Pages

Friday, January 4, 2013

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক


বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র সিঙ্গাপুরে পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লভ্যাংশের ১৫ লাখ টাকা দুদক একাউন্টে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক কর্মকর্তা। টাকা দুদক একাউন্টে জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও। তবে তিনি কত টাকা জমা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘টাকা জমা হয়েছে কিন্তু কত টাকা জমা হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না।’ ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর দুদক কোকো’র পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার দেশে ফেরত আনে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ওই টাকার পরিমাণ ১৩ কোটি টাকা। লভ্যাংশের ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসে জমা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান আগেই জানিয়েছেন ওই টাকা তারা দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ব্যয় করবেন।
জোট সরকারের আমলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কোকো অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ-এর মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেন।

Thursday, January 3, 2013

বিদ্যার সেরা জন্মদিন

বিদ্যার সেরা জন্মদিন


গেল বছরের ১৪ই ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেমিক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন বিদ্যা বালান। বিয়ের আগে থেকেই তারা হানিমুনের স্থান ঠিক করে রেখেছিলেন। আর সেই অনুযায়ী বিয়ের পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পর পরই ২০ ডিসেম্বর তারা হানিমুন করতে চলে যান ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে। সেখানেই তারা একান্ত সময় কাটান প্রায় সপ্তাহ খানেক। তবে অনেকেই ধারণা করেছিলেন তাদের এই হানিমুনটি হবে আরও দীর্ঘ সময়ের। পরিবারও জানতো কমপক্ষে ১৫ দিন তারা হানিমুনে মধুর সময় কাটাবেন। কিন্তু বিদ্যা ও সিদ্ধার্থ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন শর্টকাট হানিমুনের। কারণ হলো মধ্য জানুয়ারি থেকেই বিদ্যা নতুন চলচ্চিত্র এবং সিদ্ধার্থ নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। তার আগে পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটাতে চান তারা। আর এ কারণেই শর্টকাট হানিমুন। এদিকে জানুয়ারির ১ তারিখ ছিল বিদ্যার জন্মদিন। তাই ডিসেম্বরের শেষে হানিমুন থেকে ফিরে ৩৫তম জন্মদিনটি পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বিদ্যা। সঙ্গে ছিলেন সিদ্ধার্থ ও তার পরিবার। এই জন্মদিনটিকে বিদ্যা নিজের জীবনের সেরা জন্মদিন বলেও মন্তব্য করেছেন। এদিকে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিদ্ধার্থের হাউজ থেকেই নির্মাণ হতে যাওয়া একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নেবেন বিদ্যা। এই ছবিতে তার বিপরীতে কাজ করবেন ইমরান হাশমি। দেশে ফিরে নিজের হানিমুন ও জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে বিদ্যা মিডিয়াকে জানান, অল্প সময়ের যে কোন কিছুই সবার কাছেই বেশি মূল্যবান। আমি ও সিদ্ধার্থ যে ক’দিন হানিমুনে কাটিয়েছি সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর দেশে ফিরেই নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে জন্মদিন কাটালাম। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা জন্মদিন। আর নতুন বছরটাও এর মাধ্যমে ভালভাবে শুরু হয়েছে। আশা করছি পুরো বছরটিই ভাল যাবে।

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন


মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকায় কুলসুম আক্তার নামের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার পরে স্বামীর কাছে না যাওয়ায় ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে তিন দিন ধরে নির্যাতন চালিয়েছে মা, মামা, বড় ভাই ও বোন। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার স্থানীয় সাংবাদিক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শহরের কালীবাড়ী এলাকায় গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় কুলসুমের ভাই বাধা দিলে বিষয়টি পুলিশসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে কুলসুমকে উদ্ধার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় বোন ফাতেমা, মামা আলী আজগর, ঝুমুরের কথিত স্বামী রেজাউল করিমকে আটক ও প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত কুলসুমের মা ফিরোজা বেগম ও বড় ভাই সোহাগ পলাতক। কুলসুম মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকার রহমান খানের মেয়ে এবং শহরের উকিলপাড়া রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।
নির্যাতিতা কুলসুম আক্তার জানায়, গত ২২শে ডিসেম্বর মায়ের কথামতো বড় ভাই সোহাগ কালকিনির গোপালপুরের আজিজ শিকদারের ছেলে মাদারীপুরের পাবলিক লাইব্রেরি এলাকার একটি মোটরসাইকেল দোকানের মেকানিক রেজাউল করিমের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। সে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এবং কথিত স্বামীর সঙ্গে সঙ্গ না দেয়ায় তিন দিন আগে তার মা ফিরোজা বেগম, মামা আলী আজগর, বড় ভাই সোহাগ ও বোন ফাতেমা তার পায়ে শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালা লাগিয়ে রাখে। গত মঙ্গলবার কুলসুমের কথিত স্বামী তার সঙ্গে শারীরিক মিলনের চেষ্টা করলে কুলসুমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রেজাউল অপকর্মে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কুলসুমের ভাই ও বোন তাকে বেদম মারপিট করে আহত করে। ভাই-বোনের এলাপাতাড়ি মারপিটে কুলসুমের মাথা ফেটে যায় এবং হাত কেটে গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় এনে আবারও শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কুলসুমের বড় বোন ফাতেমা বেগম জানায়, তার ছোট বোন প্রাইমারিতে পড়াশোনা করলেও এর আগে সে একাধিকবার অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পুলিশের সহায়তায় ধরে আনা হয়েছে। তার বার বার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিরক্ত হয়েই মা ও ভাই তাকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা বলেন, মেযেটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা অমানবিক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

দেশের নামী এনজিও ব্র্যাক। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও হাইতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা নেই এমন অজুহাতে সরকারি দরপত্র থেকে নামী এ
এনজিওটিকে নন-রেসপনসিভ (দরপত্র বাতিল) করা হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) নামের একটি আঞ্চলিক এনজিওকে। আলাদা আরেক লটের দরপত্রে অংশ নিলেও ওই দরপত্র থেকেও ব্র্যাককে বাদ দেয়া হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন (বাপসা) নামের একটি এনজিওকে। ব্র্যাক ছাড়াও প্রশিকা, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো অতি পরিচিত এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। তবে মেরি স্টোপস ক্লিনিক সোসাইটি ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মতো নামী এনজিও রেসপনসিভ হলেও তারা দামে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। এসব ঘটনা ঘটেছে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের এনজিও নির্বাচন দরপত্রে। ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪৪১ কোটি টাকার এ দরপত্রে যারা কাজ পেতে যাচ্ছেন তারা আদতে নামীদামি কোন এনজিও নয়। অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নেই। এনজিও নির্বাচনের দরপত্রে নামীদামি যেসব এনজিও অংশ নিয়েছিল তাদের নানা কারণ দেখিয়ে বাদ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৯টি এনজিওকে ২১টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যাদের কাজ দেয়া হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভাল যোগাযোগের কারণে তারা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে উতরে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এনজিওগুলোর মধ্যে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) চারটি এলাকার ২৬ কোটি ৩০ লাখ ৩১৪৫ টাকা, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা চারটি এলাকার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা, নারী মৈত্রী তিনটি এলাকার ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৭২৯৮ টাকা, ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) তিনটি এলাকার ১৩ কোটি ৩১ লাখ ১৯ হাজার ২৬২ টাকা, এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ একটি এলাকার ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৪ টাকা, ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস) একটি এলাকার ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৫ হাজার ২০৪ টাকা, ঢাকা আহছানিয়া মিশন দু’টি এলাকার ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫ টাকা, সীমান্তিক ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং সৃজনী বাংলাদেশ ১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার দু’টি কাজ পেতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে পাঁচটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে দু’টি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে ব্র্যাক ও ভলান্টারি এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টসহ নামী এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়। এতে অনেক অল্প পরিচিত এনজিও কাজ পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে তিনটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে পাঁচটি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো পরিচিত এনজিওকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য এলাকার জন্য এনজিও নির্বাচনেও নানা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে। বিভিন্ন এনজিওর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) সারা দেশে তাদের ১৮১০ জন স্টাফ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে ৬৫০ জন পুরুষ এবং বাকিরা মহিলা বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থার কোন ওয়েবসাইট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি আদতে একটি আঞ্চলিক এনজিও। নারী মৈত্রী একটি পরিচিত এনজিও। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রয়েছে তাদের অফিস। অন্যগুলোর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) খুলনা অঞ্চলের একটি এনজিও। স্বাস্থ্যখাতে এই এনজিওর অভিজ্ঞতা খুব বেশি দিনের নয়। এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ মূলত ট্রেনিং কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, সীমান্তিক এবং সৃজনী বাংলাদেশ এ দেশের পরিচিত এনজিও।
ওদিকে দেশের ১০টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর) এবং ৬টি পৌরসভা (টঙ্গী, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এজন্য ৩০টি পার্টনারশিপ এলাকায় একটি করে এনজিও নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৮টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা) এবং চারটি পৌরসভা (সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আগে থেকে চলমান ২৬টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য জানুয়ারি ২০১৩ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ৮৬টি দরপত্র পাওয়া যায়। এসব দরপত্র স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এরপর দরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭ সদস্যের জাতীয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এবং তিনটি টেকনিক্যাল সাব-কমিটি গঠন করে। টেকনিক্যাল সাব-কমিটি ৮৬টি দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে। এর ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৪৮টি প্রস্তাবকে টেকনিক্যালি রেসপনসিভ ঘোষণা করে। ওদিকে টেকনিক্যাল ইভাল্যুয়েশন কমিটি প্রস্তাবটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বরাবর পাঠালে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার পাঁচটি প্যাকেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থগিত রাখে। বাকি ২১টি প্যাকেজের জন্য সুপারিশ করা ৩৭টি কারিগরি রেসপনসিভ প্রস্তাবের বিষয়ে সম্মতি দেয় তারা। তাই এসব প্যাকেজের সর্বনিম্ন দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই ৯ এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার।

