছরেও এ নিয়ে কোন আইন হয়নি। এ কারণে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে একদিকে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের যোগ্যতা, সততা, নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই এ বিলটি আনা হয়েছে।
বৈঠকে রাশেদ খান মেনন উত্থাপিত ‘খনিজ সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আর মো. ইসরাফিল আলম উত্থাপিত ‘বিদেশী নিবন্ধন বিল-২০১২’ পাস না করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Monday, January 7, 2013

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট


ভারতের পন্ডিচেরি সরকার এবার মেয়েদের যৌন শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্দা প্রথার দিকে ঝুকে পড়ছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন শনিবার মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসের ডিজাইন নতুন করে করার প্রস্তাব করেছে। এ ডিজাইনের আওতায় ওভারকোর্ট ব্যবহার করা প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমস্ত্রীর সভাপতিত্বে শনিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে এক বাস কণ্ট্রাক্টরের হাতে দ্বাদশ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হবার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা টাইমস অব ইনডিয়াকে বলেছেন বৈঠকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওভারকোটের ব্যবহার, তাদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের সরকার নারী বিশেষ করে স্কুলের নারী শিক্ষার্তীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। সরকারের এ ধরণের সিদ্ধান্ত নারী এবং মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে তীব্র আপিত্তি জানানো হয়েছে। অল ইনডিয়া ডেমক্রেটিক উইমেন’স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুধা সুন্দররমন বলেছেন আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পোশাকের সঙ্গে যে ধর্ষণের কোন সম্পর্ক নেই সেটা সম্পর্কে সরকার ওয়াকেবহাল নয়। আসল সমস্যাকে চিহ্নিত না করে এর মাধ্যমে বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হচ্ছে। নারী এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে ওভারকোট ব্যবহারের পরামর্শ কোন সঠিক জবাব নয়। এ ধরণের ওভারকোট ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার এ অপরাধের জন্য নারীদেরকেই দায়ী এবং জবাবদিহি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তামিমের ফিফটিতে জিতল ওয়েলিংটন

তামিমের ফিফটিতে জিতল ওয়েলিংটন দলের হারে এইচআরভি কাপে তাঁর প্রথম ফিফটিটা বিফলেই গিয়েছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করা তামিম ইকবাল এবার শেষ হাসি হাসতে পারলেন। নিজের পঞ্চম ম্যাচে খেললেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। তাঁর ৪৭ বলে ৭৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসও এক ম্যাচ পর আবার জয়ের মুখ দেখেছে। তারা ৫৭ রানে হারিয়েছে ক্যান্টারবারিকে।
আট ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ২০ পয়েন্ট পাওয়া ওয়েলিংটন এখন আছে দুই নম্বরে। সমানসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে নর্দান ডিস্ট্রিক্টের তৃতীয় স্থানে থাকার কারণ তারা রান গড়ে ওয়েলিংটনের চেয়ে পিছিয়ে। তবে এ দুটো দলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ছয় জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ওটাগো। যাদের সঙ্গে ওয়েলিংটনের দেখা হচ্ছে ১১ জানুয়ারি। কালকের ম্যাচে জেসি রাইডারকে (২৪ বলে ৩৭) নিয়ে ৭১ রানের সূচনা এনে দেওয়ার পর তামিম আট বাউন্ডারি আর তিন ছক্কায় সাজিয়েছেন তাঁর ইনিংসটি। এ ছাড়া বেন অরটন (৩২ বলে ৩৭*) ও মাইকেল পাপসদের (১৭ বলে ৩২*) অবদানে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েলিংটন। এরপর পেসার ইলি টুগাগা (৪/১৮) ও বাঁহাতি স্পিনার লুক উডককের (৩/৩৬) বোলিংয়ে ক্যান্টারবারি শেষ হয়ে যায় ১৩৩ রানেই।

Sunday, January 6, 2013

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু


দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের সময় ধর্ষিতার সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুটি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার ও তার বান্ধবীর সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন চালানোর সময় তাদের কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ ও অন্য কেউ তাদের সে ডাকে সাড়া দেয়নি। এর ফলে ওই নরপশুদের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তার বান্ধবী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভারতে তোলপাড় চলছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্যাতনে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতে ধর্ষণ রোধে সরকার আইনে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে। দিল্লিতে নির্যাতিত তরুণীর ২৮ বছর বয়সী বন্ধুটি প্রথম নির্যাতনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাদের আক্রমণে তার পা ভেঙে যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এখনও তার সেই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটেনি। সেই তরুণ মুখ খুলেছেন দিল্লিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। তাতেই এমন সব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে কৌশলে সেই বাস থেকে তিনি কোনভাবে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে স্বীকার করেছেন, নারীদের ওপর অপরাধ রুখতে দেশটিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপর যেকোন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। দিল্লিতে সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, তখন কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্ত বয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু সে-ই দু’বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তরুণীর ওপরে সব চেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

