ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্য থেকে হাজার হাজার আদিবাসী ও ভূমিহীন গরিব মানুষ
বুধবার দেশের রাজধানী দিল্লির দিকে এক বিশাল মিছিল নিয়ে এগোতে শুরু করেছেন।
বাসস্থান ও চাষের জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।
তারা বলছেন, একদিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে ভারত, আর অন্যদিকে কয়েক কোটি মানুষের বাসস্থান বা চাষের জমিই নেই।
ভারত সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল তাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে বুধবার দিল্লি অভিযান শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবারও বলেছেন যে, দেশের আর্থিক সংস্কারের গতি আরও বাড়ানো হবে।
একতা পরিষদ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই মিছিলের আয়োজন করেছে-যার নাম দেয়া হয়েছে জন-সত্যাগ্রহ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫০ হাজার বাসস্থানহীন, উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া গরিব মানুষ আজ সকালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের শহর গোয়ালিয়র থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরের জাতীয় রাজধানীর দিকে মিছিল শুরু করেছেন।
একতা পরিষদ বলছে, ভারতের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষের থাকার জন্য কোনও জমি নেই – এদের মধ্যে আছেন প্রায় সাড়ে ছয় কোটি আদিবাসী, দলিত মানুষ- যাদের পূর্বপুরুষদের জমি থেকে উৎখাত করা হয়েছে।
একতা পরিষদের প্রধান ও প্রবীণ সমাজকর্মী পি ভি রাজাগোপাল ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, “আদিবাসী এলাকাগুলোতে বড় বাঁধ বা কয়লা খনি, লোহাখনি বানিয়ে দেওয়া হল। এই সব জমিতে আদিবাসী মানুষরা বহু পুরুষ ধরে বাস করে আসছিলেন। তাদের জমির কোনো দলিল কখনই ছিল না। শিল্পের জন্য যখন এই সব জমি নিয়ে নেয়া হলো- আদিবাসীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পেলেন না। এক কথায় তাদের তাড়িয়ে দেয়া হলো নিজেদের জমি থেকে।”
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্তও আলোচনার চেষ্টা চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া- যিনি গোয়ালিয়রের প্রাক্তন রাজবংশের বর্তমান উত্তারধিকারী।
রমেশ বলেন যে আন্দোলনের রাস্তায় না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু রাজাগোপাল জানিয়েছেন যে প্রায় একবছর ধরে তিনি সারা দেশ ঘুরেছেন- প্রধানমন্ত্রীকে তিরিশটিরও বেশি চিঠি লিখেছেন এই সমস্যার সমাধানের আবেদন জানিয়ে- কিন্তু কোনো উদ্যোগ সরকার নেয় নি... তাই মিছিল শুরু করা হয়েছে।
হাজার হাজার গরিব মানুষের এই মিছিল যখন শুরু হয়েছে, সেদিনই, বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, দেশে যে অর্থনৈতিক সংস্কার চলছে, তা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সরকার।
“সরকারকে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তগুলো দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে সরকার সংস্কারের পথে এগিয়ে চলেছে। নতুন বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কিছু বাধা এখনও আছে। তবে বেশ কিছু আইন আনা হচ্ছে-অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। সরকার এগুলো থেকে পিছিয়ে আসবে না”, বলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের।
সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে ভারতের খুচরো ব্যবসার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লগ্নির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“এই দেশে বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের আইন রয়েছে-বড় পুঁজিপতিদের জমি দেয়ার জন্য আইন আছে। কেউ তার বিরোধিতা করলে শক্তি ব্যবহার করে তাদের মোকাবিলা করতে পারে রাষ্ট্র। অথচ গরিব, ভূমিহীনদের জমি দেয়ার জন্য বা নিজের জমিতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনও আইন করতে কি সরকার পারে না?” প্রশ্ন পি ভি রাজাগোপালের।
উল্লেখ্য, মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আর্থিক সংস্কারের সাম্প্রতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে যেমন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনই এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও ব্যাপক বিরোধিতায় নেমেছে।
এই ইস্যুতেই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে ইউপিএ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম জোট শরিক তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য অনেক রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের সংস্কার কর্মসূচির বিরোধিতা করছে প্রকাশ্যে।
এই রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেই আজ হাজার হাজার গরিব ভূমিহীন মানুষ রাজধানীর দিকে মিছিল নিয়ে এগতে শুরু করলেন-যা এ মাসের শেষ নাগাদ দিল্লি পৌঁছাবে। সূত্র: বিবিসি।