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে'

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে


দিল্লির বাসে মারধর ও গণধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে। ঘটনার এই বিবরণ ও ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়ার জন্য এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এপি'কে জানায়, গণধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে একজনের বয়স আঠারো বছরের নীচে। এদিকে ভারতের কিশোর অপরাধ আইনানুযায়ী বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে হত্যা মামলা চালানো যায় না। তাই তার বয়স নিশ্চিত হতে হাড় পরীক্ষা করা হবে। মঙ্গলবার মেয়েটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তারা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর ও ধর্ষণ, তাকে বাঁচাতে আসায় তার বন্ধুকে বেদম পিটুনি, তাদের দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টাসহ সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ থাকছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দিয়েছিল মেয়েটি। তিনজনের দেহে এর চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী শশি থারোর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষিত মেয়েটির নাম প্রকাশ করে তার নামেই ধর্ষণবিরোধী আইন করা হোক। এদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আন্দোলনকারী এবং রাজনীতিকরা। এছাড়া এ আইনে রাসায়নিকভাবে বন্ধাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আবেদন জানান তারা। ফিজিওথেরাপির ঐ ছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণের শিকার হবার পর জরুরি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়।

Wednesday, January 2, 2013

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড


যতোটা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়েও ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান সফর বাতিল করায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে পিসিবির চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের ফলে দু'দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক যে হুমকির মধ্যে পড়েছে, সেটা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন।

দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর নিয়ে চলছে নানা নাটকীয় ঘটনাবলী। দফায় দফায় এই সফরের প্রতিশ্রুতি ও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ার পালা চলছিল। অবশেষে এই জানুয়ারিতে বিপিএলকে সামনে রেখে পাকিস্তান সফর এক রকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে বিদায়ী বছরের শেষ দিনে, চতুর্মুখী প্রতিবাদের মুখে বিসিবির নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দেন, আপাতত পাকিস্তান সফর হচ্ছে না। কারণ, নিরাপত্তাহীনতা। আর এই কারণকেই 'অনুপযুক্ত' বলে অভিহিত করেছে পিসিবির বিবৃতি। তারা বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এরকম প্রশ্ন তোলার আগে বিসিবি সভাপতির যথেষ্ট খোঁজ-খবর নিয়ে নেয়া উচিত ছিল, 'এখনও পর্যন্ত আমরা বিসিবির কাছ থেকে অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা পাইনি। তবে সংবাদ মাধ্যমে যেমন এসেছে, তেমনভাবে নিরাত্তার প্রশ্ন তোলাটা একেবারেই অনুপযুক্ত কাজ হয়েছে। গত বেশ কিছুদিনে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে অত্যন্ত সফলভাবে বেশ কিছু ক্রিকেট ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যাপার হয়েছে, সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের একটি যৌথ দল পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখে গিয়ে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিয়েছে। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে রিপোর্টটা একবার পড়ে নেয়া উচিত ছিল।' এমন কঠোর ভাষায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না পিসিবি। বোর্ডের চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলার সময়ে আরও কঠোর হয়েছেন। তিনি বলেছেন, জোর করে বাংলাদেশকে সফরে আনা সম্ভব না। তবে এই সফর বাতিল করে বিসিবি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে অবনতি ঘটিয়েছে, তার ফলও 'একইরকম' হবে বলেও বলছেন জাকা আশরাফ, 'তারা আসতে না চাইলে না আসতে পারে, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা তো ওদের জোর করে আনতে পারবো না। তিন তিনবার তারা কথা দিল; এখন আবার পিছিয়ে গেল। এখন তো ওদের নিজেদেরই ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তারা যদি কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সম্মান করতে না পারে; আমরাও সেভাবেই এখন থেকে জবাব দেব।'

এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রতিশ্রুত ব্যাপারটা বার বার ঘুরে-ফিরে আসছে আলোচনায়। ব্যাপার বীজ বুনে রেখে গেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান আইসিসি সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি আইসিসির পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ার শর্তে এই সফরের জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই দিকে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাবি করেছে পিসিবির বিবৃতি, 'বিসিবি আগেরবার যখন সফরে আসতে চাইল, তখন ঢাকার উচ্চ আদালত সফর স্থগিত করলেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এর আগে কখনোই ঘটেনি। তারপরও আমরা কিন্তু বিপিএলের জন্য খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর আইসিসি নির্বাচনে আমরা মোস্তফা কামালকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এসবই করেছি আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বলে। প্রতিশ্রুতি আমাদের পক্ষ থেকে যেই দিক; আমরা সেটা রক্ষা করি; বাংলাদেশ করছে না।'

এইসব প্রতিশ্রুত ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ঠিক কি করতে পারে বা করবে; তা পরিষ্কার নয়। তবে এটা ঠিক যে, পিসিবির বিবৃতি ও জাকা আশরাফের কথায় ইঙ্গিত আছে, তারা বিপিএলে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ আটকে দিতে পারে। তবে এসব বিষয় নয় পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশকে জবাব দিতে চায়, নিজেরা আরও ভালো আয়োজন করে। জবাব দেয়ার প্রসঙ্গে আশরাফ বললেন. 'আমরা খুব দ্রুতই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো কোনো একটা দলের পাকিস্তান সফরের ব্যবস্থা করবো।'