 তুরস্কের সেনাবাহিনীকে পার্শ্ববর্তী সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাটো সেখানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে শুরু করেছে। বিবিসি এক রিপোর্ট জানিয়েছে মার্কিন ইউরোপিয়ান কমান্ড বলেছে এর সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম দক্ষিণ তুরস্কে ইতিমধ্যেই পৌঁছাতে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও এ ধরনের সেনা এবং সরঞ্জাম আসবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস তাদের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি তুরস্কে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। ছয় ব্যাটারির এ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট জানুয়ারি মাসের শেষের দিকেই কাজ করতে শুরু করবে বলে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তুরস্কের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ন্যাটো গত মাসে তুরস্কে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। সিরিয়া থেকে কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি ন্যাটো মধ্য ডিসেম্বরে নিশ্চিত করেছিল। এদিকে শুক্রবার ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাফতানাজ বিমান ঘাঁটি দখল নেয়ার জন্য তৃতীয় দিনের মতো চেষ্টা চালিয়েছে। সরকার ও বিরোধী সূত্র জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটি দখল নেয়ার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্ট অংশ নিয়েছে। শুক্রবার সিরিয়াজুড়ে কমপক্ষে ১২৯ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে লোকাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি। তবে তাদের এ দাবির সত্যতা বা  নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত, কাল সভা

১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত, কাল সভা

ঢাকাসহ দেশব্যাপী মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৪ দলের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।
এদিকে আগামী কাল বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা হবে। এ সভায় সংশিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অনুরোধ জানিয়েছেন।

কোন্দল থাকলেই পরাজয়

কোন্দল থাকলেই পরাজয়


ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। এ আসনে ধোবাউড়ার ৭টি ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯০-এর পর শুধু ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বাকি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন নির্বাচিত হন। গতবার নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এলাকায় তিনি একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও গত ৪ বছরে এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি। তার ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের লোকজন চরম ক্ষুব্ধ তার প্রতি। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানান। এ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেই কোন্দলের কারণে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। যারা দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন সেই দলের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে উভয় দলের নেতকর্মীদের অভিমত।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়ার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সি এন সরকার চন্দন, ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির নেতা আলী আজগর ও ধোবাউড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
আওয়ামী লীগ: এখানে তিন ভাগে বিভক্ত পড়েছে। প্রমোদ মানকিন গ্রুপ, ফারুক আহমেদ খান গ্রুপ ও তৃতীয় গ্রুপটি দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রমোদ মানকিন দলের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে বিগত নির্বাচনের আগে হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রমোদ মানকিনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ফারুক খান। প্রমোদ মানকিনকে মনোনয়ন দিলে চরম বিরোধিতা করে ফারুক খানের সমর্থকরা। পরে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ফারুক খান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিরোধিতা করেন প্রমোদ মানকিন গ্রুপ। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফারুক খান পরাজিত হন। বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হালুয়াঘাট আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৭ বছর ধরে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুলসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তারা বলেন, বর্তমান এমপি প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন এবং এলাকার উন্নয়ন করেননি। ফলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।
বিএনপি: হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র হালুয়াঘাট থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান। আরেক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা (উত্তর) বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর। তৃতীয় পক্ষ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক হিসেবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রিন্স দু’টি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর থেকে গ্রুপের সৃষ্টি হয়। হালুয়াঘাটের ব্যক্তি হিসেবে আলী আজগরের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৪ বছরে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট এলাকার কোন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, হালুয়াঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক প্রশস্ত করে সমপ্রসারণ কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সন্ত্রাস, খুন, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, চুরি, ছিনতাই টেন্ডারবাজি বেড়েছে। এলাকায় গেলে উন্নয়ন কারও চোখে পড়বে না। বিএনপির আমলে শুরু হওয়া কাজগুলো শেষ হয়েছে। নতুন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিন এলাকার উন্নয়ন করতে না পারলেও তিনি হালুয়াঘাটের নিজ গ্রামের বাড়িটিকে সুরম্য অট্টালিকায় উন্নীত করেছেন।