বাসস্থান ও চাষের জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।
তারা বলছেন, একদিকে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে ভারত, আর অন্যদিকে কয়েক কোটি মানুষের বাসস্থান বা চাষের জমিই নেই।
ভারত সরকারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল তাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে বুধবার দিল্লি অভিযান শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবারও বলেছেন যে, দেশের আর্থিক সংস্কারের গতি আরও বাড়ানো হবে।
একতা পরিষদ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই মিছিলের আয়োজন করেছে-যার নাম দেয়া হয়েছে জন-সত্যাগ্রহ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৫০ হাজার বাসস্থানহীন, উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া গরিব মানুষ আজ সকালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের শহর গোয়ালিয়র থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরের জাতীয় রাজধানীর দিকে মিছিল শুরু করেছেন।
একতা পরিষদ বলছে, ভারতের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষের থাকার জন্য কোনও জমি নেই – এদের মধ্যে আছেন প্রায় সাড়ে ছয় কোটি আদিবাসী, দলিত মানুষ- যাদের পূর্বপুরুষদের জমি থেকে উৎখাত করা হয়েছে।
একতা পরিষদের প্রধান ও প্রবীণ সমাজকর্মী পি ভি রাজাগোপাল ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, “আদিবাসী এলাকাগুলোতে বড় বাঁধ বা কয়লা খনি, লোহাখনি বানিয়ে দেওয়া হল। এই সব জমিতে আদিবাসী মানুষরা বহু পুরুষ ধরে বাস করে আসছিলেন। তাদের জমির কোনো দলিল কখনই ছিল না। শিল্পের জন্য যখন এই সব জমি নিয়ে নেয়া হলো- আদিবাসীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পেলেন না। এক কথায় তাদের তাড়িয়ে দেয়া হলো নিজেদের জমি থেকে।”
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্তও আলোচনার চেষ্টা চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া- যিনি গোয়ালিয়রের প্রাক্তন রাজবংশের বর্তমান উত্তারধিকারী।
রমেশ বলেন যে আন্দোলনের রাস্তায় না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু রাজাগোপাল জানিয়েছেন যে প্রায় একবছর ধরে তিনি সারা দেশ ঘুরেছেন- প্রধানমন্ত্রীকে তিরিশটিরও বেশি চিঠি লিখেছেন এই সমস্যার সমাধানের আবেদন জানিয়ে- কিন্তু কোনো উদ্যোগ সরকার নেয় নি... তাই মিছিল শুরু করা হয়েছে।
হাজার হাজার গরিব মানুষের এই মিছিল যখন শুরু হয়েছে, সেদিনই, বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, দেশে যে অর্থনৈতিক সংস্কার চলছে, তা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সরকার।
“সরকারকে আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তগুলো দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে সরকার সংস্কারের পথে এগিয়ে চলেছে। নতুন বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কিছু বাধা এখনও আছে। তবে বেশ কিছু আইন আনা হচ্ছে-অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য। সরকার এগুলো থেকে পিছিয়ে আসবে না”, বলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের।
সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে ভারতের খুচরো ব্যবসার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লগ্নির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“এই দেশে বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের আইন রয়েছে-বড় পুঁজিপতিদের জমি দেয়ার জন্য আইন আছে। কেউ তার বিরোধিতা করলে শক্তি ব্যবহার করে তাদের মোকাবিলা করতে পারে রাষ্ট্র। অথচ গরিব, ভূমিহীনদের জমি দেয়ার জন্য বা নিজের জমিতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনও আইন করতে কি সরকার পারে না?” প্রশ্ন পি ভি রাজাগোপালের।
উল্লেখ্য, মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আর্থিক সংস্কারের সাম্প্রতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে যেমন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনই এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোও ব্যাপক বিরোধিতায় নেমেছে।
এই ইস্যুতেই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে ইউপিএ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম জোট শরিক তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য অনেক রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের সংস্কার কর্মসূচির বিরোধিতা করছে প্রকাশ্যে।
এই রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেই আজ হাজার হাজার গরিব ভূমিহীন মানুষ রাজধানীর দিকে মিছিল নিয়ে এগতে শুরু করলেন-যা এ মাসের শেষ নাগাদ দিল্লি পৌঁছাবে। সূত্র: বিবিসি।

No comments:
Post a Comment