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ


বেসরকারি অপারেটরদের থ্রি-জি প্রযুক্তি দেয়ার গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গাইডলাইন তৈরির আগে অপারেটরদের মতামত না নেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) নিজেদের মতো গাইডলাইন তৈরি করে অপারেটরদের কাছে মতামত চায়। বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয়নি বেসরকারি অপারেটররা। তাদের বক্তব্য গাইডলাইনে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া আছে যা তাদের ব্যবসার জন্য ইতিবাচক নয়। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হলে বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান হতো। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের মধ্যে অপারেটরদের হাতে থ্রি-জি লাইসেন্স দেয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানুয়ারির মধ্যে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের হাতে থ্রি-জির লাইসেন্স তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওই ঘোষণার সঙ্গে সুর মেলান। এদিকে গত ২৮শে মার্চ থ্রি- জি মোবাইল সার্ভিস লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বিটিআরসি। এতে পাঁচটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। বর্তমানে এ সুবিধা পাচ্ছে কেবল সরকার নিয়ন্ত্রিত মোবাইল অপারেটর টেলিটক। অক্টোবরের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থ্রিজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, থ্রি-জিকে জনপ্রিয় করতে অপাটেরগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে কম দামে থ্রি-জি লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে তারা। প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য ‘বিডি মানি’ ১ কোটি ডলার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এর আগে থ্রি-জি খসড়া নীতিমালায় প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য বিডি মানি (ন্যূনতম দর) ৩ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। সমপ্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তরঙ্গ মূল্য নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তা ২ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে গাইডলাইনে অন্যতম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও থ্রি-জি’র সেবা পৌঁছে দিতে হবে। অপরেটররা এ শর্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য- থ্রি-জি প্রযুক্তির শুরুর দিকে এটা সম্ভব নয়। কারণ, ওই প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে ব্যাপক কারিগরি কাজের বিষয় রয়েছে। এটা দ্রুত সম্ভব নয়। আপাতত শহরকেন্দ্রিক থ্রি-জি সেবা পৌঁছানো সম্ভব। অপারেটররা জানান, এখানে ব্যবসারও বিষয় রয়েছে। এভাবে নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিলে ব্যবসা করা কঠিন হবে। তারা জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ পেলে থ্রি-জি সেবাকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি জানিয়েছে, থ্রি-জির গাইডলাইন ড্রাফট শেষ। বেসরকারি অপারেটররা বেশ কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ করেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে গাইডলাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিটিআরসি নিলামের জন্য প্রস্তুতি নেবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, থ্রি-জি সংযোগ দিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কল করা, মোবাইল ফোনে টেলিভিশন দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং, রিয়েল টাইম গেমিং, অডিও ভিডিও চ্যাটিং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। এদিকে টেলিটক এরই মধ্যে তাদের থ্রি-জি সেবার কাজ শুরু করেছে। টেলিটকের এমডি মুজিবুর রহমান জানান, গ্রাহকরা এখন কেবল রাজধানীতে থ্রি-জি সেবা পাচ্ছেন। জানুয়ারিতে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেটে থ্রি-জি সেবা দেয়া হবে। টেলিটক আশা করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর চার লাখ গ্রাহক পাবেন এ সেবা। যদিও দুই মাসে তারা প্রায় এক লাখ থ্রি-জি সিমকার্ড বিক্রি করেছে।