Saturday, January 5, 2013

নীরব প্রতিবাদ

নীরব প্রতিবাদ


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একজন নারী একটি কাগজে 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই, শেম শেম' লিখে দাঁড়িয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরের দিন শুক্রবারও তিনি একই জায়গায় দাঁড়ান আর একটি কাগজে 'স্টপ রেপ' লিখে। তবে সেদিন তার সঙ্গে দাঁড়ান বিভিন্ন পেশার আরও দশজন মানুষ। টাঙ্গাইলের ধর্ষণের ঘটনা আমাদের আলোড়িত করেছে। আমরা সবাই এদের মতো করে সমাজ থেকে ধর্ষণ দূর করতে চাই।

প্রতিদিনের মতোই জজ কোর্টে নিজের রুমের পত্রিকা পড়তে শুরু করেন অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার শিল্পী। একটি হেড লাইনে তার চোখ আটকে যায় 'নীরব সুধিসমাজ নিশ্চুপ নারীবাদ'। প্রতিবেদনটি পড়ে শাহনাজ শিহরিত হন। পাশেই টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন অন্যরা। যতই সময় গড়াচ্ছিল ততই নিজে কিছু করার তাগিদ বোধ করছিলেন তিনি। কাজ গুছিয়ে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে শাহনাজ একটি কাগজে লিখেন 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই। শেম শেম' তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আশপাশ ঘিরে উত্সুক জনতার সঙ্গে যুক্ত হন অনেকেই এই নীরব প্রতিবাদে।

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

মনিরামপুরে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই শরিফুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে শিবিরকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে। মনিরামপুর থানার ওসি আলী আযম জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাংড়া মোড় পেট্রল পাম্পের কাছে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি নসিমনযোগে এসে মিছিল করার জন্য জড়ো হয়। এ সময় তারা যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শিবিরকর্মীরা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইসমাইল ও ফারুক হোসেন নামে দুই জামায়াতকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত এএসআই শরিফুল বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

‘জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়বে’

‘জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়বে’


সরকারের হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে প্রায় সব ক্ষেত্রে। এ মূল্যবৃদ্ধি দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়। যানবাহনের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বোরো মওসুমে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদেরা। তাদের প্রশ্ন, তেলের দাম বাড়ানোর ফলে যে অর্থের সাশ্রয় হবে, সেটা কোন খাতে ব্যয় হবে? এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার ১৮ দলীয় জোট সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। তবে সরকার ও বিরোধী দলীয় জোটের এ সিদ্ধান্তকে ভালভাবে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে চাল, ভোজ্য তেল, কাঁচা-তরকারিসহ যাবতীয় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। দূরপাল্লার পরিবহন ছাড়াও অভ্যন্তরীণ রুটে এবং রপ্তানি পরিবহনের জন্যও বাড়তি টাকা গুণতে হবে সবাইকে।
যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মানবজমিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, সরকারের বর্তমান রাজস্ব-পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দাম বাড়ানোর দরকার ছিল না। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম বোরো চাষের জন্য সরকার ডিজেলের দাম না বাড়িয়ে কৃষককে রক্ষা করবে। কিন্তু সেটা আর হলো না। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, তেলের দাম বাড়ানোর ফলে যে অর্থের সাশ্রয় হবে, সেটা কোন খাতে ব্যয় হবে। এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকলে জনগণের জন্য মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া সহজ হতে পারে বলে তিনি জানান।
অর্থনীতিবিদ ও তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাস-বন্দর ও খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে চাল, ডাল, তেল, তরিতরকারি এবং পরিবহন ভাড়া বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার কারণেই তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। যেখানে সরকার কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। যার জন্য সরকার তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এতে সরকারের কিছু লোক লাভবান হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পেতেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে, তাদেরই মাথায় আবার বাড়ি দিচ্ছে সরকার। আর এতে করে দুর্যোগটা পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপরই। বিশেষ করে যারা সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার করছে তারাও ভাড়া বাড়িয়ে দেবে এ অজুহাতে। পূর্বের মতো সরকার এই খাতে সৃষ্ট অস্থিরতাকেও সামাল দিতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এই সরকারের আমলে এ নিয়ে ৫ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো। এর মধ্যে প্রতি লিটার অকটেন ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৯ টাকা। পেট্রলের দর বেড়েছে লিটারপ্রতি ৫ টাকা। এখন প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে হবে ৯৬ টাকায়। আর ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৭ টাকা করে বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা। ফার্নেস তেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে এ দুটিতে সরকারের কোন ভর্তুকি লাগে না। অকটেন ও পেট্রলেও ভর্তুকি লাগে না। এর পরও এই দুটির দাম বাড়ানো হলো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ১০০ কোটি ডলারের বর্ধিত ঋণসুবিধার আওতায় (ইএসএফ) বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার চলতি জানুয়ারি মাসেই পাওয়ার কথা। এই অর্থ পেতেই বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম।

ট্রেনটি এখন কোথায়?

