Pages

Wednesday, October 3, 2012

সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 সারাদেশে অবস্থিত মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মঠসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে চট্টগ্রামের পটিয়া এবং কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও পটিয়া এলাকায় মন্দির, বাড়ি, দোকানসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই ঘটনা তদন্তে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ১৭ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে দাখিল করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার দাখিল করা পৃথক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এবং বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ বুধবার পৃথকভাবে আদেশ ও রুল জারি করেন।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে এবং বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়া থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার সকালে চট্টগ্রামের পটিয়া এবং কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও পটিয়া এলাকায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দির ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

অন্যদিকে জনস্বার্থে ইউনুস আলী আকন্দ একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আগের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা আদেশ এবং ইউনুস আলী আকন্দের রিট আবেদন সমন্বয় করে একটি আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, যেহেতু জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে, তাই স্বতঃপ্রনোদিত রুল জারির প্রয়োজন দেখছি না। এ আদালত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ব্যর্থতা কেন বোইনি ঘোষণা করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

আগামী ১৪ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মঙ্গলবার একটি রিট আবেদন করেন। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানিকালে অপর একটি আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত রুলের তথ্য জানান রাষ্ট্রপক্ষ। এ পর্যায়ে আদালত শুনানি মুলতবি করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর আদালত এ রিট আবদেনর ওপর শুনানি করে আদেশ দেন। এসময় আদালত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আদালত আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে এদিনের মধ্যে সরকারি তদন্তা কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন।

ড. ইউনুস আলী আকন্দের রিট শুনানিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বিরোধিতা করে বলেন, সকালে আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। তাই এ নিয়ে আলাদা রিট আবেদন প্রয়োজন নেই।

এসময় রিট আবেদনকারী বলেন, এ রিট আবেদন শুধুই চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারের ঘটনায় নয়। সারাদেশের ঘটনা নিয়ে এ রিট আবেদন। এরপর আদালত রুল জারির আদেশ দেন।

আদেশের পর ইউনুস আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, “সাংবাদিক সাগর-রুনি নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুমে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী বেডরুমসহ সকল জায়গায় নিরাপত্তা দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমিও যেকোনো সময় গুম হতে পারি। এ অবস্থায় আজ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। একারণেই রিট আবেদন করা হয়েছে।”

ফেইসবুকে আল কোরআনকে অবমাননাকর ছবি প্রদশর্নের অভিযোগে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালানো হয়।

রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ ঘটনা ঘটে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ।

No comments:

Post a Comment