উন্মাতাল থার্টি ফার্স্ট নাইট

উন্মাতাল থার্টি ফার্স্ট নাইট


জিরো আওয়ার, তখনও পাঁচ সেকেন্ড বাকি। হাতে হাতে পানপাত্র পৌঁছে গেছে। যেন এক শ’ পাঁচ ডিগ্রি জ্বরে কাঁপছে পুরো হলরুম, গাছতলা ও পুলপাড়। অপেক্ষায় শ’দুয়েক তরুণ-তরুণীসহ আধা বয়সী, বয়সী নর-নারী। হঠাৎ থেমে গেল ডেক সেটের গান। মাইক বেজে উঠলো। লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, ঘোষিত হলো জিরো আওয়ারের শুভ সংবাদ, ওয়েলকাম ২০১৩। বেজে উঠলো ডেক সেট। পুরো ভলিউমে গান, ‘আই লাভ ইউ টু...’। সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠতে থাকে আতশ বাতি, চত্বরের আকাশ ঘিরে গেল লাল-নীল আতশের সুগন্ধি ধোঁয়ায়। তারা বাজি পুড়িয়ে নববর্ষ বরণের আনন্দে মেতে ওঠে। এলাকা জুড়ে তখন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। উন্মাতাল থার্টিফার্স্ট নাইট নাচ গান, হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার চেঁচামেচি, আনন্দ প্রকাশের সকল মাধ্যম সক্রিয় করে নেয় আগতরা। হেলেদুলে পড়তে শুরু করে গোটা চত্বর। নাচ, গান, পান, সুরা ওঠে তারুণ্যের উচ্ছলতার সীমানা ছাড়ানো যত কর্ম কি নেই সেখানে? থার্টি ফার্স্ট নাইটে এমন এক রমরমা দৃশ্যের দেখা মিললো রাজধানীর অভিজাত এলাকার একটি অভিজাত ক্লাবে। রাজধানীর গুলশান এলাকায় ইউরোপের একটি দেশের নামের সঙ্গে পরিচিত ওই ক্লাবে বরাবরই প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। থার্টি ফার্স্ট নাইটের আনন্দ উদযাপনে খ্যাতি আছে ক্লাবটির। থার্টি ফার্স্ট নাইটে নির্মল বিনোদন পেতে চান, নিজেকে উজাড় করে মাতোয়ারা হতে চান- এমন অনেকেই আসেন, আসার চেষ্টা করেন ওই ক্লাবটিতে। এ বছরও এমন রসিকদের ভিড় জমেছিল এখানে। প্রবেশ মূল্য মাত্র তিন হাজার টাকা হলেও কোন ভাবেই অতিক্রম করেনি ক্লাবের তিন শ’ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। প্রতি বছর এ সংখ্যার ভেতরই সীমিত থাকেন তারা। এখানে দেশীদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম, অনুমতি মিলে না। টিকিট পাওয়া যায় না। তারপরও ছিলেন ইউরোপ কানেকশনের বাংলাদেশের কয়েক জোড়া।
রজনী গভীর হওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে থাকে ক্লাব চত্বরের দৃশ্য, সাবাড় হতে থাকে বোতলের পর বোতল, সঙ্গে নানা পদের ইউরোপীয় খাবার। আধো আলো আধো আঁধারের মাঝে কখনও কখনও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে সে আগুন ঘিরে পানপাত্র হাতে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে নাচ চলছে কোথাও মৃদু কোথাও উদ্দাম নৃত্য। নৃত্যের তালে তালে চুম্বন, বুকে বুক মিলিয়ে ভালবাসার প্রকাশ। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ একটু আঁধারে আড়ালে, পুল পাড়ে, গাছের তলে। সাদা মানুষ আছেন, আফ্রিকার দীর্ঘাঙ্গী সুঠামদেহী রমণীরা আছেন। সাদা মানুষ সাদা রমণীরা নাচছেন, সাদা মানুষদের সঙ্গে মানিয়ে নাচছেন কালো রমণীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক পুরো ক্লাব নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখেন নাইজেরিয়ান দুই ষোড়শী। তাদের নাচের সঙ্গী ছিলেন ইউরোপের পাঁচ/সাত জন সাদা তরুণ সহ মাঝবয়সী। কালো গায়ের রঙের হরিণ চাহনির ভুবনমোহিনী হাসির দুই ষোড়শীর দিকে চোখ ছিল অনেকের। স্বল্প বসনা, ভরা যৌবনে ঢল ঢল দুই তরুণীকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নাচের প্রতিযোগিতা ছিল কিছুটা, ওদের সঙ্গে নাচতে, হাতের খানিকটা সংস্পর্শ পেতে তাদের ঘিরে পাত্র হাতে ঘুরেছেন অনেকে, হাই হ্যালোও করেছেন। বাংলাদেশের দু’জোড়া যুবক-যুবতীকে দেখা গেল হলরুমের ঠিক মাঝখানে মেতেছেন আনন্দে, খুব সহসাই ফুরিয়ে যাচ্ছে সুরা, আবার পুরো করে আনছেন, কখনও নিজেরাই গাইছেন, কখনও তালবেতাল নাচছেন ডেক সেটের গানের সঙ্গে পা মিলিয়ে, পুরো শরীর দুলিয়ে, ঢলে ঢলে পড়ছেন একে অন্যের ওপর। চুমায় চুমায় ভরে দিচ্ছেন একজন আরেকজনকে। পুরো বেসামাল। লম্বা সুঠাম দেহের সমবয়সী এক তরুণের সঙ্গী স্বল্প বসনার এক সুদর্শনা। ইউরোপের একই দেশে ঠিকানা হলেও সেখানে থাকতে পরিচয় হয়নি, হাই-হ্যালোও হয়নি। পরিচয় প্রেম ভালবাসা মন দেয়া নেয়া ঘর বাঁধার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়েছে বাংলাদেশে এসে একই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে। রাতজুড়ে নাচেগানে, পানে ভরপুর ছিল ওই দুই তরুণী। তাদের উথালপাথাল নৃত্য ছাড়িয়ে গিয়েছিল আনন্দ বিনোদনের সকল সীমানা।
কম যাননি বয়সী, মাঝবয়সীরাও। নির্জন রাতের নীরবতা খোঁজার মতো চুপিসারে পাত্র হাতে সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে ভরে দিয়েছেন চুমায় চুমায়। ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে দীর্ঘায়িত করেছেন হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার চুম্বন। আলোআঁধারির সন্ধিক্ষণে হলরুমের ইটের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো নারীকে ঘিরে দেখা গেছে পুরুষ সঙ্গীর বন্য সব আচরণ। কেউ হেসেছেন, কেউ পাশ দিয়ে চলে গেছেন, কেউ কেউ দেখেও না দেখার ভান করেছেন। পানে পানে বেসামাল পুরুষের অশ্লীল হাতটি দেখা গেছে কোন কোন রমণীর বেঠিক জায়গায় নড়াচড়া করছে, তবে খুব বেশি বেঠিক মনে করেন নি রমণীটিও। পুরো রাত, বোতলের পর বোতল সাবাড় হলো পানীয়, বেসামাল হলেন অনেকে। তবুও মনভরা, প্রাণ জুড়ানো আনন্দ ফুর্তিতেই পালিত হলো থার্টি ফার্স্ট।
উদ্দাম নাচে কেঁপে ওঠে হোটেল রিজেন্সি
শ’ শ’ তরুণ-তরুণীর উদ্দাম নাচে কেঁপে ওঠে হোটেল রিজেন্সি। শুধু নাচ নয়- সঙ্গে বিয়ার, হুইস্কিসহ নানা রঙের পানীয়। ছিল উচ্চ শব্দের মিউজিক। তাতে হারিয়ে যায় তরুণ-তরুণীরা। র‌্যাব পুলিশের কড়া পাহারা বাইরে। তার ভেতর চলে পাশ্চাত্য ধাঁচের নাচ আর গান। ছিল তরুণ-তরুণীদের ভালবাসা প্রকাশের আরও অনেক অনেক কিছু। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সোমবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেতের এ অভিজাত হোটেলে সমবেত হয় শ’ শ’ তরুণ-তরুণী। তবে কড়া পানীয় আর হাইভোল্টেজ মিউজিকের মূর্ছনায় রাত ১২টার আগেই বেসামাল হয়ে যায় তারা। পরস্পর বাহু বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঢলে পড়ে হোটেল কক্ষের এখানে ওখানে। আলো-আঁধারিতে চলে তাদের প্রেম ভালবাসার নানা রকম খেলা। উষ্ণ আলিঙ্গন, খুনসুটি, চুমোচুমি, হাতের স্পর্শ, নানা আকুতি আরও কত কি। কানায় কানায় পূর্ণ হল। কিন্তু কেউ কারও প্রতি নজর দেয়ার সময় নেই। যে যার মতো ব্যস্ত। পৌষের তীব্র শীতের রাত। ঘনকুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক। কিন্তু রিজেন্সি হোটেলের আনন্দে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণীরা ঘর্মাক্ত। হোটেল কক্ষে ঢুকেই শ’ শ’ তরুণী বাইরের পোশাক খুলে ফেলে। দেহে জড়িয়ে নেয় পাশ্চত্য সমাজের আঁটোসাটো স্বল্প বসন। নাচের তালে তালে খসে পড়ে তার বেশির ভাগ অংশ। এতে আরও আবেদনময়ী করে তোলে তাকে। তবে নাচের উত্তাপে অনেক তরুণও খুলে ফেলে ব্লেজার, স্যুয়েটার, গেঞ্জির মতো যাবতীয় গরম পোশাক। ১৪ তলায় নাচের শব্দ ভেসে আসে নিচ তলায়। সব মিলিয়ে এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয় হোটেল রিজেন্সির ১৪ নম্বর ফ্লোরে। লেমন ও জামিল নামে দুই তরুণ-তরুণী রিজেন্সি হোটেলের এ অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা। নববর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য হোটেলর ১৪ নম্বর ফ্লোর ভাড়া নেয় তারা। দাওয়াত দেয় শহরের পেশাদার ডিজে বয় ও গার্লদের। প্রবেশ মূল্য ১০০০ টাকা করে ১২০০ টিকিট ছাড়ে তারা। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা সোহেলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের দোহাই দিয়ে সন্ধ্যা রাতেই কয়েক শ’ তরুণ-তরুণী বিনা টিকিটে ঢুকে পড়ে। এতে রাত ১১টার মধ্যেই হল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত লোকের চাপে হোটেলের দু’টি লিফ্‌ট বার বার বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে হোটেল কর্র্তপক্ষ রাত ১২টার পর লিফ্‌ট দু’টি বন্ধ করে দেয়। তার পরও পায়ে হেঁটে ১৪ তলায় ওঠে উৎসাহী তরুণ-তরুণীরা। তবে রাত ১২টার পর ১৪ নম্বর ফ্লোর তরুণ-তরুণীদের গায়ে গায়ে ঠাসা হয়ে পড়ে। এ সময় কর্তৃপক্ষ হোটেলের মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে টিকিটধারী অনেকেই ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেছে। তবে যতই ভিড় হোক আনন্দে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণীদের কিঞ্চিৎ নজর ছিল না সেদিকে। দফায় দফায় রঙিন পানীয় পান আর সঙ্গীকে আনন্দ দেয়ার নানা কসরতে সময় কেটেছে তাদের। মদের নেশা আর নৃত্যের তালে তালে কেউ ঢলে পড়েছে সোফায়, কেউ লাল কার্পেটে। ঝিকিমিকি আলো সহায়ক ছিল তাদের। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার এ উন্মাদনাও বাড়ে দ্রুতগতিতে। রাত ২টার পর বাহুলগ্না বান্ধবীকে নিয়ে কোন কোন তরুণকে ‘রিজার্ভ’ কক্ষে চলে যেতে দেখা যায়। কেউ চলে যায় অন্য কোন আবাসিক হোটেলে বা বাসাবাড়িতে। এ ফ্লোরের দুটি কক্ষ ধূমপান মুক্ত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু মধ্যরাতের পর পুরো ফ্লোর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এদিকে তরুণ-তরুণীদের এই আনন্দ উৎসবকে পুঁজি করে আয়োজকদের অন্য একটি গ্রুপ এখানে গলাকাটা ব্যবসা করে। এক গ্লাস সাদা পানির দাম নেয় ১০০ টাকা। মদ বিয়ার হুইস্কিসহ রঙিন পানির দাম ছিল আকাশছোঁয়া। এজন্য নেশা না জমতে পকেট খালি যায় অনেকের। তাই মধ্যরাতে টাকার জন্য কেউ কেউ ছুটে যান বাসাবাড়িতে। থার্টি ফার্স্ট নাইটের মাতাল করা এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশ ছিল সমপূর্ণ নিষিদ্ধ। এজন্য সন্ধ্যা থেকেই কড়া চেকিং বসানো হয় গেটে। ক্যামেরা জাতীয় কোন কিছু যেন ভেতরে না যায় এজন্য ব্লেজার, স্যুয়েটার খুলে জনে জনে পরীক্ষা করা হয়। উদ্দেশ্য এ রাতের সব নজর কাড়া দৃশ্য গোপন রাখা ।

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

গত মাসে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে মনে করছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাইরের কোন  ইন্ধন এর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএ’র গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘পরিকল্পনায়’ জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করছি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নাশকতা’ উল্লেখ করে, যদিও তারা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার ওই কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১১ জন নিহত হন। পরদিন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) এসএম মান্নান কচি।
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় আহত শ্রমিক কর্মচারীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যে সাক্ষ্য প্রমাণ আমরা নিয়েছি, তা বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ঘটনার ইংগিত পাওয়া গেছে, যা আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরিন কারখানার নিচতলায় যদি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গুদাম না থাকত, অথবা গুদামের চারপাশ যদি দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকত এবং ভবনের প্রতিটি সিঁড়ি যদি কারখানার বাইরে এসে শেষ হতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এতো বেশি হতো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ভবনের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার জন্য মালিকপক্ষেরও চরম অবহেলা ছিল, যার দায় মালিকপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
তাজরিনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়।