ট্রেনটি এখন কোথায়?

যুতসই জবাবই পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন- আমরা বদলালে পৃথিবীও বদলাবে। তাই চলুন আমাদের প্রত্যেকে প্রথম পদক্ষেপটা করি। আসছে বছরের নতুন সূচনা করি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই বদলানোর ডাক শুনেই তাকে পাল্টা বার্তা ফিরিয়ে দিয়েছেন ফেসবুক জনতা। তারা রাজ্যের কর্ণধারকেই আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেকে প্রথমে বদলে দেখানোর জন্যে। পশ্চিমবঙ্গের চিত্র যখন এই তখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও দিনবদলের প্রশ্ন আজ জ্বলন্ত। চার বছর আগে এ দিনবদলের আওয়াজ তুলেই ক্ষমতার মসনদে আবির্ভূত হয় আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। জনঅভ্যুত্থানসহ নানা বিশেষণে মহিমান্বিত করা হয়েছে সে জয়কে। কিন্তু দিন কি বদলিয়েছে? নাকি খেলোয়াড়ই শুধু পরিবর্তন হয়েছে? এটা স্পষ্ট তেমন কিছুই বদলায়নি। পুরনো খেলাই চলছে নতুন করে। ওয়ান-ইলেভেনের শিক্ষা কথাটি আদর্শ লিপির পাঠ্য না হয়েও ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। সে শিক্ষা যে কেউ নেয়নি চলতি ঘটনাপ্রবাহ তার সাক্ষী। জরুরি জমানার সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের একটি উক্তি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল সবখানে। তিনি বলেছিলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সে ট্রেনটি এখন কোথায়? রাজনীতি নিয়ে কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। এটা ঠিক রাজপথে আগের সহিংসতার পরিমাণ অনেক কমেছে। তবে অশ্লীলতা বেড়েছে বহুমাত্রায়। রাজনীতিবিদরা একজন আরেক জনকে কালনাগিনী বলতেও পিছু হটছেন না। তবুও কিছু করার নেই। এদের নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। ভবিষ্যতের পথে। মহাজোট জমানায় সবচেয়ে বড় অপরারেশন হয়েছে শেরে বাংলানগরের অপারেশন থিয়েটারে। সংবিধান কাটাছেঁড়া বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানে যেভাবে কাটাছেঁড়া হয়েছে তা অভিনব। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেটে ফেলা হয়েছে। দোহাই দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের। অথচ সেই রায়েই বলা হয়েছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন। যেখানে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে হালাল করা হয়েছে। যদিও নিশ্চিতভাবেই বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দিয়ে গেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কোন পথে হয় সেটাই হবে এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা তার এজেন্ডা পূরণের পথে বহু দূর এগিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে নিজের কান্না থামাতে পারেননি তিনি। খালেদা জিয়ার দুই ছেলে কার্যত নির্বাসনেই আছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর এরই মধ্যে সাজা হয়েছে ঢাকার আদালতে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে এক ডজন মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সচল আছে একাধিক মামলা। শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। সারা দুনিয়ার মানুষ তার ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা করলেও নিজ ভূমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। যার উদাহরণ দিয়ে আলোচিত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারের এক অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। নাম পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় তিন বিছর আগে। জামায়াত এবং বিএনপি’র এক ডজন নেতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তবে মাস খানেক আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ আলাপ ফাঁস হয়ে যায়। এর সূত্র ধরে পদত্যাগ করতে হয় তাকে। বৃটেনের বিখ্যাত পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালও এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দি ইকোনমিস্টের কাভারে মুদ্রিত হয়েছে, ইনজাস্টিস ইন বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বাইরে এগিয়ে চলছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছে। মহাজোট জমানায় শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। আত্মহত্যাও করেছেন তাদের কেউ কেউ। