Pages

Sunday, October 7, 2012

রামুর ঘটনা দায় সরকার এড়াতে পারে না: বিশিষ্টজনদের অভিমত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রামুর ঘটনা দায় সরকার এড়াতে পারে না: বিশিষ্টজনদের অভিমত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
কক্সবাজারের রামু ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।

অতীতের ন্যায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এই ধরণের ঘটনা নিয়ে বরাবরই রাজনীতি করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটা হচ্ছে। এই ঘটনার দায় সরকার কোনো ভাবেই এড়াতে পারে না বলে তারা অভিমত দিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠকে  বক্তারা এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ বসতিতে অমানবিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের সংবিধানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। কিন্তু রামুর ক্ষেত্রে সরকার তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনা সংবিধানের লঙ্ঘন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেয়া হচ্ছে।”

কোনো ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো এবং তদন্তের আগেই মন্তব্য করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অসুস্থ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. কামাল বলেন, ‘‘এটি প্রধান দুই দলের বিষয় নয়। জাতীয় বিষয় হিসেবেই নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে। হামলাকারী যে দলেরই হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে এর পেছনের উস্কানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।’’

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা লজ্জিত, ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু সবাই বলছে ঘটনা পরিকল্পিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে বা কারা এই  পরিকল্পনা করেছে সেটি কেউ বলছে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘হামলার আগে ওই এলাকায় প্রথম মিছিল করেছিল ছাত্রলীগ, তার পরে মৎসজীবী লীগ, ও কৃষকলীগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কেন পটিয়া আক্রমণ হলো, এই প্রশ্নের জবাব এড়াতে পারবেন না।’’

এ ঘটনায় সুবিধাভোগী কারা তা ভাবার বিষয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ ক্ষতায় এলেই দেশে বড় ধরণের বিচিত্র ঘটনা ঘটে। এ সরকারের আমলে বিডিআর বিদ্রোহ, শেয়ার কেলেংকারি, হলমার্কসহ ব্যাংকের টাকা লুটপাট, সাম্প্রদায়িক হামলা হয় কেন? এগুলো সরকারকে খুজে দেখতে হবে। সরকার না পারলে নাগরিক ঐক্যপরিষদকে দেখতে হবে।’’

সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে সকল রাজনৈতিক দল রাজনীতি করে, কেউ বেশি আর কেউ কম। সংবিধান অনুসরণ করলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ ঘটতো না। রামুর ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা আছে। অর্থ নিয়ে পুলিশসহ অন্যান্য বিভাগে নিয়োগ দেয়ার কারণে অর্থের লোভে তারা যে কোনো ঘটনায় নীরব থাকে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনার বিচার করবেন বলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রামুতে এই ঘটনা ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘রামুতে হামলার পর উখিয়া ও পটিয়ায়  আবার কেন হামলা হলো? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাব কে দেবেন? এই ঘটনার নিরক্ষে তদন্ত চাওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী বা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী যদি ক্ষমা চাইতেন, তবে হয়তো ক্ষমা করা যেতো।’’

বৈঠকে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গিয়াস করিম বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দায়ী করে বক্তব্য দিলেন। পরে আবার বিরোধী দলকে দায়ী করলেন। তিনি কী তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ কথা বললেন? সঠিক তথ্য না নিয়ে কথা বলা মানে বিপদ নিয়ে খেলা।’’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘‘রামুর ঘটনায় আইন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করি তা হলে কী হবে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা থেকে মুক্ত করে মন্ত্রী করা হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয় আইনের সঠিক প্রয়োগ না করার বহিঃপ্রকাশ।’’

নেভী কমান্ডার অব. ফয়েজ, সাবেক রাষ্ট্রদূত এস এস চাকমা, এসবি চাকমা ও ইঞ্জিনিয়ার দিপেন্দু বিকাশ বড়ুয়া।

No comments:

Post a Comment