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ


সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত ২০১২ সাল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বছর। ইলিয়াস ফিরবেন নাকি ফিরবেন না- এ অনিশ্চয়তায় কেটে গেছে বছর। তিনি জীবিত না মৃত- তা-ও জানে না কেউ। ২০১২ সালে সিলেটের আলোচিত ঘটনা কোনটি-সিলেটে এসে কাউকে প্রশ্ন করা হলে এক বাক্যে বলবে ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনা। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেট বিএনপি’র একচ্ছত্র অধিপতি। তার নেতৃত্বেই চলতো সিলেট বিএনপি’র কার্যক্রম। নিখোঁজের আগে ইলিয়াস আলী সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করেন। তার আহ্বানে সিলেটে হরতালও পালিত হয়েছে। এরপর রোড মার্চের মাধ্যমে সিলেটে বিশাল জনসভা হয়েছে। ইলিয়াসের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি সাফল্য পেয়েছিল। এই অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৭ই এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন গাড়িচালক আনসার আলীও। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ। ছাত্রদলকর্মী খুনের ঘটনায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্তই দিনার ও জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইফতেখার আহমদ দিনার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলী সিলেটের ফর্চুন গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সরকারের একটি বাহিনী দিনারকে গুম করেছে। তিনি দিনার ও জুনায়েদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ইলিয়াস আলীর দাবির পর সরকারের ভেতরে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ৩রা এপ্রিল দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ই এপ্রিল গাড়িচালকসহ এম. ইলিয়াস আলী গুম হন। এ ঘটনার পর সিলেটের মাঠে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮ই এপ্রিল গোটা বিভাগকে অচল করে দেয় বিএনপি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এখনও ইলিয়াসের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের অবস্থানরত মা সূর্যবান বিবি। অবুঝ শিশু নাওয়াল পথ চেয়ে আছে প্রিয় পিতার। অপেক্ষায় স্বজনরা। বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী ইলিয়াসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এভাবে কেটে গেছে ২০১২। বছরের প্রথম দিকে যে ঝড় এসে ইলিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই ঝড় থেমে গেলেও ইলিয়াস ফেরার কোন লক্ষণই নেই। ৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও আশাবাদী তার পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে পথ চেয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক। তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা তিনি বোঝেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভরসা করেই ইলিয়াসের পথপানে আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াস আলীর মায়ের দাবি, তার ছেলেকে তিনি যে কোন মূল্যে চান। সুস্থভাবে ছেলেকে ফিরে চান। তিনি আর কিছু চান না। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্যবান বিবি কাতর হয়ে পড়েছেন। কাঁদছে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে তার চোখের পানি। গলার স্বর কমে এসেছে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অশীতিপর সূর্যবান ছেলে ইলিয়াসকে একবার দেখতে চান। ইলিয়াসের ভাই আছকির আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে পথ চেয়ে আছেন তারা। তারা ইলিয়াসকে ফিরে পেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছে। গুম নামক সেলে ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনছার আলীকে আটকে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান তারা। সরকার ইলিয়াসসহ নিখোঁজ দিনার, জুনায়েদ ও আছকির আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে জানান তিনি।

Monday, December 31, 2012

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

আজকাল অনেক পরিবারের কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা নানা কারণে চরম হতাশায় ভুগছে। আর এসব হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও জটিলতা। কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তি, ভায়োলেন্স-এর মত ভয়ংকর সমস্যায়। বেশীরভাগ পরিবার কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারছে না। মারধর, বকাবকির ঘটনাও ঘটছে। এতে আরও বিপরীত অবস্থা তৈরী হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসত্ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। ঘটছে আত্মহত্যার মত অপ্রত্যাশিত ঘটনাও। অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতাগণ তাদের কারণে-অকারণের ব্যস্ততার কারণে এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রতি সঠিকভাবে যত্ন নেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে নানা বঞ্চনা, অবহেলার মধ্যেও তারা বেড়ে উঠে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকরা এধরনের ছেলে-মেয়েদের অমনোযোগী হিসাবে চিহ্নিত করে বাবা-মার কাছে রিপোর্ট দেন। তবে সব চেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে উঠতি বয়সের এসব ছেলে-মেয়ের সমস্যা না বুঝে, না শুনে অথবা মমত্ব দিয়ে তাদের সমস্যা শোধরানোর চেষ্টা না করে নিয়ে যাওয়া হয় কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। যা ঘটার তাই ঘটে। প্রাকটিস বাণিজ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার সাহেবরা (২/১ জন ছাড়া) কিশোর-কিশোরীদের সমস্যার গভীরে না যেয়ে ধরিয়ে দেন একগাদা এন্টিডিপ্রেসিভ বা হতাশা কমানোর ওষুধ। কিন্তু পিতা-মাতা বা আমরা ডাক্তাররা কি কখনও ভেবে দেখেছি বিশ্বব্যাপী কিশোর-কিশোরীদের এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধ সেবনে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। কারণ বিশেষজ্ঞগণ নানা গবেষণায় দেখেছেন এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে টিনএজারদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে কার্যকারিতা ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে শুধু বয়স্কদের ওপর। তাই কোনভাবেই কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার উচিত নয় এমন অভিমত: হারভার্ড পাবলিক হেলথ গবেষণা তথ্যের । এক্ষেত্রে টিনএজারদের মানসিক সমস্যা, উদ্বেগ, হতাশা, অমনোযোগ, ক্রোধসহ নানা সমস্যায় পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেয়া হয় এবং এসব করতে হবে মমত্ববোধ দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে।

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো


নয়াদিল্লির গণধর্ষণ ভিকটিমের বেদনাদায়ক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক সময়ের আলোচিত গণধর্ষণ ভিকটিম পাকিস্তানের মুখতারান মাই তার ভুক্তভোগী হিসেবে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন নৃশংস দুর্ঘটনা বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। ভারতে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাক বলে জানান মুখতারান। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও নিপীড়নের জন্য সরকার ও আইনি ব্যবস্থা দায়ী। আইন বইতে পরিবর্তন হয় কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে কেউই শিক্ষা নেয় না। যদি একটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়া হতো তবে মানুষ শিক্ষা নিতো। যদি একশ’ মানুষ জানতো বিষয়টি অপরাধ তবে তারা এমন কাজ করতো না। কেন আমাদের সরকার, বিচার বিভাগ এমনটি করে না। পুলিশ থেকে আদালত, সরকার থেকে পার্লামেন্ট কেউই এ বিষয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয় না। তার মতে, এক সময় নারীরা চুপ করে থাকতো। তারা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। মুখ খুলতো না। এখন তেমন অবস্থা নেই। নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা মুখ খুলতে শুরু করছেন। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন। তবে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মুখতারান মাই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোথায় একজন নারী চারজন সাক্ষী পাবেন। আমি ৭০ সাক্ষী হাজির করেছিলাম। কিন্তু কেন আমাকে তখন ন্যায়বিচার দেয়া হয়নি। আইন যেহেতু ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে পারছে না তাই কিভাবে ধর্ষণ নিপীড়নের মতো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কেবল কিছু নারীই পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে। আদালত, পুলিশ ও সরকার- সব স্থানে পুরুষের আধিক্য। নারীরা নেই বললেই চলে। এসব স্থানে যদি নারীরা বেশি বেশি থাকতেন তবে নিপীড়ন-নির্যাতন কমে আসতো বলে মনে করেন মুখতারান। ভারতের নৃশংস ওই ঘটনায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তার আহ্বান- মেয়েটি মারা গেলেও তার শোকার্ত পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্য অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অন্য ভিকটিম নারীরা ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসার সাহস পাবেন। নিজে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্রচণ্ড রকমের কষ্ট ও বেদনা সয়েছিলেন। ফলে দিল্লির মেয়েটির কথা শুনে অনেক রাগ হচ্ছিল বলে জানান তিনি। নিজের ওপর আক্রমণকারীদের প্রাপ্ত সাজার বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে আপিল করেছেন। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন বলে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সাজার অপেক্ষার কথা বলেন মুখতারান।