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট কার্যকর হয়নি আজও। ছাত্রলীগ চার বছর ধরেই ছিল বেপরোয়া। গত বছরের শেষ মাসে চাপাতি হাতে বিশ্বজিৎ দাস নামের এক নিরীহ পথচারীর ওপর যে নির্মমতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনটি তা হতবাক করেছে প্রত্যেক মানুষকে। ২৮শে অক্টোবর থেকে যে, বাংলাদেশ বেশি দূর এগোয়নি এ যেন তারই প্রমাণ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে আবুল কাণ্ডে। শুরুতে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা না পেলেও পরে বিশ্বব্যাংকের চাপে পড়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। যদিও সে মামলায় পবিত্র সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়নি। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সরকারের অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকার কথা শোনা গেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দেয়া, লোডশেডিং কমানোর ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে সরকার।
বিএনপি’র মতো দুর্বল বিরোধী দল পাওয়াকে শেখ হাসিনার সৌভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। গত চার বছরে বিএনপি চেষ্টা করছে সে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্য বিএনপি সফলই হয়েছে। চীন ও ভারত সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছেন বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা সফল হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বিএনপি তেমন বড় কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর আজ পর্যন্ত একজন মহাসচিবও নিয়োগ দিতে পারেনি দলটি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে থাকলেও এ নিয়ে তেমন রা নেই বিএনপিতে। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে বার বার খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দিলেও এ আন্দোলনের সামর্থ্য বিএনপি’র আছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ আবারও এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াবের কথা বলেছেন বার বার। তবে টাঙ্গাইল ও রংপুরের নির্বাচন তার সে স্বপ্ন ধূসর করে দিয়েছে অনেকটাই। জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দলটির শীর্ষ সব নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে জামায়াত-শিবির কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলার সমালোচনা করছেন অনেকেই। লক্ষ্যহীন আন্দোলন করছে দলটি এমনই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। একটি কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যতদিন যাবে রাজনীতি ততই কঠিন হবে। মানুষ বিক্ষুব্ধ। নেতাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ সব সময় না-ও থাকতে পারে। তবে রাজনীতি জনতার হাতে থাকবে না অন্য কারও হাতে সময়ই সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে রাজনীতিবিদরা সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে সবার জন্য। একটি ধর্ষণের ঘটনায় পুরো ভারতবাসীর একতাবদ্ধ প্রতিবাদ কিছুটা লজ্জাতেই ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না কোথাও। পুরো বাংলাদেশ যেন নীরব। চার বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এক রাতে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ মিলেনি আজও। এমন আরও অনেকেই শিকার হয়েছেন গুমের। রাজনীতির বাইরে ক্রিকেটে গত চার বছরে মাঝে-মধ্যে কিছু সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশী তরুণীর হিমালয় চূড়ায় ওঠার ঘটনাও ঘটেছে।
শেষ কথা: রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ। কোথাও কোন সুখবর নেই। দিন বদলের বদলে গাঢ় অন্ধকারের দিকেই যাত্রা করছে বাংলাদেশ। তবে এতকিছুর মধ্যেও আশার কথা রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি অটোরিকশার পেছনে প্রায়ই চোখে পড়ে, ‘তোমরা যদি মুমিন হও, তোমরা হতাশ হয়ো না।’