ওয়ানডেতেও জয়ে শুরু পাকিস্তানের

ওয়ানডেতেও জয়ে শুরু পাকিস্তানের


ম্যাচের উত্তেজনাটা আসলে মরে গিয়েছিল খেলার প্রথম ১০ ওভারেই। ২৯ রান তুলতেই পটাপট উপড়ে যায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের পাঁচ উইকেট। এতে ভারত ব্যাটিংয়ের প্রথম চারজনই বোল্ড আউট। ভারতের ওয়ানডে রেকর্ডে এটি প্রথম ঘটনা আর ইতিহাসে সপ্তম। পাক-ভারত সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক দুই সেঞ্চুরিতে দু’দলের দুই ব্যাটসম্যান। এতে ভারত অধিনায়ক এমএস ধোনির কীর্তিকে ম্লান করে ম্যাচ শেষে আলোটা পাক ওপেনার নাসির জামশেদের সেঞ্চুরি আর পেস তারকা জুনায়েদের ৪ উইকেট শিকারে। গতকাল চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম মাঠে ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো পাকিস্তান। পাঁচ বছরে প্রথম ভারত সফরে এতে তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান এগিয়ে রইলো ১-০তে। আগে জয় নিয়ে এবারের দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও পাকিস্তান শেষ করে ১-১ সমতায়। আগে ব্যাট করে ভারত পাকিস্তানকে ২২৮ রানের টার্গেট দেয়। দলের ব্যাটিং ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ১১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জটা ধরে রাখেন ভারত অধিানয়ক এমএস ধোনি। আর এ চ্যালেঞ্জের যোগ্য জবাবে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচজয়ী পাকিস্তানের নায়ক ওপেনার নাসির জামশেদ। এতে ৬ উইকেট ও দুই ওভার অক্ষত রেখে জয়ের এ লক্ষ্য পূরণ করে পাকিস্তান। যদিও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে ধোনির ইনিংসটাই মন ভোলায় এদিনের এডজুডিকেটরদের। ধোনির ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার জয় সান্ত্বনা হতে পারে ভারত সমর্থকদের। ২২৮ রানের টার্গেটে ব্যাটে গিয়ে আদতে ঢিলেঢালা ব্যাটিং দেখানোর সুযোগ ছিল না পাক ব্যাটসম্যানদেরও। চিদাম্বরম মাঠের সিক্ত পিচে সুইং বা স্পিনে বল ঘুরছিল খেয়াল খুশি মতো। আর পাকিস্তান ইনিংসের একবারে প্রথম বলেই এতে ছিল ধাক্কা। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই নিজের উইকেট উপরে যেতে দেখে বিহ্বল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হাফিজ। ওয়ানডেতে জীবনের প্রথম বলেই ভারতকে উইকেট সাফল্য এনে দিয়ে এর ঘটক পেস তারকা ভুবনেশ্বর কুমার। দলীয় ২১ রানে ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান আজহার আলীও আউট হয়ে গেলে ততক্ষণে টেনশনও বড় হয়ে গেছে পাকিস্তান শিবিরে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ওপেনার জামশেদ ও পরীক্ষিত পাক ব্যাটসম্যান ইউনুস খান তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১১১ রান। পেসার ডিন্ডার বলে অশ্বিনের হাতে ধরা পড়ার আগে ইউনুস পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত অর্ধশতকও। তবে অবিচল নাসির জামশেদ জয় নিশ্চিত করার সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের দ্বিতীয় ওডিআই সেঞ্চুরিও। আর এতে ভারতের বিপক্ষে জামশেদের নৈপুণ্যের পরিসংখ্যানটাও হলো আরেকটু ভারি। ঢাকায় এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই জামশেদের প্রথম সেঞ্চুরিটি। আর এ নিয়ে ভারতকে তৃতীয়বার মোকাবিলায় দুইবার নটআউট জামশেদের মোট রান ২৬৬। তবে পাকিস্তান ইনিংসের ৪২তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৭২ রানে আলাদা জীবন পান শোয়েব মালিক। ধোনির হাতে ক্যাচ দিলেও অশ্বিনের নো-বলে উইকেট বাঁচে ভারত জামাতা মালিকের। আর আশা কমে ভারত সমর্থকদের। পাকিস্তান ব্যাটিং ইউনুস খান ও অধিনায়ক মিসবাহকে হারিয়েছিল তার আগেই।
তিন বছর পর সেঞ্চুরি ধোনির
টেস্ট ক্রিকেটে ভারত দলের সামপ্রতিক ব্যর্থতাটা ভক্তদের কাছে স্পষ্টই। একবছরে ওয়ানডেতেও নেই আহামরী সাফল্য। সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঘাটতি নিয়ে এদিন মহাচাপে ব্যাট হাতে ক্রিজে যান এমএস ধোনি। আর ধোনি দেখান দৃঢ়তাও। কঠিন ম্যাচে তুলে নেন দারুণ সেঞ্চুরি। তিন বছর পর ধোনির ওয়ানডে সেঞ্চুরি দেখা গেলো এতে। আর এতে ধোনির ওয়ানডে রানের সংগ্রহটা পার করলো ম্যাজিক ফিগার ৭০০০।
এদিন ভারতের ইনিংসটা ছিল দুই ভাগে। এতে ভিন্ন দুই রূপ দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। প্রথমভাগে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় স্বাগতিকরা ভারতের সংগ্রহটা দেখেছেন ভীতিকর ২৯/৫ । আর দ্বিতীয় ভাগে দেখা গেছে ভারত দলের পেছনের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা। চেন্নাইয়ের সকালটা এদিন ছিল মেঘাচ্ছন্ন-বৃষ্টিভেজা। চেপুকের চিদাম্বরম মাঠে এতে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দু’বার ভাবেননি পাক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকও। আর ভেজা সবুজঘাসের পিচে ভারত ব্যাটসম্যানদের শুরুটা হয় নড়বড়ে। পাক পেস তারকা জুনাইদ খান ও মোহাম্মদ ইরফানের মারাত্মক সুইং খেলতে না পেরে ভারত ব্যাটসম্যানদের ৫ উইকেট উপড়ে যায় ইনিংসের ১০ ওভার ফুরানোর আগেই। তবে ভারতের মনোবল ফেরে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে। অধিনায়ক এমএস ধোনি ও সুরেশ রায়না এ জুটিতে যোগ করেন ৭৩ রান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে হাফিজের স্পিনে বোল্ড আউট হয়ে ভক্তদের টেনশনে ফেরান রায়না। তবে অন্যপ্রান্তে ধোনি তখনও ধৈর্যের মূর্তি। ৮৬ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এ সময় এক ছক্কার সঙ্গে ধোনি বাউন্ডারি খেলেন মাত্র দু’টি। তবে ক্রমেই হাতখোলা হয়ে উঠে সপ্তম উইকেট জুটিতে ধোনি-অশ্বিন যোগ করেন ১২৫ রান। সপ্তম উইকেট জুটিতে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ধোনি পরের ৬১ রান করেন ৩৯ বলে । এতে ভারতের শেষ ১০ ওভারে ওঠে ৮১ রান। পাক বোলার ইরফানকে ছক্কা হাঁকিয়ে ধোনি ৯৫ রান থেকে পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি। ধোনির সেঞ্চুরিতেও ম্যাচ বাঁচেনি ভারতের। তবে ভারত অধিনায়কের দৃঢ়তা ছাড়া এদিন ১০০ ওভারের ম্যাচ প্রয়োজন হতো না, এটাও ঠিক।

স্কোর কার্ড
ভারত-পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে
চিদাম্বরাম স্টেডিয়াম, চেন্নাই।
ভারত: ২২৭/৬ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান: ২২৮/৪ (৪৮.১ওভার)
ভারত ইনিংস: রান বল ৪ ৬
গম্ভীর ব ইরফান ৮ ১৭ ১ ০
শেওয়াগ ব জুনাইদ ৪ ১১ ১ ০
কোহলি ব জুনাইদ ০ ৫ ০ ০
যুবরাজ ব জুনাইদ ২ ৩ ০ ০
রোহিত ক হাফিজ ব জুনাইদ ৪ ১৪ ০ ০
রায়না ব হাফিজ ৪৩ ৮৮ ২ ০
ধোনি অপরাজিত ১১৩ ১২৫ ৭ ৩
অশ্বিন অপরাজিত ৩১ ৩৯ ২ ০
অতিরিক্ত: (লব ১১, ও ৯, নব ২) ২২
মোট: (৬ উইকেট; ৫০ ওভার) ২২৭
উইকেট পতন: ১-১৭ (শেওয়াগ, ৩.৫ ওভার), ২-১৭ ( গম্ভীর, ৪.৪ ওভার), ৩-১৯ (কোহলি, ৫.৪ ওভার), ৪-২০ (যুবরাজ, ৫.৬ ওভার), ৫-২৯ (শর্মা, ৯.৪ ওভার), ৬-১০২ (রায়না, ৩৩.২ ওভার)
বেলিং: ইরফান ৯-২-৫৮-১, জুনাইদ ৯-১-৪৩-৪, গুল ৮-০-৩৮-০, আজমল ১০-১-৪২-০, হাফিজ ১০-২-২৬-১।
পাকিস্তান ইনিংস: রান বল ৪ ৬
হাফিজ ব কুমার ০ ১ ০ ০
জামশেদ অপরাজিত ১০১ ১৩২ ৫ ১
আজহার আলী ক শর্মা ব কুমার ৯ ৩৮ ০ ০
মিসবাহ ব ইশান্ত ১৬ ২৪ ১ ০
মালিক অপরাজিত ৩৪ ৩৫ ১ ০
অতিরিক্ত: (লব ৬, ও ৩, নব ১) ১০
মোট: (৪ উইকেট, ৪৮.১ওভার) ২২৮
উইকেট পতন: ১-০(হাফিজ০.১ ওভার), ২-২১(আজহার, ১০.২ ওভার), ৩-১৩৩(ইউনিস, ৩০.৩ ওভার), ৪-১৭২(মিসবাহ, ৩৮.২ ওভার)
বোলিং: কুমার ৯-৩-২৭-২, শর্মা ১০-০-৩৯-১, দিন্দা ৯.১-০-৪৫-১, অশ্বিন ১০-০-৩৪-০, যুবরাজ ৫-০-৩৩-০, রায়না ২.১-০-২৩-০, কোহলি ২.৫-০-২১-০
ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: মহেন্দ্র সিং ধোনি
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে ১-০।

৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেঘনা গোমতী সেতু

৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেঘনা গোমতী সেতু


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু মেরামতের জন্য আগামী ৪ঠা থেকে ৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৯৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গতকাল সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকের একথা জানান। এতদিন সেতুতে টেম্পোরারি কাজ হয়েছে। এখন কিছু পার্মানেন্ট কাজ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৪ঠা জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে
৮ই জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত এই দুই সেতু বন্ধ থাকবে। এ সময় বিকল্প সড়কে যান চলাচল করবে। এছাড়াও আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও ৬ দিন করে ১২ দিন সেতু দু’টি বন্ধ রাখা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেরামত কাজের জন্য তিন দফায় মোট ১৬ দিন সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সাময়িকভাবে এটা কষ্টের কারণ হবে। অনেকেই সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু ব্রিজের যে অবস্থা তাতে সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতেই হবে। ব্রিজ পড়ে যাবে- এ অবস্থা থেকে ব্রিজ রক্ষায় জন্য এ সাময়িক কষ্ট করতে হবে। এটা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক ও বাস্তবতা। তিনি বলেন, সেতু দু’টি বন্ধ থাকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে যান চলাচল করবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিকল্প পথে বাড়তি চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহন তখন ঢাকা-যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর ব্রিজ-তারাব মোড় (রূপগঞ্জ)-নরসংদী-ভৈরব-আশুগঞ্জ-সরাইল বিশ্বরোডের মোড়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম সড়ক দিয়ে চলবে।
সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকার দিনগুলোতে ওই এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী। এছাড়া সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

ব্যর্থদের ফর্মুলায় গণতন্ত্রের সুরক্ষা হবে না

ব্যর্থদের ফর্মুলায় গণতন্ত্রের সুরক্ষা হবে না


আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের দেয়া ফর্মুলা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ড. আকবর আলি নির্বাচনের জন্য চারটি ফর্মুলা তুলে ধরেন। তার এ ফর্মুলার প্রতি ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, কারও দেয়া ফর্মুলায় নয়, আওয়ামী লীগ নিজেস্ব গতিধারায় চলবে। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কেউ কেউ আজকাল ফর্মুলা দেন। ব্যর্থ লোকদের ফর্মুলা দিয়ে তো আর গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে না। কারণ, একজন ব্যর্থ মানুষ বার বারই ব্যর্থ হন। আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিলে সপ্তমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে সকালে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অনেক মোটা-তাজা মানুষই তো দল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যারা দল করতে পারেনি, আমরা তাদের ফর্মুলা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়ে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। যে ফর্মুলাই এখন দেয়া হোক না কেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ওই সময় তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক নেতা যারা দেশের প্রাচীনতম সংগঠনটি ভেঙে ভিন্ন দল গড়তে চেয়েছিলেন তারা এখন আমাদের দলের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। যারা দল ভেঙে গিয়ে একটি নতুন দল গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন এমন কারও কাছ থেকে আমাদের দলের ব্যাপারে কোন কিছু শুনতে চাই না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিজস্ব পথনিদের্শনা রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে দল এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তার গণতান্ত্রিক পন্থা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে এবং এ পন্থা ও ঐতিহ্য ধারণ করে দলটি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নির্মূল করতে অতীতে আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের আমলে অপতৎপরতা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং, এ দলটিই জাতির জন্য স্বাধীনতা এনেছে। শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি তাদের নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি আগামী দু’মাসের মধ্যে দলের সকল স্তরে কাউন্সিল সম্পন্ন করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্যও তাদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সকল জেলায় স্থায়ী দলীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন এবং এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শেখ হাসিনা বলেন, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায় তখনই দেশের জনগণ কিছু পায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। ফলে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের পথে এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, তাছাড়া জনগণের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ফিরে আসে এবং তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে। অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের নেতৃত্বে মহানগরের নেতারা ফুল দিয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এরপর সিলেট জেলা, শ্রমিক লীগ, বগুড়া জেলা, নোয়াখালী জেলা, সৈয়দপুর জেলা, ফেনী জেলাসহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দ একে একে ফুল দিয়ে সভাপতিকে অভিনন্দন জানান।