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!


মহাজোট সরকারের ৪ বছরের বড় কূটনৈতিক সাফল্য মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ মামলায় আদালতের রায়ে নিষ্পত্তির বিষয়টি। একান্তভাবেই এ বিজয়কে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ মনে করছে সরকার। পেশাদার কূটনীতিকরাও এই বিজয়ে উল্লসিত। তবে দিন শেষে তাদের হতাশার বড় অংশ জুড়ে আছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় ‘আকাশের কাছাকাছি’ পৌঁছে দেয়ার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল তা বহু আগেই থেমে গেছে। তিস্তা চুক্তি ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশন না হওয়াই হতাশার মূল কারণ। কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মহাজোট সরকারের ‘সমুদ্র সাফল্য’ তিস্তায় ম্লান হয়ে গেছে। তবে এখনই ঢাকা আশা ছাড়ছে না। ভারতের সরকারেও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। পোড় খাওয়া রাজনীতিক সলমন খুরশিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার নবউদ্যোগে ঢাকা-দিল্লি বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা আশা করছে আগামী মাসে তিস্তা ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশনের নতুন কোন বার্তা নিয়ে সফরে আসবেন তিনি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে শেখ হাসিনা সরকার শুরু থেকেই ছিল তৎপর। বড় ‘ঝুঁকি’ নিয়ে বিদ্রোহী নেতা রাজখোয়াকে দেশটির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করেছেন দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বছরে। তৃতীয় বছরে ফিরতি সফরে ঢাকা এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তবে সেখানেই সব থেমে গেছে। বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি হয়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাগড়া দেয়ার অজুহাতে। মনমোহন সিংয়ের হাইপ্রোফাইল সফরে ঢাকা ক’টি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রত্যাশার তুলনায় তেমন কিছুই পায়নি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি, হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হবে। মনমোহন সিং সহ ভারতের সরকার ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু চার বছরে তাতো বন্ধ হয়নি বরং নতুন বছর শুরুই হলো বিএসএফ’র গুলি দিয়ে। ১লা জানুয়ারি দু’জন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আরও ২ জনের প্রাণ কেড়েছে বিএসএফ’র বুলেট। বাংলাদেশে ঢুকে আরও তিন কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর সদস্যরা। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানতে পারেনি ঢাকার পররাষ্ট্র দপ্তর। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ এখনও নিরসন হয়নি। এর মধ্যে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও ২টি নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের খবর উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ঢাকা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে, যৌথ সমীক্ষায় দাবি করেছে। বাংলাদেশের কারাগারে দীর্ঘ দিন ধরে আটক রয়েছেন বিদ্রোহী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া। তাকে ফেরত চায় দিল্লি। শীর্ষ বিদ্রোহী রাজখোয়াকে পাওয়ার পর থেকেই অনুপ চেটিয়ার অপেক্ষায় ভারত। বাংলাদেশ বন্দিবিনিময়ে প্রস্তুত। তবে বিষয়টি আটকে আছে আইনি প্রক্রিয়ায়। চলতি মাসে এ নিয়ে বাংলাদেশ আরেক ধাপ অগ্রসর হবে বলে আভাস মিলেছে। ভারতের নয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিটি সই করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিল্লির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই সুবাদে দেয়া-নেয়ার বিষয়টি অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় এ আমলে বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক মনে করেছিলেন কূটনীতিকরা। তাই হয়েছে, তবে একতরফা অবশ্য বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরে দু’দেশের জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি আলো দেখছেন তারা। এর পেছনে অকাট্ট যুক্তিও রয়েছে অনেকের। তাদের মতে, বিরোধী নেতাকে যেভাবে ভারতের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা সম্ভাষন জানিয়েছেন তা রীতিমতো নজিরবিহীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আর বনমন্ত্রী হাসান মাহমুদ সফরটি নিয়ে প্রতিযোগিতা করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রতিযোগিতায় খোদ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রভাবশালী আমলা, পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা নাখোশ হয়েছেন। এটাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবেই দেখছেন তারা। গত ৪ঠা জানুয়ারি সরকারের চার বছরের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণে বসেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জড়ো হয়েছিলেন ঢাকাস্থ মহাপরিচালক ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা। বৈঠক সূত্র মতে, সেখানে মোটা দাগে তিনটি কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত বিশ্বশান্তির মডেল সংস্থাটির রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্তি তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের তৎপরতায় অটিজমের বিষয়টি জাতিসংঘের রেজুলেশনে স্থান পাওয়া। উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে একান্তভাবেই কাজ করেছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। তাদের অর্জনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পুলকিত। তবে ব্যর্থতার বিষয়টিও মন্ত্রীর বিবেচনায় এনেছেন তারা। সেখানে উঠে এসেছে স্পর্শকাতর সীমান্ত হত্যাসহ ভারতের সঙ্গে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো। এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ‘শীতলতা’, বাংলাদেশে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সেখানে থাকা শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সবকিছু আটকে থাকা এবং সংবেদনশীল এ ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নয়ন সহযোগী অনেক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থবিরতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও বিব্রত তারা। বিষয়টি নিয়ে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতিকরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। বিগত চার বছরে প্রতিবেশীসহ পূর্ব দিগন্তের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের চেষ্টার প্রশংসা হয়েছে ওই বৈঠকে। মন্ত্রীর তরফে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের বাকি মেয়াদে অসম্পূর্ণ এবং প্রতিশ্রুত কর্মগুলো সম্পাদনে। একজন কূটনীতিক মানবজমিনকে বলেন, সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বাকি মেয়াদে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রাপ্তিতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। কাতারসহ অনেক দেশ এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীতলভাবও কেটে যাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় পার্টনারশিপ ডায়ালগের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে এনার্জি কো-অপারেশন বিষয়ে সংলাপ হবে। সেখানে ভারত, নেপাল, ভূটান সহ অনেকেই আগ্রহী হবে বলে আশা করছে ঢাকা। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়বে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ সহযোগিতায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সরকারের শেষ বছরে কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। সব মিলেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-প্রত্যাশা পেশাদার কূটনীতিকদের।