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার


রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করেই বছর পার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ। দফায় দফায় শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার। প্রকাশ্য সভাসমাবেশের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞাসহ নানা প্রতিকূলতায় এ বছর তীব্র অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ে ধর্মভিত্তিক দলটি। শুধু তাই নয়- বিভিন্ন সময় চোরগোপ্তা হামলা, ঝটিকা মিছিল সমাবেশে করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকির মুখেও পড়ে বেশ ক’বার। যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন ঘটনায় দলের প্রায় ডজন খানেক শীর্ষ নেতা আটক। ভারপ্রাপ্ত আমীরসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির প্রায় সব নেতা আত্মগোপনে। এ অবস্থায় নেতৃত্ব শূন্যতায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই বছরজুড়ে ঘুরপাক খায় ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলটি। ’৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেছিল জামায়াত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হয় তারা। তবে এ দীর্ঘ সময়ে ২০১২ সালের মতো এমন কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়তে দেখা যায়নি তাদের। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর একের পর এক সঙ্কটের কবলে পড়ে জামায়াত। তবে এবার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। দলের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রভাবশালী নেতা মীর কাসেম আলী মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, আবদুল কাদের মোল্লা যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা দেয়াসহ অন্য একাধিক মামলায় দলের প্রথম সারির নেতা অধ্যাপক তাসনীম আলম, মিয়া গোলাম পরওয়ার কারাগারে। এ ধরনের মামলায় ফেরার হয়ে আছেন ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, সদ্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুর ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির সব নেতা। কারাগারে আটক আছেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত শিবিরের পাঁচ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। এ পর্যায়ে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ একাধিক শীর্ষ নেতার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ওই রায়ের ফলাফল নিয়ে নিয়ে উদ্বেগ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের সর্বস্তরে। শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি নিয়ে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ৩রা ডিসেম্বর প্রকাশ্য সমাবেশের ঘোষণা দেয় তারা। কিন্তু পুলিশের বাধায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেলে পর দিন এককভাবে হরতাল পালন করে জামায়াত। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে প্রথমবারের মতো হরতাল পালনের পর আবারও চরম ক্র্যাকডাউনের কবলে পড়ে জামায়াত। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় জামায়াত-শিবির গ্রেপ্তার অভিযান। অপরদিকে চোরাগুপ্তা হামলা, বিক্ষিপ্ত মিছিল-সমাবেশ করে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ২১শে ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কৌশলে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করলে সঙ্কটের বোঝা ভারি হয়ে যায় জামায়াতের। মহানগর শিবিরের প্রথম সারির এসব নেতা গ্রেপ্তারের জামায়াতের চলমান আন্দোলনে চরমভাবে ধাক্কা লাগে। তবে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করার জন্যই ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে সরকার জুলুম-নির্যাতন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে যেমন কোন সরকার রেহাই পায়নি, তেমনি মহাজোট সরকারও রেহাই পাবে না। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চালিকা শক্তি শিবির সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ওপর বেশ ক’টি হামলার ঘটনায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সরকার সমর্থক রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে সোচ্চার হয়। এক পর্যায়ে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ১৮ই ডিসেম্বর সরকারের নেপথ্য সহযোগিতায় হরতাল পালন করে সিপিবিসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো। একইভাবে জামায়াতের সমর্থনে ইসলামপন্থি ১২ দল ২০শে ডিসেম্বর বাম দলগুলোর কাউন্টার হরতাল পালন করে। তবে এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ধারার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এরপরও জামায়াতবিরোধী তৎপরতার ধারবাহিকতা অব্যাহত আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ২২শে ডিসেম্বর রাজধানীতে গণমিছিল করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার শপথ নেয়। সব মিলিয়ে চরম বৈরিতার মধ্যে বছর কেটেছে জামায়াতের।

Friday, December 28, 2012

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

 প্যারামেডিকের ছাত্রী গণধর্ষণ নিয়ে দিল্লিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখনই ৪২ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ দিন আটকে রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে ১৫ জন। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল পুলিশ বলেছে, উত্তর প্রদেশের ৪২ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে কালকাজি নামক এলাকায় ফেলে যায় নরপিশাচরা। এ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে দিল্লিতে বহুল আলোচিত ধর্ষিত প্যারামেডিকের ছাত্রীকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পর। বলা হয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ওই নারীর প্রজননতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাকে নেয়া হয়েছে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে। এ ঘটনার নায়ক দীলিপ বর্মাকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তিনটি টিমকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘেরাও অভিযান চালাচ্ছে। ওদিকে মধ্য প্রদেশে সবিতা (পরিবর্তিত নাম) নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ই ডিসেম্বর তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। তারা তাকে আটকে রাখে। সেই আটকাবস্থা থেকে সে মঙ্গলবার পালিয়ে বাড়ি ফিরেছে। পরের দিন বুধবার পুলিশ খারগাঁওয়ের খেদা গ্রামের কাশিরামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, সবিতা নিশ্চয়তা দিয়েছে তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

মধ্যযুগে যখন মুদ্রার প্রচলন ছিল না, তখন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহের একমাত্র উপায় ছিল 'বিনিময় প্রথা'। চাল দিয়ে মাছ মিলত, কিংবা ভুট্টার বিনিময়ে রেশম। অস্ত্র-সন্ত্রাস বন্ধে এবার সেই ধরনের প্রাচীন পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ। সেখানকার বাসিন্দারা এখন অস্ত্র জমা দিয়ে ১০০ থেকে ২০০ ডলারের খাবার বিনা মূল্যে নিতে পারছে।
কানেকটিকাটের একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহারে ঐতিহ্যগতভাবে উদার মনোভাবের শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই অস্ত্র ফেরত দেওয়ার সময় কোনো প্রশ্ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জমাকৃত অস্ত্রের নথি পরীক্ষা করে দেখবে তারা। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো এভাবে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেছে তারা। এরপর প্রকৃত মালিককেই তার অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রথম দিনে ৪১টি রাইফেলসহ মোট এক হাজার ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েছে। জমা পড়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি সেমি অটোমেটিক হ্যান্ডগান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের একটি শটগানও রয়েছে। জমাকারীদের প্রত্যেককে নূ্যনতম ১০০ ডলার এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ২০০ ডলারের গিফট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট রুডি লোপেজ জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনুষ্ঠানটি বেশ ভালোই হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক লোক অস্ত্র জমা দিয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার পর বাকি অস্ত্রগুলো গলিয়ে ফেলা হবে।

অন্য রুপে প্রীতি

অন্য রুপে প্রীতি


দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ‘ইশক ইন প্যারিস’ এর মাধ্যমে বলিউডে কামব্যাক ঘটে প্রীতি জিনতার। ছবিটি তেমন একটা ব্যবসা সফলতা না পেলেও আলোচনায় ঠিকই আসেন প্রীতি। এদিকে এই ছবির একটি গানে সালমান খানের উপস্থিতিও ছিল। বহুদিন পর প্রীতির বলিউড ছবিতে প্রত্যাবর্তনকে সবাই দেখছেন বেশ সুনজরেই। কারণ অভিনয়ের দিক দিয়ে এ সময়ের অনেক অভিনেত্রীর চেয়ে এগিয়ে প্রীতি। ইতিমধ্যে এই অভিনেত্রী চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরও একটি ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করছেন প্রিয়দর্শন। জানুয়ারি থেকে ছবিটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বলিউডের বাইরে এর আগে আইপিএলএ নিয়মিতই দেখা গেছে প্রীতিকে। ভারতের এই প্রিমিয়ার লীগে পাঞ্জাব ওয়ারিয়র্স দলের অন্যতম একজন মালিক প্রীতি। এবার এই অভিনেত্রীকে দেখা যাবে একেবারে অন্য এক রুপে। খুব শিগগিরই প্রযোজক হিসেবে আসছেন তিনি। ইতিমধ্যে বিষয়টি পাকাপাকি করে মিডিয়াকে সেটি জানিয়েছেন প্রীতি। আগামী বছরেই অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি। সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা তৈরি করছেন। প্রথমে একটি বিগ বাজেটের ছবি নির্মাণের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রীতির এমন প্রযোজনা সংস্থা খোলার বিষয়টিকে সবাই ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন। তবে তার প্রযোজনা সংস্থার নাম এখনও ঠিক হয়নি। কয়েকটি নাম ইতিমধ্যে তার শুভাকাক্সিক্ষরা পাঠিয়েছেন। খুব শিগগিরই সেখান থেকে একটি নাম পাকাপাকি করা হবে। এ বিষয়ে প্রীতি বলেন, অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম ছবি প্রযোজনা করবো। অবশেষে বিষয়টি পাকাপাকি করলাম। সামনের বছরেই একটি বড় বাজেটের ছবি প্রযোজনা করবো। ইতিমধ্যে কাজ গুছিয়ে এনেছি। তবে নাম নির্বাচন নিয়ে একটু বিপাকে পড়েছি। কারণ অনেক সুন্দর সুন্দর নামের প্রস্তাব এসেছে। সেখান থেকে কোনটা রেখে কোনটা পাকাপাকি করবো সেটাই বুঝতে পারছি না। সবার পরামর্শ নিয়েই নাম ঠিক করে সবাইকে বিষয়টি অচিরেই জানাবো।